Wednesday 2nd of December 2020 03:37:37 PM

এম এম সামছুল ইসলাম,জুড়ী,মৌলভীবাজারঃ এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকিতে আবারো জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। এমন খবরে মহাখুশি হাওর পাড়ের জেলে সম্প্রদায়, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গেলো কয়েকদিন থেকে স্থানীয় কয়েকটি বাজারে অন্যান্য মাছের সাথে পাওয়া যাচ্ছে হাকালুকির মাঝারি ও ছোট ইলিশ। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার পর হাকালুকি তার আপন গতি বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ ছিলোনা। কারণ, ওই বছরের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বোরো ধান পঁচে পানি দূষিত হয়ে হাওরের মাছ, হাঁস, জলপ্রাণি ও উদ্ভিদ মারা যায়। এমন দূর্দিন যাওয়ার পর হাকালুকি তার গতি প্রকৃতিতে ফেরা নিয়ে দেখা দেয় দুশ্চিন্তা।

কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে হাকালুকি ফেরে তার চিরচেনা স্বরূপে। ওই বছরের শেষের দিকে হাকালুকি হাওরে আশানুরূপ উৎপাদন হয় মাছ, উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণির। কিন্তু হাওরের বিলগুলোর নাব্যহ্রাসসহ নানা সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারাতে বসে তার ঐতিহ্য। বিশেষ করে অবাধে পোনা ও মা মাছ নিধন। নানা কৌঁশলে সেঁচ দিয়ে মাছ ধরা। মৎস্য বিভাগের তরফে সময়ে হাওরে পোনা ছাড়া। আর হাওরের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য উজাড় এ যেন স্থানীয়দের নিত্য দিনের কর্মযোগ্য। নানা কারণে এখন ধ্বংসের দোড়গোড়ায় হাকালুকি। নাব্যহ্রাসের কারণে এখন বোরো হাওরে বর্ষায় ধারণ ক্ষমতার উপর থৈ থৈ পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পানিহীন ধূধূ মরুভূমি। এ কারণে চরম ঝুঁকিতে হাওরের মিঠা পানির মাছসহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। ইতোমধ্যেই হারিয়ে গেছে নানা জাতের দেশীয় মাছ, জলপ্রাণি ও উদ্ভিদ। বিশেষ করে রাণী, আইড়, শউল, গজার, বাঘাগুত্তম ও ইলিশ মাছ ছিল হাকালুকি হাওরের ঐতিহ্য। এক সময় সুস্বাদু এ মাছগুলো সব সময় হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়তো। কালের পরিক্রমায় এখন যেনো তা অনেকটাই বিলুপ্ত। গেলো কয়েকবছর থেকে অল্প করে হলেও হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ।

এ বছর গেলো কয়েকদিন থেকে অন্যান্য বছরের চাইতে বেশি ধরা পড়ছে ইলিশ। র্দীঘদিন পর ইলিশ উৎপাদনে হাকালুকি হাওর ঐতিহ্য পথে ফেরায় বেজায় খুশি সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য বছর মাঝে মধ্যে ইলিশের দেখা মিললেও এই বছর তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও হাওর পাড়ের জেলেরা। হাকালুকি হাওরের আশ-পাশের বাজারগুলোতে মাঝারি এবং ছোট সাইজের ইলিশ অন্যান্য মাছের সাথে বিক্রি করছেন স্থানীয় মাছ বিক্রেতারা।

জেলেরা জানান, এ ইলিশ সাগরের ইলিশের মতো ঘ্রাণ কিংবা স্বাদ না হলেও ক্রেতাদের চাহিদা প্রচুর। দামও পাওয়া যায় ভালো। জুড়ী উপজেলার তেঘরিঘাট, কন্টিনালা, নয়াগ্রাম, খালের মুখ, খাগটেকা এলাকায় হাকালুকি হাওরের মাছ বিক্রেতাদের কাছে গেলো ক’দিন থেকে মিলছে ইলিশ।

বিক্রেতারা জানান, হাওরের ভাসমান পানিতে এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। ওই স্থানের মাছ বিক্রেতারা জানান, জেলেরা হাকালুকি হাওরের অন্যান্য মাছের সাথে তাদের কাছে ইলিশও বিক্রি করছেন।

“হাওর বাচাঁও, কৃষক বাঁচাও” সংগ্রাম কমিটি কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা জানান, আগে সবসময়ই হাকালুকি হাওর ও কুশিয়ারা নদীতে বড় বড় ইলিশ ধরা পড়তো। এখন নতুন করে হাওরে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে। বুড়ি কেয়ারী বাঁধ হওয়ার পর ইলিশের উৎপাদন হচ্ছেনা।

বুড়িকেয়ারী বাঁধ অপসারন ও নদী হাওরের বিলগুলো খনন হলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছেরও উৎপাদন বাড়তো। আর রক্ষা পেতো মহাহুমকিতে থাকা নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc