Friday 26th of February 2021 10:02:40 PM

মিনহাজ তানভীরঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের আওতাধীন ভাগলপুর যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত “ভাগলপুর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২১” উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সিজন-৪ ক্রিকেট লীগ’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কোয়াব মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হাসান, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান রিপন, শ্রীমঙ্গল থানার এসআই আলমগীর হোসেন, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিছুল ইসলাম আশরাফী, গ্রীন কালাপুর সংগঠনের সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মামুনসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুব লীগের ওয়ার্ড সেক্রেটারি প্রমুখ।
অথিতিদের প্রত্যাশা কালাপুর ইউনিয়নে যে ভাবে খেলাধুলার চর্চা চলছে তা অব্যাহত থাকলে তরুণ সমাজের বিপথে যাবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

প্রসঙ্গত,  সিজন-৪ টুর্নামেন্টে ইউনিয়নের ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করছেন এবং টি টুয়েন্টি লীগ ভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট টেপ টেনিস বলে খেলা হবে বলে আয়োজক সুত্রে জানা গেছে।।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোঃ এনায়েত মোল্যকে (৪০) স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যু দন্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মশিউর রহমান। সোমবার সকাল ১০ টায় নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষনা করা হয়। মৃত্য দন্ড প্রাপ্ত মোঃ এনায়েত মোর‌্যা লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর গ্রামের ইন্তাজ মোল্যার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, মোঃ এনায়েত মোল্যা স্বস্ত্রীক শুশুরবাড়ী সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত জব্বার মোল্যার বাড়ীতে থাকতেন। এনায়েত যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী নারগিস বেগমকে নির্যাতন করতো।

সর্বশেষ ২১ নভেম্বর ২০১৮ দিবাগত রাতে স্ত্রীকে তার বাবার দেয়া জমি বিক্রয় করিতে বলিলে, ভিকটিম জমি বেচিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে, ঐ রাতেই তাকে হত্যা করে গলায় শাড়ি পেচিয়ে বাড়ীর পাশে পুকুর পাড়ে আম গাছে ঝুলিয়ে রাখে। পরবর্তীতে বাড়ীর পাশের লোকেরা ঘটনাটি জানতে পেরে ,ভিকটিমের ভাই মোঃ বাকু মোল্যা ও বোন মোসাম্মৎ পারভিন খাতুন সদর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-১,০৪/১২/২০১৮ ) দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরন করে।

মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ রেজাউল করিম তদন্ত শেষে আসামীর বিরুদ্ধে সদর থানার সিএস নং-১০৪,২/০৪/১৯ আদালতে দাখিল করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন /২০০০( সংশোধনী/০৩) এর -১১(ক) ধারায় বিজ্ঞ আদালত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মশিউর রহমান দীর্ঘ শুনানী শেষে মোঃ এনায়েত মোল্যকে (৪০) স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যু দন্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা রায় প্রদান করেন। নারী ও শিশু মামলা নং ৪৫/১৯।

নূরুজ্জামান ফারুকী, নবীগঞ্জ থেকে:  নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর নৌকার সমর্থনে পথসভা শেষে ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনায় সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়াকে প্রধান আসামী করে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ জন রেখে নবীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই মকবুল হোসেন চৌধুরী (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে-আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্টিতব্য নবীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর নৌকার সমর্থনে গত রবিবার বিকেলে শহরের নতুন বাজার মোড়ে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব মহিলালীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যাপিকা অপু উকিল। এতে প্রায় সহশ্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে। বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি সভা স্থল ত্যাগ করার সাথে সাথেই ওই স্থানে বিকট আওয়াজে দুটি ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারন মানুষ আতংকে দিকবেদিক ছুটাছুটি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। শহরে সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ককটেল বিস্ফোরনে ৩জন পথচারী আহত হয়। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। আহতরা হলেন, পৌর এলাকার সালামতপুর গ্রামের ছমির মিয়ার ছেলে নজির মিয়া (৩৬), ভানুদেব গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে শিপন আহমদ (২২), প্রজাতপুর গ্রামের হুসেইন মিয়ার ছেলে তারেক আহমদ (২৪)। এ ঘটনায় রাতেই নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়ছল তালুকদার বাদী হয়ে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াকে প্রধান আসামী করে আরো ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০জন আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ট নির্বাচন সম্পনের জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে কোন অপশক্তি প্রভাবিত করতে পারবেনা।

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি:  কক্সবাজারের উখিয়ায় এক রোহিঙ্গার হাতে স্থানীয় এক দোকান কর্মচারী খুনের খবর পাওয়া গেছে। ফোরকান আহমদ ওরফে কালু (২২) নামের ওই দোকান কর্মচারীকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এই সময় ৪৫ হাজার টাকা লুট করা হয়।

রবিবার (১০ জানুয়ারি) ভোর রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত দোকান কর্মচারী উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার বশির আহমদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উখিয়ার কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশনের স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহ আলমের মালিকানাধীন একটি ডেকোরেটর দোকানে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কর্মচারীরা কাজ করতো। এই কারণে রাতে একসঙ্গে ওই দোকানে ঘুমাতো তারা। সর্বশেষ রবিবার ভোর রাতের যেকোনও সময়ে স্থানীয় কর্মচারী কালুকে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে ওই রোহিঙ্গা কর্মচারী। এই সময় দোকানে থাকা ৪৫ হাজার নগদ টাকা নিয়ে পালিয় যায় সে। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা কর্মচারীর পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার বেলা ১১টার দিতে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। দোকান মালিক শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ থেকেঃ  নবীগঞ্জ পৌর শহরের নতুন বাজার মোড়ে আওয়ামীলীগের পথ সভায় পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল রোববার রাতে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলের বাসায় নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিমর্লেন্দু দাশ রানা। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সর্বস্থরের নেতা কর্মী সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীদের সমন্বয়ে একটি আনন্দ র‌্যালী নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড় থেকে শুরু করে নবীগঞ্জ শহরের প্রতিটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে বিকাল ৪.৩০ মিনিটের সময় নতুন বাজার মোড়ে এক পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজ্বী মোজাহিদ আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিমর্লেন্দু দাশ রানার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই পথ সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন যুব মহিলালীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যাপিকা অপু উকিল সহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ, হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ তাদেরবক্তব্য শেষ করারপর সভাপতির বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এসে নতুন বাজার মোড়স্থ সভাস্থলে হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনতে পান। এ সময় চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। সভায় আগত নেতা কর্মী এবং পথচারীরা চারদিকে ছুটাছুটি করতে থাকে। এতে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ৩ জন কর্মী গুরুতর আহত হন।ঘটনার অবহতির পরে পুলিশসহ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ঘনটনাস্থলে এসে বোমা সদৃস্য কিছু ডিবা ও পেট্রল বোমাকৃতির পেপসির বোতল ঘটনাস্থলে দেখতে পান। যেহেতু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই পথ সভা নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতিকের সমর্থকদের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসভায় রূপ নেয় এবং তা দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা দিশেহারা হয়ে আমাদের সমাবেশস্থলে এ চোরাগুপ্তা বোমা হামলা ঘটাতে পারে বলে আমাদের ধারণা ।
সংবাদ সম্মেলনে বোমা হামলার জন্য বিএনপি প্রার্থী ও তার সর্মথকদের দায়ী করা হয়।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীর লোকজন তার নেতা কর্মীদের ভিবিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছেন। এখন পর্যন্ত তার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বোমা হামলাটি সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেন।তিনি নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্গন করে চলেছেন। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আওয়ামীলীগ প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। পেট্রোল বোমা নিয়ে তিনি বলেন এটা আওয়ামীলীগের নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার জন্য একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। আমরা আশা করছি প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। আওয়ামীলীগ প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচন পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

বিমানের সিঁড়িতে ভুট্টো খুব নরম সুরে বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘কোনো একটা সম্পর্ক কি আমাদের মধ্যে রাখা যায় না?’ বঙ্গবন্ধু ভুট্টোর দিকে বিচলিত হয়ে তাকিয়ে বললেন, ‘দেখো ভুট্টো! আমি এইসব নিয়ে এখন একদমই আলোচনা করতে চাই না। তোমার যা প্রস্তাব আছে সেটার উত্তর আমি বাংলাদেশের মাটিতে নামার সাথে সাথে তোমাকে দিবো।’

৮ জানুয়ারী ১৯৭২, বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডি থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌছালেন। বিমান থেকে নামার সাথে সাথে এয়ারপোর্টে লাউডস্পিকারে বলা হলো, ‘Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman is here.’

বঙ্গবন্ধু তখনো বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান না। কিন্তু তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদায় হিথ্রো এয়ারপোর্টের ভি.আই.পি লাউঞ্জে নেওয়া হলো। ভি.আই.পি লাউঞ্জের প্রধান দরজায় একজন ব্রিটিশ রয়েল গার্ড দাঁড়িয়ে থাকেন। এই রয়েলগার্ড স্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে থাকে এবং কোনোরকম নড়া-চড়া করার নিয়ম নেই। কিন্তু সেদিন রয়েল গার্ড নিয়ম ভঙ্গ করে এক পা বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট দিয়ে বললেন, ‘Sir, we have been praying for you.’

বঙ্গবন্ধু রয়েল গার্ডের কাধে হাত রেখে মুচকি হাসি দিলেন। রয়েল গার্ডের চোখে পানি রীতিমত টলমল করছিলো।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিথ বঙ্গবন্ধুকে ফোন করে বললেন, ‘আপনাকে আমরা রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মাননা দিচ্ছি। তাই রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তায় আপনাকে ক্ল্যারিজ হোটেলে থাকতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু হেসে বললেন, ‘আমি তো রাসেলস স্কয়ারে ছোট হোটেলগুলোতে থাকতাম। ওখানে বাঙালিরা সহজে আসতে পারে। আমাকে রাসেলস স্কয়ারে ব্যবস্থা করে দাও।’

হিথ উত্তর দিলো, ‘দেখো তুমি তো হেড অফ স্ট্রেট হিসাবে আমাদের অতিথি। তোমার সব কথা আমরা মানার চেষ্টা করবো। কিন্তু এই কথাটা মানতে পারবো না। কারণ হেড অফ স্টেটের নিরাপত্তা শুধুমাত্র ক্ল্যারিজেজ হোটেলেই হয়।’

বঙ্গবন্ধু ক্ল্যারিজ হোটেলে পৌঁছালেন। তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদায় গার্ড অফ অনার দেওয়া হলো। বিকাল গড়াতেই ক্ল্যারিজ হোটেলের সামনে লোক সমাগম হতে শুরু করলো। সাধারণত ক্ল্যারিজ হোটেলের সামনে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। কিন্তু সেদিন ক্ল্যারিজ হোটেলের সামনে এতো লোকের সমাগম হয়েছিলো যা ইতিহাসের বাইরে।

বঙ্গবন্ধু হোটেলে পৌছে প্রথমে বাংলাদেশে ফোন দিলেন অস্থায়ী প্রধান মন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে। তাজউদ্দীনকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার দেশের মানুষ কেমন আছে?’

তাজউদ্দীন উত্তর দিলেন, ‘লিডার আমরা সবাই ভালো আছি। কিন্তু দেশের মানুষের একটাই প্রশ্ন বঙ্গবন্ধু কোথায়? বঙ্গবন্ধু কবে দেশে আসবেন? আপনার জন্য সারা দেশের মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছে।’

৯ জানুয়ারি ১৯৭২, প্রধানমন্ত্রী হিথ স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করলেন। বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘দেখো আমরা খুবই আনন্দিত তুমি রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রথম আমাদের দেশে এসেছো। আমরা তোমাকে সমস্ত সাহায্য সহযোগিতা করবো। কিন্তু এই মূহুর্তে তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি বলো।’

বঙ্গবন্ধু জবাব দিলেন, ‘আমি দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দাও।’

হিথ সঙ্গে সঙ্গে তার সেক্রেটারিকে বললো, ‘দেখো উনাকে ফেরানোর জন্য দ্রুত কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা?’

সেক্রেটারি জানালো, ‘ব্যবস্থা আছে কিন্তু দুই-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

এবার হিথ বললেন, ‘উনাকে আমার ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমানের ব্যবস্থা করে দাও।’

১০ জানুয়ারী ১৯৭২, বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ রয়েল এয়ার ফোর্সের নিরাপত্তায় দেশে ফিরলেন। যা ব্রিটিশ ইতিহাসে কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য করা হয়নি।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে ভুট্টোর সেই কথার জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ ভুট্টো তোমার সাথে সম্পর্ক? দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকে সেই সম্পর্ক থাকবে। তুমি তোমার দেশ নিয়ে সুখে থাকো ।

আজ ১০ জানুয়ারী, পাকিস্তানের বন্দী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রিয় স্বদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কারাগারে থাকতে বারবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি তোমারা মেরেও ফেলো তবু আমার লাশটা প্রিয় বাংলাদেশের মাটিতে পৌঁছে দিও তোমরা।

খন্দকার আবু সুফিয়ান (অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি):  কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওড় এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী গুলোর মধ্যে মেঘনার শাখা নদী ধলেশ্বরী নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে ফলে অষ্টগ্রাম উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ মারাক্তক হুমকির মুখে। নদীগুলো বালুরাশির মাঝদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ক্ষীণ ধারায়। এককালে ধলেশ্বরীর রূপ ছিল ভয়ঙ্কর। এক যুগ পূর্বে যে নদীতে কেয়া পার হতে যেয়ে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল যাত্রীদের, আজ সেই ধলেশ্বরীর উপর ছোট বাচ্ছাদের সাতার আর দূরন্তপনা লক্ষ করা যায়। হেটে পার হওয়া যায় নদীর এক পার হতে অন্য পারে। নাব্যতা সংকটের ফলে হুমকিতে থাকা শত শত একরের সেচ প্রকল্প কুড়িয়ে কুড়িয়ে কোন রকম চলছে।

ধীরে ধীরে ধলেশ্বরী তার আগের রূপ হারিয়ে ফেলেছে। স্রোতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় পলি জমতে থাকে সারা ধলেশ্বরীর বুক জুড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অষ্টগ্রামে অবস্থিত ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সেতুর উভয় পাশে পূর্ব-পশ্চিম অংশে নদীতে পানি শূণ্য। নদীর বুকে রোপন করা হয়েছে চৈতালী ধান। পানিশূন্য ধলেশ্বরী নদ ভরাটের ফলে ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগোচ্ছে অষ্টগ্রামের অধিকাংশ কৃষি জমি।

অন্যদিকে অষ্টগ্রামের পূর্ব উত্তরে অবস্থিত বিল মাকসার নাব্যতা সংকটের ফলে পানির সেচ সমস্যায় অষ্টগ্রামের উত্তর হাওড়ের শত শত একর কৃষি জমি আজ হুমকির মুখে, এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী খনন করে দ্রুত ধলেশ্বরী ও বিল মাকসার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।

অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নের পাওন ও কাগজীগ্রামের দক্ষিণে অবস্থিত বিল ডোড্ডার নাব্যতা সংকটের ফলে পাওন, কাগজীগ্রাম, ভাটিনগর, দেওঘর, লাউড়া ও বাঙ্গাল পাড়া ইউনিয়নের কৃষি জমির সেচ প্রকল্প গুলো হুমকির মুখে।
একইভাবে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন, কলমা ইউনিয়ন এবং চর দেওঘর ও কালিপুর হাওড়ে খাল বরাটের ফলে নাব্যতা সংকটে সেচ প্রকল্প গুলো ও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই অফিসে তিনি দুই/তিন মাস পূর্বে যোগদান করেছেন, অষ্টগ্রামের উল্লেখিত সমস্যার ব্যাপারে জেলার এই প্রধান কর্তা কিছুই জানেন না বলে জানান, তিনি তার অফিসের আরেক কর্তা, শাখা কর্মকর্তা – উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মো. রাজু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ধলেশ্বরী নদীর পূর্বে দিকে অবস্থিত বাঙ্গাল পাড়া হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে আসা সংযোগ খাল গুজিয়ার খাল এবং ধলেশ্বরী নদী মিলিয়ে ২.৫ কি. মি. (আড়াই কি. মি.) এলাকা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি সাইত্রিশ লক্ষ টাকা, এই কর্মকর্তা জানান টেন্ডার পেয়েছে ময়মনসিংহের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান, এখন খনন কাজ চলার কথা থাকলেও টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্টানটি তাদের কাছ থেকে দশ থেকে পনের দিন সময় চেয়েছেন, আগামী দশ পনের দিন পর এই খনন কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

প্রশ্ন করা হলে এই কর্তা আরও জানান, বিল মাকসার ৩ কি. মি. জায়গা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে, যা দ্রুত মন্ত্রনালয়ে পাশ হওয়ার কথা রয়েছে এবং চর দেওঘর, কালিপুর, ও কলমা ইউনিয়নসহ উপজেলায় ১৩ কি. মি.(তের কি.মি.) খাল বিল ও নদী ড্রেজিং করার জন্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়েছে, আশা করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে তা মন্ত্রনালয়ে পাশ করা হলে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সদর ইউ’পি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারুক আহমদ জানান, দক্ষিনের নদী ধলেশ্বরী ও পূর্ব অষ্টগ্রামের ইকুরদিয়া থেকে শুরু হওয়া বিল মাকসা ভরাটের ফলে নাব্যতা সংকটে পানির সেচ সমস্যার ফলে ৬০ শতাংশ জমি চলতি বৎসর অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে, সরকার দ্রুত বিল মাকসা ও ধলেশ্বরী নদী খনন না করলে অত্র এলাকার এক ফসলী কৃষি বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এমনিতেই অনাবৃষ্টি ও অতি বৃষ্টির ফলে হাওড়ের কৃষি চাষাবাদ করা আজ চরম সংকটের সম্মুখীন, তাই নদী খনন করে এ সমস্যা থেকে উত্তরনে জরুরী পদক্ষেপ দাবী করছি সরকারের  সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রনালয়ের কাছে। সুত্রঃকিশোরগঞ্জ জার্নাল

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc