Tuesday 1st of December 2020 05:08:15 PM

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য সচিব কামরুন নাহার। বুধবার তার একান্ত সচিব মোহাম্মদ এনামুল আহসান গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত রোববার পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন, গতকাল রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
তবে এমনিতে তার কোনো উপসর্গ ছিল না বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন তথ্য সচিব। তবে তার স্বামী মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব মাহমুদ ইবনে কাসেম। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে স্যারের করোনা পরীক্ষা করা হয়, রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ম্যাডামের পজিটিভ রিপোর্ট আসায় আবারও তার পরীক্ষা করানো হবে বলে জানান মাহমুদ।
তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা কামরুর নাহার এর আগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ছাড়াও গণযোগাযোগ অধিদফতর, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বুধবার (১৭ জুন) মন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানতে চাইলে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বাণিজ্যমন্ত্রী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুধবার সকাল ৯টায় করোনা টেস্টের জন্য স্যাম্পল দিই।

কিছুক্ষণ আগে নমুনায় করোনার রেজাল্ট পজিটিভ আসে।’ করোনায় আক্রান্ত হলেও শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ আছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মন্ত্রী। আজ এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হবেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মারা গেছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

নওগাঁ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

সংসদে সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক আজ (শুক্রবার) রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে ওনার এখনও শারীরিক কোনো অসুবিধা নেই। ভালো আছেন। তাও নিজেকে আইসোলেশনে রেখেছেন তিনি। উনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।”

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, “উত্তরাঞ্চলের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। দোয়া করি সৃষ্টিকর্তা তাকে যেন দ্রুত সুস্থ করেন। আমি তার জন্য সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।”

৬৫ বছর বয়সী সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান গত ২৮ এপ্রিল তার নির্বাচনি এলাকা থেকে ঢাকায় আসেন। সে রাতেই জ্বর ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হন তিনি। অসুস্থতা না কমলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আজ (শুক্রবার) নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। তাকে জানানো হয়েছে, তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় তাঁর জন্য বরাদ্দ দেওয়া ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে আছেন।

তিনবারের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আগের সংসদে তিনি হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন।

করোনা ভাইরাসে নিউইয়র্কে মৃত্যুর মিছিলে গত কাল শনিবার যুক্ত হল আরও ১০ বাংলাদেশির নাম। এ নিয়ে একদিনেই যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেলেন ১১ জন। দেশটিতে একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এটি সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু। এদিন নিউইয়র্কের বাইরে মেরিল্যান্ডে প্রথম করোনায় মারা যান এক বাংলাদেশি চিকিৎসক। তার নাম ডা. আব্দুল মান্নান (৮০)। এ নিয়ে ২৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ১২২ জন বাংলাদেশি মারা গেলেন এই মহামারিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে করোনায় মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। শনিবার কেবল নিউইয়র্ক শহরেই দুই নারীসহ ৭ বাংলাদেশি মারা যান। তারা হচ্ছেন- পুলিশের ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহর বাবা খন্দকার সাদেক, নিউইয়র্ক ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জয়দেব সরকার (৫৫), শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা খন্দকার মোসাদ্দেক আলী, আসাদুজ্জামান লালা, দেওয়ান আফজাল চৌধুরী, গৃহবধু শারমীন আহমেদ চৌধুরী নীলা (৫২), ষাটোর্ধ্ব আজিজুন্নেসা। নিউইয়র্কের আপস্টেট বাফেলো সিটিতে মারা গেছেন দুজন। তারা হলেন- মোহাম্মদ জাকির (৩৮) ও সামসুস জহির (৪০)। গত ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে আরেক জনের নাম এসেছে মৃত্যু তালিকায়। তিনি হলে নিউইয়র্ক সিটির পাশের শহর লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা সিলেটের একটি চা বাগানের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার এ জামান (৭০)।

এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের নতুন বসতি আপস্টেটের বাফেলো সিটিতে করোনা আক্রান্ত দুজনকে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন স্থানীয় মসজিদে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে এসে আক্রান্ত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউইয়র্ক সিটিতে করোনায় মৃত বেওয়ারিশদের ব্রঙ্কসের পাশের হার্টল্যান্ড দ্বীপে গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। এখানে সারা বছরই বেওয়ারিশ লাশ ও কবর দেওয়ার মত স্বচ্ছল না এমন পরিবারের সদস্যদের অনুমতি নিয়ে তাদের স্বজনদের সমাহিত করা হয়। তবে এ কবরস্থানে কোন বাংলাদেশিকে কবর দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশিদের কবরের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটি তাদের নিউজার্সির মালবোরো কবরস্থানে কেনা ২০০ কবরের জায়গা বেছে নিয়েছে। এ পর্যন্ত সোসাইটি সেখানে করোনায় মৃত ৪০ জন প্রবাসীকে কবর দিয়েছে। লং আইল্যান্ডে ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গ্রেভ ইয়ার্ডে সোসাইটির কেনা জায়গায়ও তিনজনকে দাফন করা হয়েছে। এ গোরস্থানে কেনা জায়গায় জালালাবাদ সোসাইটি অব আমেরিকা তাদের ৭ সদস্যকে সমাহিত করেছে। একই জায়গায় পারিবারিকভাবে কেনা কবরে সমাহিত করা হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদকেও।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রাক্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে নয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ নিয়ে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত হলেন। তাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়েছেন।

৮ই মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টায় এবারই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হলো।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআরের) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানিয়েছেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নতুন করে সংক্রমিতদের একজন। অপরজন আগেই সংক্রমিত হয়েছিলেন। দুইজনের বয়সই ষাট বছরের বেশি। তাদের অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। তাদের একজনের ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে, আরেকজন ঢাকার বাইরে।

পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন পূর্বে সংক্রমিতদের সংস্পর্শে এসেছিলেন বা পূর্বে সংক্রমিতদের পরিবারের সদস্য। দুইজন বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।”

”বাকি দুইজনের ব্যাপারে এখনো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

এদের মধ্যে দুইটি শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ১০ বছরের নীচে। তিনজনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে,একজনের বয়স ৬০ থেকে ৭০, আরেকজনের বয়স ৯০ বছর।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, বর্তমানে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২জন। অপর বিশজন হাসপাতালে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আইইডিসিআর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলে এই নমুনা সংগ্রহ করেছে।

তিনি বলেন, ”যেসব হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার যন্ত্র বসানো হয়েছে, সেখানে যদি কোন রোগীকে করোনা সন্দেহ করলে সেখানেই পরীক্ষা করবেন। রোগী করোনাপজিটিভ হলে এজন্য চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে পাঠাবেন। না হলে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেবেন।”

একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”কমিউনিটি সংক্রমণ হয়েছে বলে অবশ্যই আমরা বলতে পারি। কিন্তু সেটা এখনো সীমিত আকারে, ক্লাস্টার আকারে রয়েছে। তবে আমরা আমাদের পরীক্ষার সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেবো।”

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ২৪৩জন। এদের মধ্যে ৫৮ হাজার ৯২৯জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৯জন।

গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানায়। এরপর ১৮ই মার্চ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ। সূত্র বিবিসি

২৫শে মার্চ প্রথমবারের মত সংস্থাটি জানায় যে বাংলাদেশে সীমিত আকারে কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

২রা এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায় ৩রা এপ্রিল থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার আওতা বাড়ানো হবে।

দেশে সাংবাদিকসহ করোনায় আক্রান্ত আরও পাঁচ জন।বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল’র একজন সাংবাদিক নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনার পর ৪৭ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টিভি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম. শামসুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের এক সহকর্মী, ওই টেলিভিশন পরিবারের সদস্য কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। উনি ২৫ ও ২৬ তারিখ শেষবার  টেলিভিশন অফিসে কর্মরত ছিলেন। রাতে উনার সিম্পটম গ্রো করায় উনি আমাদেরকে জানান অফিসে আসতে পারবেন না এবং উনি সেল্ফ আইসোলেশনে ছিলেন। দুদিন আগে উনি আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করেন এবং উনার স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট শেষে রেজাল্ট আসে এবং যেটা আনফরচুনেটলি পজিটিভ ছিল।’

শামসুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা উনাকে করছি। আইইডিসিআরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি এবং উনার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন-৪৭ জনের তালিকা তৈরি করেছি এবং আমাদের সেই ৪৭ জন সহকর্মীকে আমরা সেল্ফ আইসোলেশনে পাঠিয়েছি। সো ২৬ তারিখ থেকে যদি আমরা হিসাব করি তার পাঁচদিনে আর আমাদের সহকর্মীদের সিম্পটম শো না করা, তার মানে আর কেউ সংক্রমিত হয়নি। আমি আমার কলিগের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি রিকভারি করছেন।’

উল্লেখ্য দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ জনে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে করোনায় নতুন করে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন ২৯ জন। এদের মধ্যে ২২ জন হাসপাতালে আর বাকি সাতজন বাসায় অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১০ জনকে আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৮২ জন আইসোলেশনে আছেন। ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, পরীক্ষা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ৫১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে ১২৬টি। এটা শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ পাওয়া তথ্য। এছাড়া ব্রিফিংয়ে ছুটির সময় বাসায় অবস্থান করা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, করমর্দন না করা এবং বাসার বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইতালিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর যে সংখ্যা সরকার ঘোষণা করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি। সরকার জানিয়েছে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৬৪ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে।

ইতালির যে সংস্থা করোনাভাইরাস সংক্রমণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করছে তার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেলি আজ (মঙ্গলবার) এ কথা বলেছেন।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে- ইতালিতে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬,০৭৭ জন মারা গেছেন। চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ইতালি এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

ইতালিতে এত বেশিসংখ্যক মানুষ মৃত্যুর পরও শুধুমাত্র নিজ উদ্যোগে যেসব ব্যক্তি সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন তাদেরকেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে দেশটিতে হাজার হাজার করোনাভাইরাস সংক্রমিত মানুষ চিহ্নিত করার বাইরে থেকে গেছেন।

ইতালির সিভিল প্রটেকশন এজেন্সির প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেলি বলেন, প্রতি দশজনের মধ্যে একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং এ তথ্য বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি চার লাখ ৪০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।” তিনি বলেন, ইতালিতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যে কঠিন সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেটি হচ্ছে ভেন্টিলেটর ও মাস্কের স্বল্পতা।

বিদেশ থেকে ইতালি মাস্ক আমদানির চেষ্টা করছে কিন্তু বোরেলি জানান ভারত, রোমানিয়া, রাশিয়া এবং তুরস্কের মতো দেশ মাস্ক রপ্তানি এ মুহূর্তে বন্ধ রেখেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি সম্ভবত আর কোনো মাস্ক বিদেশ থেকে ইতালিতে এসে পৌঁছবে না।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc