Monday 26th of October 2020 07:57:54 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১ফেব্রুয়ারিঃ অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে সৌদি আরবে। মেয়েরা গাড়ি চালাতে পারছে। এমনকি তারা এখন মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখার সুযোগ পর্যন্ত পাচ্ছে। এবার পোশাক-আশাকের সুকঠিন বিধিনিষেধও উঠে যাবার পালা। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আলেমদের (মুফতিদের) নিয়ে গঠিত পরিষদের প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাক বলেছেন, এখন থেকে জনসমক্ষে সৌদি নারীদের সর্বাঙ্গ ঢাকা কালো পোশাক (‘আবায়া’) পরার কোনো দরকার নেই। পোশাকটা শালীন হলেই চলবে।

শেখ মুতলাকের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।

শেখ মুতলাক আরো বলেন, মুসলিম দেশগুলোর ৯০ ভাগ ধর্মপ্রাণ নারী জনসমক্ষে সর্বাঙ্গ ঢাকা পোশাক পরেন না। তাই সৌদি নারীদেরও জনসমক্ষে সর্বাঙ্গ ঢাকা পোশাক পরার কোনো দরকার নেই।

বিলেতের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা শেখ মুতলাকের এই বক্তব্যকে ”দেশটিতে চলমান সুদুরপ্রসারি উদারিকরণ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ লক্ষণ’’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

শেখ মুতলাক গত শুক্রবার প্রচারিত একটি টিভি অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের উচিত হবে না মানুষকে (নারীদের) ‘আবায়া’ পড়তে বাধ্য করা।

অবশ্য এটা শেখ মুতলাকের ব্যক্তিগত অভিমত, সৌদি সরকারের নয়। এ সত্ত্বেও নারীদের সর্বাঙ্গ ঢাকা পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে নেবার পক্ষে এই বক্তব্যটি যেহেতু রাষ্ট্রীয় আলেম পরিষদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্যের, সেহেতু একে সৌদি সরকারের প্রচ্ছন্ন ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও সরকার এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধের দেশ সৌদি আরবে নারীরা জনসমক্ষে সর্বাঙ্গ ঢাকা পোশাক বা ‘আবায়া’ পরিধান করতে আইনত বাধ্য।

মুতলাকের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থন ও বিরোধিতার হিড়িক পড়ে গেছে। অনেক উদারপন্থি আলেম তার এই বক্তব্যকে খোলামনে স্বাগত জানিয়েছেন, যা আগের বাদশাহদের আমলে ছিল অকল্পনীয়।

এক সৌদি নাগরিক টুইটারে মন্তব্য করেছেন: নারীর সতীত্ব বা নৈতিকতাকে এক টুকরো কাপড় দিয়ে মাপা যেতে পারে না!

সচেতন মহলের ধারনা-তদন্ত কমিটির সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতির কারণে ক্ষতিপূরণ পায়নি শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী,পরিবহন শ্রমিক,সাধারণ পথচারি,পযর্টক,হোটেল ও যানবাহনের ক্ষতি গ্রস্থরা”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জানুয়ারী,ষ্টাফ রিপোর্টার,মো.জহিরুল ইসলামঃ ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি তারিখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, সাধারণ পথচারি ও পযর্টক,হোটেল,যানবাহনের উপর বিজিবি সৈনিকদের হামলার ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার দীর্ঘ এক বছর অতিক্রান্ত হলেও ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্থরা।

প্রশাসনের আশ্বাসে ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি’র মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। কিন্তু তা না হয়ে তড়িঘড়ি করে ১৫ দিনের মাথায় ওই তদন্ত কমিটির ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই তাদের কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে গেছেন। এদিকে তদন্ত কমিটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত করতে পেরেছে কিনা বা আদৌ তা বাস্তবায়িত হবে কিনা এ নিয়ে হতাশায় ভূগছেন শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক-মালিক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থরা।

বিজিবি’র সৈনিকদের হামলার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী,পরিবহন শ্রমিক-মালিক ও অন্যান্যরা ৩ দিন শ্রীমঙ্গলে ধর্মঘট ডাকে। প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী,পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। কিন্ত হামলার ১ বছর কেটে গেলেও আজও ক্ষতিগ্রস্তরা কোন ক্ষতিপূরণ কিছুই পায়নি।

জানা যায়, বিজিবির এহেন অমানবিক ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের ঢাকা অর্নিদিষ্ট কালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফারুখ আহমেদকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শহীদুল হক ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমানকে নিয়ে ৪ সদস্য বিশিষ্ট ১টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে ৭ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারির ভেতরে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সকল তদন্ত কাজ শেষ করে বিজিবি’র উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। কিন্তু তদন্ত কাজ কিছুটা এগুতে না এগুতেই ওই কমিটির ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই বদলী হয়ে যান।

পরবর্তীতে মৌলভীবাজারে যোগ দেয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল এই চারজনকে নিয়ে পুণঃরায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতের দেখা দেয় ধীর গতি। এদিকে তদন্ত কমিটির সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘ ১ বছরেও ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব হয়নি বলে ধারণা ক্ষতিগ্রস্থদের।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিগত কমিটির প্রধান মো. ফারুখ আহমেদ এখন পর্যন্ত বর্তমান কমিটির কাছে কোন কাগজপত্র হস্থান্তর করেন নি। বিধায় বর্তমান কমিটি এই তদন্ত কাজে এগুতে পারছে না।

এদিকে বিগত তদন্ত কমিটির প্রধান মো. ফারুখ আহমেদ জানান, তিনি দায়িত্বরত থাকাকালীন সময়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যানের সহকারী সুদীপ দাশ ও উপজেলা টেকনিশিয়ান আমীর হোসেন বাদলকে দিয়ে সকল কাগজপত্র তৈরী করেছিলেন। তিনি বদলী হয়ে যাবার সময় তাদের কাছেই সকল কাগজপত্র রেখে গেছেন।
এব্যাপারে আমীর হোসেন বাদলকে কাগজ গুলো কোথায় আছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কাগজগুলো ডিসি অফিসে পাঠানো হয়েছে অনেক আগেই।
বর্তমানে নিযুক্ত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন- আমি একটি মিটিং এ আছি,বিজিবির ঘটনার বিষয়টি অনেক আগের। আমরা নতুন একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম।এই কমিটি কি করেছে তা অফিসে গিয়ে দেখে বলতে হবে।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন- বিজিবি হামলায় শহরের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আমরা কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে আমাদের যা যা করার দরকার অবিলম্বে আমাদের কর্মসূচী হতে নেবো।

পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান বলেন- আমাদের মোট ৩৭ টি কার মাইক্রোবাস, ৭০ টি সিএনজি এবং ছোট-বড় আরো ৬০ টি ট্রাক ও ৫ টি মিনিবাস ভাংচুর করা হয়েছে। যার প্রতিটি মেরামত করতে আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লেগেছে। ১ বছর হয়ে গেছে আমরা কোন ক্ষতিপূরণ পাইনি। আর অপেক্ষা করা যাবে না। ক্ষতিপূরণ না পেলে আমরা আবারও ধর্মঘট ডাকবো।

উল্লেখ্য,গত ৫ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ রোজ বৃহস্পতিবার বিজিবি’র সাথে এক পরিবহন চালকের সাথে পাম্পের গ্যাস নেবার সময় কথাকাটাকাটি হয়।এসময় বিজিবি ও ঐ পরিবহন চালকের গায়ে হাত তুলে।সেখান থেকে ঐ চালক শ্রীমঙ্গল শহরে প্রবেশ করে শহরতলী ভানুগাছ রোডস্থ পানসী হোটেলের সামনে বিজিবি’র গাড়ির গতিরোধ করে হাতাহাতি শুরু হয়। সন্ধ্যায় এই খবর বিজিবি’র ক্যাম্পে চলে গেলে বিজিবি’র সৈনিকরা অস্ত্র গোলাবারুধ নিয়ে শহরের প্রবেশ করে শ্রীমঙ্গলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনসহ পথচারীদের উপরে অতর্কিত হামলার চালায় তারা নিরহ মানুষের উপরে।এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ,শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনসহ অর্ধশত মানুষকে পিঠিয়ে আহত করে বিজিবি সদস্যরা এসময় গনমাধ্যম কর্মীর ক্যামেরাও ভেঙ্গে দেয় বিজিবি’র সৈনিকরা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২ডিসেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সরকারী,বেসরকারী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি কিন্টারগার্ডেন,স্কুল,মাদ্রসা ও কলেজ গুলোতে শহীদ মিনার নেই। স্বাধীনতার ৪৬বছর পার হলেও স্থায়ী ভাবে আজও তৈরী করা হয় নি। আর হাওরাঞ্চলে সঠিক ভাবে প্রচার,প্রচারনা ও শহীদ মিনার না থাকায় কোমল মতি শিশু শিক্ষার্থী বুজে উঠতে পারে না বিভিন্ন জাতীয় দিবস সম্পর্কে। ফলে পাঠ্য বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের। আর যে সব বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার আছে সেগুলো আবার সারা বছরই থাকে অযত্ন আর অবহেলায়। যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়,সুনামগঞ্জ জেলার হাওরা লের ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,মধ্যনগর,বিশ্বাম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লা,তাহিরপুর সহ ১১টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে তৈরী করা হয় নি শহীদ মিনার। ফলে পালন করা হয় না আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস,বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস। শহীদ মিনার না থাকার ফলে প্রতি বছরই হাওরা লের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টিানে জাতীয় দিবস এলেই কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলাগাছ কিংবা চেয়ার টেবিল দিয়ে বা অন্য কোন ভাবে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগন আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা,বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস পালন করে। বেশির ভাগ হাওরা লের শিক্ষা প্রতিষ্টান সেই দিন বন্ধ থাকে। আর শিক্ষার্থীরা অন্যান্য সাভাবিক দিনের মত করেই সারা দিন বাড়ির কাজ ও খেলাধুলা করে সময় কাটায়। ঐ দিন পার হলেই আর সেই শহীদ মিনার আর পাওয়া যায় না। আর শহীদ মিনার যে কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে সে গুলো আবার থাকে সারা বছরেই অপরিচছন্ন অবস্থায় রং বিহীন,শহীদ মিনারের নিচে মাটি নেই। শহীদ মিনার এলাকায় গুড়া ফেরা করে মল ত্যাগ করে গরু,ছাগল সহ অন্যান্য প্রানী।

কেবল ঐ দিন গুলো আসলেই আগের দিন ঘসা মাজা করে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়। জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১৭মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৩টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়,বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়,জয়নাল আবেদিন মহা বিদ্যালয়,মানিকটিলা,তেলীগাঁও,দুধের আওটা,লক্ষীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ শতাধিক প্রাথমিক,উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। বালিজুরী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান,বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন বলেন-শহীদ মিনার না থাকায় দিন দিন হাওরা লের ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস,২১শে ফ্রেরুয়ারীর চেতনা। রফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী,মাসুক মিয়াসহ জেলার সচেতন মহল ও অভিবাবকগন বলেন-ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎর্সগ করেছে এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বের একটিও দেশেও নেই বাংলাদেশ ছাড়া। শহীদদের কে সম্মান দিতে,স্বরনীয় করে রাখতে ও ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শহীদ মিনার নির্মান করা খুবেই প্রয়োজন।

সরকার যদি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তাহলে সুনামগঞ্জের হাওরা ল থেকে কালের আর্বতে হারিয়ে যাবে ১৬ডিসেম্বর,২৬শে মার্চ,২১শে ফ্রেরুয়ারীর চেতনা ও মর্যাদা। এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম জাহান রাব্বি জানান-আমরা শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য আবেদন করেছি। শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে সরকারী ভাবে কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায় নি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব বলেন-শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য উপজেলার সকল স্কুলের খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-ভাষা ও মুক্তিযোদ্ধের শহীদদের প্রতি সর্ম্মান প্রদর্শন ও স্বরনীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপর করা খুবেই প্রয়োজন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬নভেম্বর,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ     নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন নদীপথ বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়। নদী খননের মধ্যদিয়ে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। এই উপলব্ধি থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাদেশের নদীগুলো খননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। তারপর থেকে নদী খননের আর কোন কার্যক্রমের অগ্রগগিত হয়নি। বর্তমান সরকার পুনঃরায় সেই গুরুত্ব উপলব্ধি করে সারাদেশের নদী খননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভরাট হয়ে নদী লাবন্যতা হারিয়েছে। অথচ নদীর সাথে আমাদের কৃষিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উন্নয়নের সম্পৃক্তা রয়েছে। তিনি গতকাল বৃহষ্পতিবার আত্রাই উপজেলা সদরে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
প গড়-দিনাজপুর-নওগাঁ-পাবনা নৌপথ খনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক (জি) এনইউপি, এনডিসি, পিএসসি,বিএন। দেশের নৌ-পরিবহনখাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর এবং মংলা বন্দর প্রায় মরে গিয়েছিল। কিন্তু এ সরকারের সময় তা আবার জেগে উঠেছে। ইতিপূর্বে সাড়ে ১১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। কিন্তু আমাদের উদ্যোগে কেবল গত এক বছরে লাভ করেছে ৭০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বর্তমানে রিজার্ভ হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা যা এ ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন। ইতোপূর্বে কখনও তা সম্ভব হয় নি। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন পদ্মাসেতুর কাজ দেশের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়েছে। এর নির্মান কাজ এগিয়ে চলেছে। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে পদ্মাসেতুর নির্মান কাজ শেষ হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রী বিশেষ করে উত্তরা লের উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন এই অ লের বাহাদুরাবাদ-বালাসাঘাট নৌপথ আবার চালু হতে যাচ্ছে। এই নৌ-পথ চালু হলে এই অ লের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। তিনি আত্রাই-রাণীনগরের উন্নয়েনর ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আবরও ইসরাফিল আলমকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীননগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, নওগাঁ’র জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, আত্রাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এবাদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ দত্ত দুলাল, সাধারন সম্পাদক চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল প্রমুখ। উল্লেখ্য আত্রাই রাবারড্যাম থেকে নাটোরের গুরুদাসপুর রাবারড্যাম পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার নদীপথ ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং পদ্ধতিতে খনন কাজের উদ্বোধন করা হলো। মন্ত্রী আত্রাইয়ে আসলে হাতি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

‘মিনিকেট’ নামের কোনো ধান নেই। বাজারে এ নামে রং-বেরঙের নানা বস্তাবন্দি যে চাল পাওয়া যায় তা আসলে সাধারণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্নমানের মোটা চাল মেশিনে ছেঁটে সরু করে ‘মিনিকেট’ নামে মুলত প্রতারণা’

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৮সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ  দেশে-বিদেশে ‘মিনিকেট’ নামের কোনো ধান নেই। বাজারে এ নামে রং-বেরঙের নানা বস্তাবন্দি যে চাল পাওয়া যায় তা আসলে সাধারণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্নমানের মোটা চাল মেশিনে ছেঁটে সরু করা। আর বিষয়টি এবার প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণায়। বিআইডিএসের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশি দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা লাভের লক্ষ্যে বিশেষ পলিশিং মেশিনে মোটা চাল কেটে চিকন ও চকচকে করা হয়। সুস্বাদু ও অতিরিক্ত চকচকে করতে এই চালে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। মোটা চাল ছেঁটে সরু এবং রাসায়নিকের মাধ্যমে চকচকে করায় কথিত ‘মিনিকেট’ চালে স্বাভাবিক খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণও থাকে না।

‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে বিআইডিএসের গবেষণার এই ফলাফল গতকাল রবিবার তুলে ধরা হয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে গবেষণালব্ধ ফলাফলটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করে জনসচেতনতা সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

এ ব্যাপারে বৈঠকে সভাপতিত্বকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘মোটা চাল মেশিনে কেটে চিকন করে মিনিকেট নামে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বাস্তবে এই নামে কোনো ধান বা চাল নেই। পরিষ্কার ও চিকন হওয়ায় মানুষ এই চালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বেশি দামে কিনছে। এতে একদিকে মানুষের খরচ হচ্ছে বেশি, অন্যদিকে কেটে চিকন করায় ও রাসায়নিক মেশানোর কারণে এই চালের পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়ে যায়। দেশের মানুষ যেন এই প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায় সেজন্য কমিটি এ ব্যাপারে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছে।’

কমিটি সভাপতি জানান, ‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা ওঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করার জন্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকেও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মিনিকেট নিয়ে প্রচারণার উদ্যোগ নিতে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামালকে (লোটাস কামাল) অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবনে কৃষিমন্ত্রীর দেখা পেয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকেও বিষয়টি জানিয়েছি।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিআইডিএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- কতিপয় অতিরিক্ত মুনাফালোভী অটো রাইস মিল মালিক আধুনিক মেশিনে মোটা চাল ছেঁটে চিকন ও চকচকে করে মিনিকেট নামে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে। এসব অটো রাইস মিলে রয়েছে অতি বেগুনিরশ্মির ডিজিটাল সেন্সর প্লান্ট। এর মধ্য দিয়ে ধান পার হওয়ার সময় প্রথমে কালো-মরা ধান ও পাথর সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ওই মোটা ধান চলে যায় অটো মিলের বয়লার ইউনিটে। সেখানে পর্যায়ক্রমে পাঁচ বা একাধিক ধাপ পার হওয়ার পর লাল বা মোটা চাল সাদা রং ধারণ করে। এরপর অতি সূক্ষ্ম পলিশিং মেশিনে মোটা চালের চারপাশ কেটে চিকন করা হয়। পরে  সেটিকে আবার পলিশ ও স্টিম দিয়ে চকচকে শক্ত আকার দেয়া হয়। অতিরিক্ত চকচকে ও সুদৃশ্য করতে কেউ কেউ সেটিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকও মিশিয়ে থাকেন। এসব প্রক্রিয়া শেষে নানা নামে ‘মিনিকেট’ হিসেবে সেটি বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

বিআইডিএসের গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি ফসলের গবেষণার ক্ষেত্রে মিনি কিট করা হতো। এ শব্দটিকে ধান বা চাল ব্যবসায়ীরা মিনিকেট করে নিয়েছে। এক শ্রেণির মিল মালিক মাঝারি সরু বি আর-২৮, বিআর-২৯ ও বি আর-৩৯ জাতের এমনকি মোটা ধান ছেঁটে মিনিকেট বলে বাজারজাত শুরু করে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোথাও মিনিকেট নামে চাল নেই। বর্তমানে বাজারে এ নামে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তাতে ভিটামিন ডিসহ মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপাদানগুলো নেই।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী  আহম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), মুহিবুর রহমান মানিক ও তাজুল ইসলাম অংশ নেন। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বৈঠকে যোগ দেন।

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৭সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ  ৬৫ বছর আগে ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন মুসলিম সালতানাত বা রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার অবসান ঘটে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে হায়দারাবাদের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরাজয় ও ভারতীয় সেনাদের মাধ্যমে সংঘটিত ব্যাপক গণহত্যার মধ্য দিয়ে।

১৯৪৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হায়দারাবাদে অভিযান শুরু করে ভারত। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর একদিন পর এ অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানে নিহত হয়েছিল ২ লাখ মানুষ। তাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশুসহ হায়দারাবাদের বেসামরিক মুসলিম নাগরিক।

দাক্ষিণাত্য নামে পরিচিত এই মুসলিম রাষ্ট্রের শেষ সুলতান ওসমান আলী খান নিজাম উল মুলক আসেফ জাহ (নবম) ভারতীয় হামলা শুরুর পর  ছয় দিন প্রতিরোধ চালিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক রক্তপাত এড়াতে আত্মসমর্পণ করে মুসলিম বাহিনী। ফলে প্রায় ছয় শত বছরের স্বাধীন এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতার অবসান ঘটে। শেষ হয়ে যায় আসেফ জাহ’র পূর্বপুরুষদের ২২৪ বছরের শাসন।

হায়দারাবাদ ছিল ইউরোপের ফ্রান্সের চেয়েও ব্যাপক বিস্তৃত ভূখণ্ডের অধিকারী।

১৯৪৭ সালে যখন ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয় তখন হায়দারাবাদ নামক এই মুসলিম রাষ্ট্রটি ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তান কোনোটিতেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটি জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদনও জানিয়েছিল।

কিন্তু আধুনিক ভারতের কথিত গণতন্ত্রকামী নেতারা সামরিক শক্তির জোরে এই মুসলিম দেশটিকে জোর করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা “অপারেশন পোলো” নামের   এক সামরিক অভিযান চালান ভারতীয় সেনাদের দিয়ে। (গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে হায়দারাবাদ-দাক্ষিণাত্যে ছিল পোলো নামক অভিজাত খেলার সবচেয়ে বেশি ময়দান।)

এই অভিযান ব্যাপক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য। বিশেষ করে মারাথওয়ারা অঞ্চলের পরিস্থিতি হয়ে পড়েছিল ভয়াবহ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহারলাল নেহেরু এই বিপর্যয়ের ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তদন্তের ফলাফল কখনও প্রকাশ করা হয়নি। “হায়দারবাদ: একটি মুসলিম ট্র্যাজেডি” শীর্ষক এক প্রবন্ধে অধ্যাপক উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ বিবেকবান হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করে লিখেছেন, “যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর মুসলমানরা (গণহারে) ব্যাপক আঘাত ও পাশবিক হামলার শিকার হয়। ধ্বংসযজ্ঞের পর যারা বেঁচে ছিলেন তারাও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। তাদের হাজার হাজার ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখকে। মুসলিম বাহিনীর সহযোগীদের কথিত সহিংসতার প্রতিশোধ নেয়ার অজুহাত দেখিয়েই এইসব নারকীয় অভিযান চালানো হয়েছিল।”  (১৯৫০ সালে প্রকাশিত ‘দ্যা মিডল-ইস্ট জার্নাল’, খণ্ড-৪)

হায়দারাবাদ-দাক্ষিণাত্য আরব ও ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবাদে ইসলামী সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হয়েছিল। এখানে ফার্সি ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। ইসলাম-পূর্ব যুগেও দাক্ষিণাত্য উত্তর ভারতের মাধ্যমে স্বল্প কিছু কাল পদানত থাকলেও বেশির ভাগ সময়ই স্বাধীন ছিল। ভারতে তুর্কি মুসলিম তোঘলক বংশের শাসনামলে এই দেশটি ১৩৪৭ সালে আলাউদ্দিন হাসান বাহমান শাহের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করে। ইরানি বংশোদ্ভূত এই জেনারেল প্রতিষ্ঠা করেন বাহমানী বংশের রাজত্ব।

সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে এই রাষ্ট্র ৫টি পৃথক সুলতানাতে বিভক্ত হয়েছিল। এসবের মধ্যে প্রধান তিন শক্তি হিসেবে বিবেচিত হত আহমাদনগরের নিজামশাহী রাজ্য,  বিজাপুরের আদেলশাহী রাজ্য এবং হায়দারাবাদ-গোলকুণ্ডার কুতুবশাহী রাজ্য। এই রাষ্ট্রগুলো শিয়া মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। তাই এই রাষ্ট্রগুলোর প্রধানরা ভারতবর্ষের মোগল সম্রাটদের পরিবর্তে ইরানের সাফাভিদ বংশের সম্রাটদেরকে নিজেদের সম্রাট হিসেবে মান্য করতেন। আদেলশাহী ও কুতুবশাহী রাজবংশের শাসকরা ছিলেন মূলত তুর্কিভাষী ইরানি বংশোদ্ভূত। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৮৬ ও ১৬৮৭ সনে এই দুই বংশের রাজ্য জয় করে নেন।

১৭২৪ সালে দাক্ষিণাত্য আবারও  বিচক্ষণ জেনারেল কামারউদ্দিন খান নিজামুল মুলক আসফ জাহ’র নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করে। এই আসফ জাহ ছিলেন  উঁচু মানের একজন ফার্সি কবি। তিনি নাদির শাহের ভারত আক্রমণের সময় দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন। ভারত বিজেতা নাদির শাহ আসফ জাহের কাছে গোটা ভারতের শাসনভার অর্পণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পরাজিত মোগল সম্রাট মোহাম্মাদ শাহের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সবিনয়ে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।পার্সটুডে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭সেপ্টেম্বর,আলী হোসেন রাজন: আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে স্মার্টফোন, ফেইসবুকে মনযোগী না হয়ে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন সিলেট শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আজ দুপুরে অন্বেষা মৌলভীবাজার কর্তৃক এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক সৈয়দ মুহিবুল আমিন, অধ্যাপক ড. ফজলুল আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ চারশত আটানব্বই জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা সনদ, ক্রেষ্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই পুরো এলাকা জুড়ে কৃষকের মাঝে নেই ঈদ আনন্দো। বন্যা কবলিত আত্রাই অ লের মানুষের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়লেও সেখানে ঈদেও আমেজ নেই। চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে আত্রাইয়ের মানুষের।

অর্থাভাবে বেশিরভাগ পরিবারেই এখনো কেনা হয়নি নতুন জামাকাপড়। কেউ কেউ বিলে মাছ ধরে কোন রকমে জীবনধারণ করছেন। আবার অনেকেই জীবিকার তাগিদে ছেড়েছেন নিজ গ্রাম। সে সব পরিবারের সদস্যরা গৃহকর্তার ফেরার আশায় দিন গুনছেন।

ফলে আত্রাই উপজেলার কৃষকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে ঈদ নিয়ে বাড়তি কোন উচ্ছাস নেই। অকাল বন্যায় নিঃস্ব আত্রাই উপজেলার বাসিন্দাদের বেশির ভাগই এবার বি ত হবেন ঈদ আনন্দো থেকে। ক্রেতাশূণ্যতায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানিরা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এ সময়টিতে জামজমাট বিকিকিনি হলেও এ বছর অন্য দৃশ্য। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজলেও ক্রেতা কম। কারণ একটাই, এমন দুর্যোগের পর হাত খালি মানুষের। আত্রাইয়ে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও অবিরাম বর্ষণের ফলে উপজেলায় এবারের বন্যায় এগারো হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে নেই এবার ঈদ আনন্দো।

গত দুই দুই বার বর্ষা মৌসুমে এভাবেই বন্যার পানিতে সমস্ত ফসল তলিয়ে যায়। ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে উপজেলার কৃষকেরা। এদিকে কৃষকদের মতে আমন ধানে যেহেতু উৎপাদন খরচ অনেক কম অথচ বজার মূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই তারা আমন দিয়ে বোরোর ক্ষতি পুশিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ও বিভিন্ন ফসল চাষ করেছিল। কিন্তু আষ্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার সমস্ত ফসল মুহুর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। দু’ বেলা দু’ মুঠো ভাতের জন্য পরিবার বাঁচাতে যাদের সর্বক্ষণিক দৌড়ঝাঁপ ঈদ বাজারের দিকে তারা কি আর খেয়াল রাখেবে।

উপজেলার কৃষি ও মৎসজীবীরা জানালেন এ বছর যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে বৃষ্টি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও অবিরাম বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় তারা এখন ঘর বাড়ি হারা। তাই ঈদ এলেও তারা এখন চরম অসহায়। একদিকে হাতে নেই টাকা। অন্যদিকে গৃহহীন। তাদের ছেলে-মেয়েরা ঈদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার করলে তারা শুধুই দু’ চোখের জল ফেলছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন বলেন, উত্তরা লের খাদ্যের বৃহৎ চাহিদা মেটাতে সহায়ক হতো আত্রাইয়ের উৎপাদিত আমন ধান। এবারের বন্যায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে র্ঊধ্বতন র্কতৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। আশা করা যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তা দিয়ে আগামী দিনে  সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

“ভারতের ধর্ষক কথিত গুরুর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ধর্ষনের অভিযোগে খোলা চিঠিতে এক নারীর যন্ত্রণার কথা”

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৭আগস্ট,ডেস্ক নিউজঃ………………………………………………………………………………………………

শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী

প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি

আমি পঞ্জাব থেকে আসা মেয়ে। সিরসা (হরিয়ানা)-র ডেরা সচ্চা সৌদায় একজন সাধ্বী হিসেবে সেবা করে চলেছি গত ৫ বছর ধরে । আমার মতো আরও কয়েকশো মেয়ে এখানে রয়েছেন, যাঁরা প্রতি দিন ১৮ ঘণ্টা করে সেবা করে চলেছেন।

কিন্তু এখানে আমরা যৌন নির্যাতনের শিকার। ডেরায় মেয়েদের ধর্ষণ করেন ডেরা মহারাজ (গুরমিত সিংহ)। আমি একজন স্নাতক। ডেরা মহারাজের উপরে আমার পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। পরিবারের সেই অন্ধবিশ্বাসের জেরেই আজ আমি একজন সাধ্বী। সাধ্বী হওয়ার বছর দুয়েক পর এক দিন রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ এক মহিলা ভক্ত আমার ঘরে আসেন। জানান, মহারাজ আমাকে ডেকেছেন। মহারাজ স্বয়ং ডেকে পাঠিয়েছেন শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। সাধ্বী হওয়ার পর সেটাই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে তাঁর ঘরে ঢুকি। দেখলাম ওনার হাতে একটা রিমোট এবং টিভিতে তিনি ব্লু ফিল্ম দেখছেন। বিছানায় তাঁর বালিশের পাশে একটা পিস্তল রাখা ছিল। এ সব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এর পর মহারাজ টিভিটা বন্ধ করে দেন। আমাকে ঠিক তাঁর পাশে নিয়ে গিয়ে বসান। খাওয়ার জন্য এক গ্লাস জল দেন। তার পর খুব আস্তে করে বলেন, ডেকে পাঠানোর কারণ আমাকে তিনি নিজের খুব কাছের বলে মনে করেন। এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।

এর পরই তিনি এক হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে তাঁর আরও কাছে টেনে নেন। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলেন, আমাকে তিনি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসেন। আমার সঙ্গে সহবাস করতে চান। বলেন, তাঁর শিষ্যা হওয়ার সময়ই আমার সমস্ত সম্পদ, আমার শরীর এবং আত্মা তাঁর কাছে উৎসর্গ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বর, এতে তো কোনও সন্দেহ নেই’। আমি তাঁকে বলি, ঈশ্বর কখনও এ রকম করেন না। আমাকে বাধা দিয়ে তিনি বলেন:

১) শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তাঁর ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাঁদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর বলে মানে। এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।

২) আমি তোমাকে এখনই এই পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারি। তোমার লাশ এখানেই পুঁতে দেব। তোমার পরিবারের প্রতিটা সদস্য আমার অন্ধ ভক্ত। তুমি খুব ভাল করেই জানো, তাঁরা কখনই আমার বিপক্ষে যাবেন না।

৩) সরকারের উপরেও আমার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের অনেক মন্ত্রীও আমার কাছে আসেন। আমার প্রতি তাঁদের ভক্তি দেখান। রাজনীতিবিদরা আমার কাছ থেকে সাহায্য নিতে থাকেন। সুতরাং তাঁরাও আমার বিরুদ্ধে কোনও রকম পদক্ষেপ করবে না। আমি তোমার পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি কেড়ে নেব এবং তাঁদের সেবাদার দিয়ে খুন করাব। আর সেই খুনের কোনও প্রমাণ থাকবে না। তুমি খুব ভাল করেই জানো, ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকেও আমি গুন্ডা দিয়ে খুন করিয়েছি। এখনও সেই খুনের কিনারা হয়নি। ডেরার দৈনিক আয় এক কোটি। এই টাকা দিয়ে আমরা রাজনীতিক নেতা, পুলিশ এমনকি বিচারক সকলকেই কিনে ফেলতে পারি।

ঠিক এর পরই মহারাজ আমাকে ধর্ষণ করেন। গত তিন বছর ধরেই মহারাজ এ ভাবে আমাকে ধর্ষণ করে আসছেন। প্রতি ২৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর আমার পালা আসে। আমি জানতে পেরেছি, আমার মতো যত জন সাধ্বীকে তিনি তলব করেছেন, তাঁদের সকলকেই ধর্ষণ করেছেন। বেশিরভাগেরই বয়স এখন ৩০ থেকে ৪০। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের কাছে এখন ডেরার এই আশ্রয় ছাড়া আর কোনও অবলম্বন নেই।

এই সমস্ত মহিলাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত। কারও স্নাতক তো কারও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। কিন্তু তাঁরা তা সত্ত্বেও এই নরকবাস করছেন। কারণ একটাই, মহারাজের উপরে তাঁদের পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। আমরা সাদা পোশাক পরি, মাথায় স্কার্ফ বাঁধি, পুরুষদের দিকে চেয়ে দেখি না। পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে ৫-১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখি। কারণ, এ সবই মহারাজের ইচ্ছা। তাঁর কথা মতোই আমরা এখানে চলাফেরা করি। সাধারণ মানুষ আমাদের দেবী গণ্য করেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, ডেরাতে আমরা আসলে রক্ষিতা। ডেরা এবং মহারাজের আসল সত্যিটা আমি আমার পরিবারকে জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। তাতে তাঁরা আমাকেই বকাবকি করেন। জানান, ডেরায় স্বয়ং ঈশ্বরের (মহারাজ) বাস। সুতরাং এর থেকে ভাল জায়গা আর নেই। এবং ডেরা সম্পর্কে যেহেতু আমার মনে খারাপ ধারণা জন্মেছে, তাই আমার উচিত ‘সতগুরু’-র নাম করা। শেষ পর্যন্ত আমাকে মহারাজের সমস্ত আদেশ পালন করতেই হয়, কারণ আমি সব মিলিয়ে অসহায়।

এখানে কাউকেই অন্যদের সঙ্গে বেশি কথা বলতে দেওয়া হয় না। পাছে ডেরার সত্য ফাঁস হয়ে যায়, তাই টেলিফোনেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। কোনও সাধ্বী যদি মহারাজের এই আচরণ ফাঁস করে দেন, তাহলে মহারাজের আদেশ মতো তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিছু দিন আগে, ভাতিন্দার এক তরুণী মহারাজের এই সমস্ত নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানান। মহারাজের নির্দেশে সমস্ত সাধ্বী মিলে তাঁকে বেধড়ক পেটান। মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট নিয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। তাঁর বাবা ডেরায় কাজ করতেন। কাজে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। মহারাজের ভয়ে এবং আত্মসম্মানের কথা ভেবে মুখ খোলেননি।

একই ভাবে, এই নির্যাতনের শিকার হন কুরুক্ষেত্রের এক তরুণীও। ডেরা ছেড়ে বাড়ি চলে যান তিনি। তাঁর কাছ থেকে এ সব কথা জানার পর তাঁর ভাইও ডেরার কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যান। পঞ্জাবের সঙ্গরুর এক তরুণী সাহস করে বাড়ি ফিরে ডেরার ভয়ঙ্কর দিকটা সবাইকে জানিয়েছিলেন। পর দিনই ডেরার অস্ত্রধারী সেবাদার বা গুন্ডারা তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। মুখ খুললে তাঁকে খুনের হুমকি দেন।

একই ভাবে মানসা, ফিরোজপুর, পাতিয়ালা এবং লুধিয়ানা থেকে এখানে আসা তরুণীরাও ভয়ে ডেরা নিয়ে কিছু জানাতে চাননি। তাঁরা ডেরা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তার পরও খুন হওয়ার ভয়ে মুখ বন্ধ করে আছেন। সিরসা, হিসার, ফতেয়াবাদ, হনুমানগড় এবং মেরঠের তরুণীরাও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন।

আমিও যদি আমার নাম জানাই, তাহলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে খুন করা হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই সত্য আমি সামনে আনতে চাই। এই মানসিক চাপ আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। খুব বিপদে রয়েছি। সংবাদমাধ্যম বা সরকারি কোনও সংস্থা যদি তদন্ত চালায়, তা হলে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন সাধ্বী এগিয়ে এসে এই সত্য জানাবেন আমি নিশ্চিত। আমাদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হোক। আমরা আদৌ সাধ্বী কি না তা জানা হোক। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় যে আমাদের কুমারিত্ব নেই, তাহলে তদন্ত করে জানা হোক, কে আমাদের সতিত্ব হরণ করেছেন।

তাহলেই সত্য বাইরে আসবে। মহারাজ গুরমিত রাম রহিম সিংহই যে আমাদের জীবন নষ্ট করেছেন তার প্রমাণ মিলবে।

(২৫.০৯.২০০২ সালে ‘দেশ সেবক’ নামক পত্রিকায় এই চিঠিটা প্রকাশ পায়। মহারাজ রাম রহিমের নির্যাতন আর মেনে নিতে না পেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিটি লিখেছিলেন এক তরুণী সাধ্বী। সেই চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাম রহিমের বিরুদ্ধে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়।)আনন্দবাজার পত্রিকা হতে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৪আগস্ট,ডেস্ক নিউজঃ  দুবাইয়ে ‘টর্চ টাওয়ার’ নামের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত দুবছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভবনটিতে আগুন লাগলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি জানাচ্ছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ৮৬ তলার ওই ভবনটির উপরের দিক থেকে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ছে এবং ধ্বংসাবশেষ ভেঙ্গে পড়ছে। ভবনটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়  অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।

তবে কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত তা এখনো পরিষ্কার করেনি কর্তৃপক্ষ। এক টুইটবার্তায় তারা জানায়, ‘‘টর্চ টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ এর আগে, ২০১৫ সালেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনটির অনেক ক্ষতি হয়েছিলো। বিবিসি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫জুন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের হাওরা লে এবার নেই ঈদের উৎসাহ-উদ্দিপনা। ভরা বর্ষার মাঝেও হাওরে মানুষের দিন কাটছে দুঃখ আর দূর্দশার মধ্য দিয়ে। আসছে ইদুল ফিতরে নিজে ও সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতে না পারায় হতাশাল ভুগছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগন। বর্ষার সময় হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ গুলো অসহায় হাওরে নেই মাছ,নেই অন্য কোন বিকল্প কাজ ব্যবস্থা,সবাই বেকার সময় পার করছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার দীপ সাদৃশ্য গ্রামে কাজের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার এই ৬মাস বেকার থাকে হাওরবাসী। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সরকারের সু-নজর না থাকায় এই মানব সম্পদ এখন সমাজের ভোজা হচ্ছে দিন দিন। যার জন্যে এই অনুন্নত অবহেলিত হাওরবাসীর কণ্ঠে কেবলেই শুধু বাচাঁর আকুতি।

এবার জেলার দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,দোয়ারা বাজার,বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার হাওর গুলোতে স্বরনকালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষক পরিবার গুলো। এদিকে সরকারী ফেয়ার প্রাইজ,টিসিবির পন্য বন্ধ,ভিজিএফ কার্ডে অনিয়ম ও ওএমএস চাল সঠিক ভাবে পায় নি হাওরবাসী। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের জন্য দু-মুটো খাবার জোগার করা দায় হয়ে পরেছে। বেশির ভাগ হাওরবাসী অর্ধহারে,অনাহারে,অভাব-অনটন কে সঙ্গী করে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে জীবন পার করছে।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাযায়-অকালে এক ফসলী বোরো ধান পানিতে তলিয়ের যাওয়ায় জেলা ও উপজেলার বাজার সহ প্রতিটি বাজারেই চালের দোকান গুলোতে চাল নেই। অনেকেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বেশি নিয়ে বিক্রি করছে দোকানীরা। হাওর ডুবে যাওয়ার পর থেকে সরকারী সহযোগীতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোতে টাকার অভাবে অনেকেই বাজার-সদাই করতেও পারছে না। ফসলহারা মানুষ গুলোর এখন দিন কাটতে ভিজিএফ কার্ড ও খোলা বাজারে কম মূলে চালের আশায়। দূর-দূরান্ত থেকে চাল নিতে আসা মানুষজন সকাল থেকে সারাদিন লাইনে দাড়িয়ে ডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছে না।

আরো জানাযায়,রমজান মাসে সেহেরী ও ইফতারীতে পানি ভাত আর রুটি,শাক পাতা আর যা পাচ্ছে তা দিয়ে কোন রখমে রোজা রাখছে। জীবন বাচাঁর একমাত্র হাতিয়ার জেলার ৯০শতাংশ বোরো ধান পানিতে তুলয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবার গুলোর মাঝে এখনও বুকভরা দ্বীর্ঘশ্বাস,আতর্œনাধ আর আহাজারির রেশ কাটেনি। বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবার গুলোর চাষাবাদের গরু আর গোলা (ধান রাখার পাত্র) এখন শূন্য। এখন নেই ঘরে নগদ টাকা ও খাবার চাল। হাওর পাড়ে বসবাসকারী জনসাধরন বেশির ভাগেই হাওরের পানি ব্যবহার করছে। ফলে নানান পানি বাহিত রোগে আক্রন্ত হচ্ছে।

সাদেক আলী,রফিকুল ইসলাম,শফিুকুল ইসলাম,জমির উদ্দিন,সাজন মিয়া, করিম সহ জেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন জানান,কি কইমু ভাই এবার বোরো ধান হারিয়ে এক বারেই নিঃশ্ব হয়ে গেছি। এই বার পানি ভাত,শাক-পাতা রুটি যা জোগাড় করতা পারি তাই খাইয়া রোজা রাখছি। অন্য বছর টাকা ছিল রমাজান মাসে বাজার থেইকা ভালা জিনিস আনতাম পরিবার তৈয়ার কইরা দিত খাইতাম এইবার ত জান যায় ভাল খাইমু কই থ্যাইকা। হাতে টাকা নাই পোলা মাইয়ারে কি ভাবে নতুন কাপড় কিনা দিমু আর জীবন চালাইমু বুজতা পারতাছিনা। শুনি সরকার নাকি হাওর উন্নয়নের লাগি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা,মিল-কলখারকানা,বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে।

সুনামগঞ্জের হাওরা লের ব্যাপারে উদাসীন কেরে। আমরার অভাব অনটন লাইগাই আছে বোরো ধান চাষ ছাড়া অন্য কোন কাজের ব্যবস্থা না থাকায়। আমরা হাওরপাড়ের মানুষগুলোর ৬মাস হাওরে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি কিন্তু হাওরে এখন মাছ নাই। সরকারী ভাবে মাছের পোনা হাওরে ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয়েছে দায়সারা ভাবে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে কোন প্রদক্ষেপ নিতাছে না। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুস পুরকাস্থ টিটু সহ জেলার সচেতন মহল মনে করেন-হাওর বেকার জনগোষ্টীকে সম্পদে পরিনত করার জন্য বোরো ধান চাষাবাদের পরির্বতিতে বিকল্প কাজের জন্য মিল-কলখারকানা স্থাপন,কুটির শিল্পের সাথে হাওরে বিশাল নারী গোষ্টীকে হস্ত শিল্পে পারদর্শী এবং আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে হাসঁ ও মুরগি লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত করা হলে ওই বেকার নারী সমাজ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশা পাশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে এবং বেকার থাকবে না অভাব থাকবে না।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান-শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনী ও যুগপযুগী পদক্ষেপের মাধ্যমে অবহেলিত সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হাওরবাসীরা তাদের জীবন মানের উন্নয়ন গঠাতে সক্ষম হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বর্পূন ভূমিকা রাখবে। না হলে এই অসহায় হাওরবাসীর দুঃখের শেষ থাকবে না। গুরুত্ব সহকারে হাওরবাসীর দিকে সু-দৃষ্টি দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর প্রদক্ষেপ নেবার দাবী জানাই।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৮জুন,হাবিবুর রহমান খান,স্টাফ রিপোর্টারঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,  মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হার নিয়ে ফের নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আজ।ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন গোষ্ঠি ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রয়োগের প্রস্তাব পুণর্বিবেচনার দাবি জানানো হলেও অর্থমন্ত্রী তার বক্তবে জানিয়ে দিয়েছেন-এটি কমানোর সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের উপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার মদন মোহন কলেজকে সরকারীকরণের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিকট হস্থান্তর উপলক্ষে ‘ডিড অব গিফট নিবন্ধন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি এই কলেজটির ম্যানেজিং কমিটিরও সভাপতি।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আবগারী শুল্ক প্রত্যাহারে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবু এ ব্যাপারে সংসদে আলোচনা হবে। সংসদই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক লাখের নিচে ব্যাংকে টাকা রাখলে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। আগে বিশ হাজার টাকা রাখলেই শুল্ক দিতে হতো।
কলেজ অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপরীতে শক্তি সঞ্চয় করছে উপজেলা বিএনপি

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৮জুন,রেজওয়ান করিম সাব্বিরঃ  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ কে ঘিরে উপজেলা পর্যায়ে দলকে শক্তিশালি করতে দলীয় প্রধানদের নির্দেশনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি এই দূর্গটি ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়েছে তার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শক্তি স য় করতে ঐক্যবদ্ধ কাজ করছে।

অনুসন্ধানে যানা গেছে- বিগত ৩১জানুয়ারী ২০১৫সনে ঝাঁক ঝমকপূর্ণ ভাবে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্টিত হয়। ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে ৪সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা দেন জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্ধরা। দির্ঘ ২বৎসর অতিক্রমের পর পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটি আলোর মূখ দেখেনি। একই ভাবে উপজেলার আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের কমিটি দীর্ঘ ৩বৎসরের অধিক সময় বিলুপ্ত রয়েছে। আওয়ামীলীগের প্রধান শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ২০১১সনে ঝাঁক ঝমকপূর্ণ ভাবে কাউন্সিলের মাধ্যমে ১০সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ৬বৎসরে উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মূখ দেখেনি। অবশেষে ২মাস পূর্বে জেলা ছাত্রলীগ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে। উপজেলা কৃষকলীগ আহবায়ক কমিটির মধ্যে রয়েছে সীমাবদ্ধ, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগেরও পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি এবং ১মাস পূর্বে উপজেলা আওয়ামীলীগের অপর সহযোগী সংগঠন আওয়ামী শ্রমিকলীগের ২০সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা হয়। দলীয় গ্রুপিং এবং নিজেদের নির্বাচনি স্বার্থের কারনে দলটি দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে বর্তমান সরকারের টানা ৮বৎসরের আমলে ৫বারের নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্ত্রিক প্রচেষ্টায় জৈন্তাপুর উপজেলা শিক্ষা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরনের লক্ষ্যে সাবষ্টেশন নির্মাণ, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ইউনিয়ন সমুহকে ডিজিটালে রুপান্তর, কৃষি উন্নয়ন, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মাণ, সরকারী হাসপাতালে নতুন এম্বুল্যান্স সরবরাহ এবং ৫১শয্যার হাসপাতালে উন্নিত করন, প্রাণী সম্পদ ভবন নির্মাণ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহের ভবন নির্মাণ সহ উপজেলার কল্পনাতিত উন্নয়ন সাধিত হলেও দলীয় নেতাদের নিজেদের স্বার্থরক্ষা এবং কেন্দলের কারনে সরকারের এসকল উন্নয়নের চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশ হয়নি। সরকারের উন্নয়ন গুলো বাস্তবায়নের সময় সরকারী আমলারা স্থানীয় সংসদ সদস্য যখন দেশের বাহিরে অবস্থান করেছেন তখন সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলেও দলীয় নেতারা অজানা থাকতেন। ফলে ডিজিটাল পদ্ধতীতে জৈন্তাপুরে সরকারের উন্নয়ন গুলোকে জন সম্মুখের বাহিরে রাখা হয়। সর্র্বপরি উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটি সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন গুলোর কমিটি না থাকায় ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। নিজেদের দলীয় কেন্দল, স্বার্থ রক্ষা ও নিজেদের নির্বাচনি অবস্থান পাকাপোক্ততা করেতে কমিটি সমুহ পূর্নাঙ্গ হচ্ছে না। দলটি দিন দিন তার শক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং মাঠে কর্মী সংগ্রহের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান সাংগঠনিক দল হিসাবে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) দলীয় প্রদানের নির্দেশ মোতাবেক তৃর্নমূল পর্যায়ে তারা কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে তাদের কমিটি গুলোকে শক্তিশালি করেছে। উপজেলা বিএনপির সহযোগী সংগঠন গুলো যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, সেচ্ছাসেবক দল গুলোকে শক্তিশালি করেছে। তারা ২০১৯সনের নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনের ৫বারের নির্বাচিত সংসদকে পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনে নিজেদের কোন্দাল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কর্মী সংগ্রহ করছে। জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৯সনের নির্বাচনে তাদের ধানের শীর্ষের প্রার্থী নির্বাচিত করে দলীয় প্রদানকে ২৩২-সিলেট-৪ আসনটি উপহার দিতে চায়। তাদের কার্যক্রমের সফলতা হিসাবে জৈন্তাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের জোট প্রার্থীকে নির্বাচিত করে। সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে তাদের দলীয়প্রার্থী নির্বাচিত করে। সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন দখলের লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা বিএনপি তৃর্ণমূল পর্যায়ে ব্যাপক হারে কাজ শুরু করেছে বলে দায়ীত্বশীল সূত্র জানায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিশিষ্ট জনের মতে- জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সরকার আমলে যদি সংগঠন গুলো গুছাতে না পারে তাহলে তো তাদের দূর্গে প্রতিপক্ষ বিএনপি হানা দিবে এটা নিশ্চিত তারা তাই করছে। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা নিজেদের নির্বাচনের মাঠ শক্তকরতে এবং দলীয় কেন্দলের কারনে তথা নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হওয়াটা অনেক কষ্ট সাধ্যের মধ্যে পড়বে বলে আশংঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মাননীয় সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কার্যক্রম গুলো জনসম্মুখে প্রকাশ পাচ্ছেনা। দ্রুত উপজেলা আওয়ামীলীগ তার সহযোগী সংগঠন গুলোকে পূর্নাঙ্গ রূপ রেখায় দাঁড় করানো না হয় তাহলে প্রতিপক্ষ বিএনপি আওয়ামীলীগকে পরাজিত করে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত করবে। বিশিষ্ট জনেরা উক্তি সময় মত যদি ফসল বুনো না যায়, তাহলে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জৈন্তাপুর উপজেলার সকল সংগঠন তাদের সকল বিবাধ দন্ধ ভূলে গিয়ে ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করছে এটাই স্বাভাবিক।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৩জুন,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) থেকে:   নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই থেকে বান্দাইখাড়া যাওয়ার রাস্তার পাশেই চোখে পড়বে এই সংযোগ সড়ক গাইড অংশ বিহীন এই ফুটপাত ব্রিজটির। ব্রিজটির মূল অংশের কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পরিকল্পনা নেই দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের কাজ শেষ করার ।
ব্রিজের এই রাস্তা দিয়ে তারানগর, বাউল্লাহসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে প্রতিনিয়ত। বর্ষার সময় এখানকার মানুষের একমাত্র উপায় নৌকা। বছরের পর বছর এই গ্রামের মানুষদের অপেক্ষা করতে হয়েছে এই একটি ফুটপাত ব্রিজের জন্য।
প্রায় ১বছর আগে দীর্ঘদিনের এই আশা পূরণের জন্য এই স্থানে একটি ফুটপাত ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ব্রিজের মূল অংশের কাজ শেষ হওয়ার পর অজানা কারণে প্রায় ১ বছর পার হলেও এখনো এই ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ গাইড অংশের কাজ শেষ করার নামে কোন খবর নেই।
এই সংযোগ অংশের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই ফুটপাত ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষদের।
কৃষক তাদের উৎপাদিত পন্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তবেই আত্রাই বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন অথচ এই ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগি হলে খুব সহজেই তারা তাদের সকল কাজ কম সময়ের মধ্যেই শেষ করতে পারবেন।
তারানগরগ্রামের মুজিবর, হানিফ, রফিকুলসহ আরো অনেকেই জানান, আমরা এই কয়েকটি গ্রামের মানুষ খুবই অবহেলিত। আমাদের গ্রামে নেই উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমরা অনেক কষ্টে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করে এই স্থানে একটি ফুটপাত ব্রিজের অনুমোদন নিয়ে আসাই। কিন্তু প্রায় ১ বছর পার হলেও ব্রিজটির মূল অংশের কাজ শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ গাইড লাইনের কাজ এখনো পর্যন্ত শেষ না হওয়ায় আমরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছি না। এতে আমাদের যে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হতো আজো তাই করতে হচ্ছে।
আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী মো: মোবারক হোসেন জানান, গত বছর বরাদ্দ শেষ হওয়ার কারণে ব্রিজটির বাকি অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয় নাই। তবে এবারের এডিবির বরাদ্দ পেলেই এই ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ গাইড লাইনের কাজ শুরু করা হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০মে,ডেস্ক নিউজঃ   আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের কোনো অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ নেই বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে সোমবার এ কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘এ রকম পেজগুলোর এডমিনদেরকে আমরা অনুরোধ করবো পেজগুলোকে ‘আনঅফিসিয়াল’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন। অন্যথায় আমরা অতিসত্বর আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’
এতে বলা হয়, গত কিছুদিন ধরেই আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বঙ্গবন্ধু জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের নামে কিছু ‘ভুয়া ফেসবুক পেজ’ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই পেজগুলো থেকে নানা রকম মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
এতে আরো বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ফেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও শেখ রেহানার পুত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’র ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের একটি ফেসবুক আইডি অফিসিয়ালি চালু আছে। যা তারা নিজেরই তত্ত্বাবধান করে থাকেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc