Sunday 28th of February 2021 01:04:23 PM

কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ও চাহিদা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে দেশের কমিউনিটি রেডিওগুলো বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

উক্ত প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হলো- টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক মিথ্যা তথ্য চিহ্নিতকরণ ও গতানুগতিক ভুল ধারণা, গুজব,ডাহা-মিথ্যা এবং অপপ্রচার বিস্তার রোধ করার জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনগণের জীবন ও জীবিকা সহজতর করা , সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং টিকা গ্রহণ পরবর্তী সম্ভাব্য শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে দলিত ও সুবিধাবি ত জনগোষ্ঠী যেমন- নাপিত, ঝাড়–দার, মুচি, কামার, জেলে, হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ভূক্ত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিতকরণ।
কমিউনিটি রেডিওগুলোর উক্ত প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও অপপ্রচার প্রতিরোধ বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে । অনুষ্ঠানগুলো হলো- সংবাদ, রেডিও স্পট/নাটিকা, কথিকা, জিঙ্গেল,ভক্সপপ, পাবলিক সার্ভিস এনাউন্সমেন্ট (পিএসএ) এবং স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত কোভিড-১৯ টিকাদান কমিটির সদস্যবৃন্দ যেমন – জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলা/উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার ইত্যাদি ।

রেডিও অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য এবং আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে কোভিড-১৯ এর টিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে তথ্য প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেডিও’র সম্প্রচারভূক্ত এলাকায় ভ্যাকসিন প্রথমে যাদের দেয়া হবে, ভ্যাকসিন যেভাবে পাওয়া যাবে এবং ভ্যাকসিন নেয়ার পরে করণীয় এবং কোন ধাপে কারা করোনার টিকা পাবেন সে সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সুষ্ঠু ভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম-২০২১-এর সাথে যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর ঠিকানা, টিকাদান সংক্রান্ত ভুল তথ্য ও গুজব-এর ক্ষতিকর /নেতিবাচক প্রভাব এবং মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ক তথ্যও অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে

কমিউনিটি রেডিওতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারন জনগণ জানতে পারছে এবং টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে অল্পবিস্তর সচেতনতা ও চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে । আশা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক রেডিও’র এই প্রচারাভিযান অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই জন সাধারনের মধ্যে টিকা গ্রহণে এখন যে ভীতি ও দুটানা কাজ করছে তা কমে আসবে । পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য চিহ্নিতকরণ ও গতানুগতিক ভুল ধারণা, গুজব,ডাহা-মিথ্যা এবং অপপ্রচার বিস্তার রোধে জনগন আরো সচেতন ও সচেষ্ট হবে। যা তাদের জীবন ও জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া টিকাদান কর্মসূচিতে দলিত ও সুবিধাবি ত জনগোষ্ঠী , হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ভূক্ত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, গণমাধ্যম বিকাশের জন্য বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-র দৃষ্টিভঙ্গি হলো জ্ঞান-নির্ভর প্রাসঙ্গিক সংবেদনশীলতা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে মিডিয়া, তথ্য ও বিনোদনের ভবিষ্যত গঠনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া পরিবেশের তৈরি চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলো বিবেচনায় রেখে কন্ঠহীনের কন্ঠস্বর হিসেবে কমিউনিটি রেডিওর উন্নয়ন করা।
গত বছর মার্চ মাসে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই বিএনএনআরসি বাংলাদেশে সম্প্রচাররত সকল কমিউনিটি রেডিও স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক রেডিও অনুষ্ঠান তৈরি ও সম্প্রচারের জন্য কাজ করছে।
কমিউনিটি রেডিওগুলোতে নিয়মিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কি কি করণীয় সে সংক্রান্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ফলে গ্রামীণ জনপদে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, শ্রোতারা ফোন কল, ক্ষুদে বার্তা প্রেরণে এবং ফেসবকু লাইভে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করে উত্তর জানতে পারছে, এবং জনসাধারণ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এখন তারা এ সম্পর্কে তথ্য পেয়ে সচেতন হচ্ছে। ফলে কমিউনিটি রেডিও বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র আনজুমান আরা দায়িত্ব পাওয়ার আগেই নড়াইল বাস টার্মিনালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করলেন। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নড়াইল বাস টার্মিনালের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড়, টার্মিনালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল ভবন, পৌরসভার নষ্ট হয়ে যাওয়া ৪টি ট্রাক, ১টি স্কেভেটর ও একটি জীপ গাড়ীসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং সমস্যা সরেজিমন পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল সাহা, বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন প্রমুখ।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে নির্মিত নড়াইল বাস টার্মিনাল থেকে ৬টি রুটের কোনোটিতেই গত ১৫ বছর ধরে যাত্রীবাহী বাস ছাড়া হয়না। টার্মিনালের মূল ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল ধরেছে। জানালার কাচ ভেঙ্গে গেছে। দীর্ঘদিন রং না করায় ভবনটিও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। গাড়ি পার্কিং এর বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্ত হয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে নিরাপত্তা ভাল্বসহ বিভিন্ন লাইট পোষ্ট। গাড়ী পরিস্কারের জায়গা থাকলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া নড়াইল পৌরসভার বর্জ্য ফেলার কোনো জায়গা না থাকায়  দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শহরের প্রবেশ মুখে বাস টার্মিনালের সামনে পৌরসভার নিত্য দিনের সমস্ত বর্জ্য ফেলা হয়। ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ভীষণভাবে দূষিত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি অব্যবহৃত থাকায় এটির ব্যবহারও সম্পূর্ণ অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। টার্মিনালে এখন ট্রাকে বালু বেচা-কেনা হয় এবং সামান্য কিছু বাস-ট্রাক,স্কেভেটর পার্কিং করে রাখা হয়। এছাড়া নড়াইল পৌরসভার ৪টি ট্রাক, ১টি জীপ গাড়ী নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে এবং ১টি স্কেভেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক নেতা বলেন, একটি মহল চায় না টার্মিনালটি সঠিকভাবে ব্যবহার হোক। প্রভাবশালী এ মহলটি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করছে বাস টার্মিনালটি।

এদিকে  বাস টার্মিনাল থেকে বাস না ছাড়ায় শহরে যত্রতত্র বাস পার্কিং, যাত্রী ওঠা-নামা করা, ট্রাক ও অনুমোদনহীন ইজিবাইক-ইজিভ্যান, নসিমন-করিমন চলাচল করায় শহরের ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গোটা শহরই যেন এখন বাস টার্মিনাল। শহরের পাশদিয়ে একটি বাইপাস সড়ক থাকলেও তা ব্যাবহার না করে শহরের মধ্যদিয়ে চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

নড়াইল পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র আনজুমান আরা বলেন, বাস টার্মিনালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং সমস্যা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্যক্তির সাথে কথা বলেছি। ময়লা ফেলার জন্য নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে বসে একটি সমাধান করতে পারব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc