Sunday 25th of October 2020 07:42:56 AM

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামে রাজিব দওের পুকুরে বিষ ফেলে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। মঙ্গল বার (৪ আগষ্ট) ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ সদর ইউপির মুরাদপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানান,বুধবার (৫ আগষ্ট) সকালে পুকুর পাড়ে গেলে দেখতে পান মাছ মরে পানির উপর ভাসছে। এতে রাজিব দওের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। কে বা কারা আমার ক্ষতি সাধনের উদ্দ্যেশে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।

রাজিব দও বদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রাজিব দও জানান,আমার কারো সাথে মনোমালিন্য নেই।স্হানীয় লোকজন বলেন,রাজিব দওের ক্ষতি করার জন্য কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।আমরা তার নিন্দা জানাই।

এম ওসমান, বেনাপোল :  যশোরের শার্শার উপজেলার সব মাঠ জুড়েই রয়েছে সোনালি ফসল পাকা ধান। আর কয়েকদিন গেলেই এই আমন ধানে গোলা ভরবেন কৃষকরা। ফুটবে তাদের মুখে হাসি। কত আশাই-না ছিল কৃষকদের। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব এক নিমিষেই সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। জমির ধান শুয়ে পানির নিচে যাওয়ায় তাদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। ধান নষ্ট হবার আশঙ্কায় সোনালি স্বপ্ন এখন ফিকে হতে চলেছে কৃষকের।
বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় সব মাঠেই আমন ধান শুয়ে পানিতে তলিয়েছে।
রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া, কায়বা, গোগা, শার্শা ও নাভারনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার দুপুর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত শার্শা এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আর শনিবার রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি বয়েছে ঝড়ো হাওয়া।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে সব মাঠে। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার সব এলাকায় চাষকৃত ধানের শতকরা ৯০ ভাগ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ধান শুয়ে পানির নিচে চলে গেছে।
শার্শার পাশ্ববর্তী শালকোনা গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। এখন সব শুয়ে পানির নিচে চলে গেছে। কী করে সারের দাম শোধ করব, খাবো কী।বেনাপোল ভবেরবের গ্রামের কৃষকেরা বলেন আমাদের মরণ ছাড়া কোনো পথ নেই।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, বুলবুলের প্রভাবে দুই দিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০ ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে গেছে। যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে পড়ে যাওয়া ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। সব ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৬জুন,বেনাপোল থেকে এম ওসমান:  বেনাপোল স্থল বন্দরে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ভারতীয় ব্লিচিং পাউডার বোঝাই একটি ট্রাক আগুনে পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে ওই ট্রাকের পাশে থাকা টায়ার বোঝাই অন্য একটি ভারতীয় কাভার্ডভ্যানেরও ক্ষতি হয়েছে। আগুনের তাপে কাভার্ডভ্যানে থাকা কিছু টায়ার পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্দর ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারত থেকে একটি ব্লিচিং পাউডার বোঝাই ট্রাক (ডাব্লিউবি ৬১-৮৫৭৭) বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালের দিকে যাওয়ার পথে মোবাইল স্ক্যানারের সামনে পৌঁছালে সেটিতে আকস্মিক ভাবে আগুন ধরে যায়। এ সময় পাশে থাকা ভারতীয় টায়ার বোঝাই অপর একটি কাভার্ডভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের তাপে কাভার্ডভ্যানে থাকা টায়ার গলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখায় সে প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। প্রায় পৌনে একঘণ্টা পর বেনাপোল ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা এসে ৪৫ মিনিট ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষণে ট্রাকে থাকা যাবতীয় মালামাল পুড়ে ও পানিতে ভিজে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি বন্দর ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তদন্তের পরে তা জানা যাবে। তিনি বলেন, আগুন লাগার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই তা আয়ত্বে আনা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ জুন বন্দরে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আর গতবছর এ বন্দরের ২৫ নং শেডে আগুন লেগে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। ২২ দিনের মাধায় ফের বন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় শঙ্কিত আমদানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬মে,নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইলে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে গাছ পালা, ঘরবাড়ি, মৌসুমী ফল এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কয়েক হাজার গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে গেছে ও উপড়ে গেছে গাছ, কাঁচা ও আধা পাকা ঘর পড়ে গেছে, উঠতি বোরো ফসল এবং আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার (৫ মে) সন্ধ্যায় ও রাত ২টার দিকে জেলার ওপর দিয়ে প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপি কাল বৈশাখী ঝড় এবং বৃষ্টিপাত হয়।

এ ঝড়ে জেলার প্রায় প্রত্যেক গ্রামে হাজার হাজার গাছের গাল ভেঙ্গে যায় এবং গাছ উপড়ে পড়ে। কয়েক’শ কাঁচা ও আধা পাকা ঘরের টিন ও বেড়া পড়ে গেছে। এছাড়া উঠতি বোরো ধানের গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে এবং জমিতে কাটা ধানের ওপর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে আম ও লিছু ঝরে গেছে।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসরণ অদিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেছেন, প্রায় ৭০ ভাগ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে। যদি আর কোনো দূর্যোগ না হয় এবং পানি টেনে যায় তাহলে বোরো ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২মেঃকমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃকমলগঞ্জের ইসলামপুরে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গৃহপালিত গরু ছাগল,আসবাবপত্র,কাপড়চোপড়,স্বর্ণালংকার,মুল্যবান কাগজপত্র ও নগদ টাকাসহ বসতঘর। পবিত্র শবেবরাতের দিন মংগলবার (১মে) রাত দেড়টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরি গ্রামে ছয়ঘরি প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন কাঠমিস্ত্রী মিলন আহমেদের বসতঘর পুড়ে যায়।

বুধবার সকালে সরজমিন গিয়ে ও মিলন আহমেদ (২৬),তার ছোট ভাই হীরক আহমেদ (২৪) ও মা রোকেয়া বেগমের (৫০) সাথে কথা বলে জানা যায়,এ সময় দুই ভাই স্থানীয় নইনারপার বাজারের মসজিদে শবেবরাত উপলক্ষ্যে মিলাদ মাহফিল ও ইবাদত বন্দেগীতে ছিলেন এবং তাদের মা একা ঘরে নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ ঘরে আগুন লাগলে তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশী মহিলারা তাকে ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে মিলন ও হীরক বাড়ীতে ছুটে এসে দেখেন সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারা দুই ভাই জানান,বাড়ীতে পুরুষ না থাকার সুযোগে সম্ভবত কেউ পেট্রোল বা কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিযেছে। ফলে মুর্হুতেই একটি গাভী, তিনটি ছাগল, বিক্্িরর জন্য তৈরি করা সোফাসেট, খাটসহ অন্যান্য আসবাবাপত্র, স্বর্ণালংকার, পরিধেয় পোষাক, মূল্যবান কাগজপত্রসহ পাচঁ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মিভূত হয় ।

তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানেন না। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,এটি একটি অমানবিক ঘটনা। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকতাদির হোসেন পিপিএম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ধান, আলুসহ শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নি¤œচাপের কারনে গত শুক্রবার রাত থেকে কমলগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসময়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর আমন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১৭ হাজার ২শ’ হেক্টর। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তাছাড়া প্রায় সতেরশ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের কারনে কাটা ধান ও শুকানোর জন্য অপেক্ষমান ধান এবং আলু সহ শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
কৃষকরা বলেন, এবছর বৃষ্টিপাত, বন্যা আর জলাবদ্ধতায় গত বোরো, আউশ ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমন ফসল ঘরে তোলার এই অসময়ে বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে থাকা ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ছে। নিচু জমিতে পানি জমায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ধান কাটার পর মাড়াই দেয়া ও সিদ্ধ করা ধান ঘরে থাকায় সেগুলোতেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তারা আরও বলেন, টানা বৃষ্টিতে রোপিত আলুর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। অন্যদিকে টমেটো, ফরাস, সরিষা, পুঁইশাক, লাল শাক, লাই শাক সহ শীতকালীন শাক-সবজিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বার বার ফসল ও সবজি ক্ষেতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, এখন শুষ্ক মৌসুমে নি¤œচাপ জনিত কারনে দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাতে কৃষকদের কিছু আমন ধান ও কিছু শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এখনও পুরোপুরিভাবে নিরূপন করা সম্ভব হয়নি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭নভেম্বর,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই:  নওগাঁর আত্রাইয়ে কৃষকেরা আমন ধান ঘরে তুলে এখন ৮ ইউনিয়নের আলু চাষিরা উচুঁ ও ডাঙ্গা সব জমিতেই আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন । আগাম জাতের আলু চাষে লাভ হওয়ায় কৃষকরা কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে। কেউ জমি তৈরি করছেন কেউবা শ্রমিক নিয়ে ক্ষেতে আলু লাগাচ্ছেন। প্রতি বছর আগাম জাতের আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে আলু চাষ করছে উপজেলার কৃষকেরা। কিছু দিন আগে যে জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে প্রান্তিক কৃষক, সেই জমিতেই এখন আগাম আলুর বীজ বোপনে ব্যস্ত তারা।

আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুক’লে থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবে। গত বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ২৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এবার গত বছরের তুলনায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জমিতে বেশি পরিমান আগাম আলু উৎপাদন হবে বলে মনেকরছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ বছর আবহওয়া ভালো থাকায় এবং আলুর বীজ ভালো পাওয়ায় খুশি মনে আলু চাষে ঝেঁকে পড়েছে উপজেলার কৃষক।

উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক আজাদ সরদার জানান, এবার ১২-১৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবো। হিমাগারে বীজ রেখে বীজের মান ভালো পেয়েছি। আমার বীজের কোন সমস্যা নেই। জমিতে প্রতিদিন ১০-১২ জন কৃষক আলুর জমি তৈরির কাজ করছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছি।

উপজেলার মিরাপুর গ্রামের মোঃ মুমিন প্রাং জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এবার আশা করছি কোন ধরনের সমস্যা না হলে আলুতে খরচের চেয়ে দ্বিগুন লাভ হবে।

আলুর বীজের ক্ষতি সম্পর্কে উপজেলার মাগুড়াপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি হিমাগারে বীজের জন্য আলু রেখেছিলাম আল্লাহর রহমতে আমার বীজের কোন পচন সমস্যা দেখা দেয়নি এবং আলুর বীজ ভালো অবস্থায় পেয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অধিক পরিমান বীজ হিমাগারে রাখতে হয়। কিন্তু আত্রাই উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় আমাদের প্রতিবছর ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই আত্রাই উপজেলায় ১টি হিমাগার হলে আলু সংরক্ষণে কৃষকরা আলু চাষ করে স্বস্তি পেত। অপরদিকে আলু চাষের জন্য উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে যথেষ্ট পরিমান সহযোগিতা ও পরার্মশ দেওয়ার জন্য প্রতিদিন উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে উপজেলা সহকারী কর্মকর্তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার জানান, এবার আবহাওয়া অনুক’লে থাকায়  গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেকটি কৃষক আলু চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে আত্রাই উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। শুধু তাই নয় আলু চাষের জমিগুলো উর্ব্বরতা বেশি থাকায় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষেও এর সুফল পাবে। উপজেলার আলু চাষিরা যেভাবে আলু চাষে ঝেঁকে পড়েছে তাতে নওগাঁ জেলার মানুষের আলুর চাহিদা পূরণ করেও দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার  টন আলু রফতানি করতে পারবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২অক্টোবর,নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে ২ দিনের অতিবৃষ্টি ও দূর্যোগের কারণে প্রায়  ১৭শ ২০ হেক্টর জমির রোপা আমন,পান,মরিচ,লাল শাক, বেগুন,ডাটা,পেঁপে,মূলা,পাতা কফিসহ ফসল ও শাক-সবজির ব্যপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।এর ফলে ২০ হাজার ৫ শত ২৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসরণ  অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মুশলধারে ভারি বর্ষণে  ১ হাজার ৬ শত হেক্টর জমির রোপা আমন, ১ শত হেক্টর সবর্জি জমির, ৫ হেক্টর জমির মরিচ ও ১৫ হেক্টর জমির পান পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ২ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে ।

সদরের বাহিরডাঙ্গা গ্রামের দীপক বিশ্বাস জানান, এ এলাকার উঁচু জমিতে চাষ করা লাল শাক, বেগুন,ডাটা,পেঁপে,মূলা,ফুল কপি ও পাতা কফি এখনও পানির নিচে রয়েছে।পানি না টানলে এ সকল ফসল নস্ট হয়ে যাবে ।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসরণ অদিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আমিনুল হক বলেছেন,যদি আর কোনো দূর্যোগ না হয় এবং পানি টেনে যায় তাহলে  ক্ষতির পরিমান কমে আসবে ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫সেপ্টেম্বর,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জয়সাড়া উত্তর পাড়া গ্রামে আগুনে চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জয়সাড়া উত্তরপাড়া গ্রামের আক্কাস খাঁ এর ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোকজন আত্রাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নেভায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায় আক্কাস খাঁ ও হবিবর রহমান খাঁ (হবি মিস্ত্রীর) বাড়ির মোট চারিটি ঘর।
এ ব্যাপারে আত্রাই ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাষ্টার নিতায় চন্দ্র জানান, এ আগুনের ফলে ঘরে চাতালে রাখা ধান, ভুট্টা, পাট, নগত অর্থ, আসবাব পত্রসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,নওগাঁঃ নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর তিনটি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে ওই এলাকার বাড়ী-ঘড় পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত হওয়ায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে । ক্ষতি হয়েছে মাছ ও ফসলের ।

এছাড়া ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ সদরের সাথে রাণীনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগের একমাত্র পাকা রাস্তার প্রায় চারটি স্থানে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে ।
জানা গেছে, গত ক’দিনের একটানা ভারি বর্ষন ও উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হঠাৎ করেই আত্রাই ছোট যমুনা নদীতে হু হু করে পানি বাড়তে থাকে । পানির চাপে রবিবার রাতে রাণীনর উপজেলার কৃষœপুর সরদার পাড়া,আলাউদ্দীনের ইট ভাটা,ঘোষগ্রাম ঠাকুর পাড়া ও মেরিয়া নামকস্থানে যমুনা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায় । এতে এক রাতেই ওই এলাকার কৃষœপুর,ঘোষগ্রাম,নান্দাইবাড়ী,মালি ,আতাইকুলা,হরিশপুর কুজাইল,মেরিয়াসহ নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে ।

বন্যার পানি বাড়ী-ঘড়ে প্রবেশ করায় এলাকার উঁচু রাস্তা এবং কয়েকটি স্কুলে স্থান নিয়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্র মতে ওই এলাকার প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপিত ধান পানিতে তলে গেছে । পাশা-পাশি ওই এলাকার পুকুর ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে । বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল । এছাড়া নওগাঁ-আত্রাই পাকা রাস্তার রাণীনগর উপজেলার কুজাইল স্লুইচ গেইট,দূর্গাপুর,প্রেমতলি ও নান্দাইলবাড়ী নামকস্থানে ব্যপক ফাটল দেখা দিয়েছে।

এই সকল স্থানে কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গোনা ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এলাকার জনপ্রতিনিধসহ স্থানীয় লোকজন বালির বস্থা ভরাট করে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছেন। যে কোন সময় রাস্তা ভেঙ্গে গেলে এলাকার হাজার,হাজার হেক্টর জমির ফসলহানীসহ পানি বন্দি হয়ে পরবে প্রায় লক্ষাধীক মানুষ । বন্ধ হয়ে যাবে নওগাঁ সদরের সাথে আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগ ব্যবস্থা।
এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড: আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং সবাইকে বন্যার্তদের পার্শ্বে দ্বাড়ানোর আহ্বান জানান ।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান,ঝুঁকি পূর্ণ স্থানে ব্যাপক নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে । এছাড়া ওই এলাকায় চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে । তাছাড়া বন্যা কবলিত লোকজনের জন্য জরুরি ভাবে ৩ মেট্রিকট্রন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই-সিংড়া সড়কের মালিপকুর নামক স্থানে গতকাল সোমবার ভোর রাতে ভেঙ্গে যাওয়ায় আত্রাই-সিংড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সকল প্রকার যানবাহন  চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই এলাকার শতশত হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এদিকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

গত বেশ কয়েকদিন থেকে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে আত্রাই নদীর পানি হুহু করে বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদী এলাকার শত শত জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ গুলো হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। এ সড়কটি ভাঙ্গার ফলে উপজেলার মালিপকুর, জগদাশ, গুড়নই, শিকারপুর, মধুগুড়নই, সাহেবগঞ্জ, খঞ্জর, জয়সাড়া, নবাবের তাম্বু, পবনডাঙ্গা, বিপ্রবোয়ালিয়া, ক্ষুদ্রবোয়ালিয়া, বাকিঅলমাসহ আশপাশের এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ও মাটির কাঁচা বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ১নং শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ, জাতোপাড়া, মিরাপুর, ফুলবাড়ি, পূর্বমিরাপুর, জাতআমরুল জিয়ানীপাড়া, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের সন্নাসবাড়ি, পারশিমলা, চকশিমলা, হাটকালুপাড়া, হাটুরিয়া, দরগাপাড়া, দ্বিপচাঁদপুর, পাহাড়পুর, বড়াইকুড়ি, পাইকারা, নন্দনালী, কুসুম্বাসহ প্রায় ২৫ টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আফসার আলী প্রামানিক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছি। এটি যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, আমি সকালে নিজে গিয়ে ভাঙ্গা স্থানটি দেখেছি এবং বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন আত্রাইয়ের বন্যা পরিস্থিতি আমরা নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সকল জনপ্রতিনিধিদের সজাদ থাকতে বলা হয়েছে। কোন জায়গায় যেন বাঁধ ভেঙ্গে জনগণের জানমালের ক্ষতি না হয় এ জন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩আগস্ট,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ভেলের ভাউচারে আগুন লেগে পুরো গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা।রোববার (১৩ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন নুরপুর নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থেকে ছেড়ে আসা (ঢাকা মেট্রো ট ০২-০০০৮) ভাউচারটি তেল নিয়ে মাধবপুর যাওয়ার পথে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের নুরপুর নামক স্থানে পৌঁছলে একটি গর্তে চাকা পড়ে গেলে ঝাকুনি খেয়ে ভাউচারটিতে আগুন ধরে যায়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে তেলের ভাউচারটি।
খবর পেয়ে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস,শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘন্টা চেস্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসলেও তেলের ভাউচারটি পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জামাল উদ্দিন শাহিন ও একজন ফায়ারম্যান।তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ সাজ্জাদুল আলম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় গাড়ি ও তেলসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৩০ লক্ষ টাকা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুলাই,এম.এম সামাছুল ইসলামঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অকাল বন্যার কারণে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাড়ীঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ইত্যাদি।

এ ছাড়াও পেট্রল পাম্পে পানি প্রবেশ করে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার জ্বালানি তৈল পানিতে ভেসে গেছে। জুড়ী উপজেলার কলেজ রোডস্থ “অপুর্ব এন্টার প্রাইজ এন্ড প্যাক পয়েন্টে” এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, প্রতি দিনের মতো দোকানের মালিক সাইফ উদ্দিন রাতে তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে যান | পরদিন সকালে গিয়ে দেখতে পান বন্যার পানিতে তাঁর দোকান ডুবে গেছে | দোকানের সামনে ও ভিতরে পানি | দোকানের তালা খোলে ভিতর প্রবেশ করে দেখেন ঘরে রাখা জ্বালানী তৈল অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন ও মবিলের ড্রাম বন্যার কারণে ঘরের নিচের মাটি ধেবে গিয়ে ড্রাম গুলো উল্টো-পাল্টে পানিতে পড়ে গেছে।

এতে করে ড্রামে রাখা সবটুকু তৈল পানিতে ভেসে গেছে | এতে তার প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান | ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যাবসা শুরু করলেও হঠাৎ এ বন্যায় তাকে একেবারে নিঃস্ব করে ফেলেছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৪জুন,শিমুল তরফদার,নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ১৪ জুন। মাগুরছড়া ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি দিবস। এই দিন আসলেই শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জবাসী তথা মৌলভীবাজার জেলার মানুষের মনে ঝলঝল হয়ে উঠে সেই ভয়াবহ দৃশ্য। এক এক করে ২০ টি বছর কেটে গেলেও আদায় হয়নি ক্ষয়ক্ষতির টাকা। সেই ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল এসেছে নতুন নতুন সরকার। তবে ২০ বছর ধরে কোন এক অদৃশ্যের কারনে ক্ষয়ক্ষতির টাকা আদায় করা হয়নি যা সত্যিই রহস্য জনক। আর ২০ বছর ধওের এই দিনটি নানা ভাবে পালন করছে বিভিন্ন প্রতিবাদী সংগঠনগুলো।
১৯৯৭ সালে ১৪ জুন মধ্যরাতে মাগুরছড়ার ১নং অনুসন্ধান কূপ খননকালে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটেছিল সেখানে। বিষ্ফোরণ ও বিকট শব্দে কেঁপে উঠে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিষ্ফোরণে প্রত্যক্ষভাবে ব্যাপক ক্ষতিগস্ত হয় সংরক্ষিত বনা ল, বন ও পরিবেশের জীববৈচিত্র, আখাউড়া-সিলেট রেলপথ, ফুলবাড়ি চা বাগান, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল প্রধান সড়ক, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাড়ি ঘর, পান জুম এলাকা ও পিডিবির ৩৩ হাজার কেভি প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের। তাছাড়া পরোক্ষভাবে ২৮টি চা বাগানের ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ ছিল কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক ও আখাউড়া-সিলেট সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ ১৫ কিঃমিঃ (৩৩ হাজার কেভি) উচ্চতাপ বৈদ্যুতিক লাইন পুড়ে নষ্ট হয়। কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৫০ টি চা বাগানে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। ৬৯৫ হেক্টর বনা লের বৃক্ষ স¤পদ, পরিবেশ ও জীববৈচির্ত্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এছাড়া ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়, যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৫০ কোটি ডলার। দূর্ঘটনার এক দুই বছরের মধ্যে জানা যায়, লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্টের ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা গ্যাসের আগুনে ক্ষতি হয়। স¤পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ২০ দশমিক ৫০ একর এলাকা। স¤পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ২০ একরে ৪.৭৫ ঘনফুট গাছ-গাছালির, ৫৫ হাজার ২শ টি পূর্ণ বয়স্ক বাঁশ এবং ১ লাখ ১৫ হাজার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুড়ে গেছে। ক্ষতির পরিমান ৫ কোটি টাকা। এছাড়া ২৬ একরের বড় আকৃতির বহু সংখ্যক দামী বৃক্ষ স¤পূর্ণ ও আংশিক পুড়ে যায়। একইভাবে ৪১.৫০ একরের ২২.৮২৫ ঘনফুট গাছ-গাছালিরও আংশিক ক্ষতি ধরা হয়। সব মিলিয়ে পুড়ে যাওয়া গ্যাস, ক্ষতিগ্রস্থ বন ও পরিবেশের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি আদায়ে মার্কিন কো¤পানী সমূহের টাল বাহানায় মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরনের ১৭ বছরে ৩ টি কো¤পানীর হাত বদল হয়েছে। কিন্তু পুরো ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোন পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।
মাগুরছড়া র্ট্যাজেডির তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে আসে মার্কিন বহুজাতিক কো¤পানী অক্সিডেন্টালের খামখেয়ালিপনার, দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও ত্রƒটির কথা। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে স্থানটি রাতারাতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়।
মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ডে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ স¤পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালেরই ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের কাছে দুটি ভলিউমে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। পরে বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ স¤পদ মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ, ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও তা বিতরণের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটি সাব-কমিটিকে জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অক্সিডেন্টালের ব্যর্থতার জন্যই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কমিটির তদন্তে অক্সিডেন্টালের কাজে ১৫ থেকে ১৬টি ত্রুটি ধরা পড়ে। অক্সিডেন্টালের কর্মকর্তারা দুই থেকে তিনটি ত্রুটির বিষয়ে আপত্তি জানালেও বাকিগুলো স্বীকার করে তদন্ত রিপোর্টে সই করেন। কিন্তু গ্যাস ফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি পরিশোধ না করেই কো¤পানিটি আরেক মার্কিন কো¤পানি ইউনিকলের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ইউনিকলও কিছুদিন কাজ করার পর ফের আরেক মার্কিন কো¤পানি শেভরনের কাছে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়- মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে ছোট-বড় ৩৯টি চা বাগানের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয় ৪৬ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকা। এছাড়া বনা লের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ২ হাজার ফুট রেলওয়ে র্ট্যাক ধ্বংস বাবদ ক্ষতি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা, সড়ক পথ বাবদ ২১ কোটি টাকা, গ্যাস পাইপ লাইন বাবদ ১৩ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ লাইন বাবদ ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ১৮৬ টাকা, খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজ বাবদ ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা, বাস মালিকদের রাজস্ব ক্ষতি ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। আর বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ গ্যাসের পরিমাণ ৪৮৫.৮৬ বিসিএফ এবং এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ২৪৫.৮৬ বিসিএফ ধরা হয়। উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৪ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা।
তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও মাগুরছড়া র্ট্যাজেডির এতো গুলো বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ওই মার্কিন কো¤পানির কাছ থেকে আজও মেলেনি ক্ষতিপূরণ।
এদিকে, ক্ষতিপূরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে পরিবেশবাদীসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন। দাবি আদায়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ, মানববন্ধন, পদযাত্রা, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচির পালন করছে। এবারও বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ ব্যাপারে মাগুরছড়ার গ্যাস স¤পদ ও পরিবেশ ধ্বংশের ক্ষতিপুরণ আদায় জাতীয় কমিটি একাধিক সদস্য জানান- আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার জন্য শেভরনকে নোটিশ প্রদান ও ক্ষতিপুরণের বিষয়টি নি®পত্তির নিমিত্তে গতবার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। যতক্ষন পর্যন্ত ক্ষতিপুরণ আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আর ক্ষতিপুরন আদায় হলেও মাগুরছড়া দিবস হিসেবে পালন করা হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৩মে,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুষ্কৃতিকারীদের দেয়া আগুনে একটি মুদি (টং) দোকান পুড়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১০ মে) দিবাগত রাত আড়াইটায় উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া চা বাগানে।

জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া চা বাগানের মোড়া লাইনে গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে রাহাত মিয়া (৩৬)-র মোদী টং দোকানে আগুন ধরে যায়।  এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুনের সূত্রপাত জানা না গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানী রাহাত মিয়া বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই এলাকার মিলন মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তি  পরিকল্পিতভাবে অগ্নি সংযোগ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই  বৃহস্পতিবার বিকালে দোকানী মিলন মিয়ার নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু আগুনে পুড়ে টং দোকান ভস্মিভূত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দোকানী প্রথমে চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে অভিযোগ করার সময় কাউকে দেখেনি বলে জানিয়েছিল। এখন আবার নিরপরাধ এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করেছে।

অভিযুক্ত মিলন মিয়া শুক্রবার বিকালে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, দোকানী রাহাত কিছু দিন আগে তার (মিলনের) বাড়ির দুটি গাছ কেটে নিয়েছিল। এ নিয়ে রাহাতের সাথে তার (মিলনের) বিরোধ চলছে। একটি প্রভাবশালী মহলের ঈশারায় দোকানী রাহাত অহেতুক তাকে (মিলনকে) অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার দিয়েছে।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মে: নজরুল ইসলাম দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে টং দোকান ভষ্মিভূত হওয়ার ও থানায় লিখিত অভিযোগ গ্রহনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিন তদন্তে যাওয়া উপ-পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন বলেন, আগুনে দোকান পুড়ছে সঠিক। তবে কে কারা কারা অগ্নি সংযোগ করেছে এব্যাপারে অভিযোগকারী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc