Wednesday 21st of October 2020 05:16:33 AM

ভারতের পাঞ্জাবে বিষাক্ত মদ পান করে এ পর্যন্ত ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবগারি বিভাগের ৭ কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাসহ ৬ পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। কর্মকর্তারা বলেন, সরকার মৃতদের প্রত্যেক পরিবারপিছু দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

বিষাক্ত মদে পাঞ্জাবের তরতারনে সবচেয়ে বেশি ৬৩ জন মারা গেছে। এছাড়া অমৃতসরে ১২, গুরুদাসপুরের বাটালায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যটিতে গত (বুধবার) দিবাগত রাত থেকে মদপানজনিত মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছয়। শনিবার পর্যন্ত তা বেড়ে ৮৬ হয়েছে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেন, ওই ঘটনায় কোনও সরকারি কর্মচারি বা অন্যরা জড়িত দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধে পুলিশ ও আবগারি দফতরের ব্যর্থতা লজ্জাজনক বলেও মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

মুখ্যমন্ত্রী এরইমধ্যে জলন্ধরের বিভাগীয় কমিশনারকে ওই ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুগ্ম আবগারি ও শুল্ক দফতরের কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপাররাও ওই তদন্তে যুক্ত হবেন।

অন্যদিকে, পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি দিনকর গুপ্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দেশি মদ খেয়ে সবাই মারা গেছেন। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় অমৃতসর, গুরুদাসপুর ও তরনতারনের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে একশ জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বেআইনি মদ উদ্ধার করে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।পার্সটুডে

আলী হোসেন রাজন.মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে খাসিয়া পানের দর আকাশ চুম্বী বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি এলাকা অধ্যুষিত ও পানের ভান্ডারখ্যাত মৌলভীবাজার। এ অসময়ে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা হতাশ হয়েছেন।

ক্রেতারা বলেছেন পানের বাজারে সিন্ডিকেট কাজ করছে। প্রতি বছরের মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পানের দাম বেড়ে যায়। , মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় ৭০টি পান পুঞ্জি রয়েছে। এসব পুঞ্জি থেকে পান ক্রয় করে পাইকারেরা রাজধানীসহ দেশ-বিদেশে বাজারজাত করে থাকে।

এর মধ্যে লাউয়াছড়া পান পুঞ্জি,শ্রীমঙ্গলের নিরালা পুঞ্জি, কুলাউড়া উপজেলার ফানাই পুঞ্জি, রবিরবাজার নুনছড়া পুঞ্জি ও রাজনগর উপজেলার ইনাই পান পুঞ্জি অন্যতম। প্রায় ২শ বছরের পুরোনো পান এক প্রকার লতা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ, যা পাহাড়ি এলাকার অরন্যে বৃক্ষের উপর ভর করে বেড়ে উঠে। একটি পান গাছ ২শ থেকে ৩শ পান পাতার জন্ম দিতে পারে। এসব পান তুলে নিলে আবার নতুন করে কুঁিড় দেয়া শুরু করে।

শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে গাছ থেকে পান কুঁড়ি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ কারণে এ ক’মাস খাসিয়া জাতের এসব পান তেমন একটা বাজারে দেখা যায়না। তখন ছুঁই ছুঁই কর দর বাড়ে। পরবর্তীতে বৈশাখ মাস থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পান কুঁড়ি দিয়ে বাড়তে শুরু করে। একটি পান মোঠা আকার ধারণ করে পুর্ণরূপ নিতে মাস-দেড়-এক সময় লাগে। জৈষ্ঠ্য মাসে পান তার সরূপ ধারণ করে মোঠা হলে পানির দামে পাইকারী বাজারে বিক্রি করে খাসিয়ারা।
চলতি বাংলা বছরের আশ্বিন-কার্তিক মাসে হঠাৎ করে দর বাড়াতে খাসিয়া সিন্ডিকেট, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পান চাষীরা বলছেন, এ বছর পান উৎপাদন কম হওয়াতে দাম বেড়েছে। এবার বৃষ্টিপাত না হওয়াটাই পানের দাম বাড়ার প্রধান কারণ। প্রতি ২০ কান্ডায় ১ কুড়ি পান এখন ২ হাজার থেকে ২২শ টাকায় আমরা বিক্রি করছি। পান উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রতি কুড়ি ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়।

আদী কালের এসব পান ভান্ডারখ্যাত ও খাসিয়া এলাকার পান পুঞ্জির নেতাকে বলা হয় মন্ত্রী। এখনো সেই মন্ত্রীদের দখলে খাসিয়া পুঞ্জি।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ভেজাল মদ পানে এক পরিবারের চার জনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরো কয়েকজনকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতরাতে রাজ্যের বারাবংকি জেলার রামনগরে এ ঘটনা ঘটে।

২০১৮ সালেও ভেজাল মদ পানে এ জেলায় নয় জনের মৃত্যু হয়। ভারতে ভেজাল ও বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। প্রতি বছরই মদ খেয়ে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আতিদ্যনাথ ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে রামনগর এলাকায় শুল্ক বিভাগ অনুমোদিত একটি দোকান থেকে কেনা দেশি মদ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। দ্রুত তাদের রামনগর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১০ জন মারা যান।

পুলিশ আরও জানায়, বাকীদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের বারাবংকি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই রাণীগঞ্জ ও এর আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা।পার্সটুডে

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: এক সময় সদর ঘাটের পানের কথা শোনা গেলেও এখন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ব্রজপুর বাজারের আজিম মামার মনকাড়া বাহারী স্বাদের পান নজর কেড়েছে আত্রাই উপজেলাবাসীর।
যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম মহেসখালীর পানের খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম কিংবা পালের লাও পালের লাও পান খেয়ে যাও, ঘরে আছে ছোট বোনটি তারে নিয়ে যাও। পান নিয়ে এমন আরও অনেক গান, কবিতা ,প্রবাদ আছে যা আমাদের সাহিত্য ভান্ডার কে করেছে সমৃদ্ধ।

সরেজমিনে আজিম পান ষ্টলের মালিক আজিম হোসেনের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, প্রতি খিলি পানের দাম ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। শাহজাদী ১০ বেনারশ ১৫ আর বোম্বে মাসালা খিলি বিক্রি হয় ৩০ টাকায়। পানে কী মসলা ব্যবহার করেন এমন প্রশ্ন করতেই মুচকি হাসেন আজিম মামা। তার পর বলতে থাকেন দম না নিয়েই কয়েক ডজন স্বাদ বৃদ্ধিকারী মসলার নাম এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোরব্বা, খেজুর, খোরমা, তানশিন, তেরেঙ্গা, চমন বাহার, এলাচ, নারিকেল, কিসমিস, সেমাই, ঝুড়া ইত্যাদি। তিনি বলেন, এসব মসলার সবক’টি দেশে পাওয়া যায় না। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর এই বাহারী মসলার স্বাদের কারনেই তার দোকানের বিশেষত্ব।

আজিম মামার পান ষ্টলে পান খেতে আসা ব্রজপুর গ্রামের মেহেদী হাসান রুবেলের সাথে কথা বললে তিনি মৃদু হেসে জানালেন, আমি তো আজিম মামার দোকানের পান ছাড়া অন্য কারো দোকানের পান খাইনা। আমি প্রয় ৬-৭ বছর ধরে এই দোকানের পান খেয়ে আসতেছি। তার বানানো পান আমার মুখে অন্য রকম একটা স্বাদ এনে দেয়।

পার্শ্ববর্তী বাগমারা উপজেলা থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্রজপুর বাজারে এসেছেন মজিবর রহমান কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আজিম মামার দোকানে এসেছেন পান কিনতে শাহাজাদী একটি পান মুখে দিয়েছেন এবং দুই খিলি পান কাগজে মুড়ে নিয়েছেন বাসায় নিয়ে যাবেন বলে। তিনি বলেন আমি যখনই ব্রজপুরে আসি আজিমের দোকানের বাহারী মসলা দিয়ে পান না খেলে আমার অপূর্নতা থেকে যায়। আর দুই খিলি পান নিয়ে যাচ্ছি বাসায় গিয়ে খাবো।
পান বিক্রেতা আজিম মামার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি প্রায় ২০ বছর যাবৎ পান বিক্রি করে আসছি প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ বিরা পান বিক্রি হয়। তিনি আরও জানান , অনেক মানুষ আসে আমার দোকানে পান খেতে মাঝে মাঝে এত ভিড় হয় যে একা হিমসিম খেয়ে যাই। পান বিক্রি করেই পরিবারের সদস্যদের খরচ যোগান। লেখা পড়া করে সন্তানেরা চাকুরি করবে তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

প্রচলিত নানা গল্পগাথায় রাজ-রাজাদের পানবিলাসের বর্ণনা মেলে। সেসব পান সাজানো হতো দুর্লভ সব মসলা দিয়ে। মেশানো হতো বহুমূল্য সুগন্ধি। আত্রাই উপজেলার ব্রজপুর বাজারের আজিম হোসেনের শাহী পান, বেনারশি পান, বউ জামাই পান, মোম্বাই পানসহ নানা ধরনের হরেক রকমের পান সকলের মন জয় করেছে এবং করবে এমনটি প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫মার্চঃ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় বন-পাহাড়ে খাসিয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস।খাসিয়া আদিবাসীদের পান চাষ এ দেশের সমতল অঞ্চলের পান চাষের চেয়ে ভিন্ন। খাসিয়া আদিবাসীরা সিলেট অঞ্চলের বন-পাহাড় এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে আদিপদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বনগাছে বহু যুগ থেকে পান চাষাবাদ করে আসছে।

পানকে খাসিয়া ভাষায় “পাথা” বলে থাকে। আর এ পান শুধু খাসিয়া আদিবাসীরাই চাষাবাদ করছে বলে সবার কাছে খাসিয়া পান বলে পরিচিত।খাসিয়া পুরুষরা পান জুমে লতানো পানগাছের পরিচর্যা এবং বছরে একবার গাছের ডালপালা ও পাতা ছেঁটে দেয় এবং ছাঁটানো ডালপালা ও পাতা পানগাছের গোড়ায় দিয়ে থাকে। ডালপালা ও পাতা পচে প্রাকৃতিক জৈব সার তৈরি হয়।

বর্তমানে কেউ কেউ বাজার থেকে জৈব সার ক্রয় করে নিজেদের পান জুমে বেশি ফলানোর আশায় ব্যাবহার করে থাকে।খাসিয়া পুরুষরা লু-উ নামে (মই) এক ধরনের বাঁশের মই দিয়ে পান তুলে থাকেন।পান তোলার সময় এরা সাথে পান সংগ্রহ করার জন্য ঝুড়ি রাখে,ঝুড়ির ভেতরে পান তুলে রাখে এবং খাসিয়া পুরুষরা পান সংগ্রহ করে জুম থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে।আর খাসিয়া নারীরা ঘরে বসে পান গুছিয়ে(কান্তা বা ছলি বানিয়ে) বিক্রয় করে থাকে। খাসিয়া আদিবাসীরা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। তাই পরিবারে নারীদের অধিকারই বেশি।

১২টি পান পাতায় এক গুছি আর ১২টি গুছিতে এক কান্তা এবং ১২ কান্তায় এক কুড়ি। তাদের নিজেদের মধ্যে নারী শ্রমিকও আছে, তারা শুধু নিজের পুঞ্জিতে পান গুছি করে। এক কুড়ি গুছি করলে পারিশ্রমিক বাবদ ৩৫-৪০ টাকা পেয়ে থাকে।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির গ্রামপ্রধান ফিলাপথমী(খাসিয়া মন্ত্রী) বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে খাসিয়া আদিবাসী নারীরাই এ এলাকার বাজারে নিয়ে নিজেদের পান বিক্রয় করত। বর্তমানে স্থানীয় বাঙালি ক্রেতারা খাসিয়া পুঞ্জিগুলোর বাড়িতে বাড়িতে এসে পান ক্রয় করে নারীদের কাছ থেকে।

খাসিয়া পানপাতায় সমতল অঞ্চলের পানের চেয়ে ঝাঁজ বেশি। খাসিয়া আদিবাসীরা পান জুমে কাজের সময় শরীরে ছোটখাটো ঘা হলে রক্ত বন্ধ করার জন্য বুনোওষুধ হিসেবে পানপাতা ব্যবহার করে থাকে।বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের জন্য পানের উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে পানের মূল্যও কম হয়ে থাকে।

কুড়িপ্রতি ৪০০-৫৫০ টাকা আর শুকনো মৌসুমে পানের উৎপাদন কম হওয়ায় কুড়িপ্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পানের মূল্য অনেক কম।খাসিয়া পান বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং এ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ভ্রমণ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখকঃশ্যামল দেব বর্মা। 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc