Monday 30th of November 2020 01:47:50 AM

এখন থেকে কেউ জমি কিনলে রেজিস্ট্রি করার আট দিনের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) নামজারি হয়ে যাবে। এমন আইন করে জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রম সমন্বয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বর্তমানে ১৭টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এটি সারা দেশে শুরু হবে। এর ফলে হয়রানি ও মামলার সংখ্যা কমবে।

জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি বিষয়কে সহজ করে দুর্ভোগ কমাতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জমি নিয়ে ঝামেলা কমাতে জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে জমি রেজিস্ট্রেশনের আট দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। সরকারের এ উদ্যোগ যুগান্তকারী। এর ফলে মানুষের হয়রানি ও মামলার সংখ্যা কমে আসবে। দেশের মানুষ, সর্বসাধারণ, বিনিয়োগকারী সবার জন্য নতুন একটি অধ্যায় সৃষ্টি হলো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জানান, চলতি বছরের প্রথমদিকেই কীভাবে জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি এগুলোকে আরো কমফোর্ট করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মানুষের যাতে হয়রানি না হয়, সময় যেন না লাগে। এখনকার সিস্টেমটি হলো ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা সার্কেল ভূমি অফিস থেকে সম্পন্ন হতো। দুটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকার ফলে সব সময় নামজারি করা কঠিন ছিল। এ কারণে দীর্ঘসূত্রতা ছিল এবং রেজিস্ট্রেশনেও অস্পষ্টতা ছিল। যেকোনো জমি যে কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারত।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসের মধ্যে একটা ইন্টারনাল সফটওয়্যার থাকবে। বাংলাদেশের সব এসিল্যান্ড অফিসে চার কোটি ৩০ লাখ রেকর্ড অনলাইনে চলে এসেছে। এখন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও এসিল্যান্ড অফিস একজন অপরজনের সার্ভারে ঢুকতে পারবে। যখন কারো কাছে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য যাবে, তখন সাব-রেজিস্ট্রার সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্ট্রি করে দেবেন না। তিনি অনলাইনে এসিল্যান্ডের অফিস থেকে রেকর্ড অব রাইটস পরিসংখ্যান জানবেন।

‘এতদিন দুটি দলিল করতে হতো। এখন থেকে তিনটি দলিল করতে হবে। বাড়তি একটা এসিল্যান্ড অফিসও পাবে। যেহেতু এসিল্যান্ড দলিল অনলাইনে পেয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর কাছ থেকেই জমির ভেরিফিকেশন করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। সুতরাং এসিল্যান্ডের আর বাড়তি কিছুই লাগবে না। তিনি অটোমেটিক্যালি সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেই মিউটেশন (নামজারি) কমপ্লিট করবেন। এ ক্ষেত্রে কাউকে ডাকতে হবে না। এটা সর্বোচ্চ আট দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে আট দিনও সময় লাগবে না। এই আট দিনের মধ্যে অটোমেটিক্যালি নামজারি হয়ে যাবে। ১৭টি উপজেলায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’ যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেকে জমি রেজিস্ট্রেশন করেন, মিউটেশন করেন, কিন্তু রেকর্ড করেন না। এখন থেকে রেকর্ডটাও করতে হবে। এসিল্যান্ডের দায়িত্ব থাকবে মাসিক রিপোর্ট দেবেন কতটা মিউটেশন হলো এবং কতটা রেকর্ড হলো। নইলে খাজনা দিতে গেলে সমস্যা হয় এবং অন্যান্য অনেক সমস্যা হয়।

এ ছাড়া আজকের বৈঠকে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট : বাংলাদেশে অগ্রগতি প্রতিবেদন-২০২০’ সম্পর্কে অবহিতকরণ, বাংলাদেশ গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন-এর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।এনটিভি

নূরুজ্জামান ফারকী, বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত উপ পরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা আকবরের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আকবরকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে পুলিশ।

এর আগে ঘটনার ২৮ দিন পর সোমবার দুপুরে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি:মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে সচেতনতা মুলক প্রচারণা ও মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (৯নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা চত্তরে সচেতনতা মুলক প্রচারণা অনুষ্টানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম’র সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রেম সাগর হাজরা,ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত,সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ নেছার উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী,সাংবাদিক আমিরুজ্জামান,সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল,শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাব এর জয়েন সেক্রেটারি আব্দুল মজিদ,সাংবাদিক রুপক দত্তসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এসময় রি-ইউজেবল প্রায় সাতশত মাস্ক বিতরন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম পথচারী,দোকানদারসহ সকলের উদ্যেশ্যে বলেন করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক,যারা মাস্ক পড়বেননা তাদেরকে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অধিক জরিমানাসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে।

নূরুজ্জামান ফারকী বিশেষ প্রতিনিধি: কানাইঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চতুল, লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে মাইকিং করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র লাটি-সোটা নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয় এসব এলাকার লোকজন।

পরে কানাইঘাট হকারাই নামক স্থানে আসলে পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুলিশ চেষ্টা করে তাদের ফেরাতে পারেনি। উত্তেজিত লোকজন পুলিশের উপর চড়াও হলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, ফাঁকা গুলি করে তাদের সরিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার পৌরসভার দুলর্ভপুর গ্রামের বাসিন্দা কানাইঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আকবরের দোকানে উপজেলার বড়চতুল ও লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের দুই ব্যক্তি মটরসুটি কেনার সময় দর নিয়ে তাদের মারামারি হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে বড়চতুল ও লক্ষীপ্রসাদ ইউপির লোকজন কানাইঘাটের লোকজনের ডাক দেয়।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ ও উভয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু বড়চতুল ও লক্ষীপ্রসাদের গ্রামের লোকজন না মেনে বুধবার সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

আমাদের কানাইঘাট প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন উপস্থিত মুরব্বীরা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি মুটামুটি শান্ত রয়েছে, তারা বিষয়টি সমাধানে কাজ করছেন।

কানাইঘাট থানার ওসি শামসুদ্দুহা পিপিএম জানান- তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা সহকারী মিডিয়া অফিসার (ডিবি উত্তর) সাইফুল আলম জানান-পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে এবং পুলিশ সুপার মো: ফরিদ উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। পরবর্তিতে অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখক আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটে পুলিশ হেফাজতে নিহত রায়হান হত্যার মুল আসামী এস আই আকবর অবশেষে কানাইঘাট সীমান্তে জনতার হাতে আটক হয়েছেন। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যার নেপথ্যে থাকার অভিযোগে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (বরখাস্তকৃত) পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন জনতা।
সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৮ দিনের মাথায় কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে খাসিয়া জনতা আটক করে পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে বলে সিলেট পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে ১১ অক্টোবর নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ মারা যাওয়ার ঘটনায় এসএমপির এসআই আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বহিস্কার ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ ও টিটু দাস। প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

অপরদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, তিনি বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন।

নূরুজ্জামান ফারকী বিশেষ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল নামেই। কাজের বেলায় ঠনঠন। জরুরি যন্ত্রপাতিতো অকেজো রয়েছেই এমনকি স্যালাইন চালানোর স্ট্যান্ডও হাসপাতালে নেই। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং উপজেলার আওয়াল মহল গ্রামের তৈয়বা নেছা এক নবজাতককে নিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেন ওই নবজাতকের শ^াসকষ্ট ও ঠান্ডা রয়েছে। পরবর্তীতে ওই নবজাতককে স্যালাইন লিখে দেন। সাথে সাথেই নবজাতকের নানা ক্বারী আনসার মিয়া স্যালাইন নিয়ে আসেন এবং শিশু ওয়ার্ডে যান। কিন্তু স্যালাইন পুশ করলেও স্ট্যান্ড পাননি।

অনেক খোঁজাখুজি করে হাসপাতালে স্ট্যান্ড না পেয়ে চৌধুরী বাজার থেকে একটি বাঁশের স্ট্যান্ড বানিয়ে শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন এবং তার নবজাতক নাতিকে স্যালাইন দেন। এ প্রতিনিধি কে দেখে তিনি বলেন, নামেই আধুনিক হাসপাতাল, কাজের বেলায় ঠনঠন। ওষুধতো দুরের কথা স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডও পাওয়া যায়। তিনি এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি: ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভারতে আটক ৪ বাংলাদেশিকে ৬মাস পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকালে বেনাপোল চেকপোস্টে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
এই ৪ বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে গমন করেছিলেন। সেখানে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। এরপর তারা প্রায় ৬ মাস ভারতের কেরালা প্রদেশের একটি শেল্টার হোমে থেকে আজ দেশে ফিরেছে।
ফেরত আসারা হলো, নিলফারামারি জেলার মোতাহার আলীর ছেলে লিটন মিয়া (৩৪), আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে আব্দুল ওহাব (৩০), মোখলেছুর রহমানের ছেলে ইমদাদুল হক (৪৫) ও পঞ্চগড় জেলার মোখলেছ মিয়ার ছেলে সাইদুর রহমান (২৫)।
বেনাপোল ইমিগেশন পুলিশ জানায়, এরা ভারতের কেরালা প্রদেশে যেয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সে দেশের পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ তাদের আটক করে এবং একটি শেল্টার হোমে রাখে।
এছাড়া ভারতে কোন বিদেশি নাগরিক ৩ মাস থাকলে তাদের নিকটস্থ থানায় এফআর ও একটি রিপোর্ট করতে হয়। এই ৪ বাংলাদেশি থানায় এফআর ও রিপোর্ট করেনি। এরপর তাদের ভিসার মেয়াদ শেষে তারা পুলিশকে জানালে তাদের আটক করে একটি শেল্টার হোমে রাখে। এরপর দু’দেশের চিঠি চালাচাললির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনায়লয়ের অনুমোদনের পর আজ তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ চুনারুঘাটের বড়আব্দা গ্রামে হারুন মিয়া নামে নিরীহ এক ব্যাক্তিকে সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে  গুরুতর জখম করেছে। এসময় তার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্হায় আহত হারুনকে উদ্ধার করে প্রথমে চুনারুঘাট হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আশংকা জনক অবস্তায় হারুনকে সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসায় প্রেরণ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত দশটার দিকে উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের বড়আব্দা গ্রামে। স্থানীয় ও আহতের সুত্রে জানা যায়, বড়আব্দা সাহেব বাড়ী (হকশাহ মৌলা) র মোঃ হারুন মিয়া (৫৫) নামে লোকটি শুক্রবার রাত দশটার দিকে নালমূখ বাজার হতে বাড়ীতে যাওয়ার পথে চিমপার নামক স্থানে যাওয়া মাত্রই এক সাথে ৪/৫ জনের একটি অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র রামাদা দিয়ে হারুনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।

এসময় তার  সুরচিতকারে এলাকার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আহতের স্বজনরা।

“১৩ বছরের ধর্ষিতা মেয়ের অভিযোগ ৫-৬ বছর ধরে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে আব্দুর রহমান।মা খালা নানী ও ধর্ষিতের স্ত্রীর জ্ঞাথার্থে ঘটনা ঘটার অভিযোগ ধর্ষিতার,হুমকির জোড়ে থানায় কোন অভিযোগ দিতে পারেনি বলে দাবী তার” 

আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ ধর্ষণের ঘটনা আটকানোর জন্য বিভিন্ন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে থেকে। দেশজুড়ে নারীদের উপর এই ধরনের অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার পক্ষে ও কড়া হুঁশিয়ারি করেছেন তিনি। কিন্তু, তারপরও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে এই ধরনের জঘন্য, নির্লজ্জ ঘটনা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে নিজের সন্তানকেও পর্যন্ত ছাড়ছে না মা খালা ও নানী । সম্প্রতি এমনই একটি ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নং একাটুনা ইউনিয়নের খোজারগাও গ্রামের মৃত ইসরাইল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান (৬০) এর বাড়িতে।
কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ফেইক আইডি বানিয়ে একটি পোষ্ট করা হয়েছিলো ১৩ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষন করেছে আব্দুর রহমান। সেই ফেইক আইডির সূত্র ধরে ধর্ষিতা মেয়ে (ছায়া ছদ্মনাম) সাথে যোগাযোগ করতে মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার দক্ষিন ভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় নির্যাতিত মেয়ের সাথে।
ধষিতা মেয়ে ছায়া (ছদ্মনাম) বলেন প্রায় ৫/৬ বছর যাবত আমার সাথে খারাপ কাজ করত আব্দুর রহমান,তখন আমি বুজতে পারতাম না যখন আমি বুজলাম তখন আমার মা শিপি বেগম,আমার খালা পারভিন বেগম,আমার নানী মোনয়ারা বেগম তাদেরকে আমি বিষয়টি জানালে তারা আমাকে বলে এসব কিছু না, তুই কাউকে কিছু বলিছ না আমরা দেখছি।
কিছু দিন পরে আমি জানতে পারলাম আমার মা, খালা ও নানী আব্দুর রহমানের কাছে আমাকে দিয়ে টাকা নিচ্ছে সেই জন্য উনারা প্রতিবাদ করছেনা । আমার এই বিষয়টি আব্দুর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম, ছেলে মাওলানা ওলিউর রহমান ওয়ালি ও আব্দুর রহমানের মেয়ে জানতো।
প্রায় দু’মাস আগে আমার শুবার ঘরে রাতে আব্দুর রহমান আসে, এসে আমার উপরে উঠে আমার সাথে খারাপ কাজ করে,তখনো আমি আমার মা,খালা ও নানীকে জানাই তখনো তারা কোন প্রতিবাদ করেনি।
এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ দিনের ভিতরে আমার ভুমি হয়,তখন আমার মা,খালা ,নানী আব্দুর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগম আমাকে কিছু ওষুধ দেন খেতে, ওষুধ খাবার পর আমি আর কিছু বলতে পারিনা ,আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি, জ্ঞান আসার পর আমি দেখি আমার পড়নের কাপড় ভিজা । এসময় নাজমা বেগম ও আব্দুর রহমানের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন লোক বলেন এই এময় আব্দুর রহমানের ছেলে ওলিউর রহমান ওয়ালি ও মেম্বার তোফায়েল জিলু মিয়া এবং সাজ্জাত মিয়া আসে এক পর্যায়ে ওলিউর রহমান ওয়ালি তার বাবা আব্দুর রহমানের উপর খুব ক্ষিপ্ত হয়। সেই সময় মেম্বার তোফায়েলের কথায় ধর্ষিতা (ছায়া ছদ্মনাম) কে তার বাবার বাড়ি রাজনগর দক্ষিন বাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে যাবার কথা বলে, ধর্ষিতার মা,খালা ও নানী রাজি না হলে মেম্বার তোফায়েল,জিলু মিয়া ও সাজ্জাত মিয়াসহ আব্দুর রহমানের পরিবার তাদের ভয়ভীতি দেখায়,সেই ভয়ে ধর্ষিতার মা শিপি বেগম রাজনগর দক্ষিন বাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে মেয়ের চাচার বাড়িতে রাত ৮ টার দিকে দিয়ে আসে। এসময় ধর্ষিতা মেয়েকে ও তাদের পরিবারকে বলে থানায় গিয়ে মামলা করলে অবস্থা খারাপ করে দিবে।

ধর্ষিতা মেয়ের চাচি বলেন মেয়ের মা শিপি বেগম হঠাৎ রাত ৮ টার দিকে মেয়েকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে আমি মেয়ের মাকে জিজ্ঞেস করি মেয়ের কি হয়েছে ?মেয়ের মা বলে মেয়ে একটু ভুমি করেছে ওষুধ দিয়েছি ঠিক হয়ে যাবে,আর কিছুদিন পর নিয়ে যাব। সকালে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে মেয়ে বলে আমি যে বাড়িতে কাজ করতাম সেই বাড়ির মালিক আব্দুর রহমান আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে । আমি আমার মা,খালা ও নানীকে জানালে তারা বলে এই সব কিছু না । আমি এই বিষয়টা জানার পর আমার স্বামী  সৌদি প্রবাসী উনাকে জানালে উনি ৬নং একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার তোফায়েলের সাথে কথা বলেন ,তোফায়েল মেম্বার এলাকার জিলু মিয়া ও সাজ্জাত মিয়াকে সাথে নিয়ে বিষয়টি দেখে দেবার আশ্বাস দেয়,কিছু দিন যাবার পর তোফায়েল মেম্বার বলেন এই মেয়েকে কোন ধর্ষণ করা হয়নাই এটা কিসের বিচার ! এখন লোক মুখে শুনতে পারছি তোফায়েল মেম্বার জিলু মিয়া ও সাজ্জাত মিয়া মিলে মোটা অংকের টাকা খেয়ে ধর্ষনের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এবিষয়ে ৬নং একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার তোফায়েল এর সাথে সরেজমিনে এ প্রতিনিধি কথা বললে তিনি বলেন, “মেয়েটা ছোট বেলা থেকে আব্দুর রহমানের বাড়িতে থাকতো ফেইজবুকের ফেইক আইডির মাধ্যমে আমরা জানতে পাড়ি। এলাকার মেম্বার হিসেবে মেয়ের চাচা সৌদি প্রবাসী আমার কাছে ফোনে বলেছেন কোন বিচারের প্রয়োজন নেই মেয়েকে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে দিলে শেষ হয়ে যাবে সব কিছু।” ঘটনাটি টাকা খেয়ে দামাচাপা দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন “আমার উপর যে অভিযোগ এসেছে সেটা মিথ্যা।”
আব্দুর রহমানের সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন “যাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন তাদের কাছ থেকে জানেন।”
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর সার্কেল জিয়াউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন “এবিষযে থানায় কোন অভিযোগ আসেনি আসলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব।”

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc