Sunday 25th of October 2020 09:58:48 PM

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ  নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উজান থেকে আসা পানির ঢলে আত্রাই নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বর্তমানে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া ও মধুগুড়নই গ্রামে বেড়ি বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শিবপুর গ্রামের অর্ধেকাংশ পানির নিয়ে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও পানিবন্দী হয়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে পানিবন্দী প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার সব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে।

আত্রাই-নওগাঁ সড়কের সদুপুর নামক স্থানে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং আত্রাই-পোড়াখালী সড়কের উপর হাঁটু পরিমান হয়েছে ফলে এ সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও কাশিয়াবাড়ি স্লুইচগেটের উপর দিয়ে এবং আত্রাই- বান্দাইখাড়া সড়কের জাতআমরুল নামক স্থানের সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে এসব সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আত্রাই-নওগাঁ, আত্রাই- বান্দাইখাড়া, আত্রাই-কালীগঞ্জ এবং আত্রাই-সিংড়া সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সানাউল ইসলাম জানান, আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার আত্রাই-নওগাঁ আ লিক সড়কের রসুলপুর, বান্ধাইখাড়া সড়ক ও মালিপুকুর সড়কে ফাঁটল দেখা দিয়েছে এবং তা ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কগুলো রক্ষায় জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বন্যা মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে মঙ্গলবার (৯জুলাই)রাত সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বর্তমানে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৪দিন অব্যাহত বর্ষন আর পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪১সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরন কেন্দ্র।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে,ভারতের মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে সুনামগঞ্জে।

গত তিন দিনের বর্ষণ ও ঢল অব্যাহত রয়েছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সুরমা,যাদুকাটা,সোমেশ্বরী,খাসিয়ামারা,চেলাসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদ নদীর পানি বেড়েছে। প্রধান নদী সুরমার পানি বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪১সেঃমিঃ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্না লসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ঘন্টায় ১৭৫মিঃ মিঃ রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া।
তিনি বলেন,প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নদ নদীর পানি বেড়েছে এতে পানিবন্ধি হয়ে পরেছেন নিন্মা লের মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। একারণে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা সদরসহ, বিশ্বম্ভরপুর,তাহিরপুর,দোয়ারাবাজার,ছাতক,জামালগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু অভ্যন্তরীন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জেলার নিন্মা ল।
শক্তিয়ারখলা গ্রামের বাসীন্দা কামাল হোসেনসহ অনেকেই জানান,পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর-আনোয়রপুর-আনোয়ারপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রভাবিত হওয়ায় এই দুই উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। এই সড়কটির(দূর্গা অংশে)পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত হলেই বর্ষা মওসুমে সাময়িক তলিয়ে যায়।
আনোয়ারপুর গ্রামের জাকেরিন চমক জানান,তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ একবারেই বন্ধ রয়েছে। পানি বাড়ার কারনে নিন্মা লের মানুষ আতংকের মাঝে আছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান,তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন তাহিরপুর-বাদাঘাট,বাদাঘাট সোহালা,বাদাঘাট-টেকেরঘাট-বাগলী সড়কও ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়াও তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক একাধিক স্থানে ভাঙ্গন ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এতে করে জনজীবনে এসেছে দুর্ভোগ। আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেক্ষে সর্তক অবস্থানে আছে সবাই।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকল উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় ৩হাজার ৭শ ৩৫প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকা ও সকল উপজেলায় মেডিক্যাল টিম গঠন করার জন্য সোমবার রাত ১১টায় নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

“দুদিনের বৃষ্টিতে পানি বেড়ে বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কমলগঞ্জে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ১টি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার আশঙ্কা”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪জুন,বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধি:   টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শরীফপুরে মনু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপর দিকে কমলগঞ্জে ধলাই নদের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রামেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ।

তিনি জানান, সৃৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত সোমবার (১১ জুন) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১২ জুন) সারাদিন অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে মনু ও ধলাই নদের ১১ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহিাড়ি ঢলের  স্রুোতের আঘাতে চাতলাপুর এলাকায় কুলাউড়ার মনু সেতু সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতেও শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে।

কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও তাতে ধলাই নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে কমলগঞ্জ করিমপুর গ্রাম এলাকায় পুরাতন প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বাদে করিম পুর গ্রামে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে জনপদে ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করছে বলে জানান, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নওরোজ মিয়া। তিনি জানান, যত সময় যাচ্ছে দ্রুত গতিতে পানি বাড়ছে। ইতিমধ্যে এ দুই এলাকার কয়েকশত মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের আরও ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে জানান, ইউপি সদস্য নওরোজ মিয়া। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী বলেন, গত দুদিনে পানি বেড়েছে ১১ ফুট। আরও ২/৩ ফুট পানি বেড়ে গেলে বাঁধের উপর দিয়েই গ্রামে পানি প্রবেশ করবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, বাদে করিমপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত গেিতত পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ২০

হেক্টর জমির রোপিত আউশ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ডোবে গেছে পাকা সড়কসহ গ্রামীণ বিভিন্ন সড়ক। অনেকের বাড়ির উপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

এদিকে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙ্গে মানুষজন পানি বন্ধীর সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সতর্কতার সাথে নজরদারী করছে বলে জানান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩মে,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ      হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩০গ্রামের মাঝখানের খোয়াই নদীর উপর পাকা সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে চলাচলে একমাত্র ভরসা।

৩০টি গ্রামের শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। দুই ইউনিয়নের  গ্রামবাসীর দুঃখের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই সাঁকো।

সরেজমিন দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের চরনূর আহমদ,লেঞ্জাপাড়া, বড়চর, এতবারপুর, কলিমনগর, আলাপুর, জগতপুর, বাতাশর, রতনপুর, হামুয়া, চর হামুয়া, সুদিয়াখলা, বাগুনিপাড়া এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের উত্তর চর হামুয়া, দক্ষিণ চর হামুয়া, হাতির তান, লস্করপুর, মশাজান, শুলতানশী, নোয়াগাও, বাতাশর, বনগাও, সুঘর, চর হামুয়া, হামুয়া,গঙ্গানগর আদ্যপাশা, কটিয়াদি  গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে পারাপাড়।

গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়, কলেজে, মাদরাসায়, যাতায়াত করে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, ওই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার লোক জীবনের তাগিদে ও দৈনন্দিন কাজে যেমন যাতায়াত করে তেমনি উক্ত দুই ইউনিয়নের কৃষক কৃষি কাজের জন্য সাঁকোটি ব্যবহার করেন।

একদিকে যেমন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তেমনি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা স্বীকার হতে হয় এই সাঁকোতে। স্থানীয় জনতা প্রতি বছরই এই সাঁকো মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ এবং দৈনন্দিন কর্মসংস্থানের কারণে সাঁকো পেরিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রিসহ রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এলাকাবাসীর প্রাণের  দাবি এমতবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীর। তাদের দাবি ওই খোয়াই নদীর  ওপর সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে নদীর দুই পাড়ের হাজার মানুষের জীবনযাত্রা।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নির্বাচনের সময় জনপ্ রতিনিধিরা প্রতিশ্র্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তা বাস্তবায়ন করে না। হয়নি তাই এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় এই বাঁশের সাঁকো স্থাপন করে। চর হামুয়া  গ্রামের রফিক আলী বলেন, আমাদের চাষাবাদের জমিসহ খোয়াই নদীর ওপারে হওয়ায় এই সাঁকো দিয়ে ফসল আনা-নেয়া করতে হয়। প্রতিদিনই এখান দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্কুলে যাতায়াত করে।

উত্তর চর হামুয়া  গ্রামের শফিক মিয়া জানান, এই বাঁশের সাঁকো দুই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষ দুঃখ প্রকাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই দেখছি খোয়াই নদীতে বন্যার সময় নৌকা পারাপাড় এবং  কম পানিতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলতে হয়েছে। কবে চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদীতে ব্রিজ হবে তা জানি না। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে উভয় ইউনিয়নের লোকজনই উপকৃত হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬অক্টোবরঃ  নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ এন্ড টেকনোলজি খুলনা এর ইংরেজী বিভাগারে আয়োজনে শুদ্ধ ইংরেজী উচ্চারণের উপরে আজ ১৬ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটেডিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে সদন বিতরন করেন, ব্যবসায় অনুষদের ডীন প্রফেসর এ.বি.এম রাশিদুজ্জামান সে সময় তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শুদ্ধ ভাবে ইংরেজী বলার বিকল্প নাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রউফ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব এস.এম. মনিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারি পরিচালক ড.মো: আলাউদ্দীন
দিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষন কর্মশালায় ইংরেজী ধ্বনি বিজ্ঞানের উপর সহজ কৌশল আলোচনা করেন মো: মোজ্জাফ্ফার হোসেন, বিভাগীয় প্রধান ইংরেজী বিভাগ এনইউবিটি খুলনা।
এছাড়া ইংরেজী বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ইংরেজী ধ্বনি বিজ্ঞানের আরো কিছু কৌশল শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। ওয়ার্কশপ টিতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০জুন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   হবিগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে খোয়াই নদীর পানি।
আজ মঙ্গলবার সকালে নদীর বাঁধের মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অনেক দুর্বল স্থানে নিজেদের উদ্যোগেই বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন শতশত মানুষ।

এভাবেই ভরে উঠেছে খোয়ায় নদীর বুক।

সোমবার সারারাত শহরের বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, আগে থেকে সতর্কতা থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। শহরের ৩/৪টি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরো জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীর বাঁধ ঘুরে দেখছেন। যেখানে ত্রুটি বা ভাঙনের আশংকা রয়েছে, সেখানে বালুর বস্তা ফেলে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলা করতে ১০ হাজার বস্তা বালু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খোয়াই নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে।

এ নদীটি জেলার চুনারুঘাট, বাহুবল, সদর, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে।
রোববার দুপুর থেকে জেলায় প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। বর্ষণের ফলে রোববার মধ্যরাতের পর থেকে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

সোমবার সকালে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে।তবে নদীর উজানে বাংলাদেশ অংশের বাল্লা সীমান্ত এলাকায় পানি কমছে।

 হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওড় গুলোর ধানী জমি তলিয়ে যাচ্ছে,কাঁদছে কৃষক!

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৬এপ্রিল,শংকর শীল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রায় ১৯ দিনের বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জ, বানিয়াচঙ্গ হবিগঞ্জ সদর,উপজেলার ভাটি অংশের ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিনরাত হাওরের ফসল রক্ষায় কাজ করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ বাধগুলোতে তারা নিজের উদ্যোগে মাটি ভরাট করছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোন সহায়তা করছেন না। হবিগঞ্জের খোয়াই নদীসহ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কালনী, কুশিয়ারা ও ভেড়ামোহনা নদীতে গত ৪৮ ঘন্টায় ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিপদসীমার হবিগঞ্জে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর এক ফুট পানি বাড়লেই বাধ তলিয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমি। পাশাপাশি আশপাশের হাওরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) কাকাইলছেও ইউনিয়নের মাহতাবপুর এলাকায় বাধের উপর দিয়ে পানি হাওরে ঢুকে হাওরের জমি তলিয়ে গেছে। কৃষকরা তাৎক্ষণিক বাধটি বাধেন। পানি আরো বাড়লে বাধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, উপজেলার নিচু এলাকার অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার সাতগাঁও বাধ, বছিরা নদীর খালের বাধ, কাটাগাঙ্গের বাধা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়া জানান, কৃষকরা যে আশা নিয়ে তাদের জমিতে ফসল ফলিয়েছিলেন সে ফসল আজ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মাহতাবপুরে বাধের উপর দিয়ে পানি উঠলে তাৎক্ষণিক কৃষকরা বাধটি বাধলেও বুধবার বাধটি ছুটে গেছে। এতে কাকাইলছেও শিবপাশা ইউনিয়নসহ বানিয়াচঙ্গ উপজেলার মুরাদপুর পৈলারকান্দি, সুজাতপুর ইউনিয়নের নিচু জমিগুলো তলিয়ে গেছে। তিনি স্থানীয়ভাবে বাধগুলো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বুধবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং ইকরাম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢলের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। অনেকে কৃষকরা তাদের কাচাঁ জমি কেটে ফেলেছেন। ইকরাম গ্রামের সামছুর রহমান জানান, এবার আমি ৮০ কের জমিতে বোরো ধান চাষ করছিলাম। কিন্তু ৬০ কের জমি পানিতে তলি গেছে। আর মাত্র ২০কের জমি বাকি রয়েছে। পানি বাড়লে এ জমিগুলো কাটতে পারবো না। তিনি বলেন-ওই এলাকার কাতিয়া, হুগলী, জিনারজুড়ী, হিজলীসহ বেশ কয়েকটি হাওরের সম্পন্ন সফল তলিয়ে গেছে। সরকারের কাছে একটাই দাবি আমাদের সফল যাতে রক্ষা পায় সে দিক বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার। কুমড়ী গ্রামের বাসিন্দা শচীন্দ্র কলেজের ছাত্র মাহফুজুল ইসলাম জানান, তাদের ৫ একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া এলাকার শত শত হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আজমিরীগঞ্জের নোয়াগরের কৃষক শাহজাহান মেম্বার জানান, কাটাগাঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না হওয়ায় পলি পড়ে তা ভরে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাওর হুমকিতে পড়ে যায়। এছাড়া বেড়ি বাধ না থাকায় ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে কি-না বলা মুশকিল। তিনি সরকারের কাছে খাল খনন ও বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানান।
কৃষক রেনু মিয়া জানান, এই ফসল হল তাদের একমাত্র অবলম্বন। যদি ফসল রক্ষা করা না যায় তাহলে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ দায় হয়ে পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় নলাইর হাওর,
কোদালিয়া হাওর, ঝিনুয়া হাওর ও মাকালকান্দি হাওরের ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ দিচ্ছেন।নোয়াগাওড় হাওরে অনেক কৃষককে কাঁচা ধান কেটে নিতে দেখা যায়।
কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তার বেশ কিছু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সেগুলো তিনি কেটে আনছেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য। গফুর মিয়া জানান, বৃষ্টি আসার আগেই যদি বাধ নির্মাণ করা যেত তাহলে জমির ফসল রক্ষা করাএসম্ভব হত। কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এই হাওরে তার ৮ একর জমি রয়েছে। এবার ধান পাকার আগেই জমি তলিয়ে গেছে। ফলে এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না।
কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে দুই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু পানিতে পুরো হাওরই তলিয়ে গেছে।কৃষক সুমন মিয়া জানান, ধানে সবে রঙ ধরেছে। এর মাঝেই তলিয়ে গেছে।এগুলো কেটে আনলে গরুকেও খাওয়ানো যাবে না। সবুজ মিয়া জানান, তিনি ৯ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।জমির সামনে দাঁড়ালে চোখ জুড়িয়ে যেতো। কিন্তু সর্বনাশা বানের পানি তার সব আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে দিয়েছে।রাত সোয়া ১১টার দিকে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বাল্লা এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এ হিসেবে খোয়াই নদীর পানি ও কমে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাধ রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, যদি বাঁধ রক্ষা না করা যায় তাহলে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হবে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছিল। কিন্তু টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমি হেক্টর জমির ফসল
নষ্ট হয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান জানান, আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে করে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, লাখাই উপজেলার হাওরগুলোতে পানি এসেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে এবং আজমিরীগঞ্জের কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মাহতাবপুর এলাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

অপরদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামের কৃষক সোহেল তালুকদার  আমার সিলেট প্রতিবেদককে জানান,”সিলেট থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বড় হাওড়ের হাজার হাজার একর ধানের জমি পানির ধীরে ধীরে চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে,এখনও ধান পাকেনি,কাটার কোন সুযোগ নেই তিনি আরও জানান গত চার বছর ধরে অষ্টগ্রাম বড় হাওড়ের কৃষকরা কখনো শিলায় কখনো অসময়ে বন্যার কারনে এলাকার একমাত্র জীবিকার মাধ্যম বোরো ধান হাড়িয়ে দিশেহারা।তিনি আরও বলেন আমাদের ক্ষতির প্রচারও নেই”।
এদিকে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc