Sunday 29th of November 2020 07:01:01 PM

মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহু মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তার প্রতি অনুগত থেকে ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য নানা রকম সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিয়েছেন।এই সুযোগগুলোকে বিশ্বাসীরা অর্থাৎ মু’মিনরা কাজে লাগিয়ে যেমন ইহকালে ও পরকালে সফল তেমনি এর থেকে অলস অচেতন মানব সন্তান হারিয়ে যায় অন্ধকারের গহবরে। আমরা ঈমান এনে নিজের ভাগ্যকে ক্ষমার যোগ্য করেছি। এখন পূর্ণমাত্রায় এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সফলতার উচ্চ শিখরে পৌঁছায় হবে মানব জীবনের সর্বোত্তম পন্থা। পবিত্র রমজানুল মোবারক আমাদের দেহ ও আত্মার জন্য এত বরকতময় মাস যা আর কোন জাতিগোষ্ঠীর ভাগ্যে জুটেনি, তাই আসুন রহমতের ধারা বয়ে যাচ্ছে এর থেকে মহান আল্লাহর অসীম রহমত সঞ্চয় করে নেওয়ার চেষ্টা করি।

“লাইলাতুল কদর” আরবি শব্দ। “লাইলাতুল” অর্থ রাত্রি আর “কদর” শব্দের অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। অন্য আরেকটি অর্থ হচ্ছে; ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ধর্মীয় সুত্রানুসারে, পবিত্র এই রাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনঃর্নির্ধারণ করা হয়। বরকতময় রজনী হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ এ রাতকে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের আরও কারণ হল এ রাতে সৃষ্টিকুলের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর পবিত্র আল-কোরান নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল এর ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু পবিত্র কোরআনুল কারিমে  সুরা কদর নামে একটি সূরা মুসলিম জাতিকে উপহার দিয়েছেন যা অনাদিকাল পর্যন্ত পঠিত হবে মানব সমাজে।

আমরা জানি রামাদানুল কারিমের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত গুলোর কোন একটি মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর খুঁজে নিতে হয়। যেটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত। আর এ মাস গুলোকে একত্রে করলে প্রায় ৮৩ বছরেরও অধিক সময় হয়। জীবনে একবার সঠিকভাবে রাতটি পেয়ে গেলে আজীবনের সাওয়াব পেয়ে যায় বান্দা। বান্দার জন্য স্রষ্টাকর্তৃক জীবদ্দশায় এটিও একটি কল্যাণকর রাত। হাদীস শরীফ এ লাইলাতুলকদর রাতের কিছু আলামত বর্ণিত হয়েছে। আসুন সেগুলো দেখে রাতটি মিলিয়ে নেই।

  • রাতটি ভয় করার মতো গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
  • নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ না গরম, না শীতের তীব্রতা থাকবে।
  • মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
  • সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবেন।
  • কোন কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
  • কাংখিত  রাতে বৃষ্টি বর্ষণও হতে পারে।
  • সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জল দেখাবে।

কাংখিত সে রাতের একটি বিশেষ দোয়াও রয়েছে যেটা উম্মুল মু’মিনীন হজরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা লাইলাতুল ক্বদর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন-ওগো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি যদি লাইলাতুল ক্বদর পাই তখন কী করব ? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাকে  জানিয়ে দেন, তুমি তখন বলবে, اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي  উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন কারীম তুহিব্বুল আ’ফওয়া-ফা’ফু আন্নী।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল,ক্ষমা করে দিতেই আপনি ভালোবাসেন অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। তিরমিযি, ইবনে মাজাহ

কেউ যদি পার্থিব জীবনে অনেক কিছু পেয়ে যায় কিন্তু ক্ষমা না পায়, তাহলে তার জীবন ব্যর্থ। তাই এ রাতের সন্ধানে অন্তরকে নরম করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে প্রিয় নবীকে অনুসরণ ও অনুকরণ এর মাধ্যমে তার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা রেখে খাঁটি দিলে তওবা ইস্তেগফার করা জরুরী। খাঁটি তওবার চারটি শর্ত:

  • পূর্বের গুনাহ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
  • অতীতের সকল গুনাহর জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হতে হবে।
  • ভবিষ্যতে ওই গুনাহ আর করবো না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
  • বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে যথাসাধ্য আদায় করে দিতে হবে।

আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লা সবাইকে যথাযথভাবে রাতটি তালাশ করে লাইলাতুল কদরের যথাযথ সম্মান আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ক্ষমা ও প্রিয় নবীর ভালোবাসা আদায়ের তৌফিক দান করেন। আমিন,বেহুরমাতে সায়্যিদুল মুরসালিন। লেখকঃ আনিছুল ইসলাম আশরাফী

দেশের আকাশে সোমবার সন্ধ্যায় রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশব্যাপি মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (৭ মে)। ফলে ১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগে ফোন করে ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ রাজবাড়ী, চাঁদপুরসহ জেলা অ‌ফি‌সের উপ-পরিচালকরা চাঁদ দেখার সংবাদ জানিয়েছেন।

বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ এ ঘোষণা দেবেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৯মে,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃবাংলাদেশের মানুষ মাছে ভাতে বাঙ্গালী কথাটি বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তির পথে মিঠা পানির সুস্বাদু ছোট ছোট মাছও। হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার প্রবাধ আছে মৎস,পাথর,ধান সুনামগঞ্জের প্রান এই প্রবাধটি এখন অতীত। কারন এখন আর পূর্বের মত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

এক সময় সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলার হাওর গুলো মৎস সম্পদে ভরপুর ছিল। অপরিকল্পিত ভাবে মৎস নিধনের ফলে এই জেলা থেকে মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ গুলো বিলুপ্তি হচ্ছে দিন দিন। ফলে জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় এখন মাছের বাজার দখল করেছে আছে ফিসারিজ মাছ।

জানাযায়,সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলা তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,বিশ্বাম্ভরপুর,দিরাই-শাল্লা সহ সবকটি উপজেলায় অতীতের মত মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ গুলো পাওয়া যাচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার হাট বাজার গুলোতে সুস্বাধু মাছের চিহ্ন নেই,আছে ফিসারীতে উৎপন্ন পাঙ্গাস,সরপুটিসহ বিভিন্ন মাছ। বর্ষার ঐ সব উপজেলায় পানিতে ভাঁসলেও মিঠা পানির সুস্বাদু মাছ পূর্বের মত আর পাওয়া যায় না। যে কিছু মাছ পাওয়া যায় জেলেরা মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছে পায়কারী বিক্রি করে দেয়। ব্যবসায়ীরা সে মাছ আবার বাক্স বন্দী করে নৌকা যোগে পাঠিয়ে দেয় জেলা শহর,রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই। আর শহরে পাঠিয়ে যে মাছ অবশিষ্ট থেকে যায় তার দাম শুনেই ক্রেতাগন মাছ কেনার কথা ভুলে যায়। এবং মাছের পরির্বতিতে অন্য কিছু সিদল,সুটকি খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে সুটকি,সিদল এর কদর একট বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরো জানাযায়-গত দশ বছরের ব্যবধানে দেখা গেছে বিপন্ন মিঠা পানির মাছ গুলো অস্তিত্ব নেই। মাছের বংশ বৃদ্ধির শুরুতেই বিনষ্ট হয়ে বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে-মলা মাছ,ডেলা মাছ,ট্যাংরা মাছ,ডোরাকাটা বৌ মাছ,মাগুর মাছ সহ মিঠা পানির ৫৪প্রজাতির মাছ আরো ১২০প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে। যে মাছ গুলো বিপন্ন সেগুলো-শিং,চেনুয়া,খোকশা,কালাবাটা,ঢেলা,মধুপাবদা,একঠোঁটা,লাল চান্দাঁ,তিলপুঁটি ইত্যাদি।

মাছ গুলো বিলুপ্তির অন্যতম কারন,মাছের অন্যতম আধার প্লাবন ভূমি,চলনবিল,নদী-নালার মোহনা,বড় বিল,দিঘী শুকিয়ে যাছে শুকনো মৌসুমে। জমিতে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ছিটানো,প্রাকুতিক দূর্যোগ ও পরিবেশ দূষন,নদীতে পলি জমে,নাব্যতা হারিয়ে,ভাঙ্গনে,গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে,বিল,হাওরের গভীরতা কমে,অপরিকল্পিত ও প্রজনন মৌসুমে ডিম ওয়ালা মাছ শিকার করার কারনেই অতি পরিচিত এ মাছ গুলো বিলুপ্তি হচ্ছে। বিলুপ্ত হওয়া এই মাছ গুলো ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে-এক জন মানুষের দৈনিক মাছের প্রয়োজন ৫৬ গ্রাম। মানুষ পাচ্ছে ৩৮ গ্রামেরও কম। গরিব অসহায় ও নিন্ম আয়ের মানুষ পাচেছ ২৫ গ্রামের নিচে। বছরে মাছের প্রয়োজন ৩৩ লাখ ২৪ হাজার টন। উৎপাদন হচ্ছে ২৬ লাখ টন। এর মধ্যে একলক্ষ্য টন রফতানি হচ্ছে। দেশে মাছের ঘাটতি রয়েছে ৮লাখ টনের উপরে। জলাভূমির নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ পর্যন্ত দেশের জলাভূমি কমেছে ৬৫লাখ হেক্টর। দেশের মোট ৭৩৫প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে স্বাদু পানির মাছ ২৬০ প্রজাতির এবং লোনা পানির বা সামুদ্রিক মাছ রয়েছে ৪৭৫প্রজাতির।

মাসুক মিয়া,সাদেক আলী,রফিকুল ইসলামসহ জেলার সচেতন মহল মনে করেন-বিলুপ্তি হওয়া মাছ গুলো উপাদনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যত্বে কোন ধরনের মাছের অস্তিত্বই থাকবে না। মৎস অধিদফতর দুই দশক ধরে মাছের উৎপাদন বাড়িয়েছে ঠিকেই যার মধ্যে ক্রস করে আনা বিদেশী জাতের মাছ বেশি। এর সঙ্গে নাম মাত্র দেশীয় জাতের কিছু মাছ রয়েছে অভিযোগ রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-পাওয়া যাচ্ছে না মিঠা পানির সুস্বাদু জাতের ছোট মাছ। প্রতি বছরেই সুনামগঞ্জের হাওরা লে শুকনো মৌসুমে খাল,বিল শুকিয়ে মাছ নিধন ও বর্ষার শুরুতেই অভাধে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধনের মহা উৎসব চলে। জেলেদের সচেতনতার মাধ্যমে পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। তাদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা হলে ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দেশীয় জাতীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে মিঠা পানির সুস্বাদু জাতের ছোট মাছ আর পাওয়াই যাবে না।

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,হাওরা লে শুষ্ক মৌসুমে খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রজননের মৌসুম। সব হাওরে এখনো পানি প্রবেশ করেনি। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিও জন্য আমরা সব রখম চেষ্টা করছি। ভরা বর্ষায় প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যাবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc