Thursday 3rd of December 2020 10:19:36 PM

বেনাপোল থেকে এম ওসমানঃ  পেয়াঁজ আমদানিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় টানা ১১ দিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারী পার্কিং আর সড়কে প্রায় দেড় শতাধিক পেঁয়াজ বোঝায় ট্রাক এখনও দাড়িয়ে আছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির শিকার হবেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বাংলাদেশী আমদানি কারকেরা তাদের ভারতীয় রফতানি কারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে পুরানো এলসির আটকে পড়া পেঁয়াজ ছাড় করনের বার বার আবেদন জানালেও তা এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি। ফলে এ বন্দর দিয়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাড়িয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় বাজারে পেয়াঁজ সংকট দেখা দেওয়ায় দাম আবারও বেড়ে চলেছে। আজ সকালে পাইকারী বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর খুরচা বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে দাবী ব্যবসায়ীদের।
পেঁয়াজ আমদানি কারক শেখ ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারি শেখ মাহাবুব বলেন, প্রতিবছর পেঁয়াজ নিয়ে লংঙ্কা কান্ড হয়। ভারত কখনো উৎপাদন সংকট আবার কখনো রফতানি মুল্য তিন গুন বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে তারা। এক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলায় ভারত ছাড়াও বাইরের কিছু দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান তিনি।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সভাপতি মহাসিন মিলন বলেন, তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এপথে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাড়িয়েছে।
পেঁয়াজ আমদানি কারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে হেফাজতে তাদের প্রায় শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেয়াঁজে পচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছেছিল। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারো নতুন করে তারা লোকশানে পড়বেন।
বেনাপোল বন্দরের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা শুকর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম। আর যা আসছে তা বস্তায় অর্ধেক পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একরম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে মনে হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়ায় সংকট দেখিয়ে গত ১৪ সেপ্টেবর থেকে বাংলদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এপর্যন্ত কোন পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দিবে কিনা তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি।
তবে এপথে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক আছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেবর থেকে ২৪ সেপ্টেবর পর্যন্ত ১০ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৪৪ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য । তবে এসব পণ্যের মধ্যে কোন পেঁয়াজের ট্রাক ছিলনা। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে ১০২৭ ট্রাক পণ্য। তবে এসব রফতানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ টি ট্রাক ছিল পদ্মার ইলিশ।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর প্রতিনিধি:  মাধবপুর বাজারগুলোতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হবার খবর পাওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর বাজার, নোয়াহাটি মোড় এবং তেলিয়াপাড়া বাজারে পেয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে ১৩০০০টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া জগদীশপুর বাজারে একটি হোটেলে নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় এক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন তারা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আধাঘণ্টা পর বাজার থেকে ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলে আবারো পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার বলেনঃ সিন্ডিকেট করে কেউ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ   অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। পেট্রাপোল কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট কার্তিক চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছেন।

কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ভারতের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সোমবার ভারত সরকার পেট্রাপোল কাস্টমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সে মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, সোমবার থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রফতানি হবে না।

পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকালে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন যে ভারত কোনও পেঁয়াজ রফতানি করবে না। ভারত সরকার নাকি কাস্টমসকে নিষেধ করেছেন পেঁয়াজ রফতানি না করতে এবং পেঁয়াজ রফতানি করবে না বলেও বলেছে আমাদের। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে। আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা তাদের বলছি আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রফতানির জন্য। আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয় তাহলে আমাদের এই পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে সেই চিন্তায় পড়েছি। এই যে আমাদের ক্ষতি, কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবো? তাই বিষয়টি অতি সত্বর সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। কম দামে পেঁয়াজ পেয়ে আনন্দিত ক্রেতারা।বৃহস্প্রতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুর থেকে দুটি ট্রাকে মৌলভীবাজার শহরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন।এ সময় কোর্ট এলাকায় পেঁয়াজ নিয়ে টিসিবির ট্রাক আসা মাত্র ক্রেতাদের ভীড় জমে যায়। কম দামে পেঁয়াজ পেয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ ক্রয় করেছেন ক্রেতারা।

খুচরা বাজারে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও টিসিবির প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে ক্রয় করতে পেরে আনন্দিত ক্রেতারা। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবী তাদের।

এদিকে টিসিবির পরিবেশক জানায় দুটি ট্রাকে ২ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ১কেজি পেঁয়াজ ক্রয় করতে পারবেন। সরবরাহ যতদিন থাকবে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিনই টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ জৈন্তাপুরে ভারতীয় চোরাইপতে আনা পেঁয়াজ বোঝাই ডি.আই ট্রাক গাছের সাথে ধাক্কা লেগে ২জন গুরুত্বর আহত হন।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে ভারত হতে বিভিন্ন প্রকার মাদক সামাগ্রী, নাছির বিড়ি,নিম্ন মানের সিগারেট, গরু-মহিষ, চা-পাতা, পেঁয়াজ আমদানী হচ্ছে।

১৭ নভেম্বর রবিবার সকাল ৮টায় সীমান্তের চোরাই পথে আনা পেঁয়াজ বোঝাই দ্রুতগামী ডি.আই ট্রাক সিলেট-মেট্রো-ণ-১১-০৫০৭ জৈন্তাপুর হতে সিলেটে যাওয়ার পথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর ৭নং গ্যাসকূপ এলাকায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দূর্ঘটনায় পতিত হয়।

এঘাটনায় চালক সহ ২জন গুরুত্বর আহত হন। আহতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। অপরদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায় উপজেলার হরিপুর হেমু হাউদপাড়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আল-আমিন সীমান্ত পথে ভারত হতে পেঁয়াজ নিয়ে আসছিল, দ্রুততার সাথে যাওয়ার করনে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক প্রতিবেদককে জানান, ব্রেক ফেইল হয়ে একটি ছোট ট্রাক দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে।

পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের মন্ত্রী-এমপিরা সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির ঘটনায় ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদত্যাগ দাবিও করেন তিনি।শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ দাবি করেন রিজভী।

কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও পেয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল এ বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের কেজি দেড় শতকের পর ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। গতকাল যোগ হয়েছে আরও ৪০ টাকা। ২৪০ টাকা ছাড়িয়েও থামেনি দাম। সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী যেদিন বললেন বাজার নিয়ন্ত্রণে, তার পরদিনই একলাফে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যায়। তাদের বক্তব্য সিন্ডিকেটকে উসকে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আরও  বলেন, দেশের জনগণ মনে করে পেঁয়াজ নিয়ে লুটতরাজ চলছে, তার সঙ্গে কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি সরাসরি জড়িত। এ কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলছে সরকার। অবিলম্বে আমরা ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।

খালেদার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছার বাইরে আদালত থেকে তার মুক্তি হবে না। এজন্য রাজপথে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। এ সময়, সংসদে বিএনপির ছয় সাতজন নেতা থেকে কি লাভ, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন রিজভী।

এ সময়,গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী,সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান এবং স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথভাবে যাচাই করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিকে নিয়ন্ত্রণমূলক বলে অভিহিত করেন বিএনপির এ নেতা।

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভোট ছাড়া নির্বাচন হয়ে সংসদ গঠন সম্ভব হলে পেঁয়াজ ছাড়া রান্নাও সম্ভব। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ সিন্ডিকেটের কারসাজি। বর্তমানে পেঁয়াজের অভাবের চেয়ে সংকটের প্রচার আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ কোনো জিনিসের অভাব হলে তার দাম এমনিতেই বেড়ে যায়।

আজ (শুক্রবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত সাদেক হোসেন খোকা স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি। এ সময়, সরকারের ইচ্ছা ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ ও বেনাপোল বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৪ অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে ২২০০০(বাইশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) শার্শা উপজেলার বেনাপোল ও নাভারন বাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কালে দেখা যায় যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেট পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক করে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। ব্যবসায়ীদের কেউ ১৩০ টাকা পাইকারি ক্রয় করে খুচরা ২০০-২৩০টাকা বিক্রি করছে আবার কেউ ১৫০-১৬০টাকা ক্রয় করে খুচরা ২০০-২৩০টাকা বিক্রি করছে।

সাধারণ জনগণ অর্থাৎ ভোক্তারা এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী ক্রয়কৃত পণ্যের মুল্য তালিকা দেখাতে ব্যর্থ এবং পণ্যের মূল্য প্রদর্শন না করে বেশি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করায়  নাভারণ ও বেনাপোল রাজারস্থ চারটি পাইকারি দোকানদারকে ভোক্তা-আধিকার আইনে ২২০০০/-(বাইশ হাজার) টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারের নিত্যদিনের পণ্যের উপর উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪মে,বেনাপোল প্রতিনিধি: সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৭ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে এখন ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অতিরিক্ত মুনাফালোভী বিক্রেতাদের কারসাজির কারণে অস্বাভাবিক হারে মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় রমজানে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বাজার সহনশীল রাখতে এবং পেঁয়াজ আমদানি গতিশীল করতে বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাত দিনে ৩০৬টি ট্রাকে ১০২টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ১০ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রমজান উপলক্ষে দিন দিন আমদানি আরও বেড়ে চলেছে। ভারত থেকে নাসিক, হাসখালী, বেলেডাঙ্গা ও খড়কপুর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে। আমাদের দেশে নাসিকের পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।

এর আগে ১০ শতাংশ শুল্ক কর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হতো। তখন কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে কিনতে হতো সাধারণ ক্রেতাদের। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পেঁয়াজের বাজার মূল্য ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সাধ্যের মধ্যে রাখতে ১৬ সালের রোজার আগে সরকার পেঁয়াজের উপর আমদানি শুল্ককর প্রত্যাহার করে। তখন থেকে আর শুল্ককর সংযোজন হয়নি। তবে শুল্ককর উঠলেও অতিরিক্ত লাভে বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে।

ভারতের রফতানি মূল্যে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে ২০৫ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি টনের মূল্য দাড়ায় ১৭ হাজার ১৫ টাকা। কেজিপ্রতি আমদানি খরচ পড়ছে প্রায় ১৮ টাকা। এলসি খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত পেঁয়াজ পৌঁছাতে খরচ পড়ছে প্রতিকেজি ১৯ টাকা। আমদানি হওয়া পেঁয়াজ বন্দর থেকে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বাজার সহনশীল রাখতে এবং পেঁয়াজের আমদানি গতিশীল করতে বেনাপোল বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc