Sunday 28th of February 2021 12:35:56 PM

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের চৌকি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দ চন্দ্র দাশ (৭৩) পরলোকগমন করেছেন।  শুক্রবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন। এসময় উপস্থিতি ছিলেন গ্রামবাসীসহ নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ।

মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দ চন্দ্র দাশের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে-তিনি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে তিনি নিজ বাড়ীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলেসহ আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে তাহার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দ চন্দ্র দাস এর প্রয়াণে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন।  তিনি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান।

নজরুল ইসলাম তোফা: মানুষে মানুষে খুব পাস্পরিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি হয় বন্ধুত্ব। বিনা কারণে যেমন বন্ধুত্বের জন্যেই বন্ধুত্ব হয়, আবার প্রয়োজনেও বন্ধুত্বের পরিধি খুব বাড়ে। সে প্রয়োজন শুধু আর্থিক ও বৈষয়িক হবে এমন কোনো কথা নেই। বন্ধুত্ব হওয়ার মাঝে যা যা প্রয়োজন তার মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে চিন্তা-চেতনা কিংবা রুচির মিল। সমমনা দুজন মানুষের একটি জগৎ থেকেই তো শুরু হয় বন্ধুত্ব। আসলেই বন্ধুত্ব ছাড়া ব্যক্তি, পরিবার কিংবা সমাজ কার্যত কোনোটাই তেমন চলতে পারে না। খুব ভালো বন্ধু পরিবার, সমাজ ও চারপাশের মনোসামাজিক উন্নয়নের জন্যে দরকার আছে। আবার ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব মানেই প্রেম, অসম বয়স হলে চোখ কপালে তোলে প্রেমের নামে অহেতুক বন্ধুত্ব করা উচিত না।

ভালো রেস্তোরাঁয় খাওয়ালে বা ভালো উপহার দিলে যে ভালো বন্ধু হওয়া যায় না, সেটাও বুঝতে হবে। সুন্দর এবং উন্নত সমাজ বিনির্মাণে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্কে গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই,- বন্ধুত্বের গুরুত্ব যেমন বেশি তেমনি বন্ধুত্ব বা সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তারচেয়ে বেশি। সত্যিকারের বন্ধুত্ব মানে ‘আজীবন বন্ধুত্ব’। এ ধারণাটিও সবসময় ঠিক নাও হতে পারে। ছোটবেলা যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে, শিক্ষা জীবনে যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, কর্ম জীবনে প্রবেশ করার পর তার অধিকাংশই হারিয়ে যায়। আবার বাসস্থান পরিবর্তনের কারণেও পুরানো বন্ধুর জায়গাতে নতুন বন্ধুর সৃষ্টি হয়। কর্মজীবী মহিলাদের বেলায় এমন ব্যাপারটি আরও অস্পষ্ট। কর্ম জীবনে বা শিক্ষা জীবনে অনেকের সাথে তাদের বন্ধুত্ব হয়। তারা কর্ম এবং শিক্ষা জীবন ত্যাগ করেই পুরোপুরি গৃহিণী হয়ে গেলে বন্ধুত্বের আওতাটা পুরোপুরি পাল্টে যেতে পারে। তবে এ ধরনের খণ্ডকালীন বন্ধুত্বকেও কম গুরুত্ব পূর্ণ মনে করার কোন প্রয়োজন নেই। জীবনের নানা সময়ে নানা কালে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রয়োজনীয় ও আনন্দদায়ক বন্ধুত্ব হতেই পারে। তাকে যথাযত মুল্যায়নের দৃষ্টিতেই দেখা দরকার বলেই মনে করি। তাদের সংসার জীবনের স্বামী-স্ত্রীর যে সু সম্পর্ক তা বন্ধুত্বের কাতারে চলে আসে। তাঁদের মধ্যে মতামতের মিলেই বন্ধুত্ব হয়। এরফলেই বিবাহবিচ্ছেদও কমে যায়। আবার শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্কটা
থাকলে তা শেখার প্রক্রিয়াকেও সাবলীল করে। বন্ধুত্বটা মানেই তো একে অপরের মনের মিল থাকা। একজনের সঙ্গে অন্যজনের আগ্রহ ও চিন্তার মিল থাকবে। সুতরাং, সুখ-দুঃখ বা বিপদ-আপদে একেঅন্যের পাশেই থাকার চেষ্টাটাই বন্ধুত্ব।

বন্ধুত্ব মানে হলো যে একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠা একেঅন্যের দুঃখে পাশেও দাঁড়ানো। মন খুলে কথা বলা, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া আর চূড়ান্ত ভাবে পাগলামি করার একমাত্র আধার বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব কোনো বয়স মেনে হয় না, ছোটবড় সবাই বন্ধু হতে পারে। বন্ধুত্বের মধ্যে যে জিনিসটা থাকা দরকার তা হলো, সু-গভীর ভালোবাসা। একজন বন্ধুর আত্মার সঙ্গে অন্য বন্ধুর আত্মার টানটাই বন্ধুত্ব। পরিসংখ্যানে জানা যায় যে, দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বের মধ্যে ‘আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতা’ বেশি থাকে। তাই বলে, নতুন বন্ধু হতে হলে, তাকে ১০/১২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—বন্ধুত্বের দাবির জন্যে, এমনটাও ঠিক নয়। তরুনদের জীবনে খুবই খারাপ সময় বা হতাশার মুহূর্তে বড়দের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেই তাদের নতুন জীবনের সূচনা করে দিতে হবে। এসবই তো সঠিক বন্ধুত্বের মধ্যে পড়ে‌। ছোটরা বয়সে বড় যে কোনো মানুষদেকে নিজের গোপন কষ্টের কথা জানানোটা দোষের কিছু না, তা তো বন্ধুত্বের মধ্যেই গন্য হয়‌। বিজ্ঞজন এবং বড়রা ছোটদের জীবন পরিচালনার আস্থা তৈরি করে দেয়া খুবই গুরুত্ব পূর্ণ বন্ধুত্ব‌। আসলেই সঠিক বন্ধুত্বের তালিকায় ‘নারী না পুরুষ’ কিংবা ‘ছোট নাকি বড়’, সেইটা মুখ্য হয়ে ওঠে না।আবেগ, সমস্যা ও আনন্দ-অনুভূতি এবং উপলব্ধিগুলো বন্ধুর কাছে শেয়ার করা উচিত। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় থাকা দোষের নয়। স্হায়ী বন্ধুদের সঙ্গেই আড্ডা দেওয়া উত্তম। স্থায়ী বন্ধুদের বেশ কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকে। যেমন ধরা যাক: নিজস্ব যোগ্যতা, আস্থা, সততা,
সহানুভূতি, সহমর্মিতা, সমবেদনা,পারস্পরিক, অনুভূতি প্রকাশ, একে অপরের সঙ্গ, স্নেহ, বোঝাপড়া সহ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটু অন্য ভাবেই বলার চেষ্টা করি, তা হলো,- “নির্বোধ এবং বোকা মানুষদের বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকো। কারণ তিনি উপকার করতে চাইলেও তার দ্বারা আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে।’’ এমন কথাটা- হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন। আবারও হজরত ইমাম জাফর আস-সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছিলেন ‘পাঁচ ব্যক্তির সাথেই বন্ধুত্ব করা সমীচীন নয়। তারা হলো মিথ্যাবাদী, নির্বোধ, ভীরু,পাপাচারী ও কৃপণ ব্যক্তি।’

জীবনে চলার পথে প্রত্যেকেরই জীবনে বন্ধু নামের এক বিশ্বাস কি়ংবা মজবুত সুসম্পর্কের সৃষ্টি হয়। যে সম্পর্ক কখনো লাভ অথবা ক্ষতির ভাবনায় গড়ে ওঠে না। কিছু মুহূর্ত আমাদের সামনে হাজির হয়ে যায়। যেখানে বন্ধু’র গুরুত্ব অপরিসীম। মেকি বা প্রহসনের বন্ধু দরকার নেই, তারা ক্ষতিই করে। রবীন্দ্রনাথ বলেন, বন্ধুত্ব আটপৌরে। বন্ধুত্বের আট পৌরে কাপড়ের দুই-এক জায়গাতে ছেঁড়া থাকিলেও চলে,.. ঈষৎ ময়লা হইলেও হানি নাই,.. হাঁটুর নীচে না পৌঁছিলেও তা পরিতে বারণ নাই।… গায়ে দিয়া আরাম পাইলেই হইল। বন্ধুত্ব সম্পর্কটিই তো তাই। স্থান, কাল, বয়স ও লিঙ্গ নির্ধারণ করে তো বন্ধুত্ব হয় না। যার কাছে মনের সব লুকানো কথা, আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে খুলে বলা যায়। সেই তো ‘প্রকৃত বন্ধু’। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে টেনে তোলা হয় বিপৎসীমা থেকে খুবই নিরাপদ স্থানে। সেই তো “প্রকৃত বন্ধু”। আবার খুব ভুল সিদ্ধান্তের অন্ধকার হতে ফিরিয়ে আলোকিত পথের সন্ধান দেওয়া যায়। সেই তো ‘প্রকৃত বন্ধু’। বিশ্বাসের সু-সম্পর্কের সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে বন্ধুত্বের আসনে বসিয়ে তাকে ‘বন্ধু বলাটাই উচিত। আসলে, সঠিক বন্ধু মানুষের হতে পারে এক থেকে একাধিক। আত্মার সাথে আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হলো বন্ধু। এরিস্টটল বন্ধুত্ব সম্পর্কে বলেছেন যে, ‘’প্রতিটি নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়। কিন্তু বন্ধুত্ব যতই পুরোনো হয়, ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়।’’ তা ছাড়াও এমিলি ডিকেনসন বলেছেন যে,- ‘আমার বন্ধুরা আমার সাম্রাজ্য।’ তবে আমার কাছেই আমার বন্ধু’রা হলো হাত আর চোখের মতো।…হাত যখন ব্যথা পায়,…চোখ দিয়ে তখন জল ঝরে পড়ে।. আর চোখ দিয়ে যখন জল ঝরে পড়ে,…..তখন সেই ব্যথায় ব্যথাতুর হাতটি চোখের জল মোছার জন্যে ব্যস্ত হয়ে যায়। সুতরাং ব্যথা আর চোখের জলের সম্পর্ক যেমন ঘনিষ্ঠ, আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনও একই সুতায়। একে অপরের কাছে থেকে দূরে থাকলেও অন্তরে টান থাকে ষোল আনা।

বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ”সতর্কতা অবলম্বন” করা জরুরি। কারো সম্পর্কে জানা শুনা না করে যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। কেননা সাধরণ মানুষরাই বন্ধুর স্বভাবেরই অনুকরণ করে প্রতারনা করে থাকে। ইসলাম ধর্মের দৃষ্টি কোণ থেকে এক হাদিসের আলোকেই বলার চেষ্টা করি। “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বলেছিলেন,- মানুষ তার বন্ধু স্বভাবী হয়, তাই তাকে বা মানুষকে লক্ষ্য করা উচিত, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে। (তিরমিজি) সত্যবাদী, নামাজি, দ্বীনদার ও পরোপকারী ব্যক্তিই হতে পারে মানুষদের সর্বোত্তম বন্ধু। তবেই তৈরি হবে একটি সুন্দর সমাজ ও আদর্শের এক সমাজ। যিনি আপনাকে অনুভব এবং অনুকরণ করে, তিনিইতো হবে আপনার প্রকৃত বন্ধু। গোপন কথাগুলি অন্য কাউকে না জানিয়েই বিশ্বস্ততার পরিচয় দিবে। এমন অনেক প্রকৃত বন্ধু’রা থাকে তারা সারা জীবনে নীরবেই উপকার করে। বলা যায় যে, কথা দিয়ে, কাজ দিয়ে কিংবা টাকা দিয়ে। কখনোই বলে বেড়ায় না কতোটা উপকার করেছে। সেই বন্ধুটি খুব অল্প দিনের চেনা হলেও আপনার কাছের বা ‘গুরুত্ব পূর্ণ বন্ধু ভাবা’ উচিত। তার সাথেই ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাকে আপনাকেই ‘চিনে ও বুঝে’ নিতে হবে। “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বন্ধুত্বের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন,- ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হচ্ছে,- আতর বিক্রয়কারী বা কামারের হাপরের ন্যায়। সুতরাং এমন আতরওয়ালা আপনারকে নিরাশ করবে না। হয় আপনি তার নিকট থেকেই আতর কিনবেন বা আতরওয়ালার কাছেই সুঘ্রাণ পাবেন। আর কামারের হাপরটা, হয় আপনার ‘বাড়ি জ্বালিয়ে’ দেবেন, নচেৎ আপনার কাপড় পুড়িয়ে দেবেন আর তাও নাহলে তার কাছে দুর্গন্ধ পাবেন।’ (বুখারি)

প্রবাদেও আছে যে, সৎসঙ্গ স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গ সর্বনাশ। তাই পরস্পর সু-সম্পর্ক বজায় রাখলে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে বলেও একটা ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্ব নবি। তিনি বলেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা, ‘আমায় মর্যাদার কারণে কিংবা আনুগত্যের কারণেই পরস্পরের বন্ধুত্ব স্থাপনকারীরা আজ কোথায়? আমি আল্লাহ তালা তাদেরকে আজ আমার ছায়া তলে আশ্রয় দেব। যে দিন আমার ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া থাকবেনা।’ এটি মুসলিম থেকে প্রকাশিত কথা। একারণে মানুষের উচিত ভালো বন্ধু নির্বাচন করা। একটি উল্লেখ যোগ্য উদাহরণ দেই, যেমন ধরুন: লেখালেখি, গান, আড্ডা, কৌতুক বা সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রেম থেকেই যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সঙ্গে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের একটা দারুণ বন্ধুত্ব হয়েছিল। যদিও সেই বন্ধুত্ব অনেক পরে নষ্ট হয়ে যায়। এটাই যেন বাস্তব উদাহরণ। সুতরাং,- সঠিক বন্ধু চিনেই বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে। ‘কুরআন সুন্নাহ কিংবা ইসলামের ইতিহাসে’ বন্ধুতের মর্যাদা ও গুরুত্বের ব্যাপারে আছে সুস্পষ্ট দিক- নির্দেশনা। যা মানুষকে সফলতার পথ দেখায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে যেন একে অপরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরকালের সুন্দর জীবন লাভে বন্ধুত্ব কিংবা পাস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করায় আত্মাতে শক্তিশালী বন্ধন সৃষ্টি করে। উচ্চ শিক্ষাতে সমাজ বিদ্যা, সামাজিক মনো বিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব ও দর্শনে বন্ধুত্বের শিক্ষা দেয়া হয় । ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ডেটাবেজ গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারণেই ‘মানুষ সুখী’ হয়। আল্লাহ বলেছেন,‘আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ‘ভাল কথার শিক্ষা’ দেয় ও মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে জাকাতও দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনটা পরিচালিত করে। এদেরই উপরেই আল্লাহ তাআলা দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (সুরা তাওবা: আয়াত ৭১)। ‘বন্ধু’ শব্দের মাঝেই সব লুকায়িত আছে। এতে কোনো বয়সটা বাধা নয়। কিশোর বয়সের কোন ছেলে এবং মেয়ের সঙ্গে যদি তারচেয়ে বড় কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়, তবে তাদের অবশ্যই জ্ঞানের পরিসীমা বাড়তে বিরাট ভূমিকা রাখে। বাবা- মায়েরাও সন্তানদের ভালো বন্ধু হতে পারে। ভালো মন্দ সব কিছু খোলামেলা আলোচনা করে সন্তানদেরকে গড়ে তুলবে হবে। তারাই আগামী দিনের আলোকিত সুন্দর বা সুখের মানুষ পিতা মাতার কাছ থেকেই যেন হয়। বন্ধুর সঙ্গে অকপটেই সব ভালোমন্দ কথার সহিত মন্দ যত খারাপ হোক র্নিদ্বিধায় বলতে পারাটার নামই প্রকৃত বন্ধু।

✍️লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

সিলেটের লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘সিলেটি ধামাইলের ইতিকথা ‘ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নগরভবনের কনফারেন্স কক্ষে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। শ্রীহট্ট লোকগীতি পরিষদের উপদেষ্টা ও সিলেট মহানগর আওয়ামিলীগ এর সহ-সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে ও রকি দেব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ সর্ব্বানী অর্জুন,সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ সভাপতি আল আজাদ, সিলেট মহানগর আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি এড. প্রদীপ ভট্টাচার্য,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবজ্যোতি মজুমদার রতন,সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি গুলজার আহমেদ হেলাল, সিলেট মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদ এর সভাপতি সুব্রত দেব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী বাবুল দেব, লেখক ও রাজনীতিবিদ সজল চৌধুরী, লেখক ও সমাজসেবক রিপন এষ চৌধুরী, সাবেক সেনা সদস্য বি এস রায় সজল অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন অরবিন্দু দাস (অব: সরকারি কর্মকর্তা), ভানুজয় দাস(সিসিক কর্মকর্তা, সাবেক ছাত্রনেতা বিদ্যুৎ ভুষন দেব ও রথীন্দ্র দাস ভক্ত, সমীরন দাস, মাহমুদ খান(কার্যনির্বাহী সদস্য : সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব, হাসিব আহমেদ (সদস্য সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব), সাংবাদিক যীশু আচার্য, সিলটিভি প্রতিনিধি জয়ন্ত কুমার দাস, আল মামুন বাবলু, কাইয়ুম আহমেদ, হিমেল কান্তি দেব, রিন্টু সুত্রধর রিকি, নাহিদুল ইসলাম, রিংকু তালুকদার, শিমুল চক্রবর্তী(সহ: শিক্ষক), মনোজ চন্দ্র শীল, কাজল বৈদ্য, প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন”সিলেটি ধামাইলের ইতিকথা” গ্রন্থের সম্পাদক আশীষ দে ও প্রকাশক ও কামরুল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তারা সিলেট তথা বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। সিলেটি ধামাইলের ইতিকথা বইটি পাওয়া যাবে নির্বাচিত এর সিলেট শাখায় ও পাপড়ী প্রকাশনীতে। অনলাইনে রকমারি ডটকমেও বইটি অর্ডার করা যাবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে চিত্রশিল্পী কাজল মুখার্জীর ১৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকালে এই উপলক্ষে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের আয়োজনে স্মরন শোভাযাত্রা, শিল্পীর সমাধীতে পুষ্পমাল্য অর্পন, স্মৃতি চারন আলোচনার আয়োজন করা হয়। সকাল ৮ টায় সুলতান মঞ্চ থেকে স্মরন শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে নড়াইল শহরের ভওয়াখালীগ্রামে শিল্পীর সমাধী চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

এসময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, চিত্রশিল্পী বিমানেষ বিশ্বাস, সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান লিটু, মুর্ছনা সংগীত নিকেতনের সভাপতি ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শামীমুল ইসলাম টুলু, লাল বাউল সম্প্রদায়ের সাধারন সম্পাদক সরোয়ার ফকিরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছর বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও এবার করোনা সতর্কতায় সিমিত আকারে শিল্পীর  ১৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জঃ  এ কেমন প্রতারণা..? নবীগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পল্লী এলাকায় এক কৃষককে ধান ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ সরল কৃষকের নিকট থেকে প্রতারণা ফাঁদ ফেতে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক৷ এঘটনায় সামাজিক বিচার পঞ্চায়েত অমান্য করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারণার শিকার কৃষক মঞ্জুর আলী নামের ব্যক্তি৷
অভিযোগে উল্লেখ ও প্রতারণার শিকার মঞ্জুর আলী জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাঞ্জারাই গ্রামের তাজ উদ্দীনের পুত্র ও বহুল আলোচিত সমালোচিত মইনুল ইসলাম নামের ব্যক্তি ২০১৯ সালের ২০সেপ্টেম্বর ধান ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে একই ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিব মিয়ার পুত্র মঞ্জুর আলীর নিকট থেকে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি৷
এর পরথেকে টাকা দেই দিচ্ছি বলে কৃষক মঞ্জুর আলীর সাথে সময়নকাল ক্ষাপণ করে ও প্রতারণা করেন৷ এঘটনায় প্রতারণা ও হয়র্নীর শিকার মঞ্জুর আলী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচারপ্রার্থী হন৷ একপর্যায়ে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান ছাইম উদ্দীনের কার্যালয়ে সামাজিক বিচারের মুখোমুখি করিলে অভিযুক্ত মইনূল ইসলাম উপস্থিত চেয়ারম্যান সহ সামাজিক সালিশ বিচারকদের সামনে ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন মইনুল, তবে টাকা পরিশোধের কয়েকটি তারিখ করেও টাকা উদ্ধার হয়নি মইনুলের নিকট থেকে৷ যার
ফলে চেয়ারম্যান ছাইম উদ্দিন একটি সালিশ নামায় উক্ত ৪ লক্ষ টাকা মইনুলের নিকট পাওনার কথা তাঁর স্বাক্ষরিত একটি সালিশ নামায় উল্লেখ করে আইনানুগ   ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতারণার শিকার মঞ্জুরকে আইনী পরামর্শ দেন৷ এরই প্রেক্ষিতে প্রতারক মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় গতকাল রাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মঞ্জুর আলী৷ এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অভিযোগ পেয়েছি ,তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই বলেন অভিযুক্ত মইনুল হোসেন সে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই,তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোরদাবী জানিয়েছেন অনেকেই৷

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে একটি রিসোর্টের দুই সাবেক কর্মচারীকে গোপনে ছবি ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবী প্রদানের বিরুদ্ধে  শ্রীমঙ্গল থানায় গত ১০-০২-২১ তারিখে ৮(১)/৮(২) ২০১২ ধারায় মামলা নং-১৪, এর  প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল পুলিশের একটি টিম সিলেটের কানাইঘাট ও শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালিয়ে রিসোর্টে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণের মুল হোতা ম্যানেজার রেজওয়ান ও তার সহযোগী খালেদকে ছবি-ভিডিও’র  মোবাইলসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আটকের পর স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলার সুত্রে জানা যায়,জেলার কুলাউড়া উপজেলার জনৈক রিয়াজউদ্দিন বিবাহের কিছুদিন পর স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনের ইচ্ছা করলে পূর্ব পরিচিত একজনের তথ্য  অনুযায়ী তামিম রিসোর্ট ইসবপুর শ্রীমঙ্গলের মনোরম পরিবেশের কথা বললে তিনি ওই রিসোর্টে গত ২৯-০৭-২০২০ তারিখে নিজ স্ত্রীকে নিয়ে তামিম রিসোর্টে অবকাশ যাপন করতে আসেন পরে পারিবারিক প্রয়োজনে একই দিন সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ফিরে যান। পরবর্তীতে গত ১৪-১০-২০২০ তারিখ সকালে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফেইক ইমুর মাধ্যমে কল করে তার কাছে টাকা দাবি করে ও হুমকি প্রদান করে এবং বলে -তাদের কাছে তার (বাদী ও তার স্ত্রীর ) নোংরা ছবি এবং ভিডিও হয়েছে। পরবর্তীতে  নাদীরা…রুমী নামক আইডির মেসেঞ্জারে বাদীর নিকট তার নিজের ও তার স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি প্রেরণ করেন। চাঁদাবাজদের হুমকি ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে এবং তাদের কথায় চলতে হবে,তা না করলে গোপনে ধারণ করা স্বামী-স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে।

চাঁদাবাজরা বাদীর এবং বাদীর বন্ধুদের আইডির বিভিন্ন কমেন্টে গোপন ছবি গুলো পোস্ট করতে থাকলে চাঁদা দিতে বাধ্য হলে ০১৮৬৩ ৪৮১২২২ থেকে ইমুতে কল করে  ১৯-০১-২১ তারিখে  ০১৭৯৯৭৩৮৩৮০ বিকাশ নাম্বার প্রদান করিয়া উক্ত নাম্বারে টাকা পাঠানোর জন্য হুমকি দিতে থাকে নাদিরা আক্তার রুমি নামের ফেইসবুক আইডি, নাদিরা আক্তার রুমি নামের ইমু,হারুন মিয়া (৩৩),জীবন মিয়া (৩২) রিংকু দাস (২৫),শাহিন মিয়া (২৭) সর্ব সাং তামিম রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলকে উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই আল আমিন এর নেতৃত্বে আসাদুর রহমান,এসআই তীথঙ্করসহ পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ফেইক আইডির এডমিন মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন তামিম রিসোর্টের ম্যানেজার রেজওয়ান পিতা আবুল কালাম, সাং চরুইপাড়,কানাইঘাটকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে সহযোগী খালেদ (২৭) পিতা-মৃত শফিক মিয়া বিরাহিমপুর শ্রীমঙ্গলকে তার নানা বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারে তামিম রিসোর্টের মালিক পক্ষ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী এস আই আলআমীন।

উল্লেখ্য,খালেদ তার নানার বাড়িতে বসবাস করে তবে তার জন্মস্থান কুলাউড়া এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃতদের থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল সিআইডিতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে পুলিশের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন,বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে এর পিছনে অন্য কোন ঘটনা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে আপনাদের জানানো হবে। পরের সংবাদে বিস্তারিত দেখুন

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc