Friday 23rd of October 2020 11:32:27 AM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  সিলেটের জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ অবৈধ হলেও তিনি এ পদে বহাল রয়েছেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা টিম অধ্যক্ষের নিয়োগ অবৈধ বলে প্রতিবেদন দেয় এবং নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকে এমপিও বাবদ উত্তোলিত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে৷

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নির্দেশনাটি ধামাচাপা দিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকছেন মফিজুর রহমান। গত ১৮ বছরে মাত্র একবারের অভ্যন্তরীন অডিটে নানা আর্থিক অনিয়ম ও কেলেংকারির চিত্র ফুটে উঠে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগ অনুসন্ধানে যানা জানা যায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন লোকমান হোসেন।

তিনি কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ভুয়া নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী অধ্যক্ষ পদে অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর পুনরায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী নিজেই দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান দেখালেও ২০০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি এইচএসসি ও বিকম তৃতীয় শ্রেণী এবং মাস্টার্স পূর্ব ভাগে তৃতীয় শ্রেণী ডিগ্রীধারী।

অর্থাৎ তার একাধিক তৃতীয় বিভাগ আছে। নিয়োগ কালে ভুয়া তথ্য প্রদান করেছেন এবং কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ প্রতিবেদনের জবাব দাখিলের পর ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্রডশিট জবাব অনুমোদনে অনেক গুলো সিদ্ধান্ত প্রদান করে। ব্রডশিট জবাবে দেখা যায়, অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় উত্তোলিত সমুদয় বেতন ভাতার সরকারি অংশের অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমেন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়।

এমনকি অর্থ জমাদানের চালানের সত্যায়িত ছায়ালিপি পত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্রডশিটে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে অতিরিক্ত উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দানের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
এদিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারীর চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৮ বছর ধরে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করলেও তার মেয়াদকালে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট হয়েছে মাত্র ১বার। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ কলেজের গভর্নিং বডিকে ব্যবহার করে এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সূত্র জানায় ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মরহুম রশিদ হেলালী অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সহোদর ও রাষ্ট্রপতির তৎকালীন প্রেস সচিব মোখলেছুর রহমান চৌধুরীর সুবাদে তিনি এ যাত্রায় পার পেয়ে যান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমানের নিয়োগ বিধি সম্মত নয় মর্মে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রাপ্তির পর তারা সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী এবং অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে তারা এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির আগামী সভায় আলোচনা হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করার কথা স্বীকার করলেও এসব আপত্তি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান। তবে নিস্পত্তির কোন ডকুমেন্ট দেখাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুক আহমদ জানান অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত বেতনের টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দানের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২মার্চ,হৃদয় দাস শুভ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা দুটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়া হয় বেসরকারি কোম্পানির ম্যানেজার পরিচয়ে। তিন মাস আগে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। ভাড়া নেয়ার সময় ওই জঙ্গি নিজের নাম বেলাল বলে বাড়ির কেয়ারটেকারকে জানিয়েছিল।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার সময় সেখানে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার রওশওউজ্জামান সিদ্দিকী এমন তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে বড়হাট এলাকার বাসাটি ভাড়া নেন বেলাল। বাড়ির কেয়ারটেকার জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে তিনি মাসিক সাত হাজার ২০০ টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। এসময় বেলায় নিজেকে আরএফএল কোম্পানির ম্যানেজার পরিচয় দেন। বাড়িটিতে বেলালের সঙ্গে তার শ্বশুর ও তিন শিশু থাকতেন।

আরও দেখুনঃ মৌলভীবাজার জঙ্গি আস্তানার আশে পাশে ১৪৪ ধারা জারী– See more at:

পুলিশ কর্মকর্তা রওশনউজ্জামান আরও বলেন, বেলালের মাধ্যমে নাসিরনগরের গ্রামের বাড়িটি ছয় হাজার ৬০০ টাকায় ভাড়া নেন মাহফুজ নামে একজন। সেখানে তার সঙ্গে আছে শ্বশুর শাশুড়ি ও চার শিশু।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ, র্যাব ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। অভিযান চালানোর জন্য সোয়াটের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তারা পৌঁছলেই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রাত তিনটা থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে দুটি বাড়ি থেকে গোলাগুলি ও গ্রেনেড বিস্ফোরনের শব্দ শোনা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc