Monday 26th of October 2020 01:06:08 PM

নিজ জেলা নোয়াখালীতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দুঃখ প্রকাশ করে সরকারের সড়ক-সেতুমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে শুভেচ্ছা মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় তিনি লজ্জিত। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সাথে যদি আ’লীগ অথবা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে তবে তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। এ সময় তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের দল থেকে শুধু বের করে দেয়া হবেনা তাদের জন্য আ’লীগের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে।

এসময় ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ কবিরহাট অঞ্চলের মানুষদের শান্তিপ্রিয় বলে দাবী করে সবাইকে অনুরোধ করেন, আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বলেন, আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করবেন না। এই দেশ আমাদের সকলের।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কমলকান্তি মজুমদারের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কর্মকার, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি নির্মল চন্দ্র দে ও সাধারণ সম্পাদক দীপক সূত্রধর।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ  প্রতিনিধিঃ  কুলাউড়ায় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে খলিলুর রহমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘটনা‌টি ঘ‌টে। মৃত খলিলুর রহমান একই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে।

স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে খলিলের পা‌রিবা‌রিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন খলিল। খবর পে‌য়ে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কুলাউড়া থানার এসআই মাসুদ আলম ভুঁইয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামে ধানক্ষেত থেকে নুরজাহান নামে এক নারীর মরদেহের পাঁচ টুকরা উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মামলার বাদী ওই নারীর ছেলে হুমায়ুন কবির। তাকে সহযোগিতা করেছেন তার দুই আত্মীয়, এক কসাই বন্ধুসহ সাতজন।

মায়ের জিম্মায় আনা সুদের টাকা পাওনাদারদের না দিয়ে বাঁচতে এবং পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই মাকে হত্যার পরিকল্পনা নেন হুমায়ুন।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

৭ অক্টোবর জাহাজমারা গ্রামের আমীর হোসেনের ধানক্ষেত থেকে পুলিশ ওই নারীর মাথা ও দেহের একটি অংশ এবং পরদিন দুপুরে আরও তিনটি অংশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় নিহত নুরজাহান বেগমের ছেলে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। ঘটনার ১৫ দিন পর বেরিয়ে এলো হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছেলে হুমায়ুনই। হুমায়ুনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখনও দু’জন পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দু’জন দোষ স্বীকার করে আগেই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হুমায়ুর কবিরও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, হুমায়ুন কবিরের সৎভাই বেলাল দেড় বছর আগে মারা যান। বেলাল গরু পালন, মাছ চাষ ও ব্যবসা করার জন্য বেসরকারি সংস্থাসহ (এনজিও) মহাজনদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা সুদে ঋণ নেন। বেলাল মারা যাওয়ায় ওই কিস্তির দায় এসে পড়ে তার মা নুরজাহান বেগমের ওপর। কিস্তি পরিশোধের জন্য মহাজন ও এনজিওকর্মীরা হুমায়ুন এবং তার মাকে চাপ দিতে থাকেন। এ জন্য হুমায়ুন তার মাকে সৎভাই বেলালের নামে থাকা জমি বিক্রির অনুরোধ করেন। এতে নুর জাহান রাজি হননি। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জেরেই হুমায়ুন মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হুমায়ুন তার মামাতো ভাই কালাম ওরফে মামুন, মামাতো বোনের স্বামীসহ সাতজনকে নিয়ে ৬ অক্টোবর রাতে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে তারা নুরজাহান বেগমকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে পেশাদার কসাই নুর ইসলাম লাশ পাঁচ টুকরা করে রাতেই পাওনাদার একই গ্রামের আমীর হোসেনের ধানক্ষেতে ছিটিয়ে দেন।

মিজানুর রহমান,চুনারুঘাট: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ঘরে একা পেয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের মীরের পাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার এসআই মুজাহিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টেরপেয়ে ধর্ষক মিজান এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

ধর্ষক মিজান (২২) মীরের পাড়া গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে মিজান। ধর্ষিতা কিশোরীর মা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার দুপুরে এক আত্নীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি । এ সময় ওই কিশোরী ঘরে একা ছিল। এ সুযোগে প্রতিবেশী মফিজ মিয়ার ছেলে মিজান তার ঘরে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: কাউছার বাহার ও স্থানীয় ময়মুরুব্বিদের বিষয়টি জানানোর পর বিকেল ৪টায় ওই কিশোরীকে পুলিশ উদ্ধার করে। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিজান এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত সে একজন মাদকাসক্ত।

এবিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আলী আশরাফ বলেন, কিশোরী পুলিশি হেফাজতে রয়েছে, আজ তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। আসামি গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) এবার মৌলভীবাজার পুলিশের চাকরিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে লটারীর মাধ্যমে পদায়ন করে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা পুলিশ লাইন মৌলভীবাজারে বিশেষ ব্রিফিং ও লটারির মাধ্যমে পদায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলা ও বিভিন্ন ইউনিট হতে সিলেট রেঞ্জ অফিসের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলায় সদ্য যোগদানকৃত ৩২ জন পুলিশ সদস্যদের বদলী শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনের উদ্দেশ্যে লটারীর মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।

এভাবেই লটারি বাক্স থেকে টুকেন নিয়ে পদায়ন থানার নাম ঘোষণা করছেন ।

বিশেষ ব্রিফিং সভায় কক্সবাজার থেকে সদ্য মৌলভীবাজার জেলায় যোগদানকৃত পুলিশ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সাথে নতুন উদ্যমে মৌলভীবাজারের জনসাধারণকে সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন।
তাছাড়াও অত্র জেলায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণেরও আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার।

উপস্থিত পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যদের একাংশ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ  ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিজপাট লামাপাড়া এলাকা হতে বিপুল পরিমান মটরশুটি ও মটর ডাল আটক করেন ৷ এসব মটর ডাল ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এনে জৈন্তাপুর এলাকায়  মজুদ করা হয়৷ যার কারনে দেশের অভ্যন্তরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে ।
এ অপরাধের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কৃষি বিপনন আইন ২০১৮ এর ১৯ ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযান করে ২টি মামলায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
উপজেলা জুড়ে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। দেশকে ভাল বেশে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা থেকে বিরত থাকার অাহবান জানান। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ওমর ফারুক এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনার সময় অারও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত ওমর ফারুক, এস অাই জাকির হোসেন, জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সহ পুলিশের বিশেষ টিম ৷
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট মোঃ ওমর ফারুক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২টি মামলায় জরিমানা করি৷ কৃত্রিম সংকট তৈরী করে অবৈধ মজুদ কারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান উপজেলা জুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানান ৷

৫ হাজার টাকা জরিমানা, পাখির মাংস বিনষ্ট

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপরূপ পর্যটন উপজেলা জৈন্তাপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৮টি বকপাখি অবমুক্ত করেন এবং সেই সাথে পাখির মাংস রান্না করে বিক্রয়ের দায়ে ১ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকাল ৪ টায় গোপন সংবাদের জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট ও নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট ও সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ ফারুক আহমদ এর নেতৃত্বে উপজেলার হরিপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ৮টি কানা বক পাখি আটক করেন। এছাড়া একই সময়ে ভাই ভাই রেষ্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে রান্না করা পাখির মাংস উদ্ধার করেন। অভিযান পরিচালনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ৩৮ ধারায় একজন আসামীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, আটককৃত রান্না করা পাখির মাংস সমুহ সকলের সম্মুখে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। অপরদিকে উদ্ধার হওয়া ৮টি কানাবক পাখি গুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করে দেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট নাহিদা পারভীন ও ফারুক আহমদ প্রতিবেদকে জানান, আমরা উপজেলা আকষ্মীক অভিযান পরিচালনা করে ৮টি পাখি, রান্না করা পাখির মাংস উদ্ধার করি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়া তারা আরও জানান উপজেলার সব কয়েকটি বাজারে আকষ্মীক ভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ   অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। পেট্রাপোল কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট কার্তিক চক্রবর্তী এ তথ্য জানিয়েছেন।

কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ভারতের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সোমবার ভারত সরকার পেট্রাপোল কাস্টমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সে মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, সোমবার থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রফতানি হবে না।

পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকালে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন যে ভারত কোনও পেঁয়াজ রফতানি করবে না। ভারত সরকার নাকি কাস্টমসকে নিষেধ করেছেন পেঁয়াজ রফতানি না করতে এবং পেঁয়াজ রফতানি করবে না বলেও বলেছে আমাদের। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে। আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা তাদের বলছি আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রফতানির জন্য। আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয় তাহলে আমাদের এই পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে সেই চিন্তায় পড়েছি। এই যে আমাদের ক্ষতি, কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবো? তাই বিষয়টি অতি সত্বর সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

আমার সিলেট ডেস্কঃ  রাজধানীতে লাখ টাকার বিনিময়ে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিত একটি চক্র। এদের অনেকেই আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ পেয়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। ফলে জালিয়াতির জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারতেন। শনিবার রাতে মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ডি-ব্লক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। রবিবার ডিএমপি নিউজে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সুমন পারভেজ (৪০), মো. মজিদ (৪২), সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর (৩২), মো. আনোয়ারুল ইসলাম (২৬) ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪১)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দ্বৈত, জাল ও ডুপ্লিকেট ১২টি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে কেউ ঋণ খেলাপি হলে তাদের সিআইবি খারাপ হয় ফলে পুনরায় তারা ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন না। তখন গ্রেপ্তার সুমন ও মজিদ ঋণ পাশ করিয়ে দেবেন দাবি করে প্রথমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নিতেন।

পরবর্তীতে ঋণ পাশ হলে সেই পরিমাণ টাকার ১০% হারে দিতে হবে দাবি করে চুক্তি করতেন তারা। চুক্তিতে একমত হলে এই ব্যক্তিরা প্রথমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন। পরে ঋণ পাশ হলে চুক্তি অনুযায়ী ঋণে সম্পূর্ণ টাকার ১০% হারে নিয়ে নিতেন। এ জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন তাদের আরেক সহযোগী গ্রেপ্তার সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তারা প্রত্যেকটি জাল জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি বাবদ ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিতেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলাম ই-জোন কোম্পানির মাধ্যমে আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশনের অধীনে খিলগাঁও ও গুলশান অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। এ কারণে তারা নির্বাচন কমিশন অফিসের সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজেই জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারতেন। গ্রেপ্তার পাঁচজন এ উপায়ে অনেককে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করে দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডের থানায় মামলা হয়েছে।

আমার সিলেট ডেস্কঃ  মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে কফিল-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০-১২ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই অফিসের আশপাশে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে দলটি। কিন্তু তার আগেই সেখানে কফিল উদ্দিন ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময়ে এস এম জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকলে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয় ও পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এর আগে ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি সমর্থিত আট কাউন্সিলর প্রার্থী। তারা হলেন- ১নং ওয়ার্ডের মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ৫০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন, ৪৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আয়নাল, ৪৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোতালেব হোসেন রতন, ৪৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুর রহমান আরিফ, ৪৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন, সংরক্ষিত ৫২, ৫৩ ও ৫৪ ওয়ার্ডের প্রার্থী সোহেলী পারভীন শিখা এবং সংরক্ষিত ৪৯, ৫০ ও ৫১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী লুৎফা খানম চৌধুরী।

তারা লিখিতভাবে বলেন, এসএম জাহাঙ্গীর এলাকায় বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে রাজনীতি করেন। এলাকার নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা তার দ্বারাও নানাভাবে হেনস্তা ও নির্যাতনের শিকার। এছাড়া তিনি চাঁদাবাজির সাথে জড়িত।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান জানিয়েছেন, বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে ওই অফিসের আশপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে ছেলেকে বেঁধে মারপিট করে ছেলের সামনে মাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, নবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি) গ্রামের আব্দুর রউফের স্ত্রী সরলা বেগম ও তার ছেলে সবুর মিয়া গত ২৪ শে আগষ্ট বিকাল ৩টায় নবীগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হালিতলা বাজারে পৌঁছা মাত্রই একই গ্রামের আলীম উদ্দিনের ছেলে মোঃ আফজাল মিয়া (২৫) সরলা বেগমের ছেলে সবুর মিয়াকে  তার দোকানে ডেকে নিয়ে যায়।

ওই সময় দোকানে থাকা একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান (৩০), জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দাল মিয়া (৪৫), আব্দাল মিয়ার ছেলে সুয়েব মিয়া (২০), প্রতাপ উদ্দিনের ছেলে মোহন মিয়া (৩০) মিলে সবুর মিয়াকে বেঁধে তাকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতারী মারপিট করে তার মারাত্নক জখম করে।

সবুর মিয়ার শোর চিৎকার শুনে বাহিরে থাকা সরলা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে  আসলে তাকেও এলোপাতারী মারপিট করে গুরুতর আহত করে।আফজাল মিয়াও মতিউর রহমান সরলা বেগমের   কাছে থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুটি বালা ও স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক  ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও আব্দাল মিয়া (৪৫) সরলা বেগমের ব্যানেটি ব্যাগে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে সরলা বেগমকে তার ছেলের সামনে সুয়েব মিয়া (২০) ও মোহন মিয়া (৩০) কাপড়-চোপড় টেনে খুলে তাকে অর্ধনগ্ন করে শ্লীলতাহানী করা হয় বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।

পরে সরলা বেগম ও তার ছেলে সবুর মিয়ার শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সরলা বেগমও সবুর মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং সবুর মিয়ার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সরলা বেগম সুস্থ হয়ে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মোঃ আফজাল মিয়া (২৫) সহ উপরে উল্লেখিত ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি:  বাবার হাতে মা ও নানী খুন হওয়ার পর খুনের অপরাধে বাবা যখন জেলে তখন অসহায় অভিভাবকহীন দুই শিশুকে শ্রীমঙ্গল থানা ও মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সহযোগিতায় একটি শিশু কেয়ার সেন্টার সিলেটে তাদেরকে লালন পালনের জন্য নেওয়া হয়। সেখানে অভিভাবকহীন এই দুই শিশু ইব্রাহীম ও ফাহিমকে দেখতে সিলেটের সরকারি শিশু পরিবার পরিদর্শন করলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম।
গত জুন ২০২০ এর চার তারিখ বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের পূর্ব জামসী গ্রামে গভীর রাতে খুন হন ইব্রাহিম (১০) ও ফাহিম (৫) এর মা ইয়াসমিন (২৪) ও নানী জায়েদা বেগম (৫৫)। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ উক্ত ঘটনায় শিশু দুটির পিতা আজগর আলীকে গ্রেফতার করে।
মা, নানী ও পিতাকে হারিয়ে শিশু ফাহিম ও ইব্রাহীম অভিভাবকহীন হয়ে পড়লে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও মানবিক উদ্যোগে ফাহিম ও ইব্রাহীমকে সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারী শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাসে প্রেরণ করা হয়।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে গতকাল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম শিশু ফাহিম ও ইব্রাহিমকে দেখতে তাদের কাছে ছুটে যান। এ সময় তিনি ফাহিম ও ইব্রাহীমসহ সকল শিশুদের সাথে কিছুটা সময় কাটান, তাদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন, মিষ্টিমুখ করান এবং ইব্রাহীম ও ফাহিমকে নতুন পোষাক উপহার দেন। উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সিলেট পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জৈন্তাপুর রাজ্যোর ইতিহাসের পুরকীর্তি সমুহ। সম্প্রতি দখলদার বাহিনির কবলে পড়ে বিলিন হচ্ছে প্রতœতাত্ত্বিক নির্দশন সমুহ। সম্প্রতি জৈন্তা রাজ্যের অন্যতম নির্দশন বড় দেউল এর ভূমি দখল করে রাতের আধাঁরে দোকানগৃহ নির্মাণ করছে ভুমি খেকু পরিবার। ঐহ্যিতের বড় দেউল রক্ষার জন্য দাবী জানান জৈন্তাপুর পুরকীর্তি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটি।
সরজমিন ঘুরে দেখাযায়, ঐতিহ্যবাহী জৈন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে জৈন্তাপুর স্কুল রোড সংলগ্ন জৈন্তা রাজ্যের অন্যতম ঐতিহাসিক নির্দশন ধ্বংসাবশেষ বড় দেউলের সম্মুখের কিছু জায়গা নিজেদের দাবী করে ভূমি খেকু পরিবার জায়গা দখল করে বেড়া দিয়ে রাতের আধাঁরে দোকান গৃহ নির্মাণ করছে। তাৎক্ষনিক ভাবে বড় দেউলের ধ্বংসাবশেষ ভেঙ্গে দোকান গৃহ নির্মানের বিষয়টি জৈন্তাপুর পুরকীর্তি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটি উপজেলা প্রশাসন জৈন্তাপুরকে অবহিত করে। পুরার্কীতি ধ্বংস করে অবৈধ ভাবে দোকন গৃহ নির্মানের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জৈন্তাপুর এর নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থালে পুলিশ এসে দোকান গৃহ নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেয়। অপরদিকে ২৭ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ওমর ফারুক। ঘটনার সত্যতা দেখতে পান এবং দোকানগৃহ নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেন।
জৈন্তাপুর পুরকীর্তি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐহিত্যবাহী পুরাকীর্তি নির্দশন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত একটি চক্র বিভিন্ন পন্থা অবলম্ভবন করে এগুলোকে দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। বড় দেউল একটি ঐতিহ্যবাহী নির্দশন ধ্বংশের পর হতে এভাবেই ইতিহাস হয়ে পড়ে রয়েছে। তবে এটি সরানো কাহারো পক্ষে সম্ভবপর নয়। কি কারনে ভূমি খেকু চক্ররা ধ্বংস করে দোকানগৃহ নির্মাণ করছে তা বুঝে উঠতে পারছি না। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা এবং ঐহিত্যবাহি পুরাকীর্তি স্থায়ী সংরক্ষণ করার দাবী জানান। সেই সাথে তিনি আরও বলেন পূরাকীর্তি জায়গা যদি ব্যক্তি মালিকানা হয় তা হলে জৈন্তিয়ার ইতিহাস রক্ষার জন্য এসকল ভূমি অধিগ্রহান করার জোর দাবী জানান। তিনি আরও জানান বড় দেউল সহ জৈন্তাপুরের পুরাকীর্তি সমুহ রক্ষার জন্য উপজেলা সদরে পুরাকৃর্তি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে উপজেলা সদর ও কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার সিলেটে পৃথক পৃথক ভাবে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হবে।
এবিষয়ে ভূমি দখলকারীরা জানান, জায়গাটি তারা রাশেল আহমদ নামক ব্যক্তির নিকট হতে ৩শতক জায়গা ক্রয় করে। তাদের ক্রয়কৃত ভূমিতে তারা দোকানগৃহ নির্মাণ করছে। প্রতœতত্ত্বের ধ্বংসাবশেষ কিছু অংশ তারা সরিয়েছেন মাত্র। তারা সহকারী কমিশনা ভূমি, উপজেলা সার্ভেয়ার এবং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কে কাগজাত দেখিয়েছেন বলে দাবী করেন।
সহকারী কমিশনার ভূমি জৈন্তাপুর মোঃ ওমর ফারুক প্রতিবেদককে জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পর আমি দোকানগৃহ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সমন্বয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

নড়াইল প্রতিনিধি:  নড়াইল আসনের সংসদ সদস্য জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার পিতা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, মা হামিদা মোর্ত্তজা বলাকা এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিমসহ সহ  উভয় পরিবারের করোনায় আক্রান্ত  সদস্যদের সুস্থ্যতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ জুম্মা নড়াইল শহরের পুরারন বাসটার্মিনাল জামে মসজিদে জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ ছানাউল্লাহ। এসময় মাশরাফীর মা বাবাসহ করোনায় আক্রান্ত অন্যান্য সদস্য এবং  জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ তার পরিবারের সদস্যসহ দেশব্যাপী করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ্যতা কামনা এবং যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দেয়া করা হয়। 

দোয়া অনুষ্ঠানে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ সহ জেলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নতুন করে আরো ৮ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৬ জন।
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার (৮ আগষ্ট) রাত ৮.৩০ মিঃ সময়ে ৮ জনের করোনা পজিটিভ আসে। মোট সুস্থ হয়েছে ১৬৫ জন, আইসোলেসনে আছেন ২০ জন, মৃত্যু হয়েছে ২জনের।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc