Wednesday 2nd of December 2020 04:09:58 PM

এম ওসমান :  আবার এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারি, রাষ্ট্র সীমার বিভেদ ভুলে শূন্যরেখায় আবার মিলেছে দুই বাংলার মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই গান, আবৃত্তি আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক -শিল্পী -রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বেনাপোল আর পেট্রাপোল।
২০০২ সালে ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতির’ উদ্যোগে সীমান্তবর্তী প্রায় ২০টি সংগঠন বেনাপোল-পেট্রাপোলের শুন‍্যরেখায় এই মিলন মেলার সূচনা করে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শার্শা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, উনিশ বছরে এসে বেড়েছে এ মিলনমেলার পরিধি; তৈরি হয়েছে আস্থা ও ভালোবাসার বন্ধন।
“এবার দুই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটি পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এপারে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে আর ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রপ্তানি টার্মিনালে তৈরি করা হয়েছে দুটি ‘একুশে মঞ্চ’। বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীরা সেই মঞ্চে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।”
সরেজমিনের দেখা গেছে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার; দুই বাংলার মানুষ সীমান্তে মিলিত হয় আলিঙ্গনে; মেতে উঠে আড্ডায়-স্মৃতিচারণে। তবে এবার তালিকা ভুক্ত ভিআইপি, ভিভিআইপি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক ছাড়া অন্য কাউকে শুন্যরেখায় যেতে দেওয়া হয়নি।
আগে থেকেই নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপেক্ষায় ছিলেন আয়োজকরা। ঘড়িতে যখন সকাল ১০টা ৩৫মিনিট, তখন সীমানা পেরিয়ে শুন্যরেখায় পা রাখেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রীয় মল্লিক, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, উত্তর ২৪ পরগঁনা জেলা পরিষদের মেন্টর গোপাল শেঠ, দমদম পৌরসভার সিআইপি রিঙ্কু দে দত্তসহ ভারতীয় কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকদের একটি প্রতিনিধিদল।
আর এপার থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার ড. নেয়ামুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডলসহ কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকরা ফুল দিয়ে একে অপরকে  শুভেচ্ছা জানান।
পরে দুই বাংলার মানুষ নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে শূন্যরেখায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।
প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ৫২’র ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, নাড়ির সম্পর্ক।এ জন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
“বাঙালির অর্জনকে দুই বাংলা একসঙ্গে পালন করছি, এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে।”
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, আপনারা বাঙ্গালীরা ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কোথাও নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি।
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, “ভাষার জন্য সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। এ কারণে বাঙালি আজ বিশ্বের দরবারে গর্বিত।”
ভাষা ও ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ দুই দেশের বাংলা ভাষাভাষিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিতকে আরো শক্তিশালী করবে। তাই দুই বাংলার মধ্যে শুধু একুশের অনুষ্ঠান নয়,অন্যান্য জাতীয় দিবসেও এ রকম অনুষ্ঠান করার কথা আমরা ভাবছি বলে জানান আফিল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পী ক্লোজআপ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন সানিয়া সুলতানা লিজা, মোল্লা বাবু, কবি ফকরে আলম, ভৌরব নাট্য গোস্টি সংগীত পরিবেশন করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc