Monday 26th of October 2020 08:00:09 PM

ডেস্ক নিউজঃ ‘পাকিস্তানে চলে যান, এই দেশ আপনার নয়’, কলকাতায় ২২ বছরের বাসিন্দা এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে! পরপর দু’দিন তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে!

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তিনি। ২২ বছর সুনামের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পেশাগত কারণেই কলকাতার বাসিন্দা। পুলওয়ামায় গেরিলা হামলার পর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করতে থাকা কাশ্মীরী পেশাজীবীরা সমস্যায় পড়ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকটি তার পরিবারসহ অসহায় হয়ে, অপমানে শহর ছাড়ছেন!

তার ৭ ও ৯ বছরের দু’টি মেয়ে রয়েছে। তারা কলকাতার একটি প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মেয়ে দু’টিকে ক্লাসের বাকি শিক্ষার্থীরা ‘একঘরে’ করে দিয়েছে। কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলছে না। এমনকি, তাদের অভিভাবকরাও কথা বলছেন না। তাদের সঙ্গে কথা বলছে না প্রতিবেশির সন্তানরাও। এ কারণে অপমানিত হয়ে ঐ চিকিৎসক দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আপন করে নেয়া শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন!

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ চিকিৎসক ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন: ভেবেছিলাম এ শহর আমারও। কিন্তু, এখন দেখছি, তা পুরোপুরি ঠিক নয়। তাই ছেড়ে চলে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকাররক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী ঐ পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি তাদেরকে সব রকম সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: এটি নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তা করার মতো পরিস্থিতি। এটি বিভেদ সৃষ্টির জন্য লোকসভা নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে বলেই মনে হয়।

ঐ চিকিৎসকের স্ত্রী বাঙালি। পরপর দু’দিন ঐ চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার পর তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই তার বাসভবনের সামনে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন: শুক্রবার তিনি স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে আচমকা ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৬/৭ জন যুবক আমাকে ঘিরে ধরে। তারপর তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, আপনি পাকিস্তানে চলে যান। এই দেশ আপনার বা আপনাদের নয়। এখানে আপনাদের থাকার কোনও জায়গা নেই। ওটাই আপনাদের দেশ।

সেই একই দল শনিবার প্রাতঃভ্রমণে যাওয়ার সময় তার পথ আটকে তাকে একই হুমকি দেয়। সঙ্গে দেয় প্রাণনাশেরও হুমকি। তড়িঘড়ি নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন ঐ চিকিৎসক। সূত্র: এনডিটিভি।

বেনাপোল থেকে এম ওসমান : খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে সরাসরি চলাচলকারী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসে যাত্রী দিন দিন কমতে শুরু করেছে। ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৪৫৬ টি আসন থাকলেও যাতায়াত করছে ১শ’ থেকে ১২০ জন যাত্রী।

অথচ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে থাকে। দুই দেশে তেমন কোনো প্রচার প্রচারণা না থাকায় এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দুটি স্টেশনে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীদের মাঝে অনিহা দেখা দিয়েছে। তবে যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রেল কর্তৃপক্ষের রেল পরিচালনার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে যাত্রী স্বল্পতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন এ রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। তাদের বক্তব্য, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এ রুটে ট্রেন চলাচলসহ বিভিন্ন কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে।

এছাড়া ভাড়ার পরিমাণও যাত্রী স্বল্পতার অন্যতম বড় একটি কারণ। ১২০ কিলোমিটার সড়কে এসি সিটে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ ২ হাজার টাকা ও এসি চেয়ারে নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ ১ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কলকাতা যেতে ভ্রমণকরসহ খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা।

বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ছেড়ে এসে দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনায় পৌঁছে। এরপর খুলনা থেকে দুপুর দেড়টায় ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কলকাতা পৌঁছে।

এ ব্যাপারে যশোর নাগরিক কমিটি যশোর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাতেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর। গত ৭ মাসে ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। ফলে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। লোকসানের বোঝায় যেন বন্ধ হয়ে না যায় খুলনা-কলকাতার বন্ধন মৈত্রী ট্রেন।

ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত খুলনা ও কলকাতা ছাড়া কোথায়ও স্টপেজ বা টিকিট বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন রেলস্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হলে অন্যান্য স্টপেজে যাত্রী উঠানামা ও টিকিট বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এ রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী আসাদুল হক বলেন, ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি বন্ধসহ সম্প্রতি বাংলাদেশি যাত্রীদের ভারতে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাত অবস্থান বাধ্যতামূলক করায় এবং সপ্তাহে এই রুটে এক দিন বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকায় ট্রেনে করে কেউ আর যাতায়াত করতে চায় না। সপ্তাহে ২-৩ দিন ট্রেন চলাচল ও ভাড়ার পরিমাণ কমালে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রী মনতোষ বসু খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলাচলের প্রচার না হওয়া, নির্দিষ্ট দুটি স্টেশনে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীরা ট্রেন যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে মনে করেন। অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি ও স্টপেজ বাড়ালে যাত্রী বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৭ নভেম্বর খুলনা-কলকাতার মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হয়। বন্ধন এক্সপ্রেসে ১০টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার দুটি। বাকি আটটি কোচে ৪৫৬টি আসন রয়েছে। সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। গত ৭ মাসে ৩ হাজার ৪৪৫ জন যাত্রী কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ জন যাত্রী কলকাতায় গেছে। নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাত্রী চলাচল করার পরও যাত্রী সংখ্যা দিন দিন কমছে। বন্ধন এক্সপ্রেসটি সপ্তাহে একাধিক দিন চলাচল করলে এবং যশোর ও বেনাপোলের মানুষের জন্য টিকিট বিক্রি ও স্টপেজ দেয়া হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধন এক্সপ্রেসে যেসব যাত্রী সরাসরি যাতায়াত করেন, আমরা তাদের ভালো সার্ভিস দিচ্ছি। আপাতত যাত্রীসংখ্যা একটু কম। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করি। তবে ট্রেনে খরচ একটু বেশি পড়ে। খুলনাসহ আশপাশের লোকজন ট্রেনে যাতায়াত বেশি করছেন।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার বলেন, বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশির ভাগ যাত্রী হয় রোগী। না হয় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাই কাস্টমসের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সেবা দেয়া হয়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে হল রুমে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে থাকি আমরা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮নভেম্বর,এম ওসমানঃ  স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো খুলনা থেকে সরাসরি কলকাতায় ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। ১৬ নভেম্বর থেকে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল শুরু করবে বলে মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমা ল) চিফ অপারেশন সুপারিন্টেনডেন্ট বেলাল উদ্দিন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
“ওদিন কলকাতা থেকে ট্রেনটির শুভেচ্ছা যাত্রা হিসেবে দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রেলওয়ে ও টেকনিক্যাল কমিটির কর্মকর্তাদের নিয়ে আসবেন। ১৬ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিক ভাবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নিয়মিত চলাচল শুরু করবে।”
সুপারিন্টেনডেন্ট বেলাল আরও বলেন, কলকাতা-ঢাকা ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ সপ্তাহে তিনদিন চলাচল করলেও ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ আপাতত সপ্তাহে একদিন প্রতি বৃহস্পতিবার চলবে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনটিতে মোট ৪৫৬টি আসন রয়েছে। এরমধ্যে এসি চেয়ার ৩১২টি আর ১৪৪টি কেবিন চেয়ার রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯৬৫ সালের পর প্রথমবারের মতো খুলনা থেকে সরাসরি কলকাতায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে জানিয়ে যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ খুলনা থেকে কলকাতা ১৭৭ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে সময় নেবে সাড়ে চার ঘণ্টা। খুলনা রেলস্টেশন ও কলকাতার চিৎপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ সকাল সাড়ে ৭টায় কলকাতার থেকে ছেড়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা পৌঁছাবে। বেলা ২টায় আবার কলকাতার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৭জুন,এম ওসমান,বেনাপোলঃ  রোজা-গরমের মধ্যেও বেনাপোল দিয়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন পাড়ি জমাচ্ছে কলকাতায়। তাদের বড় অংশেরই উদ্দেশ্য ঈদের কেনাকাটা। চলতি জুনের শুরু থেকে কলকাতাগামী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের বড় অংশই ফিরে আসছেন লাগেজ ভর্তি পণ্য নিয়ে। ভারতীয় ভিসা সহজ হওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর, ঝিকরগাছা, নওয়াপাড়া, খুলনাসহ সীমান্ত অ লের বিপুল সংখ্যক মানুষ কলকাতায় ঈদের কেনাকাটা করায় স্থানীয় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল ও পূর্ব ভারতের প্রধান নগরী কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অল্প খরচে স্বল্প সময়ে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অনায়াসে যাওয়া যায়।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ঈদ সামনে রেখে এখন প্রতিদিন যাতায়াত করছেন ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। চলতি মাসের ১৫ দিনে ভারতে যাতায়াত করেছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৭শ’ যাত্রী। এর মাধ্যমে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। যাদের সিংহভাগ ঈদের কেনাকাটা করে ফিরছেন। এখন ঈদের কেনাকাটায় যাতায়াত বাড়লেও ক’দিন পর থেকে ঈদ অবকাশ যাপনে যাত্রী সংখ্যা আরো বাড়বে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। ঈদের ছুটির সময় এ সংখ্যা দশ হাজার ছাড়াতে পারে বলেও কেউ কেউ ধারণা করছেন। গত বছর ঈদের ছুটি ঘিরে দশ দিনে ৫০ হাজার ৬১৬ যাত্রী বেনাপোল-হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পথে যাতায়াত করেছিলেন। সে হিসেবে দিনে গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছিলেন। এ বার এ সংখ্যা যে আরো বাড়বে তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই।
চাপের সময় যাত্রীদের যাতে দুর্ভোগে না পড়তে হয় সেজন্য বেনাপোল চেকপোস্টে পাসপোর্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও রেখেছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তবে দুর্ভোগে পড়তে হয় ভারতীয় চেকপোস্টে গিয়ে। সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেখানে ইমিগ্রেশনে ধীরগতির কাজের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমনও দেখা গেছে, সকালের যাত্রীরা দুপুরে, দুপুরের যাত্রীরা বিকেলে এবং বিকেলের যাত্রীরা রাতে পার হয়েছেন। বেনাপোল বাজারের কাপড়ের দোকানি বিপ্লব রহমান এর মতে, সব শ্রেণীর মানুষের জন্য ভিসা সহজি হওয়ার কারণে সচ্ছল মানুষরা ঈদ-পুজোর কেনাকাটার জন্য ভারতের কলকাতায় চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ফিরছেন। এতে করে এদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা হারাচ্ছেন। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে।
বেনাপোল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাজারের গামেন্ট ও ছিটকাপড় ব্যবসায়ী হাজি মোহাম্মদ উল্লাহ ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল ওয়াহেদ দুদু বলেন, ‘আগে ঈদে খুব বেচাকেনা হতো। এখন এলাকার মানুষরা ঈদের কেনাকাটার জন্য কলকাতায় যাচ্ছেন। সেখান থেকে তারা জামা কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল কিনে আনছেন। এতে করে ছিটকাপড়, গার্মেন্ট এবং জুতা ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আমরা ঈদকে সামনে রেখে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করলেও কাঙ্কিত ক্রেতা পাচ্ছি না। এতে করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা থেকে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করে ফিরছিলেন বেনাপোলের বাসিন্দা আনিছুর রহমান। তিনি বলেন,’ গত ২-৩ বছর ধরে আমি কলকাতা থেকে ঈদের কেনাকাটা করছি। আমাদের জেলা থেকে ঢাকার চেয়ে কলকাতার দূরত্ব কম। যাতায়াত খরচও কম। তাছাড়া বেনাপোল ও যশোরের বাজারে গলাকাটা দাম রাখা হয়। জিন্সের প্যান্ট এখানে তিন হাজার টাকা হলেও কলকাতায় ৭০০ টাকায় পাওয়া যায়। যে জুতা বেনাপোল, নাভারন ও যশোরে ৫-৬ হাজার টাকা, তা কলকাতায় দেড় হাজার রুপিতে পাওয়া যায়। যে কারণে এখান থেকে টুকটাক কেনাকাটা করি। বাকিটা কলকাতা থেকে।’
নাভারনের আহম্মদ আলী শাহিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ভালো মানের পোশাক বা জুতা-স্যান্ডেল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে কলকাতায় গিয়ে ঈদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।’
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর শরিফ জানান, অন্যান্য মাসের তুলনায় চলতি মাসে ভারতে যাতায়াত বেড়েছে। যাত্রীদের বেশিরভাগই ঈদের শপিং করে ফিরছেন। রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড়ে ৭ হাজার যাত্রী প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৯মে,বেনাপোল থেকে এম ওসমান : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২২ মে থেকে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস চলাচল করবে। ১৫ মে এ রুটে বাস চলাচলের কথা থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় আরো এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে এ রুটে বাস চলাচল। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বেসরকারি গ্রীনলাইন পরিবহন ঢাকা থেকে এ সার্ভিস চালু করছে।

ঢাকা থেকে মাওয়ার শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি ঘাট দিয়ে বাসটি খুলনায় আসবে। সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে আসবে বেনাপোলে। পাসপোর্টের কার্যক্রম ও কাস্টমস তল্লাশী শেষে ছেড়ে যাবে কলকাতার উদ্দেশ্যে। গ্রীনলাইন পরিবহন ও বিআরটিসি’র যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহে একদিন পরপর এ বাস ঢাকা-খুলনা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি চলাচল করবে। ২২ মে সকাল ৭টার দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রীনলাইন পরিবহনের অত্যাধুনিক বাসটি উদ্বোধন করবেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এ বাসে খুলনার জন্য মাত্র ৪টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যশোর ও বেনাপোলে কোনো আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

গ্রীনলাইন পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার বলেন, মাওয়া হয়ে সড়কপথে দূরত্ব একটু বেশি হলেও সময় কম লাগবে। বাসটি ঢাকা থেকে মাওয়ায় আসবে মাত্র আড়াই ঘণ্টায়। আর ঢাকা থেকে ৮ ঘণ্টা লাগবে খুলনা হয়ে বেনাপোল যেতে। আরও দুই ঘণ্টায় সরাসরি কলকাতা। ঢাকা থেকে যে বাসে রওয়ানা হবেন যাত্রী সেই একই বাসে কলকাতা নামবেন। যাত্রাপথে কোনো পরিবর্তন করতে হবে না।

তিনি জানান, প্রতি সোম, বুধ ও শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় কমলাপুর বিআরটিসি বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাবে বাসটি। বেলা দেড়টায় বাসটি খুলনায় আসার পর যাত্রীদের খাবার ও বিশ্রামের জন্য ২০-২৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে। নগরীর রয়্যাল মোড় থেকে বেলা ২টায় বাসটি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবে। বেনাপোলে পৌঁছাবে বিকেল ৪টায়। দু‘পারের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে রাত ৮টার দিকে কলকাতার সল্টলেক করুণাময়ী আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালে গিয়ে পৌঁছবে। আর কলকাতার সল্টলেক করুণাময়ী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে। রাত ৮টার দিকে বাসটি ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

গ্রীনলাইন পরিবহনের বেনাপোল অফিসের ম্যানেজার রবীন্দ্রনাথ রায় জানান, কলকাতাগামী পরিবহনটি ৪০ সিটের। ঢাকায় ৩৬টি এবং খুলনা থেকে মাত্র ৪টি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া যশোর ও বেনাপোলে কোনো আসন নেই। খুলনা থেকে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী প্রতি ১ হাজার টাকা এবং ঢাকা-কলকাতা রুটের জন্য ১ হাজার ৭৫০ টাকা।

এদিকে কলকাতা-খুলনার মধ্যে সরাসরি অপর একটি বাস চালুর কথা থাকলেও সেটা কবে থেকে চলবে এ ব্যাপারে কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট কলকাতা-খুলনার মধ্যে পরীক্ষামূলক যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়েছিল। এর আগে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেটা বন্ধ রেখে গত ৮ এপ্রিল দুপুরে কলকাতার সল্টলেক আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে কলকাতা-খুলনা-ঢাকা রুটে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়।

১৯৯৯ সালের ১৬ জুন কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে প্রথম সরাসরি যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে চালু করা হয় বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ। ২০১৫ সালের ৫ জুন কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার মধ্যে চালু করা হয় যাত্রীবাহী বাস চলাচল। এরপর ৮ এপ্রিল খুলনা-কলকাতা রুটে আন্ত:দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ও বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৮এপ্রিল,এম ওসমান, বেনাপোল: বাংলাদেশ ও ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর পরীক্ষামূলক ভাবে চালু খুলনা-কলকাতা ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস-২’ বেনাপোল ছেড়ে গেছে। শনিবার বেলা ১টা ৫৪ মিনিটে দিলি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধন করেন। ওই সময় সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেনাপোল রেলস্টেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
উপস্থিত অন্যরা হলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, রেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, স্থানীয় সাংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান, পশ্চিমা লীয় জিএম খায়রুল আলম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম প্রমুখ।
যশোর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী বলেন, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ খুলনা স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করে। যশোর জংশনে যাত্রা বিরতি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোলের পৌঁছায়।
“খুলনা থেকে ৫টি বগি নিয়ে পরীক্ষামূলক এ যাত্রায় কোনো সাধারণ যাত্রী ছিল না। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ জন ব্যক্তি এ ট্রেনের যাত্রী হন, যার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান যন্ত্রকৌশল প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন।”
খুলনা ও কলকাতার মধ্যে নিয়মিত ট্রেন যোগাযোগ চালু ভারত ও বাংলাদেশের ‘কানেক্টিভিটিতে’ নিঃসন্দেহে বড় একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।
তিনি বলেন, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন সার্ভিস চালু ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তরকারী একটি সিদ্ধান্তের ফলে ৪৩ বছর পর আবার চালু হলো কলকাতা-খুলনার মধ্যে ট্রেনের এই সেবা। বাসের চেয়ে ট্রেনের যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক এবং সময় সাশ্রয়ী বলে বাসের চেয়ে খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস অনেক বেশি জনপ্রিয় হবে বলে মনে করেন এই মন্ত্রী।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, এই ট্রেনে বেনাপোল হয়ে সাড়ে তিন ঘন্টায় নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে রোগী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা কলকাতায় যেতে পারেবেন। এতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। আন্তর্জাতিক এই ট্রেন যাত্রায় সীমান্তে কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের ঝামেলাটা কমানোর বিষয়টি বিবচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
“এসব কড়াকড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে গেলে মানুষ অবশ্যই বিরক্ত হবেন। ট্রেনের ভেতরেই মোবাইল কাস্টমস চেকিং সেরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে ঝামেলা ও সময় দুটোই বাঁচবে।”
ঢাকা-কলকাতা রুটে আগে থেকেই চালু রয়েছে আরেকটি ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ যা সপ্তাহে চারদিন চলাচল করে।
এ ট্রেনটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে যায় শুক্রবার, শনিবার, সোমবার ও বুধবার এবং কলকাতা থেকে আসে শুক্রবার, শনিবার, রোববার ও মঙ্গলবার।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc