Monday 26th of October 2020 06:26:29 PM

অবশেষে জিতে গেলো তাফিদার বাবা মা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫ বছর বয়সী শিশু তাফিদা রাকিবের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। খুলে ফেলা যাবে না তার লাইফ সাপোর্ট। চিকিৎসার জন্য তাকে ইতালিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেওয়া যাবে না বাঁধা। বৃহস্পতিবার লন্ডনের উচ্চ আদালতের বিচারক রয়েল লন্ডন হাসপাতালকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন।

রয়েল লন্ডন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে কোমায় থাকা তাফিদার আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, তাফিদার আর সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার জন্য পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। রায়ে বিচারক ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ইইউভুক্ত অন্য একটি রাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা গ্রহণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আমি আশা করি, এই স্থানান্তর অবিলম্বে ঘটবে। এনএইচএস ট্রাস্ট, ইতালির গ্যাসলিনি হাসপাতাল বা অন্য যে কোনো হাসপাতালকে তাফিদার চিকিৎসা সেবা দিয়ে যেতে হবে।

বিচারক রায়ে আরও বলেন, চিকিৎসা পেশায় জড়িতদের অবশ্যই নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রেখে প্রতিটি আলাদা রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রায়ের উপসংহারে বিচারক ম্যাকডোনাল্ড বলেন, চিকিৎসার জন্য ইতালিতে নিয়ে যাওয়া তাফিদার মা-বাবার পছন্দ। সন্তানের জীবন ও তার ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা তাদের অভিভাবকীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব চর্চা অবশ্যই তারা করবেন।

এদিকে, উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এনএইচএস ট্রাস্ট আপিল করবে কি-না তা জানা যায়নি। রায় ঘোষণার পর তাফিদার আইনজীবী ব্যারিস্টার ডেভিড লক কিউসি বলেন, এ রায়ে তাফিদার মা-বাবা অনেক বড় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলেন।

এদিকে এনএইচএস ট্রাস্টের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার কেটিগলপ কিউসি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হয়তো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রায় ঘোষণার আগে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাফিদার পক্ষে আন্দোলনরত আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সিটিজেন গো’ এক মানববন্ধন করে। সেখানে রায় বিপক্ষে গেলে এনএইচএস যাতে আর আপিলে না যায় তার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে ‘সিটিজেন গো’র সমন্বয়ক ক্যারোলিন ফেরো বলেন, আমরা ছোট্ট মায়াবী শিশু তাফিদার বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষায় লড়াই করছি। এ লড়াই শুধু তাফিদার মা-বাবার সন্তান রক্ষার লড়াই নয়, এ লড়াই চিকিৎসক কর্তৃক জীবন হরণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানবিক মর্যাদা রক্ষার লড়াই। এই ইস্যু শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার ইস্যু নয়, এটি হিউম্যান ডিগনিটি রক্ষার ইস্যু। এই আন্দোলন শুধু তাফিদার অধিকার রক্ষার আন্দোলন নয়, বরং বর্তমান ও অনাগত প্রজন্মের স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষার লড়াই।

মেডিসিন কনসালটেন্ট ড. ফিলিপ হাওয়ার্ড বলেন, একজন রোগীর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব। জীবন হরণের অনুমতির জন্য আদালতে যাওয়ার এমন ঘটনা আমার দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনে দেখিনি। জীবন বাঁচানোর চেষ্টা না করে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ অমানবিক। মানববন্ধনে স্থানীয় কাউন্সিলর ও কমিউনিটি নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

৫ বছর বয়সী তাফিদা রাকিব চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথায় ব্যথা অনুভব করে। এর একটু পরেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে স্থানীয় নিউহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বলেন, তাফিদার ব্রেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তার মাথায় অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে কোমায় রয়েছে সে। ডাক্তাররা বলছেন, তাফিদার আর সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হলো তাকে শান্তিতে মরতে দেওয়া।

কিন্তু তাফিদার মা সেলিনা রাকিব বলে আসছেন, তার মেয়ে এখন আগের চেয়ে ভালো এবং সে দিন দিন সুস্থতার দিকে যাচ্ছে। তারা মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ইতালির জেনোয়ার গ্যাসলিনি চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চায়। কিন্তু রয়েল লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ইতালির হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছিলেন না।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৩এপ্রিল,সানিউর রহমান তালুকদার, নবীগঞ্জ থেকে: বাবার বড় স্বপ্ন ছিল দ্বিতীয় পুত্রকে ইউরোপ পাঠিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল! তা আর পুরণ হলনা। বাবাকে বাচাঁতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছিনে ফেলায় চিরতরে বিদায় নিতে হলো জামিলের। তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন ও সহকর্মীদের কাঁদিয়ে সে এখন এখন পরপারে। জামিলের সাথে আর ফোনে কথা হবে না, দেখা বা আড্ডা কিছুই হবেনা সহপাঠিদের। নির্মমভাবে কুপিয়ে জামিলকে যে বা যাহারা হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন তার পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজন, সহকর্মী, শুশীল সমাজ সহ সর্বস্থরের লোকজন। অপর দিকে তার ভাই সৈয়দপুর মাদ্রাসার আলীমে অধ্যায়নরত কোরআনে হাফেজ এবারের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল মওদুদ আহমদ। কিন্তু মা-বাবা, ভাই-বোনের আত্মচিৎকারে জামিলের মতো মওদুদ ও বাবাকে বাচাঁতে এগিয়ে আসলে দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে মওদুদ তার ভাইয়ের শোকে হাউমাউ করে কাদঁছে ও বারবার অজ্ঞাণ হচ্ছে। এ যেন এক খড়ার উপর মরার গা। যেটা মানবতার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

জানাযায়, গত শুক্রবার গভীর রাত অনুমান আড়াইটার দিকে আউশকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মোস্তফা আহমদের বাড়ি মংলাপুরে ডুকে অস্ত্রধারী একদল দূর্বৃত্ত পাকা দালান বাাড়ির কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মাওলানা মোস্তফা আহমদ এর রুমে ডুকে তাকে এলোপাতারি মারপিট শুরু করে। এসময় তার স্ত্রী সালেহা আক্তার হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে অন্যান্য রুমে ঘুমিয়ে থাকা তার পুত্র জামিল আহমদ সিলেট লিডিং ইউনির্ভাসিটির অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্র জামিল আহমদ (২৫), সৈয়দপুর মাদ্রাসার আলীমে অধ্যায়নরত মওদুদ আহমদ (২০), আউশকান্দি দি লিটল ফ্লাওয়ার জুনিয়র হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র মাসুদ আহমদ (১৪) এগিয়ে আসলে তাদেরকেও অস্ত্র দিয়ে বেধরক কুপিয়ে আহত করে তাদের বাবাকে পেটাতে থাকে। অর্ধয্য হয়ে একপর্যায়ে তাদের বাবাকে রক্ষা করতে ডাকাতদের সাথে পাল্টাপাল্টি আক্রমন চলে। এতে সংঘবদ্ব ডাকাতদল ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপাতে তাকে।

প্রায় ৩০/৩৫মিনিট সময় ডাকাতদের সাথে চলে তাদের তিন ভাইয়ের পাল্টাপাল্টি হামলা। একপর্যায়ে জামিল মুখোশপড়া দূর্বৃত্তদের মূখোশ টান মেরে খুলে ফেলায় জামিলকে তাদের বাড়ির উটানে নিয়ে বেধরক প্রহার করে। ভাই জামিলের চিৎকার শুনে অপর দুই ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরকেও অস্ত্র দিয়ে বেধরক প্রহার করায় এতে তারা ৩ সহোদর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটি পড়ে। এর পর জামিলকে মৃত ভেবে দূর্বৃত্তরা চলে যায়। তার মা ও বোনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্বার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামিল আহমদকে মৃত ঘোষনা করেন। অপর আহত ২ সহোদর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে মাওলানা মোস্তফা আহমদ এর কন্যা সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর ছাত্রী তামান্না আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, আমার পিতা ও ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা ও লুটপাট করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তামান্না আক্তার আরো জানায়, তার বাবার একটি টাকার সাইড ব্যাগ লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। আমার বাপ-ভাইকে আমাদের চোখের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা এটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা এমন কথা বলতে বলতে সে অজ্ঞাণ হয়ে পড়ে।

জামিলের মাতা সালেহা আক্তার পুত্র হত্যার নির্মম ঘটনার বিবরন দিয়ে পুত্রের শোকে বার বারই মুর্ছা যান। এবং তিনি তার ছেলে জামিল হত্যাকারীদের শাস্তি দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের বাড়িতে  ডাকাতরা ডুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার সহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর পরও শান্ত হয়নি। তবে, এবার আমার কলিজার টুকরা জামিলকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিল। আমি এর বিচার চাই।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসির এস.এম আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মামলা হয়েছে। ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ হৃদয় বিধারক মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম সামছুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের মাতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭/৮জন কে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc