Tuesday 20th of October 2020 08:58:04 PM

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জঃ   শস্য ভান্ডার খ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবী। কৃষকরা খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলতি মৌসুমে টমেটোর ব্যাপক চাষাবাদ এবং বাম্পার ফলনও হয়েছে। টমেটো, বেগুন, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ শাকসবজির চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফসলের মাঠ জুড়ে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বরবটি, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শশাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ চলছে।

তবে এসব সবজি সংরক্ষণের জন্য কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ সবজী তোলার সাথে সাথেই বাধ্য হয়ে ‘পানির দরে’ বিক্রি করতে হবে এসব উৎপাদিত ফসল। না হলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। আদমপুরের কৃষক আব্দুল মতিন,সাদেক হোসেন জোয়াদআলী বলেন, স্থানীয় বেপারীরা কমলগঞ্জ থেকে স্বল্প দামে কৃষকের শস্য কিনে ট্রাকে করে দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে বছর জুড়ে কোনো না কোনো সবজি চাষ হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গত বছর মোট সবজির চাষাবাদ হয়েছে ২২৮০ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৬৪হেক্টর জমিতে এবং গ্রাফটিং টমেটো চাষ হয়েছে ৯০ হেক্টর জমিতে।তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কেউ কেউ বারো মাসও টমেটো চাষাবাদ করেন।

এছাড়াও বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, শিম, মূলাসহ ও শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। জেলার মধ্যে কৃষি উৎপাদনে এ উপজেলা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে অধিক পরিমাণে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়।তবে সময় মতো কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে নামে মাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন।চাষীরা বলেন, যারা টমেটো বাজারজাত করছেন তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া কয়েকদিন পর যারা টমেটো বাজারজাত করবেন তারা সেভাবে লাভবান হতে পারবেন না। গাছে গাছে এখন টমেটো, বেগুন ধরতে শুরু করেছে। সেগুলো বাজারে তোলার পর দাম একেবারেই কমে যায়। এই উপজেলায় একটি হিমাগার থাকলে দাম কমে গেলে সেখানে রেখেও পরে বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল।

এ উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এ ব্যাপারে কারো নজর নেই। খাদ্য যোগানে এই অ লে কৃষি উৎপাদনে সংরক্ষণাগার দ্রুত স্থাপনে সরকারের নিকট কৃষকরা জোর দাবি জানান।
উপজেলার আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর শুধু আদমপুর ইউনিয়ন থেকেই চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার টমেটোসহ নানা ফল-ফসলাদি অন্যান্য জেলায় রফতানি হয়। আদমপুরে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা সুবিধা পাবেন। তারা সবজি উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, সারা বছরই এখানে বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে।এখানে একটি হিমাগার স্থাপন হলে কৃষকেরা যেমন তাদের উৎপাদিত ফসল নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন, তেমনি তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্যও পাবেন।কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় গ্রাফটিং টমেটো চাষের শুরু কিন্ত কমলগঞ্জেই। টমেটোসহ রবিশস্যের জন্য কমলগঞ্জ ব্যাপক পরিচিত।এসব সবজির ভালো চাষাবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। তবে এখানে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার থাকলে সেটি কৃষকদের জন্য আরও ভালো হতো এবং উদৃত্ত সবজি ভালো দামে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হতো।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক জানান,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলার প্রান্তিক চাষীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কমলগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপনের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে গুরুত্বসহকারে কথা বলেছি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ প্রতিবেদককে বলেন, মৌলভীবাজর জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে,তবে কোন উপজেলায় সেটি স্থাপন করা হবে তা এখনো সিদ্বান্ত হয়নি।

আ’লীগের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি প্রসঙ্গে আ’লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছয় দফা প্রণয়নটা অনেকে অনেকভাবে বলতে চায়- এর পরামর্শ ওর পরামর্শ। কিন্তু আমি নিজে জানি, এটা সম্পূর্ণ তার (বঙ্গবন্ধুর) নিজের চিন্তার ফসল।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আটান্ন সালে যখন তিনি (বঙ্গবন্ধু) গ্রেফতার হন সেই সময় থেকেই তিনি প্রস্তুতি নিলেন কীভাবে এই ভূখণ্ডের মানুষকে স্বাধিকার এনে দেবেন। বাষট্টি সালে তার একটা উদ্যোগ ছিল পুরো বাংলাদেশ প্রত্যেকটা এলাকায় নিউক্লিয়াস ফার্ম করে এদেশের মানুষকে সচেতন করা। এরই একটা পর্যায়ে তিনি আবার গ্রেফতার হলেন। ১৯৬৫ সালে যখন ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হলো তখন আমরা একেবারেই অরক্ষিত ছিলাম। তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তিনি এই ছয় দফা প্রণয়ন করেন।

হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সবসময় নিজে বসে বসে চিন্তা করতেন, নিজেই লিখতেন এবং তার সেসময়কার ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ হানিফকে দিয়ে এটা টাইপ করাতেন। এখানে শুধু হানিফ জানত, সেই টাইপ করেছিল। এছাড়া কিন্তু আর কারো জানার ছিল না। কাজেই এটা (ছয় দফা) সম্পূর্ণ তার নিজের চিন্তা থেকে করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যখন লাহোরে যান, লাহোরে গিয়ে এটা পেশ করার চেষ্টা করেন, সেখানে প্রচণ্ড বাধা আসে। বাধা পাওয়ার পর তিনি ওখানেই একটা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের কাছে এটা তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার বিভিন্ন উদ্যোগের একটি পর্যায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে আজকে স্বাধীন দেশ, স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি, আমাদের আত্মপরিচয় সুযোগ হয়েছে, আত্মমর্যাদার সুযোগ হয়েছে, এ সুযোগটা যিনি এনে দিয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি দিয়েছিলেন তারই একটি পর্যায় হচ্ছে এই ছয় দফা।

অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাসের কারণে সশরীরে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,দুর্ভাগ্য এটুকু যে যেখানে নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কারটা হাতে তুলে দেয়া যেত আরও খুশি হতে পারতাম। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আজকে করোনাভাইরাস নামে এমন একটা ভাইরাস শুধু বাংলাদেশ না, সারাবিশ্বে দেখা গেছে। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে কারও জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা আমরা চাইনি।

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুকে ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন তার সফরসঙ্গী শাহেদুল ইসলাম সিফাত। গত শুক্রবার টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মেজর সিনহার সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, পুলিশের যে ইন্সপেক্টর সিনহাকে গুলি করেন, তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন তখন এবং তাতে মনে হয়েছে তিনি অপর প্রান্তের কারো নির্দেশ কার্যকর করতে গুলি চালিয়েছেন। ফোনে কথা বলার সময় তিনি অন্যপ্রান্তের ব্যক্তিকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছিলেন। অন্যপ্রান্তের কথার জবাবে তিনি বলেন ‘ঠিক আছে স্যার, আমি করছি’। তারপরই তিনি সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল সিফাতের সঙ্গে কক্সবাজার কারাগারে দেখা করেন। সিফাত তদন্ত কর্মকর্তাদের একথা বলেন ।

কারাগার অভ্যন্তরে সিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিফাত জিজ্ঞাসাবাদে এ কথাও জানিয়েছে যে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কখনই তার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বের করার চেষ্টা করেননি, এমন কি গুলি খাওয়ার পরেও না।
ঘটনার পুলিশি বক্তব্যকে পুরোই নাকচ করে দিয়েছেন সিফাত। পুলিশ দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। তদন্ত দলটি সিনহার অপর সতীর্থ শিপ্রা দেবনাথের সঙ্গেও কারাগারে কথা বলেছেন। তিনিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। দুজনের বিরুদ্ধেই পুলিশ পৃথক দুটি মামলায় হত্যা চেষ্টা এবং মাদকদ্রব্য বহন করার অভিযোগ এনেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা একটি প্রামান্যচিত্র তৈরির কাজ করছিলেন।

তদন্তকারী দলের কাছে ওই রাতের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সিফাত বলেন, ‘শুক্রবার রাত সোয়া নয়টা দিকে আমরা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের শুটিং স্পট থেকে ফিরছিলাম। আমরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দুটি চেকপোস্ট পার হয়ে আসি, সবকিছু ঠিকই ছিল।’ তদন্ত কমিটিকে সিফাত বলেন, ‘কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপয়েন্টে এলে তাদের থামার ইঙ্গিত দেয় পুলিশ – ওই রাতে এটা ছিল তাদের তৃতীয় চেকপোস্ট। সিনহা স্যার গাড়ি থামালে পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী চেঁচিয়ে আমাদের সবাইকে হাত উপরে উঠাতে বলে। তার কথা মতো আমরা তাই করি। সিনহা স্যার গাড়ি থেকে নেমে যান আর আমি গাড়ির সামনে সিটে বসে থাকি। তিনি নিজের পরিচয় দেন। পুলিশকে জানান যে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন মেজর। তিনি এমনকি পুলিশকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় যাচাই করারও প্রস্তাব দেন। কিন্তু লিয়াকত কোনো রকম সতর্ক না করেই তাকে গুলি করতে শুরু করে।’

সিফাত আরো বলেন, ‘গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি লিয়াকত, সিনহা স্যার যখন যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছিলেন বুট দিয়ে তার গলা চেপে ধরে সে। কর্তব্যরত পুলিশ তখন আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন।’ সিফাত তদন্ত দলকে বলেন, ‘ওই রাতে তারা কেউই মাতাল ছিল না বা কেউই কোনো মাদক বহন করছিল না। এই এলাকাটা আমরা চিনি ২৮ দিন ধরে। মেরিন ড্রাইভে একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে জেনেও কোন বুদ্ধিতে এই ঝুঁকি নেব?’
স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের ডাকাত বলে চিৎকার করেছে পুলিশের এই দাবিও একেবারে মিথ্যা বলেন সিফাত। তিনি তদন্ত দলকে বলেন, ‘টেকনাফ থেকে ফেরার পথে আমাদের দু’জন স্থানীয় লোকের সাথে দেখা হয়, তারা আমাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে, তবে তারা আমাদেরকে দেখে কখনই ডাকাত বলে চিৎকার জুড়ে দেয়নি।’

সিনহার আরেক সতীর্থ শিপ্রা দেবনাথ, শুক্রবার রাতে স্থানীয় একটি রিসোর্টে ছিলেন। তিনি তদন্ত দলকে বলেন, ‘সেই ৩ জুলাই থেকে তিনি ডকুমেন্টারি দলটার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাকে তিনি কখনই রাগতে বা উত্তেজিত হতে দেখেননি।’ তার কথায় সায় পাওয়া যায় রিসোর্ট মালিক মনজুরুল কবিরে কথাতেও। তিনিও জানান, ‘এখানে যতদিন আছেন সিনহাকে তিনি পুরো একজন নম্র-ভদ্র ব্যক্তি হিসেবেই পেয়েছেন। আমি তাকে, এমন কি কখনও কারও সঙ্গে উঁচু গলাতে কথা বলতে দেখিনি। সে কীভাবে পুলিশকে বন্দুক ঠেকাবে!’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, ‘তারা দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। তদন্তের স্বার্থে গত রোববার টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ সবাইকে প্রত্যাহার করা হয়। আর হত্যা মামলা হওয়ার পর বুধবার ওসি প্রদীপকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সকালে সিনহা রাশেদের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ কক্সবাজারে যান। তাঁরা কক্সবাজার সৈকতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর রেস্টহাউস জলতরঙ্গতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। পরে সেখানে তাঁরা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁরা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের নিহত হওয়াকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব নেই। আর এ ঘটনায় দুই বাহিনীর মধ্যে চিড় ধরবে না।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সিনহার মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী হতে পারে না। তদন্ত কমিটি যাদের দোষী সাব্যস্ত করবে, অবশ্যই তাদের প্রায়শ্চিত্ত পেতে হবে। এ জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতা করবে না।’
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘টেকনাফে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির কারণে দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং আমাদের লক্ষ্য হবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত যৌথ তদন্ত কমিটি হয়েছে, তারা প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। তারা তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সেটাই গ্রহণ করা হবে।’

বুধবার দুপুরে মেজর সিনহা হত্যার বিচার চেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটির শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে তা ‘ট্রিট ফর এফআইআর ’ হিসেবে আমলে নিতে টেকনাফ থানাকে আদেশ দেন আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ। একইভাবে মামলাটি কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলা অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। হত্যা মামলার আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশস বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক ও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পূর্ব হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী (৩১), উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, টুটুল ও মো. মোস্তফা।

আদালতের নির্দেশে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ থানায় মামলাটি (নম্বর সিআর : ৯৪/২০২০ইং/টেকনাফ) তালিকাভুক্ত করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হয়। টেকনাফ থানার নতুন ওসি মামলাটি তালিকাভুক্ত করেন বলে থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এদিকে হত্যা মামলা দায়েরের আগেই ওসি প্রদীপ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ৪ আগস্ট ছুটির আবেদন করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন তার ছুটির আবেদন গ্রহণ করেন বলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাননি এসপি। মেডিকেল ছুটি নিয়েই ওসি প্রদীপ কক্সবাজার ছেড়েছেন। তাকেসহ মামলার আসামি নয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, জেলা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ কে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করা এবং বিনা মূল্যে কোভিড- ১ এর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার সকল দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট।

করোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য বাজেটের প্রেক্ষাপটে জরুরী করণীয়  প্রসঙ্গে আজ (শুক্রবার) সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট একটি দশ-দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। একই সাথে স্বাস্থ্য সেবা খাতে বাজেট বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা গবেষণায় অধিক মনোনিবেশ এবং সার্বিকভাবে চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে পুনর্বিন্যাসেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে, সংগঠনের সভাপতি ডাক্তার কাজী রকিবুল ইসলাম রেডিও তেহরানক বলেন, করোনার এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মৃত্যু ও সংক্রমণ কমিয়ে আনতে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির মতো সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক শক্তি একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করতে না পারলে আমাদের করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

কোভিড-১৯ কে “জাতীয় দুর্যোগ” ঘোষণা দাবি সমর্থন জানিয়ে চিকিৎসকদের অপর একটি সংগঠন ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ- এর আহবায়ক প্রফেসর ডাক্তার রশীদ-ই-মাহবুব রেডিও তেহরানকে বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে যা স্বাভাবিক অবস্থায় সম্ভব নয় সরকার যদি জনগণের জীবন সুরক্ষায় এরকম কিছু করে তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত সুরাহা আসতে পারে।

ওদিকে, ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট তাদের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে করোনা নমুনা পরীক্ষা ফি সংক্রান্ত পরিপত্র বাতিল এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালসমূহকে রিকুইজিশন করে কোভিড ও নন-কোভিড সব ধরনের রোগীকে সেবার ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছে।

চিকিৎসকদের এ সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে, তার অধিকাংশ ঘটেছে গত জুন মাসে। তবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কম হওয়ায়, এমনকি উপসর্গযুক্ত অনেক ব্যক্তি নমুনা সংগ্রহের আওতায় না আসতে পারায় দেশে মোট রোগীর ও মৃত্যুর সংখ্যার হিসাবে গড়মিল থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করায়, দরিদ্র জনগণ টেস্ট করাতে নিরুৎসাহিত হবে, যা করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সংখ্যা আড়াল করার একটি অপচেষ্টাও বটে। এখানে উল্লেখ্য যে পার্শ্ববর্তী সকল দেশেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা বিনামুল্যে করা হয়।

সংক্রমণের ধারা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে ১ জন রোগী সনাক্ত করতে গিয়ে যদি ১০ থেকে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় তবে পরীক্ষা পর্যাপ্ত হয়েছে বলে ধরা যায়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছনে, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া সবার নিচে।

ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেছে, রোগ প্রতিরোধের শিথিলতার কারণে সম্ভাব্য যে সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হবে তার যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া আমাদের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা, দুর্বল ভৌত অবকাঠামো, মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, দক্ষ জনবলের অপ্রতুলতা, চিকিৎসক সহ সকল স্বাস্থ্য কর্মীর স্বল্পতা ও আর্থিক সামর্থ দিয়ে যে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না; তা বিভিন্ন মহল থেকে বার বার বলা হয়েছিল।

“আমরা সকরুণ দৃষ্টিতে, জীবন দিয়ে, মৃতের সংখ্যা গুণে তা’ এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি। এখন হাসপাতাল, বাসা সর্বত্র রোগীর আহাজারি; নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ আর নিবিড় পরিচর্যা বিছানার অভাবে লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। ইতিমধ্যে আমরা হারিয়েছি ৭০জন চিকিৎসক সহ অনেক সেবিকা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে, সম্মুখ যোদ্ধাদের মৃত্যুর এ হার বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। হারিয়েছি দেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তি, পদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক সহ  বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার আরও অনেককেই।”

“শিল্প বাঁচানোর নামে, শ্রমিকদের জীবিকার নামে কল-কারখানাবিশেষতঃ পোশাক শিল্প খোলা-বন্ধের খেলা, ঈদের সময় পরিবহন চালু করা না-করার সিদ্ধান্তহীনতা এবং দোকানপাট শপিংমল খোলায় মানুষের অবাধ যাতয়াতের (স্বাস্থ্যবিধি না মেনে) ফলে করোনার সামাজিক সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার ঘটার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবরূপ এখন দেখতে পাচ্ছি। এ বিষয়ে সরকার গঠিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ সঠিকভাবে আমলে নেওয়া হয়নি, যদিও তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বলে প্রচারের চেষ্টা চলছে।“

“এ মহাদুর্যোগের সময়েও সরকার ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনেকেই মূল সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিবর্তে, আমলাতান্ত্রিক খেলার মাধ্যমে সংকটের দায়ভার চিকিৎসক সমাজ ও জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে আবারও চিকিৎসক ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। জাতির এই চরম সংকটকালীন সময়েও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী ও থাকা-খাওয়া, চিকিৎসার যনত্রপাতি এবং দরিদ্র জনগণের রিলিফ সামগ্রী ক্রয় ও বিতরণ নিয়ে থেমে নেই দুর্নীতি, চৌর্যবৃত্তি ও মিথ্যাচার। মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী ও সুরক্ষা সামগ্রীর স্বল্পতা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর অধিক মৃত্যু হারের অন্যতম কারণ বলে সকলেই মনে করেন, তাও আবার ক্রয় করা হয়েছে চড়া দামে। সরকারের উপর মহল থেকে প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এর বাণী শোনানো হলেও কার্যত তা’ দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি চীন থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন।পাশাপাশি এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের অসাধারণ ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমাদের জনস্বাস্থ্যবিদ ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ মনে করেন এখনো আমাদের সংক্রমণের পূর্বাভাস মেনে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং বর্তমান বিরাজমান পরিস্থিতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সর্বশেষ সু্যোগটিও হাতছাড়া করলে দেশবাসীকে চরম মূল্য দিতে হবে।”

ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট মনে করে স্বাস্থ্যের সংগ্রাম চিকিৎসকদের একার বিষয় নয়, শুধু চিকিৎসকদের পক্ষে তা’ অগ্রসর করা সম্ভব ও নয়। মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সমন্বিত ‘সার্বিক স্বাস্থ্য আন্দোলন’গড়ে তোলা ছাড়া সামনে কোনো বিকল্প নেই।পার্সটুডে

অপরদিকে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃত্যু বরণ করেছেন ৬৭ জন চিকিৎসক। এ যাবত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৫৬১ জন চিকিৎসক। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে রেলওয়ে জমি ব্যক্তিমালিকানা দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, রেলওয়ে কতৃপক্ষের সুরমা ভ্যালি রেলওয়ের ব্রীজের শ্রীমঙ্গল সাতগাও মধ্যবর্তী ২৮৬/৯ থেকে ২৮৭/০ তে ব্রীজ নং ১৪৬ এর নিকট  জমিটি কৃষি শ্রেণীর নামে বন্দোবস্তর সূত্রে বিগত ২০ বছর ধরে গাজী আশরাফুল আলম এর পিতা মৃত মহুরুম গাজী আবুল কালাম রেলওয়ে আইনানুযায়ী ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি একটি পক্ষ জমিটি মালিকানাধীন দাবী করে জোর করে দখলের অপচেষ্টা করছে বলে গাজী আশরাফুল আলম অভিযোগ এনে শ্রীমঙ্গল থানা ও রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করেছে জানান তিনি।

মহুরুম গাজী আবুল কালাম এর ছেলে গাজী আশরাফুল আলম এর পরিবার লিজকৃত ২১ শতক জায়গা দীর্ঘ দিন থেকে ভোগদখল করে আসার এক পর্যায়ে গতকয়দিন পুর্বে হুট করে রাহেল মিয়া পিতা আবু সোবান এর ছেলে সরকারী লিজকৃত জায়গাঁটি নিজেদের মৌরুশি সম্পত্তি বলে দাবী করছেন এ নিয়ে দুই পক্ষ শ্রীমঙ্গল থানাতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে জিআরপি থানার পুলিশের একটি টিম উল্লেখিত স্থানে গিয়ে রাহেল মিয়া,রউফ মিয়া ও তার বাহিনীকে জায়গা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং তাদের নিষেধ করে এ জায়গাতে কোন প্রকার লোক জমায়েত করা যাবে না। তারপরে তারা ঐ জায়গাতে গোপনে নিজেরা আমিন (সার্ভেয়ার) এনে খুটি গেড়েছে। প্রশাসনকে তারা মানছে না।

গাজী আশরাফুল আলমের আরও অভিযোগ রউফ মিয়া নামে এক লোক পিছন থেকে সব কিছু করছে রাহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে। রউফ সরকারী জায়গা দখল করতে সেখানে লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে রেললাইনের আশ পাশের কিছু ছেলেদের বসিয়ে রাখে হামলা করার উদ্যেশে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মো. আমলগীর হোসেন বলেন, আমার কাছে তারা আসার পরে বলেছি জায়গাটি রেলওয়ে থানার আওতার বাহিরে। আমি দুই পক্ষকে বেঙ্গল থানাতে যোগাযোগ করতে বলেছি। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে উধ্বর্তন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মনিরুজ্জামানের সাথে প্রথমে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি পরে কথা হলে তিনি বলেন, যে জমিটি দখল করার চেষ্টা করছে এটি রেলওয়ের জন্মলগ্ন থেকে রেলওয়ের সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত। প্রায় ২০/২২ বছর আগে গাজী আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি ওই জমির লীজ নিয়েছে। যে পক্ষ বর্তমানে জোর করে দখল করার চেষ্টা করছে আমরা ওদের বাধা দিয়েছি পরে ওরা আমাদের এখানে এসেছিল আমরা ওদেরকে বলে দিয়েছি আপনারা যদি মৌরসী সম্পত্তি হিসেবে দাবি করেন তাহলে আপনাদেরকে রেলের উপরে মামলা করতে হবে। রেলের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত জোর করে সম্পত্তি দখল করা যাবেনা এটি আইনত অপরাধ । রেলের ব্রিজের পাশে অতিরিক্ত জমি থাকে যা নিজের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ে এখানে ব্রিজের কাজে কন্টাকটার সহ কাজের লোকদের থাকার ব্যবস্থা করতে হয় সেজন্য প্রত্যেকটা ব্রিজ এর আশেপাশে জায়গার পরিমান বেশি থাকে। আমরা ওদেরকে বলে দিয়েছি যদি ওরা জমির মালিকানা দাবি করে তাহলে তাদেরকে রেলের সাথে আইনি প্রসেসে আগাতে হবে।

অভিযুক্ত রউফ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি পাড়া প্রতিবেশী ও গরীব মানুষ হিসেবে তাকে সহযোগীতা করছি। সে গরীব হিসেবে তার পূর্ব পুরুষের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে এটা মানা যায় না। জায়গার দাবীদার রাহেল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,জায়গাটি আমাদের মৌরুশি সম্পত্তি। গাজী আশরাফুজ্জামানের পাশে জায়গা থাকার কারনে তারা জায়গার দাবী করছেন।সকল রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটি আমাদের।

লিজকৃত জায়গার মালিক মহুরুম গাজী আবুল কালাম এর ছেলে গাজী আশরাফুজ্জামান আলম জানান,আমার মহুরুম পিতা এই জায়গাটি অনুমান প্রায় ২০/২১ বছর আগে রেলওয়ে থেকে কৃষি জমি হিসেবে লিজ নেন ৯৯ বছরের জন্য। কিন্তু হুট করে আজ এত বছর পরে রাহেল মিয়া এই জায়গার দাবী করে।রাহেল মিয়া তার মদদদাতাদের নিয়ে দখল করতে এসেছে।সরকারী জায়গা দখল করতে তারা কিভাবে আসেন।এর পিছনে যারা জড়িত আছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।আমি লিখিতভাবে রেলওয়েতে,বেঙ্গল থানা,জিআরপি থানাতে জানিয়েছি।আমরা আগামি ২১ সাল পর্যন্ত এই জায়গার খাজনা পরিশোধ করেছি।এই জায়গা দখলের পিছনে রাহেল মিয়ারা একটা  সিন্ডিকেট তৈরী করেছে। তিনি  আরও বলেন, যদি জায়গা রেলওয়ে হয় আর আমি এই জায়গার বৈধ লীজের মালিক হয়ে থাকি তাহলে কোন ছাড় দিবো না। আর যদি জায়গা তাদের হয় এই জায়গার প্রতি আমার কোন দাবী নেই।

এদিকে  রেলওয়ে ঢাকা অফিস থেকে বলছেন জায়গাটি মৃত গাজী আবুল কালামের নামে লিজের রেকর্ড আছে যার লাইন্সেন নং ১৪১০/ নবায়ন সাল ১৯৯৮,জায়গার পরিমান ২১ শতক। জায়গাটির কাগজ হারিয়ে যাওয়াতে রেলওেয়ের পথ বিভাগকে অবগত করলে তারা আগামী ৬ জুলাই এর ভিতরে সকল কাগজপত্র বুঝিয়ে দিবেন বলেন জানা গেছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন,আমরা দুই পক্ষেরই পাল্টাপাটি অভিযোগ পেয়েছি।আমরা দুই পক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি যেহেতু এটি রেলওয়ের জায়গা সুতরাং রেলওয়ে ও ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে তাদের পরামর্শ দিয়েছি।আপডেট

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সরকার গোপন করছে। এর একটাই উদ্দেশ্য, গোটাজাতিকে অন্ধকারে রেখে তাদের অবৈধ শাসন পাকাপোক্ত রাখতে চায়। আমরা মনে করি, সরকার অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। এই অপরাধের জন্য তাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

শনিবার (২১ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিং করে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জনগণের সাথে সম্পূর্ণরূপে প্রতারণা ও বিভ্রান্ত করেছে। তারা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা শুধুমাত্র আইইডিসিআরের মাধ্যমে তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন অনলাইন, পরিচিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছি যে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, যেসব দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি, সেসব দেশ থেকে যারা আসছেন তাদেরকে পরীক্ষা করা জরুরি ছিল। বিমানবন্দর, স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর দিয়ে যারা এলেন সেই যাত্রীদের পরীক্ষা বেশি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অপ্রতুল ছিল। কারণ একটিমাত্র স্ক্যানিং মেশিন ছিল ঢাকা বিমানবন্দরে। চট্টগ্রামে আছে বলে জানা নেই। ইতোমধ্যে রিপোর্ট এসেছে গত ৫৫ দিনে প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার বিদেশি দেশে এসেছে। এরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এদের মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়ার অবস্থা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের ওপরে মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক। এটা এমন একটা ভাইরাস যে গোটা পৃথিবী অসহায় বোধ করছে। গোটা পৃথিবীর নেতা-রাজারা পর্যন্ত অসহায় বোধ করছেন। যে ট্রাম্প কয়েকদিন আগেও অনেক অবজ্ঞার সুরে কথাবার্থা বলেছেন। তাকে গোটা জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনলাম, সবাই সাবধান হও। আমরা ফাইট করব। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশ। এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে তাতে একটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এটা যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে সমাজে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েব। আমরা এখানে সরকারের সীমাহীন অবহেলা দায়িত্বহীনতা দেখতে পারছি। জনগণের প্রতি তাদের দায়-দায়িত্ব কতটুকু তা মন্ত্রীদের কথাবার্তাই বোঝা যায়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই চরম দুঃসময়ে পরীক্ষার মাত্র একটি জায়গা। আমরা মনে করি, কমপক্ষে প্রতিটি জেলায় পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা দরকার। আর ঢাকায় যেহেতু জনসংখ্যা অনেক বেশি তাই ঢাকায় প্রত্যেকটি হাসপাতালে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। সরকারি হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা করবেন তাদের উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দু-তিন দিনে দু’জন মারা গেছে আর ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এতেই ঢাকা শহরের লোকজন কমে গেছে। আমি আজকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলাম, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন আয়ের লোকজন। গার্মেন্টর এর বহু অর্ডার বাতিল হয়েছে। ইতোমধ্যে গার্মেন্টস এর মালিকেরা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। আমরা মনে করি, এই নিম্ন আয়ের মানুষদের সরকারের তরফ থেকে ভাতা প্রদান করা উচিত। একদিন আয় করতে না পারলে তাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে। আমরা আশঙ্কা করছি সরকার যদি কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ না করে, আর একমাস এভাবে চলে তাহলে সাধারণ মানুষ খাবার পাবে না। তার ওপরে জিনিসপত্র, চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী দলের বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে মহাসচিবসহ উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।পার্সটুডে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: স্বামী কতৃক সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সন্তান ফুলবানু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
আজ শুক্রবার বিকালে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে শ্রীপুর বাজার থেকে একটি র‍্যালী বের হয়ে জনতা উচ্ছ বিদ্যালয় হয়ে আবার শ্রীপুর বাজারে এসে শেষ হয়। মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন,তাহিরপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম,আবুল মেম্বার,সুধাংশু মেম্বার,মাইনউদ্দিন,কবির মিয়া,হুমায়ুন মিয়া,শাহানুর মিয়া প্রমুখ ।
এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন-ফুলবানু হত্যা পরিকল্পিত তাকে রাতে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ফুলবানু হত্যাকারী স্বামী ও তার সহযোগীরা মধ্যনগড় আটাশে মাছিমপুর বাড়ির পাশে ছোট ডোবায় পেলে রাখা হয়। সকালে এলাকাবাসীরা ফুলবানুকে মৃত অবস্থায় ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ফুলবানুর আত্মীয় স্বজনদের মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর জানায়। আমরা এলাকাবাসীরা ফুলবানু হত্যাকারী স্বামী ও তার সহযোগীদের দ্রুত  আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানান বক্ততাগন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার সাবেক ওসি নন্দন কান্তিু ধরের বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে দুদকে করা অভিযোগ সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কারন দুইশত ড্রেজার তো দূরের কথা একটি ড্রেজার মেশিনেরও মালিক নন বলে দাবি করেছেন তিনি।তিনি বলেন “আমার কোন ড্রেজারই ছিল না। আমি চাকরী করতে গিয়েছি ড্রেজার কেন কিনে চালাব ? আর চাঁদাবাজির তো প্রশ্নেই আসে না। কেউ বলতে পারবে না। আমার টাকার প্রতি কোন লোভ নেই। আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। যাচাই করলেই তা প্রমানিত হবে।”
তিনি আরো বলেন, “আমি থানায় যখন ছিলাম তখন সবাইকে সব বিষয়ে সহযোগীতা করেছি। মসজিদ,মন্দির,শ্বসানঘাট নির্মান করেছি সকল সমস্যা যততুটু পেরেছি সবার সাথে থেকে সমস্যার সমাধান করেছি। এই অভিযোগটি তখন কেন করা হল না। আমি তাহিরপুর থেকে চলে এসেছি এখন করেছে। তাও এত দিন পরে এর মানেই আমার সুনাম ও পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট করার জন্যই এই অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে দুদকে যে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে দুদক কর্তারা অভিযোগ তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। আর অভিযোগকারীকে চিনি না।”
এদিকে দুদকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে আলী মর্তুজা নামক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়েছেন সেলিম ইকবাল। তিনি একই উপজেলার উত্তর বন্দন এলাকার বাসিন্দা।
তিনি অভিযোগ করেন,২০০ড্রেজারের মালিক তাহিরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে এসব ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে প্রতিটিতে ১৫ হাজার টাকা করে দৈনিক প্রায় ৩০লাখ টাকা আয় করেছেন। গত তিন বছর তাহিরপুর থানার ওসি থাকা অবস্থায় এসব টাকা অবৈধপথে অর্জন করেছে।
দুদকে দেয়া সেই অভিযোগে আরো বলা হয়,২০১৭সালে তাহিরপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে ওসি নন্দন কান্তি ধর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে জাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালুপাথর উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।
সেলিম ইকবাল দুদকে দেয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন,ওসি নন্দন কান্তি ধর তাহিরপুরে নদী খনন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। জায়গা ভরাট করে দেয়ার নামে তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মতুর্জা আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও জায়গা ভরাট করে দেননি ওসি নন্দন।
ওসি নন্দন কান্তি ধরের তার অবৈধ টাকা দিয়ে ভারত ও সিলেটে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সেলিম ইকবাল।
জানা গেছে,২০১৯সালে তাহিরপুর উপজেলা থেকে বদলি হওয়ার পর বর্তমানে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আছেন নন্দন কান্তি ধর। তিনি,২০১৬সালের ১০অক্টোবর তিনি পূর্ববর্তী কর্মস্থল ফে ুগঞ্জ থেকে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
এদিকে,সেলিম ইকবালের গ্রামের বাড়ি বিষয়ে খোঁজ করে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বন্দর নামে কোন গ্রাম পাওয়া যায় নি। আর অভিযোগে মোবাইল ফোন নাম্বার না থাকায় সেলিম ইকবালের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ যাদুকাটা নদীর পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা,অবৈধ বোমা মেশিন, ও নদীর পাড় কাটা বন্ধ এবং শ্রমিকদের বৈধ অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামে শুক্রবার বিকালে যাদুকাটা নদীর তীরে একটি সংস্থার উদ্যোগে নদী সংহতি সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।

অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য,ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু চৌধুরী বাবুল,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির হাসান,ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহিরপুর থানা মোঃ আতিকুর রহমান,উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি হাজী আলকাছ উদ্দিন খন্দকার,জেলা আ,লীগের সদস্য ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন,তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি করসহ তাহিরপুর উপজেলা ও বাদাঘাট ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী।

এসময় বক্ত্যগন,যাদুকাটা নদীর পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই সাথে যাদুকাটার পরিবেশ রক্ষা করতে সকলকে সাথে নিয়ে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান অতিথি হিসাবে সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য,ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি বলেন,নদী না বাঁচলে আমরা স্বচ্ছন্দে বাচতে পারবনা। আসূন সকলে মিলে নদীর পাড় কাঁটা থেকে বিরত থাকি পরিবেশ রক্ষা করি।

তিনি আরও বলেন,যারা নদীর পাড় কাটে তারা যতই শক্তি শালী হউক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে। এবার হয়তো এই গুঞ্জন সত্যি হতে চলেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে জেলা প্রশাসকের অনৈতিক কর্মের একটি ভিডিও চিত্র। যা বর্তমানে শুধু জামালপুরে নয় দেশের ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’।

নিজ অফিস কক্ষে ডিসি অফিসের এক নারী কর্মচারীর সাথে এমন ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে যে কক্ষটি দেখা যাচ্ছে সেটি জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে তার চেয়ারের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষটিতে একটি ছোট খাট বসানো হয়েছে।

কক্ষটি বেশ পরিপাটি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে পুরুষ ব্যক্তিটিই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। আর যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চপদধারী এই সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসেই একজন নারীর সাথে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পাবলিক ফিগার আইডি থেকে গত ১৫ আগস্ট বিকেলে প্রকাশ করা হয়।

ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাপক হারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল তোলপাড় এবং ধিক্কারের ঝড় উঠে। এদিকে শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিংকটি সরিয়ে নেয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে।

নিজ অফিস কক্ষে একজন নারীর সাথে জেলা প্রশাসকের অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদেরও এ নিয়ে বেশ তৎপর থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন,‘আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দিবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ এসময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ করেন।

এছাড়া ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়।’

তবে ভিডিওটিতে দেখানো কক্ষটি তার অফিসের বিশ্রাম নেয়ার কক্ষ এবং ভিডিওর ওই নারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের অধিনস্ত এক কর্মচারী জানিয়েছেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় নিজেকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ এক সাংবাদিক নেতাকে নিয়ে রাতভর মিটিং করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। পরে ভোর ৬টায় মিটিং শেষে উপস্থিতরা জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে বেরিয়ে যান।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জামালপুরে যোগদান করেন ২০১৭ সালের ২৭ মে। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি তার অফিসের কক্ষের পাশে ছোট্ট একটি কক্ষে ধূমপান ও ব্যক্তিগত সরকারি গোপনীয় বৈঠকের জন্য কক্ষটি ব্যবহার করে আসছেন।

সম্প্রতি ওই কক্ষে বিশ্রাম নেয়ার জন্য একটি খাট বসানো হয়েছে। তাতে বিশ্রাম নেয়ার মতো বালিশ, চাদর সবকিছুই আছে।

সম্প্রতি ওই কক্ষে একাধিক নারীর যাতায়াতকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত ওই কক্ষে একজন নারীর সাথে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অবৈধ মেলামেশার ভিডিওটি ফেসবুকে, ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে মেসেঞ্জারে, মোবাইল থেকে মোবাইলে এবং ইমেইেলে ছড়িয়ে পড়ায় আগে শোনা সেই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট:  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একটি পোল্ট্রি ফার্মে অগ্নিকান্ডের ঘটনায়
পুড়ে গেছে ১ হাজার মুরগি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে ওই ফার্মের মালিক মোঃ মুহিত মিয়া।

২৯ জুন শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কোনাগাওঁ গ্রামের রাইছমিল বাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রউফের ছেলে মুহিত মিয়ার পোল্ট্রি ফার্মে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকার পাড়া-প্রতিবেশী সুমন মিয়া জানান, আজ (২৯ জুন) শনিবার বেলা ২টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি ফার্মে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর স্থানীয়রা আসার পূর্বেই অগ্নিকান্ডে সব কিছু পুড়ে তছনছ হয়ে যায়।

ফার্ম মালিক মুহিত মিয়া জানান, ১০ থেকে ১২ বছর যাবত এ ব্যবসা আমি করে আসছি কিন্তু কোনদিন এ ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, মুরগির পাশাপশি ফার্মের ভিতরে থাকা ফ্যান, আসবাবপত্র ও মুরগির খাদ্যের বস্তাসহ কোন কিছুই রক্ষা পায়নি আগুন থেকে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয় ও কিভাবে আগুন লেগেছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১ হাজার মুরগিসহ ফার্মের অবকাঠামো পুড়ে গেছে। আগুন কিভাবে লেগেছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে এলাকাবাসী বলছে, হতে পারে বিদ্যুতের তার থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখন তার পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন স্থগিত থাকায় ছাত্ররাজনীতি কলুষিত হচ্ছে এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়মিত হলে দেশে ছাত্ররাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ যেমন নিশ্চিত হতো তেমনি দেশের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যোগ্য ও নিবেদিত নেতা পাওয়া যেত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচিত সংসদ থাকলে যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটতো না। তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শাখার কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর আওতাধীন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ শাখার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল আজ ১৫ এপ্রিল সোমবার সকাল ১০টায় চেরাগীপাহাড়স্থ সুপ্রভাত স্টুডিও হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রনেতা মুহাম্মদ তৌহিদুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শফিউল আলম। উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ শিকদার।

প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সহ সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফোরকান রেজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সদস্য সৈয়দ মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফিজ মুহাম্মদ আবদুল হামিদ রজভী , ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ সাইফুল আলম, মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মহানগর উত্তর ছাত্রসেনার সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন। বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সদস্য ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আহমদুল হক।

হাফেজ মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ ও মুহাম্মদ আজাদ হোসেনের যৌথ স ালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ জুবাইদুর রায়হান, মোরশেদুল আলম, মহসিন রেযা, কাজী শাহেদ, জাহাঙ্গীর, আইনান, ওমর ফারুক, নঈমুদ্দীন প্রমুখ। পরে সর্বসম্মতিক্রমে হাফেজ মুহাম্মদ আতিকুল্লাকে সভাপতি, মুহাম্মদ আজাদ হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক ও শাহেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কাউন্সিলে বক্তারা বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যৌন নিপীড়ন রোধে ও নিপীড়কদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিধি নিয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন চৌধুরীর আবেদন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাউয়ারগলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ শামসুদ্দিন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্ব-পরিবারে এলাকায় শান্তিতে বসবাসের  নিশ্চয়তা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার ( ১৫ নভেম্বর ) বিকেলে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ শামসুদ্দিন চৌধুরী ও তার ছেলে এরফান উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দায়েরকৃত একের পর এক হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলার কারণে এলাকায় তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় থাকা এই চক্রটির নেতা কালা মিয়া তার আপন বোনদের সম্পত্তি থেকে বি ত করতে দুই বোনের সাথে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী সামসুদ্দিন চৌধুরীসহ এলাকার বিভিন্ন লোকজনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কমলগঞ্জ থানা ও মৌলভীবাজার আদালতে মোট ৬ টি মামলা করেছেন, যার মধ্যে তিনটি মামলা ইতিমধ্যে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। অপর মামলা গুলোও তদন্তাধীনে আছে।

মামলা মোদ্দদমার কারণে তিনি যেমন অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন তেমনি আর্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন মামলা করেই শুধু সে ক্ষান্ত নয়,   নানা প্রকার হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা ও এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসন সহ সর্ব মহলের সহযোগীতা চেয়েছেন।

বিষযটি নিয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কালা মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার উপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার কথা বললাম আপনাদের যা ইচ্ছে হয় তাই লিখেন।

আদমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাজী আলমগীর হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সামসুদ্দিন চৌধুরী একজন ভাল মানুষ, অহেতুক মিথ্যা মামলা করে তাকে হয়রানী করা হচ্ছে।

বোনের দাবী নিহত রাহুল সাঁতার জানতো

সোলেমান আহমেদ মানিক,শ্রীমঙ্গল থেকেঃ মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার (৩১ অঅক্টোবর) দুপুরে রাহুল দেব রায় (২২) নামের এক ছাত্র শ্রীমঙ্গল শহরের হাউজিং স্ট্রেট পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ডুবে গেলে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত শ্রীমঙ্গল সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ ওই ছাত্রকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পরিবারের লোকজন রাহুলকে হঠাৎ নড়ে উঠতে টের পেয়ে ‘ছেলেটি মারা যায়নি’ বলে কর্তব্যরত ডাক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরবর্তীতে ডা. সাজ্জাদ শ্রীমঙ্গল থানায় খবর দিলে উপ-পরিদর্শক এসআই রফিকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে আসেন।

শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাজ্জাদ জানান, তারা রাহুলকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারপরও তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আমি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলাম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইটও) ডা. জয়নাল আবেদিন টিটু জানান, ছেলেটি পানিতে ডুবেই মারা যায়। আমাদের হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক ডা. সাজ্জাদ এবং ডা. মহসীন ছেলেটিকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভাঙচুর করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের ছোট ভাই রিমেন দেব জানায় ‘খেলার কথা বলে হাউজিং স্টেট যায় দাদা। তার পরনে ছিলো প্যান্ট ও টি-শার্ট। দাদার সঙ্গে অপর তিন জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দাদা সাঁতার জানতো।’

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অফিস সহকারী গৌরাঙ্গ দেব রায়ের ছেলে রাহুল দেব রায়। রাহুল এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সিলেট এমসি কলেজের স্নাতক বিভাগে ভর্তি হয়। গত মঙ্গলবার রাহুল তার অসুস্থ বড়মা (বাবার দাদি)-কে দেখতে শ্রীমঙ্গল আসে। রাহুল দেব রায়ের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডেস্ক নিউজঃ দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক পরিষদের সভা গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা সম্পাদক পরিষদ সমর্থন করে সভায় তা তুলে ধরা হয়। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩-এর মতো বিতর্কিত ধারাগুলোকে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থী, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধ বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।
এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনে তিনজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় সভায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়। সভাশেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের কথা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় সম্পাদক পরিষদ গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।

সম্পাদক পরিষদ বিষয়টিকে তিনজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিতে সংগঠনের আস্থা ও বিশ্বাসের লঙ্ঘন মনে করে। স্মর্তব্য, সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উদ্যোগে; যিনি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে নতুন এক দফা আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং সম্পাদক পরিষদকে তাতে আমন্ত্রণ জানান। একই প্রতিশ্রুতি ওই সভায় আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি আলোচনা শুরুর একটি সুযোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে প্রেসিডেন্ট সম্মতির মাধ্যমে হারিয়ে গেছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে।

সাংবিধানিক এখতিয়ারবলে প্রেসিডেন্ট বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠালে ওই আলোচনা হতে পারত।
সম্পাদক পরিষদ অচিরেই শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে। সম্পাদক পরিষদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে বাকস্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি বিবেচনা করে সাংবাদিক ও নাগরিক সম্প্রদায় যে উদ্বেগ জানিয়েছে, তা নিরসনের এটাই শেষ সুযোগ।
সম্পাদক পরিষদের সভায় পুলিশি হস্তক্ষেপ ও খেয়াল-খুশিমতো গ্রেফতারের কবল থেকে বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে সম্পাদক পরিষদ তাদের অবস্থান এবং উদ্বেগ গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য ১৩ অক্টোবর শনিবার বেলা ১২ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্পাদক পরিষদের পক্ষে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলা হয়, আমরা আগেও বলেছি এবং আবারো বলছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে আমরা ১. সংবিধানের ৩৯ (ক) ও (খ) ধারায় প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা; ২. আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জড়িয়ে থাকা মূল্যবোধ ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার; ৩. জাতিসংঘ সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিতে সুরক্ষিত গণতন্ত্র, মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও মৌলিক অধিকারের নীতি; এবং ৪. নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ,মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হক, দ্য ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বনিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নাইম নিজাম।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc