Monday 26th of October 2020 12:54:20 PM

সিলেট প্রতিনিধিঃ  সিলেটে প্রবাস ফেরত এক নারী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে গত ২০ মার্চ  তারিখ থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মৃত্যুবরণ করেছে। তবে তিনি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ছিলেন কিনা এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

জানা যায়, সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিহত ওই নারীর বয়স ছিলো ৬১ বছর। সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২০ মার্চ) জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই নারী শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। গত ৪ মার্চ তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছিলেন। আজ রোববার আইইডিসিআর থেকে লোকজন এসে তার রক্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কথা ছিল।

যুক্তরাজ্য ফেরত ওই নারীর বাসা সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকায় ছিলো বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে ইচ্ছুক একজন জানিয়েছেন “ওই নারী তার অসুখের কথা গোপন রেখেছিল। এতে যারা তার চিকিৎসক ছিলেন তাদের ও স্বজনদের কোয়ারেনটাইনে থাকা উচিত বলে ওই সূত্র মন্তব্য করেন।

অবশেষে আইসোলেশনে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত নারীর জানাজা ও দাফন দুপুর দেড়টায় সিলেট নগরের মানিকপীর টিলায় সম্পন্ন হয়েছে। নিউজ আপডেট

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বাড়ির উঠান দিয়ে ঠেলাগাড়িতে করে ধান আনতে গিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুত্বর আহত মোঃ আলী আমজদ (৬৫) শনিবার বিকেলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের জাল্লাবাজ গ্রামের মৃত সরাফত আলীর ছেলে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানীতে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন নিহতের বড়ভাই মোঃ আলী হোসেন (৭০)। এ ঘটনায় হামলাকারী নুর ইসলামের স্ত্রী রেনু মালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নিয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আলী আমজদ ও বড়ভাই আলী হোসেন শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে একটি ঠেলাগাড়ি নিয়ে প্রতিবেশী মতৃ আব্দুল মজিদের ছেলে নুর ইসলাম ও শের মিয়ার উঠান দিয়ে হাওরে গিয়ে ধান আনতে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ নুর ইসলাম ও শের মিয়া তাদের উঠান দিয়ে ধান নিয়ে যেতে বাঁধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল ওয়াকিব মেম্বার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বিষয়টি নিস্পত্তি করেও দেন।
কিন্তু রাতে আবারো কথা কাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে নুর ইসলাম ও শের আলী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলী আমজদ ও তার বড়ভাই আলী হোসেনকে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাদের গুরুতর অবস্থায় গভীর রাতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাদের অবস্থার আরো অবনতি দেখে ভোররাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফলু আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার পর মামলা দায়েরের পর পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছ।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বাসের সঙ্গে বরযাত্রী বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বেপরোয়া গতি’র কারণে।

শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি বলেন, যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস দুটিই দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিলেন চালকরা। এজন্য দুর্ঘটনার আগে উভয় চালকই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এতে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ প্রসঙ্গে শ্রীনগর থানার ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভূঁইয়া ও হাইওয়ে পুলিশের শ্রীনগরের হাঁসাড়া ফাঁড়ির ওসি আব্দুল বাসেদ জানান, বেপরোয়া গতি ছাড়াও দুই চালকের অদক্ষতার জন্য দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কারণ বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী বাস আসতে দেখেও মাইক্রোচালক গাড়ির গতি কমিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়নি। বাসচালকও একই ঘটনা ঘটিয়েছে।

দুর্ঘটনার ছবিতে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বর্তমানে চার লেন মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলমান। তাই শ্রীনগরের ষোলঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে এক লেন সড়ক দিয়ে যান চলাচল করছিল। কিন্তু বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস চালক সড়কের বাঁ প্রান্ত দিয়ে না গিয়ে মাঝামাঝি স্থান দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে স্বাধীন পরিবহনের বাসটিও দ্রুত গতিতে ষোলঘর এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি মাঝ থেকে বাঁ প্রান্তে নেওয়ার আগেই বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

প্রসঙ্গত, শ্রীনগরের ষোলঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রী বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক পরিবারের চার সদস্য, স্বজনসহ ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে  ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ঋণ জালিয়াতি এবং চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এ মামলার বাদী।

গণমাধ্যমকে দুদক সচিব দিলোয়ার বখত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এস কে সিনহা ছাড়া মামলার  অপর আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

কথিত ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মো. শাহজাহান ভূইয়া কাগজপত্র দাখিল করে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় দু’টি হিসাব খুলেছিলেন ২০১৬ সালে। ওই শাখার কর্মকর্তাদের সহায়তায় ২ কোটি করে মোট চার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন তারা।  সেই টাকা রনজিৎ চন্দ্র সাহার হাত ঘুরে বিচারপতি সিনহার বাড়ি বিক্রির টাকা হিসেবে দেখিয়ে তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে দুদক এর কর্মকর্তারা।

ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে আ’লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলির মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রায়ে ২৫ জনের যাবজ্জীবন, ১২ জনের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন ও আহাদ বাবু বিষয়টি জানান।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- মাহবুবুর রহমান পলাশ, শামছুল আলম, মোখলেছুর রহমান বাবলু, একেএম আখতারুজ্জামান, জাকারিয়া পিন্টু, মোস্তাফা নুরে আলম শ্যামল, শহিদুল ইসলাম অটল, শামসুজ্জামান ও মুজিবুর রহমান। গত সোমবার পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এ মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক রোস্তম আলী এ মামলার রায়ের জন্য  বুধবার দিন ধার্য করেন। এদিকে মামলার রায়ের আগে পলাতকদের মধ্যে হুকুমদাতাসহ আরও দু’জন গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন- ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু এবং বিএনপি নেতা আবদুল হাকিম টেনু। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তিনি জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুরের দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে আবারও ট্রেনটিতে হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ওই সময়কার ওসি বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুনভাবে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়।

এদিকে মামলা করার পর ওই বছর কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য তা সিআইডিতে পাঠান। পরে তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

শংকরশীল  হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নে খোয়াই নদীর পাড়ে দক্ষিণ পাকুড়িয়া গ্রামে আজ শুক্রবার সকাল ১১ টায় এক জাম ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জাম গাছে জাম  সংগ্রহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন । নিহত জুয়েল  আব্দাছালিয়া গ্রামের জাম ব্যবসায়ী আঃ হাই এর পুত্র।বিস্তারিত আসছে…

বেনাপোল প্রতিনিধি : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৫ যশোর-১ (শার্শা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা অাজিজুর রহমান এবং জাকের পার্টির প্রার্থী সাজেদুর রহমান ডাবলু’র দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রির্টানিং অফিসার।
রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আওয়াল তাদের দুই জনের মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন।
এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, বিএনপির প্রার্থী মফিকুল ইসলাম তৃপ্তি ও আবুল হাসান জহির ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বখতিয়ার রহমান এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ডেস্ক নিউজঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার তিন আসনেই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত প্রায় দেড় ডজন নেতাও বাছাইয়ে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বাছাইয়ে খালেদা জিয়ার সব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তার অংশ নেয়া অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বাছাই মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিন শ’ আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে গেছে।

এর মধ্যে বগুড়া-৭ এবং মানিকগঞ্জে-২ আসনে ও ঢাকা-১ আসনে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। সারাদেশে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থীর মধ্যে বাছাইয়ের ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ জন।

এছাড়াও মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায়, ঋণখেলাপী এবং যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তবে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হযেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএম মমিনুল হক সাইদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর খান পাঠান (চিত্র নায়ক ফারুকের) মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার আলোচিত এসব প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগাদানকারী গোলাম মওলা রনি, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, হঠাৎ রাজনীতিতে যোগ দেয়া সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী নাজমুল হুদা, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস দুলু, বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্দেশ খান, মীর নাছির, সাকা পরিবারের সবাই, ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম, নাদিম মোস্তফা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মেজর অব. আখতারুজ্জামান, সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ব্যারিস্টার ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির সাবেক অনেক এমপি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তবে রিটার্নিং অফিসার বাছাইয়ে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন, সেইসব সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ইচ্ছে করলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবেন। এজন্য আগামী বুধবারের মধ্যে কমিশন বরাবর আপীল দাখিল করতে পারবেন। তবে কমিশনের কাছে আপীলে প্রার্থিতা ফিরে না পেলে সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতে আপীল করতে পারবেন। আদালত অনুমতি দিলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আদালত তাদের আপীল খারিজ করে দিলে নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে তিন শ’ আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩ হাজার ৬৫ জন তাদের মনোনয়ন জমা দেন। আদালতে সাজা ঋণ খেলাপীর কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে বাছাইয়ে।

জীবনের প্রথম অযোগ্য ঘোষিত খালেদা জিয়া ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবারের নির্বাচনে লড়তে বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু বাছাইকালে তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তার এই মনোনয়নপত্র অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। জীবনে প্রথম কোন নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে এবার বেগম জিয়া অযোগ্য ঘোষিত হলেন। ’৯১ সাল থেকে বেগম জিয়া প্রায় সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কেবল ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। এর আগে ’৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে প্রত্যেকবার তিনি ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এর মধ্যে ’৯১ ও ২০০১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন। জীবনে এই প্রথম কোন নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে অযোগ্য ঘোষিত হলেন তিনি।

অযোগ্য হেভিওয়েট প্রার্থী যারা ॥ রবিবার বাছাইয়ের বিএনপি জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট নেতাদেরও মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। খেলাপী ঋণ ও মামলায় সাজার কারণে বাতিল হয়েছে এম মোর্শেদ খান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে এম মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, তার পুত্র মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে আসলাম চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

একাদশ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। দাখিলকৃত কাগজপত্রে অসঙ্গতি, ভুল তথ্য ও ঋণখেলাপীর কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রবিবার রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে বাতিলের বিরুদ্ধে আপীলের সুযোগ রয়েছে। রাজশাহীতে বাতিলকৃতদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা রয়েছেন। সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপী ও তার বিরুদ্ধে ১০ মামলার তথ্য গোপন করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নাটোরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শাহরিয়াজ তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। ২০০৭ সালে জঙ্গীবাদ ও নাশকতার পৃথক দুটি মামলায় সাজা হওয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া জামালপুর-১ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি রশিদুজ্জামান মিল্লাত, কিশোরগঞ্জের সাবেক বিএনপির দলীয় এমপি মেজর অব. আখতারুজ্জামানসহ বহু বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যারা আগে একাধিকার এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

টেলিফোন বিল বকেয়া ও ঋণখেলাপী হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার রিটার্নিং অফিসার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আফরোজা আব্বাসকে ঋণখেলাপী হিসেবে অবহিত করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে তিনি ঋণখেলাপী। এছাড়া ঢাকা টেলিফোনেও তিনি দায়বদ্ধ। ডাচ-বাংলা ব্যাংকেও গ্যারান্টার হিসেবে তিনি ঋণখেলাপী।

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মনোনয়নপত্র বাতিল ॥ এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রবিবার বাছাইয়ে ঋণখেলাপীর অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়। পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকী) আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ঢাকার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিতভাবে জানিয়েছে, তাদের গুলশান শাখা থেকে ঋণ নিয়ে হাওলাদার খেলাপী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

অযোগ্য আলোচিত সমালোচিত যারা ॥ এদিকে রাজনীতিতে অনেক আলোচিত-সমালোচিত পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি। সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা সম্প্রতি ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন। তিনি এবার টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। রাজনীতিতে তিনি আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি। ঋণখেলাপীর অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে অপর আলোচিত ব্যক্তি নাজমুল হুদার এবার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি এবার ঢাকা-১৭ থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু বাছাইয়ে তিনি রাজনৈতিক দলে না স্বতন্ত্র তা স্পষ্ট করেননি। ফলে বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নেতা থাকাকালে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আলাদা দল ও জোট গঠন করেন। তিনি ১৪ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

এদিকে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত গোলাম মওলা রনিরও মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। যোগ দিয়ে দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচনী ময়দানে ঝড় তোলা হবিগঞ্জ-১ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। সিটি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ডিভিশন ও ঢাকা ব্যাংক থেকে পরিপ্রেরিত ঋণখেলাপীর অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকাল ১১টায় ড. রেজার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় একই আসনের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়ারও মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া সম্প্রতি জাতীয় এক্যফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত গণফোরামে যোগদান করেন এবং হবিগঞ্জের ওই আসনে প্রার্থী হলে ভোটের মাঠে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে।

প্রার্থীশূন্য বিএনপির তিনটি আসন ॥ এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনটি আসনে বিএনপি কোন প্রার্থী নেই। এর মধ্যে ঢাকা-১ আসনে ধানের শীষে কোন প্রার্থীই আর টিকে নেই। এখানে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন প্রার্থীর মনোনয়নই গ্রহণ করা হয়নি। এই আসনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবলী ও নাজমুল হুদার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি তারেক হোসেন। এদের কারও মনোনয়নই টেকেনি।

বগুড়া-৭ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের পাশাপাশি এ আসনে বিএনপির ফারুক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। বগুড়ার গাবতলী-শাজাহানপুর আসনে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোর্শেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদ বলেছেন, মিল্টন উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। খালেদা ও মিল্টনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষের কোন প্রার্থী থাকল না। মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খানের মনোনয়নে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরে মিল না থাকা এবং একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় দলের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অবশিষ্ট কোন প্রার্থী নেই এ আসনে।

মনোনয়নশূন্য সাকা পরিবার ॥ নির্বাচন থেকে ছিটকে গেল চট্টগ্রামের আলোচিত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পরিবার। জেলার তিনটি আসনে ছিল পরিবারটির প্রভাব। কিন্তু রবিবার বাতিল হয়ে যায় সাকা পরিবারের দুই সদস্যের তিনটি মনোনয়নপত্র। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিবারটির আর কেউ রইল না। সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনীয়া) আসনে। গিকা চৌধুরীর পুত্র সামির কাদের চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে। এর মধ্যে গিকা চৌধুরী দলের মনোনয়ন ফরম ছাড়াই দুটি আসনে এবং পুত্র সামির কাদের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলের মনোনয়ন কপি এবং একইসঙ্গে খেলাপীঋণের কারণে পিতা-পুত্রের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।

ইসিতে বিএনপির প্রার্থীদের অভিযোগ ॥ এদিকে মানিকগঞ্জে তিনটি আসনে বিএনপির সাতজনের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার রবিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে (ইসিতে) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিঠিটি পৌঁছে দেন।

চিঠিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, আমি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক কর্তৃক দলীয় মনোনয়নপত্রে আমার প্রদত্ত স্বাক্ষর গ্রহণ করছে না। যা অনাকাক্সিক্ষত। দৃঢ়তার সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মানিকগঞ্জ জেলার প্রতিটি আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আমার সুপরিচিত এবং আমি নিজে তাদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছি, এ বিষয়ে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। মির্জা ফখরুল তার স্বাক্ষরিত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে অনুরোধ করেছেন। এর আগে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপির সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা প্রশাসক।

সারাদেশে বাতিল ৭৮৬ জন ॥ এদিকে একাদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনে সারাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই খবর জানা গেছে। সূত্র জানায়, সারাদেশে মোট তিন হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুই হাজার ২৭৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপীল করতে পারবেন। আপীলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন যদি আপীল বাতিল করে, তবে সেই প্রার্থী আদালতেও যেতে পারবেন।দৈনিক জনকণ্ঠ

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি: শনিবার রাতে শার্শা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৯ নেতা কর্মিকে আটক করে। এ সময় পুলিশ ৭টি বোমা, কয়েকটি রেল লাইনের পাথর ও লাঠি উদ্ধারের দাবী করে পুলিশ।
শনিবার রাতেই আটককৃত ৯ জন ও পলাতক ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নাশকতার মামলা দায়ের করে থানা পুলিশ। শার্শা থানায় মামলা নং ২।
আটকৃতরা হলো, উপজেলার শুড়া গ্রামের দাউদ হোসেন এর ছেলে আব্দুস সালাম, গোড়পাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন, রামচন্দ্রপুর গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, নাভারন রেল বাজারের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম, বেনেখড়ি গ্রামের আবু হোসেন এর ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, টেংরা গ্রামের ইরফান সরদারের ছেলে আব্দুল লতিফ, রাড়িপুকুর গ্রামের আজগার আলী গাজীর ছেলে শামসুর রহমান, বাগআঁচড়া গ্রামের বহর আলীর ছেলে হাসানুজ্জামান, বসতপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আবুল হোসেন।
রবিবার দুপুর পর আটককৃতদের যশোর কোর্ট হেফাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক সালামের ভাই লাল্টু বলেন, আমার ভাই সালাম গোড়পাড়া বাজারে মুদি ব্যবসায়ী, দোকানদারী করার সময় গোড়পাড়া ফাঁড়ির এএসআই আনসার আলী তাকে দোকানের ভিতর থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে শুনি তার নামে নাশকতার মামলা করেছে পুলিশ। নাসির উদ্দিনের পিতা জালাল উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার সময় আমার ছেলে গোড়পাড়া বাজারে চায়ের দোকানে বসে ছিলো। সেখান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার নামে নাশকতার মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠায়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান জানান, বিএনপির নেতা-কর্মিরা নাশকতার উদ্দেশ্য টেংরা গ্রামের সমাবেত হচ্ছে এমন সংবাদে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয় বাকীরা পালিয়ে যায়। আটককৃদের নামে মামলা দায়ের করে যশোর কোর্ট হেফাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

“৪৯ জনের মধ্যে ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা,কাউকে খালাস দেওয়া  হয়নি”

ডেস্ক নিউজঃ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিস চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।জনকণ্ঠ

এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীনএই রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকান্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো। শেষ হলো দীর্ঘ অপেক্ষারও।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সে সময়ের মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন মারা যান । আহত হন কয়েক শ জন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। শুরু থেকেই নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে নানা চেষ্টা করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ-সংক্রান্ত মামলার দুটির বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাঁরা জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। আহত ব্যক্তিরাসহ নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

বিএনপি সরকারের সাজানো তদন্তঃ

গ্রেনেড হামলার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। পরদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। শুরু থেকেই তদন্তের গতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে তৎকালীন সরকার। শৈবাল সাহা পার্থ নামের এক তরুণকে আটক করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তের নামে পুরো ঘটনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয় সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে।

ঘটনার গুরুত্ব নষ্ট করতে হামলার শিকার আওয়ামী লীগের দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছিল বিএনপি। ওই সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও নেতা তাঁদের বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রচার চালান। হামলার সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলেও তখন একটা মহল থেকে প্রচারণা চালানো হয়।

ঘটনা তদন্তে ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে চারদলীয় জোট সরকার। সেই কমিশনও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অপপ্রচারের পথ ধরেই চলেছিল। ১ মাস ১০ দিনের মাথায় কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়ে বলে, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, এই হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত।

জজ মিয়া উপাখ্যানঃ

ঘটনার ১০ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীরকোট গ্রামের বাড়ি থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে সিআইডি আটক করে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে জজ মিয়ার কাছ থেকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে এবং তদন্তের নামে ‘আষাঢ়ে গল্প’ প্রচার করেন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ ও তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন। সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনিও সাজানো ছকে কথিত তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যান। এই গল্প সাজানোর ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া সেই সাজানো জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, তিনি আগে কখনো গ্রেনেড দেখেননি; গ্রেনেড ও বোমার মধ্যে পার্থক্য তিনি জানেন না। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। আর বড় ভাইয়েরা হচ্ছেন সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ, মুকুল প্রমুখ।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই সিআইডি তাঁর পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছে। জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলা মামলায় রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথাও ফাঁস করে দেন তিনি। সত্য উদ্ঘাটনের শুরু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এ মামলা তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তাতে বেরিয়ে আসে, বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সহযোগিতায় গোপন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) জঙ্গিরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল।

তদন্ত শেষে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ২২ জনকে আসামি করা হয়। সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ছাড়া বাকি আসামিদের সবাই হুজি-বির জঙ্গি।

অধিকতর তদন্তের আসামিঃ

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিআইডি এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে এবং ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। তাতে আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক সাংসদ শাহ মোহাম্মদ কায়কোবাদ, খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম (ডিউক), এনএসআইয়ের সাবেক দুই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম ও মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, পুলিশের সাবেক তিন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বকশ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান, জোট সরকারের আমলে মামলার তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশিদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ এবং হুজি-বির ১০ জন নেতা।

আসামিদের মধ্যে পুলিশের সাবেক ছয় কর্মকর্তা, খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান ছিলেন। আদালত রায়ের দিন ধার্য করলে ওই দিন তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত। বাবর, পিন্টুসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে আছেন। পলাতক রয়েছেন ১৮ জন। আরেক আসামি জামায়াত নেতা মুজাহিদ, মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির অন্য মামলার রায়ে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

গ্রেনেড হামলায় সরাসরি জড়িত ও আসামি ফরিদপুরের মাহাবুব মুস্তাকিম ও আনিসুর মুরসালিন। এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ভারতের নয়াদিল্লির তিহার কারাগারে আছেন। ভারত থেকে গত সাত বছরেও এই দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি সরকার।

কারাগারে থাকা ৩১ জনঃ

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর

সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু

ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ৪. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী

এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম

জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল

মাওলানা শেখ আবদুস সালাম

মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট

আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, ১০. মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু উমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব

মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির

মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ

মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে ওভি

মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর

আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল

মো. জাহাঙ্গীর আলম

হাফেজ মাওলানা আবু তাহের

হোসাইন আহমেদ তামিম

মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ

আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক

মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ,

মো. উজ্জল ওরফে রতন

হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও আবু বক ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার

লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক

সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা

সাবেক আইজিপি শহুদুল হক

সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী

তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন

সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান

এএসপি আবদুর রশীদ

সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম

ফাঁসি কার্যকর ৩

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান

শহিদুল আলম বিপুল

পলাতক ১৮

তারেক রহমান

হারিছ চৌধুরী

মাওলানা মো. তাজউদ্দিন

মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন

আনিসুল মোরসালিম ওরফে মোরসালিন

মো. খলিল

জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর

মো. ইকবাল

লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের,

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

মো. হানিফ,

মুফতি আবদুল হাই,

রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু,

লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার

মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন

উপ-কমিশনার খান সাঈদ হাসান

পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান খান

মুফতি শফিকুর রহমান

হৃদয় দাশ শুভ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের বিটিআরআই সংলগ্ন চা বাগান-রাবার বাগান এলাকার বেলতলী নামক স্থানে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে ডাকাতি করেছে বলে স্থানীয় একটি সুত্রে জানা গেছে ৷

বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায় শ্রীমঙ্গলের বিটিআরআই সংলগ্ন রাবার বাগানের সামনের রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতি করেছে একদল ডাকাত। তাদের হামলায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ডাকাতরা যাত্রীদের মারধর করে মুঠোফোনসহ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টা থেকে  ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের বিটিআরআই পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার হওয়া গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এ্যান্ড গলফের কর্মচারী আরিফ রানার সাথে কথা বলে  জানা যায়, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের বিটিআরআইয়ের পাশে বেলতলী এলাকায় গাছ ফেলে একদল লোক আমাদের স্টাফ বাসটি আটকে দেয় এবং আমাদের গাড়ীর দরজাটি খুলতে বলে৷আমরা দরজাটি না খুললে আমাদের গাড়ীর সামনের গ্লাসটি ভেঙ্গে ফেলে,তারপর আমরা গাড়ীর দরজা খুলতে বাধ্য হই ৷
দরজা খোলার সাথে সাথে ডাকতরা আমাদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পরে আমাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমাদের  দুই স্টাফ ইমরান ও আশরাফের হাত ভেঙ্গে ফেলে ৷
অনান্য আহতরা হলেন- গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ হোটেলের  ড্রাইভার মনি সিংহ (৪৫), আরিফ রানা (২৮), হেলাল উদ্দিন (৩০), সোহেল মিয়া (১৮), সুজন বৈদ্য (৩০), দুলাল মিয়া (১৮), মিনহাজ (২০), মোহাম্মদ আলী (২৪), মো. আলম শেখ (১৯), মো. জুয়েল (১৭)। তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা জানান, ডাকাতরা ওই সড়কে যাত্রীদের সাড়ে ১১ টা থেকে প্রায় চল্লিশ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ আসলে তারা চা বাগানের দিকে পালিয়ে যায়।
তারা আরও জানান ডাকাতরা চল্লিশ মিনিটের মধ্যে প্রায় ২০-২৫ টির মত গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়,ডাকাতরা নিজেদের মধ্যে হবিগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিলো এবং গোপন সংকেত হিসেবে “মাছ” শব্দটি ব্যবহার করছিলো ৷
তবে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন,শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের বেলতলী নামক স্থানে গতরাতে আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে একদল লোক ডাকাতির চেষ্টা করে এবং ৪/৫ টি গাড়ী,২টি সিএনজি,২টি প্রাইভেট কার ও একটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে এবং নগদ ২০/২৫ হাজার টাকা ও ৭/৮ মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ৷
ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর সাথে সাথে ডাকাতদল পালিয়ে যায়,আমরা ডাকাতদল কে ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করছি এবং শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছি৷আপডেট নিউজ

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২বৎসর করে সাজা ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করে রায় ঘোষনা করে মাননীয় বিচারিক আদালত।

রায় সূত্রে জানা যায়- বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-২ মহানগর সিলেট, বিচারক মুমিনুন নেসা’র আদালত গত ১২ আগস্ট ২০১৮ ইংরেজী তারিখে রায় প্রকাশ করে।

রায়ে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান লামা শ্যামপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদ, একই গ্রামের মৃত মুছা মিয়ার ছেলে মোঃ জয়নাল মিয়া, মোঃ হেলাল আহমদ, এবং দলইপাড়া (লামা শ্যামপুর) গ্রামের মোঃ আয়ত উল্লার ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ কে ২০০৮ সনে সিলেটের দক্ষিণ সূরমা থানার জি.আর মামলা নং ১৫৩/২০০৮ হতে উদ্ভুত যা দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-৩ এবং বিশেষ ক্ষমতা মামলা নং-০৪/২০১৩ দীর্ঘ শুনানী শেষে স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিত্বে দোষী সাবস্থ্য হওয়ায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-২ মহানগর সিলেট বিচারক মুমিনুন নেসা এ রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ জুলাই ২০০৮ তারিখ দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় র‌্যাব-৯ গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে ঢাকা সিলেট বিশ্বরোড়ের তেলিবাজার এলাকা হতে সিলেট-ট-১১-০০৭৭ গাড়ী তল্লাসী করে ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ ৪৪ বস্তা নছির বিড়ি জব্দ করে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ তদন্ত পূর্বক এস আই শাহজাহান মুন্সি আসামিদের নাম উল্লেখ করে বিগত ১২ অক্টোবর ২০০৮ ইংরেজী তারিখে স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্ট. ১৯৭৪ এর ২৫(বি) ধারায় অভিযোগ পত্র নং- ১৫২ দাখিল করে।

পরবর্তীতে আদালত ১৪ জুলাই ২০১১ সনে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। ৯জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রদান শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষের দীর্ঘ শুনানী পর বিগত ১২ আগষ্ট ২০১৮ ইংরেজী তারিখে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং-২ মহানগর সিলেট বিচারক মুমিনুন নেসা’র আদালত প্রত্যেক আসামীকে ২বৎসর করে সাজা ও ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দন্ডিত করে এ রায় প্রদান করেন এবং আসামিদের ধৃত করার জন্য গ্রেফতারী পরোয়নাসহ সাজা পরোয়ানা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন।

অপরাধ ডেস্কঃ সম্প্রতি প্রচারিত ও প্রকাশিত বড়পুকুরিয়া খনির প্রায় ২৩০ কোটি টাকা মূল্যমানের ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় খনির ১৯ কর্মকর্তার নামে দায়েরকৃত এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ।

বুধবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকরুল ইসলাম জানান, বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিছুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ৩০, তারিখ- ২৪/০৭/২০১৮। মামলাটি দুদকের তালিকাভুক্ত হওয়ায় তা দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, সাময়িক বরখাস্ত মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন), খালেদুল ইসলাম, সাময়িক বরখাস্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর), প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমানে ওএসডি), আবুল কাশেম প্রধানিয়া, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব, মোশারফ হোসেন ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন), মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস), অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট), আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন), জাহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স), একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজমেন্ট), খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট), মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন), হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট), জাহিদুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট), সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেনটিলেশন ম্যানেজমেন্ট), সৈয়দ ইমাম হাসান, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা), জোবায়ের আলী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্লানিং অ্যান্ড অপারেশন), আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) এবং গোপাল চন্দ্র সাহা, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব)।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বায়ে অভিযুক্ত মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।

আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) ছাড়া বাকি তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন- একই উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আকমল আলী তালুকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর শেখ মুশফিক কবীর জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ৫৯ জনকে হত্যা, ছয়জনকে ধর্ষণ, ৮১টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৩ সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণের শিকার বলে জানা গেছে।

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ৬টি উপজেলা ও একটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ৫০৬জন নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কাছে নেতাকর্মীরা। গত ২৫জুন এর পূর্বে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জীবন বৃত্তান্ত আহবান করা হয়।

৩০জুলাই পর্যন্ত জীবনবৃত্তন্ত গ্রহন করেন জেলা নেতৃবৃন্ধ। জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলা থেকে ৫৭জন,জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ৯৬জন,ছাতক উপজেলা থেকে ৬০জন,দোয়ারা বাজার উপজেলা থেকে ৫৬জন,জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে ১৫৫জন,দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ৫২জন,ছাতকের জনতা ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩০জন নেতাকর্মী জীবন বৃত্তান্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপনকর কান্তি দে ও সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমানের হাতে।

আরো জানাযায়,সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক কমিটি তাদের মেয়াদ থাকা কালীন জেলার ১১টি উপজেলার জগন্নাথপুর ও দক্ষিন সুনামগঞ্জ ছাড়া বাকী ৯টি উপজেলা সুনামগঞ্জ সদর,তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বম্ভরপুর,ছাতক,দোয়রা বাজার,উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়। কমিটি অনুমোদ দেওয়ার পরপর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা অবৈধ ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন।

এরপর সদ্য ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন করে। আর অন্যান্য উপজেলার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে জীবন বৃত্তান্ত আহবান করেন। তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তাবারক হোসাইন (সভাপতি পদপার্থী) বলেন,জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন আর দেশনেত্রী প্রধান মন্ত্রীর শেখ হাসিনার লক্ষ্য,উদ্দেশ্য উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ও হাত কে শক্তিশালী করার জন্য আমরা চাই এই উপজেলাসহ সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং সারা বাংলাদেশে সচ্ছতার সাথে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মুল্যায়ন করে সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করা হউক।

আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসিন আরাফত অপু তালুকদার বলেন,বিএনপি,জামায়াত,শিবিরের পরিবারের সদস্য দিয়ে কমিটি চাই না। যোগ্যতা,দক্ষতা,বলিষ্ট নেতৃত্ব উন্নয়নের দেশনেতৃ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে মজবুত করতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হউক যাতে করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব অক্ষুন্ন থাকে। সঠিক নেতৃত্বে মাধ্যমে জাগ্রত হউক ছাত্রলীগের সুনাম।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপনকর কান্তি দে বলেন,সাবেক কমিটির দেওয়া সকল উপজেলা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাতিল ঘোষনা করেছেন। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে ও আগামী নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই আ,লীগের পার্থীকেই জয়ী করতে নতুন কমিটি আহবান করেছি। জবিনবৃত্তন্ত পেয়েছি। এই কমিটি গুলো খুব শীর্ঘই সচ্ছতার সাথে দলের সার্থে নিবেদিত নেতাকর্মীদের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ন পদ দেওয়া হবে।

আমাদের নেতাকর্মীদের বলেছি তারা দলের স্বার্থে সঠিক ভাবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে। সাবেক কমিটির বিষয়ে জানতে চাই তিনি আরো বলেন,সাবেক কমিটির দেওয়া সকল কমিটিই অবৈধ। তারপর পরও যদি আমরা নতুন কমিটি অনুমোদ দেওয়ার পর বিশৃংখলা করে তাহলে তারা যত বড় শক্তিশালী হউক দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc