Saturday 31st of October 2020 03:54:30 PM

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের খড়িয়া বিল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায় দুই ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই অর্থদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মুমিন। এ সময় বালু উত্তোলনের সরঞ্জামসহ ড্রেজার মেশিন ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয়।
সূত্রে জানায়, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মুমিন, তফশিলদার বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী, আবিদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ সময় সার্বিকভাবে সহায়তা করেন নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া মুমিন বলেন, জনকল্যাণে ও জনস্বার্থে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটা,মাহারাম,শান্তিপুর,চাঁনপুর ও কলাগাঁও ছড়া থেকে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারা সিন্ডিকেডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু ও পাথর বিক্রি করে হয়েগেছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। আর সরকার হারিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব। আজ ২০.০৯.২০ইং রবিবার সকাল ১০টায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি ইঞ্জিনের নৌকা আটক করেছে বিজিবি। এব্যাপারে যাদুকাটা,মাহারাম-শান্তিপুর ও কলাগাঁও এলাকাবাসী জানায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গাগটিয়া জালরটেক হতে অদৈত মহাপ্রভুর বাড়ির পশ্চিমপাড় পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার ও শিমুলবাগান হতে মাহারাম নদী হয়ে শান্তিপুর ও চানপুর পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন অবৈধভাবে শতশত নৌকায় বালু ও পাথর বোঝাই করাসহ উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও-চাঁরাগাঁও এলাকায় চলছে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর বিক্রির মহাতান্ডব।

প্রতিদিনের মতো আজ ২০.০৯.২০ইং রবিবার সকাল থেকে উপরের উল্লেখিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু বোঝাই করে পাটলাই নদী দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি ইঞ্জিনের নৌকা আটক করে বালিয়াঘাট ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। কিন্ত কোন লোক আটক করতে পারেনি। এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাদাঘাট ইউনিয়নের গাগটিয়া গ্রামের আব্দুল আহাদ,রানু মিয়া ও আলী চাঁদ মিয়াগং জেলা পরিষদের নামে কোন প্রকার রসিদ ছাড়াই প্রতিদিন রাতে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় নৌকা প্রতি ৫শ থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়াসহ তারা নিজেরাও অবৈধভাবে বালুু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত জালর টেক বড়ইতলা এলাকায় আব্দুল আহাদ,আব্দুল্লা,আব্দুল হান্নানসহ আদর্শ গ্রামের খাইরুল মিয়াগং অবৈধভাবে গভীর কোয়ারী তৈরি করে লক্ষলক্ষ টাকার বালি ও পাথর বিক্রি করছে।

এছাড়াও জালরটেক এলাকার শামসুল আলম প্রতি রাতে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালি ও পাথর বিক্রি করছে বলে জানাগেছে। অন্যদিকে শিমুল বাগান সংলগ্ন যাদুকাটা নদী ও মাহারাম নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করছে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের শাহালাম ও মাজহারুল গং। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নৌকাসহ শ্রমিকদের আটক করলেও বালু ও পাথর খেকো স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার জাকির বলেন, আমার উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি নৌকা আটক করেছি,এব্যাপারে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলহলিয়া থেকে অবৈধ বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর আটক করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। জানা যায়, গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলী আশরাফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর সহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এসময় ট্রাক্টর চালকরা পালিয়ে যায়। আটককৃত ট্রাক্টরের নাম- আদিল, সালমান পরিবহন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হলহলিয়া গেলানী ছড়া থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে দেদারছে সিলিকা বালু উত্তোলণ করে পাচার করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। জানা যায়, হলহলিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার পুত্র রুমান মিয়া, সালমান মিয়া সহ তাদের সহযোগিরা মিলে হলহলিয়া গেলানী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে তাদের নিজস্ব ট্রাক্টর দিয়ে পাচার করে বালুখেকোরা।

এদিকে উজ্জলপুর, হলহলিয়া, হলদিউড়া, সতং ও বদরগাজী গ্রাম সহ ৪/৫ টি গ্রামের লোকজনদের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর আটকের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে হলহলিয়া গ্রামের গেলানী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিজিবির অভিযানে আটক হচ্ছে অবৈধ মালামাল কিন্তু এলাকার চিহ্তি চোরাচালানীরা থেকে যাচ্ছে ধরাচোঁয়ার বাহিরে। প্রতিদিনের ন্যায় বিজিবি উপজেলা সীমান্তের বড়ছড়া স্থল শুল্কস্টেশন ও চানপুর বিওপির টহলদল সীমান্তবর্তী গ্রাম রাজাই থেকে অভিযান চালিয়ে মদের চালান আটক করেছে। জব্দকৃত মাদক তালিকাভুক্তির পর দুটি চালানই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়।
সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মাকসুদুল আলম জানান,তাহিরপুর সীমান্তে বিজিবির টহলের পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার ভোরে বড়ছড়া পার্শ্ববর্তী রাজাই এলাকা থেকে দুটি বিদেশি মাদকের চালান আটক হয়েছে এর পেছনে কে বা কারা জড়িত সে সব বিষয় খতিয়ে দেখছে বিজিবি।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী করে জানান,বর্তমান সিও সাহেবের কঠোর নজরদারী ও তৎপরাতায় চোরাচালানীদের চোরাচালান কমে গেলেও একবারেই থামছে না। তাহিরপুর সীমান্তে প্রতিদিনেই বিজিবি বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মদ,গাজা,কয়লা,চুনাপাথরসহ বিভিন্ন রখমের অবৈধ মালামাল আটক করছে। কিন্তু উপজেলা সীমান্তে যারা চোরাচালান করে এবং তাদের মদদ দাতাদের নাম বিভিন্ন সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং যারা ঐসব চোরাচালানীদের সাথে আতাত করে আর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক নামধারীরা মাসোয়ারা নিচ্ছে এবং ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক হয়েছে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। উঠতি বয়সী যুব সমাজকে রক্ষায় চোরাচালানী ও তাদের মদদ দাতাদের বিরোদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান উপজেলাবাসী।

বিজিবি জানায়,তাহিরপুরে বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় চানপুর বিওপির টহলদল সীমান্তবর্তী গ্রাম রাজাই থেকে ১২ক্যান বিয়ারের একটি চালান জব্দ করে। অন্যদিকে ট্যাকেরঘাট ক্যাম্পের বিজিবি বুধবার রাতে সীমান্তের বড়ছড়া শুল্কস্টেশনে ধাওয়া করলে বিদেশি মদ ও বিয়ারের একটি চালান ফেলে পালিয়ে যায় মাদক চোরাকারবারিরা। চালানটিতে ১৪বোতল বিদেশি মদ ও ৫০ক্যান বিয়ার রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের গরু চোরাচালানী ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য অবৈধভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৩টি কোরবানীর গরুর হাট বসাতে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার বিরোধী ও সুবিধা ভোগী একটি মহল। এর মধ্যে জনতা বাজার ও শান্তিপুর বাজার সরকার বিরোধী ও স্বার্থনেশ্বী মহল প্রশাসনকে বৃদ্ধাগুল দেখিয়ে নাকের ডগায় হাট বসিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভুমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে উপজেলার জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

অবৈধ ভাবে কোন কোরবানীর হাট বসানোর সুযোগ না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবার জন্য উপজেলার বৈধ ইজারাদারগন দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানা যায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর,উত্তর বড়দল ইউনিয়নের জনতাবাজার ও শান্তিপুর বাজারে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে গরু চোরাচালানীদের মাধ্যমে চুরাই পথে গরু এনে চাঁদাবাজি ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা ও জেলার উধর্বতন কর্মকর্তাদের ভুল বুজিয়ে ও সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত করে ফায়দা লুটতে চাইছে একটি মহল।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বিজিবি কঠোর নজরদারী রাখলেও সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানীরা তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঐ সরকার বিরোধী স্বার্থনেশ্বী মহলের সহযোগীতায় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যদি ঐ তিনটি বাজারে কোরবানির গরুর হাট বসানো হয় তাহলে ভারত থেকে চুরাই পথে অবৈধভাবে আসা দুবর্ল ও রোগাক্রান্ত গরু সয়লাব হবে উপজেলায়। আর সারা বছরের জন্য এসব গরু বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। আর রোগাক্রান্ত গরু খেয়ে মানুষ জন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবাবনা রয়েছে অন্য দিকে সরকার ও ব্যবসায়ী এবং ইজারাদাগন ক্ষতি গ্রস্থ হবে। তাই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেবার দাবী জানান সর্বস্থরের জনসাধারন।

এছাড়াও উপজেলার বাদাঘাট বাজার ব্যবসা বানিজ্যের প্রান কেন্দ্র এবং দীর্ঘ দু-যুগেও বেশী সময় ধরে গরুর হাট হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। যার ফলে এবাজারটি ইজারাদারগন প্রচুর পরিমানে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা আনে। এখন এই বাজার রেখে আরো বাজার হলে ইজারাদার গন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ফলে আগামীতে আর কেউই সরকারকে অধিক রাজস্ব দিয়ে বাদাঘাট বাজারটি ইজারা আনবে না। এটি সরকারের বর একটি রাজস্ব খাত তা বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল।

বাদাঘাট বাজারের ইজারাদার হুমায়ুন কবির ক্ষোভের সাথে জানান,বাদাঘাট বাজারটি আমরা সরকারী ভাবে সকল নিয়ম মেনে ইজারা এনেছি। এখন যদি এই বাজারের এক কিলোমিটার দূরে আরো দুটি বাজার বসায় আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। আমাদের ক্ষতি করার জন্য চোরাচালানীদের সুবিধা দিয়ে নিজেদের চাঁদাবাজি আর স্বার্থ হাসিল করার জন্য মানববন্ধন আর বিভিন্ন ভাবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করছে একটি মহল আমরা এর নিন্দা জানাই। সেই সাথে অবৈধ ভাবে জনতা বাজার ও শান্তিপুর বাজার গরুর হাট বসানো বন্ধের দাবী জানাই।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণ সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান,প্রতি বছরেই উপজেলায় সর্ব সাধারণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় সকল চেয়ারম্যানগনে উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থান গরুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার চেয়ারম্যানগন মাসিক সমন্নয় সভায় হঠাৎ করেই কোন কারন ছাড়াই সভা বয়কট করায় কোন বিষয়েই রেজুলেশনের করা হয় নি। যার জন্য এই অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর দায় দায়িত্ব চেয়ারম্যানদের কেই নিতে হব।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানান,আমার জানা মতে এই দুটি বাজার ইজারা দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য বলেছি।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার রাস্তাঘাট, বাজার এলাকা ও সড়কের মোড়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ।

ফলে যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ দোকানি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা করছে। এলপি সিলিন্ডার এখন পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানির অনেকেরই ট্রেড লাইসেন্স নেই। গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনারও অনুমোদন নেই। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কোন সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি রোধে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদন্ড, বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডেদন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র বিক্রি করছে। দেশে সাধারণত উৎপাদনকারীর কারখানা থেকে ডিলাররা সিলিন্ডার ক্রয় করে। এরপর ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার পৌঁছায়। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীরা ডিলারদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সনদের বিষয়টি যাচাই করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

যদিও বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা-২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, এসব সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। এলপিজি স্থাপনা প্রাঙ্গণে ধূমপান, দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছে আলো বা তাপের উৎস থাকা চলবে না। কিন্তু এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চায়ের দোকানে চুলার পাশে মজুদ রেখে কিংবা সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান, খুচরা বাজারের দোকান, রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে যত্রতত্র ফেলে রেখে বিক্রি করছে পেট্রোল ও এলপিজি সিলিন্ডার। এসব দোকানদার বেশিরভাগই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেননি। তা ছাড়া তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও দোকানিরা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। আবার বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সনদ নেওয়ার তোয়াক্কা করছেন না তারা। বেশিরভাগ দোকানি ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স নিলেও ১০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব দোকানে ২০টি থেকে শতাধিক সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রি করলেও সনদ নেই। এক দোকানে নানা ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাসবোঝাই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চা ও পানের দোকান ছাড়াও হার্ডওয়্যার, সিমেন্ট, মনোহরি ও মুদি সামগ্রী বিক্রির দোকানেও এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে আত্রাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার নিতাই ঘোষ বলেন, আমি এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে ৫২টি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে ১৪টির বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও ৩৮টি দোকানের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এবং আমাদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তাদের তালিকাও দিয়েছি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ছানাউল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রতিটি গ্যাস সিলেন্ডার, পেট্রলসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ বিক্রেতাদের কাছে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স করার জন্য নোটিশ পাঠানো হবে। কেউ তা না করলে পরবর্তিতে তাদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে অবৈধ অনুপ্রেশের অভিযোগে বাংলাদেী দুই লক্ষ টাকাসহ অর্জুন বিশ্বাস (২৫) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
বুধবার (১৫ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তবর্তী সাদিপুর সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক অর্জুন বিশ্বাস ভারতের উত্তর ২৪ পরগুনার বনগাঁ এলাকার অরবিন্দু বিশ্বাসের ছেলে।
বিজিবি জানায়, গোপন খবরে জানতে পেরে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর সড়ক থেকে সন্দেহভাজন ওই ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশী করে বাংলাদেশী দুই লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার বাকিবিল্লাহ জানান, তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামে থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি হতে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনুমতি ব্যতিরেকে দেদারছে সিলিকা বালু উত্তোলণ করে পাচার করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু উত্তোলণ করে পাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন লাখ টাকার বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে। এ ব্যাপারে গত ৯ মে বৃহস্পতিবার উজ্জলপুর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মো: আব্দুল আজিম মালিকানাধীন জমি হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে জনৈক ছুরুক মিয়ার পুত্র হেলাল মিয়া, ময়না মিয়ার পুত্র রুমান মিয়া, আরমান মিয়ার পুত্র রহিম মিয়া, মৃত আ: আলী লস্করের পুত্র হারুন লস্কর গংরা সিন্ডিকেট বানিয়ে মালিকানা জমি থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে বালু পাচার করছে বালুখেকোরা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। এদিকে উজ্জলপুর, হলহলিয়া, হলদিউড়া, সতং ও বদরগাজী গ্রাম সহ ৪/৫ টি গ্রামের লোকজনদের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে।

মালিকানা জমি থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু সতং-বদরগাজী রাস্তা দিয়ে পরিবহন করার কারণে ইকবাল আহমেদ সালেহ উচ্চ বিদ্যালয়, সতং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিউড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও হলদিউড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আজহারুল ইসলামের নির্দেশে ইউনিয়ন তহসিল অফিসার সুরঞ্জিত দেব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২টি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করে দেন এবং এসব মালিকনাধীন জমি হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ রাখার জন্য নিষেধ প্রদান করেন। উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  বেনাপোলের পুটখালী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান শিশুসহ ২৪ নারী-পুরুষকে আটক করেছে । এ সময় কোন পাচারকারীকে আটক করতে পারিনি তারা।
আজ (১২ নভেম্বর ) সোমবার পুটখালী গ্রামের মাঠের মধ্য থেকে তাদেরকে আটক করে বিজিবি। আটককৃতদের বাড়ি চট্রগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
খুলনা-২১ বিজিবি’র পুটখালী ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মুন্সি লাবলুর রহমান জানান, গোপন সংবাদে জানতে পারি বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু নারী-পুরুষ ও শিশু অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করবে। এ ধরনের সংবাদের ভিত্তিতে সুবেদার মুন্সি লাবলুর রহমান সংগীয় ফোর্স নিয়ে পুটখালী গ্রামের মাঠের মধ্যে গোপন অবস্থানে থেকে অভিযান চালিয়ে ১৪ জন পুরুষ, ৭ নারী ও ৩ জন শিশুকে আটক করে।
খুলনা-২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার ২৪ নারী-পুরুষ ও শিশু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান আটককৃতদের বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে ।

বেনাপোল থেকে এম ওসমানঃ  অবৈধ প‌থে ভারত থে‌কে ফেরার সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৫ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তবে এ সময় কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বেনাপোল দৌলতপুর সীমান্ত থেকে ২১ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন- রাহেলা বেগম (২২), টিটু (২৮), রফিকুল ইসলাম (৪০), লিটন (২৩) ও শিশু সোহাগী (০৩)। এদের বাড়ি নড়াইল, মাদারীপুর ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবা‌দে জানা যায়, অবৈধ ভা‌বে ভারত থেকে বেশ কিছু নারী পুরুষ পারাপার করছে। এমন খবরে বিজিবি অভিযান চালিয়ে একটি বাঁশ বাগানের ভেতর থেকে শিশুসহ ৫ বাংলাদেশিকে আটক করে।এর আগে বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।
বিজিবি’র পুটখালী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মুন্সি লাবলু রহমান জানান, আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়ায় এখন অবৈধ বাংলাদেশিসহ শ্রমিকদের দুঃসময় চলছে। কোনোভাবেই অবৈধ শ্রমিকরা আর সেদেশে থাকতে পারবেন না। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের নিজ নিজ দেশে ফিরতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদেরও দেশে ফিরে আসতে হবে। আর যারা ফিরবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দেশটির সরকার।

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে থাকা বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ করতে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রি-হায়ারিং প্রকল্প হাতে নেয় দেশটি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। দফায় দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ ৩০ জুন এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি এ প্রকল্পের সুযোগ নিতে পারেননি।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ কর্মীই অবৈধ। যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিতেই রি-হায়ারিং প্রকল্প গ্রহণ করেছিলে দেশটির সরকার। রি-হায়ারিং প্রকল্পে নিবন্ধন শেষ ধাপে অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দেবে বলেও জানিয়েছিল দেশটি। তবে অনেক বাংলাদেশির পাসপোর্ট ও কাগজপত্র না থাকায় তারা এ সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় রি-হায়ারিং প্রকল্প প্রায় আড়াই বছর ধরে চলেছে। আর এ সময়ের মধ্যে অবৈধ শ্রমিকদের ধরতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকার। এসব অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের নাগরিকদেরও গ্রেফতার করা হয়। গত আড়াই বছরে প্রায় তিন হাজার অবৈধ বাংলাদেশিকে গ্রেফতারও করে মালয় সরকার।

অবৈধ কর্মীদের ফেরাতে দেশটির সরকার থ্রি-প্লাস ওয়ান স্কিম চালু করেছে। এ স্কিমের আওতায় একজন অবৈধ কর্মী মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনে চারশ’ রিঙ্গিত জমা দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।

তবে অনেক বাংলাদেশি অভিযোগ করেছেন, এয়ারপোর্টে গেলে চারশ’ রিঙ্গিতের জায়গায় আটশ’, হাজার বা বারশ’ রিঙ্গিত নেয়া হচ্ছে। আবার অনেককে হয়রানি করা হচ্ছে। সে কারণে অনেকেই এয়ারপোর্টে গিয়ে এ সুবিধা নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়ালালামপুর থেকে এক বাংলাদেশি কর্মী জানান, অনেক অবৈধ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরতে চায়। তবে এয়ারপোর্টে বেশি রিঙ্গিত দেয়া আর হয়রানির জন্য ফিরতে পারছেন না। চারশ’ রিঙ্গিত দিয়ে ফিরতে বলা হলেও হাজার রিঙ্গিত নেয়া হচ্ছে। আবার অনেকের কাছে এ রিঙ্গিত দেয়ার ক্ষমতাও নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলী জানিয়েছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এখান থেকে সব অবৈধ শ্রমিককে থ্রি-প্লাস ওয়ান পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। যারা ওই তারিখের মধ্যে দেশে ফিরবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেছেন, বৈধকরণ প্রকল্পে যারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের আটক করা হবে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষার তাগিদে কোনো পক্ষের সঙ্গে আপসে যাবে না মালয়েশিয়ার অভিবাসন প্রশাসন।

অপরদিকে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার স্থানীয় পত্রিকা স্টার অনলাইন সে দেশের সরকারের বরাত দিয়ে জিটুজিতে ফেরার কথা প্রকাশ করেছে। গত ২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার স্থানীয় পত্রিকা স্টার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সরকার শ্রমিক নিয়োগে আবারও পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাচ্ছে। আমরা জিটুজি প্লাস আর চাচ্ছি না। যদি আবার কিছু হয় তাহলে জিটুজিতেই হবে। জিটুজিতে শ্রমিক নিয়োগ করলে মধ্যসত্ত্বভোগীদের আর কোনও ভূমিকা থাকবে না এবং দুর্নীতি হওয়ারও সুযোগ কম থাকবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ রফতানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার জিটুজি প্লাস পদ্ধতির কারণে নেপাল নড়েচড়ে বসেছে। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি বন্ধ রেখেছে দেশটি। নেপাল সরকার বর্তমান ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে।

নেপালের লেবার এটাশে সুত্রে জানা গেছে, সেদেশের সরকার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে অনেক অনিয়ম খুঁজে পায়। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে— বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রেখে একচেটিয়া ব্যবসা ধরে রাখতে চাচ্ছে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা কখন দাস নয়। বিদেশি শ্রমিকদের সম্মান দিতে হবে। আগে জিটুজিতে কোনও সমস্যা ছিল না, তাই আমরা আবার জিটুজিতে ফেরত যেতে চাই।’

বেনাপোল প্রতি‌নি‌ধি: অবৈধ প‌থে ভারতে পাচার হওয়া চার বাংলাদেশি নারীকে ফেরত পাঠিয়েছেন ভারত পুলিশ। বুধবার রাতে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের ট্রাভেল পারমিট প্রক্রিয়ায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ফেরত আসারা হলেন, টাঙ্গাইলের জোঁছনা (২৫), যশোরের শরিফা (২৬), রংপুরের সুমি আক্তার দিপা (২৩) ও ঢাকার রিনা (২১)।

জানা যায়, ভা‌লো কা‌জের প্র‌লোভ‌নে ৫ বছর আগে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে এরা সীমান্ত পথে ভারতে যায়। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেখান থেকে ভারতের একটি এনজিও সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের আশ্রয়ে রাখে। পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ক্রমে ট্রাভেল পারমিট প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত আনা হয়। কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে এই দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারগ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা নারীদের আইনী প্রক্রিয়া শেষে রাতেই তাদের বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

“টাকা না দেওয়ায় শতাধিক পরিবারে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭মে,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:‘চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপির বড়চেগ গ্রামের দক্ষিণ অংশের প্রায় শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হয়নি। বিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা যারা দিতে পেরেছেন তারা বিদ্যুৎ পেয়েছেন। এদেশে রোহিঙ্গাদের দাম আছে কিন্তু আমাদের দাম নেই।’ কথাগুলো  বলছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের হারুনুর রশীদ ও মনসুর মিয়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগে গত শনিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করার জন্য রহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে ও নতুনভাবে বড়চেগ গ্রামের প্রায় চার কি.মি. বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি ভূমিতে বসবাসকারী এই চার কি.মি. এলাকায় বিদ্যুতায়নে খুঁটি স্থাপন শেষে তার টানার কাজ চলছে। নতুন এই লাইন স্থাপনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তোলেছেন। প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে সবাই মুখ খোলে কথা বলতেও সাহস পান না। তাদের চাহিদা মতো টাকার পুরো অংশ দিতে না পারায় আংশিক টাকা দিয়েও অনেকেই বিদ্যুৎ বঞ্চিত নিয়েছেন।

বড়চেগ গ্রামের সমিরুন বেগম বলেন, মাহমুদ আলী মেম্বারের চাহিদা মতো অনেক কষ্ট করে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়নি। গ্রামের আমির হোসেন বলেন, দুইটি মিটারের বিপরীতে ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হলে তাদের চাহিদা মতো আরও ৬ হাজার টাকা দিতে না পারায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যায়নি। মসুদ মিয়া বলেন, আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে মাহমুদ আলী মেম্বার ও সোলেমান মিয়া ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের চাহিদাকৃত টাকা দিতে না পারায় আমার বাড়ি সহ গ্রামের প্রায় ৯০টি পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়নি।

এদিকে নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করার জন্য গ্রামবাসীর কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা চাঁদা আদায় এবং গ্রাম্য রাস্তার উপরে খুঁটির সাথে টানা স্থাপনে আপত্তি জানালে ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী, তার মাদকাসক্ত ছেলে বাবেল ও সোলেমান মিয়া ওরপে পিচ্ছি সোলেমান হামলার চেষ্টা করেন বলে গত ২০ মে মসুদ আলী কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও অবৈধভাবে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মাহমুদ আলী ও সোলেমান মিয়াকে অভিযুক্ত করে গত ২২ মে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে মসুদ আলী, মাসুক মিয়া, মো. আসাদ, আমির হোসেন ও জোবায়ের আহমদ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া রহিমপুর ইউনিয়নের কালাছড়া গ্রাম থেকেও মিটার, উদ্বোধনী খরছসহ অন্যান্য খাত দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করার খবর পাওয়া গেছে।

অভিযোগ বিষয়ে সোলেমান মিয়া ও রহিমপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী টাকা গ্রহণের কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা কিছু টাকা উত্তোলন করে বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেছি। খরছ ছাড়া তো কোন কাজ করা যায়নি।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্রীমঙ্গলস্থ অফিসের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আশিকুর রহমান (কেসিএল) বলেন, রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের অবশিষ্ট এলাকায় জমির মালিকানা বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি থাকলে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লিজ অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন কাগজপত্রাদি দেখালে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২মে,রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ তামাবিল স্থল বন্দরের সংরক্ষিত প্রাচীর ভেঙ্গে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ এবং মালামাল পরিবহনের ফলে বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অবৈধ রাস্তা বন্দের দাবী।

সিলেটের সর্ববৃহত আমদানী রপ্তানির বানিজিক পোর্ট ছিল তামাবিল। পোর্টের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার পোর্টকে আধুনিকায়ন করে আর্ন্তজাতিক স্থল বন্দরে রুপান্তর করে। শতকোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন সহ অত্যধুনিক সুযোগ সুবিধা এবং নিরাপদ স্থল বন্দর স্বার্থ রক্ষায় চর্তপার্শ্বে স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ করে বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারন ব্যবসায়িদের দাবী একটি প্রভাবশালী চক্র অতি সম্প্রতি স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজেসে অবৈধ ভাবে দেওয়াল ভেঙ্গে পাথর পরিবহন ও ড্রাম্পিং করছে। যাহার কারনে বন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন দূর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি অবৈধ পথে নিয়ে আসা মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। সরকার হারাবে রাজস্ব, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হবে চক্রের সদস্যরা।

আর্ন্তজাতিক মান বিবেচনায় স্থল বন্দনেরর অবকাঠামো পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় কিংবা দপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন। এছাড়া বন্দর এরিয়া বর্ধিত কিংবা সংযোজন করা হলে নতুন এরিয়া চিহ্নিত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে সীমানা প্রচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। কিন্তু এখানে কর্তৃপক্ষ তা না করেই অবৈধ ভাবে প্রাচীর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ সহযোগিতা করে আসছে। সরেজমিনে দেখা যায় সংরক্ষিত এরিয়া দক্ষিণ-পূর্বদিকে অপরিকল্পিত ভাবে প্রভাবশালীরা বন্দরের দেওয়াল ভেঙ্গে মালামাল পরিবহন ও ড্রাম্পিং করছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানায় এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে নবনির্মিত স্থল বন্দরের উদ্বোধনের ১বৎসর পূর্ণ হওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে বন্দরের নিরাপত্তা দূর্বল করে রাস্তাটি তৈরী করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকার সচেতন মহল মনে করেন চোরাকারবারিরা এই অবৈধ রাস্তা দিয়ে পন্যবাহী পরিবহন ব্যবহার করে নিরাপদে ভারত হতে মাদক, মাদকজাত পন্য, ভারতীয় শাড়ী সহ অন্যান্য মালামাল নিরাপদে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সম্বাবনা রয়েছে।

ইতোপূর্বে এভাবে ট্রাকযোগে মালমাল পরিবহনের সময় থানা ট্রাক সহ পুলিশ ভারতীয় মালামাল আটক করে। স্থলবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে অবৈধ ভাবে নির্মিত রাস্তা বন্দ করার দাবী জানান সাধারন ব্যবসায়ীরা।
এবিষয়ে তামাবিল স্থল বন্দরের সিকিউরিটি ইনচার্জ জয় কুমার প্রতিবেদককে জানান- অপরিকল্পিত ভাবে প্রাচীর ভেঙ্গে গেইট নির্মাণ না করে উন্মুক্ত রাস্তা তৈরীর ফলে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হয়। বৃষ্টিপাতের অ ল হিসাবে খ্যাত মেঘালয়ের পাদদেশে স্থলবন্দরটির অবস্থান হওয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ভয়ে অরক্ষিত অবস্থায় রাতের বেলা সিকিরিটির ব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে আশংঙ্কায় থাকতে হয়। তাই বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন প্রশ্ন বিদ্ধ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থলবন্দরের ইনচার্জ পার্থকরের সাথে আলাপকালে তিনি জানান- ব্যবসায়ীরা আমাদের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্রাচীর ভেঙ্গে মালামাল পরিবহন ও ড্রাম্পিং করা হয়েছে। তাতে স্থলবন্দরের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  সিলেটের জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ অবৈধ হলেও তিনি এ পদে বহাল রয়েছেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা টিম অধ্যক্ষের নিয়োগ অবৈধ বলে প্রতিবেদন দেয় এবং নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকে এমপিও বাবদ উত্তোলিত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে৷

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নির্দেশনাটি ধামাচাপা দিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকছেন মফিজুর রহমান। গত ১৮ বছরে মাত্র একবারের অভ্যন্তরীন অডিটে নানা আর্থিক অনিয়ম ও কেলেংকারির চিত্র ফুটে উঠে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগ অনুসন্ধানে যানা জানা যায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন লোকমান হোসেন।

তিনি কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ভুয়া নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী অধ্যক্ষ পদে অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর পুনরায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী নিজেই দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান দেখালেও ২০০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি এইচএসসি ও বিকম তৃতীয় শ্রেণী এবং মাস্টার্স পূর্ব ভাগে তৃতীয় শ্রেণী ডিগ্রীধারী।

অর্থাৎ তার একাধিক তৃতীয় বিভাগ আছে। নিয়োগ কালে ভুয়া তথ্য প্রদান করেছেন এবং কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ প্রতিবেদনের জবাব দাখিলের পর ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্রডশিট জবাব অনুমোদনে অনেক গুলো সিদ্ধান্ত প্রদান করে। ব্রডশিট জবাবে দেখা যায়, অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় উত্তোলিত সমুদয় বেতন ভাতার সরকারি অংশের অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমেন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়।

এমনকি অর্থ জমাদানের চালানের সত্যায়িত ছায়ালিপি পত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্রডশিটে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে অতিরিক্ত উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দানের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
এদিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারীর চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৮ বছর ধরে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করলেও তার মেয়াদকালে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট হয়েছে মাত্র ১বার। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ কলেজের গভর্নিং বডিকে ব্যবহার করে এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সূত্র জানায় ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মরহুম রশিদ হেলালী অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সহোদর ও রাষ্ট্রপতির তৎকালীন প্রেস সচিব মোখলেছুর রহমান চৌধুরীর সুবাদে তিনি এ যাত্রায় পার পেয়ে যান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমানের নিয়োগ বিধি সম্মত নয় মর্মে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রাপ্তির পর তারা সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী এবং অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে তারা এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির আগামী সভায় আলোচনা হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করার কথা স্বীকার করলেও এসব আপত্তি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান। তবে নিস্পত্তির কোন ডকুমেন্ট দেখাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুক আহমদ জানান অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত বেতনের টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দানের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc