Friday 30th of October 2020 09:50:01 AM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে দুটি উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালো বাজারে পাচার কালে পৃথক দুটি অভিযানে ৬৮বস্তা চালসহ ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হল,তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের নামাগাও গ্রামের প্রভাত ও আলাল মিয়া। অন্য দিকে,দোয়ারা বাজার উপজেলায় পান্ডারগাও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের আনু ও মাসুক আলম।

বুধবার(৩০,০৯,২০২০)রাতে জেলার তাহিরপুর ও দোয়ারা বাজার উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬৮বস্তা(প্রতি বস্তায় ৩০কেজি)আটক করা হয়। আটক কৃতদের বিরোদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দোয়ারা বাজার উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫৮বস্তা চাল কালো বাজারে পাচার কালে বুধবার রাতে পান্ডারগাও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের আনু ও মাসুক আলমকে দোয়ারা বাজার থানা পুলিশ আটক করে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি নাজির আলম।

অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালো বাজারে বিক্রি করার অপরাধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০বস্তা(প্রতি বস্তায় ৩০কেজি)চালসহ দুইজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হল,উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের পরমেশ্বর সরকারের ছেলে প্রভাত সরকার ডিলারের সহযোগী ও লামাগাও গ্রামের আলাল মিয়া একজন অক্ষর জ্ঞানহীন ষ্টোকের রোগী।

বুধবার (৩০,০৯,২০২০) রাত ১২টায় উপজেলায় লামাগাও বাজার থেকে অভিযান চালিয়ে ১০বস্তা (প্রতি বস্তায় ৩০কেজি) আটক করা হয়।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (০১,১০,২০২০) দুপুরে ডিলারসহ ৮জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা। তবে ধরাচোয়ার বাহিরে রয়েছে মুল আসামীরা।

তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান,উপজেলা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়েরের করা হয়েছে। ডিলারসহ ৮জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২৫(১)/২৫ ডি ধারায় মামলা দায়েরের করা হয়েছে। মামলা নং ৩,তারিখ ০১,১০,২০২০।

এ বিষয়ে আটক সাবেক মেম্বার ও ডিলার সহযোগী প্রভাত সরকার জানান,বুধবার (৩০,০৯,২০২০) সন্ধ্যায় আলাল মিয়ার কাছে চাল বিক্রি করে ডিলার সরুফ মিয়া,আলী রব,ফটিক মিয়া,কিবরিয়া মেম্বার,বজলুর রশীদ,শাসসুন নুর তখন আমি ছিলাম না।
এবিষয়ে আটক অক্ষরজ্ঞানহীন অসুস্থ ষ্টোকের রোগী আলাল মিয়া জানান,আমি লেখাপড়া জানি না। ডিলার সরুফ মিয়া,আলী রব,ফটিক মিয়া,কিবরিয়া মেম্বার ও বজলুর রশিদ চাল আমার কাছে বিক্রি করে। আমি জানতাম না এটি সরকারী চাল।

তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদাম কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান বলেন,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালো বাজারে পাচার কালে ১০বস্তা চালসহ ২জনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের উর্ধবতন কতৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন পরির্দশন করেছেন। এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সরজমিনে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানাযায়,উপজেলার হাওর বেষ্টিত দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের চারটি ওয়াডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৫০বস্তা চাল ৪৫০জন কার্ডধারীর মধ্যে বিতরণ বরাদ্দ দেওয়া হয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ডিলার সরুফ মিয়াকে। কিন্তু ডিলার তার সহযোগী নেয় আলী রব,প্রভাত সরকার,ফটিক মিয়া,কিবরিয়া মেম্বার,বজলুর রশীদ,শাসসুন নুরকে। লামাগাও বাজারে ক্ষুদ্র চাল বিক্রেতা অক্ষর জ্ঞানহীন ষ্টোকের রোগী আলাল মিয়কে ভুল বুজিয়ে ডিলার সরুফ মিয়া,আলী রব,ফটিক মিয়া,কিবরিয়া মেম্বার,বজলুর রশীদ সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চাল বিক্রি করে। কালো বাজারে চাল বিক্রি করেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাহিরপুর থানা এস আই দীপংকরসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ১০বস্তা চালসহ একজন অক্ষর জ্ঞানহীন ষ্টোকের রোগী লামাগাও গ্রামের আলাল মিয়ার কাছ থেকে চালসহ আটক করে। ও পরে আটক করে সাবেক মেম্বার ও ডিলার সহযোগী প্রভাত সরকারকে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানান,কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই সন্মানিত সংবাদদাতাদের। এ-ধরনের ক্ষেত্রে যেকোনো সময় দ্রুত খবর দেবার জন্য পুনরায় সকলকে অনুরোধ করছি।

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: চাল চুরির মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪নং সিন্দুরখান ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মোছাব্বির মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডোবাগাও গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও আরজু মিয়া নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভুক্ত দুই উপকারভোগী সংবাদ সম্মেলন ডেকে চাল না পাওয়ার যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সোমবার দুপুরে ৪নং সিন্দুরখান ইউপি চত্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সরকারী কর্মসূচীর এই চাল বিতরণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ডিলারের। ইউপি সদস্য মোছাব্বির মিয়া সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আামার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জালাল উদ্দিন, বদরুল ইসলাম সোহেল, বজলুল হোসেন, আব্দুস শহীদ, ইউসুফ আলী, তোয়েল আহমেদ, নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এসময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভুক্ত শতাধিক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  মুজিববর্ষ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে শিশু ভাতার নগদ র্অথ ও উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ১০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে শিশু ভাতার নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন কমলগঞ্জ উপজলো যুবলীগের আহবায়ক ও পৌর মেয়র মো: জুয়েল আহমদ এ সময় কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শায়খ আহমেদ, পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রুহেল, মহিলা কাউন্সিলর শিউলি আক্তার শাপলাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার: বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পবিত্র ইদুল আযহা উদ্যাপন উপলক্ষে অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
আজ ২৫ জুলাই শনিবার সকালে পৌর জনমিলকেন্দ্র মৌলভীবাজার পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের সভাপত্বিতে ভিজিএফ চাল বিতরণ উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল রহমান সুমন,পৌর কাউন্সিলর আসাদ হোসেন মক্কু।
মৌলভীবাজার পৌরসভায় মোট ৪হাজার ৬শ ২১ পরিবারকে ১০কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয়া হয়েছে,চলবে ২৭ জুলাই সোমবার পর্যন্ত।
এসময় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ বলেন সরকারের দেয়া ‘ভিজিএফ চাল বিতরণে যাতে কোন রকম অনিয়ম না হয় সে জন্য মেয়র ফজলুর রহমান সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
মেয়র ফজলুর রহমান বলেন করোনার এই সংকটের সময়ে যথাসাধ্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রকৃত অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা অনুযায়ী চাল বিতরণের লক্ষ্যে পুলিশ ও সেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পৌরসভার সদস্য ও সেচ্ছাসেবীদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কার্ডধারী গ্রহীতাদের নামে ভুয়া টিপসই দিয়ে ১ মাসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এর কারণ জানতে চাইলে কার্ড ছিড়ে ফেলে কার্ডধারীদের লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জন কাhর্ডধারী সুবিধাভোগীরা ডিলার লিটন চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য ১২শ জনের তালিকা তৈরি করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১ থেকে ৪নং ওয়ার্ড ও ৫নং ওয়ার্ডের কয়েকজনের নামসহ তালিকায় ৩৫০ জন সুবিধাভোগীর নামে কার্ড রয়েছে। এদের মাঝে চাল বিক্রির দায়িত্ব পান ডিলার লিটন চন্দ্র দেব। বাকি ৮৫০ জন সুবিধাভোগী ইউপি চেয়ারম্যানের নিজ গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের লোকজন। চলতি মে মাসের চাল এখনো বিতরণ করা হয়নি। গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে চাল আনতে গেলে টিপ সই রেখে এপ্রিল মাসের চাল দেয়া হয় সুবিধাভোগী গ্রহীতাদের। তখন সময় পূর্বের মার্চ মাসের চাল না দিয়েই চাল প্রাপ্তি গ্রহীতাদের টিপসই দেয়ার স্থানে ডিলার নিজে মার্চ মাসের টিপ সই দিয়ে মার্চ মাসের চাল আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এর প্রতিবাদ করায় অনেকেই হয়েছেন লাঞ্ছিত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল চাল বিক্রি হচ্ছে এমন খবরে ওই ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের এক কার্ডধারী দিনমজুর ব্যক্তির কার্ড নিয়ে তার স্ত্রী চালের জন্য গিয়েছিলেন। স্বামী না গিয়ে সে কেন গেল এ কারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার কার্ডটি ছিড়ে ফেলা হয়। এমনকি তাকে আর কোন দিন চাল দেয়া হবে বলে বিদায় করে দেয়া হয়। একই দিন আরেক ব্যক্তির টিপসই রেখে চাল না দিয়েই বিদায় করে দেয়া হয়। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ওই এলাকার জনসাধারণের। লোকজনের ভিতরে নানা ক্ষোভ বিরাজ করলেও প্রকাশ্যে তা বলতে পারেননা অদৃশ্য কারনে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে- জননী ভান্ডার নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর ডিলার লিটন চন্দ্র দেব বলেন- ‘ওই মহিলা চেয়ারম্যানের সাথে বেয়াদবি করছে।’ তিনি ভূয়া টিপ সই দিয়ে চাল আত্মসাতের অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবী করেন। ডিলার বলেন- তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ্য থাকায় কিছু লোকজনের চাল রয়ে গেছে।
এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে বেকার মানুষের ঘরে খাবার নেই। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা মঙ্গলবার দুপুরে গণস্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন- ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করা হচ্ছে, যদি চাল আত্মসাৎ বা আত্মসাতের চেষ্টাও করছে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে এই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গজনাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হত দরিদ্রদের ভাষ্য, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার দফায় দফায় বিভিন্ন বরাদ্দ দিলেও তারা কিছুই পাচ্ছেন না। ফলে না খেয়েই দিন কাটছে অনেকের। এই ইউনিয়নে প্রশাসনের নজড়দারী বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলের ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভৈরবগঞ্জ বাজার এলাকায় শ্রীমঙ্গল র‍্যাব -৯ এর কমান্ডার এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযানে একজনকে আটক করে অভিনব কায়দায় আলামত নষ্ট করে সরকারি চাল চুরির খনির সন্ধান পান এবং এর বিস্তারিত তথ্যের খোঁজে নেমে পরে।এতে প্রায় সাড়ে তিনশত কেজি চাউল উদ্ধার হলেও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গরিব অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রদেয় “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” প্রধানমন্ত্রীর এই শ্লোগান লিখিত শতাধিক বস্তার নিয়মিত জ্বালানো ছাই এর সন্ধান পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানের প্রথমে  ভৈরবগঞ্জ বাজার থেকে নূপুর কান্তি রায় নামে এক ব্যবসায়িকে আটক করার পর তার স্বীকারোক্তিতে তার গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিনশত কেজি সরকারী চাউল বিভিন্ন ভাবে রাখা স্থান থেকে উদ্ধার করে র‍্যাব।এ সময় চাউল লুকাতে গিয়ে বাথরুমের ট্যাংকিতে ঢেলে দেওয়ারও চিত্র দেখা যায়।কি পরিমাণ চাউল ট্যাংকিতে ঢেলে দেওয়া হয় তা অনুমান করা সম্ভব নয়।র‍্যাবের কাছে আটককৃত নূপুর রায়ের দেওয়া তথ্যে কিছু চাউল উদ্ধার হলেও চাউলের খালি বস্তার কোন সন্ধান দেয়নি নূপুর।পরে র‍্যাব অফিসার শামিম ও তার টিমের একটি অংশ তাকে (নূপুর) নিয়ে তার সত্ত্বাধিকারী “মেসার্স নিউ মা ভেরাইটিজ ষ্টোর”, শাহজালাল মার্কেট, ভৈরবগঞ্জ বাজারে আসার পর সেখানেও চাউলের বস্তার কোন সন্ধান মিলেনি।

এ সময় চৌকস অফিসার আনোয়ার হোসেন শামিম বস্তা খোঁজার কাজে চারিদিকে তল্লাশি করতে থাকে। সন্দেহ মূলক বাজার সংলগ্ন পশ্চিমে আবর্জনা স্তূপে গিয়ে দেখেন বস্তা জ্বালিয়ে দেওয়ার ছাই’য়ের স্তূপ দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে বস্তা পুড়িয়ে ফেলার এই ছাইয়ের স্তূপ দেখা যায়। পুড়িয়ে ফেলা বস্তার আংশিকসহ জঙ্গলের গাছড়ার নিচ থেকে ১০/১৫ টি খালি বস্তা ও ছাইয়ের সন্ধান পান র‍্যাব সদস্যরা।র‍্যাব অফিসার বলেন,বস্তা ও চাউল উদ্ধারের পর অভিযুক্ত আটক নূপুর রায়  “মেসার্স লিপি এন্টারপ্রাইজ” শাহজালাল মার্কেট, ভৈরবগঞ্জ বাজারের সত্ত্বাধিকারী সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থি বর্তমান সরকারী চাউলের ডিলার আনোয়ার হোসেন ( আনারউদ্দিন) থেকে ক্রয় করতেন বলে জানান। চাউলের ডিলার আনোয়ার হোসেন ( আনারউদ্দিন) এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আসছেন বলে পালিয়ে যান।

আটক নুপুর কান্তি রায়ের সত্বাধীকারী মেসার্স নিউ মা ভেরাইটিজ ষ্টোর” নামে শাহজালাল মার্কেট ভৈরবগঞ্জ বাজারে একটি দোকান কৌটা রয়েছে। তাহার গ্রামের বাড়ী মৌলভীজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের রাঙ্গুনিয়া (লাইংলা) গ্রামে।

এদিকে ভৈরবগঞ্জ বাজারের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,কিছু ইউপি সদস্য রয়েছে যারা ডিলারের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন সময় এই রকম চাউল বিক্রি হয়। কোন কোন ইউপি সদস্য এই চাউল বিক্রির সাথে জড়িত নাম জানাতে অনীহা জানান।

উল্লেখ্য, ডিলার মোঃ আনোয়ার হোসেন ৫ নং কালাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি। তিনি “মেসার্স লিপি এন্টারপ্রাইজ” নামে শাহজালাল মার্কেট, ভৈরবগঞ্জ বাজারের একই মার্কেটে ডিলার দোকানদার , তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা  রাখা উচিত, “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” গরীব দুঃখী ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য সরকারের বরাদ্বকৃত দশ টাকা মুল্যের চাুউল ( ওএমএস) বিক্রি হচ্ছে হাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে । খাদ্য বান্ধব র্কমসুচীর আওতায় সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মুল্যে ধান কিনে সেই ধান বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরিদ্র জনগনের খাদ্য নিশ্চিতের জন্য ১০ টাকা মুল্যে চাউল সরবরাহ করে থকে স্থানীয় ডিলরদের মাধ্যমে। এই ডিলাররা সরকারের কাছ থেকে এনে গরীবদের কাছে না পৌছিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় দোকানদারদের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন বছরের পর বছর। এতে গরীব অসহায়দের জন্য সরকারে  র্ভুতুকী বাবত প্রায় প্রতি মন ধানে ৮৫০ টাকা বঞ্চিত হচ্ছেন গরীবরা।

সরকারী চাউল আত্মসাতের ব্যাপারে ৫ নং কালাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  ইরফান আহমদ টুকুর সাথে আমার সিলেটের কথা হলে তিনি বলেন, “কোন অপরাধীর দ্বায় আওয়ামীলীগ নিবেনা। যে কেহ অপরাধ করে তার বিচার হওয়া উচিত।আমি আমার নেতৃবৃন্দের কাছে এই চরিত্রের কাউকে দলে না রাখার জন্য অনুরোধ করবো।”

অপর দিকে ৫ নং কালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল আমার সিলেটকে বলেন,”আমি এই দুর্নীতির বিচার চাই, অচিরেই এলাকা বাসিকে নিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ করবো। আমার এলাকায় গরিবের চাউল নিয়ে এই সমস্ত অন্যায় করতে দিব না।তিনি আরও বলেন আমার কাছে এর কোন অভিযোগ আগে আসেনি।”

শ্রীমঙ্গল র‍্যাব -৯ এর কমান্ডার  এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম আমার সিলেটকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গরিবের উপহার এই ভাবে অসৎ ডিলার ও সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করছে,যারা এই আত্মসাতের সাথে জড়িত আমরা তাদের খুঁজে বেড় করে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।”

প্রসঙ্গত কয়দিন পুর্বে ও পুলিশের হাতে একই অভিযোগে আব্দুল হক ডিলার জড়িত দুইজনকে চাউলসহ আটক করা হয় এবং তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।আপডেট নিউজ। পূর্বের সংবাদের লিঙ্ক দেখুন।

শ্রীমঙ্গলে সরকারী চাউল পাচারের অভিযোগে মামলা,আটক-২

এস এম সুলতান খান চুনারুঘাট থেকে:  চুনারুঘাটে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রির চেষ্টার কারণে জালাল উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চুনারুঘাট পৌর শহরের বাল্লা রোডের মকসুদ ট্রেডার্সে বিক্রি করার সময় থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক ও ওসি তদন্ত চম্পক দামের নেতৃত্বে এসআই শেখ আলী আজহার, এএসআই বাতেন অভিযান চালিয়ে ২৮বস্তা চাল আটক করেন।
এসময় চাল বিক্রেতা জালাল উদ্দিন মোল্লা ওরফে সাজেল পালিয়ে যায়। সে উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
চুনারুঘাট থানা পুলিশ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২৮বস্তা চাল আটক করা হয়েছে। প্রতি বস্তায় ৫০কেজি করে চাল রয়েছে।
পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জালাল মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত চালগুলো কোনো ডিলারের নয়, বরং গ্রামের ক্ষুদ্র একজন ব্যবসায়ীর। সে সরকারি চাল ক্রয় করে বিক্রি করার জন্য উল্লেখিত দোকানে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এ ধরণের কাজও বেআইনি বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।

“মৌলভীবাজার ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব। ডিলার বলছে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজন”

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব। রীতিমত ঘেঁষা ঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে কার আগে কে চাল নেবে সেই চেষ্টা। সংশ্লিষ্টরা বার বার বলার পরেও ব্যর্থ হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারেও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় ও খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা কেজিতে (ওএমএস) চাল বিক্রিয় শুরু হয়েছে। শুরুতে‘ই মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪টি স্থানে এই কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নাগরিকেরা তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে, নিজ নিজ মোবাইল ফোন নাম্বার ডিলারের খাতায় লিখে দিয়ে প্রতিজন ৫ কেজি করে চাল ক্রয় করছেন।
এদিকে দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো তা মানছেনা।
মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪টি স্থান সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ মানছেনা সামাজিক দুরত্ব বরং একে অন্যের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা দরে চাল নিতে কার আগে কে যাবে সেই প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও তা কেউ মানছেনা ।
১ নং ওয়ার্ডের ডিলার বদরুল আহমদ জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা খুব চেষ্টা করছি লোকজনকে দুরত্ব বজায় রেখে চাল দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোন ভাবেই মানছেনা। প্রশাসন এসে আমাকে বার বার কথা বলছে দুরত্ব বজায় রাখার জন্য,আমি নিজে দুজন মানুষ রেখেছি তাদের কথাও শুনে না।এখন দেখছি আমি নিজেই অস্স্থু হয়ে যাব,তাই কথা না শুনলে চাল বিক্রি করা বন্ধ করে দিব।এই দুরত্ব বজায় রাখার পরিবেশ তৈরী করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও আগে চাল পাওয়ার জন্য কেউ নিয়ম মানছেনা বলেও স্বীকার করেন চাল নিতে আসা এসব লোকজন। ১০ টাকার চাল নিতে লাইনে দাঁড়ানো মফিজ মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে আমি জানি কিন্তু আমি একজনে নিয়ম মানলে কি হবে অন্যরা‘ত মানছেনা। তাই আমিও বাদ্য হয়ে ঘেঁষা ঘেঁষি করে লাইনে দাঁড়িয়েছি।
এব্যাপরে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও লোকজন কোনভাবেই মানছেনা। কিছু সময়ের জন্য একটু ফাকা হলেও আবার একজন আরেকজনের সাথে লেগে যায়। মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪টি ওয়ার্ডে ১০টাকা কেজি দরে ৫কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকি ৫টি ওয়ার্ডের পর্যাক্রমে বিক্রি করা হবে।
চাল নিতে আসা লোকজনের এমন ঘেঁষা ঘেঁষি দৃশ্য দেখে আতংকিত সচেতন মহল। তারা বলছেন অসহায় মানুষের প্রতি সরকারের এই সহযোগিতামূলক কাজে সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলে হয়ত বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এই দৃশ্যে আতংকিত অনেকের মনে প্রশ্ন , উপকার করতে গিয়ে বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে না তো ?

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ডিলারদের মাধ্যমে চাল বিতরণ ও বাজার তদারকিসহ বাজার ব্যবস্থার সার্বিক অবস্থার মনিটরিং করেছেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি।
বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের তাহিরপুর সদর বাজার,আনোয়ারপুর,ইসলামপুর,বাদাঘাট,চাঁনপুর,জয় বাংলা,শ্রীপুর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে চাল বিতরণের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সময় উপস্থিত সবার উদ্দ্যোশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক পরামর্শ দেন ইউএনও।
এসময় তিনি বলেন,নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিক্রি করা,জরুরি কাজ ব্যতীত বাজারে ঘোরাঘুরি না করা,দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা,খাদ্য মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি না করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি না করা,বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা,পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ দেন।
এসময় বাজার কমিটির সভাপতি,সম্পাদক স্থানীয় সাংবাদিক,গন্যমান্য ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বুধবার দিনব্যাপী ৪৫ মে.টন জিআর এর চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব চাল বিতরণ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ৬২ মে.টন জিআর এর চাল, নগদ ১ লক্ষ টাকা, ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়। তবে বুধবার দিনব্যাপী ১০ কেজি করে ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মধ্যে জিআর এর চাল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রহিমপুর ইউনিয়নে ৮ মে.টন, পতনঊষার ইউনিয়নে ৫ মে.টন. মুন্সীবাজার ইউনিয়নে ৪ মে.টন, শমশেরনগর ইউনিয়নে ৪ মে.টন, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৪ মে.টন, আলীনগর ইউনিয়নে ৪ মে.টন, আদমপুর ইউনিয়নে ৫ মে.টন, মাধবপুর ইউনিয়নে ৩ মে.টন. ইসলামপুর ইউনিয়নে ৩ মে.টন ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ৫ মে.টন।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলোটের জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে বন্যা দূর্গতের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন সিলেটে এক্সিভিটিভ নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্যাট অাশরাফুল হক, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত নাজরাতুন নাঈম, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ মাইনুল জাকির, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন সহ নেতৃবৃন্দরা ত্রান বিতরনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলার নিজপাট, দরবস্ত ও চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদে বন্যা দূর্গতদের মধ্যে চাউল বিতরন করেন৷
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল অাহমদ বলেন টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারনে তৃতীয় দফায় বন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধনের অাশংঙ্কা পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে৷ ইতোমধ্যে বন্যা দূর্গতদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাত্রদের মধ্যে চাল বিতরন করা হয়েছে৷ তিনি অারও বলেন জেলা প্রশাসকের কাছে অারও ত্রানের জন্য অাবেদন করা হয়েছে৷

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলোটের জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে বন্যা দূর্গতের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিসি মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, জৈন্তাপুর  মডেল থানা অফিসার ইনর্চাজ খান মোঃ মাইনুল জাকির সহ নেতৃবৃন্দরা। এছাড়া উপজেলার নিজপাট, দরবস্ত ও চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদে বন্যা দূর্গতদের মধ্যে চাউল বিতরন করা হয়৷
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল অাহমদ বলেন টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারনে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধনের অাশংঙ্কা পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে৷ ইতোমধ্যে বন্যা দূর্গতদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাত্রদের মধ্যে চাল বিতরন করা হয়েছে৷ তিনি অারও বলেন জেলা প্রশাসকের কাছে অারও ত্রানের জন্য অাবেদন করা হয়েছে৷ ত্রান সামগ্রী পৌছালে অচিরেই বন্যাতদের মধ্যে তা বিতরন করা হবে৷

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে অসহায় গরীব ও দুস্থ ৩ হাজার পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) দুপুর সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ পৌরসভা প্রাঙ্গণে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

পৌরসভার মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, উপজেলা বিআরডিভি চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল প্রমুখ। বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন ও আনসার শোকরানা মান্না, কমলগঞ্জ প্রেসকাব সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ জুয়েল আহমেদ জানান, সকলে যেন ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ৪৪ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্ধ করা হয়। পৌরসভাধীন ৯টি ওয়ার্ডের অসহায়, গরিব ও দুস্থ ৩ হাজার পরিবারের মাঝে প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

অতি দারিদ্র্যের জন্য সরকারের নেওয়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় এই চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে যখন তাদের ক্ষেতেই পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ঠিক সেসময় ভারত থেকে হাজার হাজার টন চাল আমদানি করা হচ্ছে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আমদানিকারক ও ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষকরা। সরকারের মন্ত্রীরা যখন বিদেশে চাল রফতানির কথা বলছে ঠিক সে সময় হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিকে অনেকে হাস্যকর বলছেন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলিতে পণ্য খালাসকারীদের উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে এ স্থলবন্দর দিয়ে গত দেড় মাসে ভারত থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল ঢুকছে হিলি বন্দর দিয়ে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-অর রশিদ হারুন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত থেকে এখন যে চাল আসছে তা আতপ চাল। প্রতি কেজি ভারতীয় চালের দাম পড়ছে ২২ টাকা। এ অবস্থায় সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংগ্রহ অভিযানে চালের মূল্য ঠিক করেছে ৩৬ টাকা।

‘উদ্বৃত্ত ধানের এলাকা’ বলে পরিচিত দিনাজপুরে এখন বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫০০-৫৫০ টাকায়। কৃষকরা বলছে, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসানেই ধান বিক্রি করছেন। কারণ প্রতিবিঘায় ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮-১৯ হাজার টাকা। সেখানে ধান হয়েছে ৩৪ মণ। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ১৭ হাজার টাকার মতো। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক।

ধানের বাজার নিয়ে একই অভিযোগ সিলেটের হাওর অঞ্চল বা ফেনীর গ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকদের।

কৃষি অর্থনীতিবাদরা বলছেন, এ বছর বাংলাদেশে ধান উৎপাদন বাড়লেও ব্যাপক হারে চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না। বোরো ধানের এ ভরা মৌসুমে চাল আমদানি করায় কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এতে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখুনি আমদানি বন্ধ না হলে কৃষকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।পার্সটুডে

নড়াইল প্রতিনিধিঃ “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” এ শ্লুোগানকে সামনে নিয়ে নড়াইলে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা দরে হত দরিদ্রদের মাঝে চাল বিক্রীর উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে তুলারাম ইউনিয়নের তুলারামপুর বাজারে সদর উপজেলা খাদ্য অফিসের আয়োজনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। উদ্বোধন রবিবার হলেও জেলার সব জয়গায় আজ সোমবার থেকে চাল বিক্রী শুরু হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, তুলারামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোঃ হায়দার আলী লিটু,সংশ্লিস্ট বিভাগের কর্মকর্তাগন, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় জেলার মোট ৩৯ ইউনিয়নের ৮০ জন ডিলারের মাধ্যমে ৩৪,৫০৪ জন হত দরিদ্রকে প্রতি মাসে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল দেয়া হবে, এ জন্য প্রতিমাসে ১০৩৫.১২০ মেঃটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য নড়াইল সদরে- ১৩ টি ইউনিয়ন- হত দরিদ্র-৮৪৫৯ ডিলার-২৫ বরাদ্দ-২৫৩.৭৭০, লোহাগড়ায়- ১২ টি ইউনিয়ন- হত দরিদ্র-১৫৮৪১ ডিলার-৩২ বরাদ্দ-৪৭৫.২৩০,কালিয়ায়-১৪ টি ইউনিয়ন- হত দরিদ্র-১০২০৪, ডিলার- ২৩ বরাদ্দ-৩০৬.১২০ ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc