Tuesday 1st of December 2020 08:26:51 PM

নিজস্ব  প্রতিনিধি: চলে গেলেন আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী পরিবারের বিশ্বস্ত বন্ধু বিভিন্ন দপ্তরে মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালন করা  সর্বশেষ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ বর্ষীয়ান নেতাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর স্ট্রোক করেন তিনি। তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা। এরপর থেকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ আবদুল হামিদ। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোহাম্মদ নাসিমের অবদান স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা।

প্রথমে রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। সিরাজগঞ্জ থেকে পাঁচ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করে এসেছেন তিনি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেয়া হয় তাকে। এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা তো এমনিতেই সংকটাপন্ন ছিল। আজ আরও অবনতি হয়েছে। তবে আমরা সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাবেক এই মন্ত্রীকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে তারা কোনো মতামত দেননি। বিষয়টি তার পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ৪ জুন কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর থেকে তার জ্ঞান ফেরেনি। তবে দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষায় তার ফল নেগেটিভ এসেছে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি ১৪ দলের মুখপাত্রও। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বরাষ্ট্রসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবন্দি অবস্থায় প্রথমবার স্ট্রোক করেছিলেন নাসিম। এবার দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করলেন। এজন্য তার ফিরে আসাটা জটিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc