Friday 4th of December 2020 01:51:08 PM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন করোনাভাইরাস চীনে তৈরি করা হয়েছে। গতরাতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
আমেরিকার সকল গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের বিপরীতে তিনি বলেন: উহানের ল্যাবরেটরিতে করোনা ভাইরাস তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেন এ দাবির পক্ষে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ তার কাছে থাকলেও তিনি সেগুলো দেখাতে প্রস্তুত নন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চীনের উচিত কীভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, এটা কি উদ্দেশ্যমূলক ছিল নাকি ভুলে ছড়িয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট করা। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গতকাল জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মানবসৃষ্ট নয় কিংবা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হওয়ারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা বিপর্যয় মোকাবেলায় ট্রাম্প সরকারের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সমালোচনা তুঙ্গে ওঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চীনকে এ ভাইরাসের জন্য দায়ি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প সম্প্রতি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের জন্য চীনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়েরও দাবি তুলেছেন।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৪ জন। আর মৃতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮৭১ জন।পার্সটুডে

গত ক’দিনে চীন থেকে আগত চীনা নাগরিকসহ ৭২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে নিয়মি

ছবি সংগৃহীত

ত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত দুদিনে চীনে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে সেখানে শীতকালীন ছুটি শেষ হলে দেশটিতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে; তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ  দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও চীনের পার্শবর্তী দেশ জাপান, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাংলাদেশ থেকে শুধু চীন নয়; মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দিল্লি, নেপালসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের ভ্রমণ কমে গেছে। কমেছে ভরা মৌসুমে পর্যটকদের আগমনও। অনেক বিদেশি পর্যটক যাত্রা বাতিল করায় ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের ট্যুর অপারেটর ও অভিজাত হোটেলগুলো।

যাত্রী অর্ধেকে নেমে আসায় এশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট কমাচ্ছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশ থেকে চীনে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে চায়না সাউদার্ন। দেশটিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী আরো তিনটি এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেন, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুরে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যাত্রী সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ায় আমরা ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়েছি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান বলেন, প্রতিদিন যেখানে ২৬০টির মতো ফ্লাইট ওঠানামা করত সেখানে ফ্লাইট সংখ্যা কমলে রাজস্বও কমে যাবে।

করোনার ভয়ে অনেক বিদেশি পর্যটক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ভ্রমণ বাতিল করায় ক্ষতির মুখে পড়েছে ট্যুর অপারেটররা। পর্যটনের ভরা মৌসুমে ফাঁকা থাকছে অভিজাত হোটেলগুলো।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বুকিং করাই ছিল এমন ৮ থেকে ১০ হাজার পর্যটক আসেনি। এছাড়া ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বুকিংও হ্রাস পেয়েছে। ১০০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হবে।
বিদেশিদের আস্থা ফেরাতে সংক্রমণ রোধে সরকারি উদ্যোগগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের আহবান বিশ্লেষকের।পার্সটুডে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে থাকা ১৭১ জন বাংলাদেশিকে আনতে বাংলাদেশ বিমানের কোনো উড়োজাহাজ ও ক্রুকে দেশটিতে পাঠানো যাচ্ছে না। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল থেকে আটকে পরা বাংলাদেশিদের আনা এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “চীন থেকে ৩১২ জনকে ফিরিয়ে আনতে বিমানের যে ক্রুরা গিয়েছিলেন তাদের অন্য দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে এখনো যারা রয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনতে অনেক অর্থ খরচ করা হয়েছে। এরপরও তাদের দেশে আনা যাচ্ছে না। শুধু চীনের বিমান প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফিরিয়ে আনতে পারে। এ বিষয়ে চীন প্রথমে রাজি হলেও পরে তারা নাকচ করে দেয়। চীনে কোনো ক্রু সদস্য না যেতে চাওয়ায়, আমরা কোনো ফ্লাইট পাঠাতে পারছি না।”

আব্দুল মোমেন বলেন, “প্রথমে এসে তাঁরা খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন, আমরা তাঁদের প্রথম শ্রেণির সেবা দিইনি। পাঁচ তারকা হোটেলে রাখিনি। তাঁদের কেন ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখব? এখন যাঁরা আসতে চান, তাঁদের আনতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। আমরা তাঁদের আনতে চাই। কিন্তু আমাদের বিমান যেটি আগে গিয়েছিল, তার ক্রুদের সবাই এখন লেট কোয়ারেন্টাইনে বসে আছেন। এখন তাঁরা কোথাও যেতে চাচ্ছেন না। বিমান কোথাও যেতে চাচ্ছে না। আমরা ডিসইনফেকশন করেছি অনেক টাকা খরচ করে। ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে। এ জন্য আমরা বলেছি, যাঁরা ফিরতে চান তারা যদি চাইনিজ চার্টার্ড ফ্লাইট ঠিক করে…আমাদের দূতাবাসকে বলছি তারা চেষ্টা করছে। একপর্যায়ে পাওয়া গিয়েছিল (চার্টার্ড ফ্লাইট) এখন চীনারা অনুমতি দিচ্ছে না। তাই আমরা একটি দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি।”

উহানে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাঁদের খাওয়া-দাওয়া সব চীনারা নিশ্চিত করছে। চীনের একজন উপনেতাকে তাঁদের জন্য যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা ২৩টি জায়গায় থাকেন। একেকটি জায়গায় লোক নিয়োগ করা হয়েছে। খাবার-দাবার, পানীয়সহ তাঁদের সবকিছু যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি বলে থাকেন খাবার পান না, এটা ঠিক না।”

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস কী করছে- জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ৩৮৪ জনের একটি গ্রুপ করা হয়েছে উইচ্যাটে। তাঁদের বলেছি, ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থেকে চাইনিজরা যখন বলবে, তখন তোমরা আসো। সরকার যদি ওদের পয়সা দিয়ে না আনে, তবে এদের ৮০ শতাংশই আসবে না। বাকিগুলো থেকে যাবে। সরকার বিনে পয়সায় নিয়ে আসে, সে জন্য তাদের আরেকটু উৎসাহ আছে। তারা এখানে আসলে ভালো হয়ে যাবে, এটা ঠিক না।”

আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসে চীনে ইতোমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ মারা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc