Thursday 3rd of December 2020 09:45:45 AM

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের জৈন্তাপুরে মহিলা মাদ্রাসার নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্ছার এলাকাবাসী। মাদ্রাসার সাবেক পরিচালকের সেচ্ছাচারিতায় মাদ্রাসাটি এখন প্রায় ধংসের পথে পা বাড়ীয়েছে। মাদ্রাসায় সার্বিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের একাত্বতা প্রকাশ করেছে।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জৈন্তিয়া জামিয়া ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা থাকলেও হঠাৎ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের লক্ষ্যে তথাকতিত পরিচালক এডভোকেট আব্দুল আহাদ মাদ্রাসার ভাঙ্গীয়ে ব্যবসার ফন্দি শুরু করে। শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যাক্তিদের সরিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে কমিটির সদস্য করে শুরু হয় মাদ্রাসার নামে দেশে বিদেশে অর্থ বাণিজ্য। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মাদ্রাসার নামে দেওয়া জমি ও একজন প্রবাসীর টাকায় গড়ে উঠা ভবনে মাদ্রাসার পাঠদান চলে আব্দুল আহাদের একক কর্তৃত্ব। কমিটিতে স্থান নেই দাতা কিংবা প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যের। তার অনিয়ম-দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েক জন মাদ্রাসা সুপার রদবদল করেছেন তিনি।
এদিকে শিক্ষার মান ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য মানবিক কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধংসের হাত থেকে সুরক্ষা করতে ফুসে উঠেন নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অভিবাবকগণ, শিক্ষানুরাগী সাধারণ মানুষজন। তারা মহিলা মাদ্রাসা নিয়ে এডভোকেট আব্দুল আহাদ’র লাগামহীন অর্থ বানিজ্য বাণিজ্য নানা অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ হতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহীর নিকট বিগত ৩সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্তের দায়িত্ব দেন। বিগত ১৬সেপ্টম্বর মাধ্যমিক কর্মর্কতা মোঃ সোলাইমান হোসেন সরেজমিন তদন্ত করে এবং গত ৫অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদেনে উল্লেখ করা হয়, মূলত মাদ্রাসার হিসাবটি সুপার ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা কখনো মানা হয়নি। উক্ত হিসাবে আগত সংগৃহিত তহবিলের আয় ব্যয় ও আগত নগদ টাকার হিসাব বিধি মোতাবেক পরিচালিত হয় নাই বা কোন রেকর্ড লিপিব্ধ করা হয়নি। সংগঠনের একক কর্তা ব্যাক্তি হিসাবে আব্দুল আহাদ আত্মীয়করণের মাধ্যমে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিবেদনের আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু মাদ্রাসাটি তার নিজ নামীয় ভূমির উপর প্রতিষ্টিত কাজেই সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত বা সংগঠনের মাদ্রাসা বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে দান-অনুদান ও নগদ টাকা গ্রহন করে এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা ছাড়াই নিবন্ধনহীন সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এলকাবাসী সহ সর্বসাধারণের মাঝে ক্ষোভের স ার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার’র সাথে এলাকাবাসী বৈঠক করলে তিনি মাদ্রাসার পাঠদানের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সুপারকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করে এবং সহকারী সুপার হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের নির্দেশদেন। সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গঠিত কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানান।
২১ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য হানিফ আহমদের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর, হায়দার আলী, দেলোয়ার আহমদ, কবির আহমদ, আলহাজ্ব জহির উদ্দিন, আব্দুর রহমান, জৈন্তাপুর ইউপি সদস্য ইসমাইল আলী, আব্দুস শুকুর হরুহুনা, আলা উদ্দিন আলাই, পারভেজ আহমদ, জহিরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, মুহিব আলী, আব্দুল মালিক পাখি, আলতাফুর রহমান, হোসনে আহমদ, আবুল হোসেন, সাব্বির আহমদ, আব্দুল করিম, ফিরুজ আলী, বতাই মিয়া, আব্দুল হান্নান, মাসুক আহমদ, মাসুদ আহমদ, আবুল হাসিম, তালহা আব্দুল্লাহ বাবু, তাফসিরুল ইসলাম পলাশ, মোস্তাক আহমদ, মনজুর আহমদ, আজিজুর রহমান, আব্দুল হান্নান প্রমুখ।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ গোলমরিচকে বলা হয় মসলার রাজা। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র ফসল গবেষণা কেন্দ্র হল “সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র”। ১৯৮৬ সালে এই গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রথম চারা উৎপাদন করে গোলমরিচের চাষাবাদ শুরু করে। তখন এই মসলার রাজার নাম দেওয়া হয়েছিল “জৈন্তিয়া গোলমরিচ”। এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি মিলে ১৯৯০ সালে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট জৈন্তিয়া গোলমরিচের নাম করন করে “বারি-১ গোল মরিচ হিসাবে”। বিগত ৪ বৎসর হতে সারাদেশে গোলমরিচের চাষবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগনেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র। গবেষকরা গোলমরিচ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন।

সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল প্রতিবেদকে জানান, সিলেট বিভাগের তিনটি জেলার টিলাশ্রেণির কৃষিজমি ছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, রংপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় এই মৌসুমে জৈন্তিয়া গোলমরিচের বা বারি-১ গোলমরিচের চাষাবাদ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের অনুপ্রেরণায় গোলমরিচের চারা পাহাড়ী ও টিলা রকম ভূমিতে চাষাবাদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গোলমরিচ চাষাবাদের উদ্যোগকে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র মুলত সিলেট অঞ্চলের লেবু জাতীয় ফসলের কৌলি সম্পাদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত জাতের উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করে। ১৯৫১ সালে সিলেটের পাহাড়ী এলাকা জৈন্তাপুর উপজেলার কামলাবাড়ী এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তিতে ১৯৬১ সালে ৪৮ হেক্টর জায়গা জুড়ে কেন্দ্রটি স্থায়ী রূপপায়।

১৯৬১ সাল হতে ১৯৬৫ সালে ২৬.৩২ হেক্টর জায়গা অধিগ্রহন করার পর হতে জৈন্তিয়া গোলমরিচের চাষাবাদের একটি প্রকল্প চালু করে। ২০ বৎসর গবেষণা করে গোলমরিচের একটি জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয় কেন্দ্রটি। ফলে ১৯৮৬ সালে নিজস্ব একটি জাত উপাদনের ঘোষনাদেয় কেন্দ্রটি। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা জানান, নিজস্বতা রক্ষায় তখন এই গোলমরিরটির নাম দেওয়া হয় “জৈন্তিয়া গোলমরিচ”।

এই নামে গবেষণা কেন্দ্রের বাহিরে কৃষি উদ্যোগে আরও চারটি বৎসর চাষাবাদের পর ১৯৯০ সালে বারি-১ গোলমরিচ নাম দেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট। সিলেট অঞ্চলের মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের পাহাড় ও টিলাএলাকা গুলোতে গোলমরিচের চাষাবাদ ও উৎপাদন দেখে চলতি বৎসর থেকে বাংলাদেশের পাহাড়ী এলাকা এবং তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত অঞ্চলে চাষাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের কৃষি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহ লুৎফুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, গোলমরিচকে মসলার রাজা বলা হয়। সিলেটের ১৩টি উপজেলায় গোলমরিচের চাষাবাদ হচ্ছে। ভেষজ গুনাগুনে অনন্য এই মরিচ কফ, ঠান্ডা জনিত সমস্যা, ক্যানসার ও গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যার প্রতিরোধ করে। বারি-১ গোলমরিচের ফলন বৃদ্ধি করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc