Saturday 6th of March 2021 01:58:28 PM

পিন্টু অধিকারী,মাধবপুর প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক বিজয়ী হয়েছেন। সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই পৌরসভায় দ্বিতীয় ধাপে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডের ৯ টি সেন্টারের ৪০ টি কক্ষে বিরতিহীনভাবে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হয়।

এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন র‌্যাবের তিনটি টিম, চার প্লাটুন বিজিবি, ২২০ জন পুলিশ সদস্য, ও ৮১ জন আনসার বাহিনী ও নয়টি কেন্দ্রে নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নয়জন প্রিজাইডিং অফিসার ও নয়জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন।

ভোট গননা শেষে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক ( ধানের শীষ প্রতীক ) কে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মোট বৈধ ভোট ১২৮৩৩ টি। (ধানের শীষ প্রতীক) নিয়ে হাবিবুর রহমান মানিক ৫০৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সতন্ত্র প্রার্থী পংকজ কুমার সাহার চেয়ে ৮৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পংকজ কুমার সাহা ( নারিকেল গাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৪১৮৫ ভোট । এছাড়া শাহ মোঃ মুসলিম (জগ প্রতীক) পেয়েছেন ৩০৪৯ ভোট ও শ্রীধাম দাশ গুপ্ত নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মেয়র পদ আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। প্রথম বারের মতো এবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রেকর্ড করলেন বিএনপিথর প্রার্থী হাবিবুর রহমান।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ পৌরসভায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরী। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাত্র ২৬৪ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফলে মোট ১০টি কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৭৪৯ ।আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৪৮৫। ২৬৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হন ছাবির আহমদ চৌধুরী।
তবে ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা নিজেদের বিজয়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ২৪৫১ ভোটের ব্যবধানে ২য় বারের মতো বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: জুয়েল আহমদ (নৌকা) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র প্রার্থী) মো: হেলাল মিয়া (জগ) ২ হাজার ৮০৬ ভোট। এছাড়া আওয়ামীলীগের আরেক বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র প্রার্থী) মো: আনোয়ার হোসেন (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৭ ভোট ও বিএনপি’র প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩০১ ভোট। শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২য় ধাপে কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নির্বাচনে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি।
কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে ১৩ হাজার ৯০৫ জন ভোটারের মধ্যে ১১ হাজার ২১০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল হয় ৫৯টি ভোট। এখানে মেয়র পদে ৪ জন, কাউন্সিলর পদে ৩১ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন।
এদিকে কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন, ২নং ওয়ার্ডে সৈয়দ জামাল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ডে আনসার শোকরানা মান্না, ৪নং জসিম উদ্দিন সাকিল, ৫নং ওয়ার্ডে মো: ছাদ আলী, ৬নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম রুহেল, ৭নং ওয়ার্ডে গোলাম মুগ্নি মুহিত, ৮নং ওয়ার্ডে আহাদুর রহমান বুলু, ৯নং ওয়ার্ডে বখতিয়ার খান। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে মুসলিমা বেগম, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে আয়েশা সিদ্দিকা এবং ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে শাপলা আক্তার নির্বাচিত হন।আপডেট

নূরুজ্জামান ফারুকী,বিশেষ প্রতিনিধিঃ  বগুড়ার শেরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে গুরুতর ছয়জনকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ঘোগা বটতলা বীজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় মিলেছে। তার নাম জামাল হোসেন (৪২)। তিনি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার ওমরদিঘী গ্রামের তসলিম উদ্দিনের ছেলে।শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তন্ময় বর্মন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী সরকার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ঘোগা বটতলা বীজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টের খুঁটি বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

এর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্যজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে অজ্ঞাত (৪২) ব্যক্তি বাসচালকের সহকারী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, খবর পেয়ে তারাসহ হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্য রাতে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত বিএনপি কর্মী সফিক মিয়া (২২) এর ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সে চরগাঁও গ্রামের মন্নাফ মিয়ার পুত্র। এ ছাড়া একই গ্রামের জব্বার মিয়ার পুত্র মিজান মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের পুত্র নাহিদ মিয়া এবং সুজাপুর গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা জাহেদ রুবেল সহ আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মধ্যরাত সোয়া ১ টার দিকে গয়াহরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট। বিএনপি ও আওয়ামীলীগ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে। নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সর্বত্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমতমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেল এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মুকিত চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গয়াহরি গ্রামে তিনি অবস্থান করছিলেন। এ সময় তারা খবর পান গয়া হরি প্রাইমারী বিদ্যালয়ের নিকট বিএনপির প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর কর্মী সমর্থকরা আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাহেল চৌধুরীর উপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাংচুর করেছে।

এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। অপর দিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী জানান, তিনি গয়াহরি গ্রামে রবিন্দ্র দাশ মেলাইর বাড়িতে গতকাল রাতে সংক্রান্তির দাওয়াতের যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ওই বাড়ীর সন্নিকটে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেল এর ভাই  শায়েল চৌধুরীর সাথে দেখা হয়। এ সময় তাঁর সাথে কুশল বিনিময় চলাকালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাহেল চৌধুরী সেখানে পৌছায়। এ সময় রাহেল উত্তেজিত হয়ে ছাবির আহমেদ চৌধুরীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাঁর দিকে তেরে আসে তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়।

এ সময় তাঁর সমর্থক সফিক মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তাঁর পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যায়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় রাহেল তাঁর প্রাইভেকারটি নিজেই ভাংচুর করেছে। এ সময় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছালে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হট্টোগোলে প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এদিকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ, র‌্যাব সহ আইনশৃংখলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের ৭টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।সিলেটের ৭টি পৌরসভার মধ্যে ১টিতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং বাকি ৬টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।নির্বাচন উপলক্ষে এসব পৌরসভায় শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য রয়েছে আনসার সদস্যরা। এছাড়া রয়েছে এক প্লাটুন বিজিবি।নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আর ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, সুনামগঞ্জের সদর ও ছাতক, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ পৌরসভায়।সিলেট বিভাগের ৭ পৌরসভায় আজ শনিবার আওয়ামী লীগ-বিএনপি, স্বতন্ত্রসহ ২৫ মেয়র প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে ২৬৩ জন ও সংরক্ষিত আসনে লড়ছেন ৭৯ জন নারী। ৭ পৌরসভার মোট ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ২১৮ জন। রয়েছেন ১ হাজার ৫২৫ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের পরিবেশ সংক্রান্ত প্রশ্নে কমলগঞ্জে ডিউটিতে থাকা সিনিয়র এ এস পি সার্কেল আশরাফুজ্জামান বলেন “এখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি আমরা চারিদিকে নজর রাখছি।”

 

শাব্বির এলাহী, কমলগঞ্জ: আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় প্রার্থী ও সমর্থকরা রাতের ঘুম হারাম করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে প্রধান সড়কসহ প্রতিটি অলিগলি। মেয়র পদে লড়ছেন বর্তমান মেয়র মো.জুয়েল আহমেদ, বিএনপির মো.আবুল হোসেন, আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ও বহিষ্কৃত শ্রমিকলীগ নেতা হেলাল মিয়া।
শেষ সময়ে সাধারন মানুষের ধারনা লড়াই হতে পারে ত্রিমুখী। যদিও ইতিমধ্যে বিদ্রোহী দুজনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে তৃণমুলের ভোটারদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা থাকায় মেয়র পদে ‘ত্রিমুখী’ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পুরো পৌর এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচারণার শেষ সময়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকায় সুবিধা করতে পারছেন না বিএনপির (ধানের শীষ) প্রার্থী আবুল হোসেন। তৃণমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, সকল গ্রুপিং নিরসন করে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করলে হয়তো এবার বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হত।
তবে কমলগঞ্জ পৌরসভায় ৬০ শতাংশ ভোটাররাই বিএনপি ঘরানার। এদিকে বর্তমান পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হলেও ধারণা করা হচ্ছে দলমত নির্বিশেষে রয়েছে তার জনপ্রিয়তা। ফলে বিএনপি ঘরানার ভোট ব্যাংকের ৫০ শতাংশ ভোটই নৌকায় পড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, যেহেতু বিগত নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন চাওয়ার পর পরবর্তী পৌর নির্বাচনে নৌকার  আশ্বাস পেয়েছিলেন। এবারও নৌকা না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আ.লীগের অনেক ভোটই তিনি পাবেন।
আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী হেলাল মিয়াকেও মেয়র হিসেবে চাইছেন অনেক ভোটার। সে হিসেবে তৃনমুল আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোটাদের আকৃষ্ট করে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকবেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, ইতিমধ্যে সুষ্ঠ নির্বাচন করার লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যদি কেউ কোন অন্যায় করতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে কাজ করা হবে।

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫২ প্রার্থী চূড়ান্ত করে শুক্রবার নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি পৌরসভার মেয়র প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দিয়েছে দলটি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসেনর মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভায় ঘোষিত মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে আবদুল মান্নানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভার বর্তমান মেয়র (বিএনপি) মো. নাজিমউদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই এই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে উপজেলার সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মান্নানকে মনোনয়ন দিল বিএনপি।

উল্লেখ্য, চতুর্থ ধাপে ৫৬টি পৌরসভায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ৪ পৌরসভায় মেয়র পদে শনিবারের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে দলটির।

সোলেমান আহমেদ মানিক,শ্রীমঙ্গল: রক্তদান জাতীয় পরিবারের আয়োজনে শ্রীমঙ্গল বিরাইমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি সদর ইউপি’র পূর্ব বিরাইমপুর গ্রামের অসহায় হত-দরিদ্র ৪১ জন নারী-পুরুষের মধ্যে একটি করে কম্বল বিতরণ করেন তারা।
স্থানীয় তরুন সমাজ ও সংবাদকর্মী সোলেমান আহমেদ মানিক’র তত্ত্বাবধানে এসময় উপস্থিত ছিলেন রক্তদান জাতীয় পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুল ইসলাম সোহাগ, আহবায়ক মাহতাব উদ্দিন তুষার, সদস্য সচিব ইউসুফ রানা, যুগ্মআহবায়ক ওমর ফারুকসহ কার্যকরী কমিটির সদস্যরা।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বেলাল আহমেদ, সুমন রেজা , মঈনুদ্দিন আহমদ, রায়হান আলী সাজু প্রমুখ এই কম্বল বিতরণে সহযোগিতা করেন।
রক্তদান জাতীয় পরিবারের একঝাঁক উদীয়মান সমাজকর্মীরা রক্তদানের পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবতার কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখার মন্ত্রে আবদ্ধ। দেশের ৬৪ টি জেলাব্যাপী তাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তারা।
উপস্থিত বক্তারা বলেন এভাবে যদি সমাজের সকল যুবকরা এগিয়ে আসে তবেই সোনার বাংলা প্রকৃত সোনার বাংলায় পরিনত হবে। পাশাপাশি যাদের বয়স ১৮ বছর এবং ওজন ৫০ কেজি তাদেরকে নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যানের তদন্তে তালিকার ১২০টি  নাম হতে বাতিল-১৫ টি  

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  জৈন্তাপুরে মুজিব বর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকায় অনিয়ম, মন্ত্রীর নির্দেশে ঘরে ঘরে তদন্তে উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৫ জনের নাম বাতিলের সুপারিশ।
সিলেটের জৈন্তাপুরে নানা অনিয়ম দূর্নিতির মাধ্যমে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদানের নীতিমালা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ৩৩০জনের তালিকা তৈরী করা হয়। তৈরীকৃত তালিকা শুরু থেকে উপজেলা জুড়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সর্বশেষ ১৪জানুয়ারী অতি গোপনে ৩৩০জনের নামের তালিকা হতে ১২০জনের নামে জমি রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। দ্রুত বিষয়টি উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে স্থানীয় ইউনিরয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি সহ ভূমিহীন ও গৃহহীনরা প্রতিবাদ মুখর হয় উঠেন এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক বয়কট করেন ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। পরে উপজেলা পলিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহেদ আহমদের মধ্যস্থতায় আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে যোগদান করে। অপরদিকে ঘর বরাদ্ধের অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এম.পি কে অবহিত করা হয়।

মন্ত্রী মহোদয় তৈরীকৃত তালিকার ১ম পর্যায়ের ১২০জন সহ পরবর্তী ২১০জনের তালিকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদকে সরেজমিনে ঘরে ঘরে গিয়ে যাচাই বাছাই করা নির্দেশদেন এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের যাচাই বাছাই শেষ না করা পর্যন্ত জমি রেজিষ্টেশন স্থাগিত রাখার মৌখিক নির্দেশদেন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক ১৫ জানুয়ারী সকাল ৭টা হতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ স্থানীয় মিডিয়াকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে তালিকা যাচাই বাছাই করে জৈন্তাপুর ও নিজপাট ইউপির আওতাভূক্ত তালিকা হতে যাদের পাকাবাড়ী-ঘর, নিজস্ব ভূমি রয়েছে এবং সরকারী দপ্তরের চাকুরী রয়েছে এবং বাড়ী-ঘর রয়েছে এমন ১৫ জনের নাম চিহ্নিত করে ১২০জনের তালিকা হতে তাদের নাম বাতিলের সুপারিশ করেন।

বাতিলকৃতরা হল- মৃত মোঃ মতলিব আলীর মেয়ে রতœা বেগম (যাহার তালিকা নং-৪২), আব্দুল লতিফের ছেলে মামুনুর রশিদ (যাহার তালিকা নং-৪৩), জৈন্তাপুর ভূমি অফিসের এমএলএস মৃত জিলা মিয়ার ছেলে রফিক আহমদ (যাহার তালিকা নং-৪৪), আবুল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ আমিনা বেগম (যাহার তালিকা নং-৪৬), মৃত কাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে কাজী জয়নাল আবেদীন (যাহার তালিকা নং-৪৮), জৈন্তাপুর সরকারী খাদ্য গডাউনে চাকুরীজীবি মৃত কাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে কাজী ফাহিম মিয়া (যাহার তালিকা নং-৪৯), উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের এম.এল.এস.এস সাইফুল ইসলামের বোন মাসুক মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ আলোয়ারা বেগম (যাহার তালিকা নং-৫০), খোকামনি দত্তের ছেলে বাদল মনি দত্ত (যাহার তালিকা নং-৫৬), মৃত শওকত আলীর স্ত্রী ফাতিমা বিবি (যাহার তালিকা নং-৫৭), মৃত তিতু মিয়ার ছেলে আব্দুস সোবহান (যাহার তালিকা নং-৬৬), আব্দুল মন্নান (যাহার তালিকা নং-৬৭), আব্দুল হান্নান (যাহার তালিকা নং-৬৮), মোঃ আব্দুল কাদিরের ছেলে মোঃ আবুল বাশার (যাহার তালিকা নং-৭৫), জামাল মিয়ার স্ত্রী আছমা বেগম (যাহার তালিকা নং-১০০), মোঃ সেলিম আহমদ (যাহার তালিকা নং-১০৫)। এছাড়া চিকনাগুল ইউপির আওতাভূক্ত এলাকার যাদের নামে জমি রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে সেই ব্যক্তিদের সরেজমিন তদন্ত চলছে। যদি সে গুলোতে অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে সেই ব্যক্তির নাম বাতিল করা হবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ প্রতিবেদককে জানান, মুজিব বর্ষের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে প্রশাসনের সমন্বয় না থাকায় কারনে আইন শৃঙ্খলা বৈঠক বয়কট করেন চেয়ারম্যানগণ। আমরা মধ্যস্থতা মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হলে বৈঠক চেয়ারম্যানরা উপস্থিত হন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমি সরেজমিনে ১২০ জনের তালিকা তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের যাচাই-বাছাই করে ১৫ জনের নাম চিহ্নিত করে তালিকা হতে বাঁধ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। পরবর্তী তালিকা তদন্তের জন্য আমার দপ্তরে আসলে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন প্রকৃত অর্থে যাদের ঘর-বাড়ী নেই তারা যেন প্রধানমন্ত্রীর, জননেত্রী, মানবতার নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার উপহার সঠিক ভাবে পায় এটা সকলেই কমনা করি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc