Monday 26th of October 2020 01:00:53 PM

এস এম সুলতান খান চুনারুঘাট থেকে: হবিগঞ্জ চুনারুঘাটে পুরাতন মরা খোয়াই নদীর সরকারী ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলাবাসী এ নদীটি প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারের দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশসহ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেলে অবশেষে জেলা প্রশাসন নদীটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রেহাই দিতে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছেন।
 সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১০টায় পৌরশহরের পাকুড়িয়া, বড়াইল মৌজা সমূহের নদীর উভয় তীরে মধ্যবাজার ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসনের একটি টিম। আগামী কয়েক দিনের ভেতরে সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মরা খোয়াই নদী উদ্ধারে ছিলেন আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানাসহ চুনারুঘাট থানার এসআই মোসলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই নিজ-নিজ উদ্যোগে নিজেদের স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলছেন।
সরকারি উদ্যোগে ভাঙলে জরিমানা গুনতে হবে এ আশঙ্কায় তারা নিজ উদ্যোগেই স্থাপনা ভেঙে নিচ্ছেন। সুত্র জানায়, নদীর পুরোনো অংশটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়লে তা দখল করে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দারা। এতে দখল-দূষণে নাব্যতা হারিয়ে রীতিমতো অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে পুরাতন মরা খোয়াই নদীটি। যেন যৌবন হারিয়ে নিঃস্ব। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা ফসল আবাদের সময় এ নদী থেকে পেত পর্যাপ্ত পানি। ছিল দেশীয় মাছের প্রাচুর্য। উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর দুই পাড় অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনাসহ নির্মাণ করা হয়েছিলো দোকানপাঠ এবং বাসা বাড়ি।
আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পুরাতন মরা খোয়াই নদী উদ্ধার। আমরা সকলের সহযোগিতায় এ কার্যক্রমে এবার হাত দিয়েছি। আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় এটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারব।

চুনারুঘাট(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সদর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা খোয়াই নদী, উপজেলাবাসীর সুবিধার্থে এরশাদ সরকারের আমলে এই নদী শহরের তিনশত গজ পূর্বে খনন করে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে নদীর পূর্বের অংশ মরা নদীতে পরিণত হয়। সেখান থেকেই এই নদীটির নাম হয় মরা খোয়াই নদী। বর্তমানে মরা খোয়াই নদীটি এখন দখলদারদের কবলে পরিণত হয়েছে।

প্রতিনিয়তই চলছে মরা খোয়াই নদী দখলের মহোৎসব। পাওয়া তথ্য মতে, বড়াইল, পশ্চিম পাকুড়িয়া, গুচ্ছগ্রাম সহ চুনারুঘাট সদরের মরা খোয়াই নদীর আশপাশের বাসিন্দা ও উপজেলার বিভিন্ন স্হান থেকে প্রভাবশালীরা এসে মাটি ভরাট করে অবৈধ ভাবে স্হাপনা ও দোকানপাট নির্মাণ করছেন। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মরা খোয়াই
নদীর দুই তীর পৌরশহরের অংশ দখল নিয়ে কিছু লোক অবৈধ স্থাপনা ও দোকান নির্মাণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে তারা এসব জমি দখল করে রেখেছে। অনেকেই আবার এসব জমি অবৈধভাবে বেচাকেনা করছে এবং দখল করে দোকানপাট ভাড়া দিচ্ছেন।
বসন্তকাল আসলেই নদী দখলে মেতে উঠে প্রভাবশালী দখলেরা। এই সময় এলেই মরা নদীতে জলাশয় থাকে না। যে কারণে দখল করতে সুবিধা হয়। যে যার মত মাটি ভরাট করে দখল করছে।  উপজেলা প্রশাসনের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় দখলের কবলে এই মরা খোয়াই নদী। যার ফলে সরকার হারাতে বসেছে সরকারি খাস জমি। গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়, নদী ভরাটে সহযোগিতা করছেন রাজনৈতিক নেতারা ও প্রভাবশালী মহল।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট পৌর মেয়র মোঃ নাজিম উদ্দিন শামসু সাংবাদিকদের জানান,আমরা নদী দখল মুক্ত করতে হবিগঞ্জ ডিসি মহোদয়ের নিকট অনুলিপি প্রেরণ করেছি এবং ইউএনও মহোদয় কে নিয়ে উচ্ছেদের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই আমরা মরা নদী দখল মুক্ত করে ইকোপার্ক এবং পৌর মার্কেট গড়ে তুলবো।

এস এম সুলতান খান,চুনারুঘাটঃ চুনারুঘাটের রাজারবাজার খোয়াই নদীর বাধ ও পুলিশ ফাঁড়ির স্থান পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ। আজ শুক্রবার  দুপুর ২টায় তিনি এ স্থান গুলি পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্ম কর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল, সহকারী  কমিশনার  (ভূমি) স ম আজহারুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনর্চাজ নাজমুল হক ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সন্জু।
বন্যা হলেই খোয়াই নদীর পানিতে প্লাবিত হয় চুনারুঘাট উপজেলার  রাজারবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ।খোয়াই নদির বাধ নির্মানের দাবীতে সম্প্রতি আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ কিঃমিঃ বাঁধ নির্মাণের জন্য  খোয়াই কূল পরিদর্শন করেতে আসেন তিনি। অচিরেই এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
এ ছাড়াও তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও পরিকল্পিত স্থান পরিদর্শন করেন।

এম এস জিলানী আখনজী,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলগাও-হাসারগাঁও গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের লাঘব কমাতে খোয়াই নদীর দুই পাশের বাসিন্দাদের পারাপাড়ের জন্য একটি নৌকা প্রদান করা হয়েছে। (১৫ সেপ্টেম্বর) শনিবার গোলগাঁও-হাসারগাঁও গ্রামের জনসাধারণের মাঝে নৌকা হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের বন ও পরিবশে বিষয়ক উপ-কমিটির নির্বাহী সদস্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরুণ সমাজকর্মী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

এতে করে এখন নদীর দুই পাশের বাসিন্দার সহজে পারাপাড় হতে পারবে। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার সৈয়দ সুমন বলেন, চুনারুঘাটের সদর ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করতে তাদের জন্য একটি নৌকা উপহার দিলাম। এতে করে এই এলাকার মানুষ নদীর দুই পারের মানুষ সহজে যাতায়ত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমার সামন্য টাকায় বানানো নৌকা যদি মানুষের কিছু দুর্ভোগ কমাতে পারে এতে আমি অনেক আনন্দ পাই।

অন্তত নিজ জন্মস্থানের মানুষের সেবা করতে পেরেছি। আমি কোন নেতা হওয়ার জন্য কাছ করি না। নেতাতো বানানোর দায়িত্ব আসমানের যিনি বসে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। তিনি উপর থেকে সব ঠিক করে দেবেন। আমি মানুষের ভালাবাসা পেয়েছি। সব সময় তাদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকে আজীব থেকে কাজ করে যাব। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও খোয়াই নদীর উপর একটি ব্রীজ না থাকা মানুষের কষ্টের শেষ ছিল না।

এই এলাকার মানুষের নৌকা দিয়ে পারাপাড় হওয়া লাগত। দীর্ঘদিন ধরে নদীর উপর নৌকা না থাকা বিকল্প রাস্তায় চলা চল করতে হয়। এতে মানুষের জন দুর্ভোগের শেষ ছিল না। একদিকে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হত, অন্য দিকে সময়ও নষ্ট হত। একটি নৌকার কারনে জনদুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। গোলগাঁও-হাসারগাঁও গ্রামের মানুষ ব্যারিষ্টার সুমনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শংকর শীল,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় খোয়াই নদীতে গোরাঙ্গ লাল দাস চৌধুরী (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গোরাঙ্গ লাল দাস চৌধুরী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার হরেন্দ্র লাল দাস চৌধুরীর পুত্র।

২৮ জুলাই শনিবার বেলা ১.৩০ মিঃ সময়ে উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় খোয়াই নদীতে গোরাঙ্গ লাল দাস চৌধুরীর মরদেহ ভেসে আসতে দেখতে পান স্হানীয় লোকজন। তৎক্ষণাৎ স্হানীয়রা চুনারুঘাট থানা পুলিশ কে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোরাঙ্গ লাল দাস চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

চুনারুঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজমিরুজ্জামান সত্যতা স্বিকার করেছেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মে,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ      হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩০গ্রামের মাঝখানের খোয়াই নদীর উপর পাকা সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে চলাচলে একমাত্র ভরসা।

৩০টি গ্রামের শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। দুই ইউনিয়নের  গ্রামবাসীর দুঃখের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই সাঁকো।

সরেজমিন দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের চরনূর আহমদ,লেঞ্জাপাড়া, বড়চর, এতবারপুর, কলিমনগর, আলাপুর, জগতপুর, বাতাশর, রতনপুর, হামুয়া, চর হামুয়া, সুদিয়াখলা, বাগুনিপাড়া এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের উত্তর চর হামুয়া, দক্ষিণ চর হামুয়া, হাতির তান, লস্করপুর, মশাজান, শুলতানশী, নোয়াগাও, বাতাশর, বনগাও, সুঘর, চর হামুয়া, হামুয়া,গঙ্গানগর আদ্যপাশা, কটিয়াদি  গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে পারাপাড়।

গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়, কলেজে, মাদরাসায়, যাতায়াত করে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, ওই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার লোক জীবনের তাগিদে ও দৈনন্দিন কাজে যেমন যাতায়াত করে তেমনি উক্ত দুই ইউনিয়নের কৃষক কৃষি কাজের জন্য সাঁকোটি ব্যবহার করেন।

একদিকে যেমন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তেমনি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা স্বীকার হতে হয় এই সাঁকোতে। স্থানীয় জনতা প্রতি বছরই এই সাঁকো মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ এবং দৈনন্দিন কর্মসংস্থানের কারণে সাঁকো পেরিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রিসহ রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এলাকাবাসীর প্রাণের  দাবি এমতবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীর। তাদের দাবি ওই খোয়াই নদীর  ওপর সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে নদীর দুই পাড়ের হাজার মানুষের জীবনযাত্রা।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নির্বাচনের সময় জনপ্ রতিনিধিরা প্রতিশ্র্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তা বাস্তবায়ন করে না। হয়নি তাই এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় এই বাঁশের সাঁকো স্থাপন করে। চর হামুয়া  গ্রামের রফিক আলী বলেন, আমাদের চাষাবাদের জমিসহ খোয়াই নদীর ওপারে হওয়ায় এই সাঁকো দিয়ে ফসল আনা-নেয়া করতে হয়। প্রতিদিনই এখান দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্কুলে যাতায়াত করে।

উত্তর চর হামুয়া  গ্রামের শফিক মিয়া জানান, এই বাঁশের সাঁকো দুই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষ দুঃখ প্রকাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই দেখছি খোয়াই নদীতে বন্যার সময় নৌকা পারাপাড় এবং  কম পানিতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলতে হয়েছে। কবে চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদীতে ব্রিজ হবে তা জানি না। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে উভয় ইউনিয়নের লোকজনই উপকৃত হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মে,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিকটবর্তী চর হামুয়া গ্রামের খোয়াই নদীর চর থেকে অজ্ঞাত এব যুবক(২৮) লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ মে) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নিকটবর্তী ভোর সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামের কেয়াঘাট নামকস্থানে খোয়াই নদীর চরে যুবকের লাশটি পরে দেখে স্থানীয় লোকজন।

পরে এ খবর চড়িয়ে পরলে ৮/১০টি গ্রামের লোকজন এসে যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, রাতের আধারে যুবককে কেউ হত্যা করে খোয়াই নদীর চরে ফেলে দিয়েছে। গ্রামবাসী হবিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি নিয়ে যায়। সদর থানার ওসি ইয়াছিনূল হক জানান, যুবকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাটানো হয়েছে।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

“এলাকাবাসীর দাবী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলেই খোয়াই ষ্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ষ্টেডিয়ামে রূপান্ত করা”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪ডিসেম্বর,এম এস জিলানী আখনজীঃ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক পিপি ও এ অ লের কৃতি সন্তান এডভোকেট এম আকবর হোসেন জিতু বলেছেন, ফুটবলকে এগিয়ে দিতে কাজ করছে সরকার। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন পেয়েছে পূর্ণাঙ্গতা। যা আর কোন সরকারের আমলে হয়নি। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়া, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ দেশের সকল ক্ষেত্রে সমভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৯৯৬ইং সনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর, প্রয়াত মাননীয় সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদের বদৈন্যতায় ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে আমি রাজার বাজারের ঐতিহ্যবাহী খোয়াই ষ্টেডিয়াম শুরু করেছি। তিনি এছাড়াও বলেন আজকাল প্রায়ই দেখা যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জে এ ফুটবল খেলা অনেক জনপ্রিয়, তাই এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলেই মাননীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে যেন খোয়াই ষ্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ষ্টেডিয়ামে রূপান্ত করা হয়।

তিনি গতকাল শনিবার বিকেল ৩ টায় উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজার খোয়াই ষ্টেডিয়ামে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্ত্য ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথাগুলো বলেন। উক্ত টুর্নামেন্টের ডনার ও বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু, টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন মিরাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রমিজ উদ্দিন, গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খাঁন, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু তাহির মহালদার, রাজার বাজার বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, গাজীপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ তাজুল ইসলাম, গাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মালেক মাষ্ঠার, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মানিক সরকার, উপজেলা মেম্বার সমিতিতর সভাপিত দুলাল ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, রাজারবাজার বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ আল আমিন, পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হান্নান, এম এ ওয়াহিদ ভূইয়া,সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার রাজনৈতিক নেতাকর্মী,এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। খেলার ধারা বর্ণনায় ছিলেন শিক্ষক কাজী আব্দুল মান্নান মহসীন মান্না ও সাংবাদিক আজিজুল হক নাসির।

উদ্বোধনী খেলায় অংশ নেয় সুনাচং বাসুল্লা একাদ্বশ বনাম গোছাপাড়া আমুরোড একাদ্বশ। খেলায় সুনাচং বাসুল্লা একাদ্বশ ৫-১ গোলে গোছাপাড়া আমুরোড একাদ্বশকে হারিয়ে বিজয়ী হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪ডিসেম্বর,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরের মরা খোয়াই নদী রক্ষা করতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমা’র হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে চুনারুঘাট নাগরিক সমাজ। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমা’র হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন চুনারুঘাট নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল, চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল হোসেন লিটন, শফিউল আলম শাহীন, হুমায়ূন কবীর মিলন, এস.এম মিজানুর রহমান, বশির আহমেদ মাস্টার, আমিনুল ইসলাম সুজন, অনুপম দেব জোটন ও শরীফ আহমেদ। জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমা চুনারুঘাট নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দকে মরা খোয়াই নদী যাতে রক্ষা করা যায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯নভেম্বর,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মরা খোয়াই নদীর দুই ব্রিজের আশপাশে ময়লা – আবর্জনা ও কচুরিপানা পচে দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দূর্ভোগে পরেছেন দুই ব্রিজের যাতায়াতকৃত মানুষেরা। যাতায়াতকৃতরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরেই পরিষ্কার করা হতো কচুরিপানা। গত ৩/৪ বছর ধরে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয় না। কচুরিপানায় মরা খোয়াই নদী ভরপুর হয়ে গেছে। তার মাঝে নিয়মিত ফেলানো হচ্ছে সারা বাজারের ময়লা -আবর্জনা। যে কারনে কচুরিপানা পচে দূর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে।
দূর্গন্ধের কারনে নিয়মিত যাতায়াতকৃত মানুষেরা শ্বাস – নিশ্বাস বন্ধ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ময়লা – আবর্জনা ও দূর্গন্ধের কারনে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষেরা। উক্ত মরা খোয়াই নদীর দুই ব্রিজের আশপাশে ময়লা- আবর্জনা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য সচেতন মানুষেরা দাবী জানিয়েছেন।
এব্যাপারে চুনারুঘাট পৌর মেয়র মোঃ নাজিম উদ্দিন শামসু জানিয়েছেন, ময়লা আবর্জনা ফেলানোর মত নিদিষ্ট কোন জায়গা নেই। যথা শিগগিরই ময়লা- আবর্জনা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২১অক্টোবর,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃতিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিবার সকাল ১০ টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা পয়েন্টে এর পরিমাপ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ সময় হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি ছিল বিপদসীমার ২০০ সেন্টিমিটার ওপরে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এমএল সৈকত জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর শনিবার রাত ১২টার পর থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। তবে বাল্লা সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে পানি বাড়ার গতি স্থির রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খোয়াই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শহরের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কচুরিপানা পচে ও ময়লা-আবর্জনায় দূর্গন্ধের সৃষ্টি

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২২আগস্ট,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরশহর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদী খোয়াই। পৌরশহরবাসী ও বাজারে সুবিধার্থে ২/৩ শত গজ পূর্ব দিকে খনন করে খোয়াই নদী নেওয়া হয়। ফলে নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। পরিত্যক্ত মরা খোয়াই নদীটি বর্তমানে দখল বাজদের কবলে। দিনদিন দখল হচ্ছে এই নদী। শুধু কি তাই ! চুনারুঘাট পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা এই নদীতে ফেলা হয়। তার মাঝে নদীতে কচুরিপানায় ভরপুর।ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা পচে মারাত্মক দূর্গন্ধ ও মশা-মাছির সৃষ্টি হচ্ছে। দূর্গন্ধের কারণে ওই মরা খোয়াই নদীর আশপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানপাট সহ দু’ব্রিজের যাতায়াত কৃত মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ যেন দেখার কেউ নেই!
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন,কচুরিপানা প্রতি বছর বছর পরিষ্কার করা হতো। বর্তমানে ৩/৪ বছর ধরে কচুরিপানা পরিষ্কার হয় না। ফলে কচুরিপানা ভরে গেছে মরা খোয়াই নদীটি। যে পরিমাণ কচুরিপানা যেন এর উপর দিয়ে মানুষ হেটে যেতে পারবে। অন্য দিকে কচুরিপানা ও ময়লা – আবর্জনায় দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। যদি কচুরিপানা ও ময়লা – আবর্জনা পরিষ্কার না করা হয়। তাহলে বিভিন্ন রোগব্যাধি আক্রান্ত হতে পারে মানুষেরা। তাই সচেতন মহলের দাবি যথা শিগ্রই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার প্রয়োজন।
এবিষয়ে চুনারুঘাট পৌর মেয়র মোঃ নাজিম উদ্দিন শামসু কে জানানো হলে তিনি জানিয়েছেন, ময়লা – আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত কোন স্থান নেই। তাই এখানে ফেলানো হয়। আমরা কিছু দিনের মধ্যে নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে।

একউন্নয়ন কর্মী বলেন-এই মরা নদীকে এলাকার অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য মাছ চাষের উপযোগী করে সরকার প্রচুর রাজস্ব আদায় করতে পারে,এর জন্য ভাল স্থানীয় নেতৃত্বের প্রয়োজন।তাতে বেকারত্বও কমে যেত পরিবেশ ও ভাল থাকতো।

এব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিরাজাম মুনিরা জানিয়েছেন, যথা শিগ্রই নদী দখল মুক্ত করা হবে ও দখল বাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৮এপ্রিল,চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার খোয়াই সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধায় সাহিত্য সংসদের অস্থায়ী কার্যালয়ে কবি মোঃ আবুল বশীর বাঙ্গালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি অপু চৌধুরী।

কবি মহিবুর রহমান জিতুর স ালনায় বক্তব্য ও আবৃত্তি উপস্থাপন করেন কবি এস এম তাহের খাঁন, কবি কামাল আহমেদ, কবি মোহাম্মদ মতিউর রহমান, সাংবাদিক কবি নুরুল আমীন, কবি ইউনুছ আকমাল।

বক্তব্য রাখেন কল্যান কুমার দেব পিন্টু, হাফিজুর রহমান বাবুল, মাস্টার শফিকুল আলম, মনিরুল হক রকিব, জহিরুল ইসলাম ও মিলন ভূইয়া প্রমূখ।

 হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওড় গুলোর ধানী জমি তলিয়ে যাচ্ছে,কাঁদছে কৃষক!

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৬এপ্রিল,শংকর শীল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রায় ১৯ দিনের বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জ, বানিয়াচঙ্গ হবিগঞ্জ সদর,উপজেলার ভাটি অংশের ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিনরাত হাওরের ফসল রক্ষায় কাজ করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ বাধগুলোতে তারা নিজের উদ্যোগে মাটি ভরাট করছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোন সহায়তা করছেন না। হবিগঞ্জের খোয়াই নদীসহ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কালনী, কুশিয়ারা ও ভেড়ামোহনা নদীতে গত ৪৮ ঘন্টায় ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিপদসীমার হবিগঞ্জে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর এক ফুট পানি বাড়লেই বাধ তলিয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমি। পাশাপাশি আশপাশের হাওরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) কাকাইলছেও ইউনিয়নের মাহতাবপুর এলাকায় বাধের উপর দিয়ে পানি হাওরে ঢুকে হাওরের জমি তলিয়ে গেছে। কৃষকরা তাৎক্ষণিক বাধটি বাধেন। পানি আরো বাড়লে বাধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, উপজেলার নিচু এলাকার অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার সাতগাঁও বাধ, বছিরা নদীর খালের বাধ, কাটাগাঙ্গের বাধা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়া জানান, কৃষকরা যে আশা নিয়ে তাদের জমিতে ফসল ফলিয়েছিলেন সে ফসল আজ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মাহতাবপুরে বাধের উপর দিয়ে পানি উঠলে তাৎক্ষণিক কৃষকরা বাধটি বাধলেও বুধবার বাধটি ছুটে গেছে। এতে কাকাইলছেও শিবপাশা ইউনিয়নসহ বানিয়াচঙ্গ উপজেলার মুরাদপুর পৈলারকান্দি, সুজাতপুর ইউনিয়নের নিচু জমিগুলো তলিয়ে গেছে। তিনি স্থানীয়ভাবে বাধগুলো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বুধবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং ইকরাম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢলের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। অনেকে কৃষকরা তাদের কাচাঁ জমি কেটে ফেলেছেন। ইকরাম গ্রামের সামছুর রহমান জানান, এবার আমি ৮০ কের জমিতে বোরো ধান চাষ করছিলাম। কিন্তু ৬০ কের জমি পানিতে তলি গেছে। আর মাত্র ২০কের জমি বাকি রয়েছে। পানি বাড়লে এ জমিগুলো কাটতে পারবো না। তিনি বলেন-ওই এলাকার কাতিয়া, হুগলী, জিনারজুড়ী, হিজলীসহ বেশ কয়েকটি হাওরের সম্পন্ন সফল তলিয়ে গেছে। সরকারের কাছে একটাই দাবি আমাদের সফল যাতে রক্ষা পায় সে দিক বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার। কুমড়ী গ্রামের বাসিন্দা শচীন্দ্র কলেজের ছাত্র মাহফুজুল ইসলাম জানান, তাদের ৫ একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া এলাকার শত শত হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আজমিরীগঞ্জের নোয়াগরের কৃষক শাহজাহান মেম্বার জানান, কাটাগাঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না হওয়ায় পলি পড়ে তা ভরে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাওর হুমকিতে পড়ে যায়। এছাড়া বেড়ি বাধ না থাকায় ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে কি-না বলা মুশকিল। তিনি সরকারের কাছে খাল খনন ও বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানান।
কৃষক রেনু মিয়া জানান, এই ফসল হল তাদের একমাত্র অবলম্বন। যদি ফসল রক্ষা করা না যায় তাহলে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ দায় হয়ে পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় নলাইর হাওর,
কোদালিয়া হাওর, ঝিনুয়া হাওর ও মাকালকান্দি হাওরের ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ দিচ্ছেন।নোয়াগাওড় হাওরে অনেক কৃষককে কাঁচা ধান কেটে নিতে দেখা যায়।
কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তার বেশ কিছু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সেগুলো তিনি কেটে আনছেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য। গফুর মিয়া জানান, বৃষ্টি আসার আগেই যদি বাধ নির্মাণ করা যেত তাহলে জমির ফসল রক্ষা করাএসম্ভব হত। কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এই হাওরে তার ৮ একর জমি রয়েছে। এবার ধান পাকার আগেই জমি তলিয়ে গেছে। ফলে এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না।
কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে দুই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু পানিতে পুরো হাওরই তলিয়ে গেছে।কৃষক সুমন মিয়া জানান, ধানে সবে রঙ ধরেছে। এর মাঝেই তলিয়ে গেছে।এগুলো কেটে আনলে গরুকেও খাওয়ানো যাবে না। সবুজ মিয়া জানান, তিনি ৯ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।জমির সামনে দাঁড়ালে চোখ জুড়িয়ে যেতো। কিন্তু সর্বনাশা বানের পানি তার সব আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে দিয়েছে।রাত সোয়া ১১টার দিকে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বাল্লা এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এ হিসেবে খোয়াই নদীর পানি ও কমে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাধ রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, যদি বাঁধ রক্ষা না করা যায় তাহলে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হবে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছিল। কিন্তু টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমি হেক্টর জমির ফসল
নষ্ট হয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান জানান, আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে করে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, লাখাই উপজেলার হাওরগুলোতে পানি এসেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে এবং আজমিরীগঞ্জের কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মাহতাবপুর এলাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

অপরদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামের কৃষক সোহেল তালুকদার  আমার সিলেট প্রতিবেদককে জানান,”সিলেট থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বড় হাওড়ের হাজার হাজার একর ধানের জমি পানির ধীরে ধীরে চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে,এখনও ধান পাকেনি,কাটার কোন সুযোগ নেই তিনি আরও জানান গত চার বছর ধরে অষ্টগ্রাম বড় হাওড়ের কৃষকরা কখনো শিলায় কখনো অসময়ে বন্যার কারনে এলাকার একমাত্র জীবিকার মাধ্যম বোরো ধান হাড়িয়ে দিশেহারা।তিনি আরও বলেন আমাদের ক্ষতির প্রচারও নেই”।
এদিকে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪মার্চ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সদর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা খোয়াই নদী, উপজেলাবাসীর সুবিধার্থে এরশাদ সরকারের আমলে এই নদী শহরের তিনশত গজ পূর্বে খনন করে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে নদীর পূর্বের অংশ মরা নদীতে পরিণত হয়। সেখান থেকেই এই নদীটির নাম হয় মরা খোয়াই নদী।

বর্তমানে মরা খোয়াই নদী এখন দখলবাজদের কবলে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই চলছে মরা খোয়াই নদী দখলের মহোৎসব।

জানাযায়, বড়াইল, পশ্চিম পাকুড়ীয়া, গুচ্ছগ্রাম সহ চুনারুঘাট সদরের মরা খোয়াই নদীর আশপাশের বাসিন্দা ও উপজেলার বিভিন্ন স্হান থেকে প্রভাবশালীরা এসে মাটি ভরাট করে অবৈধ ভাবে স্হাপনা ও দোকানপাট নির্মাণ করছেন। ওই এলাকার নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বসন্ত কাল আসলেই নদী দখলে মেতে উঠেছে প্রভাবশালী দখলবাজরা। এই সময়ে এলেই মরা নদীতে জলাশয় থাকে না। যে কারণে দখল করতে সুবিধা হয়। যে যার মত মাটি ভরাট করে দখল করছে।

কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় দখলের কবলে এই মরা খোয়াই নদী। যার ফলে সরকার হারাতে বসেছে সরকারি খাস জমি।

গভীর অনুসন্ধানে জানাযায়, নদী ভরাটে সহযোগিতা করছেন রাজনৈতিক নেতারা ও প্রভাবশালী মহলরা। দখলবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের নজরদারি ও খবরদারি নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc