Saturday 5th of December 2020 05:51:46 PM

রাজধানীর আশকোনার মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স ব্যাবসায়ী কমিটি গঠন হয়েছে। আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলামকে সভাপতি ও মো: ইদ্রিস আলী মানিককে সাধারণ সম্পাদক নিধারণ করে সম্প্রতি পূনাঙ্গ কমিটি ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। করোনাকালে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন পদ্ধতিতে না গিয়ে সবার সিদ্ধান্তক্রমে সম্প্রতি বর্তমান কমিটিকে আরো দুই বছরের জন্য বর্ধিত করা হয়।

মোঃ ইদ্রিস আলী মানিক জানান, মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স ব্যাবসায়ী কমিটি একটি সুসংগঠিত কমিটি। প্রতিবার এখানকার ব্যাবসায়ীদের ভোটে কমিটি নির্বাচত হয়ে আসছে। কিন্তু দেশের করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটি আরো দুই বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কমিটির উদ্যোগে প্রায় ১০০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে।প্রেস বার্তা

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে হাসপাতাল সমাজ সেবা কার্যক্রমের রোগী কল্যাণ সমিতির সৌসজন্যে কোভিড -১৯ সুরক্ষা বুথ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর দেড়টায় এর উদ্বোধন করেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মল্লিকা দে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান মামুন, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  করোনায় চিকিৎসক, সেবিকা,স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৭ জন আক্রান্ত ও ৫ বছরের শিশুর মৃত্যুর পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রা লকডাউন ঘোষনা করা হয়। ৯ দিন পর মঙ্গলবার থেকে আবাও চালু হবে এ হাসপাতাল। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল হাসপাতালটি লগডাউন ঘোষনা করা হয়েছিল।

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, মঙ্গলবার থেকে হাসপাতাল চালু থাকবে। রোগীরা যথাযথ সেবা পাবেন। এ উপজেলায় ৬ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী সবাই ভাল আছেন।

এম ওসমান : নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর সমস্যায় জর্জরিত শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । দিনের পর দিন এমন অবস্থা চলতে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। দালাল ও সিন্ডিকেট চক্র জিম্মি করে রেখেছে পুরো ব্যবস্থাপনাকে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারি বলেন, সিন্ডিকেট চক্রটি বেশ প্রভাবশালী। চক্রটির ক্ষমতা এতই শক্তিশালী যে তারা সিভিল সার্জন অফিসের নির্দেশও মানে না। এই কর্মচারি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কমপ্লেক্সটিতে সিন্ডিকেট চক্রের কারণে এমন অবস্থা হয়েছে ।
শার্শাবাসির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৬০ সালে উপজেলার দক্ষিন বুরুজ বাগান এলাকায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে ৩১ বেড থাকলেও বর্তমানে বেডের সংখ্যা ৫০। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অনিয়ম আর দুর্নীতি চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৫০ বেড চালু হলেও জনবলের সুবিধা না থাকায় চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ৷
এখানে কোটি কোটি টাকার সম্পদ স্টোরে রক্ষিত থাকলেও কোনো গার্ডের ব্যবস্থা নেই ৷ যে কোন সময়   এ সম্পদ খোয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷
চিকিৎসাসেবা নেই বললেই চলে। কমপ্লেক্সটিতে বেশ কয়েকটি বিভাগ নামেমাত্র থাকলেও সেখানে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। দন্ত বিভাগে গিয়ে কেউ চিকিৎসা পেয়েছেন এমন নজির সাম্প্রতিক সময়ে কখনো নেই। রোগীদের অভিযোগ, এ বিভাগে গেলে নানা অজুহাতে তাদের সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয়। সুকৌশলে এ বিভাগের ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে দেখা করার কথা বলা হয়। বিভিন্ন সূত্রে আরও নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে খাবার সাপ্লাই নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রতিদিন রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তা একেবারেই নিম্নমানের। প্রতিদিন খাবার তালিকায় যা থাকার কথা তা দেওয়া হচ্ছে না। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এখান থেকে যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা মুখে দেওয়া যায় না। বেশির ভাগ রোগীই বাইরে অথবা বাড়ি থেকে খাবার এনে খান। এ ছাড়া এখান  থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ওষুধ দেওয়া তো দূরে থাক গজ-ব্যান্ডেজ আর তুলার মতো জিনিসও বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।   বাথরুমগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। বেশির ভাগ ওয়ার্ডের বেডও ভাঙাচোরা। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে এগুলো চালানো হচ্ছে। বাতাসের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যান নেই। নেই পর্যাপ্ত লাইট। ফলে রাতের বেলা একেবারে ভুতুরে পরিবেশ তৈরি হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। চারটি কেবিন থাকলেও সেগুলো নামেমাত্র। কোনো সুযোগ-সুবিধাই নেই সেখানে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘সিন্ডিকেট’ চক্র এসব ‘কেবিন’ নিজেদের দখলেই রাখেন। এ চক্রকে ম্যানেজ করলেই মেলে কেবিন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনা হয়। এই কেনা নিয়ে রয়েছে বড় রকমের দুর্নীতি। টেন্ডারের শর্তাবলি অনুযায়ী যে ওষুধ সরবরাহ করার কথা, তা মেলে না। আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তারের সংকট চরমে রয়েছে ৷ যে ক’জন ডাক্তার আছে তাদের মধ্যে অনেকে ঠিকমত হাজির থাকেনা ৷ দিনের বেশির ভাগ সময় ডাক্তারদের খুঁজে পাওয়া যায় না। বেলা ১টার পর একজন ডাক্তারকেও পাওয়া যায় না। অথচ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা আড়াই টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তার থাকার কথা।
জানা যায়, ডাক্তারদের প্রায় সবাই বিভিন্ন ক্লিনিকে বসেন। ফলে তাদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তার ও কর্মচারীদের জন্য একটি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন রয়েছে যেখানে তারা কখন আসেন, কখন বেরিয়ে যান, এমনটি রেকর্ড হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই মেশিনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকল করে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তার, চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক, পরিছন্নতা কর্মী, গার্ড”র বেশ কিছু পদ খালি রয়েছে। এ গুলো পূরণ হলে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার সমাধান হবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, আগের তুলনায়  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র অনিয়ম-দুর্নীতি কমেছে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ছিল। এখন সেগুলো নেই।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলোট প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের গৃহীত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় ১কোটি ৯৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। গোয়াইনঘাটের মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা এবং তাদের কল্যাণে উক্ত ভবন বাণিজ্যিক পরিসরেও কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
১১শতক ভূমির উপর সীমানা প্রাচীরসহ তৃতীয় তলা বিশিষ্ট স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে৷ নিচ তলায় রয়েছে ৫টি দোকান। দ্বিতীয় তলায়ও ৫টি দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় ১টি কমিউনিটি সেন্টার, অফিস, লাইব্রেরী ও সম্মেলন কক্ষ রয়েছে। এছাড়া উক্ত কমপ্লেক্সে ভবনের উপরে রয়েছে নামাজের স্থান। আধুনিক সকল নির্মাণ সামগ্রীর মিশেলে স্থাপিত এই ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬সালের ২৬ডিসেম্বর৷ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সিলেট-৪ অাসনের সংসদ ইমরান আহমদ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করেছিলেন। চলতি বছরের ৩০ জুন ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় জানায়। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ই.এফ.ট্রেনিং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে উক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে। ২কোটি ৩৮লক্ষ ৮হাজার টাকা বরাদ্ধ হলেও সংশোধিত চুক্তি মূল্য ১কোটি ৯৬লক্ষ ৪হাজার টাকার মধ্যে ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে এল.জি.ই.ডি।
ভবনের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসরাইল হোসেন জানান, গোয়াইনঘাটের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। উক্ত কমপ্লেক্সটি এখন উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব জানিয়েছেন, গোয়াইনঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের গৃহীত প্রকল্প উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই ভবনটি আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করব।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুল হক জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণার্থে সরকারের নানামুখী প্রকল্পে আমরা কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আমাদের গোয়াইনঘাটের মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই কমপ্লেক্স ভবন আমরা উপহার পেয়েছি। আমরা সরকারের উদ্যোগেকে স্বাগত জানাই এবং আমরা চির কৃতজ্ঞ।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, দেশের সবকটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতার অংশ। গোয়াইনঘাটের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি অচিরেই উদ্বোধন করা হবে। সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং সিলেট-৪ অাসানের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত হয়ে কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধন করবেন।
সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আন্তরিক। তাদের স্বার্থে সরকার দেশব্যাপী অগণিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানার্থে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিজ উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্প উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটিও উন্নয়ন ধারাবাহিকতার একটি অংশ। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। গোয়াইনঘাট সহ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিজনরাও সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৯মে,বেনাপোল প্রতিনিধি: চিকিৎসক স্বল্পতা, যন্ত্রপাতি অপ্রতুল, অপরিচ্ছন্নতা, রোগীদের ওষুধ না দেয়া ও সরকারী ওষুধ চোরাই পথে বিক্রিসহ নানা সঙ্কটে জর্জরিত শার্শা উপজেলার একমাত্র সরকারী বুরুজবাগান (নাভারন) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
জানা যায়, শার্শার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬২ সালে নির্মিত হাসপাতালটি এখন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার মানুষের একমাত্র নির্ভরতার জায়গা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধাই বাড়েনি এ হাসপাতালে। লোকবল, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ সবকিছু এখনও পুরনো ধাঁচের। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুইশ’ রোগীর সমাগম ঘটে। গড়ে দশ থেকে পনের জন রোগী ভর্তি হন।
তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে মেডিকেল কর্মকর্তার পদ সংখ্যা ২২টি থাকলেও খাতা কলমে ৮ জন, বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩ জন। বাকিরা কেউ ছুটিতে কারো আবার ডে-অফ। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। বহির্বিভাগে টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালটিতে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় এক বছর যাবৎ নষ্ট। অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় গরিব ও অসহায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ৩৬ কিলোমিটার দূরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান দিন দিন নিম্নমানের হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এখানকার রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। জরুরি বিভাগে সাধারণ চিকিৎসা দেয়া, রোগীদের অতি নিম্নমানের খাবার ও নোংরা বিছানা পরিবেশন করা হয়। শৌচাগারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। সার্জারি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়েনি। হাসপাতালে নেই কোনো ডেন্টাল, গাইনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টায় অফিস শুরুর নিয়ম থাকলেও ডাক্তার আসেন সাড়ে ১০টায়। উপজেলার একমাত্র এ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীরা সকাল ৮টার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ১০টার আগে বহির্বিভাগে টিকিট দেয়া হয় না। অনেক সময় টিকিট সংগ্রহ করেও চিকিৎসকের দেখা পান না রোগীরা।
আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. এনাম উদ্দিন বলেন, জরুরি বিভাগে আমার কোনো ডিউটি করার কথা ছিল না। আসলে জরুরি বিভাগে কোনো মেডিকেল কর্মকর্তার ডিউটি করার নিয়ম নেই। আমরা যেটুকু করি তা অনুরোধক্রমে। সেখানে শুধু মাত্র একজন সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তার ডিউটি করার নিয়ম আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় খাতা-কলমে উন্নীত হলেও কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবলের অভাবে আমরা জনগণকে তাদের চাহিদামত সেবা দিতে পারছি না বলে জানান।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc