Thursday 3rd of December 2020 04:10:39 PM

জেলা প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরশহর ও বিভিন্ন বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৬ দোকান মালিককে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকালে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা।

জানা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর বাজারে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করার দায়ে হাজী আনোয়ারা ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা, নোহা ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা এবং মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর কারণে মদিনা ষ্টোরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পণ্য উৎপাদনের কারণে চুনারুঘাট পৌর শহরের ঢাকা ফুড প্রোডাক্টসকে ৬ হাজার টাকা, রায়হান বেকারিকে ৮ হাজার টাকা, সোনার বাংলা রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ অভিযানে সহযোগিতা করেন চুনারুঘাট উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর গোলাম মোহাম্মদ সারুয়ার জাহান, জেলা মার্কেটিং কার্যালয়ের আবুল কালাম সিকদার ও চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি দল।

নূরুজ্জামান ফারকী বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে মৌলভীবাজার- শ্রীমঙ্গল সড়কের নিতেশ্বর এলাকার নিল আকাশ বার্গার হাউজের পাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসুম আহমদ, সাফওয়ান, জাবেদসহ কয়েকজন কলেজ ছাত্রও ছিলো এই গাড়িতে।

গাড়িতে থাকা অলি আহমদ জানান, আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠি। গাড়িটি খুব গতিতে যাচ্ছিলো। ওই এলাকায় রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে। অপর দিক থেকে আসা ট্রাকের মুখোমুখি হলে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়াছিনুল হক বলেন, বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৩১৬৫) শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার দিকে আসছিলো। দুর্ঘটনার পর থেকে ড্রাইভার পালাতক রয়েছে। বাসটি খাদ থেকে তোলা হচ্ছে।

জহিরুল ইসলাম.স্টাফ রিপোর্টার:  শ্রীমঙ্গলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ সকাল ১১টায় চৌমুহনা চত্বরে‘নো মাস্ক,নো সার্ভিস’ ক্যাম্পেইন এর চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুর তরফদারের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. হরিপদ রায় প্রমুখ।

এসময় শহরের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ‘নো মাস্ক,নো সার্ভিস’ সচেতনতামূলক লিফলেট লাগানো হয় এবং পথচারীদের হাতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন, প্রচারাভিযান সহ যেভাবেই হোক এটি নিশ্চিত করতে হবে।তিনি আরও বলেন মাস্ক ছাড়া এলে কাউকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো সহ দোকানপাটে সেবা দেওয়া হবে না।এই নির্দেশ অমান্য করিলে জড়িমানা করা হবে বলে তিনি হুশিয়ার করেন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উজ্জীবিত করতে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান। একটি সত্তা। একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতো অন্তরালের বঙ্গবন্ধুও শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিনই বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে ওঠতে পারে সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

সোমবার (৯ নভেম্বর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। সংসদের বৈঠক শুরু হলে সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় বিউগলে ফ্যানফেয়ার বাজানো হয়। স্পিকারের ডান পাশে লাল গদি মোড়ানো চেয়ারে বসেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৯০ জনের মতো সংসদ সদস্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন না। মহামারিকালের কোনো অধিবেশনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের ছিলেন।

এসময় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার চেষ্টাকারীরা ব্যর্থ হয়েছেন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে, বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

সংসদ কক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ভাষণ দেখানোর সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। তাকে কয়েকবার চোখ মুছতে দেখা গেছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ভাষণের মধ্যে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ান। শেষ হলে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন সাবেক প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ। সংসদ সদস্যরাও স্লেগানের জবাব দেন।

রাষ্ট্রপতিকে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালে স্পিকারের বাম পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন আবদুল হামিদ। এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি, যিনি গণপরিষদ ও দেশের প্রথম সংসদের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে আইনসভায় বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন।

দেশের সাধারণ মানষকে যারা বিভ্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদের এক করেছিল, সেই ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পিত কাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।

মুজিববর্ষ পালনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারকে এবং বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের জন্য স্পিকার ও জাতীয় সংসদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি আশা করি অধিবেশনের কার্যক্রম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অধিবেশনে জাতির পিতাকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে আমরা নিজেরাও সম্মানিত হব। তবে সীমিত সময় ও পরিসরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তার জীবন ও কর্মের বিস্তৃতি এতটাই বিশাল যে ঘণ্টার ঘণ্টা এমনকি দিনের পর দিন আলোচনা করলেও তা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

মানসিক অসুস্থতার কারণে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিমকে স্বজনেরা রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকালে ভর্তি প্রক্রিয়া চলার মধ্যে হাসপাতালের কর্মীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্যও দেখা যায়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

৩১তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম সর্বশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তার স্ত্রী শারমিন সুলতানাও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই দম্পতির চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে আনিসুল করিমের মরদেহ গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ছয়জনকে আটক করেছে।

হাসপাতালে আনিসুল করিমের সঙ্গে ছিলেন তার বড় ভাই রেজাউল করিম সবুজ। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তার ভাই একটু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এজন্য বরিশালের কর্মস্থল থেকে চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগে ঢাকায় আসেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা তাকে নিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান। তিনি ভাইকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে হাসপাতালের কাউন্টারে ভর্তি ফরম পূরণ করার সময়ে কয়েকজন কর্মচারী আনিসুলকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের জানানো হয় আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। এরপর তারা তাকে দ্রুত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান তার ভাই আগেই মারা গেছেন।

তিনি বলেন, শুরুতে ভাবছিলেন হয়তো তার ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীদের আচরণে তার সন্দেহ হতে থাকে। এরপরই তিনি খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানান। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পান তার ভাইকে হাসপাতালের কক্ষের মেঝেতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে। নিজে চিকিৎসক জানিয়ে রেজাউল করিম সবুজ বলেন, তার ভাইকে হাসপাতালের লোকজন পিটিয়ে, নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।

মাইন্ড এইড হাসপাতালের সমন্বয়ক ইমরান খান দাবি করেছেন, পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট থেকে তাদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন স্বজনেরা। ওই সময়ে তিনি খুব উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিলেন। বিভিন্নজনকে মারধর করেন। তাকে শান্ত করার জন্য ওই কক্ষটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়ে তিনি হাসপাতালে ছিলেন না।

বেসরকারি হাসপাতালটি থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আনিসুল করিমকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হচ্ছে। তাকে হাসপাতালের ৫ থেকে ৬ জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরতে দেখা যায়। এরপর আরও দুইজন তার পা চেপে ধরেন। ওই সময় মাথার দিকে থাকা দুইজন হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকেন। একটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে তার হাত পেছন থেকে বাঁধতেও দেখা যায়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের কর্মীরা আনিসুলকে মারধর করে। পুরো ঘটনার সময়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুরো ভিডিওর চার মিনিটের মাথায় আনিসুলকে উপুড় করলেও তার দেহ নিস্তেজ অবস্থায় ছিল। একজনকে তখন তার মুখে পানি ছিটাতে দেখা গেছে। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দিতে দেখা গেছে। এর দুই মিনিট পর তার বুকে পাম্প করেন অ্যাপ্রোন পরা নারী।

পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল জানান, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি বিশ্নেষণ করে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যাবে। তারা ঘটনার তদন্ত করছেন।

আনিসুল করিমের একজন স্বজন ও তার একজন ব্যাচমেট জানিয়েছেন, পারিবারিক ঝামেলাতে ছিলেন আনিসুল। এতে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তার চিকিৎসাও চলছিল। এ ছাড়া রক্তচাপজনিত সমস্যাও ছিল। তবে সেটা বড় সমস্যা ছিল না।সমকাল

বাংলাদেশে বিবাহিত পুরুষদের ৮০ শতাংশ ‘মানসিক’ নির্যাতনের শিকার। অনেকেই এসব বিষয় প্রকাশ করতে চান না সামাজিক লজ্জার ভয়ে। নিজেদের পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন এসব তথ্য জানায়। সংগঠনটি জানায়, সামাজিক লজ্জার ভয়ে পরিচয় প্রকাশ করেন না অভিযোগকারীরা। বিবাহিত অনেক পুরুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এ বিষয়ে একমত মানবাধিকার কর্মীরাও। তারা বলছেন, পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার খবর তাদের কাছে আসে।

তবে যেই নির্যাতিত হোক তার আইনি সুরক্ষার দাবি জানান মানবাধিকার কর্মীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালন করছে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশে পুরুষ দিবস পালন করে। এ বছরেও এমন আয়োজন করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ খাইরুল আলম জানান, ‘নির্যাতিত পুরুষদের’ পরামর্শ ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিতে এই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন যে ফোন আসছে তাতে আমরা দেখেছি, নীরবে চোখের জল ফেলছেন অনেক পুরুষ। লজ্জায় তারা নির্যাতনের কথা বলতে পারছেন না। কোনো নারী নির্যাতিত হলে তিনি তো বিচার চাইতে পারেন। অনেক সংগঠন তার পাশে দাঁড়ায়। নির্যাতিত পুরুষদের সহযোগিতার জন্য আমরা এ সংগঠনটি করেছি। নিজেও এমন নির্যাতনের শিকার দাবি করে আলম বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি অনেক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছি। তারা কেউই নির্যাতিত পুরুষদের পাশে দাঁড়াতে রাজি হয়নি। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা এই সংগঠন করেছি। এখন আমরা নির্যাতনের শিকার পুরুষকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করছি। তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। জাতীয় সংসদে পুরুষ নির্যাতনবিরোধী আইন করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি। এই আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রচারণাও চালাচ্ছি।

সংগঠনটির গবেষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আলম বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিন যে অভিযোগ আসে তার ভিত্তিতেই আমরা গবেষণাটি করেছি। তবে সমস্যা হলো, কেউই লিখিত অভিযোগ করতে চান না। ফলে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো দলিলাদি নেই। সংগঠনটির দাবি, বিদেশ থেকে ফোন করেও অনেকে তাদের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করছে। এদিকে পুরুষ নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতার বলেন, আমাদের সমাজে পুরুষ একইসঙ্গে কিন্তু নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে তারা নির্যাতিত হলেও হতে পারে।

তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এখানে ছোট পরিসরে পুরুষ দিবস উদযাপিত হয়েছে। পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আমরা এখনো কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান পাইনি। পুরুষরা যত বেশি পুরুষ হিসেবে নির্যাতিত হয়ে থাকেন তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রেণি, অবস্থান ও আর্থসামাজিক দুর্বল অবস্থানের কারণে নির্যাতিত হন। একই কারণে নারীও নির্যাতিত হন। আমি মনে করি সব নির্যাতনেরই আইনি সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, পুরুষ দিবসকে তাৎপর্যপূর্ণ করতে চাইলে সমাজে পুরুষকে যেভাবে তৈরি করা হয় সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ  মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মশা নিধনের লক্ষ্যে ফগার মেশিন দিয়ে ঔষধ দেয়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) মৌলভীবাজার পৌরসভার আয়োজনে জেলা প্রশাসক কাযালয় প্রাঙ্গনে মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে মশক নিধনের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
উপস্থিত ছিলেন, পৌর কাউন্সিলর মনবীর রায় মঞ্জু,আনিসুর রহমান বায়েছ,নাহিদ আহমদ,জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কয়ছর আহমদ। এসময় পৌর মেয়র বলেন দেশব্যাপি মশা বাহিত রোগের প্রাদূর্ভব নিয়ন্ত্রণে বংশ বিস্তার রোধ করার লক্ষে মশক নিধন কার্যক্রমের আজকে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। পৌর শহরের ৯ টি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও লাভা নিরোধের জন্য ঔষধ ছিটানো হবে।

নিশাত আনজুমান, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তিটির ওজন ৩৮০ কেজি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন পাল আমলের অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। রোববার বিকালে উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের দেওড়া গ্রাম থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, মূর্তিটির ওজন ৩৮০ কেজি, মূল্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি পাল বংশীয় রাজা প্রথম মহীপাল (৯৯৫-১০৪৩ খ্রি.) আমলের। বিষ্ণু মূর্তিটির গায়ে খোদাই করা শিল্পকর্ম থেকে প্রতীয়মান হয়, এটি কুষান সাম্রাজ্যের প্রাচীন মূর্তিশিল্পের আদলে তৈরি। এই প্রত্নসম্পদের প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ হওয়ায় তা নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব-৫, জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি মোহাইমেনুর রশিদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সনাতন ধর্মালম্বীরা বিষ্ণুমূর্তিটি আক্কেলপুরের দেওড়া এলাকার একটি বাড়িতে রেখে পূজা করতেন। এ ব্যাপারে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর আমাদের নিদর্শনটি উদ্ধারের জন্য লিখিতভাবে জানালে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এটি সরকারি সম্পদ। তারা আইন বহির্ভূতভাবে নিদর্শনটি রাখছেন। পরে তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়।

জেলা প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আজমিরীগঞ্জ বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ১টি দল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারের ব্যবসায়ী মখলিছ মিয়ার পেট্রোলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হবিগঞ্জ স্টেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এর আগেই মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের দোকান, কাপড়ের দোকান, মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টার ও মুদি দোকানসহ প্রায় ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। তবে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ ও পৌর প্রশাসক গোলাম ফারুকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘১২টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডে মালামাল পুড়ে অর্ধকোটি টাকার ওপর ক্ষতির সাধন হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc