Sunday 28th of February 2021 01:19:41 PM

“ওসিকে ২০ বার ফোন দিয়েও নিরাপত্তার জন্য যথাসময়ে তাঁর বাড়িতে ডেকে আনতে ব্যর্থ হন-স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান”

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নানের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালানোর পর এবার সচিবকে তাঁর নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলা আ’লীগের প্রতিবাদ সভা থেকে স্বাস্থ্যসচিবকে কটিয়াদীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
কটিয়াদী ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় এ ঘোষণা দেন উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পরে এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আ’লীগের নেতা-কর্মীদের জড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল হয়। মিছিলটি থানা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। স্বাস্থ্যসচিবকে বিষোদ্গার করে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন প্রমুখ।
এদিকে স্বাস্থ্যসচিবের গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত আদেশের কপিটি রোববার দুপুরে কটিয়াদী থানায় এসে পৌঁছায়। হোসেনপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সোনাহর আলী এই তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আদেশের কপিতে ওসিকে প্রত্যাহার করার ব্যাপারে বিশেষ কোনো কারণ উল্লেখ করা না হলেও মূলত স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতার কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওসি প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও কাছে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান গতকাল বলেছিলেন, জীবনে এতটা অসহায়বোধ তিনি আর কখনো করেননি। ওসিকে ২০ বার ফোন দিয়েও নিরাপত্তার জন্য যথাসময়ে তাঁর বাড়িতে ডেকে আনতে ব্যর্থ হন।
স্বাস্থ্যসচিবের বাসায় হামলার ঘটনায়  গতদিন কটিয়াদী থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ এনে করা মামলাটির বাদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম। এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে চারজনকে। অজ্ঞাতনামা আসামি আরও ১৫ থেকে ২০ জন। অপর মামলাটি করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী আতিকুর রহমান। মামলাটি হয় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ধারায়। মামলাটিতে এজাহারভুক্ত আসামি নেই। অজ্ঞাতনামা আসামি ২০ থেকে ২৫ জন।
কটিয়াদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তিনজনকে। মূল অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।
তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জেনে খুশি নন স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যরা। স্বাস্থ্যসচিবের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মূল অভিযুক্তদের কেউ গ্রেপ্তার হননি। যাঁরা হয়েছেন, তাঁরা এই ঘটনায় জড়িত কি না, তা-ও সন্দেহ। আমি নিজে বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছি। আমার এজাহারে সাংসদ নূর মোহাম্মদের (সাবেক আইজিপি) ভাগনে মুন আহমেদ ও সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী আমজাদ হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো আমার এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।’
বারবার ফোন দেওয়ার পরও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আখতারুন্নেছার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁরা ফোন ধরছেন না।
স্বাস্থ্যসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কারণ জানতে চাওয়া হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনা ঘটেছে স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে। অথচ মামলার আসামি করা হয়েছে সারা কটিয়াদীর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। দলের সঙ্গে প্রশাসনের ঝামেলা বাধানোর মূল নায়ক স্বাস্থ্যসচিব। কটিয়াদীকে ঝামেলামুক্ত রাখতে স্বাস্থ্যসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কথা জেনে তাঁর ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অবাঞ্ছিত শব্দটি এসেছে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিলীপ ঘোষের মুখ থেকে। তিনি তো আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন না, সাংসদের দালালি করেন। দালালি আর রাজনীতি তাঁর পেশা। আজ সরকারের একজন সচিবের বিরুদ্ধে অবাঞ্ছিত শব্দটি ব্যবহার করতে দিলীপ ঘোষ এতটুকু চিন্তা করলেন না। আমার ধারণা, স্বার্থে আঘাত পড়লে সরকারকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করবেন না।’
সম্প্রতি গ্রামে স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া ৮ শতাংশ জায়গার ওপর একটি স্যাটেলাইট কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। ক্লিনিকটির নামকরণ করা হবে করোনায় মারা যাওয়া স্বাস্থ্যসচিবের স্ত্রীর নামে। ক্লিনিকে যাওয়ার একটি সড়কও নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় কাজে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসচিব। ক্লিনিক ও সড়ক নির্মাণের জায়গা নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে এলাকার কিছু মানুষের মতবিরোধ হয়। এ ছাড়া ক্লিনিক নির্মাণ বিষয়ে সাংসদকে অবগত করা হয়নি, এমন অভিযোগ সাংসদের অনুগত ব্যক্তিদের। ইস্যুটি নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকে উত্তেজনা চলছিল।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করতে স্বাস্থ্যসচিব শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। শনিবার সকালে একদল মানুষ স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে ও ক্লিনিকে দফায় দফায় হামলা চালায়। স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা সাংসদের অনুগত। সাংসদের ইশারায় লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমকে হামলাকারীরা পুকুরে ফেলে দেয়। আহত করে আরও সাতজনকে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্যসচিব টিকা উদ্বোধন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাতিল করে র‌্যাব প্রহরায় ঢাকায় ফিরে যান।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রথম দিন টিকা নিলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ শহিদ উদ্দীন চৌধুরীসহ ২০ জন।রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড.আব্দুস শহীদ কর্তৃক টিকা গ্রহণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পরপর এদিন প্রথম টিকা নিলেন করোনা থেকে সুস্থ হওয়া চিকিৎসক ডা. সৌমিত্র সিনহা।সস্ত্রীক টিকা নিতে আসা শমসেরনগরের বয়োবৃদ্ধ শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর অনুভূতি আনন্দের। তিনি বলেন, করোনার টিকা গ্রহন ভীতির নয় আনন্দের বিষয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়ার স ালনায় টিকাদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভঅপতি আছলম ইকবাল, উপজেলা দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল প্রমুখ।কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. এম মাহবুবুল আলম ভূইয়া জানান, সারাদেশের সাথে কমলগঞ্জ উপজেলায়র করোনা টিকার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে ৯০০ জন টিকার নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধিতদের মাঝে তালিকা অনুযায়ী প্রথম ১০০ জনকে আজ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা প্রয়োগ করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কমলগঞ্জে প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন ২০ জন। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।
টিকা গ্রহন করে অনুভূতি প্রকাশ করে ডা. সৌমিত্র সিনহা বলেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে থেকে সুস্থ্য হয়েছিলেন। যেহেতু দেশে টিকা এসেছে এবং সরকারি উদ্যোগে টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে তাই বিধি মোতাবেক তিনি নিবন্ধন করেই প্রথম টিকা নিলেন। এতে তার খুবই ভালো লাগছে যে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছিরেন আবার প্রথমেই এ উপজেলায় তিনি টিকা নিলেন।
সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলে টিকা গ্রহন করে কমলগঞ্জে টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ বলেন, করোনা প্রতিরোধে প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় শুরু থেকেই। তাইতো বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম। তিনিও ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশে টিকা আনা হয়েছে এবং সরকারি উদ্যোগে টিকাদান শুরু হয়েছে সেহেতু নিবন্ধন করে সবাইকে টিকা গ্রহন করা উচিত।

বেনাপোল প্রতিনিধি : সারা দেশের ন্যায় গণভ্যাকসিন প্রদানের অংশ হিসাবে যশোরের শার্শায় কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।  রবিবার বেলা ১২টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শার্শা যশোরের আয়োজনে উক্ত শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, টিএইচও ইউসুফ আলী, ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
শার্শায় ভ্যাকসিন পেতে এ পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন করেছেন ৮২৯ জন। যার মধ্যে আজ রবিবার দিন ব্যাপী ৩শত জনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রথমেই টিকা নেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারহানা সুলতানা।

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ  মৌলভীবাজারে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে মৌলভীবাজার তিন আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে, নিজে প্রথম টিকা গ্রহন করেন। এরপড় জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মো: জাকারিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ সালাম, মুক্তিযোদ্ধা কমানন্ডার সহ স্ব্যাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক সহ দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা টিকা নেন। দায়িত্বশীলদের টিকাগ্রহণের পরে অগ্রাধিকারভাবে তালিকাভুক্তরাও এ টিকা পাবেন। এ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় কেরোনা টিকা গ্রহন করতে নিবন্ধন করেছেন ৫৭৫৪ জন। আজ পুড়ো জেলায় টিকা নিবেন মোট ৮১৬জন। এদেও মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০শয্যা হাসপাতালে টিকা গ্রহন করবেন ২৯৭ জন, রাজনগরে ৫০জন, কুলাউড়ায় ৩৯জন, বড়লেখা-১০০জন, শ্রীমঙ্গলে ২০০জন, জুড়ী ৩০ জন এবং কমলগঞ্জ ১০০জন। করোনা টিকা প্রদানের জন্য সদর হাসপাতালে ৮টি বুথ ও প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে বুথ খোলা হয়েছে ।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জঃ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের পল্লী থেকে কৃষকের চুরি হওয়া ৪টি গরুসহ ২ জনকে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানা পুলিশ আটক করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। গরুর মালিক কৃষক মহব্বত মিয়া বাদি হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে রেখে নবীগঞ্জ থানায় রবিবার মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগের সুত্রে প্রকাশ-গত শুক্রবার রাতে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের রঘু দাউদপুর গ্রামের মৃত মছিদ উল্লার পুত্র কৃষক মহব্বত মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ৪ টি গরু চুরি করে একদল চোরেরা। তিনি অনেক স্থানে খোঁজাখুজি করেন। গত শনিবার খবর পান মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানায় ৪টি গরুসহ দুইজন চোর আটক আছে। গরুর মালিক রাজনগর থানায় গিয়ে তার ৪ টি গরু চিহ্নিত করেন এবং সেখানের পুলিশ ২ জনকে গরুচোর সন্দেহে মৌলভীবাজার সদর থানার খলিলপুর ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের পুত্র আবু আহমদ (৪৫) ও মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার মালিকোনা গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র মুজিব হাসান (৩২)কে  নবীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।গরুর মালিক মহব্বত মিয়া আটককৃত দুই জনকে আসামী করে আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত রেখে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত আবু আহমদ ও মুজিব হাসানকে পুলিশের মাধ্যমে হবিগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ:  নবীগঞ্জে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদানের আনুস্টানিক কার্য্যক্রম ৭ ফ্রেবুয়ারী রবিবার সকাল ১০ টায় উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভ্যাকসিন কমিটির সভাপতি শেখ মহি উদ্দিন এই কার্য্যক্রমের শুভ সুচনা করেন।

উপজেলা ভ্যাকসিন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদের  সার্বিক তত্ত¡াবধানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার   ভুমি সুমাইয়া মমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দিন বীর প্রতিক, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের  সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও এমসি এইচ এফপি প্রিয়াংকা পাল চৌধুরী,আরএমও ডাঃ চম্পক কিশোর সাহা সুমন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট আল মনসুর,ইউপি আই টেকনেশিয়ান তোহা আহমদ,প্রাক্তন ইপিআই টেকনিশিয়ান অজিত কুমার দাশ অফিস সহকারী রাসেল আহমদ  প্রমূখ।

এ সময় নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দিন নিজে প্রথমে টিকা গ্রহন করেন এবং সবাই অনলাইনে রেজিষ্টেশন করে টিকা গ্রহন করে সরকারী কাজকে বেগবান ও সহযোগীতার করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ইং রবিববার থেকে ১০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত উপজেলার ৫৫ বছরের উর্দ্ধে (পঞ্চান্ন বছরের বেশি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি বুথে ১১ হাজার ৯ শতজন পুরুষ ও নারীকে ১৫টি ক্যাটাগরির ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রানালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভ্যাকসিন প্রদান (টিকা) দেয়া হবে এবং প্রত্যেককে ৪ সপ্তাহ (২৮ দিন) পর দ্বিতীয় ডোজ (টিকা) প্রদান করতে হবে। এতে নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম ধাপে ৫ হাজার ৯ শত ৫০ জন পুরুষ ও নারী টিকা পাবেন।  গর্ভবতী, জ্বর, কাশ্বিসহ যারা ওই দিন অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হবেন তাদের করোনা ভ্যাকসিন (টিকা) না দেয়ার আহবান জানানো হয়।

এছাড়াও টিকা দেয়ার পর যদি কেউ অসুস্থ বোধ করেন এক্ষেত্রে তাদেরকে ভয় বা আতংকিত না হওয়ার জন্য জানানো হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার কোন নারী পুরুষ টিকা থেকে বঞ্চিত না হন এ বিষয়ে কাজ করছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বলে জানান ইউএনও।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc