Monday 1st of March 2021 10:43:00 PM

নূর মোহাম্মদ সাগর ,শ্রীমঙ্গল:  মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সারা দেশে ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়নকক্ষ, একটি করে বারান্দা, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অনুযায়ী ভূমিহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করে ৬৬ হাজার ১ শত ৮৯ পরিবারকে ভূমি ও একক গৃহ প্রদান, ৩ হাজার ৭ শত ১৫ পরিবারকে জমিসহ ব্যারাকে পুর্নবাসন উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শ্রীমঙ্গল পৌরশাখা কর্তৃক আয়োজিত আজ বুধবার বিকালে শ্রীমঙ্গল শহরে এক আনন্দ মিছিল বের করে।
এতে অংশ গ্রহণ করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছালিক আহমেদ, শ্রীমঙ্গল পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীনসহ সভাপতি ইমাম হোসেন সোহেল, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক সের জাহান সেজু, যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ মনির মিয়া, শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রলীগের (ভারপ্রাপ্ত) কছরুল আহমেদ কয়েস, সাবেক কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সাবের আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মসাহিদ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন, ভুনবীর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বেলাল আহমেদ, সাইফুল, জাবেদ, যুবলীগ কর্মী রুমন আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা তছলিম আহমেদ, ইদ্রিস আলী, জাবেদ, ইমরান, শিমুল প্রমুখ।

নিশাত আনজুমান,আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:  জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে মেজবাউল সরদার গবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অপর প্রার্থী আব্দুল মবিন সরদার ভোনা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মবিন সরদার ভোনা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেজবাউল সরদার গবু।
এ বিষয়ে আব্দুল মবিন সরদার ভোনা বলেন, ‘আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য। আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এই কারণে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আক্কেলপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের দুইজন প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রার্থী ভোটের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। যার কারণে অপর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে’।

“৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রশিদের মাধ্যমে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তালেবকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন নাজমা। এ বিষয়ে গজারিয়ার প্রশাসনের সবার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাননি তিনি। এমনকি ঘরও পাননি এবং তার দেয়া ৫০ হাজার টাকাও ফেরত পাননি। এই দু:খ-কষ্টে, রাগে-ক্ষোভে নি:স্ব আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি”

দীর্ঘ চার বছর যাবত চেয়ারম্যানের কাছে ঘুরেও ঘর জুটলো না নাজমা ওরফে নাজমা পাগলীর (৫৫)। দেড় বছর ধরে ৫০ হাজার টাকা দিয়েও সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর না পেয়ে চেয়ারম্যানকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন ওই নাজমা। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সেটাই সত্যি হলো। ঘটনার দিন বিকেল ৫টায় আত্মহত্যা করলেন গুচ্ছগ্রামের রজবের স্ত্রী এবং নুরে আলমের মা নাজমা। বিষ খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রশিদের মাধ্যমে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তালেবকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন নাজমা। এ বিষয়ে গজারিয়ার প্রশাসনের সবার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাননি তিনি। এমনকি ঘরও পাননি এবং তার দেয়া ৫০ হাজার টাকাও ফেরত পাননি। এই দু:খ-কষ্টে, রাগে-ক্ষোভে নি:স্ব আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি।

ইতোপূর্বে ৯নং ওয়ার্ড সদস্য দানেশের মাধ্যমেও প্রতিবন্ধী ভানু বেগমের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে সরকারি ঘর বরাদ্দ দিয়েছিলেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তালেব। এ বিষয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশসহ এলাকায় বেশ সমালোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু তালেব জানান, আমি ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। শুনেছি মা-ছেলে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেছে। তবে গত সোমবার আমার কাছে এসেছিল। আমার সঙ্গে ঘরের জন্য ঝগড়াও করে গেছে নাজমা।

গুচ্ছগ্রামের মোজাম্মেল জানান, শুনেছি ঘরের জন্য নুরে আলমের মা নাজমা ওরফে পাগলী ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তালেবকে। ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার রশিদের মাধ্যমে দেড় বছর পূর্বে চেয়ারম্যান আবু তালেবের কাছে এই ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি। উপজেলা পিআইও তাজুল ইসলাম জানান, নাজমা একাধিকবার এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম ইমাম রাজী টুলু ও আমার কাছে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর পাওয়ার জন্য আসেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম ইমাম রাজী টুলু জানান, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। এ বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে একাধিকবার এসেছেন কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।
এ বিষয়ে বিআরডিবির চেয়ারম্যান বাবুল আখতার জানান, আবু তালেব প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে নাজমা পাগলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিতে বলেন ইউপি সদস্য রশিদকে। সেই কথা অনুযায়ী রশিদ মেম্বার ৫০ হাজার টাকা নেন নাজমার কাছ থেকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক চৌধুরী জানান, মহিলার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রইছ উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই নাগা মরিছ চাষে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দেখছেন। আশানুরুপ ফলন পেলেও বাজার সংকটের কারনে সঠিক দাম হতে বি ত হচ্ছেন উপজেলার নাগা মরিচ চাষীরা।
সরেজমিন জৈন্তাপুর উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের বারগাতি গ্রামের কৃষকের নাগা মরিছের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, এবৎসর নাগা মরিচ চাষ করে ৫০ হতে ৬০টি কৃষক পরিবার ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। তাবে বাজার না পাওয়ায় তারা হতাশার পড়েছে। সঠিক ভাবে নাগা মরিচের বাজার পেলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে সুষ্ট ভাবে চলতে পারবে। এমন সোনালী স্বপ্ন নিয়ে তারা দিন যাপন করছে। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় নাগা মরিচ চাষি উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের করগ্রামের আব্দুল ওহাব এর ছেলে আব্দুল মতিন (৩০) এর সাথে।

তিনি প্রতিবেদককে জানান, বারগাতি এলাকার তার নাগা মরিচের বাগান সবচেয়ে বড়। তিনি ১ একর (তিন বিঘা বা নিরানব্বই শতাংশ) ভূমিতে নাগা মরিচ চাষ করেছেন। নিজের কৃষি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবং সার বীজ ও কিটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে কয়েক বৎসর হতে নাগা মরিচের চাষা বাদ করেন। রোপন হতে পূর্ণ ফল পাওয়া পর্যন্ত ছয় মাস সময় লাগে। উপজেলা কৃষি বিভাগের কোন প্রকার সাহায্যে সহযোগিতা ছাড়াই প্রকৃতিক দূর্যোগ রোগ বালাই মোকাবেলা করে তারা নাগা মরিচের চাষ করে আসছেন। নাগা মরিচ চাষ করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুষ্ট সুন্দর ভাবে বেঁেচ আসেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নাগা মরিচ ফলন ভাল হলেও বাজারে কাস্টমার না থাকায় তারা বিপাকে রয়েছেন। তার পরও আশা ছাড়ছেন না যদি কিছুটা হলে বাজার ধরতে পারেন তাহলে তাদের সোনালী স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিবে। আব্দুল মতিন জানান, ১একর ভূমিতে নাগা মরিচ চাষে তার ব্যায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা।

ইতোমধ্যে তিনি নাগা মরিচ বিক্রয় করেছেন প্রায় ৫ লক্ষ টাকার। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা শত্রুর আক্রমন, রোগ বালাইর হাত হতে রক্ষা এবং সটিক বাজার পেলে নাগা মরিচের যে ফলন বাগানে রয়েছে তাতে তার সোনালী স্বপ্ন বাস্তবে রূপ ধারন করে। তার রোপিত নাগা মরিচের মাঠ হতে আগামী দুই মাস তিনি বিক্রয় করতে পারবেন। বর্তমানে ২৫ কেজি ওজনের নাগা মরিচের বস্তার বাজার মূল্য পাচ্ছেন ৭ হতে ৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন কমপক্ষে তিনি ৪ হতে ৬ বস্তা মরিচ মাঠ হতে উত্তোলন করতে পারছেন। বারগাতি এলাকায় প্রায় ৫০ হতে ৬০জন চাষীরা নাগা মরিচের চাষ করেছেন। মোটা মোটি কমবেশি সবারই ভাল ফলন এসেছে, তবে বাজার না থাকায় তারা সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। তাদের নাগা মরিছ গুলো স্থানীয় বাজার সহ সিলেট বিভাগ ও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন সরকারি সহযোগিতা সার, বীজ, কীটনাশক, প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ ও সাহায্য পেলে তারা উপকৃত হতে পারতেন। তারা শুনেছেন অনেকেই কৃষি সহায়তা পাচ্ছেন, তবে কারা সুবিধা পাচ্ছেন তাদের জানা নেই।
অন্যান্য কৃষদের মাঠ ঘুরে এবং কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেলে বারগাতী এলাকায় অন্তত ২শত একর নাগা মরিচ চাষ হয়েছে এবং ফলন ভাল হয়েছে। প্রকৃতিক দূযোর্গ ও রোগবালাই অতিক্রম করে ফলন তুলতে পারলে তাদের সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা সোনালী স্বপ্ন দেখছি।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে তালতো ভাইয়ের লালসার শিকার হয়ে দুই মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩)। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর ভাই বাদি হয়ে ছাতকথানায় মামলা (নং-২৮) দায়ের করেন।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে অভিযুক্ত সোলেমান মিয়া (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোলেমান মিয়া উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জাতুয়া গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে।মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ওই স্কুলছাত্রী তার আপন বোনের বাড়ি জাতুয়া গ্রামে বেড়াতে যায়। ওইদিন রাতে সোলেমান মিয়া তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একইভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে লাগাতার কয়েকদিন ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সোলেমান মিয়া আত্মগোপন করেন।এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিমুদ্দিন জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোট দেয়া নিয়ে ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হলো আরেক ভাই। নিহত ভাইয়ের নাম মো. নিজামউদ্দিন। আর ঘাতক ভাইয়ের নাম মো. সালাউদ্দিন কামরুল।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পাহাড়তলী থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হক। তিনি জানান, নিহত নিজামউদ্দিনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসি রাশেদুল হক জানান, ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া নিজামউদ্দিন নগরীর ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী। ঘাতক সালাউদ্দিন কামরুল একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী।

রাশেদুুল হক বলেন, বুধবার সকালে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ঘাতক সালাউদ্দিন কামরুল ভাই নিজামউদ্দিনকে নুরুল আমিনের প্রতীকে ভোট দেয়ার চাপ সৃষ্টি করেন।

কিন্তু নিজামউদ্দিন তাতে রাজি না হলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে সালাউদ্দিন কামরুল নিজামউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে। অপরদিকে সালাউদ্দিন গাঢাকা দেয়।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ   শ্রীমঙ্গলে শতাধিক ইয়াবাসহ ডিবির হাতে একজন গ্রেফতার হয়েছে।মাদক বিরোধী সেলসহ মৌলভীবাজারে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সোয়া দু’টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভাধীন গুহ্যরোডস্থ রূপসী বিউটি পার্লার’র সম্মুখ থেকে মিঠুন শীল (৩৬) পিতা সুবাস শীল, সাং ১৮, ডাক বাংলা পুকুর পাড়,থানা শ্রীমঙ্গল, জেলা মৌলভীবাজারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেপ্তারের সময় মিঠুন শীল এর কাছ থেকে ১০৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলে জেলা গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, এসপি মোহাম্মদ জাকারিয়া’র নির্দেশনায় ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাশ’র পরিচালনায় ডিবি পুলিশের একটি টিম যথাক্রমে এসআই মো. মাসুক মিয়া, এএসআই আবুল কাশেম, এএসআই মকুন্দ দেববর্মা, কনস্টেবল মো. ইমরান হোসেন , মোকারাবি, আবুল বাছেদ রাফি, আতাউর রহমান, রিপন খন্দকার এবং এসআই জিতেন্দ্র বৈষ্ণব এ অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন।
সংবাদ লেখাকালীন সময়ে ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ,মৌলভীবাজারকে মাদক মুক্ত রাখতে ডিবি টিমের এই রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আলাউদ্দিন নামে একজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে পাহাড়তলী আমবাগান ইউসেপ কারিগরি ভোটকেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ‌্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক হামিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিরত করে বলেন, ‘আমবাগান থেকে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন

নড়াইল প্রতিনিধিঃ  নড়াইলের কালিয়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র জগ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটনের প্রচারকালে সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বড় কালিয়ায় এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মোটর সাইকেল যোগে তিনি সহ তার সমর্থকরা বড়কালিয়া এলাকা থেকে প্রচার কাজ চালিয়ে ফিরে আসার সময় পেছন থেকে তার সমর্থকদের উপর নৌকা মার্কার প্রার্থী ওহিদুজ্জামান হীরার লোকেরা হামলা চালায়। সময় বেন্দা গ্রামের তালেব শেখের পুত্র মোঃ ফারুক শেখ, কুটিমিয়া শেখের পুত্র মফিজ শেখ এবং কুদ্দুস ফকিরের পুত্র মোঃ শামছুল ফকির আহত হয়। আহতরা কালিয়া উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিব। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা জন্য  তারা হামলা চালিয়েছি। আমি হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ওহিদুজ্জামান হীরা বলেন, আমার সমর্থকরা জগ প্রতীকের সমর্থকদের  উপর কোন হামলা করেনি। হামলা করেছে সাধারন জনগন। কারণ  জগের প্রার্থী লিটন অস্ত্র দেখিয়ে ভোট চাচ্ছে,ভোট না দিলে ৩০ তারিখের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, সে কারণে সাধারন জনতা হামলা  চালিয়েছে। 

ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে  মোঃ কনি মিয়া বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি , রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিলে, তিনি ব্যাবস্থা গ্রহন করতে বললে ,তখন ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।। 

কালিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসসূত্রে জানাগেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারী তৃতীয়ধাপে কালিয়া পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, বিএনপির  এসএম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন।

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ থেকে:  আজ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৬ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৫ সালের এই দিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় তিনিসহ ৫ জন নিহত ও কমপক্ষে শতাধিক লোকজন জন আহত হন। হত্যাকান্ডের সাড়ে ৯ বছর পর সম্পূরক চার্জশীট দাখিলের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হলেও বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। জানা যায়- ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন। আহত হন কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনার রাতেই হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তৎক্ষালিন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে কাজ করে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু মামলাটির স্বাভাবিক তদন্ত না হয়ে দলীয় বিবেচনায় পরিচালিত হতে থাকে। সিআইডি’র তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ ১ম অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র দেয়ার পর মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ২০০৬ সালের ৩ মে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে না-রাজি আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করলে ১৪ মে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি ‘কেন অধিকতর তদন্ত করা যাবে না’ মর্মে রুল জারি করেন। এই রুলের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৮ মে লিভ টু আপিল করে সরকার। আপিল বিভাগ সরকারের আপিল খারিজ করেন। এরপর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুুপার রফিকুল ইসলামকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামী করে এই আলোচিত মামলার অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

কিবরিয়া হত্যাকান্ডের সাড়ে ৬ বছর পর লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামী করে অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া চার্জশীটের উপর হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল আদালতে না-রাজি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার মুল নথি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে থাকায় বিচারক রাজিব কুমার বিশ্বাস উপনথির মাধ্যমে আবেদনটি সিলেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যাকান্ডের অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্রের নারাজি আবেদন গ্রহণ করেনসিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার বণিক। তিনি সিনিয়র পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে মামলার অধিকতর তদন্তেরজন্য নির্দেশ দেন।

এরপর সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাড়ে ৯ বছর পর ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে কিবরিয়া হত্যা মামলার ৩য় সম্পূরক অভিযোগপত্র নতুন ১১ জনকে অন্তর্ভূক্ত করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। অন্তর্ভুক্ত আসামীরা হলেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি তাজ উদ্দিন, মুফতি সফিকুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, বদরুল, মহিবুর রহমান, কাজল আহমেদ, হাফেজ ইয়াহিয়া। এর পর ২০১৫ সালের জুনে মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে সেখানে বিচার কার্যশুরু হয়েছে। চলছে সাক্ষী গ্রহন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে। মোট আসামি ৩২ জনের মধ্যে অন্য একটি মামলায় ৩ আসামির ফাসি কার্যকর হয়েছে। এখন এখন ২৯ জন আসামী রয়েছে। এর মধ্যে জামিনে আছে ১২ জন। পলাতক ৭ জন এবং হাজতে আছে ১০ জন। মামলার প্রসঙ্গে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি সরোয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বলেন, এ মামলায় মোট ১৭১ সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। আগামীকাল ২৭ জানুয়ারি উভয় মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে। ‘এ মামলার মূল আসমিদের বিরুদ্ধে সারা দেশে জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তাদের দেশের বিভিন্ন আদালতে হাজির করার জন্য এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করতে হয়েছে। তাই মামলার ধার্য তারিখে সব সময় আদালতে হাজির সম্ভব হয় না।

এতে মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে,’ বলেন তিনি। সরোয়ার আহমদ আরও জানান, মামলার আসামিদের মধ্যে তিনজনের ইতোমধ্যে অন্য মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। তারা হলেন মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন। বিচার কার্য নিয়ে মামলার বাদী এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপি বলেন- দেখতে দেখতে চলে গেল ১৬ বছর। মামলা হয়েছিল প্রত্যাশা ছিল কিবরিয়া হত্যার বিচার হবে। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ইতিমধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই বিচারকার্য সমাপ্ত হবে। এ ব্যাপারে শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া বলেন- দীর্ঘ ১৬ বছর অতিক্রম হলেও আমার বাবা হত্যা মামলার এখনো বিচার হয়নি। সুষ্ঠু বিচারের কোনো সম্ভবনা দেখছিনা। তিনি বলেন- আমরা ৩টি চার্জশিট প্রত্যাখান করেছি এবং করে যাবো, যতদিন এর সুষ্ঠু তদন্ত না হয় ততদিন সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার সম্ভবনা নেই।

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নছরতপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্র তানভীর হোসেন (১৯) কে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গত ২৫ জানুুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেবের নেতৃত্বে এসআই জসিম উদ্দিন, এসআই কাউছার মাহমুদ তোরণ, এসআই মুখলিছুর রহমান, এসআই কমলাকান্ত মালাকার, এএসআই বিধান রায়, এএসআই লিটন চন্দ্র সহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে উজ্জল মিয়া, জাহির মিয়া ও শান্ত নামের তিন জনকে আটক করেছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ সেসময় তারা পুলিশের কাছে হত্যার বর্ণনা দেয়।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অজয় চন্দ্র দেবসহ হবিগঞ্জ জেলা গুয়েন্দা পুলিশ নছরতপুরের সৈয়দ আলীর পুকুর থেকে তানভীরের মরদেহ উদ্ধার করে। তানভীর হোসেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নছরতপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। সে হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পুলিশ জানায়, ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ভানভীরকে ডেকে নেয় দুর্বৃত্তরা। আনুমানিক রাত সাড়ে ৭টার দিকে তানভীরকে হত্যা করে তারা। পরে পুকুরে মাটি চাপা দিয়ে হত্যাকারীরা ফারুক মিয়ার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। তানভীরকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা ফারুক মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ তানভীরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে হত্যাকারীদের নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় বাকী জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সম্মেলন-২০২১ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে তবে পুলিশ বলছে করোনার কারণে ওয়াজ মাহফিল কীর্তন সভা-সমাবেশ সবকিছুর উপর জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আমরা শুধু তা স্মরণ করে দিয়েছি।

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় এ সম্মেলনের আয়োজন করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত হননি। বিএনপি নেতাদের দাবি পুলিশি বাধার মুখেই আমরা সংক্ষিপ্তভাবে সম্মেলন শেষ করেছি। অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার কারণে জেলা নেতারা উপস্থিত হতে পারেনি।

সম্মেলনের কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান (হাজী মুজিব) নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সদস্য তাজ উদ্দীন তাজু এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি সম্পাদকবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান মুজিব জানান, আমাদের অনুষ্ঠান স্থলটিকে পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলেছে, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তবে পুলিশের বাঁধায় আমরা সংক্ষেপে নেতাকর্মীদের সামনে সম্মেলনের মূল বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান সফল ভাবে শেষ করেছি।পুলিশ চেয়েছিল আমাদের বাধা দিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করতে কিন্ত তারা পারেনি।

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাকালীন সময়ে সকল প্রকার ওয়াজ মাহফিল, কীর্তনসহ সব ধরনের সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। তারা এই করোনাকালীন সময়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো, যেখানে প্রশাসনের কোন অনুমতি ছিলো না। তবে আমরা অনুষ্ঠান বন্ধ করিনি। আমরা তাদের বলেছি এই করোনাকালীন সময়ে আপনারা এধরনের অনুষ্ঠান করতে পারেন না। আমরা তাদেরকে নির্দেশনা শুনিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া তাদের সম্মলনে আমার জানা মতে ১৪৪ ধারা জারি হয়নি;হলে এসিল্যান্ড স্যার জানার কথা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc