Sunday 25th of October 2020 08:07:30 AM

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা লাগাতার বর্ষণের ফলে নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট যমুনার পানি যেমন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ-আত্রাই আ লিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এখন প্রতিটি মুহুর্তে উপজেলার প্রতিটি মানুষের মাঝে বিরাজ করছে বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক। এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে উপজেহলার কয়েকটি গ্রামের লাখ লাখ মানুষ।

এখনও পর্যন্ত যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যে কোন মুহুর্তে উপজেলার রসুলপুর, মির্জাপুর, মদনডাঙ্গা, পাঁচুপুর, মধুগুরনইসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা করছে উপজেলার সচেতন মহল। বাঁধ রক্ষায় নদী পারের গ্রামগুলোর শত শত মানুষ অনিদ্রায় রাত কাটাচ্ছেন। এদিকে বাঁধ গুলোকে রক্ষা করা না গেলে উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বলেও মনেকরছেন তারা।

উপজেলাবাসীর অভিযোগ যেহেতু প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় বন্যায় শত শত ঘরবাড়ি, হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পানি বন্দি হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ উপজেলার বেঁড়িবাধ গুলো সংস্কার করে না। বাঁধগুলো সংস্কার করলে আজ হয়তো বাঁধ ভাঙ্গার অতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হতো না এমনটিই অভিযোগ তাদের।

ইতোমধ্যে আত্রাই ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ফুলবাড়ি, রাইপুর, মিরাপুর, উদনপৈয়, পশ্চিম মিরাপুর, জাতোপাড়া, রসুলপুরসহ বেশ কয়েকটা গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে বন্যাদুর্গত পরিবার গুলো গবাদী প্রাণি ও শিশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। তাদের এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরী মেডিসিন এবং গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী গ্রামের খন্দকার জিতু আহম্মেদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা লাগাতার বর্ষণের ফলে নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর শতশত পরিবার পনিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোমলমতি শিশুরা স্কুলেও যেতে পারছেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাইল ইসলাম জানান, আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কের কোন কারণ নেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ উপজেলা প্রসাশন তদারকি করছে। এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ টিকিয়ে রাখতে সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকি পুরো বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। বালুর বস্তা এবং জিওব্যাগ দিয়ে পানি চোয়ানো বন্ধে কাজ করা হচ্ছে।

“অবৈধ বালু উত্তোলনের কারনে আগামী বর্ষা মৌসুমে মৌলভীবাজার শহর তলিয়ে যাবার আশঙ্কা সরকার দলের নাম ব্যাবহার করে টাকা উত্তোলন”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০ফেব্রুয়ারি,আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:  ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মৌলভীবাজার শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে মনু নদীর তলদেশ থেকে অবৈধ বলগেট মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। এসব মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে মনু নদীর বাম তীরে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে নদী তীরবর্তী বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও এসব মানছেন না মৌলভীবাজারের বালু ইজারাদাররা। উপরন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বলগেট মেশিন দিয়ে মনু নদীর তলদেশ থেকে চলছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন। ফলে মনু নদীর বাম তীরে শহরতলীর বড়হাট, শ্রীরামপুর, শাহবন্দর, পৌর এলাকাসহ নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। হেলে পড়েছে নদী তীরবর্তী ঘর-বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ইজারাদারদের কাজ থেকে সরকার দলের নাম ব্যাবহার করে টাকা উত্তোলন করছে।

সরেজমিনে গেলে আমাদের ক্যামেরায় ভিডিওতে ধরা পড়ে বালু ইজারাদারদের কাছ থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনসার আলীর টাকা উত্তোলনের দৃশ্য।
পানি উন্নয়ন বোড এর নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্ত্তী জানান ক্রমাগতভাবে বলগেট মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে শহরের অভ্যন্তরে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে, যা ভেঙ্গে আগামী বর্ষা মৌসুমে মৌলভীবাজার শহর তলিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান আইন না মেনে বালু উত্তোলনকারীদের ইজারা বাতিল করে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন।
দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ইজারাদারদের ইজারা বাতিল করে মৌলভীবাজার শহর রক্ষায় স্থায়ীভাবে শহরের অভ্যন্তর ও শহরতলীতে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা এখন প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫নভেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ নতুন পুরাতন সব মিলিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি। এরই মধ্যে তারা নানাভাবে মিশে গেছে স্থানীয়দের সাথে। আবার অনেকেই হয়েছেন জনপ্রতিনিধিও। তাই আশংঙ্কা বাড়ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার নিয়ে।রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়দের রাজনীতিতে নানা হিসাব নিকাশ বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: চ্যানেল টুয়েন্টিফোর

১৯৭৮ সাল থেকে নানা নিপীড়নের মুখে বড় আকারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে । এর পরে গত কয়েক দশকে যে পরিমাণ রোহিঙ্গারা এসেছে তাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশের মূলস্রোতের সাথে মিশে গেছে ।

মিয়ানমার বংশোদ্ভূত অনেক রোহিঙ্গা যেমন বাংলাদেশের ভোটার হয়েছেন, তেমনি হয়েছেন জন্ম সূত্রেও। যাদের কেউ কেউ হয়েছেন জনপ্রতিনিধি, যার সংখ্যা শতাধিকের মতো। তবে বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গাদের থেকে জনপ্রতিনিধি আছে ২০ থেকে ৩০ জনের মতো।

কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, কক্সবাজার জেলা ও বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় রোহিঙ্গা বড় একটি অংশ রয়েছে। উপজেলার চেয়াম্যান রোহিঙ্গাদের পরিবারের লোকজন হয়েছে তার সাথে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যানও রোহিঙ্গাদের পক্ষপাতিত্বে রয়েছে বলে তিনি জানান।

গবেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা জনপ্রতিনিধিরা নিজ সম্প্রদায়ের মানুষকে বাংলাদেশের নির্বাচনে নানাভাবে সম্পৃক্ত করে। সেই সাথে অপতৎপরতা চালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালে একটি ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ১ কোটি ভোটারদের বাদ দেয়া হয়েছিল তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। সেই সময়ে ভোটার তালিকার বড় একটা অংশ রোহিঙ্গা ছিল বলে জনান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মুসলিম বানানো হচ্ছে। তাদের নামের সাথে মুসলিম পরিচয় যোগ করা হচ্ছে। যার কারণে ইসলামিক যে সংগঠনগুলো আছে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে পারে বলে তিনি শংঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। অনেকের মতো বিশ্লেষকের আশংঙ্কা এবার সবচেয়ে বেশি আশা রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ ব্যবহার হতে পারে আগামী নির্বাচনে।

তবে এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গারা কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছি না। কারণ রোহিঙ্গাদের অবাধে চলাফেরা করতে দেয়া হচ্ছে না। আর আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি টেকনাফ যাবার সময় চেক করা হয় এবং নিজের আইডি কার্ড দেখাতে হয়। সে অবস্থায় রোহিঙ্গারা কিভাবে বেড় হবে?

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যেন রোহিঙ্গারা কোনো ধরনের কাজ করতে না পারে। রোহিঙ্গারা যাতে দলীয়ভাবে কোন ধরনের সংঘর্ষে জরিত হতে না পারে সেজন্য দল থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।

তবে রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে যাই বলুক ভেতরে ভেতরে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করবেই এমন মত রয়েছে বিশ্লেষকদের।আমাদের সময়

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ  ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা সমস্যার সমাধানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে।

মিজ ব্যানার্জির প্রস্তাব হল, তোর্সা বা ধরলার মতো উত্তরবঙ্গের অন্য নদীগুলো থেকে বাড়তি জল এনে তিস্তার প্রবাহ বাড়ানো যেতে পারে – কিন্তু তার জন্য যে খাল কাটতে হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মধ্যে আশঙ্কা আছে।

তা ছাড়া পদ্ধতিটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ, কাজেই এটাকে অনেকে চুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

আর বাংলাদেশ মনে করছে, জল বাড়ানোটা পরের কথা – কিন্তু যা জল আছে সেটার অর্ধেক ভাগ হওয়াটা আগে জরুরি।

মমতা ব্যানার্জির কৌশল ?

শনিবার মাঝরাতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে নৈশভোজ সেরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, তিস্তার জল ভাগাভাগিতে তার আপত্তি নেই, যদি ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি নদীর জল তিস্তায় এনে জলের পরিমাণ বাড়ানো যায়।

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে তো জল দিতেই চাই। এখানে আমি দুই সরকারকেই (ভারত ও বাংলাদেশ) একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। আর সেটা হল, আমাদের কয়েকটা ছোট ছোট নদী আছে, যেগুলো আগে কখনও তেমন নার্চার করাই হয়নি। এই নদীগুলোর বাংলাদেশ সংযোগও আছে। এখন যদি আমরা দুই দেশ মিলে ওই নদীগুলো স্টাডি করে ভায়াবিলিটি দেখতে পাই, তাহলে কিন্তু আমরা কিছুটা ভাগাভাগি করতেই পারি”।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “তিস্তায় সমস্যা আছে সবাই জানেন। পানীয় জলের অভাব, কৃষকদের জলে টান- কিন্তু এই যে তিন-চারটে ছোট নদী, যেমন তোর্সা, মানসাই বা ধরলাকে কাজে লাগাতে পারলে হয়তো একটা সমাধান বেরোতে পারে। আর এই নদীগুলোও কিন্তু বাংলাদেশে গিয়েই মিশছে” ।

মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করা ততটাই কঠিন

এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে, তোর্সা বা ধরলার মতো নদীগুলো থেকে খাল কেটে বাড়তি জল তিস্তার দিকে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করা ততটাই কঠিন- এমনটাই মনে করেন নদী-বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদ কল্যাণ রুদ্র। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে তিস্তা রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন তিনিই।

ড: রুদ্রর কথায়, “ডুয়ার্সের গহীন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এই খাল কাটতে হবে, আর তাতে পরিবেশ ও ইকোলজির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেই আমার অনুমান। আর তা ছাড়া বর্ষায় এই নদীগুলো সব ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে – তাই সে সময় এই পশ্চিমমুখী খাল চালু রাখতে গেলে ভায়াডাক্ট বা অ্যাকোয়াডাক্টও তৈরি করতে হবে।”

“ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তির দিক থেকে হয়তো এই ধরনের খাল কাটা সম্ভব, কিন্তু কাজটা খুব কঠিন। সার্বিক ইকো-হাইড্রোলজির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, এবং এর প্রভাব কী হবে সেটা সমীক্ষা না-করে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না বলেই আমি মনে করি।”

পরিবেশগত ছাড়পত্র যদি বা মেলেও, প্রকল্পটা শেষ করতেই আসলে অনেকটা সময় লাগবে, বলছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিদ্যার অধ্যাপক সুবীর সরকার।

এই অধ্যাপক বলছিলেন, “সময় কত লাগবে তা নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর, সরকারের ইচ্ছা কতটা জোরালো তার ওপর। খুব তাড়াতাড়িও যদি করা হয়, তার পরেও এই প্রকল্প শেষ হতে বছর-কয়েক তো লাগবেই। খাল কাটা ছাড়াও তার আগে গবেষণার প্রশ্ন আছে, পরিবেশগত সমীক্ষার কাজ আছে – এটা আসলে একটা বিরাট প্রকল্প!”

অঙ্গীকার পূরণ আদৌ সম্ভব?

এই প্রেক্ষাপটে তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের মেয়াদের মধ্যেই তিস্তা চুক্তি করবেন বলে যে অঙ্গীকার করেছেন, সেটা কি আদৌ রাখা সম্ভব?

উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক এমপি ও এমএলএ দেবপ্রসাদ রায় অবশ্য মনে করেন মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “ভারতের তিস্তা ব্যারাজের মতো বাংলাদেশও কিন্তু তাদের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার ওপর একটি প্রকল্প নিয়েছিল, যার নব্বই শতাংশ কাজ শেষ হয়ে আছে। ভারত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে তিস্তার জল পাওয়া যাবে, এই ভরসাতেই তৈরি হয়েছিল সেই ডালিয়া প্রোজেক্ট।”

তিস্তার জল দিয়ে বাংলাদেশ নয় লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জল সরবরাহ করবে, আর ভারত প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিতে জল দেবে, তেমনই ছিল পরিকল্পনা।

দেবপ্রসাদ রায়ের কথায়, “এখন তিস্তায় খাল কেটে ডালিয়া প্রোজেক্টে যদি জল ফিড করা যায়, সেটা হয়তো খুব কঠিন না আর আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের এতে অসুবিধা হওয়ারও কোনও কারণ নেই। আর তোর্সাকে বলা যায় ভার্জিন নদী, কোনও সেচ প্রকল্পও এই নদীর বুকে নেই – তাই আমার মনে হয় তোর্সার যে কোনও জায়গাতেই এটা করা যায়।

তবে তিস্তা শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হলেও তোর্সার উৎপত্তি কিন্তু ভুটানে – ফলে তোর্সার জল ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তৃতীয় আর একটি দেশের (ভুটান) মতামতও গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন দেবপ্রসাদ রায়।

বাংলাদেশ অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তিস্তায় জল কতটা আছে সেটা বড় কথা নয় – জলের আধাআধি ভাগ করে চুক্তি সেরে ফেলাটাই আগে বেশি দরকার।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলিও সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, “তিস্তায় পানি যদি আট আনা থাকে তাহলে চার আনা-চার আনা ভাগ হবে। আর যদি ছ’আনা থাকে, তাহলে আমরা পাব তিন আনা, ভারত পাবে তিন আনা – এটা তো খুব সহজ যুক্তি!”

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি আগে তিস্তায় জলের পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলে আসলে চুক্তির প্রক্রিয়ায় আরও দেরি করিয়ে দিতে চাইছেন, যথারীতি এই আশঙ্কাও বাংলাদেশের তরফে তৈরি হচ্ছে।বিবিসি থেকে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc