Friday 30th of October 2020 03:58:34 PM

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে জার্মানিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জার্মানির সফররত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. গার্ড মুলার সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের এ সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য এক বিরাট বোঝা এবং তারা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। মিয়ানমারকে দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে যেতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে জার্মানিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরো ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার আগমন কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বড় সমস্যার কারণ হয়েছে, কেননা তারা সংখ্যায় স্থানীয় জনগণকে ছাড়িয়ে গেছে। অনেকেই (রোহিঙ্গারা) নিজেদেরকে সন্ত্রাস এবং মানব পাচারে জড়িয়ে ফেলার সুযোগ নিচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যাতে করে মিয়ানমার কতৃর্পক্ষ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না এবং তারা চুক্তিও মানছে না।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরে মিয়ানমারের সেনাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। নতুন পুরাতন মিলিয়ে বর্তমানে শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর পরিবশে বসবাস করছেন।পার্সটুডে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ভোলা ইস্যুতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ধৈর্য্য ধারণ ও গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে (ভোলা ইস্যু) ধৈর্য্য ধারণ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।’

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, একজন হিন্দুর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুবলীগের কাউন্সিলের প্রাক্কালে সংগঠনের ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ ওই হিন্দু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। সে সাধারণ ডায়েরি করে বলেছে, তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে মুসলিম ছেলেটি এ কাজটি করেছে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি যারা এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

ভোলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখনই দেশ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে তখনই এক শ্রেণির লোক সব সময় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।তিনি কোন গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে বিভিন্নভাবে সমাজ বিপদে পড়তে পারে। তাই প্রত্যেককে প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি কেউ যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করতে সহায়তার পরিবর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরনের বিষয় প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, কোন ধর্মের লোকজনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সরকার চায় ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে বসবাস করবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষ লড়াই করেছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন একজন মুসলমান কিভাবে ফেসবুকে হিন্দুর আইডি ব্যবহার করে হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে অবমাননা করতে পারে। তিনি এটাকে খুবই দুঃখজনক বিষয় উল্লেখ করেন। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন ব্যক্তি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন এ ঘটনার পেছনে উদ্দেশ্য কি ? কেন লোকজন সমবেত হয়েছে এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।

এ সময় মঞ্চে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। যুবলীগ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি কেবল একজন হিন্দুর ফেসবুক আইডি হ্যাক করেনি, বরং তার (হিন্দু ছেলে) কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন, অন্যথায় তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আরো মিথ্য তথ্য দেয়ার হুমকি দেন।

প্রধানমন্ত্রী আশ্চার্যান্বিত হন এবং প্রশ্ন করেন ‘একজন মুসলিম কি করে একজন হিন্দুর ফেসবুক ব্যবহার করে রাসুল হযরত মুহম্মদ (দঃ) কে অসম্মান করতে পারে।’ যুবকদের দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই শক্তিকে দেশের কল্যাণ এবং দেশ গড়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি এবং মাদক বিরুদ্ধে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো এবং এক্ষেত্রে যারাই অপরাধী হবে তাদের কোন ক্ষমা নেই, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। কারণ আমরা যখন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন স্বাভাবিকভাবে কিছু মানুষের মধ্যে একটা লোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলাফল আমাদের সমাজটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনো বরদাশত করা হবে না’।

প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কাউন্সিলের প্রসঙ্গে বলেন, যুবলীগের কাউন্সিল দরজায় কড়া নাড়ছে। কি করে এটাকে আরো শক্তিশালী এবং সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারি সেজন্য এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।

তিনি বলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি চলছে এবং আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল যথাসময়ে অনুষ্ঠানের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাসময়ে কাউন্সিল আয়োজনে সংগঠন আরো শক্তিশালী এবং সুশৃঙ্খল হয়।’

তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে জানার জন্য বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে রচিত‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ পড়ে দেখার জন্য যুবলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে এবং ২০২১ সালে উদযাপিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে সরকার ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকে এই অনুষ্ঠানটি তিনি ব্যাপকভাবে উদযাপনেরও আহবান জানান। সুত্রঃ বাসস

“ডিসিদের প্রতি মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু করার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ”

ডেস্ক নিউজঃ  রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রতি মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু করার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বাদ দিয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে দেশের সব বিভাগ ও জেলার প্রশাসনিক প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বাদ দিয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিন।’

রাষ্ট্রপতি তাদের সত্যিকারের ‘জনসেবক’ হিসেবে দেশ ও জনগণের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘জনগণ যাতে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

দুর্নীতি সমাজ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডিসিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে সচেতন করে তোলার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ডিসিদের তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন।

উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয়ে নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পরবর্তী এক বছরের জন্য কাজে অগ্রাধিকার ও দিক-নির্দেশনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশকে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসকদের জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেন।

কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে সরকারের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণের প্রতিটি টাকার যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে পরিচালিত সরকারের সব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিসিদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেন। তিনি গ্রামপর্যায়ে জনকল্যাণমুখী ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজড করতে জেলা প্রশাসকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে জেলা প্রশাসকদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সব অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশবাসীর ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি ডিসিদের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ডিসিদের বেশ কিছু দিক-নির্দেশনাও দেন।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।সূত্র:বাসস।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬জুন,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ এর কার্যকরী সদস্য,কমলগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ,অধ্যাপক রফিকুর রহমান তার ফেইস বুকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এক স্ট্যাটাসে কমলগঞ্জে আকস্মিক বানভাসির কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যা লিখেছেন তা হুবহু নিচে তুলে ধরা হল।

“শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সংসদীয় আসনের সকল ভাই,বন্ধু,শুভানুধ্যায়ী,সর্বস্থরের আপামর জনসাধারণকে আমার আন্তরিক ঈদ মোবারক। আজ এই আনন্দের দিনেও মনটা দু:খ ভারাক্রান্ত হয়ে আছে আমার এলাকার আকস্মিক বন্যায় বানভাসি মানুষের দুর্দশার কথা ভেবে।

আপনারা জানেন অপারেশনের রোগী হিসেবে ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞার কারনে আমি সরেজমিনে বানভাসি মানুষের পাশে সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারায় নিদারুণ মনোবেদনায়য় ভুগছি।

আমি প্রতিনিয়ত মহান আল্লাহতালার কাছে এই বিপদ থেকে রক্ষার দোয়া কামনা করছি।আমার উপজেলা প্রশাসনের ও পরিষদের আমার সহকর্মীরাও সামর্থ্যানুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বন্যাদুর্গতদের পাশে থাকার চেস্টা করে যাচ্ছে।আমিও প্রতিনিয়ত বন্যাদুর্গত সকল এলাকার জনপ্রতিনিধি, আমার দলের নেতা কর্মী সহ সামর্থবান সকলের সংগে যোগাযোগ রাখছি যাতে সকলের সহোযোগিতায় আমরা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারি।

সব শেষে আমার সকল সামর্থবান বিবেকবান মানুষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আসুন এই ঈদের আনন্দ সকল বানবাসি মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসে উৎযাপন করি।”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬ডিসেম্বরঃ    বিজয়ের ৪৬ বছরের এই দিনে এসেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জাতীয় নির্বাচন ও দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল রাজনৈতিক দল-মতের ঐক্যে; সময়ের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর এ আহ্বান করেন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)।বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় নেই বলেই আজ স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ও তাদের পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠী দেশ ও জনগণ বিরোধী ষড়যন্ত্র করতে সাহস পাচ্ছে। সমাজ গঠন ও রাষ্ট্র নীতিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির ঐক্যের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তিঁনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ছুড়ে ফেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল-মতের ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফল ঘটানো রাজনৈতিক সংগঠকদের দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে অন্যন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি বদরুল আলম, হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইমরান খান শ্রাবন, মহিবুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাকিব, কেন্দ্রীয় সদস্য নাঈমুর রহমান ইপনসহ আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৭নভেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসর মহলের অপরাজনীতি ধ্বংস করতে হলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা নতুন প্রজন্মহস জাতির সামনে তুলে ধরা আজ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে “মওলানা ভাসানীর আদর্শ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট” শীর্ষক আলোচনা সভা প্রধান বক্তা বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌদুরী তন্ময় এমন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি এনডিএফ ও এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু বলেন, আপনারা সবাই প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার সময় ভাসানীর জন্য দোয়া করবেন। তার নীতি আদর্শ সবার মাঝে তুলে ধরবেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাসানী যাতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে সে ব্যাপারেও ভাসানী অনুসারিদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরী।

প্রধান বক্তা কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ১৯৭১ সালে ৯ মার্চ পল্টনে এক ভাষনে মাওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সমর্থন করে বলেছিলেন- হে! বাঙালিরা, আপনারা মুজিবের উপর বিশ্বাস রাখেন, তাকে খামোখা কেউ অবিশ্বাস করবেন না, কারণ মুজিবকে আমি ভালোভাবে চিনি’-এই ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতকে কীভাবে শক্তিশালী করেছিল তা আমাদের তুলে ধরা উচিত।

তিঁনি আরও বলেন, লা-কুম দ্বিনিকুম অলইয়া দ্বিন-এর মতো অর্থাৎ তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার-এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে মাওলানা ভাসানী তাঁর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে যে চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তাও জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। ভাসানীর জীবন দর্শন, রাজনৈতিক আদর্র্শ, ধর্মীয় মুল্যবোধ ও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অবদানগুলো পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভূক্তিকরণ সময়ের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাগপা সভাপতি  ও এনডিএফ সদস্য সচিব, এ কে এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস, এনপিপি চেয়ারম্যান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই মন্ডল, ন্যাপ ভাসানী মহাসচিব, মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩অক্টোবর,ডেস্ক নিউজঃ   রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভারতের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, রাখাইনে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। রবিবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক শেষে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকায় আসার পর রবিবার উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ কমিশনের বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি ক্রয় বিষয়ে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সৌজন্য বৈঠক করেছেন।

রবিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, আমরা চাই নিরাপদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে সেখানে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রাখাইন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। এই অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতও সহায়তা দিতে আগ্রহী। এছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কোফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন দেখতে চায় ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের চ্যালেঞ্জগুলো একই। সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদিতা দুই দেশের মধ্যে সমান চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নেয়া জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে ভারত যেন মিয়ানমারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে সেজন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বলেন, ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে, সেজন্য তাদের প্রতি আমরা বিশেষ কৃতজ্ঞ।

মাহমুদ আলী বলেন, ভারতের বিপক্ষে সন্ত্রাসী কাজে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দেশ, দুই দেশই পরস্পরের বিশ্বস্ত বন্ধু। বৈঠকে সুষমা স্বরাজকে আবুল হাসান মাহমুদ আলী স্মরণ করিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তার আমলেই তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে।

যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রবিবার দুপুরে দুইদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। ঢাকার কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে তার বিশেষ বিমান অবতরণ করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সুষমা স্বরাজকে স্বাগত জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যৌথ কমিশনের বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ, আন্তঃযোগাযোগ, সীমান্ত হাট, আঞ্চলিক যোগাযোগ, পর্যটন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি তোলা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের আরও জোরালো সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পারস্পরিক সফরে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করেছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন।

আজ সোমবার সকালে ভারতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ১৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ভারতীয় হাইকমিশনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। সুষমা স্বরাজ সোমবার সকালে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করবেন। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও উপস্থিত থাকবেন। সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের কোন শীর্ষ মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসলেন। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় আসেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ পরামর্শক কমিশনের সভা একটি নিয়মিত বৈঠক। এটি দুই দেশের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। তবে এই বৈঠকে চলমান বিষয়াবলীও প্রাধান্য পেয়ে থাকে। সে কারণেই এবারের বৈঠকে রোহিঙ্গা বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। কেননা এটি এখন বাংলাদেশের একটি জাতীয় সঙ্কট হয়ে উঠেছে। আর এ সঙ্কট সমাধানে প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভারতেরও উদ্বেগ রয়েছে। রবিবারের বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর চলতি বছর এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যেসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে, তার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। একই সঙ্গে সহযোগিতার নতুন নতুন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লীতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৃতীয় যৌথ কমিশনের বৈঠক হয়েছিল। সে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী অংশ নিয়েছিলেন।

দুইটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ॥ যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক শেষে উভয় দেশের মধ্যে দুইটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনি কোম্পানির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া বৈঠক শেষে ইন্টারন্যাশনাল সোলার এ্যালাইন্সের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি বিষয়ক একটি দলিল হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

যৌথ পরামর্শক কমিটির বৈঠক ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ পরামর্শক কমিটির বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পায়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধের বিষয়ে গুরুত্ব পায়। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে পাটপণ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি সীমান্ত হাট স্থাপনে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের পাশাপাশি তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত ৮ এপ্রিলে দেয়া বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া গঙ্গার পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে ভারতের কাছ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান (বিবিআইএন) সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে এ মুহূর্তে ভুটানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল (বিআইএন) বাস্তবায়নে জোর দেয়া হয়েছে। তবে ভুটান ইচ্ছে করলে পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবে। এছাড়া ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে জোর দেয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যুত ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ করছে। বিদ্যুত সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়াবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

যৌথ পরামর্শক কমিটির বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়। ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চালু মৈত্রী ট্রেন সার্ভিসে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও কলকাতা-খুলনা বন্ধন ট্রেন সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে দ্রুত চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক উপহার ॥ যৌথ পরামর্শক কমিটির বৈঠক শেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক হিসেবে একটি পিস্তল উপহার দিয়েছে ভারত। এই পিস্তলটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। পিস্তল স্মারকটি রবিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রদর্শন করা হয়।জনকণ্ঠ থেকে

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১অক্টোবর,ডেস্ক নিউজঃ  রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ স্ব স্ব এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে স্থানীয় নেতা,কর্মী,পেশাজীবী, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজ জেলায় চারদিন সফরের শেষ দিনে আজ বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আপনাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্যও সরকারি কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশে শিক্ষার মানের ইতোমধ্যে চমৎকার উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ছাত্রদের মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসহ নৈতিকতা গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
কিশোরগঞ্জের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও লোকাচারের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সংস্কৃতিসহ আমাদের সামাজিক লোকাচারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আরও সক্রিয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট” বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সরকারের যৌথ বহুমুখী দমন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের দুর্দশা দেখতে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিকে কক্সবাজার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান বিশ্ব সংস্থাটির সাতজন বিশেষজ্ঞ। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি একথা জানানো হয়।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। চলমান নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন তাদেরকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও এতে বলা হয়।

রাখাইনে ৩০টি পুলিশ-সেনা চৌকিতে হামলার জের ধরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরুর এক মাস পর এ বিবৃতি দেয়া হলো।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আমরা পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ও রাখাইন রাজ্যে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার জন্য অং সান সু চিকে আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ মিয়ানমার সরকার বলছে যে তারা এতে আগ্রহী।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের’ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন ও অপব্যবহার, যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা, দুই শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানো এবং তাণ্ডব চালানোর মতো ঘটনা রয়েছে। কথিত রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) কাজের জন্য পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মূল্য দিতে পারে না।’

ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা বিশেষজ্ঞরা হলেন-মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি, বিচারবহির্ভূত, সংক্ষিপ্ত বা নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাগনেস কলামার্ড, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ দূত ফার্নান্দ ডে ভেরেনেস, গৃহায়ন ও জীবনযাত্রা বিষয়ক দূত লেইলানি ফারহা, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক দূত সিসিলিয়া জিমেনেজ, সমসাময়িক বর্ণবাদ বিশেষজ্ঞ মুতুমা রুতেরে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত আহমেদ শাহিদ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমার সরকার সকল আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে জনসংখ্যার সহায়তা দেয়ার জন্য তাদের দায়িত্ব পালনে তাদের প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবাদকে সহায়তা করার জন্য তাদের অভিযোগের পরিবর্তে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।’

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বিবৃতির বাইরে যেতে হবে এবং রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অসমাপ্ত কর্মকাণ্ড’ শেষ করার আগেই সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে থামানোর জন্য শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো গণহত্যা দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস করা একটি প্রস্তাবে এ আহ্বান জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানোর কড়া নিন্দা করা হয়েছে এ প্রস্তাবে। এতে বলা হয়েছে- নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনের ওপর শুধু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদই চলছে না বরং সামগ্রিক মানবতা ও দেশ-সমাজের বিবেক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া, গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাক মন্ত্রিসভা।

এর পাশাপাশি ঠাণ্ডা মাথায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা বন্ধে দ্রুত ভূমিকা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে পাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।পার্সটুডে

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,৩১আগস্টঃ বার্মার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর যে নিপীড়ন-নির্যাতন-বিতাড়ন আর গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে, তা এই মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ বা প্রতিহত করার জন্যে বিশ্বনেতাদের মাঝে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-চীনকে সবার আগে আন্তরিকতার সহিত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বার্মার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়  রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও অং সান সুচি’র কুশপুত্তলিকা দাহ’ এক কর্মসূচীর মাধ্যমে এ-আহ্বান জানান সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়।
কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ১৯৬২ সালে সামরিকজান্তা নে উইন ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর যে হত্যা-নিপীড়ন-নির্যাতন আর বিতাড়ন শুরু হয়েছিল; তা তথাকথিত গণতান্ত্রিক আবরণ দেওয়া বার্মার সরকার বন্ধ না করে বরং গণহত্যা করে যাচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের আধুনিক সভ্যতায় মিয়ানমারের সরকার মানুষ-মানবতাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে; যা বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ-মানবতাকে সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে তিঁনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আরও সময় উপযোগী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আর আশির দশক থেকে রোহিঙ্গাদের দলে ভিড়িয়ে বিএনপি-জামায়াত যে অপরাজনীতি শুরু করেছিল, বর্তমান সরকার তা করার ষড়যন্ত্র করলে এদেশের জনগণ তা প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।
শান্তিতে নোবেল জয়ী মানবতাবিরোধী অপরাধী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী অং সান সুচি নীরব থাকলেও বিশ্বের মানুষ নীরব থাকবে না। তাই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর মিয়ানমার সরকারের হত্যা-নিপীড়ন-নির্যাতন আর বিতারনের বিষয়বস্তু বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বাংলাদেশ সরকারের একান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য বলেও মতামত দেন বক্তারা।
সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়-এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মাঝে সংহতি প্রকাশ করেন জয় বাংলা মঞ্চের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার, লোকশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান সাহীকুল আলম টিটু, বোয়াফ সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ শক্তিশালী চার আরব প্রতিবেশীদের বর্জন শিথিল করার উদ্দেশ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির। সঙ্কট শুরু হবার পর প্রথম দেয়া ভাষণে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, যেকোন সমাধানই কাতারের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ হতে হবে।

গত জুনে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়া এবং ইরানের সাথে মিত্রতার অভিযোগে কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর। কিছুদিন পর তারা কাতারের কাছে কিছু দাবীও উত্থাপন করে। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার।

টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে কাতারের আমির দেশটির বিরুদ্ধে ‘কলুষিত অপবাদের প্রচারণার’ নিন্দা জানান এবং দেশটির জনগণের সহ্যশক্তির প্রশংসা করেন। “কাতারের জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলছে” বলেন তিনি। তবে তিনি আরো বলেন “সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের দ্বন্দ্ব থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার সময় এসেছে”। “আমরা আলোচনার মাধ্যমে যেকোন অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী”, যতক্ষণ পর্যন্ত কাতারের “সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা হবে”, বলেন কাতারের আমির। চারটি আরব দেশের অবরোধের কারণে গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ কাতার তাদের ২৭ লাখ মানুষের জন্য সমুদ্র এবং আকাশপথে খাদ্য আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।বিবিসি

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১জুলাই,ডেস্ক নিউজঃ   তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকরি ইসিক বলেছেন, চলমান সংকট নিরসন করার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও অন্য আরব দেশগুলোকে কাতারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এজন্য তিনি দু পক্ষের মধ্যে আন্তরিক সংলাপ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।

গতকাল (শুক্রবার) আংকারা সফররত কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন মুহাম্মাদ আল-আতিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ফিকরি এসব কথা বলেছেন। তিনি সমস্যায় জড়িত দু পক্ষকেই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ বলে উল্লেখ করেন। তবে সংকট শুরুর পর থেকে তুরস্ক জোরালোভাবে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ জন্য কাতারে অবস্থিত তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলো।

ফিকরির সঙ্গে বৈঠকের পর আল-আতিয়া জানান, কাতারে তুর্কি সামরিক ঘাঁটির বিষয়টিই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি বলেন, “কাতার ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার প্রেক্ষাপটে আমার এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”পার্সটুডে

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২১মেঃ  রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে এ এলাকার ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম হিল ট্রাক্ট ল্যান্ড ডিস্পুট রেজুলুশন কমিশনের (সিএইচটিএলডিআরসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে বঙ্গভবনে সিএইচটিএলজিআরসি’র চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা উজ্জ্বল এবং এখানকার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে আপনাদেরকে সকল সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে হবে।’
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন এ কথা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানো গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

কমিশন পার্বত্য অঞ্চলের চলমান ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিচারপতি আনোয়ারুল হক রাষ্ট্রপতিকে কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
কমিশন চেয়ারম্যান জানান, তারা পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের ভূমি বিরোধ নিরসনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে তিনি রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।বাসস

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯মার্চ,হৃদয় দাশ শুভ,নিজস্ব প্রতিবেদক ফতেহপুর (মৌলভীবাজার) থেকে: মৌলভীবাজারে সন্ধান পাওয়া দু’টি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন। তিনি বলেছেন, জঙ্গিরা এখানে তাদের ঘাঁটি বানাতে পারে না, পারবেও না।
আজ মঙ্গলবার  দিনগত রাত থেকে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট ও সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেহপুর গ্রামের ওই দু’টি জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। বড়হাটের আস্তানাটি একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে, আর ফতেহপুরের আস্তানাটি একটি একতলা বাড়িতে।
বুধবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে আস্তানা দু’টি থেকে জঙ্গিরা গুলি করতে থাকে। সকালে একের পর এক গ্রেনেডও ছুড়ে মারে তারা। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি করেছে প্রশাসন।
খবর পেয়ে খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ছুটে যান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা। তিনি সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং করে বলেন, মৌলভীবাজার শান্তি প্রিয় এলাকা। সচেতন জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এখানে জঙ্গিরা তাদের ঘাঁটি বানাতে পারেনি, পারবেও না।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc