Tuesday 20th of October 2020 05:59:16 AM

নড়াইল প্রতিনিধিঃ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃস্টি হয় এবং ভাটা এলেই জেগে ওঠে। এমন অবস্থা চলছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ১০০ বছরের পুরানো পেড়লী বাজারে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণ। এই সমস্যা সমাধানে নদীর তীরে বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীর সংযোগস্থল ত্রিমোহনী এলাকায় গড়ে উঠেছে পেড়লী বাজার। ১০০ বছরের পুরানো এ বাজারে ২শতাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা করে চলেছেন। সম্প্রতি নদীর পানি বেড়ে য্ওায়ায় জোয়ারের সময় বাজার এলাকায় হাটুপানি জমে থাকে। ফলে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করতে বাজারে আসতে পারে না। এ পানি পাশের স্কুল ও খেলার মাঠেও প্রবেশ করছে।
বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন,সারাদির বাজার ও আশপাশের এলাকায় হাটুপানি থাকে। সন্ধ্যায় ভাটার সময় পানি নেমে যায়। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু জায়গায় গোড়ালি পর্যন্ত পানি থাকে। এ পানি মাড়িয়ে সব সময় তাদের আসা-য্ওায়া করতে হয়।
পেড়লী বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম মোর্শেদ বলেন,একসময় এই নদী দিয়ে বড় বড় ষ্টিমার,ল ,কার্গো চলাচল করত। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এই বাজার হয়ে বড়দিয়া নৌবন্দরে ব্যবসা করেছে। তখন নদী গভীর থাকায় বাজারে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারেনি। এখন নদীর তলদেশ পলি জমে ভরাট হ্ওয়ার কারণে পানি বাজারে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন,বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নদী তীরে রিংবাধ নির্মাণের দাবি করেন।
স্থানীয় ফাজিল আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি মোহন রায় বলেন,জোয়ারের পানি বাজারে প্রবেশ করা শুরু করলে আগে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হত। করোনার কারণে এখন স্কুল বন্ধ। তবে স্কুলের ভেতর এবং নিচ তলার প্রতিটি কক্ষে পানি প্রবেশ করেছে। খেলার মাঠ তলিয়ে য্ওায়ায় ছেলেরা খেলাধূলা করতে পাারছে না।
কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃ পদ ঘোষ বলেন, পেড়লী বাজার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্মন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন বলেন,বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাধ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবসা নেওয়া হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪ জুন,সাদিক আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার:বেশ কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে পানির নিচে প্রায় তলিয়ে গেছে শহরতলি শ্রীমঙ্গলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বধ্যভূমি-৭১।শ্রীমঙ্গল চৌমুহনী থেকে সামান্য দূরে ভানুগাছ রোডে অবস্থিত বিনোদন কেন্দ্রটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ঢল নামে এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে।কেউ বন্ধুবান্ধব নিয়ে,কেউ বা আসে পরিবার পরিজন নিয়ে।

সকাল থেকে মাগরিবের আজানের আগ পর্যন্ত পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত থাকে এটি।ছুটির দিন হলে তো কথাই নেই।পর্যটকদের জনসমুদ্রে পরিণত হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ,শ্রীমঙ্গল সেক্টর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি।শুধু শ্রীমঙ্গলের মানুষই নয়,বিভাগীয় শহর সিলেটসহ পুরো দেশ থেকেই মানুষ ছুটে আসে বধ্যভূমি-৭১ ঘুরে দেখতে।

বেশ কয়েকদিনের লাগাতার অতিবৃষ্টিতে পুরো বধ্যভূমিই প্রায় তলিয়ে গেছে কোমর পানির নিচে।বধ্যভূমির ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট একটি খাল।অতিবৃষ্টির ফলে খালের পানি পরিপূর্ণ হয়ে পুরো বধ্যভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বধ্যভূমি তলিয়ে যায় পানির নিচে।

“ধানগুলোর  চিন্তায় আর অন্যদিকে ঋনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এই চিন্তা মাথা থেকে সরছেনা”

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৬এপ্রিল,এম এম সামছুল ইসলাম, জুড়ীঃ টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নিম্না ল প্লাবিত হয়ে গেছে।  বন্যার পানিতে হাকালুকি হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর কৃষকদের ঘাম জড়ানো ফলানো কাঁচা বোরো ফসলের প্রায় সব ধানই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।

এছাড়াও জুড়ী,কুশিয়ারা ও সোনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জুড়ী নদীর বেড়ী বাঁধের কয়েকটি স্থানের ভাঙ্গনের ফলে ওই ইউনিয়নগুলো ও হাকালুকি হাওর পাড়ের বোরো জমিতে দিন দিন পানি বাড়ার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমতাবস্থায় অত্রা লের কৃষকরা মাথায় হাত দেয়া ছাড়া কোনো উপায়ান্তর দেখতে পাচ্ছেন না। সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার পাতিলা সাঙ্গন গ্রামের প্রবীণ কৃষক হাজী আব্দুস সাত্তার (১৩০), নয়া গ্রামের  কৃষক জয়নাল আবেদীন (৬০), বাছির পুর গ্রামের কৃষক তৈমুছ আলী (৪৮), বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক মনফর আলী (৮০), শিমূলতলা গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম (৫৫), জায়ফরনগরের কৃষক খসরু মিয়া (৪৫) বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় আমরা আমাদের জমিতে বোরো ফসল করেছি । আগাম বন্যায় আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। এ ফসল ভালো ফলনের আশায়  অনেক শ্রম ও হাজার হাজার টাকা খরচ করেছি। কিন্তু সব আশা ব্যর্থ হয়ে গেলো । আমাদের ধান পাকার আগেই সব কাঁচা ধান পানিতে ডুবে গেলো। আমরা পরিবার -পরিজন নিয়ে কি খাইয়া বাচঁবো এটা আমাদের চিন্তা। এ ফসল করতে ঋন করে টাকা এনেছি। এদিকে ধানগুলোর  চিন্তায় আর অন্যদিকে ঋনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এই চিন্তা মাথা থেকে সরছেনা।

তারা আরো বলেন, বোরো ফসলের উপরই অত্রা লের কৃষকরা নির্ভরশীল। আপনারা সাংবাদিকরা আমাদের দূর্গতির কথা সরকারকে জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলার ৫হাজার ৪শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে । তন্মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে গেছে । এভাবে পানি বৃদ্ধি হতে থাকলে সব ফসলই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।  অত্রা লের কৃষকরা এবারের ফসলের আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে যেসব ফসল বেশির ভাগই কাঁচা।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, আগাম বন্যার কারণে কৃষকদের এ সর্বনাশ হয়ে গেলো। এ ব্যাপারে তিনি ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে বলেন, তারা যদি জুড়ী নদীর বেড়ীবাঁধ সঠিক সময়ে নির্মাণ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জুড়ী নদীকে খনন করতেন তাহলে অত্রা লের কৃষকরা এতো ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না। তিনি আরো বলেন, অত্রা লের কৃষকদের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করিয়েছি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc