Saturday 31st of October 2020 02:00:27 PM

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫মার্চঃ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় বন-পাহাড়ে খাসিয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস।খাসিয়া আদিবাসীদের পান চাষ এ দেশের সমতল অঞ্চলের পান চাষের চেয়ে ভিন্ন। খাসিয়া আদিবাসীরা সিলেট অঞ্চলের বন-পাহাড় এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে আদিপদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বনগাছে বহু যুগ থেকে পান চাষাবাদ করে আসছে।

পানকে খাসিয়া ভাষায় “পাথা” বলে থাকে। আর এ পান শুধু খাসিয়া আদিবাসীরাই চাষাবাদ করছে বলে সবার কাছে খাসিয়া পান বলে পরিচিত।খাসিয়া পুরুষরা পান জুমে লতানো পানগাছের পরিচর্যা এবং বছরে একবার গাছের ডালপালা ও পাতা ছেঁটে দেয় এবং ছাঁটানো ডালপালা ও পাতা পানগাছের গোড়ায় দিয়ে থাকে। ডালপালা ও পাতা পচে প্রাকৃতিক জৈব সার তৈরি হয়।

বর্তমানে কেউ কেউ বাজার থেকে জৈব সার ক্রয় করে নিজেদের পান জুমে বেশি ফলানোর আশায় ব্যাবহার করে থাকে।খাসিয়া পুরুষরা লু-উ নামে (মই) এক ধরনের বাঁশের মই দিয়ে পান তুলে থাকেন।পান তোলার সময় এরা সাথে পান সংগ্রহ করার জন্য ঝুড়ি রাখে,ঝুড়ির ভেতরে পান তুলে রাখে এবং খাসিয়া পুরুষরা পান সংগ্রহ করে জুম থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে।আর খাসিয়া নারীরা ঘরে বসে পান গুছিয়ে(কান্তা বা ছলি বানিয়ে) বিক্রয় করে থাকে। খাসিয়া আদিবাসীরা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। তাই পরিবারে নারীদের অধিকারই বেশি।

১২টি পান পাতায় এক গুছি আর ১২টি গুছিতে এক কান্তা এবং ১২ কান্তায় এক কুড়ি। তাদের নিজেদের মধ্যে নারী শ্রমিকও আছে, তারা শুধু নিজের পুঞ্জিতে পান গুছি করে। এক কুড়ি গুছি করলে পারিশ্রমিক বাবদ ৩৫-৪০ টাকা পেয়ে থাকে।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির গ্রামপ্রধান ফিলাপথমী(খাসিয়া মন্ত্রী) বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে খাসিয়া আদিবাসী নারীরাই এ এলাকার বাজারে নিয়ে নিজেদের পান বিক্রয় করত। বর্তমানে স্থানীয় বাঙালি ক্রেতারা খাসিয়া পুঞ্জিগুলোর বাড়িতে বাড়িতে এসে পান ক্রয় করে নারীদের কাছ থেকে।

খাসিয়া পানপাতায় সমতল অঞ্চলের পানের চেয়ে ঝাঁজ বেশি। খাসিয়া আদিবাসীরা পান জুমে কাজের সময় শরীরে ছোটখাটো ঘা হলে রক্ত বন্ধ করার জন্য বুনোওষুধ হিসেবে পানপাতা ব্যবহার করে থাকে।বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের জন্য পানের উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে পানের মূল্যও কম হয়ে থাকে।

কুড়িপ্রতি ৪০০-৫৫০ টাকা আর শুকনো মৌসুমে পানের উৎপাদন কম হওয়ায় কুড়িপ্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পানের মূল্য অনেক কম।খাসিয়া পান বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং এ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ভ্রমণ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখকঃশ্যামল দেব বর্মা। 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc