Wednesday 2nd of December 2020 09:50:40 PM

নুরুজ্জামান ফারুকীঃ  হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ইয়াসমিনের হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। অপহরণকারীর হাত থেকে বাঁচতে ৩ অক্টোবর চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইব্রাহিম মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করার পর মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যুর রহস্যের জট খুলেছে।

উপজেলার রাজনগর গ্রামের মালু মিয়া ছেলে ইব্রাহিমকে (১৪) মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রোববার রাতে মনতলা থেকে গ্রেফতার করে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম দস্তগীর আহমেদ।

সোমবার বিকালে ইব্রাহিমকে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে ইব্রাহিম ১৬৪ ধারায় ইয়াসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে ইব্রাহিম জানান, রাজনগর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে মোবারকের (২৫) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মেরাশানী গ্রামের ইয়াসমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মোবারক  সম্পর্কে ইব্রাহিমের মামা হয়। পেশায় সিএনজি চালক। ঘটনার দিন ৩ অক্টোবর সকালে মোবারক ইব্রাহিমকে ডেকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে মনতলা রেললাইন এলাকায় যান। এর কিছুক্ষণ পর অটোরিকশায় এসে উঠে ইয়াসমিন।

গাড়িতে ওঠার পরই অটোরিকশাচালক মোবারক ইয়াসমিনকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইয়াসমিন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাকে নামিয়ে দিতে বলে।

এ সময় সে বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চালাতে থাকে। এ সময় আতঙ্কে ইয়াসমিনের চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ঝাঁপ দেয় ইয়াসমিন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় মোবারক গাড়ি নিয়ে মাধবপুর হয়ে আদাঐর চলে আসে।

এলাকাবাসী ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াসমিনকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আটক করেছেন। এ ঘটনায় ইয়াসমিনের মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে মাধবপুর থানায় ১৫ অক্টোবর মামলাটির এফআইআর হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার পরিদর্শক তদন্ত গোলাম দস্তগীর আহমেদকে।

এর পরই তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবারকের সহযোগী  ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে। মাধবপুর থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসাছাত্রী ইয়াসমিনের মৃত্যুর রহস্যের জট খুলেছে। গ্রেফতারকৃত একজন আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার মূল হোতা মোবারককে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল কাস্টমসের লকার ভেঙ্গে ১৯ কেজি ৩শ’ ৭৫ গ্রাম স্বর্ণ চুরির রহস্যের কুলকিনারা হয়নি। দীর্ঘ ১০ মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত চুরি হওয়া স্বর্ণগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ ঘটনায় আজিবর ও শাকিল নামে দুই জনকে আটক করেছে যশোর সিআইডি পুলিশ। এ দিকে কাস্টমসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে এখনো বহিরাগতদের দাপট থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে থেকে এ স্বর্ণ চুরির ঘটনায় একেবারে সরকারী নিম্ন শ্রেনীর কর্মচারী বরখাস্থ ও এনজিও কর্মী একজন এবং একজন বহিরাগতকে জেল হাজাতে পাঠালেও রাঘব বোয়ালরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। অপরদিকে কাস্টমস কমিশনার বেলাল হুসাইন চৌধুরীর আমলে এই স্বর্ণ চুরি হলেও তিনি সম্প্রতি বদলী হয়েছেন। স্বর্ণ চুরির কোন কুল কিনারা তিনি থাকতে যখন রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তখন আর কি হবে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
তবে একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই লকারে যারা আগে দায়িত্ব ছিল তাদের ও জিজ্ঞাসাবাদের আওয়াতায় আনলে সব বের হয়ে যাবে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ কুন্ডুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিষয় নিয়ে সাবেক এআরও বিশ্বনাথ কুন্ডুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বেনাপোল থাকা কালে আমার পর আরোও তিনজন ওই লকারের দায়িত্ব পালন করেন। আর আমি নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দিয়েছি। ওই লকারের দায়িত্বে আমি ১৯/০৯/১৭ থেকে ১৬/০৯/১৮ তারিখ পর্যন্ত ছিলাম। এরপর আমি এ আরও মোঃ ওয়ালি উল্লাহকে দায়িত্ব বুঝে দিয়ে ১৩/০১/১৯ তারিখে কাগজপত্র বুঝে নেই। এই ধারাবাহিকতায় পর পর তিনজন এ আরও ওখান থেকে বদলী হয় আমি বেনাপোল থাকা কালে। এরপর আমি বেনাপোল থেকে বদলী হয়ে ঢাকা চলে আসলে শুনেছি সেখানে সাহবুর সরদার নামে একজন এআরও দায়িত্ব পালন কালে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে। এর দায় আমার নয়।
জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করা স্বর্ণসহ মূল্যবান সম্পদ জমা রাখা হয় কাস্টমস হাউজের লকারে। গত ৯ নভেম্বর লকার থেকে চুরি হয় ১৯ কেজি ৩ শ’ ৭৫ গ্রাম স্বর্ণ। তবে লকারে থাকা আরো স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সম্পদ অক্ষত অবস্থায় ছিল।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির সময় প্রশাসন যদি আন্তরিক হয়ে কাজ করে চোর ধরা কোনো কঠিন কাজ হবে না।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা বলেন, কাস্টমসে অবৈধ প্রবেশ রোধ করতে হবে। প্রয়োজনে রেজিস্টার ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। কাস্টমসের অবহেলার কারণে সরকারের এ সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের এত বড় সম্পদ এভাবে রাখা উচিত নয়। মূল অপরাধীদের ধরতে না পারলে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে আরো বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার নেয়ামুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণ চুরির ঘটনা কাস্টমসের সব অর্জনকে যেন অম্লান করে দিয়েছে। চোরকে দ্রুত ধরা দরকার যেন আর কেউ ভবিষ্যতে সরকারের কোনো সম্পদ চুরি করতে সাহস না পায়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, এখন পর্যন্ত চুরি হওয়ার স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলাটি পোর্ট থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তারা বিষয়টি দেখছে।
এ বিষয় যশোর সিআইডি ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন বলেন, ওই মামলায় দুইজন আটক হয়েছে। তারা জেল হাজতে রয়েছে। আমি বদলী হয়েছি অন্য ইন্সপেক্টর এর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি।

জাতীয় রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ঘটনা প্রবাহের সঠিক ইতিহাস দেশ-জাতি ও আগামী প্রজন্মকে সত্য পটভূমি জানাতে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘৭ নভেম্বর ১৯৭৫; প্রচার ও অপপ্রচার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমন দাবি করেন। আলোচনা সভার আয়োজন করেন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সমালোচিত ও বিতর্কিত দিন ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এইদিনের ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে যে ওলটপালট শুরু হয়েছিল, তার রেশ থেকে জাতি আজও মুক্ত হতে পারেনি, কলঙ্কমুক্ত হয়নি বাংলাদেশের রাজনীতিও। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি রহস্যময় অধ্যায় হয়ে আছে।

তাঁরা আরও বলেন, ৪৩ বছর পর আজও বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিচ্ছন্ন ও পরিপূর্ণ নয়। ৭ নভেম্বরকে এখন আর কেউ বিপ্লব বলে না। জাসদের ‘সিপাহি জনতার বিপ্লব’ এবং বিএনপির ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ সময়ের ব্যবধানে আর সঠিক ইতিহাসের অগ্রপথে ফিকে হয়ে গেছে।

অতিথিবৃন্দ আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের রহস্য উদঘাটন করতে রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা, বিচার-বিশ্লেষণ ও মুল্যায়ন করা; সময়ের অন্যতম দাবি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং দেশ-জাতি ও আগামী প্রজন্মকে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত।

সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য-মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলাম লেখক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা-এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, খালেদ মোশাররফের জ্যেষ্ঠ কণ্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য-মাহজাবিন খালেদ, কবি ও লেখক-সোহরাব হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল (বিচ্ছু জালাল), সাংবাদিক মাহবুব কামাল, সার্জেন্ট সায়েদুর রহমানের পুত্র-মো. কামরুজ্জামান মিয়া, চাকুরী থেকে বরখাস্ত-করপোরাল আবদুল আউয়াল, মুক্তিযোদ্ধা সায়িদ মহিউদ্দিন হায়দার, সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম লে. কর্ণেল আবু ওসমানের মেয়ে-নাছিমা ওসমানসহ আরও অনেকে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc