Wednesday 2nd of December 2020 09:27:21 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ থানার সার্কেল অফিসার সিনিয়র এএসপি আশরাফুজ্জামান আশিক করোনা মুক্ত হয়েছেন বলে তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি করোনা পজিটিভ অবস্থায় বেশ কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

জানা যায়,গত ৩১ শে অক্টোবর বিকালে কাকিয়াবাজারে অনুষ্ঠিত গ্রীন কালাপুর এর ফুটবল টুর্নামেন্টের বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করার পর শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখলে এক পর্যায়ে মাঠ থেকে চলে আসেন। ওই দিন রাতে করোনা উপসর্গ থাকায় সন্দেহমূলক ভাবে করোনা টেস্ট এর জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় পরের দিন (১ নভেম্বর) করোনা স্যাম্পল প্রেরণ করা হয়,পরের দিন চলতি নভেম্বর মাসের ২ তারিখে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।তখন থেকে তিনি সরকারী  স্বাস্থ্যবিধি পালন করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন এ থেকে স্থানীয় চিকিৎসক ও পুলিশ প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সর্বশেষ আজ সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর অসীম রহমতে করোনা টেস্টের রিপোর্টে নেগেটিভ আসে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে তিনি সকল শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব ফারুক আহমেদ পিপিএম বার, ডাক্তার হরিপদ রায় প্রাক্তন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সিলেট। জনাব সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গলসহ যারা আমার জন্য দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ । তিনি আরো বলেন আপনারা দোয়া করবেন আমি যেন সুস্থ থেকে দপ্তরের সকল কাজকর্ম নিয়মিতভাবে করে যেতে পারি।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ   র‍্যাব-৯ ‘র সেই এএসপি আনোয়ার শামিম এখন চট্টগ্রাম পুলিশে। তিনি সিলেট,মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অত্যান্ত সুনামের সহিত করোনা কালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিধি আইন পালনসহ পুলিশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষক হিসেবে দিন রাত কাজ করে নেটিজেন জগতে সারা ফেলে। আজ শনিবার মধ্যরাতে  https://web.facebook.com/shamim.anwar.9889 ফেইজ বুকে একটি স্ট্যাটাস থেকে জানা যায় তিনি র‍্যাব থেকে এএসপি (রাঙুনিয়া সার্কেল) হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে যোগদান করেছেন । নিম্নে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“আলহামদুলিল্লাহ গর্বিত নীলের প্রথম আবাহন !
প্রায় আড়াই বছরের র‍্যাব অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। নতুন কর্মস্থল- এএসপি (রাঙুনিয়া সার্কেল), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। দায়িত্বাধীন এলাকা- রাউজান ও রাঙুনিয়া থানা, চট্টগ্রাম।
র‍্যাবের এই নাতিদীর্ঘ কর্মকালে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, নানাভাবে আমার পাশে থেকেছেন, নাম উল্লেখ না করেই তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা। চাকুরী জীবনে প্রথম পোস্টিংটাই ছিলো র‍্যাবে। সে হিসেবে, ট্রেনিংয়ের সময়টা যদি হিসাবের বাইরে রাখি, লীল পোশাক গায়ে জড়ানো এই প্রথম। অনেকেই অবাক হতে পারেন, কিন্তু সত্যি কথা হলো, কোন রকম, সুযোগ-সুবিধা বা তথাকথিত ক্ষমতার মোহে নয়, এই নীল ইউনিফর্মের প্রতি ভালবাসা- ভাললাগা থেকেই বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিয়েছিলাম।
ভবিষ্যতেও আপনাদেরকে পাশে পাব, আগেরই মতো, এই প্রত্যাশা করছি। দোয়া ভিক্ষা চাইছি, গায়ে যে রংয়ের কাপড়ই জড়ানো থাকুক, বাহিরে যত পরিবর্তনের ছোঁয়াই লাগুক, আলী আকবর মুন্সী এবং সুরুজ মিয়ার পৌত্রটির অন্তর্জাগতিক রং যেন অপরিবর্তিত থাকে সবসময়, আজীবন।
এ মহা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মহান অধীশ্বর, মহামহিম প্রভুর নিকট আপনাদের সবার সুখ, শান্তি ও কল্যানময় জীবন প্রার্থনা করছি।”

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: “মাদককে না বলি, সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা বাগান দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও সুনছড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান, ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, সারা বিশ্বের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ অগ্রগামী দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রযাত্রায় যুব সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের মেধাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে মাদকমুক্ত যুব সমাজ চাই। মাদকমুক্ত থাকার পাশাপাশি অন্যদের মাদকমুক্ত থাকতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়ন হবে টেকসই।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানা ও সুনছড়া বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সুনছড়া চা বাগানে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র‍্যাব-৯ সিলেট থেকে এএসপি আনোয়ার শামিম ঢাকায় চলে গেছেন।এটাই স্বাভাবিক, সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন নতুন কিছু নয়।তবে র‍্যাব-৯ সিলেট এর এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিমের বিদায় অন্যান্য বিদায়ের মতো নয় এর কিছুটা চিত্র ভিন্ন।তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও এমন একজন জনপ্রিয় কর্মবীর নেটিজেন,হাজারো নেটিজেন তার কর্মকাণ্ডে এতটায় ভক্ত যে তার ফেইসবুকের কমেন্ট গুলোর পোস্ট মর্টেম ছাড়া বুঝা মুশকিল।

সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে তার সাথে সাক্ষাতের সূত্রে তার গুনের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুনটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে, সে কথা দিয়ে কথা রাখে,মানুষকে সম্মান করে।আর এই গুন তাকে সবসময় সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মনে আজীবন স্থান করে রাখবে। নিম্নে তার নিজের ফেইসবুক থেকে  একটি স্ট্যাটাস উল্লেখ করছি যা পড়েই তার সম্পর্কে ধারনা করা সহজ হবে।

Md. Anwar Hossan     এই আইডিতে তিনি যা বলেছেন তা হুবহু কপি করে দেওয়া হলো। 

      

                                                                       “অবশেষে বিদায় সিলেট!”

“র‍্যাব-৯ এ দীর্ঘ দুই বছর কর্মরত থাকাকালীন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের কমান্ডার, করোনা রেসপন্স টিমের টিম লিডার, র‍্যাব-৯ এর অপারেশন অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর শেষপর্যন্ত বিদায় সিলেট। আজ থেকে নতুন পরিচয়, নতুন গন্তব্য র‍্যাব সদর দপ্তর, ঢাকা।

আমার জন্য বিষয়টা যুগপৎ হরিষে বিষাদ অনুভূতির। বেশ কিছুদিন আগে র‍্যাব-৯ এর সম্মানিত অধিনায়ক স্যার আমাকে করোনা রেসপন্স টিমের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে যে গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম, তার প্রথম ফল এসেছে গতকাল গভীর রাতে। ১৩ জন পজিটিভের মধ্যে সকলেরই নেগেটিভ ফল এসেছে। আগামীকাল আরো বেশ কয়েকজনের দ্বিতীয় টেস্ট, আশা করি তারাও আমাদের জন্য মঙ্গল বারতাই বয়ে নিয়ে আসবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি/মার্চে যখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব হয়, আমি তখন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার। এরপর সেখান থেকে নিয়ে এসে আমাকে করা হয় র‍্যাব-৯ এর মহাগুরুত্বপূর্ণ করোনা রেসপন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই দায়িত্বে থেকে আমি গত বেশ কিছু দিন সরাসরি করোনা রোগীদের নিয়ে ডিল করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব বর্তেছিলো এই অধমের কাঁধেই। অধিনায়ক মহোদয়কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ যে, এই সেন্সিটিভ দায়িত্বটি প্রতিপালনে তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছি, সেই মূল্যায়নে যাব না। শুধু এটুকুই বলবো, প্রথম লটে পজিটিভ হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই দ্বিতীয় টেস্টে নেগেটিভ হওয়া আমার এবং আমার টিমের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলো।

স্বস্তির বিপরীতে খারাপ লাগছে আমার রোগীদের জন্য। তারা আমাকে মিস করবেন কিনা জানি না, কিন্তু র‍্যাব-৯ এর শেষ রোগীটি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত আমি তাদের কথা ভাবব, প্রতিমুহূর্তে তাদের কথা মনে করব। আর সিলেটের এই দুই বছরে অসংখ্য ভাই, বন্ধু, শুভার্থীর (নাম উল্লেখ করলাম না) ভালবাসা, সমর্থন পেয়েছি, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনারা আমার ওপর এমন নিঃশর্ত আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা বজায় রেখেছিলেন বলেই আমি জীবনের সিলেট অধ্যায়ে অর্জনের খাতায় সামান্য কিছু হলেও যোগ করতে পেরেছি।

র‍্যাব-এর ঊর্ধ্বতন স্যারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, তাঁরা জরুরিভাবে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আমাকে আজ বিকেলেই ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন।
সবাই ভাল থাকবেন। ভাল থাকুক পুণ্যভূমি সিলেট। স্বাগতম ঢাকা।”

 

শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ রোডস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সভা অনুষ্ঠিত।  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের সাথে ভানুগাছ রোডস্থ ব্যসায়ীদের নবগঠিত কমিটির  আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫ টায় শহরের ভানুগাছ  রোডস্থ একটি রেস্টুরেন্টে ভানুগাছ রোডের ব্যবসায়ী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী হাজী সিরাজুল ইসলাম খাঁনের সভাপতিত্বে ও ভানুগাছ রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পাঠানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান (সার্কেল শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ), বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালেক, ৭ নং ওয়ার্ডের  পৌর কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-২) মীর এম এ সালাম, ৫ নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিল্লাদ হোসেন মিরাশদার ও ১ নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর  মো. আলকাছ মিয়াসহ বিভিন্ন  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আমার সিলেট সম্পাদক আনিছুল ইসলাম আশরাফী।
বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম সোহাগ,জুবায়েরসহ, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালিক ও প্রধান অথিতি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান আশিক।
আশরাফুজ্জামান আশিক তার দীর্ঘ বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন,”শহরে বা গ্রামে যারা চুরি ডাকাতি  করে তাদের চুরি ডাকাতির মালামাল যারা ক্রয় করেন তারাও চোর,নিজের সামান্য লাভের জন্য অপরের কত টা ক্ষতি হচ্ছে তা ঐ সকল ব্যাবসায়ীদের ভাবা উচিত।” তিনি তার বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, এই এলাকায় চুরি,মাস্তানি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের কোন স্থান নেই,সে কেহই হোক আমাকে খবর দিবেন,সে যত বড় অপরাধীই হোক তার বুকের পাঁটা কত বড় আমরা দেখবো,আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে সর্বদা বাধ্য, এর আগে শ্রীমঙ্গল থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালিক তার বক্তব্যে বলেন,এমপি স্যার,এসপি স্যার ও এএসপিস্যারের নির্দেশনা এই এলাকায় অপরাধের জিরো ট্রলারেন্স রাখা,আমরা সেই চেষ্টায় সবসময় আছি এবং থাকবো,সেই সাথে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।
উক্ত সভায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চুরি ডাকাতি ঠেকানোসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শ্রীমঙ্গলে আবারও ভাড়া না দেওয়ার অজুহাতে ঘর থেকে বেড় করে দেওয়ার অভিযোগ,কলোনি মালিকের অস্বীকার। শেষ পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান আশিকের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে বাসায় ফিরলেন ঐ ঘর হারা নারী।

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ বিদেশে করোনার ছোবলে নিম্ন ভিত্ত, নিম্ন মধ্য ভিত্ত থেকে মধ্য ভিত্তরা আজ বড় অসহায়। এর মধ্যে  মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে শাপলাবাগ রুবেল মিয়ার কলোনি থেকে ঘর ভাড়ার জন্য দরিদ্র এক মহিলাকে দুইটি শিশু বাচ্চাসহ বাহির করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলোনির মালিকের বিরুদ্ধে। সামাজিক অনলাইন  নেটিজেনদের মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান আশিক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঐ নারী ও তার সন্তানদের ফিরিয়ে দেন তার ভাড়াটিয়া বাসায় এবং সতর্ক করে দেন কলোনির মালিক পক্ষকে। যদিও প্রথমে থানার পক্ষ থেকে কে বা কারা পরের দিন বিষয়টি দেখে দিবে বলে মহিলাকে জানিয়েছিল।

বুধবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে শেখ সারওয়ার জাহান নামে এক নেটিজেন প্রথম তার ওয়ালে ছবিটি প্রকাশ করে,পরে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

মুল ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৩মে) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার সামনে একটি দোকানের বারান্দায় ছেলে মেয়ে দেরকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বেশ কজন নেটিজেন পথচারী ও পরে গণমাধ্যকর্মীসহ তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মহিলার ঘুমিয়ে থাকার ছবি ও ভিডিও নিয়ে রাত ১২ টার দিকে পোষ্ট দিলে বিষয়টি মুহুর্তেই আরও বেশ কয়েকটি ফেইসবুক আইডিতে ছড়িয়ে পরে। সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকের মাধ্যমে এমন ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান আশিক মহিলা ও তার সন্তানদের থানায় নিয়ে থাকার ব্যবস্থা ও খাবারের সুবিধা করে দেন। পরে রাত ৪টার দিকে শাপলাবাগ কলোনির ভাড়া বাসাতে তোলে দিয়ে আসেন এবং নগদ টাকা তার হাতে দিয়ে আবার কোন সমস্যা হলে তাকে জানাতে অনুরোধ করেন আশরাফুজ্জামান আশিক।

মহিলাটি জানায় ৭০০টাকা বাসা ভাড়া, আড়াই মাসের ভাড়া বকেয়া ছিলো, বাসার মালিক ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে, কষ্ট করে ১মাসের ভাড়া পরিশোধ করে দেয়।বর্তমানে দেড় মাসের ভাড়া বকেয়া আছে।বাকি দেড় মাসের বাসা ভাড়ার জন্য শহরের শাপলাবাগ এলাকায় কলোনি মালিক রুবেল মিয়া অসহায় মহিলাকে ভাড়ার জন্য বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।

এ ভাবেই সতর্ক করে দেন কলোনির মালিক রুবেল মিয়া ও তার বাবাকে এএসপি আশরাফুজ্জামান আশিক 

কলোনির মালিক রুবেল মিয়া জানায়, এই মহিলা এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ তার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে থাকার একটি রুম দেয়ার জন্য, পরে তার কলোনির একটি রুম ভাড়া দেয় যার ভাড়া তিনি ১ হাজার টাকা, মহিলাটি কান্নাকাটি করে বলে এতো টাকা বর্তমানে ভাড়া দিতে পারবে না, করোনাভাইরাস শেষ হলে পরে ভাড়া দিবে।পরে রুবেল মিয়া আপাদত ৭০০ টাকা ভাড়া নেয়।বর্তমানে ওই মহিলার বকেয়া কোন ভাড়া নেই।তিনি আরও বলেন,এই মহিলা গত কয়েকদিন আগে আরও একটি বিয়ে করেছে, বিয়ের কয়েক দিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়, তা জিআর পি থানা পুলিশ সমাধান করে দেয়, এর কিছু দিন পর থেকেই এই মহিলাকে রুবেল মিয়া খোজে পাচ্ছেন না।ওনার ধারনা ছিলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা শেষ হওয়ার পর হয়তো বা অন্য কোথাও গিয়েছে।

অপর দিকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন আমার সিলেটের এই প্রতিনিধিকে বলেন,”আমার ফেইবুকে এই মহিলার পোষ্ট দেখে বিদেশ থেকে আমার ভাগিনা ৩ মাসের ঘর ভাড়া ২১ শত টাকা ও আরেক জন ২১ শত টা আমার কাছে দিয়েছে এবং আমার বন্ধু মহল থেকে আরোও ৯ হাজার ২ শত টাকা আসে বৃহস্পতিবার বিকালে ঐ মহিলার কাছে নগদ টাকা ও কাপড় ছোপড় পৌছে দিবো।

এ ব্যাপারে এএসপি আশরাফুজ্জামান আশিক বলেন, আমরা অঙ্গিকার করেছি মানুষের সেবা করার,সেটা হউক রাত বা দিন।যখনই সমস্যা তখনই সমাধানের চেষ্টা আমাদের কর্তব্য। আজকের কাজ কালকে করা এমনটি আমি বিশ্বাস করি না।তাই যখনই সংবাদটি আমার নজরে পড়েছে তাৎক্ষনিক ভোর রাতেই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং ওদের বাসায় ফিরিয়ে দিয়েছি। পূর্বের সংবাদের লিঙ্ক-

শ্রীমঙ্গলে ভাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয় বাসার মালিক

কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪ – ১৯০৭) ছিলেন বাঙালি জগতে এক স্বনামধন্য কবি।যার রেখে যাওয়া সোনালি অক্ষরে লিখিত কবিতার কিছু অংশ শত বৎসর পরেও আমাদের প্রেরণা যোগায়। এই প্রেরণার প্রতিফলন যেন ফুটিয়ে তুলেছেন এক মানব প্রেমী কবি শ্রীমঙ্গল র‍্যাব-৯ ক্যাম্পে কর্মরত খাগড়াছড়ি জেলার কৃতি সন্তান এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ভাষায়-

“ চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে ” 

সরকারী একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেশের জনগণের সুখ-দুঃখ বুঝার শক্তি তার নিম্নের লেখার মাঝে ফুটে উঠেছে। তিনি ব্যথিতদের ব্যথা বুঝতে সক্ষম কতটা তা তার নিজের ভাষায় লেখা একটি স্ট্যাটাসই সচেতন পাঠকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে নেটিজেনরা বিশ্বাস করে।নিম্নে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“ধ্বংসস্তূপবাসী পরিবার এবং একটি ‘বাংলাদেশ কুটির’এর গল্প”

“২৫ এপ্রিল মধ্যরাত। স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আব্দুল কাদির। হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় এসে পুরো ঘরটিকে নিমিষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। সপরিবারে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়ে যান কাদির। প্রতিবেশিরা ছুটে এসে বিধ্বস্ত ঘরের এক কোন উঁচু করে ধরে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। কি, ভাবছেন পরিবারটির দুর্দশার এখানেই ইতি? ভুল। অভাগা কাদিরের জন্য এ ছিলো কলির সন্ধ্যা মাত্র।

শ্রীমঙ্গলের পুরানগাও গ্রামের বাসিন্দা কাদির পেশায় দিনমজুর। করোনা পরিস্থিতির কারনে কাজকর্ম না থাকায় হাতও একদম ফাঁকা। কিন্তু যত যাই হোক, ঘর বিধ্বস্ত হবার পর এখন মাথাগোঁজার ঠাঁই তো লাগবে। স্ত্রী সন্তানের মুখে দুমুঠো ডালভাত তুলে দেওয়াই যেখানে দায়, সেখানে নতুন করে ঘর তৈরির বিষয়টা কাদিরের জন্য চিন্তারও অতীত। অগত্যা আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শিদের কাছে আশ্রয় সন্ধান। কিন্তু লাভ নেই। এই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের দিনে বাড়িতে কোন অতিথি দেখতে নারাজ সবাই। সব চেষ্টা বিফল হওয়ায়, একে একে সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবার সমেত ফের এই বিধ্বস্ত কাঠামোর মধ্যেই এসে ঢোকেন নিরুপায় কাদির। আগের রাতে যেই জীবন বাঁচাতে ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে এসেছিলেন, পরদিন সেই জীবনের তাগিদেই ফের সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হলো। হায় নিষ্ঠুর করোনার দিন, হায় মানবতা!!!

সেই থেকে এখন ( ১২ মে) পর্যন্ত প্রায় ১৮টি দিন স্ত্রী সন্তানসহ এই ধ্বংসস্তুপের ফাঁকফোকরেই জীবন হাতে নিয়ে তার বসবাস। কখনো বৃষ্টির পানি রাতের ঘুমে বাগড়া দিয়েছে, কখনো সাপ- বিষাক্ত পোকামাকড় চলে এসেছে রাতের ঘুমের সঙ্গী হতে, অনন্যোপায়, অসহায় কাদির সেখানেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, পড়ে থাকতেই হয়। এর মধ্যেই একদিন প্রসব বেদনা ওঠে কাদিরের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা আর কি। এখন কি করা। এই ঘরে নবজাতক জন্ম দেওয়া আর তাকে গলা টিপে নিজ হাতে মেরে ফেলা সমান কথা। বাধ্য হয়ে কাদির নির্লজ্জের মতো সেই ফিরিয়ে দেওয়া প্রতিবেশিদের দ্বারস্থ হন আবারো। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এক প্রতিবেশী শুধু স্ত্রীকে থাকার জায়গা দিতে সম্মত হন। আর কাদির তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে পড়ে থাকেন আগেরই ঠিকানাতেই।

গতকাল বিকেলে সিভিল পোশাকে ঘুরেঘুরে এলাকার কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখছিলাম। তখনই হঠাৎ ঘর(!!)টি নজরে আসে আমার। প্রথম দেখায় মনে হবে পরিত্যক্ত কোন জঞ্জাল। কাছে গিয়ে কয়েকটি বাচ্চাকে ভেতর থেকে উঁকি দিতে দেখে অবাক না হয়ে পারিনি। এরা এই বিপদসংকুল জায়গায় কি করে!!! জঞ্জালটির সামনে যেতেই ভেতর থেকে এক প্রকার হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসেন চল্লিশোর্ধ্ব আব্দুল কাদির। শোনালেন তার দুর্ভাগ্যের ইতিকথা। কৌতূহলবশতঃ আমিও একটু ঢুকেছিলাম (অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে) জঞ্জালের স্তুপটির মধ্যে। দুই মিনিটেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসাতে দ্রুত বেরিয়ে এলাম। না, কোন মানুষের পক্ষে একদিনও এই জায়গায় থাকা সম্ভব নয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, কাদিরের তিন শিশু সন্তান সুমাইয়া(৯), নাহিদ(৭) ও সামিয়া(৪); যাদের এখন কেবল খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকার কথা, তার বদলে তারা সারাক্ষণ শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সর্বনাশা কালবোশেখী যেভাবে তাদের ঘরটিকে মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছিল, জঞ্জালের মধ্যে এই দীর্ঘ জীবন শিশুগুলোর মনোজগতকেও কি প্রতিনিয়ত একইভাবে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে চলেছে!!!

আমি ও আমাদের শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার কাদিরের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আমার নিজের ১০ হাজার টাকার সাথে ক্যাম্পের অন্যান্য সদস্যদের স্বেচ্ছায় দেওয়া ২ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১২ হাজার টাকা সন্ধ্যার আগেই কাদিরের হাতে তুলে দিয়ে আসি। ঘর নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়ে যাক। প্রতিবেশিদেরকেও সাধ্যমতো পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ আগে আজ আবার গিয়ে দেখি, এর মধ্যে নির্মানকাজ শুরু হয়ে গেছে। নির্মানে যুক্ত শ্রমিকেরা কোন টাকা নেবেন না বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবেশী অনেকেই বিভিন্ন নির্মানসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যারাই কাদিরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন, তাদেরকে আমি ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট উপহার হিসেবে দিয়ে এসেছি।
এছাড়াও কর্মহীন কাদিরের পরিবারকে কিনে দিয়ে এসেছি ৫০ কেজি চালসহ পরিমাণমতো ডাল, সেমাই, চিনি, আলু, তেল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। আপাতত কিছুদিন পরিবারটা খাবারের টেনশন থেকে মুক্ত থাকুক। আরেকটি কাজ করে এসেছি- কাদিরের ঘরটির নামকরণ। কাজ সম্পন্ন হবার পর এই ঘরের নাম হবে ‘ বাংলাদেশ কুটির’। বিপদের মুহূর্তে আমরাসহ তার অন্যান্য প্রতিবেশীদের সহায়তায়ই এই ঘরের নির্মাণ। আর পরস্পরের প্রতি এই সহমর্মিতাই আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ। এই নামকরণের পেছনের কারন এটাই।

আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যেই ধ্বংসস্তুপের উপর সগর্বে মাথা তুলবে আব্দুল কাদিরের ‘বাংলাদেশ কুটির’। দুঃস্বপ্নের প্রহর পেরিয়ে ঘরের মেঝেতে আবার নানারকম খেলায় মেতে উঠবে খুদে সুমাইয়া, নাহিদেরা। সকলের নিকট অনুরোধ- এই করোনার দিনে আপনাদের নিজ নিজ এলাকাতেও একটু খোঁজখবর রাখুন। সেখানেও আছে কি কোন আব্দুল কাদির পরিবার? করোনার এই বৈশ্বিক মহামারির দিনে কাজ হারিয়ে অর্থাভাবে এমন ভয়াবহ দুর্দশায় পতিত আছেন যারা, প্লিজ তাদের পাশে দাঁড়ান।” 

কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে প্রায় আড়াই’শতের অধিক কমেন্ট থেকে একটি কমেন্ট নিম্নে উল্লেখ করছি, তিনি বলেন  NaZmuL HaSaN LinKoN আমাদের ডিফেন্সে এমন কোনো বাহিনী আছে যানা ছিল না।।।।। এমন একটা কারণে আমার ইচ্ছে ছিল আর্মিতে যাওয়ার কিন্তু বাগ্যে জুটে নায়। কিন্তু আমার এমন বাহিনীর জন্য আমার কিছু বলার থাকে না। আমার এমন আরও অনেক এমন কিছু কথা শুনে বাহিনীতে যোগদানে অনুপ্রাণিত হবে ইনশাল্লাহ।।।।। হয়ত এটার ফল আপনি এহন না ও পেতে পারেন? কিন্তু এটার আনন্দ সব কিছুর থেকে বেশি।
বাহিনী যোগদানের মানে এটা না যে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যোগদান করবেন। 

“এক সময় অভিযোগ ছিল চালকদের থেকে র‍্যাব-পুলিশ পয়সা নেই আজ দেখা গেলো তার উল্টো চিত্র,আইন মান্যকারী ক্ষুদ্র চালকদের হাতে পয়সা তুলে দেওয়ার” 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম একের পর এক ঘটনা সৃষ্টি করে চলেছে যা মৌলভীবাজার জেলাবাসী অনেক দিন মনে রাখবে।তার এই নিত্য নতুন কায়দায় অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান ও সাধারণ লোকদের প্রতি ভালো বাসার সাথে সচেতনতা তৈরির প্রক্রিয়া সত্যি চমক তৈরি করেছে মিডিয়াসহ নানা মহলে। “শাসন করা তারই সাজে,সোহাগ করে যে জন” শত বছরের এই প্রবাদ বাক্যের হুবহু বাস্তব চিত্র একে চলেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার দিনভর মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তার নেতৃত্বে তৎপর ছিলেন র‍্যাব সদস্যরা। যেসব ক্ষুদ্র যানবাহনে একাধিক যাত্রী পাওয়া গেছে, তাদেরকে  তাৎক্ষণিক নামিয়ে দিয়ে খালি রিকশা বা ইজি বাইকে তুলে দিয়েছেন র‍্যাব সদস্যরা। শুধু তাই নয়, সরকারি নির্দেশনা মান্যকারী রিকশা চালকদেরকে দশ টাকা করে বকশিসও দিয়েছেন তারা, শর্ত একটাই- করোনা পরিস্থিতি থাকাকালীন কখনো সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গ করে একাধিক যাত্রী তারা রিকশায় নেবেন না। এসময় একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রিকশা বের না করতেও অনুরোধ জানান তারা। রিকশা চালকেরা খুশি মনেই শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বকশিসটি গ্রহণ করেছেন।

এভাবেই তুলে দিচ্ছেন ক্ষুদ্র চালকদের হাতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা প্রণোদনা।তবুও যেন আইন মেনে চলে।

আজ দুপুর ২ ঘটিকার সময় শ্রীমঙ্গল চৌমোহনায় সরেজমিনে দেখা যায় সারি বেঁধে চলমান যানবাহনের পাল্লা। এর বেশিরভাগই রিকশা অথবা মোটরসাইকেল। এক সময় অভিযোগ ছিল চালকদের থেকে র‍্যাব-পুলিশ পয়সা নেই আজ দেখা গেলো তারা উল্টো চিত্র,আইন অমান্যকারী ক্ষুদ্র চালকদের হাতে পয়সা তুলে দেওয়ার।এই সময় চলমান রমজানের রোজা রেখে এই কাঁঠাল ফাটা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন র‍্যাব সদস্যরা। যে যানবাহনেই সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘনের প্রমান পাওয়া গেছে, তাদেরকেই থামাচ্ছিলেন তারা। বাবা ও ছেলে এক মোটরসাইকেলে চড়ে বাজার থেকে ফিরছিলেন। চৌমোহনা মোড়ে পৌঁছামাত্র পড়ে যান র‍্যাবের থাবায়। শত অনুরোধে কর্ণপাত না করে র‍্যাব সদস্যরা পুত্রকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে খালি একটা রিকশা ডেকে তাতে তুলে দেয়। সাথে রিকশাওয়ালার হাতে ধরিয়ে দেয় নগদ দশ টাকা বকশিস। আজ সারাদিনে এভাবে মোট শতাধিক রিকশা চালককে এমন বকশিস দেওয়া হয়েছে মর্মে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম থেকে চালক খুশি হয়ে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার প্রণোদনা গ্রহণ করছেন। 

এ প্রসঙ্গে র‍্যাব-৯ এর এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, সরকার কর্তৃক আগামী ১০ মে হতে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরুর সিদ্ধান্তের পর রিকশায় একাধিক যাত্রী বহনকে আমি সামাজিক দূরত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। তাই রিকশাচালক ভাইদেরকে তাদের বাহনে একের অধিক যাত্রী না নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আমরা তাদেরকে সামান্য বকশিস প্রদান করেছি।

এছাড়াও সরকার কর্তৃক গৃহীত নতুন সিদ্ধান্তকে লোকজন যেন সামাজিক দূরত্ব অমান্যের লাইসেন্স মনে না করেন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা মাঠে সতর্ক রয়েছি। কোন ক্ষুদ্র বাহন ; যেমন মোটরসাইকেল বা রিকশায় একাধিক যাত্রী দেখা গেলে আমরা একজন থেকে বাকিদেরকে নেমে যেতে অনুরোধ জানিয়েছি।

এই টাকা সরকারি খাত থেকে খরচ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এএসপি আনোয়ার বলেন, ‘না, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তাই খরচটিও করছি নিজের পকেট থেকেই। আমি আসলে ছোটখাটো আভিযানিক খরচের ক্ষেত্রে সরকারি টাকার দিকে তাকিয়ে থাকার পক্ষে নই। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এরকম হলে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করাটা কঠিনতর হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে একের পর এক ব্যতিক্রমধর্মী কাজের মাধ্যমে দেশবাসীর মনোযোগ আকৃষ্ট করেছেন র‍্যাব-৯ এর এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ  ২৬ এপ্রিল রবিবার মধ্যরাতে প্রসবকালীন জটিলতায় জীবন সংশয়ে পড়া এক প্রসূতি নারীকে নিজের সরকারি গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।  শুধু তাই নয়, শিল্পী রানি পাল নামের এই নারীকে কোলে করে তিন তলার প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে যান এ র‍্যাব কর্মকর্তা, যা দেশব্যাপী প্রশংসার ঝড় তোলে। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিরাপদে পুত্র সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পরের দিনই নারীর স্বামী রনজিত দাস এএসপি আনোয়ারকে ফোন করে নবজাতকের নাম ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সন্তান জন্মলাভের প্রায় এক সপ্তাহ পর আজ ছিল নবাগত শিশুটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা। যথাসময়ে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন দক্ষিণ উত্তরসূর গ্রামে রনজিত দাসের বসতবাড়িতে উপস্থিত হয়ে শিশুটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তা। তার  অনুরোধে কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত  একেবারে ঘরোয়াভাবে সম্পন্ন হয় নামকরণের প্রথা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওই বাড়ির কাউকে বাইরে আসতে দেননি, এমনকি তিনি নিজেও যাননি ঘরের মধ্যে। দরজার সামনে উঁকি দিয়ে তিনি বাচ্চাটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি নবজাতকের হাতে একটি কলম তুলে দেন এবং তার মায়ের জন্য কিছু উপহারসামগ্রীও হস্তান্তর করেন। এ প্রসঙ্গে বাচ্চাটির মা শিল্পী রানী পাল জানান, স্যার যে আমাদের বাড়িতে এসে আমার সন্তানের নাম রেখে গেলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। আমি চাই, আমার ছেলে বড় হয়ে যেন স্যারের মতোই একজন মানুষ হয়।
বাচ্চাটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখার কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের একজন বড় ভক্ত আমি। তাছাড়া ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখতেও অনেক পছন্দ করতাম সেই ছোটবেলা থেকে৷ এই দুজনের মহাগুণী মানুষের নামের সাথে মিলিয়েই শিশুটির নাম রেখেছি আমি। তিনি আরো বলেন, ছেলেটি বড় হয়ে কি হবে-  না হবে, অনেক পয়সাওয়ালা বা জ্ঞানীগুণী হবে কিনা, তা নিয়ে আমার কোন চাওয়া নেই। শুধু চাই, সে যেন একজন মানুষ হয়। মানবজাতি এবং অন্য সকল সৃষ্ট জীবের প্রতি গভীর ভালবাসা বুকে ধারণ করেই যেন সে বেড়ে ওঠে- মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট নবজাতকের জন্য এটাই আমার দোয়া।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এএসপি আনোয়ার তার মানবিক কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। তিনি ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন উত্তর বড়বিল গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বিলকিস বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। পুর্বের নিউজ লিঙ্ক দেওয়া হল-
http://www.amarsylhet24.com/%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8/?fbclid=IwAR2Iu9RXnKFCYzJuwgMzyTXqHdCBLJDazES5TIQrwIzbsDBSys4GlRxxhLw

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কমলগঞ্জ  প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে  সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিমিত্তে সরকার কর্তৃক লকডাউনে  দোকানপাঠ বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও সংস্থা। এরই প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতের আঁধারে  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা  দোকানী  ও সেলুন  কর্মীদের  চাল ডাল ইত্যাদি  খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন মৌলভীবাজারের  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  (কমলগঞ্জ -শ্রীমঙ্গল  সার্কেল ) মোঃ আশরাফুজ্জামান ।

এভাবেই রাতের আঁধারে খাবারসামগ্রী পোঁছে দিচ্ছেন কর্মহীনদের বাড়িতে- এস পি আশরাফুজ্জামান আশিক।

এদিন  রাত  দশটায় সামাজিক  দূরত্ব  বজায় রেখে  আদমপুর ইউনিয়নের নৈনারপার বাজারে  কর্মহীন  ষোলজন  ক্ষুদ্র  চা  দোকানী  ও সাতজন  সেলুন কর্মীদের  মাঝে  চাল, ডাল  আলু  ইত্যাদি  খাদ্য  সামগ্রী  বিতরন  করেন । এ সময় কমলগঞ্জ  থানার ওসি  আরিফুর রহমান,  কমলগঞ্জ  প্রেস ক্লাবের  সহ  সভাপতি  শাব্বির  এলাহী ,  নৈনারপার  বাজার  ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক  আব্দুস  শহীদ  প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,দেশের পুলিশ প্রশাসনের অতীতের যে কোন ইতিহাসকে পিছনে ফেলে ২০২০ সালের চলমান কোভিড-১৯ ভাইরাসের ছোবলে সৃষ্ট মহামারীর ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সামাজিক সচেতন মহল ধারনা করছে।ভবিষ্যতেও সেবামূলক এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি সচেতন মহলের।

“ঝড়বৃষ্টির রাতে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের খাবারের সংস্থান করে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম” 

 

জহিরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঝড়বৃষ্টির রাতে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের খাবারের সংস্থান করে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) সন্ধ্যারাত। মৌলভীবাজারের আকাশে তখন ঘন কালো মেঘ, বৃষ্টি-ঝড়ো হাওয়ার সাথে ঘন ঘন বিজলিও চমকাচ্ছে সমানতালে। ভয়ে অনেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে। হঠাৎ বৃষ্টির কারনে বেশিরভাগ সংস্থার ত্রাণ তৎপরতাও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে, এ সময় শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র নিকট নির্ভর যোগ্য সুত্রে খবর আসে যে, শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের পুর্বপাড়ার অনেকগুলো সংখ্যালঘু “শব্দকর” (স্থানীয়দের কাছে ঢুলি পাড়া নামে পরিচিত) পরিবারের সদস্যরা কয়েক দিন কাজে না যেতে পেরে সারাদিন অভুক্ত অবস্থায় আছে। এখুনি ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব না হলে এদের অনেককেই রাতেও অবুঝ সন্তানসন্ততি নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে খেটে খাওয়া এ মানুষগুলোকে।

সংবাদ পেয়ে ঝড়বৃষ্টির মধ্যেই দুর্গতদের নিকট ছুটে যান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। গাড়ি চলাচলের রাস্তা নেই বিধায় তিনি ও তার সঙ্গীয় অন্যান্য র‍্যাব সদস্যরা দুই হাতে ত্রাণের বস্তা বহন করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাদাপানি মাখামাখি হয়ে অভুক্ত মানুষ গুলোর নিকট পৌঁছান এবং অধিকতর অসচ্ছল মোট ১৫ টি পরিবারের নিকট পৌঁছে দেন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। এসময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা বিধবা সন্ধ্যা রানী কর ও তার অবুজ সন্তানরা।ছবি-এনিমেটরস মিডিয়া

সাহায্যপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম রাজাপুর বস্তির বাসিন্দা বিধবা সন্ধ্যা রানী কর, যিনি তার দুই শিশু কন্যাসহ সারাদিন অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন। সূর্য পাটে যেতেই ঝড়বৃষ্টির আভাস দেখে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে, সকাল থেকে যে ত্রাণের আশায় বসে আছেন, রাতেও সেটা আর পাওয়া হচ্ছে না। সকাল এবং দুপুরের মতো রাতেও তার সন্তানদের মুখে এক মুঠো দানাপানি তুলে দিতে পারবেন না ভেবে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন এ মধ্য বয়স্ক নারী। এমন সময় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিয়ে তাদের পাড়ায় হাজির হন র‍্যাব কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে যখন সারা পৃথিবীর বাঘা বাঘা দেশ লণ্ডভণ্ড তখন বাংলাদেশও পড়েছে এই ছোবলের আঘাত। অঘোষিত লক ডাউনে বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে মহাসঙ্কটে। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি পালনকল্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে নিজের সুরক্ষার প্রয়োজনেই বাইরে যেতে পারছেন না নিম্ন আয়ের এসব মানুষ। সরকারের তরফে পর্যাপ্ত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ফাঁকফোকরে এই সঙ্কটের শিকারে পরিণত হয়ে যাচ্ছেন সন্ধ্যা রানীর মতো কেউ কেউ। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরো প্রাপ্যতা ও লক্ষ্যভিত্তিক করা প্রয়োজন বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সন্ধ্যা রানী বলেন, “বৃষ্টি বাদলা হতে দেখে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন, সারাদিনের উপোস বাচ্চাগুলোকে রাতেও আর উপোস না থাকতে হয়। আমি না খেয়ে থাকি থাকি, বাচ্চাগুলোর একটা ব্যবস্থা যেন হয়। এমন সময় ভগবান র‍্যাব স্যারকে চালডাল দিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন”।

ঘটনাস্থলে শব্দকর পরিবারের আশপাশের অনেকের সাথে সরেজমিনে এই প্রতিবেদক কথা বললে সমীরণসহ অনেকেই স্বীকার করেন এবং বলেন ”আমরা এমন র‍্যাব অফিসার দেখিনি, আমরা যখন ঘর থেকে বাহিরে যেতে সাহস পাইনি তখন তিনি নিজেই আরও র‍্যাব সদস্যদের নিয়ে ছাতা মাথায় করে ভিজে কাদা মাটিতে ভরে পায়ে হেটে ঝর-তুফানের মধ্যে আমরার মত অতি সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। আমরা প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম।পরে উনাদের হাতে প্যাকেট দেখে সাহস পাই। আমরা এই স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা চাই এমন অফিসার যেন সমাজে অনেক দিন বেঁচে থাকে।”

শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।ফাইল ফটো,

অপরদিকে এই ঘটনাকে নিয়ে নিজের আইডিতে এবং ফেসবুক পেজ Shamim Anwar এ একটি ভিডিও পোস্ট করেন এ র‍্যাব কর্মকর্তা, যেখানে দেখা যায় খাদ্য সাহায্যের প্যাকেট নিতে গিয়ে অঝোর ধারায় চোখের জল ফেলছেন বিধবা সন্ধ্যা রানী কর। এএসপি আনোয়ার এসময় বোন সম্বোধন করে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ফেসবুক পোস্টের পর থেকেই নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। জনৈক রেজাউল ভুইয়া লিখেন, “সারা বাংলাদেশ একদিন আপনার মত মানবিক মানুষে ভরপুর হবে এটাই প্রত্যাশা রইলো। আর অনেক অনেক দোয়া রইলো আপনার জন্য”। আজিম উদ্দিন নামের অন্য আরেকজন লিখেন, “চোখে পানি চলে আসলো। ধন্যবাদ স্যার। এভাবে সবাই মানুষের পাশে থাকতে হবে”। সংবাদ লেখা পর্যন্ত র‍্যাব কর্তার এই স্ট্যাটাসে ১ হাজার এক শতের অধিক লাইক, প্রায় দেড় শতাধিক কমেন্ট ও ১১৭ টি শেয়ার করা হয়।

নিচে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
“”আজ সন্ধ্যায় বাইরে যখন ঘনঘোর বর্ষণ, বেশিরভাগ সংস্থার ত্রাণ তৎপরতা যখন ‘আজকের জন্য’ বন্ধ, তখন আমি এবং আমার টিম RAB-9 ছিলাম উপোস মানুষগুলোর দুয়ারে দুয়ারে। বৃষ্টির পানিতে আসল আগুন নিভলেও ক্ষুধার আগুন তো আর নেভে না। যে বিধবা আজ সকাল থেকে দুই শিশুসন্তান নিয়ে না খেয়ে আছে, সে-ই জানে ক্ষুধার জ্বালা কি জিনিস! তাই এ ঝঞ্ঝাময় বাদলধারার দিনে অন্য অনেকের ত্রাণ তৎপরতা থেমে যাওয়ার মুহূর্তে আজ আমাদের ছিল বর্ধিত আয়োজন। অন্যদের জায়গাগুলোতেও তো আজ আমাদের যেতে হবে!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশ অনুযায়ী ঘরেঘরে যেয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছি। সত্যি বলছি এই মহিলার কান্না দেখে আমি নিজেরই চোখের পানির বাধ মানাতে পারিনি। তাঁর কাছ থেকে আমাদের কতো কিছু শিক্ষনীয়! না খেয়ে আছেন, তবুও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঘরের বাইরে যান নি। সবাইকে বলছি, প্লিজ আর কয়েকটি দিন ধৈর্য ধরুন। সাময়িক কষ্ট হলেও প্লিজ সবাই ঘরে থাকুন। ত্রাণ আপনার কাছে পৌছে যাবেই। করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করে ইনশাআল্লাহ ঘুরে দাঁড়াবেই এই অপরাজেয় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ পরাজিত হতে পারে না, পরাজিত হবে না। [Md. Anwar Hossan (Shamim Anwar), এএসপি, র‍্যাব-৯, সিলেট। কমান্ডার, শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প।]

উল্লেখ্য, মো. আনোয়ার হোসেন শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে পড়াশুনা করার পর ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি র‍্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc