Thursday 3rd of December 2020 04:14:15 PM

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের  গ্রিন লাইফ ডায়াগনস্টিক ও ইনাতগঞ্জ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স না থাকায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহিউদ্দিন এ দণ্ডাদেশ দেন। এ সময় ওই বাজারে বিশাল ইলেকট্রনিক্স নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইনাতগঞ্জ বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে লাইসেন্সবিহীন গ্রিন লাইফ ডায়াগনস্টিক ও ইনাতগঞ্জ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও এখনো পায়নি । আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানকালে কোন লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ। পরে গ্রিনলাইফ ডায়গনস্টিক সেন্টার এর স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেনকে (৩৮) ৫ হাজার টাকা ও ইনাতগঞ্জ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর আবুল হোসেনকে (৪১) ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তারা ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখের মধ্যে লাইসেন্স না পেলে পরবর্তী অভিযানে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষকে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

এদিকে বিধি না মেনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লাইসেন্সহীন ভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬ অনুযায়ী ইনাতগঞ্জ বাজারে অবস্থিত বিশাল ইলেকট্রনিক্স নামের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রসিকিউশন সহায়তা প্রদান করেন ডা. হাসান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করেন নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন জানান, ভুয়া ডাক্তার বা অবৈধ লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক ধরতে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশব্যাপী করোনার প্রকোপ দ্বিতীয়বার বৃদ্ধিতে বুধবার (১৮ই নভেম্বর) বিকেলে শহরের চৌমুহনা চত্বরে তরুণদের সংগঠন ‘উদ্দীপ্ত তারুণ্য’ এর আয়োজনে সচেতনতামুলক পথ সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুল ইসলাম আশরাফী, উদ্দীপ্ত তারুণ্যের সদস্য কে এস এম আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কৃষক আব্দুল মজিদ, উদ্দীপ্ত তারুণ্যের সমন্বয়ক শিমুল তরফদার, সাজু মারছিয়াং, মো. নুরুজ্জামান, আল ইব্রাহিম, আল আমিন, আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রমুখ।

পরে চৌমুহনা চত্বর থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তৈরীকৃত সচেতনতামুলক স্টিকার বিভিন্ন প্রতিষ্টানে লাগানো হয় এবং হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় গুলো সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করা হয়। এ সময় উদ্দীপ্ত তারুণ্যের পক্ষ থেকে প্রায় শতাধিক পথচারি মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণের সাথে সাথে নিজেকে ও অন্যকে করোনা থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে মৌখিক পরামর্শ ও দেওয়া হয়।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ শহরে দুটি প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় একটিকে সীলগালা করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মো. রেজা এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর মো. ফারুক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মো. রেজা জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ শহরের সবুজবাগ এলাকার খোয়াই হাসপাতালের লাইসেন্স না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবা প্রদান, অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ব্যবহার, ব্যবহৃত পুরাতন সুতা সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল মেডিকেল অফিসার এবং নার্সের অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সুমন আহমেদকে ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দেয়া হয়।
পরে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একই সুতা দিয়ে একাধিক রোগীর সেলাই করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নূরুজ্জামান ফারুকী,বিশেষ প্রতিনিধি: দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে দেশটির নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের মাফিকিং নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ইমন আহমেদ ও আব্দুর রহমান। তাদের দেশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেল হোসেনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মাফিকিং-এর স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা বাংলাদেশিদের মধ্যে দুই গ্রুপ নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বাকবিতণ্ডা ও ঝামেলায় লিপ্ত হয়ে আসছিল। তারা ধারণা করছেন, প্রতিপক্ষ গ্রুপ সন্ত্রাসী ভাড়া করে এই দলের প্রতিশোধ নিয়েছে।

এর আগে, আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মিজানুর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে হত্যা করা হয়েছে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।

রোববার (১৫ নভেম্বর) দেশটির নামপুলা প্রদেশের সালাওয়া নামক এলাকায় মুখে পলিথিন পেচানো অবস্থায় মিজানুরের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিরা নিজেদের মধ্যে মাফিয়া সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে একে অপরকে হামলা, অপহরণ ও খুনের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দল, গোষ্ঠী ও অঞ্চলভিত্তিক সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।

দেশটিতে বাংলাদেশিরা পাকিস্তানি ও স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে মিলে মাফিয়া চক্র পরিচালনা করছে জোহানেসবার্গ, প্রিটোরিয়া, কেপটাউন, ডারবানসহ বড় শহরগুলোর পাশাপাশি

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি:  হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁনপুরে মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রকে (১০) বলাৎকারের অভিযোগে তারেক মিয়া নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ভোর রাতে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালাবাজার থেকে তাকে আটক করে। আটক তারেক মিয়া জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চাটপাড়া গ্রামের আব্দুল রকিব মিয়ার ছেলে। তিনি চাঁনপুর দ্বিনিয়া মাদ্রাসায় বাংলা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী জানান, সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পর ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে (১০) ক্লাসে থাকার জন্য বলেন অভিযুক্ত শিক্ষক তারেক মিয়া। ছুটির পর ক্লাসের সকল শিক্ষার্থী চলে গেলে শিক্ষক তারেক মিয়া ওই ছাত্রকে ঝাপটে ধরেন এবং বলাৎকার করেন।

পরে নির্যাতিত শিশু বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে বিষয়টি বললে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পরে। রাতে ছাত্রের বাবা সদর থানায় মৌখিক অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তারেক মিয়াকে আটক করে।

ওসি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ইমন মিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ “মৌলভীবাজার জেলাসহ শ্রীমঙ্গলবাসীকে শান্তিতে ঘুম উপহার দিতে জেলা পুলিশের নির্ঘুম তের দিন রাত্রির জেলা থেকে জেলায় নিরলস ছদ্মবেশের আভিযানিক বর্ণনা থেকে জানা যায় মোট ২৩ টি মামলার আসামী দুর্ধর্ষ আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সর্দার ও মৌলভীবাজার জেলায় একের পর এক ডাকাতি করার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ফজর আলী প্রকাশ বটুনকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সাথে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের অভিযানে আরও কয়েকজনকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার  করা হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ০২/১১/২০২০ তারিখে রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডস্থ গ্রামের ভাড়াউরা চা বাগানের এক আধিবাসীর বাড়িতে রাত প্রায় আড়াইটায় একদল অপরাধী বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।জানামাত্রই জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান টিম মাঠে নামে। গোপন তদন্তে জানা যায় এই ঘটনার মূল হোতা হবিগঞ্জের ডাকাত ফজর আলী এবং তার সিন্ডিকেট। পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয়ে বিরতিহীন নির্ঘুম ১৩ দিনের অভিযানের এক পর্যায়ে গত ১৫ /১১/২০২০ তারিখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, মৌলভীবাজার এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র দেব এর একটি বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনার মূল হোতা কুখ্যাত আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার ফজর আলী প্রকাশ বটুনকে (২৫) পলায়নরত অবস্থায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উক্ত অভিযানের সময় চুনারুঘাট থানার পুলিশ সহায়তা করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত উক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়।
উল্লেখ্য ইতিমধ্যে উক্ত ঘটনায় জড়িত অপর ৫ জন আসামীও শ্রীমংগল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার কৃতরা হলো- ফয়সল মিয়া,পিতা জমির আলী, উপজেলা মাধবপুর, হবিগঞ্জ, সুমন মিয়া,পিতা কোরবান আলী, উপজেলা শ্রীমংগল, মৌলভীবাজার, মোঃ শাহ আলম নিয়া,পিতা খালেক মিয়া,উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সয়ফুল মিয়া,পিতা আবু শামা, উপজেলা বানিয়াচং, হবিগঞ্জ এবং স্বপন মিয়া, উপজেলা শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগন্জ জেলা। পুলিশের সুত্রে আরও জানা যায় “জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ফজর আলী এবং তার দল মৌলভীবাজার জেলায় একের পর এক ডাকাতি সংগঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো।”
অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে শীত মৌসুমে মৌলভীবাজারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। গত বৎসর পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং জনগণের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কর্মতৎপরতার কারণে সাতটি থানার মধ্যে ছয়টি থানায় কোন প্রকার ডাকাতি সংঘটিত হয়নি বলে পুলিশ জানান। শুধুমাত্র সদর থানায় দুটি ডাকাতি হয়েছিল। করোনার কারণে এবং গত বৎসর ডাকাতি করতে না পারায় বিভিন্ন গোপন সূত্রে জানা যায় ডাকাতদল এবার শীতের আগমন ঘটতে না ঘটতেই সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।সেজন্য শুরু থেকেই আমরা জোরদার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। কিন্তু চাহিদার তুলনায় জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি থাকায় “পুলিশ-জনতা” এর যৌথ প্রয়াসে গতবারের ন্যায় আমরা কাজ করে যাবে অঙ্গিকার পুলিশের।
অপরদিকে, শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ অফিসার আব্দুস ছালিক আমার সিলেট প্রতিনিধিকে বলেন, প্রাপ্ত স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়,ডাকাত সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ছোটখাটো ব্যবসার নামে বিভিন্ন এলাকার বাড়ী বাড়ী গিয়ে বাড়িতে কে কে আছে রেকি করে আসে। আশপাশের লোকজনের অবস্থা জেনে গিয়ে রাতের আঁধারে দল বেঁধে ডাকাতি করে। এলাকাবাসীর প্রতি যে কোন ফেরিওয়ালাদের প্রতি নজর  রেখে সতর্ক থেকে যে কোন তথ্য পেলে তাৎক্ষনিক পুলিশকে  খবর দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন তিনি।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রায় ১মাস ধরে বন্ধ ছিলো জমি রেজিস্ট্রী কার্যক্রম। এতে ভোগান্তীতে পড়েছেন শত শত ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতারা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের লাগামহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এছাড়া এ অফিসের সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধ-শতাধিক দলিল লেখক বেকার সময় পার করছেন।কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির চলিত বছরের অক্টোবর মাসে অন্যত্র বদলি হওয়ার পর আর কোনো সাব-রেজিস্ট্রার এখানে পদায়ন করা হয়নি। ফলে রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এ উপজেলার শত শত জমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও জরুরি কাজে দলিল উত্তোলনকারীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। গত ৫ নভেম্বর জুড়ি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূণ্য থাকায় জুড়ি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল আমিন সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। ১ম কর্মদিবস বৃহস্পতিবার(৫ নভেম্বর) প্রায় দেড় শতাধিক ভূমি রেজিস্টেশন করেন তিনি। বৃহস্পতিবারের পর থেকে আবারো বন্ধ থাকে ভূমি রেজিস্টেশনের কার্যক্রম। প্রায় ১০দিন পর রবিবার (১৫ নভেম্বর) তিনি অফিস করেন। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নেওয়া “নো মাস্ক, নো সার্ভিস” নীতির বাস্তব কার্যক্রম দেখা যায়নি কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। অধিকাংশ ভূমি ক্রেতা ও বিক্রেতা মাস্ক ছাড়াই জমি রেজিস্টেশন করছেন। শুধু ক্রেতা বিক্রেতাই নয় নকলনবীশ লেখক ও দলিল লেখকরাও মাস্ক ছাড়াই ঘুরাফেরা করছেন।

ভুক্তভোগী জালালিয়া গ্রামের মোঃ আহমদ আলী, কেচুলিটি গ্রামের আব্দুর রব, কাজিরগাঁও গ্রামের মালিক মিয়া, গোপীনগর গ্রামের মহরজান বিবি, ধর্মপুর গ্রামের মদন কর, গোপীনগর গ্রামের ময়ূর বেগম, শ্রীপুর গ্রামের সরলা বেগম, ঠাকুর বাজার গ্রামের এখলাছুর রহমান সাথে আলাপকালে এ প্রতিনিধিকে জানান, তারা সকাল থেকে জমি রেজিস্ট্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। কখন জমি রেজিস্ট্রি করে বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে তারা বেশ চিন্তায় পরে গেছেন। একটি মিটিং শেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার আসতে দেরি হওয়ায় তাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা করেও যদি তারা জমি রেজিস্ট্রি করে দলিল হাতে পান তাতেই তারা খুশি।

এছাড়া এখানে একজন সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের দাবি জানান তারা।এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী মো: ইজ্জাদুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এ সমিতির ৪৭ জন দলিল লিখক কয়েকশত দলিল রেজিষ্ট্রীর অপেক্ষায় ছিলো। আমাদের এখানে সার্বক্ষনিক সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ভোক্তভোগী ক্রেতা বিক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এখানে একজন সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তিনি দাবী জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্টার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব রেজিষ্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি আব্দুল মছব্বির সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, কমলগঞ্জে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তীর মাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে । কমলগঞ্জে সার্বক্ষনিক সাব রেজিষ্ট্রার না দিলে এ ভোগান্তি দীর্ঘদিনের হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান যাতে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্টার মঞ্জুরুল আমিনকে কমলগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জন্য।

এ ব্যাপারে মঞ্জুরুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও সোমবার কমলগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করব। আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চেষ্ঠা করছি সকলকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে। যারা এখানে ভূমি রেজিস্ট্রি করতে আসবেন তাদেরকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে আসতে হবে। আগামী মাস্ক ছাড়া কারো ভূমি রেজিস্ট্রি করা হবে না।

হাবিবুর রহমান খান,জুড়ী প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের  সাথে জুড়ী উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,গণমাধ্যম কর্মী এবং সেবাগ্রহীতাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) উপজেলা হলরুমে  প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, সরকারি সকল ধরনের সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা পুরো জেলায় কাজ করে যাচ্ছি।এছাড়া জুড়ী উপজেলার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা করে উপজেলার পর্যটন খাতকে আরো অনেক দূর এগিয়ে  নিতে আমরা কাজ করব।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরান রুহুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্মা, জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মতিন,সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী প্রমুখ।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও জেলা প্রশাসক গ্রীন স্কাউটিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রীন জুড়ী, ক্লীন জুড়ীর শুভ উদ্বোধন করেন এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সহায়ক উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এলাকাবাসীর দাবী “গেদন মিয়া নিজে পুলিশকে ফোন দিয়েছেন। সে যদি এইসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকতো তাহলে পুলিশকে বলবে কেন ? লুকিয়ে ফেলে দিতে পারতো। এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত”  

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার:  মৌলভীবাজর জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের ধুলিজুড়া গ্রামের আকলের বাজারে গেদন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবা ও জাল টাকা রাখার অভিযোগে আটক করেছে রাজনগর থানা পুলিশ। পুলিশ সুত্রে জানা যায়,গত ১৫ নভেম্বর সোমবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় ভূষণ চক্রবর্তীসহ একদল পুলিশ ধুলিজুড়া গ্রামের আকলের বাজারে মৃত সাইস্তা মিয়ার ছেলে গেদন মিয়ার নিজ দোকানে অভিযান চালায়। এসময় তার দোকান তল্লাশি করে ৯০হাজার ১ হাজার টাকার জাল নোট ও ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।দোকানের মালিক গেদন মিয়াকে রাজনগর থানায় নিয়ে আসা হয়। সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় ভূষণ চক্রবর্তী।

অপরদিকে জাল টাকা ও ইয়াবার বিষয়টি এখন এলাকায় তোলপার তুলেছে, এলাকাবাসীর দাবী তারা বলছেন, “হারুন মিয়ার ছেলে রিদয় মিয়া দোকানে ঝাড়ু দিতে গিয়ে দোকানের ক্যাশ বক্সের নিচে দেখতে পায় একটি পুটলা সেই পুটলা খোলে দেখা যায় কিছু টাকা ও কয়েকটা ছোট প্যাকেট,সাথে সাথে দোকানের বাহিরে থাকা গেদন মিয়াকে খবর দেয়া হয়। ওই সময় গেদন মিয়া তার একটি পূরনো মামলার হাজিরা দিতে মৌলভীবাজার কোর্টে ছিল সেখান থেকে তার দোকানে আসে এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে গেদন মিয়া রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখা, পাচঁগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া এলাকার মেম্বার জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার ভাই পারভেছ মিয়াকে ফোন করে ঘটনাটি বলেন,পারভেছ মিয়াসহ এলাকার কয়েক জন রাজনগর থানাকে অবগত করলে পুলিশ ঘর্টনাস্থলে আসে, এসে ৯০ হাজার ১ হাজার টাকার জাল নোট ও ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দেখতে পান। এই ঘটনায় গেদন মিয়াকে থানায় নিয়ে জাল নোট ও ইয়াবা ট্যাবলেটের মামলা করা হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাজারের সহ সভাপতি সুন্দর মিয়া বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী গেদন মিয়া ও ব্যাবসায়ী। আজকে তার দোকানে কে বা কারা এসময় অবৈধ জিনিস রেখে তাকে ফাঁসিয়েছে। আরেক দিন আমাকে ও ফাঁসাতে পারে তাই আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হউক।”
এলাকার অরবিন্দু,আলাল মিয়া, পারভেছ মিয়া, উজ্জল মিয়া, বলেন, “গেদন মিয়া নিজে পুলিশকে ফোন দিয়েছেন। সে যদি এইসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকতো তাহলে পুলিশকে বলবে কেন ? লুকিয়ে ফেলে দিতে পারতো। এই ঘটনা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত” বলে তাদের দাবী।
ঘটনার দিন গেদন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন “আমি প্রায় দের মাস হয়েছে দেশে এসেছি। আমি আমাকে ফাঁসানোর জন্য কিভাবে এসব অবৈধ জিনিস রাখবো ?  আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। যেখানে আমি নির্দোষ সেখানে আমি পালাবো কেনো ?”
গেদন মিয়া নির্দোষ এলাকাবাসীর এমন দাবীর ব্যাপারে কথা হয় রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় ভূষণ চক্রবর্তীর সাথে, ফোনে আলাপ করলে তিনি জানান। “গেদন মিয়ার ভাতিজা রিদয় মিয়াকে দোকানের চাবি দিয়ে সে চলে যায়। রিদয় মিয়া দোকান খুলে অবৈধ জিনিস পেয়ে এলাকার মানুষকে জানায় ,আমরা খবর শুনে ঘটসাস্থলে যাই ,সেখানে দোকান তল্লাশি করে ৯০ হাজার ১ হাজার টিকি (টাকার) জাল নোট ও ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করি। দোকানের মালিক তার দোকানে কি রাখবে না রাখবে সেটাতো আমরা বলতে পারিনা। যার দোকানে এইসব অবৈধ মাল পাওয়া গেছে আমরা সেই দোকানের মালিক গেদন মিয়াকে আটক করেছি। এই বিষয়ে মৌলভীবাজার রাজনগর থানায় মাদক হেফাজতে রেখে বিক্রি করার দায়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ও জাল নোটের কারনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc