Friday 30th of October 2020 07:12:56 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১অক্টোবর,ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা দেবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। আগামী ৭ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার দিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবন পর্যন্ত পথে পথে লোক সমাবেশের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনা সফল করতে ৩ অক্টোবর যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। এদিন দলটির বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিৃম সংগঠন ছাড়াও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই যৌথসভা অনু্ষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ একথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। ৭ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত একাধিক স্পটে লোক সমাগমের মাধ্যমে তাকে বরণ করা হবে। ৩ অক্টোবর যৌথসভায় কীভাবে কী করা হবে এর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যান শেখ হাসিনা। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ছাড়াও বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ওপর শরণার্থীদের চাপের বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণ অধিবেশন শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ার যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে তার পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচার হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   মিয়ানমার বাহিনীর বারবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে আকাশসীমা লঙ্ঘনসহ মিয়ানমারের কোনও উসকানিতে সাড়া দেবে না বাংলাদেশ।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। সেখানে নিজ এলাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ও কয়েকটি মসজিদে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেন। পরে বাবার কবর জিয়ারত করেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‌‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার বারবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। রোহিঙ্গা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, এটি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশে বিভিন্ন দলের সমালোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্যে সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না।’

বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ তারা শোনেনি। তারা চোখ বন্ধ করে, কানে তুলা দিয়ে রেখেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।’ আলোকিত বাংলাদেশ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২আগস্ট,মিজানুর রহমান সৌদি আরব থেকেঃ বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বৈঠকে সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাফ জানিয়েছেন,

অবরোধ ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ কাতারকে যে ১৩ দফা বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছিল, তাতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।  স্বতঃস্ফূর্তভাবে শর্ত মানলেই কেবল কাতারের সঙ্গে  আলোচনায় বসতে রাজি আছে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর।
স্থানীয় সময় রোববার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
চলতি বছরের ৫ জুন সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন চারটি দেশ। তবে কাতার তাদের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এর পর গত ২৩ জুন কাতারকে ১৩টি শর্ত দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে আলজাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করা, তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার, মুসলিম ব্রাদারহুড ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ইত্যাদি রয়েছে। কাতার এসব দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মানামায় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কাতার তাদের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে জানিয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেন, ‘কাতার দাবি মেনে নিলে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যদি কাতার এ বিষয়ে আগ্রহী হয়। তবে এখন পর্যন্ত এটা পরিষ্কার যে কাতার আমাদের দাবির ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। কিন্তু শর্তের ব্যাপারে কোনো সমঝোতা নয়, এ বিষয়ে আমরা তাদের একটুও ছাড় দেবো না।’
একই সংবাদ সম্মেলনে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমেদ আল-খালিফা বলেন, ‘কাতার আমাদের দেওয়া ১৩টি শর্তে মানতে রাজি থাকলে আমরা চারটি দেশ তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘোষণা করতে হবে যে তারা আর সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদে অর্থায়ন করবে না। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিজ্ঞাও করতে হবে তাদের।’
এর আগে কাতার সংকট নিরসনে কুয়েত ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যস্থতা কোনো কাজে আসেনি।
তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল-থানি সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয় (মানামা বৈঠক প্রসঙ্গে)। তারা কেবল একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। তাদের এ সিদ্ধান্ত যে অবৈধ, তারা এটাও স্বীকার করছে না।’
বৈঠকে কাতারের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৩মে,ডেস্ক নিউজঃ   বিদেশে টাকা পাচার রোধে সরকার জমির মূল্য নির্ধারণ করে দেবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সচিবালয়ে শনিবার (১৩ মে) অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

সরকার এলাকাভেদে ন্যূনতম জমির দাম নির্ধারণ করে দেয়। প্রকৃত অনেক বেশি দামে জমির বিক্রি হলেও জমির মালিকরা সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম দাম ধরে কর পরিশোধ করে থাকেন। অতিরিক্ত টাকা কালোটাকা হিসেবে বিদেশে পাচার হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘টাকা পাচার হচ্ছে জানি। টাকা পাচারের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আমরা একটা ল্যান্ড প্রাইস ফিক্সড করে দিই কিন্তু একচুয়াল প্রাইস অনেক বেশি হয়। এই টাকা কী করবে, এটা এ দেশে ব্যবহার করতে পারে না কারণ কালোটাকা। আমরা এখন চিন্তা করছি, কোনো ল্যান্ড প্রাইস রাখব না।  বাজারই দাম নির্ধারণ করবে। এটা টাকা পাচার প্রতিরোধে কাজ করবে।’

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো বলেছেন, আমাদের দেশে এখন বিনিয়োগ পরিবেশ ভালো। ২০১৫ ও ২০১৬ দুটি বছর পেয়েছি শান্তিপূর্ণ। দুটি বছরে আমাদের শ্রমিকরা প্রমাণ করেছেন তারা দেশে হরতাল ও অন্যান্য ধরনের শান্তির ব্যাঘাত সহ্য করবে না। এর ফলে একটা আস্তা এসেছে, এর সাড়াও  আমরা দেখতে পাব।’ তবে গতকালই রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিআইডিএস মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদ বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার অভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না। একই কারণে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলেও তিনি  মন্তব্য করেছেন।

এ প্রসংগে ঢাকার একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার  মফিজ আলম রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারের এ ঊদ্যোগ  টাকা পাচার রোধে তেমন একটা কাজে আসবে না। তিনি মনে করেন জমি বা তৈরী ফ্লাট কেনা বেচার ক্ষেত্রে রেজিষ্টেশেন ফি কমালে সাধারন বা মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ঊপকৃত হতে পারে।

ওদিকে, আবাসন শিল্পের  সঙ্কটাবস্থায় কাটাতে  সরকারের আশু পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছে আবাসন শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)। রিহ্যাব আসন্ন বাজেটে এ সেক্টরে স্বল্প সুদে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের দাবি করেছে। রিহ্যাব একইসাথে এপার্টমেন্টের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোরও আহবান জানায়।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া  জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়। অন্যান্য দেশে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় চার থেকে সাত শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বেশি বলে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে চাচ্ছেন না। ফলে অপ্রদর্শিত আয়ের সমস্য থেকেই যাচ্ছে।পার্সটুডে

“হাওরের সাথে সম্পর্কহীন বা হাওরের উজান-ভাটির অংক বুঝতে না পারা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের চাপিয়ে দেয়া এমনতর দশাসই সব উন্নয়ন চিন্তাই হাওরকে প্রতিবছর তলিয়ে দেয়”

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৬এপ্রিল,পাভেল পার্থঃদেশজুড়ে হরেক রকম ভাবে প্রায় সকলেই বাংলা বছর বিদায় দিয়েছে, স্বাগত জানিয়েছে নতুন বছর। চৈত্রসংক্রান্তি থেকে পহেলা বৈশাখ এবার গ্রাম থেকে শহরের রাস্তায় জমেছে শোভাযাত্রা। চাকমারা ফুল বিজু করেছে, মূল বিজু করেছে এবং গয্যাপয্যাও শেষ করেছে। ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, রাখাইনরা সাংগ্রেং, ¤্রােরা চানক্রান, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা বিষু, সাঁওতালরা নেওয়া সেরমা পালন করেছে।

হয়তো কম, হয়তো মাঝারি, কোথাও হয়তো একটু ভালই আয়োজন। কিন্তু হাওরা লে এবার জমেনি সংক্রান্তি কী বর্ষবরণ। পালনীয় কিছু কৃত্য আচার করেছেন পরিবারের প্রবীণ নারীরা। যেন চৈত্রসংক্রান্তি বিদায় নেয়নি এবার হাওরে। চইত বিষুর টান লাগেনি ভাটির জলে। বেগুন পাতার বর্তও করেনি অনেকে। চড়কের মাগনের দল ঘুরেছে ডুবন্ত জনপদে। খুব বেশি মেলেনি চাল-ডাল। সবই করেছে হওরবাসী।

হিরাল এসেছে ফাল্গুন মাসেই। বজ্রপাত থেকে বোরো মওসুমের ধান জমিন রক্ষায় হিরালেরা মন্ত্র দিয়ে অনেক হাওর বন্ধন করেছে। নারীরা গোবর-জলে লেপে মুছে কাটা ধান মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকানোর জায়গা ‘খলা’ তৈরি করে রেখেছে। ঘরে ঘরে ধান রাখার ডোল ও মটকা শুকিয়ে রেখেছে বাড়ির বৌ-ঝিরা। কিন্তু ‘পাহাইড়্যা ঢলের’ এক ধাক্কায় সব তলিয়ে গেছে। ধান জমিন থেকে ধানের খলা সব। চইত পরবে বেগুন পাতার বর্ত করবার একটা বেগুন গাছও পাওয়া যায়নি অনেক জায়গায়। চৈত্রসংক্রান্তিতে হাওরে তিতা খাওয়ার নিয়ম। ঘৃতিকা ন, ঠুনিমানকনি, গিমাই, দন্ডকলসের মতো সব শাকগুল্মই পানির তলায় ডুবে আছে।

হাওর অ লে ধান ঋতু মূলত একটাই। বোরো মওসুম। চৈত্র মাসে ধান কাটা শেষ হয়, বৈশাখ থেকে জৈষ্ঠ্য জুড়ে চলে ধানের কারবার। চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ্য এ সময় জুড়ে হাওর এলাকাা প্রধান কর্মউৎসবের নাম ‘বৈশাখী’। বৈশাখীতে ঘরে তোলা ধান বেঁচেই বছরের খোরাক এবং নানা দেনা-পাওনা শোধ করতে হয়। কৃষিমজুরের বেতন থেকে শুরু করে রাখালের মজুরি। নৌকা খেয়াঘাটের বছরভর যাতায়াতের খরচ কী হিরালের পাওনা সব শোধ করতে হয়।

এবার সবই তল হয়েছে। দেখার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, নলুয়ার হাওর, সজনার হাইর, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর, ঘুইঙ্গাজুড়ি হাওর, জালিয়ার হাওর, বাওরবাগ, খরচার হাওর, পাথরচাউলি বা চেপটির হাওরের মত দেশের শত শত হাওরের আদি বৈশিষ্ট্যের সব জমিন আজ পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাংলাদেশকে যদি ছয় ভাগ করা হয়, তার এক ভাগই হাওর জনপদ। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই সাতটি প্রশাসনিক জেলায় বিস্তৃত দেশের হাওরভূমি এক দু:সহ মরণযন্ত্রণা পাড়ি দিচ্ছে। রাষ্ট্র বরাবরই হাওরকে এড়িয়ে চলে, হাওরের যন্ত্রণাকে আড়াল করে চলে।

লাগাতার রাষ্ট্রীয় অবহেলা, অন্যায় আর অনাচারের ভেতরেই জেগে থাকে হাওর। দেশকে জোগায় ধান আর মাছ, দুনিয়াকে উপহার দেয় গান। চৈত্র-বৈশাখে অবিরত বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের তলিয়ে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটি ঐতিহাসিক এবং সুরাহাহীন ভাবেই ঘটে চলেছে। হাওরের টিকে থাকা সংগ্রামের রসদ ও বিজ্ঞান কেউ হাওরবাসীকে দান করেনি বা বাড়ায়নি কোনো সহযোগিতার হাত।

হাওরের বিশেষ বাস্তুসংস্থানই হাওরবাসীকে এই অ লে টিকে থাকবার সংগ্রামে প্রতিদিন নতুনভাবে প্রস্তুত করে তুলে। রাষ্ট্র এই প্রস্তুতির দিকে ফিরেও তাকায় না। সব কিছু ডুবে তলিয়ে গেলে সরকার কিছু উফশী ধানের সিদ্ধ চালের বস্তা নিয়ে আসে। কখনো ঘর তোলার জন্য কয়েক বান্ডিল ঢেউ টিন। এর বেশি কিছু না। হাওরের উন্নয়ন বলতে রাষ্ট্র এখনো বুঝে ডুবন্ত রাস্তা, ফসল রক্ষা বাঁধ আর বাণিজ্যিক মাছ চাষর জন্য বিল জলাভূমির ইজারাকে।

আর এ নিয়েই বছরভর লেগে থাকে স্থানীয় থেকে জাতীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের ভেতর ভাগ-বাটোয়ারার দরবার, কোন্দল আর দুর্নীতি। হাওরের উজান-ভাটির শর্তকে কেউই মান্য করে না। হাওরের সুরক্ষাপ্রশ্নটি কোনোভাবেই বাঁধ, ইজারা আর অবকাঠামোর সাথে জড়িত নয়। সংকটের মূল জায়গাটি এখানেই।

হাওরের সাথে সম্পর্কহীন বা হাওরের উজান-ভাটির অংক বুঝতে না পারা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের চাপিয়ে দেয়া এমনতর দশাসইসব উন্নয়নচিন্তাই হাওরকে প্রতিবছর তলিয়ে দেয়। ডুবিয়ে মারে। বাঁধ দিয়ে কী কোনোভাবে একটি জলজ বাস্তুসংস্থানের সুরক্ষা হয়? শনির হাওরের জন্য বাঁধ দিলে মাটিয়ান হাওর ডুবে মরে। হাকালুকির উত্তরে বান দিলে দক্ষিণে নিদান শুরু হয়। হাওরের সুরক্ষাকে রঙবেরঙের উন্নয়নের রোদচশমা চোখে দিয়ে নয়, দেখতে হবে হাওরের চোখেই। হাওরবাসীর উজান-ভাটির অংক থেকেই।

হাওরা লগুলো ভাটিতে অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অ ল গুলো হলো হাওরের সাপেক্ষে উজান অ ল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্যান্য অ লের প্রায় হাওরগুলোই উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের কাছাকাছি। উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি উজানে জন্ম নিয়েছে শত সহস্র পাহাড়ি ঝর্ণা ও ছড়া। এই পাহাড়ি জলধারাই বাংলাদেশের হাওরা লের নদ-নদীগুলোর উৎসস্থল। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি ও বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল দুনিয়ার দুই বৃষ্টিপ্রবণ অ ল হাওরা লেই অবস্থিত। চৈত্র-বৈশাখের বর্ষণের ঢল উত্তর-পূর্ব ভারতের উজানের পাহাড় থেকে বাংলাদেশের ভাটির হাওরের নেমে আসে বলেই এই ঢল ‘পাহাইড়্যা পানি বা পাহাড়ি ঢল’ নামে পরিচিত। আর পাহাড়ি ঢলেই আজ তলিয়ে যাচ্ছে ভাটির হাওর।

পাহাড়ি ঢলের ফলে তৈরি প্লাবিত এই অসনীয় অবস্থাকে হাওরের অভিধানে বলে ‘আফাল’। কালবৈশাখী ঝড় আর বাতাসের গতি আটকে পড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতে ‘আফরমারা’ তীব্র ঢেউ তৈরি করে, যা আফাল অবস্থাকে আরো জটিল ও দু:সহ করে তুলে। পাহাড়ি ঢল থেকে হাওরের সুরক্ষায় অবশ্যই আফাল ও আফরমারাকে বুঝতে হবে। হাওরের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ের সম্পর্কটি ঐতিহাসিক। মৈমনসিংহ গীতিকা ও সিলেটি বারোমাসীর মতো হাওরের প্রাচীন দলিল গুলোতে এর সত্যতা মেলে। উজানের পাহাড় থেকে জল গড়িয়ে নামতো ভাটির হাওরে।

এ যেন নাইওরী আসা, জলের নাইওরী। পুরো বর্ষাকাল এই জল নাইওরী কাটিয়ে নানান নদীর প্রবাহে চলে যেত সমুদ্রে। পাহাড় থেকে সমুদ্র, জলপ্রবাহের এই দীর্ঘ পরিভ্রমণে হাওরা ল পেত বৈশাখী জলের এক বিশেষ স্পর্শ। এই স্পর্শে কোনো আঘাত, যন্ত্রণা বা তলিয়ে যাওয়ার ছল ছিল না। বরং ওই জলে জীবনের টান ছিল। রাধারমণ থেকে শাহ আবদুল করিম কেউই এই জলের টান অস্বীকার করতে পারেননি।

আর তাই এখনো সেই টান জাগিয়ে রাখেন ভাটির নারীরা ধামাইল গানের নাচে, …জলে গিয়অছিলাম সই, জলে গিয়াছিলাম সই, কালা কাজলের পাখি দেইখ্যা আইলাম অই। রাধারমণের এই ধামাইল গীতে দেখা যায়, জলে গিয়ে কাল কাজলের পাখির সাথে সাক্ষাৎ করে আবার ফিরে আসা যায়। কিন্তু এখন যায় না। এখন কালা কাজলের পাখিসহ প্রেমিক দর্শনার্থী নিজেও দুম করেই পাহাড়ি ঢলের তলায় হারিয়ে যায়। ডুবে ভেসে যায়।

কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতের উজান অঞ্চল নয়, ভাটির বাংলাদেশও সবগুলো হাওর ধনী ও প্রভাবশালীদের ইজারা দিয়ে হাওরকে বানিয়ে রেখেছে বাণিজ্যিক মৎস্য খামার। যে পাহাড়ি বালি হাওরের জন্য আজ অন্যতম প্রধান সমস্যা সেই পাহাড়ি বালি পাথর বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে একদল মুনাফাখোর। এই জল ও বালিমহাল ইজারাদার কী দখলদারেরাই হাওরের অর্থনীতি থেকে আজ রাজনীতিও নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা মনে প্রাণে চায় মেঘালয় পাহাড় ভেঙে হাওর ভরাট হয়ে যাক এবং বছর বছর তলিয়ে যাক।

উজানের খনি ব্যবসায়ী ও ভাটির ইজারাদারেরা মূলত একই নয়াউদারবাদী করপোরেট মনস্তত্ত্ব ধারণ করে। ভাটির বাংলাদেশে হাওর ইজারা নিয়ে প্রাকৃতিক জলাভূমিতে আগ্রাসি হাইব্রিড বিপদজনক মাছদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাওরের নানা জায়গায় বান দিয়ে জলতরঙ্গ আটকে দেয়া হয়েছে। হাওরের নদী ও প্রবাহগুলোকে আটকে দেয়া হয়েছে। মানে হাওরের উজান ও ভাটি আজ সব খানেই সব দিকে থেকে বন্ধ, শৃংখলিত ও আবদ্ধ।

তাহলে কী বৃষ্টি হবে না? পানির ধর্ম বদলে যাবে? পানি তো উজান থকে ভাটিতে গড়াবেই। তাহলে উজান থেকে ভাটিতে বৃষ্টির ঢলকে গড়িয়ে যাওয়ার পথ গুলো বারবার বন্ধ করে যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বারবার করা হচ্ছে তা কোনোভাবেই হাওরের সুরক্ষা দিতে পারেনি। চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হাওরের এই উজান-ভাটির অংকটি সচল রাখার দাবি কোনোভাবেই আজকের নতুন নয়, ভাসান পানির আন্দোলনেরও আগ থেকে হাওরবাসী এই দাবি করে আসছেন। কিন্তু রাষ্ট্র এটি কোনোভাবেই কানে তুলছে না। রাষ্ট্র হাওরকে বহুজাতিক কোম্পানির কাছে ছেড়ে দিয়েছে।

নয়াউদারবাদী মুনাফার ময়দানে জিম্মি হয়ে আছে হাওর। পাহাড়ি ঢলে হাওরের এই তলিয়ে যাওয়া বিষয়টি পুরোপুরো একটি আন্ত:রাষ্ট্রিক সংকট। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অংশগ্রহণের ভেতর দিয়েই এক বহুপক্ষীয় জলাভূমি ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণের ভেতর দিয়েই কেবল এর সুরাহা সম্ভব। তা না হলে হয়তো আবারো হাওরে বৈশাখীর প্রস্তুতি নিবে সংগ্রামী মানুষ, আবারো হয়তো চৈত্রের ঢলে তলিয়ে যাবে হাওর। হাওরের বৈশাখীর নিরাপত্তা তাহলে কে দেব?

গবেষক, পরিবেশ ও প্রাণিবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক লেখক।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc