Tuesday 20th of October 2020 11:41:40 AM

বাংলাদেশের কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে যখন তাদের ক্ষেতেই পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ঠিক সেসময় ভারত থেকে হাজার হাজার টন চাল আমদানি করা হচ্ছে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আমদানিকারক ও ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের কৃষকরা। সরকারের মন্ত্রীরা যখন বিদেশে চাল রফতানির কথা বলছে ঠিক সে সময় হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিকে অনেকে হাস্যকর বলছেন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলিতে পণ্য খালাসকারীদের উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে এ স্থলবন্দর দিয়ে গত দেড় মাসে ভারত থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল ঢুকছে হিলি বন্দর দিয়ে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-অর রশিদ হারুন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত থেকে এখন যে চাল আসছে তা আতপ চাল। প্রতি কেজি ভারতীয় চালের দাম পড়ছে ২২ টাকা। এ অবস্থায় সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংগ্রহ অভিযানে চালের মূল্য ঠিক করেছে ৩৬ টাকা।

‘উদ্বৃত্ত ধানের এলাকা’ বলে পরিচিত দিনাজপুরে এখন বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫০০-৫৫০ টাকায়। কৃষকরা বলছে, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসানেই ধান বিক্রি করছেন। কারণ প্রতিবিঘায় ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮-১৯ হাজার টাকা। সেখানে ধান হয়েছে ৩৪ মণ। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছে ১৭ হাজার টাকার মতো। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক।

ধানের বাজার নিয়ে একই অভিযোগ সিলেটের হাওর অঞ্চল বা ফেনীর গ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকদের।

কৃষি অর্থনীতিবাদরা বলছেন, এ বছর বাংলাদেশে ধান উৎপাদন বাড়লেও ব্যাপক হারে চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না। বোরো ধানের এ ভরা মৌসুমে চাল আমদানি করায় কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এতে কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখুনি আমদানি বন্ধ না হলে কৃষকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।পার্সটুডে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২নভেম্বর,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই,নওগাঁঃ  সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষকরা।কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে কৃষকেরা জমিতে হাল চাষ, চারা রোপণ, ক্ষেতে পানি ও ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার মৌসুমি নিম্ন ও লঘুচাপ সাথে করেই এসেছে হেমন্ত। অসময়ের বৃষ্টিপাত আর নানা বৈরী আবহাওয়ার সাথে লড়ছে এবার কৃষকরা। আবার সঙ্গে কড়া নাড়ছে শীত। ভোরের বাতাস কুয়াশাসিক্ত। তবুও সকল বৈরীতা কাটিয়ে উঠে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত এখন আত্রাইয়ের কৃষকরা। সবুজে সবুজে ভরে উঠছে মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি সীম গাছ, শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, করলা, পটোল, পালং ও লাল শাকসহ রকমারি শীতকালীন সবজির চারা।

তাই মাঠে মাঠে এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত কৃষকরা। কাক ডাকা ভোরে কোদাল, নিড়ানী, খাঁচি, বালতি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে এখন কৃষকরা। ক্ষেতে নেমে পড়েন সবজি পরিচর্যায়। বিকেল অবধি মাঠেই চারার গোড়ায় পানি ঢেলেই ফিরছেন সবাই বাড়ী।
তাদের কেউ দাঁড়িয়ে কোদাল চালাচ্ছেন, অনেকেই গাছের গোঁড়ালির পাশ দিয়ে ঘোরাচ্ছেন নিড়ানী, কেউবা খালি হাতেই গাছগুলো ঠিক করছেন। কেউ বা নেতিয়ে পড়া চারার স্থলে সতেজ চারা প্রতিস্থাপন করছেন, এভাবে শীতকালীন সবজি নিয়ে চলছে কৃষকের কর্মযজ্ঞ। বেড়েই চলছে কৃষকদের কাজের চাপ। ধান চাষে তেমন একটা সুবিধা করতে পারছেন না অনেক কৃষক। কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছেন না তারা। তাই রকমারি সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক।

উপজেলার বড়ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আয়েত আলী ও মাগুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। তবে সেবা ক্রটি করা যাবে না। কিন্তু রোগবালাই দমনে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করতে হয়। স্বল্প সময়েই সবজি বিক্রি উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রায় দিনই বাজারে সবজি বিক্রি করা যায়। পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়। ক্ষেতে সবজি থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের হাতে কমবেশি টাকা থাকে। যা অন্য ফসলের বেলায় সম্ভব না। এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে সবজি চাষকেই এসব কৃষকরা লাভজনক মনে করছেন।

শাহাগোলা ইউনিয়নের পকুরপাড়া গ্রামের ফুলকপি ও বাঁধাকপি রোপন এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক মোঃ ইলাহী জানান, কপির চারা রোপন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। তিনি আরো বলেন এবার আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন আশা করছি।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ কে এম কাউছার হোসেন জানান, কৃষকদের সবজি চাষে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বর্তমানে সীম, বেগুন, লালশাক, মুলা শাক, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো এর আবাদ চলছে বলে তিনি জানান। সবজি চাষে যুক্ত উপজেলার কৃষকরা এবার বেশ উৎফুল্ল। কারণ তারা প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশের জন্য এবার উৎপাদিত ফসলের ফলন ও দাম বেশ ভালো পাবেন বলে তিনি মনে করছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৭মে,গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌরশহরের নিকটবর্তী এলাকা পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ রোডের উত্তরে গুয়াগাঁও কান্দরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ফসলী জমির উপর প্রশাসনের অজান্তেই ইটভাটার নির্মাণ কার্য্য চালাইতেছেন নতুন আঙ্গিকে। জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেমটিয়া গ্রামের আকবর আলী নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তি উক্ত এলাকায় নতুন ভাটা নির্মাণ কাজ করছেন।

এ বিষয়ে গুয়াগাঁও কান্দরে পর্যবেক্ষণে দেখা যায় পাশাপাশি ৫টি ভাটার কার্যক্রম চলছে। ঐ এলাকার ধান,গম, ভূট্রা,বাগান, ফসলী জমি আবাদী কৃষকেরা জানায় আমাদের এই কান্দরে আর বুঝি ফসল ফলানো যাবেনা। যেভাবে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ হচ্ছে মনে হয় গুয়াগাঁও কান্দরে কোন আবাদী জমি থাকবে না।

সমস্ত কান্দর ইটভাটায় পরিণত হবে বলে কৃষকেরা জানায়। ঐ এলাকার আবাদী জমির মালিক ও কৃষকেরা ঐ নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৮এপ্রিল,আশরাফ আলী,জুড়ী থেকে ফিরে:এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওরের বোরো ধান অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যাওয়ার ফলে দূর্ভোগে কাঠাচ্ছেন হাওর পারের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো।

এ হাওর পারের মানুষগুলো একমাত্র বোরো ধানের ফসল গোলায় তুলে দিনাতিপাত করেন। কিন্তু অকাল বন্যায় হাওরের সকল বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। কিভাবে তারা বছরের বাকি দিনগুলো পরিবার নিয়ে বেচেঁ থাকবেন।

একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে হাওর পারের দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে নেই আর তৃপ্তির হাসি। আগে বছরগুলোতে যখন কৃষকরা নতুন ধান গোলায় তুলত, তখন কৃষকের মুখে লেগে থাকত হাসি। কৃষাণীরা ঘরে ঘরে বিভিন্ন রকমের পিটাপূলি বানাতেন। এ যেন আনন্দের এক ফোয়ারা। নবান্ন উৎসব যেন লেগেই থাকত হাওর পারের দরিদ্র কৃষকের বাড়িতে। প্রতি বছরের এ আনন্দের ফোয়ারা যেন শেষ হয়ে গেলো অল্প কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে।

সরেজমিনে জুড়ী উপজেলার হাওর পারের বেলাগাঁও এলাকায় গেলে দেখা যায় মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। কিভাবে সংসার চালাবেন, কিভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাবেন। এ নিয়ে যেন অন্ত নেই এলাকার দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে।

এব্যাপারে কথা হয় ফারুক নামের এক কৃষকের সাথে তিনি বলেন, আমাদের সকল ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অথচ এ বোরো ধান দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলত। এখন কিভাবে চলবে আমাদের এ সংসার তা নিয়ে চিন্তিত। ছেলে-মেয়েগুলোর পড়ালেখার খরচ কিভাবে চালাব। এ নিয়ে যেন চিন্তার কোন শেষ নেই।

শাহপুর এলাকায় গেলে কথা হয় শফিকুর রহমান নামের এক কৃষকের সাথে তিনি বলেন, আমাদের ২৫বিঘা জমির সমস্ত ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যা থেকে ধান বিক্রি করে আমার সারা বছরের সংসার চলত। সরকারি কোন ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছেন কিনা জিজ্ঞস করলে তিনি বলেন- সরকারি কোন ত্রাণ সামগ্রী তো এখন এখন পর্যন্ত পাইনি। এলাকার অন্য কেউ ত্রাণ পেয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তা আমার জানা নেই।

ইফসুফ নগর এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন জানান, আমাদের ৫০বিঘা জমির সমস্ত বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ আমরা এখন পর্যন্ত সরকার থেকে কোন ত্রাণ সামগ্রী পাইনি।

কবির মিয়া নামের একজন জানান, সরকার থেকে যা কিছু চাল পেয়েছি। তা দিয়ে তো আর চলবে না। একই কথা বলেন মুরাদ কবির, ইসমাঈল মিয়া, আক্কাছ মিয়া, চান মিয়া সহ আরো অনেকে।

এবিষয়ে কথা হয় জুড়ী উপজেলার ভারপাপ্ত নির্বাহী অফিসার বর্ণালী পালের সাথে, তিনি বলেন- বন্যার প্রথমে আমরা সরকার থেকে ১২টন চাল ও ৬২ হাজার টাকা পেয়ে তা কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করে দেই। ত্রাণ সামগ্রী চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় আমরা আরো ত্রাণ চেয়ে পাঠিয়েছিলাম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২০টন চাল ও ১লক্ষ টাকার ত্রাণ আসে যা এখনো নিয়মিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ চলছে হাওর পারের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে। এমনকি হাওর পারের ৩০০ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের মধ্যে আগামী ৯৮ দিন ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন- আরো ২৯.৪০ মেট্রিক টন চাল আসবে। যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এখন পর্যন্ত যারা ত্রাণ সামগ্রী পায়নি তাদেরকে উপজেলায় এসে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।

অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা হাকালুকি হাওর ও কইরকোনা বিল পানির নিছে তলিয়ে গিয়ে আবাদকৃত ৫৪৭০ হেক্টের জমির মধ্যে ৩২১৬ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে বলে জানায় মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারন অফিস।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০২এপ্রিল,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃসুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় পাজহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি,কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। এ পর্যন্ত ৬টি হাওরের কাচাঁ,আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর পরও হাজার হাজার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষায়  বাঁেধ এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায়নি।

বাঁধ রক্ষায় ফাঠল ও দেবে যাওয়া অংশে সংস্কারের কাজ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহ হাওর পাড়ে কৃষকগন দিন-রাত। চোখের সমানে বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ী ঢলে মহালিয়,ধরনারদর হাওর,টাঙ্গুয়ার হাওর,শনির হাওরের নিন্মাঅ ল সহ ছোট ছোট কয়েকটি হাওরে কষ্টের ফলানো সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ঝড়ছে কৃষকের চোখের পানি।

জানা যায়,উপজেলার ছোট বড় ২৩টি হাওরে উৎপাদিত ২শ কোটি টাকার ফসলের উপর নির্ভর করেই জীবন জীবিকা চলে হাওর পাড়ের হাজার হাজার কৃষকের। এই ফসল ফলাতে প্রতি বছরের মত এবারও কৃষকরা এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ছড়া সুদে নেওয়া ঋন নেয়। এবারও ফসল হানীর কারনে পরিশোধ নিয়ে হতাশায় দিন পার করছে হাওর পাড়ের কৃষকরা।

অভিযোগ রয়েছে-গত ২৮শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এই উপজেলার ২৩টি হাওরের বেরী বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও ৪০ভাগ কাজও শেষ করে নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ও পিআইসিগন নিজেদের খেয়াল খুশি মত বাঁধের উপর থাকা গাছ-পালা কেটে পরিস্কার না করে,বাঁধের দুই পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে কোন রকম দায় সারা ভাবে বাঁধ নির্মান করে।

নিদির্ষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি এনে,বস্তায় মাটি ভড়ে,বাঁশ দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া নিয়ম থাকলেও এখানে তা কেউ শুনে নি। এসব অনিয়মের কারনে গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে বাঁধ গুলো ভেঙ্গে যায়।

জানা যায়-উপজেলার বোয়ালমারা,শনির হাওর,মাতিয়ান হাওর,লোভার হাওর,বলদার হাওর,লালুয়া গোয়ালা বাঁধ,মেশিন বাড়ির বাঁধ,সহ বিভিন্ন হাওরের বাঁধ দেবে গেছে ও ফাঠল দেখা দেওয়ায কাঁচা,আধা পাকা বোরো জমির ধান বাধঁ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় হাওর পাড়ের বাঁধ রক্ষায় রয়েছে কৃষকগন।

উপজেলার হাওর পাড়ের কৃষকগন জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি বালির বাঁধ বাঁধ ভেঙ্গে পানি হাওরে প্রবেশ করে কোটি কোটি টাকার কষ্টের সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

গত বছরের মত এবারও একেই অবস্থা। এই ফসল ফলাতে আমরা বিভিন্ন এনজিও,ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে ঋন নিয়েছি কিভাবে ঋন পরিশোধ করব ভেবে পাচ্ছি না। সবাই সবার ধান্দা নিয়েই ব্যস্থ আছে আর আমাদের কাম শেষ।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান-হাওরের বাঁধ গুলো খুবেই যুকিপূর্ন অবস্থায় ছিল এবং এখনও আছে। বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে ও কৃষকদের সাথে কথা বলেছি। এ বছর উপজেলায় ১৮৩০০হেক্টর ধান চাষ করা হয়েছে। বাধঁ ভেঙ্গে ১০হাজার হেক্টর বোরো জমির কাচাঁ-আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-এবারও সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে হাওরের প্রতিটি বাঁধ খুবই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বাঁধ রক্ষায় আমি সর্বক্ষনেই হাওরে অবস্থান করছি। সময় মত বাঁধ নির্মান হলে এমন সমস্যা হত না। বাঁধ রক্ষায় সবাইকে নিয়ে শেষ রক্ষা বাঁধের কাজে আছি। বাঁধ নির্মান অনিয়মকারীদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন-আমি নিজে বিভিন্ন হাওরের বাঁধ রক্ষা জন্য এলাকাবাসী কে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা বাঁধ নির্মানে অনিয়ম করছেন তাদের বিরোদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন জানান,জেলার একাধিক হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও পাহাড়ী ঢলের পানি হাওরের বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবেশ করছে। হাওরের বাঁধ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc