Thursday 3rd of December 2020 09:47:57 AM

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় নাইজারে অনুষ্ঠেয় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।বুধবার তার নাইজারের উদ্দেশে দেশছাড়ার কথা ছিল।
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৭তম সম্মেলনে যোগদানের জন্য নাইজার সফর উপলক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর করোনা পরীক্ষা করা হলে গতরাতে এ ফলাফল জানা যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না। তবে পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তবে শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ আছেন। এ কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাইজার সফর বাতিল করা হয়েছে। ওআইসি’র এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে তার যোগদানের কথা ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তথা ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দল এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া নাইজার সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের করোনা পরীক্ষা করা হলে তারও ফলাফল পজিটিভ আসে। তিনিও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের সিভিল সার্জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার তার করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবদুল মোমেন জানান, বর্তমানে তার জ্বর, গলায় ব্যথা এবং সামান্য সর্দি-কাশি রয়েছে। তিনি নিজ কোয়ার্টারেই আইসোলেশনে রয়েছেন। তিনি তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টয় জেলায় ৬জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৩জন চিকিৎসক, ২৭জন পুলিশ সদস্য, ২৯জন সেনা সদস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের ৫৩জনসহ সর্বমোট ৯৩০জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২চিকিৎসকসহ ৬২৪জন সুস্থ হয়েছেন এবং ১৩জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য,গত ৮ আগষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, মা হামিদা মোর্ত্তজা বলাকা, মামী কামরুন্নাহার কুহু এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সুমাইয়ার করোনা পজিটিভ এসেছে।

এর আগে ১৯ জুন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজা, স্ত্রী সুমনা হক সুমি এবং ছোট ভাই মোরসালিন বিন মোর্তুজা সিজার করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্স্থ্যু হয়েছেন।

এছাড়া নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএমও করোনায় আক্রান্ত হন। এখন তিনি সুস্থ।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর,(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মাধবপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোহন বাশি দাস (৭৫) নামে এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামে তিনি মারা যান।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইশতিয়াক আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোহন বাশি দাসের করোনা লক্ষণ দেখা দিলে উনাকে সিলেট নর্থইষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার মোহন বাশি দাস কে বাড়িতে নিয়ে আসলে তিনি বুধবার সকালে মারা যান। প্রশাসন ও পরিবারের লোকজনদের সহযোগীতায় লাশ সৎকার করা হয়।

এ নিয়ে মাধবপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছেন। এর আগে পৌর শহরের কাটিয়ারা এলাকার বাসিন্দা গিতা রানি নামে একজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

“জুড়ী উপজেলায় করোনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যাংক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র দাস এর সৎকার করলো শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ)  ইসলামি সোসাইটি”

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবজার জেলায় করোনায় অাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারে কাজ করছে শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটি। মুসলমানদের দাফন কাফন করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্ম সহ যেকোন ধর্মের মানুষের সৎকার কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটির ‘কোভিড ১৯’ টিম।

২৮ জুলাই মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের অমূল্য চন্দ্র দাস (৫৬), পিতাঃ মৃত অনিল চন্দ্র দাস। দুপুর ১২ টার সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।অমূল্য চন্দ্র দাস জনতা ব্যাংক জুড়ী জায়ফরনগর শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন।

শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান বলেন,অমূল্য চন্দ্র দাসের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমার টিমের জুড়ী উপজেলার টিম লিডার মৃত ব্যক্তির আত্নীয় -স্বজনের সাথে আলাপ করলে তারা আমাদের টিমের সহযোগিতা চান। আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের টিম নিয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জুড়ীতে পৌছাই।এর পর তাদের ধর্মীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শ্মশানে সৎকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে আমাদের টিম সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করে। আগামিতে মৌলভীবাজার জেলায় মানবতার কল্যাণে শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটি কাজ করে যাবে।

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সমরজিৎ সিংহ বলেন,অমূল্য চন্দ্র দাসের স্যাম্পল আমরা গত ২০ জুলাই সংগ্রহ করি এবং ২৭ জুলাই উনার পজিটিভ আসে।

নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সৎকারে সহয়তা করার জন্য শেখ বোরহান উদ্দিন ইসলামি সোসাইটি কে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন,অমূল্য চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর আমার সাথে শেখ বোরহান উদ্দিন ইসলামি সোসাইটি কতৃপক্ষ যোগাযোগ করলে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৎকার করার মৌখিক অনুমতি প্রদান করি।শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটির টিম কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই এ ধরনের মানবিক কাজ করার জন্য।

সৎকার কাজে অংশগ্রহণ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান – এম মুহিবুর রহমান,মহাসচিব মিজানুর রহমান রাসেল,(বিআইএস)
COVID-19 টিম প্রধান, মুহাম্মদ আশরাফুল খাঁন ,জুড়ী উপজেলা টিম লিডার মনিরুল ইসলাম, টিম সমন্বয়কারী সাইদুল ইসলাম মান্না,টিম মেম্বার অমিত অাল হাসান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাকিব,হাফেজ শেখ মোহাম্মদ জুবায়ের এবং সহযোগিতা করেছেন বাংলা টিভির মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন মনির।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মাঝে ভালোবাসার উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছে জুড়ী উপজেলা ফাউন্ডেশন। সোমবার (২৮/৭) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান রুহুল ইসলাম,জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, জুড়ী উপজেলা ফাউন্ডেশন সভাপতি কামরুল হোসেন পলাশ, সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান মুমিন, কুতুব উদ্দিন জসিম,সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমেদ শাহীন, অর্থ সম্পাদক সাবেরুজ্জামান সুমন,সহ অর্থ সম্পাদক জাকারিয়া খান জাকির,দপ্তর সম্পাদক সাইফুর রহমান,সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ফয়সল আহমেদ,সহ আশিকুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক ফারুক আহমেদ,শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক কাউছার আহমেদ শাওন, সহ আব্দুল্লাহ আল মাহী প্রমুখ।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:  নবীগঞ্জে আরো ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে এ রির্পোট আসে।এর আগে কয়েক ধাপে নবীগঞ্জের ১৩১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।এখন পর্যন্ত এই উপেজলায় মোট আক্রান্ত ১৩৪ জন।আক্রান্ত ৩ জনের  মধ্যে ১ জন শিবপাশা এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা, বাজকাশারা এলাকার ১ জন ও শুভেচ্ছা সেন্টার এলাকার ১ জন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য  ও প,প কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ।
নবীগঞ্জ থেকে এখন পর্যন্ত ১০৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যা থেকে ১৩৪ জনের করোনা পজিটিভ ও ৮০২ জনের করোনা নেগেটিভ রির্পোট এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্হ হয়েছেন ৮১ জন এবং ১ জন মারা গেছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের টি,এইচ,ওডাঃ আব্দুস সামাদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন,,নবীগঞ্জে প্রতিদিন বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন  না।বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাফেরা করুন।নিজের ওপরিবারের কথা ভেবে সবাই সর্তক থাকুন।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনা উপসর্গ নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে।  স্বাস্থ্য পরিদর্শক বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫ টায় নিজ বাড়িতে মারা যান।

১৩ই জুলাই সোমবার দুপুরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

মৃত্যুর ১৮ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আসা প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ ছিলেন। ওই স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নাম জগদীশ চন্দ্র দাশ(৫৯)। তার বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৭নং করগাঁও ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার চম্পক কিশোর সাহা সূত্রে জানা গেছে, জগদীশ চন্দ্র দাশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশীতে ভুগছিলেন। এছাড়া উনি দীর্ঘ দিন ধরে হাই পেশার ও হৃদ রোগে ভোগছিলেন।

গত বুধবার ভোর ৫ টায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। পরে সকাল ৯টায় উনার নিজ বাড়ির শশ্মান ঘাটে তার দাহ সম্পন্ন হয়। দাহ অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মৃত স্বাস্থ্য কর্মীর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। নবীগঞ্জ  উপজেলায় এই প্রথম কোন স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ এই পর্যন্ত আক্রান্ত আছেন ১১১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত। ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে রিপোর্টে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইশতিয়াক আল-মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় খবরে মাধবপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ তার সুস্থ্যতা কামনায় ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার করোনা সংকটের শুরু থেকেই মাধবপুর বাসীর পাশে থেকে সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করেছেন। করোনার সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবেই তাকে মনে করেন মাধবপুর উপজেলাবাসী।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, সহকারী কমিশনার ভূমির শারিরিক অবস্থা ভাল আছে। তাঁর মনোবল শক্ত রয়েছে। তিনি সব ধরনের নিয়ম মেনে চলছেন। মঙ্গলবার রাতে তার করোনা পজেটিভ নিশ্চিত হওয়ার পর মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসায় স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার মুঠোফোনে জানান, এর পূর্বে দুইবার করোনার স্যাম্পল নেয়া হয়েছিল। তখন রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। ১২ তারিখ থেকে কিছুটা অসুস্থ্যবোধ করায় পুনরায় স্যাম্পল প্রেরণ করা হয়। ১৪ তারিখ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।

তিনি বলেন, আমি শারীরিক ভাবে সুস্থ্য আছি। সাস্থ্যসেবা মেনে হোম কোয়ারেন্টিনে আছি। সকলের নিকট আমার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া কামনা করছি। উপজেলাবাসী যেন সুস্থ্য থাকেও ভাল থাকে সেই কামনা করছি।

বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের তথ্যমতে, করোনা সংকট শুরু থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার অসহয়ের পাশে ছিলেন। হতদরিদ্রের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ, আক্রান্তদের সহায়তা প্রদান।

পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে তার কঠোরতাও ছিল নজরকাড়ার মত। বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ও মাক্স পরা, সরকারি নিয়মে বাহিরে দোকানপাট খোলা রাখা বন্ধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ১জন স্বাস্থ্যকর্মী, ১জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ নতুন করে আরো ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আত্রাই উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪ জন।

রবিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোকসানা হ্যাপি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রবিবার দুপুরে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থকর্মী শারমিন সুলতানা (২৫) ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক আসলাম হোসেন (৫৭) অপর একজন উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিন (৬০) এর রিপোর্ট পজেটিভ আসে।

তিনি আরো বলেন, করোনায় আক্রান্ত মফিজ উদ্দিন গত কয়েক দিন আগে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার পরিক্ষার ফলাফল আমরা রবিবার দুপুরে পেয়েছি।

এছাড়াও করোনা শনাক্ত হওয়া স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তারা দুজনই সুস্থ্য রয়েছেন।

উল্লেখ্য এ পর্যন্ত উপজেলায় করোনা মুক্ত হয়েছেন ১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে লালন মিয়া (৪৯) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত লালন মিয়া উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় সিলেটস্থ সামছুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ।
জানা যায়,গত ০৯ জুন ( মঙ্গলবার) লালন মিয়ার রিপোর্টে করোনা পজেটিভ আসে।বুধবার (১০ জুন) সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসোলোশনে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।পরদিন বুধবার (১৭ জুন) তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেটস্থ সামছুদ্দিন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিন জানান,লালন মিয়া সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার লাশ নিরাপদে বাড়ি আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটিই উপজেলায় করোনা আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা।

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জে নতুন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ভূমি অফিসের অফিস সহায়কসহ ৪ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৭২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। বাকি সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এ নিয়ে নবীগঞ্জে ৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে মোট ৭২৭ জনের। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে তিনজনের অবস্থান নবীগঞ্জ পৌর এলাকায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, নবীগঞ্জে নতুন করে প্রথমে (২০ জুন রাতে) একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরেরদিন (২১ জুন) আরও তিনজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

গত ২৪ ঘণ্টায় (১২ জুন) মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এটিই করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে গত ৯ জুন সর্বোচ্চ ৪৫ জন মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৯৫ জনে।
একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন আরো তিন হাজার ৪৭১ জন। শনাক্তের দিক থেকেও এটি নতুন রেকর্ড। গত ৯ জুন দেশে আগের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডও কাটিয়ে ৩ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়। এরপর টানা তিনদিন তিন হাজারেরও বেশি করে রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। তবে গতকাল আগের সব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নতুন সংযুক্ত তিনটিসহ মোট ৫৯টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বুলেটিনে ডা. নাসিমা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৯০টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো চার লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ৯৫ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫০২ জন।

ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৭ হাজার ২৫০ জন। নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৭ জন পুরুষ এবং নয়জন নারী। ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের, পাঁচজন রংপুর বিভাগের, একজন খুলনা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। এদের ৩২ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ১৪ জন মারা গেছেন বাসায়। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব ছয়জন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১২ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৫ জন, সত্তরোর্ধ্ব সাতজন, ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী একজন, ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন এবং শতবর্ষী একজন মারা গেছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৪৩৬ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন নয় হাজার ১২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৮৮৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন লাখ ১৫ হাজার ২৩২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৩৪ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৫৩ জন।

বুলেটিনে বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত কুঁড়ি সেকেন্ড ধোয়া, মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

“সেচ্ছাসেবী টিমে আগ্রহীগনকে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে”

মিনহাজ তানভীরঃ পৃথিবীব্যাপী করোনার করালগ্রাসে উন্নত বিশ্বসহ জ্ঞান বিজ্ঞান ও চিকিৎসায় সেরা সকল বাঘা বাঘা দেশের নাগরিকরা আজ মহা আতংকে এর মধ্যে আমাদের মত অনুন্নত,উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা কতটা করুন তা আমাদের অজানা নয়। তার পরেও এই দুর্যোগ মুহুর্তে এই অপ্রত্যাশিত মহামারীর চিকিৎসার চেয়েও আরও ভয়ানক আতঙ্ক মৃত দেহের দাফনকাফন ও সৎকার নিয়ে। বিভিন্ন দেশের নানা ধর্মে, বিভিন্নভাবে দাফন কাফন ছাড়াও জ্বালিয়ে দেওয়ার মত নানা ফর্মুলা ব্যবহার করলেও ইসলামী বিধানমতে জীবিতদের প্রতি মৃত ব্যক্তির অধিকার হচ্ছে সম্মানের সাথে সক্ষম একাংশ লোকেরা মৃত দেহকে সমাহিত করবে।আর এই ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতির ফলে করোনায় মৃতদের দাফনের উদ্যেশে মুসলিমদের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে। আর আওয়াজ থেকেই  বাংলাদেশ গাউসিয়া কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামসহ দেশের সব কটি জেলা ও থানায় পর্যায়ক্রমে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে যাচ্ছে তারা।এরই ফলশ্রুতিতে মৌলভীবাজার জেলায়ও সাহসী ও আগ্রহী করোনা যোদ্ধাদের নিয়ে করোনাক্রান্ত মৃতদেহের  দাপন সংক্রান্ত কাজে অংশ গ্রহণ করতে স্বেচ্ছায় আগ্রহীদের অনুরোধ জানানো  হচ্ছে।আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছি যে মৃত দেহে ৩ ঘণ্টার অধিককাল করোনা জীবাণু অস্তিত্ব থাকে না,তাই করোনায় মৃত ব্যক্তিকে ৩ ঘণ্টা বা ৪ ঘণ্টার পর দাফনকাফনে কোন সমস্যা নেই।

জানা গেছে ইতিমধ্যে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ৭২ জনেরও অধিক করোনা পজেটিভ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীর মৃতদেহ গোসল,কাফন ও জানাযা সহকারে দাপনের কাজ সম্পন্ন করেছে। অবশ্য অন্যান্য সংগঠন ও নিজ নিজ উদ্যোগে কাফন দাফনের কাজ করে যাচ্ছে ।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার থেকে কাজী কুতুব উদ্দিন আমার সিলেটকে বলেন, গাউসিয়া কমিটি মৌলভীবাজার জেলার উদ্যোগে করোনায় মৃতদের কাফন দাফনের জন্য় এ সময়ের সবচেয়ে সাহসী নারী পুরুষদের নিয়ে জেলা ব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী একটি  টিম গঠন করা হচ্ছে, আগ্রহীগনকে সংবাদে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য  ০১৭১১-১২৮৭৬৫,০১৭৩২-৬৮৪৭০৯, অনুরোধ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মানুষ মানুষের জন্য আসুন কোন রোগী বা মৃতদের প্রতি অবহেলা না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সংকটে কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে যে কোন পরিস্থিতির জন্য নিজেদেরকে তৈরি করে রাখি।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ  নড়াইলের কালিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আলিম শেখ নামে এক মসজিদের মোয়াজ্জিন মারা গিয়েছেন। শনিবার (৬জুন) রাতে তিনি খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে রোববার তাকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জিন মোঃ আলিম শেখ (৬০) ১৪ মে করোনায় আক্রান্ত প্রথমে বাড়িতে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শনিবার রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

এদিকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিক জানান, শেখ আলিম প্রথমে করোনা পজিটিভ হলেও পরে পর পর দুবার করোনা নেভেটিভ রিপোর্ট আসে। মূলত তিনি যক্ষা জনিত কারনে মারা গিয়েছে।

একই মন্তব্য করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা। তবে নড়াইল সিভিল সার্জন অফিসের প্রাত্যহিক রিপোর্টে (সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত) তার করোনায় মৃত্যু দেখানো হয়েছে। এ বাপারে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবদুল মোমেনকে রোববার বিকেল ৩টায় একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, নড়াইলে এ পর্যন্ত ৩১জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ১৯জন। বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছেন ১০জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১জন লোহাগড়া উপজেলায় ৮জন এবং কালিয়া উপজেলায় ১জন আক্রান্ত রয়েছেন।

এছাড়া কালিয়ায় ২জন করোনায় মারা গিয়েছেন। গত ৯মে কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজিত রায় চৌধুরী মৃত্যু বরণ করেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

আজ (রোববার) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী। ঢাকা বিভাগে ২৮ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আটজন মারা গেছেন।

নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে ৫২টি ল্যাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে নতুন করে দুটি ল্যাব সংযুক্ত হয়েছে। একটি সরকারি। আরেকটি বেসরকারি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২২৯টি। আর পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৬টি। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ২ হাজার ৫৪৫টি নমুনা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৪৭ হাজার ১৫৩টি নমুনায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪০৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে মোট ৯ হাজার ৭৮১ জন সুস্থ হলেন। আক্রান্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এর আগে শনিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৭৬৪ জন, মারা গেছে ২৮ জন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর গত ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ক্রমশ এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc