Wednesday 2nd of December 2020 09:11:07 AM

ইরানের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান মোহসেন ফাখরিজাদে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় তেহরানের অদূরে দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ শহরের একটি সড়কে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ফাখরিজাদে’কে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ইরানের এই পদার্থবিজ্ঞানীর দেহরক্ষীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ হয় এবং মোহসেন ফাখরিজাদে গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা প্রথমে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এরপর ঘটনাস্থল থেকে ব্রাশফায়ারের শব্দ শোনা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র জানানোর পাশাপাশি ফাখরিজাদের পরিবার, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এবং ইরানি জনগণকে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি তার দেশের এই বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীর হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করে প্রতিশোধ গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন।

তিনি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইহুদিবাদীদের দায়ী করে এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “ইহুদিবাদীরা আমাদের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা করছে। তবে শুধুমাত্র তাদেরই জানা আছে আমরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ কোথায় নিয়েছি। আমরা এসব কথা ঘোষণা করি না কিন্তু ইহুদিবাদীরা তা ভালো করেই জানে।” জেনারেল সালামির টুইটার বার্তায় আরো বলা হয়েছে, “আমরা সাম্প্রতিক অতীতে দেখিয়ে দিয়েছি শত্রুর কোনো বিদ্বেষী পদক্ষেপেরই জবাব দিতে আমরা ছাড়ি না।পার্সটুডে

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জঃ  নবীগঞ্জের বরকতপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া নামে এক যুবককে তুর্কি পাঠানোর নামে ইরান আটকে নির্যাতন ও দালাল আরো টাকা দাবী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গ্রামের মৃত আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী ও পারভেজ মিয়ার মা শেফুল বেগম নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হচ্ছে একই উপজেলার জাহিদপুর গ্রামের মৃত মাম্মদ আলীর পুত্র আবু মিয়া (৩৭) ও মহিবুর রহমান মবু (৩৫)।
অভিযোগে জানা যায়, পারভেজ মিয়াকে তুর্কি দেশে পাঠানোর কথা বলে ইরান দেশে আটকে রেখে দালাল কর্তৃক নির্যাতন করে নির্যাতনের ছবি বাংলাদেশে পারভেজ মিয়ার মায়ের কাছে প্রেরণ করে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা আদায়ের পরও মুক্ত করে না দেওয়ায় ভুক্তভোগীর মা বরকতপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী শেফুল বেগম বাদী একই ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের মৃত মাম্মদ আলীর দুই পুত্র আবু মিয়া (৩৭) ও মহিবুর রহমান মবু (৩৫) এর বিরোদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু মিয়া তুর্কিতে অবস্থান করেন। প্রায়ই সে পারভেজের সাথে আলাপ করে তাকে তুর্কি যেতে উৎসাহিত করে আবু। পারভেজ তুর্কি গিয়ে টাকা পরিশোধ করতে পারবে বলে জানায় আবু মিয়ার ভাই মহিবুর রহমান মবু। এর প্রেক্ষিতে আবু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে গত ২৮ আগষ্ট ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পারভেজকে ট্যাক্সিতে তুলে তুর্কির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আবু মিয়া। এর ২ দিন পর গত ৩০ আগষ্ট মোবাইল ফোনে পারভেজ তার মা সেফুল বেগমকে জানায় আবু দালাল তাকে একটি অন্ধকার ঘরে বন্ধি করে রেখেছে। এখানে আফগানী ও ইরানী মাফিয়ারা তাকে মারধর করছে। এ অবস্থায় সেফুল বেগম আবুর ভাই দেশে অবস্থানরত মহিবুর রহমান মবুর সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় দালালদের টাকা দিতে হবে। টাকা না পারভেজ মারা গেলেও আমার কোন দোষ নাই। মবুর কথামত গত ৩১আগষ্ট দুইবারে সেফুল বেগম বিকাশে তুর্কিতে আবু মিয়ার নিকট ১৫ হাজার টাকা এবং বিগত ২ সেপ্টেম্বর আরও ১০ হাজার টাকা আবু মিয়ার নিকট প্রেরন করেন। পরে মবুর নিকট নগদ ৩০ হাজার টাকা সর্বমোট ৫৫ হাজার টাকা দেয়ার পরও পারভেজ মিয়াকে বন্ধী দশা থেকে ছাড়া হয়নি। মবুর সাথে যোগাযোগ করলে সে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। এ অবস্থায় নিরূপায় হয়ে পারভেজ মিয়ার মা সেফুল বেগম আবু মিয়া ও মুহিবুর রহমান মবুর বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই সমিরন চন্দ্র দাশ সরেজমিন অভিযোগটি তদন্ত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বাদী এবং বিবাদী পক্ষে সাথে যোগাযোগ করেছি। বাদী তার দাবী স্বপক্ষে কোন ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে পারেননি। মৌখিক আলোচনার ভিত্তিতে পারভেজকে তুর্কি নেয়ার চুক্তি হয়। বিবাদী পক্ষের সাথে আলাপ হয়েছে। তারা পরস্পরের মধ্যে আলোচনাক্রমে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই অঙ্গরাজ্যের বিমান পরিবহন সংস্থা- এমিরেটস হঠাৎ করে ইরানে যাতায়াতকারী সব ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দুবাইসহ আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থান থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ইরানি নাগরিকরা বিপাকে পড়েছেন।

এ অবস্থায় আটকে পড়া ইরানিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমিরেটসের এ পদক্ষেপের ফলে দেশের বাইরে থাকা ইরানিরা যে বিপাকে পড়েছেন সে সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার)মুসাভি একথা জানান।

তিনি বলেন, আটকে পড়া ইরানি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে যাতে ইরানের বিমানগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুসাভি বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তারা তেহরানস্থ আরব আমিরাতের দূতাবাসের সঙ্গে এ ব্যাপারে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের বিভিন্ন শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এমিরেটস তেহরানসহ ইরানের আরো কয়েকটি শহরে যাতায়াতকারী নিজের সবগুলো ফ্লাইট পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছে।বিমান পরিবহন সংস্থাটি বলেছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলের ওপর এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc