Monday 26th of October 2020 06:16:48 PM

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জঃ   শস্য ভান্ডার খ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবী। কৃষকরা খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলতি মৌসুমে টমেটোর ব্যাপক চাষাবাদ এবং বাম্পার ফলনও হয়েছে। টমেটো, বেগুন, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ শাকসবজির চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফসলের মাঠ জুড়ে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বরবটি, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শশাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ চলছে।

তবে এসব সবজি সংরক্ষণের জন্য কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ সবজী তোলার সাথে সাথেই বাধ্য হয়ে ‘পানির দরে’ বিক্রি করতে হবে এসব উৎপাদিত ফসল। না হলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। আদমপুরের কৃষক আব্দুল মতিন,সাদেক হোসেন জোয়াদআলী বলেন, স্থানীয় বেপারীরা কমলগঞ্জ থেকে স্বল্প দামে কৃষকের শস্য কিনে ট্রাকে করে দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে বছর জুড়ে কোনো না কোনো সবজি চাষ হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গত বছর মোট সবজির চাষাবাদ হয়েছে ২২৮০ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৬৪হেক্টর জমিতে এবং গ্রাফটিং টমেটো চাষ হয়েছে ৯০ হেক্টর জমিতে।তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কেউ কেউ বারো মাসও টমেটো চাষাবাদ করেন।

এছাড়াও বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, শিম, মূলাসহ ও শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। জেলার মধ্যে কৃষি উৎপাদনে এ উপজেলা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে অধিক পরিমাণে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়।তবে সময় মতো কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে নামে মাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন।চাষীরা বলেন, যারা টমেটো বাজারজাত করছেন তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া কয়েকদিন পর যারা টমেটো বাজারজাত করবেন তারা সেভাবে লাভবান হতে পারবেন না। গাছে গাছে এখন টমেটো, বেগুন ধরতে শুরু করেছে। সেগুলো বাজারে তোলার পর দাম একেবারেই কমে যায়। এই উপজেলায় একটি হিমাগার থাকলে দাম কমে গেলে সেখানে রেখেও পরে বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল।

এ উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এ ব্যাপারে কারো নজর নেই। খাদ্য যোগানে এই অ লে কৃষি উৎপাদনে সংরক্ষণাগার দ্রুত স্থাপনে সরকারের নিকট কৃষকরা জোর দাবি জানান।
উপজেলার আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর শুধু আদমপুর ইউনিয়ন থেকেই চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার টমেটোসহ নানা ফল-ফসলাদি অন্যান্য জেলায় রফতানি হয়। আদমপুরে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা সুবিধা পাবেন। তারা সবজি উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, সারা বছরই এখানে বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে।এখানে একটি হিমাগার স্থাপন হলে কৃষকেরা যেমন তাদের উৎপাদিত ফসল নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন, তেমনি তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্যও পাবেন।কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় গ্রাফটিং টমেটো চাষের শুরু কিন্ত কমলগঞ্জেই। টমেটোসহ রবিশস্যের জন্য কমলগঞ্জ ব্যাপক পরিচিত।এসব সবজির ভালো চাষাবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। তবে এখানে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার থাকলে সেটি কৃষকদের জন্য আরও ভালো হতো এবং উদৃত্ত সবজি ভালো দামে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হতো।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক জানান,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলার প্রান্তিক চাষীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কমলগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপনের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে গুরুত্বসহকারে কথা বলেছি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ প্রতিবেদককে বলেন, মৌলভীবাজর জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে,তবে কোন উপজেলায় সেটি স্থাপন করা হবে তা এখনো সিদ্বান্ত হয়নি।

এম এস জিলানী আখনজী,চুনারুঘাট থেকেঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১নং গাজীপুর ইউনিয়নে, গ্রামের কৃষকদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) রোজ শুক্রবার বিকেলে সাদ্দাম বাজারের হাপ্টার হাওর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিক মীর জুবায়ের আলমের পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূন কবির খাঁন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফুর রহমান মহালদার, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জালাল উদ্দিন সরকার, উপজেলা মৎস অফিসার মোঃ আব্দুল মোছাব্বির, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম ও সৌরভ কবির।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালেক, স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগনেতা রফিক মিয়া সহ সকল কৃষক এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৮মার্চ,নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কৃষক প্রনোদনা প্যাকেজের অংশ হিসাবে বিনামূল্যে ৩৯০ জন কৃষকদের মাঝে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে লেঅহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে প্রধান অতিথি লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুল আমির লিটু এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ^াসের সভাপতিত্বে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেয়া বেগম, উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা প্রবীর সরকার ,সর কারি কর্মকর্তা, কৃষকগনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩৯০ জন ( ৩০০ জন আউশ ও ৯০ জন নেরিকা আউশ চাষী) কৃষকের মাঝে মোট ২৪০০ কেজি বীজ, ৭৮০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩৯০০ কেজি ডি,এ,পি সার এবং ৩৯০০ কেজি এম,ও,পি সার বিতরণ করা হবে। জন প্রতি আউশ বীজ ৫ কেজি, নেরিকা আউশ বীজ ১০ কেজি, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপিসার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০মার্চ,নড়াইল প্রতিনিধিঃ     নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় কৃষক প্রনোদনা প্যাকেজের অংশ হিসাবে বিনামূল্যে ৬৮০ জন কৃষকদের মাঝে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উপজেলা জেলা পরিষদের হলরুমে কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে প্রধান অতিথি নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে কালিয়া পৌরমেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার, উপজেলা কৃষি অফিসার সুবীর কুমার বিশ^াস ,সরকারি কর্মকর্তা, কৃষকগনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৬৮০ জন কৃষকের মাঝে মোট ৩৪০০ কেজি বীজ, ১৩,৬০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৬৮০০ কেজি ডি,এ,পি সার এবং ৬৮০০ কেজি এম,ও,পি সার বিতরণ করা হবে।
৬৮০ জনের মধ্যে ৬০০ জন উফশি আউশ চাষিকে ৫০০ টাকা এবং ৮০জন নেরিকা আউশ চাষিকে ১০০০ টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০অক্টোবর,গীতি গমন চন্দ্র রায় পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। কৃষিই সমৃদ্ধ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রবি মৌসমে কৃষি প্রণোদনা ও কৃষি পূর্ণবাসন কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ এর শুভ উদ্বোধন গত সমবার সকাল ১১ ঘটিকায় উপজেলা হল রুমে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অতি বর্ষনে ক্ষতি গ্রস্থ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ক্ষুদ্র-প্রান্তিক চাষীদের মাঝে খরিপ-১ প্রণোদনার আওতায় ১৫৪৫ জন কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ, এক কেজি সরিষা বারি-১৪ জাতের বীজ সহ রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান সার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-৩ সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইয়াসিন আলী।

এতে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইয়াসিন আলী ঠাকুরগাঁও-৩, গেষ্ট অব অনার সংরক্ষিত ৩০১ সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা, বিশেষ অতিথি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া, আ”লীগ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক, পৌর মেয়র কশিরুল আলম, উপজেলা কৃষিবিদ ও কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কৃষক-কৃষাণী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মী। কৃষিবিদ ও কৃষি কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে জানান প্রকৃত কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা ও পুর্ণবাসনের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৭এপ্রিল,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দাবী করে সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তিন শতাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে তিন শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অবস্থান করছে শুনে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক কার্যালয় থেকে বের হয়ে কৃষকদের সামনে এসে তাদের বক্তব্য শুনে। স্মারকলিপিতে  দূর্গত এলাকার কৃষক সাধারনকে রক্ষার স্বার্থে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত, লাঘাটা নদীর পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা অপসারন, খনন/সংস্কার, অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, পর্যাপ্ত পরিমানে কৃষকদের মাঝে কৃষিঋণ বিতরণ ও পূর্বের কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করার দাবি জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে মতামতসহ তিনি স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দ্রুত প্রেরণ করবেন। তার আগে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া লাঘাটা নদীর ঝোপ ঝাড় অপসারণ করে সুষ্ঠু পানি প্রবাহের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ পারভীন আক্তার (লিলি), কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল আলম, সমাজ সেবক ও ক্ষেত মজুর নেতা আব্দুল হান্নান (চিনু), লাঘাটাছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি মো: দুরুদ আলী, সহ-সভাপতি  আরজু মিয়া, সাধারন সম্পাদক মো: সিদ্দিকুর রহমান, কৃষক নেতা জসিম উদ্দীন, কাজী ফজলুল হক ও মছদ্দর আলী প্রমুখ।

“বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরণ”

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১১এপ্রিল,নিজস্ব প্রতিনিধি:  সাম্প্রতিক সময়ে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরসহ ব্যাপক এলাকার বোরো ফসল বিনষ্ট হওয়ায় কৃষকদের পূন:র্বাসন, নদী খননসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার শতাধিক কৃষক এই স্মারকলিপি প্রেরণ করেন।

পতনউষার ইউনিয়নের সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক তোয়াবুর রহমান, কৃষক নেতা ও সমাজ সেবক আব্দুল হান্নান চিনু, কৃষক মফিজ মিয়া, মসুদ মিয়া, কনু মিয়া, আনোয়ার খান সহ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের কার্যায়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষতি পূরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, বন্যা কবলিত এবং উপজেলার নি¤œা ল থাকায় আমরা সাধারণত: বোরো চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বর্ষনের ফলে অতিসম্প্রতি ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানে নদীভাঙ্গন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়।

বন্যার পানিতে কমলগঞ্জ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার একাংশের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়। ধলাই নদীসহ উজানের সমস্ত পানির শেষ ঠিকানা কেওলার হাওর। নিম্নাঞ্চলের কেওলার হাওর এলাকা দিয়ে দ্রুত পানি নিস্কাষিত না হওয়ায় বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিস্কাশনের একমাত্র খাল লাঘাটা নদীতে অসংখ্য বাঁক ও ঝোপজঙ্গলে ভরপুর থাকায় দ্রুত পানি নিস্কাষিত হতে পারছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপজেলার পতনঊষার, শমশেরনগর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নসহ নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষক সাধারনের বোরো ধান। কৃষকদের অনেকেই ঋনগ্রস্ত হয়ে ও দোকান বাকি করে বোরো চাষাবাদ ও সবজি উৎপাদন করেন। বন্যা ও ঢলের কারনে হাড় ভাঙা পরিশ্রমের বোরো ফসল ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ায় তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরিত স্মারকলিপিতে ধলাই ও লাঘাটা নদীর বাঁধ মেরামত, খনন ও দ্রুত সংস্কার করা, অতিবৃষ্টির সময় মনু নদীর স্লুইসগেট খুলে দেওয়া, বোরো চাষাবাদকালীন উজান এলাকায় পানির ব্যবস্থা করে দেওয়া, বন্যা দুর্গত এলাকা হিসাবে ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এক বছরের পুন:বার্সনের ব্যবস্থা, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধা প্রদান, কৃষি ভতূর্কির সুযোগ প্রদান, কৃষক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সুদমুক্ত ঋন প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণ করা।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৫এপ্রিল,মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকে:টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জে ১৫শ হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক প্রায় কয়েকশত কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে ধারনা করছেন অনেকেই ।
এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এভাবে প্রতিদিন বৃষ্টি হলে আরও তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, নদীগুলোতে পানি ও স্রোত বাড়ায় বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষার জন্য বস্তা দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধ এলাকায় পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া খাল ও নদীতে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে পানি আরও বাড়লে বাঁধগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৮ মার্চ থেকে উপজেলায় মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে। এতে নদ-নদী, খাল, বিলের পানি বেড়ে চলেছে। ধান পাকার আগেই কাঁচা ধানের তোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। আগের মত দেখা যায় না গোছা গোছা ধানের শীষ। অসময়ের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নদনদী ও খালবিলের পানি বেড়ে বিভিন্ন হাওর ভেসে যাচ্ছে। উপজেলার বরার হাওর, দীঘলবাকের সাতাশি বন, কসবার ফেরিসাইট, এরাবরাব নদীর চর, মখা হাওর, গুঙ্গিয়ারজুরি হাওর, সৌলাগর, লাউয়াইল বিল, আলমপুরের বরবিল, বেরিবিলসহ উপজেলার ২৫টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে।
কৃষক সাহিদ মিয়া বলেন, ‘আমার সব শেষ, এবার দুর্ভিক্ষ ছাড়া কিছুই চোখে দেখছি না।’
নবীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় লক্ষমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। এখানে অর্জিত হয়েছে ১৭ হাজার ৪০০ হেক্টর ।
জানা গেছে, নবীগঞ্জে বিএডি বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্দিষ্ট কোন দপ্তর না থাকায়,যার ফলে বিভিন্ন খাল, নালা ভরে গিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যহত হচ্ছে। এসব কারণে হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সময় মতো পানি নিষ্কাশন হলে ফসলহানি এড়ানো যেত বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. আলমগীর চৌধুরী বলেন, অকাল বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন হাওরের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দুলাল উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকার ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে হাওর উন্নয়ন ও আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন প্রকল্প জরুরী। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগী হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধিনে নদী খনন কাজ শুরুতে করতে হবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc