Tuesday 20th of October 2020 08:16:30 PM

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাায় কমলগঞ্জ উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২২টি চা বাগানে চা শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা এককালীন ৫০০০ হাজার টাকার চেক বিতরণের জন্য ৩ হাজার শ্রমিকের নাম তালিকাভুক্ত করতে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালের বরাদ্দকৃত চেক চলতি বছরের জুন মাস থেকে বিতরণ শুরু করছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর। শমসেরনগর ও কানিহাটি চা বাগানের তালিকায় দুইএনআইডি নাম্বারের বিপরীতে ৭৪জন শ্রমিকের নাম রয়েছে।

একইভাবে অন্যান্য চা বাগানের ষ্টাফ, কর্মচারী, অশ্রমিক, জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজনদের নামও তালিকায় রয়েছে। চা বাগান সংশ্লিস্টরা বিষয়টি তদন্ত করার দাবী জানিয়েছেন।জানা যায়, সম্প্রতি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ . মো. আব্দুস শহীদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২২০০ জন শ্রমিক পরিবারের মাঝে ৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করার মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলায় এ কার্য়ক্রম উদ্বোধন করেন। তারপর থেকেই সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাগান প ায়েত কর্তৃক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম উঠেছে। বিশেষ করে শমশেরনগর ও কানিহাটি চা বাগানের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তালিকায় দেখা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের প্রাপ্ত ১১৩ নং হতে ১৪০ নং পর্যন্ত ২৭জন শ্রমিকদের নামের পাশে একই এনআইডি (৫৮১৫৬৮৫) নাম্বার দেয়া আছে। একই তালিকায় শমশেরনগর শিংরাউলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক নুনু মিয়ার নামও রয়েছে। তাছাড়া তালিকাভুক্ত অধিকাংশ চা বাগানের নিবন্ধিত চা শ্রমিক নন।

একই চা বাগানের ফাঁড়ি বাগান কানিহাটি চা বাগানের নামের তালিকায় আরেকটি এনআইডির (৫৮১৫৬৮৫৯৫) বিপরীতে ১নং হতে ৪৫নং পর্যন্ত ৪৫ জন শ্রমিকদের নাম রয়েছে। একইভাবে উপজেলার আলীনগর চাবাগানের তালিকায়ও ষ্টাফ, কর্মচারী ও চাকুরীজীবিদের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাধবপুর, পাত্রখোলা, মৃত্তিঙ্গা, চাম্পারায়সহ বেশ কয়েকটি বাগানের স্থানীয় প ায়েত ও জনপ্রতিনিধিরা শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে টাকা নয়ছয় করতে এমন আশ্রয় নিয়েছেন বলে সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন।্ অপর দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা সারা উপজেলায় বিতরণকৃত চা শ্রমিকদের এককালীন সহায়তার নামের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাইলে সমাজ সেবা অফিসার তালিকা দিতে রাজি হননি পরে তথ্যাধিকার আইনে আবেদন করেছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে কানিহাটি চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, তালিকা আমি করিনি। স্থানীয় বাগান প ায়েত ও চেয়ারম্যান করেছেন বলে জেনেছি। শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী বলেন, অনিয়ম বিষয়টি তার জানা নেই, তবে ইউনিয়ন অফিসের কম্পিউটারে তালিকা করা হয়। হয়তো সেখানে ভুল হতে পারে।

কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা বলেন, কিছু অনিয়মের কথা শুনেছি তবে চেক বিতরণ করা হলেও সমাজ সেবা বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চেকের টাকা প্রদানে এখনও কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

ডেস্ক নিউজঃ আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। ড্রাইভারদের লেন মেনে চলতে হবে। ওভারটেকিং বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যামেরা ফিট করে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে বললেন তিনি।

রোববার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ (এসআরসিসি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কলেজ সংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে পথচারী আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের পর প্রকল্পের ওপর একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সরকার প্রধান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বেসামরিক ও সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি কলেজ সংলগ্ন সড়কে বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার পর এর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

তাদের আন্দোলনের মুখে সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মেনে নেয়। এরই অংশ হিসেবে এই আন্ডারপাস নির্মাণ হচ্ছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বাসও হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯জুন,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:   কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদাল হোসেনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বন্যা দূর্গতদের মধ্যে ত্রান বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বৃহষ্পতিবার(২৮জুন) এ বিষয়ে)মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এ ইউনিয়নের ৩জন নারী ও ৩জন পুরুষ ইউপি সদস্য।

লিখিত অভিযোগে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেনা বেগম, সামসুন নাহার ও সন্ধ্যা রানী সিনহা, সদস্য মো. জুমের আলী, মো: বশির বকস, মনিন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, আদমপুর ইউনিয়নের ১, ৩, ৬নং (আংশিক) ও ৮নং ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরও চেয়ারম্যান কোন সদস্যদের সাথে আলোচনা ছাড়াই  নিজের লোক দ্বারা বন্যাদূর্গত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে বাদ দিয়ে নিজ ইচ্ছামত তার নিজস্ব লোকজনের নামের তালিকা তৈরী করেন।

কিন্তু আদমপুর ইউনিয়নের ১, ৩, ৬নং (আংশিক) ও ৮নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বেশীরভাগ লোকজন পানিবন্দীসহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে, সে সকল স্থানে নামে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন লোকের নামের তালিকা দেয়ার কথা বলায় ৬ ওয়ার্ডের কোন ইউপি সদস্যরা নামের তালিকা প্রদান করেননি।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্যরা একই ব্যক্তিকে একাধিকবার নাম তালিকাভ’ক্ত করছে। আমার কাছে রেজিষ্টার আছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ বাদ যাবে না।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আমি ইউপি সদস্যদের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের তালিকা করে আমার কাছে দিতে বলেছি। আমি তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের ত্রাণ দেয়ার ব্যবস্থা করব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাই ত্রাণের আওতায় আনা হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৪জুন,গীতি গমন চন্দ্র রায়, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ পীরগঞ্জ সরকারী খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে গম সংরক্ষণ অভিযান (ক্রয়ে) ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের নামে কাগজ কলমে গম বিক্রয় দেখানো হলেও ১মাস পূর্বেই এ উপজেলার কৃষকরা গম কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। গম ক্রয় কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে চলতি মৌসুমে কৃষকরা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নাম মাত্র কৃষকের কাছ থেকে ৩০০/৪০০ টাকা মূল্যে কৃষি কার্ড কিনে ব্যবসায়ীরা ওই কৃষকের নামে  খাদ্য গুদামে গম বিক্রি দেখিয়ে সিংহভাগ লভ্যাংশ তারাই ভোগ করেছেন। অথচ ৩০০ টাকায় কৃষি কার্ড ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে এসে কৃষককে সারাদিন অপেক্ষা করতে হয়, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিয়ে নিজেরাই ব্যাংকে গিয়ে টাকা উত্তোলন করছেন। গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিতিমালা অনুসরণ না করেই অতি গোপনে ও পছন্দ মতো কিছু কৃষকের মুখ দেখেই খাদ্য গুদামে বসেই তালিকা তৈরি করেছেন কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে গম বিক্রয়ে কৃষকরা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মুনাফা থেকে বি ত হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে সস্রাধিক কৃষক তাদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এবং তাদের গম বিক্রয়ে স্বার্থ বিঘিœত হয়েছে বলে জানা গেছে। গম ক্রয় কমিটি সভাপতি, সদস্য সচিব সহ ৯ সদস্য বিশিষ্ট ক্রয় কমিটি ও ব্যবসায়ীরা এ লভ্যাংশ ভোগ করেছেন বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। গত ৪মে বিকেল ৩টায় গম সংরক্ষণ অভিযান ক্রয় আনুষ্ঠানিক ভাবে  উদ্বোধন করা হয়। সোমবার (২৯ মে ২০১৭ইং) দুপুরে গম ক্রয় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এ ব্যাপারে খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিন রানা জানান, গম ক্রয়ের ব্যাপারে সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেই ক্রয় করা হয়েছে। এলাকার ক্ষুদ্ধ ও বি ত কৃষকরা ক্রয় কমিটির হীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করেছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৩মে,গীতিগমন চন্দ্ররায় পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মোঃ আসিয়া রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি স্বাক্ষর জালিয়াতি ভূয়া সদস্যের মাঝে ঋণ বিতরণ করিয়া ফাউন্ডেশনের টাকা আত্মসাৎ করিয়া আসিতেছেন। জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ৮টি কেন্দ্রে ৩২জন ভূয়া সদস্য দেখাইয়া ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা লোন বিতরণের অনিয়ম ও সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভূয়া সদস্যের নামে ঋণ বিতরণ দেখাইয়া ঐ টাকা নিজে আত্মসাৎ করিয়াছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এসব কেন্দ্র গুলির মধ্যে উপজেলার কুশারিগাঁও ১২৭নং কেন্দ্রে-৫জন, জাবরহাট ১৫২নং কেন্দ্রে-৫জন, দক্ষিণ রঘুনাথপুর ৩৯ নং কেন্দ্রে-১জন, করণাই মাজা পাড়া-১৩৭নং কেন্দ্রে-১জন, নানুহার ১১৭নং কেন্দ্রে-১জন, নিয়ামতপুর মাজাপাড়া ১৮৪নং কেন্দ্রেসহ ইত্যাদি বিভিন্ন কেন্দ্রে ঠিকানা বিহীন ভূয়া সদস্যের নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ঋণ দেখিয়ে ঐ লোনের টাকা মোঃ আসিয়া রহমান (উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা) আত্মসাৎ করিয়াছেন বলে কেন্দ্র প্রদর্শনকালে জানা যায়।

আরো জানা যায়, আসিয়া রহমানের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করিলে হুমকী প্রদান করিয়া বলে ‘আমি তাহাকে দেখিয়া লইব’। উক্ত কেন্দ্রগুলোতে ঐসব সদস্যের জিজ্ঞাসা করে  জানিতে পারা যায় তাহারা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন থেকে কোন ঋণ গ্রহণ করেন নাই । বিষয়টি জানা-জানি হইলে যেসব সদস্যের নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ঋণ উত্তোলন হয়েছে তাহারা দুশ্চিন্তাই মগ্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ নিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলায় বেশ চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৯মে,গীতিগমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট আর অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জে চিকিৎসা সেবা থেকে পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয় ঐ সভায়।

জানা যায়, সম্প্রতি পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী এমপি’র সভাপতিত্বে কমিটির সভা হয়। এতে সিভিল সার্জন ডাঃ আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবীর, ইউএনও এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পৌর মেয়র কশিরূল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রুস্তম আলী সহ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন।

সভায় একাধিক বক্তা অভিযোগ করেন, মানুষে মৌলিক চাহিদাগুলির মধ্যে চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় আর এটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে সবার। সরকারও সেই মৌলিক চাহিদা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দিতে জেলা ও উপজেলা ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেছেন। সরবরাহ করেছেন আধুনিক যন্ত্রপাতি। দিচ্ছেন পর্যাপ্ত ওষুধও। কিন্তু সেই সেবা থেকে পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অর্থ লোভ, মধ্যে প্রাইভেট ক্লিনিকের সাথে হাপাতালের চিকিৎসকদের অবৈধ ব্যবসা, টাকার বিনিময়ে জখমী সনদ পত্র প্রদান, সরকারি ওষুধ ব্যক্তিগত চিকিৎসা কেন্দ্রে ব্যবহার, চেম্বারে বসে রোগী দেখার পরিবর্তে বাদাম খেতে খেতে খোষ গল্পে মেতে উঠা ও অফিস ফাকি দেওয়া অন্যতম বলে আলোচনায় উঠে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রুস্তম আলী জানান, চিকিৎসক পদে ১১ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৩ জন।

আরএমও, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী ও ১ জন মেডিকেল অফিসার দিয়েই চালাতে হচ্ছে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি।এতে চিকিৎসা দিতে চরম স,স্যা হচ্ছে। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কারণে উজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে ঐ ৩ জনের উপর। ঐ ৩ জন ডাক্তারের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালে কর্মরত আছেন এবং তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সরকারী নীতিমালা লংঘন করে পীরগঞ্জে অংশিদারিত্বে ভিত্তিতে দু’টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন। হাসপাতালে আগত রোগীদের তিনি কোন কারণ ছাড়াই ঐসব ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে না গেলে তিনি কোন চিকিৎসা দেন না।

সম্প্রতি জগথা গ্রামের আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার পিঠে ফোড়া জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার নজরুলের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে তিনি তাকে আধুনিক ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন। এর কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার সাহেব তাকে বলেন, এখানে কোন ভাল যন্ত্রপাতি নাই, আদর্শ তিøনিকে আছে। সেখানে গেলে চিকিৎসা হবে, নইলে অন্য ডাক্তারের কাছে যান। তিনি পারব না বলে তাকে বিদায় দেন।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে জেলা সিভিল সার্জন সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম। এছাড়াও হাসপাতালে সিজারের ব্যবস্থা থাকলেও ডাক্তার নজরুল হাসপাতালে আগত ডেলিভারী রোগীদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মালিকানাধীন ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। রোগী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর পেটের পানি ভেঙ্গে গেছে, বাচ্চা ও মা উভয়ের জীবন এখন সংকটপন্ন, এখনেই ক্লিনিকে না নিলে মা ও বাচ্চা উভয়কেই হারাতে হবে এমন কথা বলে ভয় দেখান ডাক্তার নজরুল।

এতে বাধ্য হয়েই রোগীর জীবন বাচাতে নিয়ে যান তার নির্ধারিত ক্লিনিকে। সেখানে রোগীর সিজার করিয়ে নানা ভাউচার দেখিয়ে আদায় করা হয় কাড়ি কাড়ি টাকা। অথচ অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে ডাক্তার নজরুল সিজারের দায়িত্বে থাকায় সরকারী যন্ত্রপাতি, সুই সুতা ও ওষুধ হাসপাতালের পরিবর্তে তার অংশিদারিত্বের ক্লিনিকে ব্যবহার করেন। অপরাধ ঢাকাতে তিনি হাসপাতালে মাসে দু’চারটি সিজার করান। কিন্তু তাদের ভাগ্যে সরকারি কোন ওষুধ জুটে না। সব কিছুই বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাড়ি ফেরার সসয় রোগীর স্বজনের কাছ থেকে বকশি আদায় করা হয় দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা।

তাছাড়া হাসপাতালের আউট ডোরে চেম্বারে বসে বাদাম খেয়ে সময় কাটান তিনি। রোগীরা বাইরে দাড়িয়ে ঘন্টার পন ঘন্টা অপেক্ষা করলেও সেদিকে খেয়াল রাখেন না তিনি। স্থানীয়ত্বের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন অবাধে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি ও আগত রোগীদের অকারণে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঐ দুই ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে। অন্য কোন জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট দেখে না হাসপাতালের ডাক্তাররা। অথচ হাসপাতালে এক্সরে বাদে সকল পরীক্ষা-নীরিক্ষার যন্ত্রপাতি সচল রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য কাউকে পাঠানো হয় না।

তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নির্দেশে কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা হাসপাতালে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জখমী রোগীদের টাকার বিনিময়ে জখমী সনদ পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য। কোন ঘটনায় মামলা হলে টাকা নিয়ে কম জখমীদের বেশী জখম এবং বেশী জখমীদের কম জখমী সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। সেনগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগ করে বলেন, মেডিকেল সার্টিফিকেটে হের ফের করা হচ্ছে। এতে সাধার মানুষ মামলা-মকদ্দমায় হয়রানি হচ্ছে।

প্রবীন সাংবাদিক আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মারামারি ঘটনায় তার ছেলের হাতেরর আঙ্গুল ভেঙ্গে গেলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি করান। এর জন্য সেবা ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার থেকে এক্্র-রে করে আনলে আরএমও হুমায়ুন কবীর তা প্রত্যাখান করেন এবং ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার থেকে এক্্র-রে করে আনতে বলেন। পরে বাধ হয়ে আবারো ডিজিটাল ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার থেকে এক্্র-রে করে আনতে হয়।

এটা ব্যবসা ছাড়া আর কিছু না। অপর চিকিৎসক ডাঃ কামাল হোসেন এনেসথেসিয়ায় এবং অল্ট্রাসনোলজিতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত। যে কারণে পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও পাশ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারের অবস এবং বিভিন্ন ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে অল্টাসনোগ্রামের কাজে ব্যস্ত থাকেন। সরকারি হাসপাতালে মোটেও সময় দেন না তিনি। অভিযোগ বিষয়ে ডাক্তার নজরুল বলেন, আমি ৪র্থ গ্রেডে চাকরী করি। কত অভিযোগ দেখলাম ?। আমি ওগুলো পরোয়া করি না। তাছাড়া কোন ক্লিনিকে তার মালিকানার অংশ নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে জরুরী প্রয়োজনে সিজারের জন্য ক্লিনিকে তিনি যান বলে স্বীকার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার রুস্তম আলী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়ম মত দায়িত্ব পালন করার জন্য সকলকে বলেছি। আর যেন কোন সমস্যা না হয় সেদিককে আমি খেয়াল রাখবো। সিভিল সার্জন ডাঃ আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবীর বলেন, অভিযোগগুলি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৯মে,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে দূর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও বাংলাদেশ  আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, হাকালুকি হাওরাঞ্চলে দূর্গত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম হলে সাথে সাথে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অকাল বন্যায় অত্রাঞ্চলের প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আজ মাত্র ৬শ লোকের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছি। এটা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কৃষক বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণসহ পূনর্বাসনের সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি স্বচক্ষে অত্রাঞ্চলের কৃষকদের দূরাবস্থা দেখতে সরেজমিন এসেছি। আওয়ামীলীগ সরকার জনবান্ধব সরকার। এ সরকার সবসময়ই জনগনের পাশে থাকে এবং থাকবে।

কিন্তু ওরা (বিএনপি) শুধু ফটোসেশনের জন্য আসে এবং ভালো কাজের বদনাম ছড়িয়ে বেড়ায়। তাদের কাজই হল দূর্নীতি করা । আমি রাজনীতি বক্তব্য দিতে আসিনি, এসেছি একমাত্র দুঃখী ও অসহায় মানুষের কথা শুনতে। মঙ্গলবার (৯ মে) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত “ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠান ও মতবিনিময়” সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রসাশক (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুর রহমানের সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ হুইপ ও মৌলভীবাজার -১ (জুড়ী-বড়লেখা) এমপি আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিন, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অহম্মদ হোসেন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

পরে তিনি বড়লেখা উপজেলায় ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদেন। উল্লেখ্য যে, সেতুমন্ত্রী হাকালুকি হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও অসহায় মানুষের কথা বিবচেনা করে জুড়ী আসায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মনে আনন্দের বন্যার সঞ্চার হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০মার্চ,মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে গরীবের ভিজিডি কার্ডের তালিকা তৈরী ও চাল বিতরণে সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভিজিডি কার্ডের অনিয়মের বিষয়টি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা হলেন-উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা মনু লাল রায়। এর আগে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫জন সদস্য তাদের চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার ভিজিডির তালিকায় অসহায় দুস্থদের নাম না দিয়ে তার ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ও তার নিজস্ব কিছু লোকজনের নামের তালিকা করেন এবং গোপনে চাল বিতরণের লক্ষ্যে তাহিরপুর খাদ্য গোদাম থেকে ১৫মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেন।

এঘটনা জানতে পেরে ইউপি সদস্যরা লিখিত অভিযোগ করেন। ইউপি সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের ১০গ্রাম পুলিশসহ ৯২জনের ৫মেট্রিকটন চাল বিতরণ না করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে নির্দেশ দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।

এব্যপারে তদন্ত কর্মকর্তা মনু লাল রায় বলেন,ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার সরকারের বরাদ্ধকৃত ২৬০টি ভিজিডি কার্ডের মধ্যে ২২১টি কার্ড ইস্যুর বিষয়ে ইউপি সদস্যদের পরামর্শ গ্রহন করেন এবং ৪১টি কার্ড চেয়ারম্যান তার নিজের মত করে তালিকাভুক্ত করেন। সেই সাথে ১০জন গ্রাম পুলিশের নামেও তিনি ভিজিডি কার্ড প্রদানকরা সহ একই পরিবারের ২-৩জনকে ভিজিডি কার্ড করে দিয়েছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সরেজমিন তদন্ত করে জানতে পেরেছি অনিয়মের কিছু চাল এখনও বিতরণ করা হয়নি,এব্যাপারে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেব।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে যা লিখেন তা ভাল ভাবে বুঝে শুনে ও যাচাই-বাচাই করে লিখবেন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

“২শ কোটি টাকার ফসল নিয়ে লক্ষলক্ষ তাহিরপুর উপজেলার হাওরগুলোর কৃষকগন  উদ্বিগ্ন”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫মার্চ,জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলার হাওরগুলোতে ফসল রক্ষা বেরী বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এই উপজেলার সব কয়েকটি হাওরের বেরী বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও এখনও পর্যন্ত ৪০ভাগ কাজই শেষ হয় নি। ফলে তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় মোট ২৩টি হাওরের উৎপাদিত ২শ কোটি টাকার অধিক ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কৃষক। উপজেলার উল্লেখ যোগ্য বৃহৎ হাওরগুলো হলো-শনির হাওর,মাতিয়ান হাওর,লোভার হাওর,বলদার হাওর,টাঙ্গুয়ার হাওর সহ মোট ছোট-বড় ২৩টি।

এসব হাওরের বেরী বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। তাহিরপুর উপজেলার সামসার হাওরের বৈঠাখালি বাঁধ ভেঙ্গে সামন্য বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে। হাওরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাঁধ নির্মান করার নামে পিআইসির মাধ্যমে পাউবো পুকুর চুরির পায়তারা করায় টাংগুয়ার হাওর পাড়ের সন্যানী,এরালিয়া কোনা ও গনিয়াকুড়া ফসল রক্ষা বাঁেধ কোন কাজ না হওয়ায় ৩টি হাওরের প্রায় ৭শত একের জমির ধান গাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জেলার অন্যান্য হাওরের লক্ষ লক্ষ কৃষক আগাম বন্যায় কোটি কোটি টাকার এক ফসলী বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।

তাহিরপুর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্র জানায়,এ উপজেলায় আবাদী জমির পরিমান মোট ২৪হাজার ৯শত ৯৫হেক্টর। তার মধ্যে ১৮হাজার ২শত হেক্টরের অধিক জমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন প্রকার ধান চাষ করা হয়েছে। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। উৎপাদিত ধানের মধ্যে রয়েছে-হাইবিট ৮শ হেক্টর,স্থানীয় ২২শ হেক্টর ও বাকি জমিতে অকশি জাতীয় ধান চাষ করা হয়েছে।

এসব জমিতে প্রতি বছর উৎপাদিত ধান থেকে ৬৪হাজার মেঃটনের অধিক চাল হয়। যার মূল্য ২শত কোটির বেশি টাকা। কিন্তু প্রতি বছরই হাওর গুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্য দিয়ে ফসল রক্ষা বেরী বাঁধ নির্মাণ করার ফলে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১৪হাজার ৯হেক্টর জমির অধিক ধান। উপজেলার কৃষকরা তাদের কষ্ঠার্জিত ফসল হারিয়ে হয়ে যায় নিঃস্ব।

হাওরের কৃষকরা জানায়,প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওর অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কারণ প্রতিটি ফসল রক্ষা বেরী বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের কারণে দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাওরে নির্মিত বেরী বাঁধ কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে কোন উপকারে না আসলেও বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পকেট ভারী হচ্ছে। পাউবোর ঠিকাদার ও পিআইসিরা বাঁধের উপর থাকা গাছ-পালা কেটে পরিস্কার না করেই,বাঁধের দুই পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে কোন রকম দায় সারা ভাবে ফসল রক্ষা বাঁধের ওপর মাটি দিয়ে বেরী বাঁধ নির্মান করছেন।

আবার অনেকেই এখনও পর্যন্ত বাঁধের কাজ শুরু না করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে বুক ফুলিয়ে এলাকায় চলা ফেরা করছেন। আর যে সকল বাঁধের কাজ চলছে সেগুলো ব্যাপার অনিয়ম আর দূর্নীতির মধ্য দিয়ে কচ্ছব গতিতে চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এডিপি প্রকল্পের অধীনে তাহিরপর উপজেলার ২৩টি হাওরের মধ্যে ১৬টি হাওরের বাঁধ নিমার্ন ও মাটি ভড়াটের কাজ পায়। নিদির্ষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি এনে বেরী বাঁধ তৈরি করার পর,বস্তায় মাটি ভড়ে,বাঁশ দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া নিয়ম থাকলেও এখানে তা কেউ মানছে।

উপজেলার শনি ও মাতিয়ান হাওরের কৃষক খেলু মিয়া,শফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী,রফিকুল ইসলাম,উত্তম রায় সালাম মিয়া,কাদির মিয়া,আলী আহমদ,জামাল উদ্দিন সহ আরো অনেকেই বলেন,নিজেদের আখের গোছানোর জন্যেই সময় মত বাঁধ নির্মাণ না করে অনিয়ম করছে। তাছাড়া দূর্নীতির কারণে প্রতি বছরই ৪০ভাগ কাজ হয় না। ফলে সামান্য পাহাড়ী ঢলের পানিতে বাঁধগুলো ভেঙ্গে হাওর গুলো ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত হাওরের বাঁধ নির্মান হয় নি। আমরা আবারও পাহাড়ী ডলে হাওর ডুবে যাওয়ার আতœংকে আছি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন-আমি এবং মাননীয় এমপি মহোদয় মঙ্গল বার সকাল থেকে বাঁধ নির্মাণ পরিদর্শন করেছি কোন বাঁধ কি পরিমান হয়েছে তা দেখার জন্য। বাঁধ নির্মানের কাজ সঠিক ভাবে দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-আমি সরেজমিন বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখেছি,সঠিক ভাবে ও সময় মত বাঁধ নির্মাণ না করায় হাওর বাসী আতœংকের মধ্যে আছে পাহাড়ী ডলের আশংকায়। এবার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলের ক্ষতি হলে এর দায় পাউবো কেই নিতে হবে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এক সাপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পূর্ন না হলে তাদের বিরোদ্ধে মামলা করা হবে এবং আমরা হাওরবাসী নিজেরাই হাওর রক্ষায় কাজে নেমে যাব। সুনামগঞ্জ ১আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন হাওর পরিদর্শন করে ক্ষোবের সাথে জানান,পাউবোর গাফিলতির কারনেই বাঁধ নির্মানের কাজ ধীর গতি। বাঁধ নির্মান কাজের সঙ্গে জড়িত পাউবোর কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের এখন হাওর এলাকায় থাকতে হবে। এবার হাওরের বাঁধের কারনে বোরো ফসলের কিছু হলে হাওরবাসী কাউকেই ছাড়বে না।

এব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন,হাওর থেকে দেড়িতে পানি নামা ও বাঁধ নির্মান কমিটি গঠনে পদ নিয়ে জঠিলতায় সময় লেগেছে। সম্প্রতি হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি নদীতে বাড়ায় পানি বাধেঁ উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। উল্লেখ্য,গত বছর জেলার ছোট বড় ৪৬টি হাওরে সময় মত ও সঠিক ভাবে বাঁধ মেরামত না করায় ১৫টি বাঁধ ভেঙ্গে ২৫টি হাওরের ৬০-৭০ভাগ পাকা,আধা কাচাঁ বোরো ধান সম্পূর্ন পানিতে তলিয়ে যায়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc