Friday 30th of October 2020 07:07:14 PM

আলী হোসেন রাজন.মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে খাসিয়া পানের দর আকাশ চুম্বী বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি এলাকা অধ্যুষিত ও পানের ভান্ডারখ্যাত মৌলভীবাজার। এ অসময়ে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা হতাশ হয়েছেন।

ক্রেতারা বলেছেন পানের বাজারে সিন্ডিকেট কাজ করছে। প্রতি বছরের মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পানের দাম বেড়ে যায়। , মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় ৭০টি পান পুঞ্জি রয়েছে। এসব পুঞ্জি থেকে পান ক্রয় করে পাইকারেরা রাজধানীসহ দেশ-বিদেশে বাজারজাত করে থাকে।

এর মধ্যে লাউয়াছড়া পান পুঞ্জি,শ্রীমঙ্গলের নিরালা পুঞ্জি, কুলাউড়া উপজেলার ফানাই পুঞ্জি, রবিরবাজার নুনছড়া পুঞ্জি ও রাজনগর উপজেলার ইনাই পান পুঞ্জি অন্যতম। প্রায় ২শ বছরের পুরোনো পান এক প্রকার লতা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ, যা পাহাড়ি এলাকার অরন্যে বৃক্ষের উপর ভর করে বেড়ে উঠে। একটি পান গাছ ২শ থেকে ৩শ পান পাতার জন্ম দিতে পারে। এসব পান তুলে নিলে আবার নতুন করে কুঁিড় দেয়া শুরু করে।

শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে গাছ থেকে পান কুঁড়ি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এ কারণে এ ক’মাস খাসিয়া জাতের এসব পান তেমন একটা বাজারে দেখা যায়না। তখন ছুঁই ছুঁই কর দর বাড়ে। পরবর্তীতে বৈশাখ মাস থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পান কুঁড়ি দিয়ে বাড়তে শুরু করে। একটি পান মোঠা আকার ধারণ করে পুর্ণরূপ নিতে মাস-দেড়-এক সময় লাগে। জৈষ্ঠ্য মাসে পান তার সরূপ ধারণ করে মোঠা হলে পানির দামে পাইকারী বাজারে বিক্রি করে খাসিয়ারা।
চলতি বাংলা বছরের আশ্বিন-কার্তিক মাসে হঠাৎ করে দর বাড়াতে খাসিয়া সিন্ডিকেট, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পান চাষীরা বলছেন, এ বছর পান উৎপাদন কম হওয়াতে দাম বেড়েছে। এবার বৃষ্টিপাত না হওয়াটাই পানের দাম বাড়ার প্রধান কারণ। প্রতি ২০ কান্ডায় ১ কুড়ি পান এখন ২ হাজার থেকে ২২শ টাকায় আমরা বিক্রি করছি। পান উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রতি কুড়ি ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়।

আদী কালের এসব পান ভান্ডারখ্যাত ও খাসিয়া এলাকার পান পুঞ্জির নেতাকে বলা হয় মন্ত্রী। এখনো সেই মন্ত্রীদের দখলে খাসিয়া পুঞ্জি।

পান জুম,বাগান ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শংঙ্কা

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর(সিলেট)প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে পান সুপারী চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে জৈন্তাপুরের খাসিয়া পরিবার। নিজেদের জীবন ও পান-সুপারী বাগান নিয়ে শংঙ্কা দিন দিন বেড়ই চলছে।
সরেজমিন ঘুরে সিলেটরে জৈন্তাপুর উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের অন্তগত সীমান্তবর্তী ১২৯২-১২৯৩ আন্তর্জাতিক পিলার সংলগ্ন ভিতরগোল গ্রামের ১৩টি খাসিয়া পরিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট হতে প্রায় ৬৫ একর ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রায় ২০ বৎসর যাবত নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে পান-সুপারী, কমলা, কাঠাল সহ বিভিন্ন সাইট্রাস ফলের বাগান সৃজন করে আসছে। সম্প্রতি বাগান গুলো এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শংঙ্কাং রয়েছে নিরিহ পরিবার গুলো। বাগানের মালিক অনুক খাসিয়া এবং অবসর প্রাপ্ত লামনীগ্রাম আদর্শ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবিন শিক্ষক প্রদীপ নাইয়াং এর সাথে আলাপকালে তারা জানান- আমরা শান্তি প্রিয় জনসাধারণ কাহারো সাথে ঝগড়া বিবাদ বা ফ্যাসাদ করতে রাজী নই।

সরকারের নিকট হতে পতিত পাহাড়ী টিলা রকমের ৬৫ একর ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রায় ২০ বৎসর যাবৎ নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাগান সৃজন করেছি। সম্প্রতি এসব বাগান হতে যে ফলন পাচ্ছি তাতে বিনোয়োগের অর্থ উত্তোলন করতে আরও অন্তত ১৫ বৎসর সময় লাগবে। নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে দিনানিপাত করছি। সব সময় মনকে সান্তনা দেই এই ভেবে নিজেরও বাগান আছে। এই বাগানের উপর নির্ভর করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন যাপন করতে পারব। সম্প্রতি আমাদের এই বাগান গুলো একটি মহলের নজর কাড়ে তারা বিভিন্ন ভাবে বাগান গুলো ধ্বংস করে আমাদের বিতাড়িত করতে চেষ্টা করছে।

গেল বৎসরের অক্টোবর মাসে আমাদের স্বর্গীয় মলয় খাসিয়ার বাগানে দৃবৃত্তরা প্রবেশ করে প্রায় ৫ শতাধিক পান গাছ কেটে ফেল। তৎকালিন সময়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর হতে খাসিয়া পরিবার গুলো নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন দিন দিন জুম চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এহেন কারনে জৈন্তাপুর উপজেলা হতে ভারত, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও কিংবা দেশের অন্যান্য স্থানে চলে যাচ্ছে এই সম্প্রদায়ের লোকজনেরা। বর্তমানে তাদের সৃজিত বাগান হতে বিভিন্ন মৌসুমে দুবৃত্তরা সুপারী, কাঠাল, আনারস সহ গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন দেশে এরকম হতে থাকলে শান্তি প্রিয় খাসিয়ারা বাগান সৃজনে দুরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে রোগ বালাইর সাথে যুদ্ধ করে যেখানে এক একটি বাগান সৃজিত হওয়ার পর দৃবৃত্ত্বদের থাবায় আমাদের সবকিছু ধংশ হয়ে যায়। তার কারনে খাসিয়রা দিন দিন জুম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।

জুম চাষে সরকারী সুযোগ সুবিধা, আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা, নিরাপত্তার বিষয়টি ভাল ভাবে দেখা হলে অন্তত নিজের চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি জৈন্তাপুরের জুম চাষ দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে এবং পতিত অনাবাদি জমিতে নতুন নতুন বাগান সৃজন হবে। তাদের এক একটি বাগানে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হতে ২৫ জন করে শ্রমিক কর্মসংস্থান রয়েছে। তারা মাসে সর্বনিম্ন ১০-১৫ হাজার টাকা করে উপাজন সক্ষম হচ্ছে। তারা নিরাপত্তার বৃদ্ধি এবং বাগান রক্ষার জন্য সংশ্নিষ্ট বর্ডারগার্ড বাহিনী বিজিবি এবং পুলিশ বাহিনীর সহযোগতা কামনা করেন।

 

 

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫মার্চঃ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় বন-পাহাড়ে খাসিয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস।খাসিয়া আদিবাসীদের পান চাষ এ দেশের সমতল অঞ্চলের পান চাষের চেয়ে ভিন্ন। খাসিয়া আদিবাসীরা সিলেট অঞ্চলের বন-পাহাড় এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে আদিপদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বনগাছে বহু যুগ থেকে পান চাষাবাদ করে আসছে।

পানকে খাসিয়া ভাষায় “পাথা” বলে থাকে। আর এ পান শুধু খাসিয়া আদিবাসীরাই চাষাবাদ করছে বলে সবার কাছে খাসিয়া পান বলে পরিচিত।খাসিয়া পুরুষরা পান জুমে লতানো পানগাছের পরিচর্যা এবং বছরে একবার গাছের ডালপালা ও পাতা ছেঁটে দেয় এবং ছাঁটানো ডালপালা ও পাতা পানগাছের গোড়ায় দিয়ে থাকে। ডালপালা ও পাতা পচে প্রাকৃতিক জৈব সার তৈরি হয়।

বর্তমানে কেউ কেউ বাজার থেকে জৈব সার ক্রয় করে নিজেদের পান জুমে বেশি ফলানোর আশায় ব্যাবহার করে থাকে।খাসিয়া পুরুষরা লু-উ নামে (মই) এক ধরনের বাঁশের মই দিয়ে পান তুলে থাকেন।পান তোলার সময় এরা সাথে পান সংগ্রহ করার জন্য ঝুড়ি রাখে,ঝুড়ির ভেতরে পান তুলে রাখে এবং খাসিয়া পুরুষরা পান সংগ্রহ করে জুম থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে।আর খাসিয়া নারীরা ঘরে বসে পান গুছিয়ে(কান্তা বা ছলি বানিয়ে) বিক্রয় করে থাকে। খাসিয়া আদিবাসীরা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। তাই পরিবারে নারীদের অধিকারই বেশি।

১২টি পান পাতায় এক গুছি আর ১২টি গুছিতে এক কান্তা এবং ১২ কান্তায় এক কুড়ি। তাদের নিজেদের মধ্যে নারী শ্রমিকও আছে, তারা শুধু নিজের পুঞ্জিতে পান গুছি করে। এক কুড়ি গুছি করলে পারিশ্রমিক বাবদ ৩৫-৪০ টাকা পেয়ে থাকে।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির গ্রামপ্রধান ফিলাপথমী(খাসিয়া মন্ত্রী) বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে খাসিয়া আদিবাসী নারীরাই এ এলাকার বাজারে নিয়ে নিজেদের পান বিক্রয় করত। বর্তমানে স্থানীয় বাঙালি ক্রেতারা খাসিয়া পুঞ্জিগুলোর বাড়িতে বাড়িতে এসে পান ক্রয় করে নারীদের কাছ থেকে।

খাসিয়া পানপাতায় সমতল অঞ্চলের পানের চেয়ে ঝাঁজ বেশি। খাসিয়া আদিবাসীরা পান জুমে কাজের সময় শরীরে ছোটখাটো ঘা হলে রক্ত বন্ধ করার জন্য বুনোওষুধ হিসেবে পানপাতা ব্যবহার করে থাকে।বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের জন্য পানের উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে পানের মূল্যও কম হয়ে থাকে।

কুড়িপ্রতি ৪০০-৫৫০ টাকা আর শুকনো মৌসুমে পানের উৎপাদন কম হওয়ায় কুড়িপ্রতি ২৫০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পানের মূল্য অনেক কম।খাসিয়া পান বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং এ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ভ্রমণ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখকঃশ্যামল দেব বর্মা। 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc