Monday 30th of November 2020 12:58:50 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন শীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ প্রতিরোধে সকলের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট ও মাস্ক বিতরণ।

বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মৌলভীবাজার মীর নাহিদ আহসান’র নির্দেশনা ও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মৌলভীবাজার তানিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কোর্ট রোড এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ প্রতিরোধে সকলের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মাস্ক বিতরণ করা হয়।

এসময় পথচারী, দোকানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাস্ক পরিধান না করার অপরাধে পাঁচটি মামলায় মোট ২,৫০০/- টাকা অর্থদন্ড প্রদান ও আদায় করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুল ইসলাম ও মোঃ রফিকুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম তোফা:  জীবন কর্ম ব্যস্ততায় হাজারও মানুষ যেন হারিয়ে ফেলছে অতীতের বিশেষ কিছু স্মৃতি আর যেন নেতিবাচক রাজনীতির ভীড়েই হারিয়ে যাচ্ছে আমার, আপনার আমিত্ব। ক্ষীণ হয়ে আসছে আমাদের সম্প্রদায়। হাটে-ঘাটে-মাঠে যেখানে যাই, সেখানেই দেখি সবাই এক একটা রাজনীতিবিদ। স্নায়ুযুদ্ধের রনক্ষেত্রেই আছে পুরো সমাজ সংস্কৃতি বা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম। মন’কে প্রশ্ন করি হাজারো বার। মন আমার কোথায়! প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েই কিনা উত্তর দেয়, ‘শৈশবে’। যেকোনো পেশায় আমার অবস্থান আসুক না কেনো, শৈশবের এক একটা স্মরণীয় স্মৃতিময় মুহূর্ত ভুলবার নয়। হঠাৎ আজ খুঁজেই পেলাম স্মৃতির মলাট উল্টিয়ে প্রদ্ধেয় স্যার ছবের আলী সাহেবের মৌলিক কিছু গল্প।

পাঁজর ভাঙ্গা গ্রামেই সরকারি প্রাথমিক স্কুলের একজন ধার্মিক শিক্ষিক ছবের স্যারের কথা আজ স্মরণ হলো। আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। স্যারকে দাঁড়িয়ে সকল ছাত্র- ছাত্রীর যে ছালাম দেয়ার রেওয়াজ উনিই শিখিয়ে ছিল। সকল ক্লাসেই স্যারও অনেক জোরে ওয়ালেইকুম ছালাম বলতো, তাঁর আরো এক অভ্যাস ছিল, তা হলো ছালাম গ্রহন করবার পরেই রোজ তিনি “আই লাভ ইউ অল”সহ সিট ডাউন শব্দ উচ্চারণ করে নিজের চেয়ারে বসেই সবার দিকে দৃষ্টি ভালো ভাবে দিতেন। ‘আই লাভ ইউ অল’ তিনি যে বলতেন, তার গুরুত্ব তখন একবারও ভাবে দেখেনি। তিনি জানতেন, তিনি সত্য বলছেন এবং সবাইকে ভালোবাসার কথাটা বলছেন। উনার ধারনাতে ছিল, নিজের ক্লাসের সবাইকে এই রকমভাবে ভালবাসা দিয়ে আপন করা যায়।

আমি তখন একজন বাচ্চা ক্লাসে আমাকে তিনি মোটেও সহ্য করতে পারতোনা। আমার ছিল খুব পুরোনো ময়লা জামা-কাপড়, তা পরে স্কুলে যেতাম। নিজের মাথার চুল গুলি থাকত অনেক উষ্কো-খুষ্কো, আবার খোলাও থাকে নিজ জুতার বকলেস,শার্টের কলারটাতে অসংখ্য ময়লা দাগ, ক্লাসে পড়া বোঝানোর সময়ও আমি থাকি অনেক উদাসিন বা অন্য মনস্ক। শিক্ষিকের বকুনি খেয়ে, চমকে গিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়েই থাকতাম। কিন্তু- আমার শূন্য দৃষ্টি দেখে স্পষ্ট বোঝা যেতো, আসলেই শারীরিক ভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও ‘আমার মন’ যেন অন্য জগতে উধাও হয়ে গেছে। সেই “ছবের স্যার” আমার প্রতি ধীরে ধীরেই যেন মনের ঘৃণা বাড়াতে থাকলো।

আমি ক্লাসে ঢুকতেই, স্যারের খুব সমালোচনার শিকার হতে হতো। নানা খারাপ কাজের উদাহরণই যেন আমার নামে হতেই থাকে। বন্ধুরা আমাকে দেখে আর খিলখিল করে হাসে, স্যারও আমাকে অপমান করে আনন্দ পান। আমি যদিও এসব কথার কোনও উত্তর দিতামনা। স্যার আমাকে নিষ্প্রাণ পাথর বলে যেন মনে করতো, আবার বলেও বসতো যার মধ্যে অনুভূতি নামে কোন জিনিসটা নেই সে এই তোফা। তাঁর সমস্ত ধমক, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আর শাস্তির জবাব না দিয়েই শুধু মাত্র নিজের ভাবনায় শূন্য দৃষ্টিতেই থাকতাম। আমার মাথাটা যেন অনেক নীচু হয়ে যেতো। এভাবে আমি স্যারের অত্যন্ত বিরাগ ভাজন হয়ে উঠলাম।

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার শেষ হয়েছে, ফলাফল বেরোনোর সময়ে স্যার রেজাল্ট কার্ডে আমার সম্পর্কে সব খারাপ কথা লিখে l মা -বাবাকে দেখানোর আগে রিপোর্ট কার্ড হেড স্যার ‘আজিজার রহমানেরকে’ দেখিয়ে ছিল। তিনি আমার ফলাফল দেখে এবং ছবের স্যারকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে বলেছিল, নজরুল ইসলাম তোফার রিপোর্ট কার্ডে কিছু অনুপ্রেরণার কথা লেখা উচিৎ ! আপনি তো এমন কথা লিখে আমাকে দেখাচ্ছেন,- তা যদি তোফা’র বাবা-মা দেখে একদম নিরাশ হয়ে যাবেন।” শ্রদ্ধা ভাজন সেই স্যার বলে ছিলেন, “আমি মাফ চাই, তোফা একদম খারাপ আর নিষ্কর্মা ছেলে। আমার মনে হয় না যে আমি ওর সম্পর্কে ভাল কিছু লিখতে পারবো!”  স্যার ঘৃণাতেই এমন কথা বলে চলে গেলেন ক্লাসে।

প্রধান শিক্ষক ঠিক তখনই এক অদ্ভুত ব্যাপার করলেন, উনার সংগ্রহে থাকা আমার আঁকা একটি বড় নৈস্বর্গিক মনোরম পরিবেশের দৃশ্যটাকে, ছবের স্যারের টেবিলের ওপর রেখেই রিপোর্ট কার্ড তার উপরে রেখে দিয়েছিল। বলে রাখি, আমি অনেক ছোট থেকে চিত্রাঙ্কন করতাম। যাক, পরেরদিন যখন ছবের স্যার স্কুলে এসে অফিসের টেবিলে বসতেই রিপোর্টটা’র ওপরে নজর পড়তে, উল্টে দেখে সেটা আমারই রিপোর্ট কার্ড। আবার রিপোর্ট কার্ড রাখতেই স্যারের দৃষ্টিটা পড়ে আমার আঁকা সেই দৃশ্যে’র প্রতি। একাগ্র চিত্তে ভাবছিল, তোফা তা হলে এসব করে সময় কাটায়, এর তো কখনোই লেখাপড়া হবে না। তিনি রিপোর্টের মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি দেয় আবার আঁকা ছবিটা দেখে, ঠিক এমন করতে করতেই চেয়ে দেখে অফিসের দরজার সামনে প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান স্যার।

প্রধান শিক্ষকে উদ্দ্যেশ্য করে ছবের স্যার বলে ছিল এই গুলো করেই তোফা অধঃপতনে যাচ্ছে, প্রত্যেক বছরেই সে নিশ্চয়ই এরকম অপ্রয়োজনীয় কাজ করে রেজাল্ট খারাপ করে। এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই হেড স্যারও কথা বলা আরম্ভ করেছিলেন, রিপোর্টের মন্তব্য আপনি অনেক ভালো লিখে দিন। তোফার মতো বুদ্ধিমান ছেলে আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি। এ অতি সংবেদনশীল ছেলে এবং নিজের সহপাঠী আর শিক্ষকের প্রতি সম্মান এবং সহযোগিতা করে অন্য ভাবেই, তা আপনার বুঝার চেষ্টা করতে হবে। সে কথা শুনে ছবের স্যার রিপোর্টের মন্তব্য ইচ্ছা না থাকলেও ভালো লিখেছিল। আমার মনে আছে হেড স্যার আমার প্রতিভার মূল্যায়ন করতো এবং কাছে ডেকে নিয়ে আদর করেই বলতো, তুমি একদিন খুব বড় হবে, তুমি ছবি অ়ঙ্কনের জায়গায় বুদ্ধিমান ছেলে। সবাই তো ছবি আঁকার কাজে পারদর্শী হয় না, তুমি তো এমন অসাধ্যকেই সাধন করতে পার। তোমার প্রতি প্রানখুলেই দোয়া রইলো বাবা। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা তোমার জন্যে খুবই মঙ্গলজনক হবে, তাহলো ছবের স্যার একটু ধর্মপরায়ন ব্যক্তি তোমাকে কিন্তু ভালোবাসে। লেখাপড়া ভালো করে করবে বাবা দেখবে আমার চেয়েও ঐ স্যার তোমাকে ভালবাসবে এবং ভালবাসা বুঝতে দিবে।

প্রধান স্যারের এই ‘উপদেশ’ কেন জানি ভালো লাগলো।বাড়ির পাশে আত্রাই নদীর পাড়ে বসে একাকীত্বেই চিন্তা করছি আমাকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতেই হবে। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিন্তু বাকি মাত্র ৬ মাসে কি আমার পক্ষে কখনো ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব। এমন অন্তিম সময় যদিও, তবুও আমি দ্বিতীয় স্থান আধিকার করি। আমার টার্গেটটা ছিল প্রথম স্থান আধিকার করা।এবার ছবের স্যার রিপোর্টের মন্তব্য সকল স্যারের চেয়ে অনেকাংশেই ভালো করে। আমার এইধরণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসার রিপোর্ট কার্ড পড়ে পরিবারের সবাই অনেকটা খুশি। কিন্তু আমি “প্রথম স্থান” আধিকার করতে পারিনি বলেই একটু চিন্তায় আছি। আমার টার্গেট মিস হয়েছে। কিন্তু ক্লাসের বন্ধুদের আশ্চর্যের সীমাটা দেখে আবারও নতুন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করছিল। সেটা অবশ্য আমি পজেটিভ চিন্তা করেছি।

স্মৃতির এমন অধ্যায় যেন আমার কাছে সবচেয়ে সুখের ছিল, ‘অস্থির বা উদাসীন’ ভাবটা প্রায় কেটে গেল। স্যার ইতিমধ্যেই আমাকে সবচেয়ে ভালোবাসা দেওয়া আরম্ভ করেন, আমি পড়ালেখায় গভীর মনোযোগী হলাম। ৪ র্থ শ্রেণী থেকে ৫ ম শ্রেণী পাস করলাম ১ ম স্থান আধিকার করে। ছবের স্যার সে মুহূর্তে আমার ফলাফলের রিপোর্ট লেখার আগেই উনার কাছে ডেকেছিল, মনে পড়ে আমি বিকেল বেলা স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছি। স্যার প্রতি দিন স্কুল ছুটির পরেও কেন জানি স্কুলে থাকেন, জানা নেই। আমার সেই স্কুল বাড়ির পার্শ্বে। তাই, আমরা বাড়ি গিয়ে খাওয়াদাওয়া সম্পূর্ণ করে ফুটবল নিয়ে স্কুল মাঠে এসে স্যারকে অফিসের রোমেই দেখতে পাই। স্যার আছরের নামাজ উদ্দ্যেশে ওজুর বদনা হাতে নিয়ে সেই অফিসের বারান্দায় এসে আমাকে ডাকলেন। আমি খুব আতঙ্কিত হয়েই সরকারের কাছে গেলাম। সে স্যার আমার জড়তা অনুভব করেই বললেন ভয় পাচ্ছ কেন, আমি তোমাকে আগে চিনতে পারিনি। তোমার হেড স্যার আমার দুচোখ খুলে দিয়েছে। আমি তো তোমার এবারের রেজাল্টে খুব খুশি বাবা। ফলাফল ঘোষণার আগে কাউকেই জানানো হয় না তবুও তোমাকে জানাচ্ছি কাউকে বলবে না। তুমি প্রথম হয়েছ। যাও এবার খেলাধুলা করো, কিন্তু স্যারের কথায় খেলা আর ভালো লাগে না, খেলছি আর ভাবছি স্যার কি শুনাল। স্যার আমার খেলা দেখছে কিন্তু আমি তো খেলতে পারছিনা। আমার মনের এমন আনন্দ যেন মাঠের খেলোয়াড়রা টের পাচ্ছিল এবং তারা বলে ছিল তুই স্যারের কাছে গিয়ে আর খেলতে পারছিস না কেন! আমি তো অনুভূতিতেই আছি, স্যারের নির্দেশ এ কথাটি আমি কাউকে না বলি। না আর পারছি না উত্তেজনা বা

আনন্দটা লুকিয়ে রাখতে, তাই খেলার মাঠ থেকে হঠাৎ পালিয়েই আত্রাই নদীর পাড়ে কাশবনের আড়ালে চলে গেলাম। আশ্চর্য হবার কিছু নেই, আমি খুব ছোট থেকে কবিতা লিখতাম এবং আবৃত্তিও করতাম। এগুলো কেন যে ভালো লাগতো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। সেসব নিয়ে অনেক কথা, এ স্মৃতি চারণে তা আলোচনা করছিনা। তবে বলতেই হবে আগে কখনো স্বরচিত গান রচনা করিনি, কিন্তু আমার গানের শব্দ যেন অনায়াসেই চলে আসছে।

সুতরাং সে গানটা রচনা করছি আর উচ্চ স্বরে গাওয়ার চেষ্টা করছি যেন অন্য কোনো চিন্তা আমার মাথাতেই না আসে। সেখানের ঐ গানটা ঠিক এমন ‘আমার মন বলে গো হবোই হবো,…কি হবো তা জানি না।….জানলে পরে সোনার জীবন বৃথা যাইতো না গো।…কুলে মোর ভিড়বে তরী,….সদাই আমি ভেবে মরি,….ভাবনা আমার ভাবেই থাকে,..কাজের রূপ তো লয় না।…..লইলে পরে সোনার জীবন বৃথা যাই তো না গো।….ঘৃণার রথে শূন্য পথিক,.. জয় করে পায় সোনার হরিণ,..কি যতনে রাখবে তারে,.. ভেবে কুল পায় না,…চাইলে পরে সোনার জীবন,….বৃথা কর্মে হয় না..আমার মন বলে গো হবোই হবো,..কি হবো তা জানি না।..জানলে পরে সোনার জীবন,.বৃথা যাইতো না গো।

কয়েক দিন পর স্কুলে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার দিন তার আগেই সকল ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবকদের নিকট চিঠি দিয়ে স্কুল মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্যে জানালেন। সকল ছাত্র/ছাত্রীদেরকে স্কুল মাঠে লাইন করে বসিয়েই রেজাল্ট ঘোষণার পালা শুরু। শিক্ষক ও অভিভাবকরা সব ছাত্র/ছাত্রীদের উপদেশ বক্তব্য দিলেন। প্রতিবারের ন্যায় সেবারও সেই স্কুল মাঠে বার্ষিক পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হবে। আমি মনে মনেই ভাবছি, আমার বন্ধু বকুল প্রত্যেকবার প্রথম স্হান অধিকার করে কিন্তু  এবার আমি প্রথম হয়েছি, এ খবরটা আমিই শুধু জানি।  বেশ আনন্দে আছি আমি। সারা বছর এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতো সকল অভিভাবকরা। শুরু হলো- একে বারে ১ম শ্রেণী হতে রেজাল্ট ঘোষণা। শুধুমাত্র যেসকল ছাত্র/ছাত্রীরা ১ম, ২য় বা ৩য় স্হান অধিকার করে ছিল তারাই শুধুমাত্রই স্কুল মাঠে আছে। অভিভাবকরা এবার আমাদেরকে গভীর মনোযোগ সহকারে দেখছে আমিও দেখছি ‘অল্প সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী স্কুল মাঠে’ আছে, সেটা লক্ষ্য করছি এবং মনে ফুর্তিতেই আছি। যাক, আবারও ১ম শ্রেণী থেকে ১ম, ২য় বা ৩য় স্হান অর্জনকারীর নাম ও পুরস্কার বিতরণের আরম্ভ হলো। সর্বশেষেই ৪র্থ শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হবে এমন তিন জন স্কুল মাঠে আছে। সেখানে সেদিনটার পরিবেশ যেন সম্পূর্ণ স্তব্ধ বা একেবারে কোলাহল মুক্ত। বকুল, সেলিনা সহ আমি এই মাঠে আমাদের উদ্দেশ্যে হেড স্যার বক্তব্য রেখেছিলেন, তার দু’একটা কথা না বললেই নয়। জয়পরাজয় থাকবে কিন্তু তোমরা তিন জনেই পরিশ্রম করে মেধা তালিকাতে এসেছ। রেজাল্টে প্রথম যে হয়েছে তার নামটাই ঘোষণা হবে পরে। তোমরা তিন জনেই প্রতিযোগিতায় কেউ কম নও। পরীক্ষামূলক বার্ষিক পরীক্ষাতে শুধুমাত্র ৫ মার্কের ব্যবধানে একজন প্রথম স্হান অধিকার করেছ। যে ‘২য়

স্হান অধিকার’ করেছ, তুমিও অনেক ভালো ছাত্র। মন খারাপ করবে না। বলেই তিনি ৩য় স্থান অধিকার করেছ  মোসাঃ সেলিনা পারভীন নাম উচ্চারণ করেছিল। আমি ও বকুল মাঠে, বকুল জানেই আমি তো প্রত্যেকবার ১ম হই, আর আমিও ছবের স্যারের কথায় বুঝতে পারছি এ পরীক্ষায় বকুল ২য় হবে এবং আমি ১ম হবো। ঠিক যেন তাই ঘরে গেলো। আমি প্রথম স্হান অধিকার করে হেড স্যার সহ সকল স্যার এবং অভিভাবকদের ছালাম দিয়ে দোয়া নিলাম। সেইদিনটা হৈ-হুল্লোড়, আনন্দ-কোলাহল, আমোদ-কৌতুকে কেটে গেল। বিজয়ী পুরস্কার ও প্রথম হওয়ার মজাটা আজঅবধি যেন হৃদয়ে গেথে আছে।

তারপর থেকেই সবার সাথে ভালো আচরণ বা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া এবং লেখা পড়ায় মনোযোগী হওয়া জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় থাকতাম। তখন থেকে ছবের স্যার আমার সাথে ভালো ব্যবহার বা প্রসংসা করে। খুব উল্লেখযোগ্য আর একটা বিষয় মনে রাখার মতো গুরুত্ব পূর্ণ তা হলো, প্রত্যেক বছর ছাত্র-ছাত্রীদের হাতের কাজ জমা দিতে হতো। সুতরাং আমি বরাবরই একটু আলাদা  ও নতুনত্ব ভাবনায় মসগুল থাকি। তাই সেবার সচরাচর তা করে থাকি তা সকল শিক্ষকদেরকে করলাম, একটি করে লাক্স সাবান দিয়েলাম। কিন্তু ছবের স্যারের জন্যই শুধু বিকল্প চিন্তা মাথাতে ভর করে ছিল। আমার বাবার সংগ্রহে রাখা ‘নামাজ পড়া টুপি’, আর আমার নানী মারা যাওয়ার পরেই রেখে গিয়েছিল একটি তসবি ও ব্যবহৃত  জান্নাতুল ফেরদাউস আতর, তা নিজের হাতেই প্যাকেট করে ‘প্রদ্ধেয় ছবের’ স্যারকে দিয়ে ছিলাম। অবশ্যই সেই সুগন্ধি আতরটা আমার নানী ব্যবহার করে কমিয়ে হাঁফ শিশি করেছিল।

ধর্মপরায়ন সেই শিক্ষক আমার ক্রিয়েটিভ প্রতিভা দেখে অবাক হয়েছিল। প্রতিদিন স্কুলে আসেন আমার দেওয়া আতর, টুপি এবং সুগন্ধি আতরগুলি লাগিয়ে। জান্নাতুন ফেরদৌস আতরের ঘ্রাণ ক্লাসে শুধু আমিই বুঝতে পারি অন্যরা কেউ জানতোনা। ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এই ঠাণ্ডার যুদ্ধ করতে করতে ‘পঞ্চম শ্রেণী’ থেকে পাস করে স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিতে হয়। চলে যাই, চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে। তবুও সেই স্যারের সাথে প্রতিদিন দেখা হতো এস,এস,সি পাস করা পর্যন্ত। কারণ, আগেই বলে ছিলাম আমার বাড়ির পাশে পাঁজর ভাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল। ‘চকউলী হাই স্কুলের’ ছুটির পরেও বাড়ি এসে খাওয়াদাওয়া শেষ করেই ফুটবল মাঠে গিয়ে সে স্যারকে অফিসে দেখি। তখনো আমাকে ঠেকে নিয়ে মজার মজার গল্প করেছিল। আমার সেই শৈশবের দিন আর স্কুলের গল্প করতে গেলেই শিক্ষকদের কথা আগে চলে আসে। বন্ধু ছাড়া অনেক “গল্প কিংবা কাহিনী” দাঁড় করানো যায় কিন্তু স্কুল শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়। শৈশব আমি চিন্তা করতেই পারি না এ শিক্ষকগুলোকে আমার অস্তিত্ব মনে হতো। কে বেশি কাছের, তা আলাদা করাটা কঠিন।

অনেক কথার মাঝে মৌলিক কথা গুলো বলে শেষ হবে না। স্কুল, বন্ধু, শৈশব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে আবারও ফিরে পেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাতো যে আর সম্ভব নয়। সময়ের স্রোত অতীত ফিরিয়ে দেয় না। তাই স্মৃতি হাতড়ে বেঁচে থাকতেই হয় জীবনভর। সুতরাং এ কথাটা বলবো, শিক্ষায় শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় ভাগ্য পরিবর্তন হয়। আমার ভাগ্য পরিবর্তনের “প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান” বেঁচে থাকলেও “প্রদ্ধাভাজন ছবের স্যার পৃথিবীতে আর নেই। এই বয়সে এসেও যেন প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজার রহমান স্যারের হৃদয় নিংড়ানো গভীর ভালোবাসা পাই। সত্য কথাটি এখানেই বলে রাখি  হঠাৎ একদিন স্যার আমার মোবাইল নম্বার সংগ্রহ করে কল দিয়েছিল। আমি কেমন আছি তা জানার পর তিনি   ছোট্ট একটা আবদার করলেন। বাবা তুমি এখন অনেক বড় হয়েছে কিন্তু আমি খুব অসুস্থ এবং অসহায় টাকার অভাবে সংসার চালাতে পারছিনা। আমার ছেলে মামুন বিদেশ গিয়েছিল আমার জমানো টাকা দিয়েই, কিন্তু সে দেশে ফিরে মানুষের হাতে নির্মমভাবেই খুন হয়। আমার উপার্জনের আর কেউ নেই। ‘যদি তুমি’…..বলতেই আমি  কথাটা বুঝতে পারলাম এবং সেই স্যারের বিকাশ নাম্বর চেয়ে নিয়ে যতসামান্য টাকা উপহার দিয়ে ছিলাম। কিন্তু শ্রদ্ধেয় ছবের স্যারকে কোনো কিছুই দিতে পারিনি, তবে  দোয়া এবং ভালোবাসা পেয়েছি।

আমি যখন “রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করি ঠিক তখনও ছবের স্যার জীবিত ছিলেন। একদিন পাঁজর ভাঙ্গা হাটে স্যারের সঙ্গে দেখা। যেন আশ্চর্যের মুহূর্ত ছিল সেদিন! আমারই দেওয়া সেই টুপি, হাতে ছিল তসবি ও তিনার শরীর দিয়েই জান্নাতুল ফেরদাউসের আতরের সুগন্ধী। হাত উঁচিয়ে মিষ্টি হেঁসেই বলেছিলেন এই যে দেখছো তোমার দেওয়া তসবি, এটা আমি যেখানে সেখানেই ‘জপি’। আর মাথায় টুপি পরার সময় বারবার তোমার কথা মনে পড়ে। আমিও বললাম, এটাই আমার ”অনেক সৌভাগ্য স্যার”!! কিন্তু, স্যার সেই অর্ধশিশি সুগন্ধী আতরের কথা তো বললেন না। তখনই স্যার বলেছিল- সুগন্ধি আতর, সেটা তো তোমার স্কুলেই কয় দিনে শেষ হয়েছে। আমি বললাম,- এখনও যে সেই ‘আতরটার গন্ধ’ পাচ্ছি স্যার! স্যার বলেছিলেন, তুমি যা দিয়েছিলে তাতো জান্নাতুল ফেরদাউসের একটি সুগন্ধী যুক্ত আতর। সেটা আমার ‘প্রিয় আতর হওয়ায়’ আজও শরীরে লাগায়। অবশ্য বাজার থেকে কিনতে হয়। আমি তখনই বললাম আজকে আপনাকে সে আতবটার ‘এক শিশি কিনে দিই স্যার’। স্যার বলে ছিল,- না থাক বাবা!! তুমি যে অনেক বড় হতে পারছ, সেটাই আমার ‘শ্রেষ্ঠতম সুগন্ধী আতর’। সুতরাং- এতেই প্রমাণ হয়েছে যে তাঁদের অবদানের কথা ভুল বার নয়। তাঁদের স্নেহ-ভালোবাসায় আমার স্কুলজীবন যেন সুশিক্ষায় আলোকিত হয়েছিল। এমন বিদ্যাপীঠের শিক্ষক, আমি আর কোথাও পাই নি।  ধন্য আমি, তাঁদের মতো গুরুজনদের নিয়েই কিছু স্মৃতি চারণ করতে পেরেছি। আজ নিজেকে খুব আনন্দিত ও গৌরবান্বিত মনে হচ্ছে।লেখকঃ নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

আমার সিলেট ডেস্কঃ  প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও তার স্ত্রী নাসরিন আহমদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর একান্ত সচিব আহমদ কবীর বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় ও স্যারের স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। স্যার আজকে রিপোর্ট পেয়েছেন, পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ম্যাডামের আরও চারদিন আগে ধরা পড়েছে।” একান্ত সচিব নিজেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে জানান। “আমি ভেবেছিলাম এটা ভাইরাস জ্বর। ওই রকম সিম্পটম নেই। বাসায় আইসোলেশনে রয়েছি। মন্ত্রী মহোদয় বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। স্যারের তেমন সিম্পটম নেই। মোটামুটি শারীরিক অবস্থাও ভালো।”

ইমরান আহমদ সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইন ঘাট, কোম্পানিগঞ্জ) আসন থেকে ছয় বারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন । ১৯৪৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের আম্বালায় তার জন্ম। ইমরান আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক নাসরিন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে দৈনিক সংক্রমণের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার অর্থাৎ নির্বাচনের পরের দিন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ২ হাজারের বেশি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার অন্তত ১ লাখ ২ হাজার ৫৯১ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

অবশ্য করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য সরবরাহকারী ‘ওয়ার্ল্ডোমিটার’ বলছে, দেশটিতে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৯ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একইসময়ে করোনায় দেশটিতে মারা গেছেন ১ হাজার ২০১ জন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৩৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এই রেকর্ডটি হয়েছিল গত ৩০ অক্টোবর। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন দেশটিতে ৯৪ হাজার ৪৬৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এদিন মারা যান ১ হাজার ১৮৭ জন।

গতকাল নয়টি অঙ্গরাজ্য এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলো হলো কলোরাডো, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, রোড আইসল্যান্ড, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত ৯৮ লাখ ২ হাজার ৩৭৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ জন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ভারত।পার্সটুডে

নূরুজ্জামান ফারকী বিশেষ প্রতিনিধি:  সিলেটের আলমপুরে প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে ফেসবুক লাইভে এসে আলহাজ উদ্দিন (২০) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে আলমপুর মুক্তিযোদ্ধা গেট এলাকার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

আলহাজ উদ্দিন সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের দরগাবাহারপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি গতবছর সিলেট সরকারি কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস করেন।

আত্মহত্যা করার আগে প্রেমিকার সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আলহাজ উদ্দিন। এতে তিনি লেখেন, ‘কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। তারা অনেক স্বার্থপর হয় প্রিয় মানুষটার বিষয়ে। সবকিছু দিয়ে তাকে পেতে চায়। আর আমি কোনোভাবে পাইনি। চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে। ভালোবেসো না ঠকে যাবে!’

ফেসবুকে এ কথাগুলো লেখার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। লাইভে এমন করুণ দৃশ্য দেখে আত্মহত্যা না করতে তার ফেসবুক বন্ধুদের হৃদয়গ্রাহী কমেন্ট করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আলহাজ উদ্দিন যে ফেসবুক আইডিতে এসে লাইভে আত্মহত্যা করেছেন, কিছুক্ষণ পর ওই আইডিটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

আলহাজ উদ্দিনের চাচা আফজাল হোসেন বলেন, রাতে বাসায় আলহাজের মা ও বোন ছিলেন। সে তার মাকে চা বানানোর কথা বলে রুমে চলে যায়। রুমের ভেতর সাউন্ডবক্স দিয়ে গান বাজিয়ে আত্মহত্যা করায় কেউ কিছু বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, ছেলেটি খুবই অমায়িক ছিল। কারও সাথে কোনোদিন ঝগড়াঝাটি করতে দেখিনি। সিলেটে পড়াশোনা করার সময় একটি মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক হয়। ওই মেয়ের সাথে অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে সে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রেমজনিত কারণে আলহাজ উদ্দিন নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করেছে।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টর কামান্ডার, চুনারুঘাটের কৃতিসন্তান মেজর জেনারেল (অবঃ) চিত্তরঞ্জন দত্তের প্রয়াণে “চুনারুঘাট সম্মিলিত সামাজিক সাংস্কৃতিক জোট” এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলা পরিষদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক মোস্তফা শহীদ অডিটোরিয়ামে এক নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মিলিত সামাজিক সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ পালের সভাপতিত্বে ও এড. মোস্তাক বাহারের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন – জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন – জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমীন উসমান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান মহালদার, চুনারুঘাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক কমান্ডার আঃ সামাদ, সৈয়দ মোতাব্বির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার, আব্দুল আওয়াল মাস্টার, আব্দস সামাদ আজাদ মাস্টার, সাথী মুক্তাদির কৃষাণ চৌধুরী, চুনারুঘাট প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল হোসেন লিটন, প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম রুবেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান রিপন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কামান্ডের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ, সদস্য সচিব রুমন ফরাজী প্রমুখ।

এছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ যে, “বীর উত্তম” সি আর দত্ত গত ২৫ আগষ্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দেহ ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজির ৬ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।বুধবার দুপুরে উপজেলার শেরপুর বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন চৌরাস্তায় ট্রাকের ধাক্কায় একটি (অটোরিক্সা) চালিত সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এতে সিএনজির ৬ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত ৩জনকে সিলেট এমএজি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, ইনাতগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি শেরপুর বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন চৌরাস্তায় এসে পৌঁছালে উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সিএনজিটি কে ধাক্কা দিলে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

আহতরা হলেন – জগন্নাথপুর উপজেলার গন্ডবপুর গ্রামের আনর আলী, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ, রায়ঘর গ্রামের আব্দুর রহমান, রাণীগঞ্জের সত্যেন্দ্র সূত্রধর। আহত আরও ২ জনের পরিচয় জানা যায়নি।

ইনাতগঞ্জ সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমেদ এঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জুড়ী, (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি ফিসারীতে বিষ প্রয়োগ করে ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করেছে দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনাটি বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত উসমান আলীর ছেলে হাজী মোঃ সামছু মিয়া ( সাবেক মেম্বার) ও হামিদপুর গ্রামের মৃত খুরশিদ আলীর ছেলে বদরুল ইসলামের যৌথ ফিসারীতে ঘটেছে। এর প্রতিকার ছেয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি নং- ২১১ দায়ের করেন।

সাধারণ ডায়রী সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৪ বছর পূর্বে ধামাই টি ই এস্টেট মৌজার ১১০৭ খতিয়ানের ৩৫৮, ১১১৬, ১১২১, ১১১৪ ও ১১১৮ দাগের ১২ একর জমিতে একটি বড় ফিসারী করে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন। এ ফিসারীতে তারা লাভবান হওয়ায় দুষ্কৃতকারীরা ঈর্ষাম্বিত হয়ে উঠে। এমবাস্থায় হঠাৎ করে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দুষ্কৃতকারীরা ফিসারীতে বিষ প্রয়োগ করে পালিয়ে যায়। পর দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফিসারীর মালিক সামছু মিয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে ফিসারীতে গিয়ে দেখেন ফিসারীর পানিতে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে তার ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করেন ফিসারীর মালিক।

সরজমিনে বৃহস্পতিবার ফিসারীতে গিয়ে পানিতে দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী সাধারণ ডায়রির বিষটি নিশ্চিত করেন।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: “চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করলেন কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর দেড়টায় কমলগঞ্জ থানার উদ্যোগে ও মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানুর সভাপতিত্বে ও তোফাজ্জল হোসাইন এর স ালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোতাহের আলি, মাধবপুর বিট অফিসার পুলিশ উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আসহাবুর ইসলাম শাওন, গৌরানা অলমিক, আব্দুল আহাদ, রঞ্জিত কুমার সিংহ, সাবির আলি, মকবুল হোসেন, কৃষ্ণলাল দেশওয়ারা, আপারু নাইডু, মিজানুর রহমান, আকলাকুজ্জামান, শাহ আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, দেশের ছাত্র সমাজ, যুবসমাজকে ধ্বংস করে ক্ষত বিক্ষত করছে মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল। তাই চলেন সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করি।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে গত তিন দিন ধরে একটি হনুমান দল ছুট হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে। এ হনুমানটিকে দেখতে শিশু-কিশোর, নারীসহ শত শত উৎসুক জনতা ভীড় করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হনুমানটি গত রবিবার দিবাগত রাতের যে কোন সময় দল ছুট হয়ে এ উপজেলায় চলে আসে। সোমবার সকালে প্রথমে স্থানীয় লোকজন হনুমানটিকে উপজেলার ভবানীপুর বাজার মসজিদের সাদে দেখতে পান। পরে হুনুৃমানটি ভবানীপুর বাজারের করইগাছের একটি ডালে। হনুমানটি লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে থাকে বাজারের বিভিন্ন দোকানের চালে ও গাছের ডালে ডালে। মুহুর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভীড় জমায়।

উপজেলার রায়পুর গ্রামের বিপ্লব কুমার পাল বলেন, এ হনুমানটি হঠাৎ আমরা বাজারে দেখতে পাই। হুনুমানটি এক গাছ থেকে আরেক গাছে, এক দোকানের চাল থেকে আরেক দোকানের চালে যেতে থাকে। আমরা তাকে বিরক্ত না করে খাবার দিচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রু বাইত রেজা বলেন, সংবাদটি এই প্রথম আমরা শুনলাম। স্থানীয় বন বিভাগ চাইলে আমরা একসাথে হনুমানটি আটক করে যে কোন চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করতে পারি। তিনি এলাকার মানুষকে হনুমানটিকে উত্ত্যক্ত না করার পরামর্শও দেন।

এম এম সামছুল ইসলামঃ  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় কুলাউড়া-চান্দগ্রাম সড়কের জুড়ী নদীর উপর “স্বপ্নের সেতু” র উদ্বোধনসহ আরো ২ টি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তনমন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন এমপি। বৃহস্পতিবার(৫/১১) দিনভর জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি কর্মসূচীতে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় জুড়ী-বড়লেখা রোডে নির্মিত সেতুর উদ্বোধন, দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, সাড়ে ১২টায় জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজারে স্থানীয় দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। দুপুর দেড় ঘটিকায় উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের কয়লাঘাটে জুড়ী নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজের এবং পরে কাপনাপাড় – কাশিনগরের বৃন্দারঘাটে জুড়ী নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন এমপি।
এ সকল কর্মসূচীতে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান রুহুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ চেয়ারম্যান, জুড়ী থানা ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন,
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি , দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ চৌধুরী খুশী, উপেলাা যুবলীগ সভাপতি মামুনুর রশীদ সাজু, সহ সভাপতি আহমদ কামাল অহিদ, সাধারন সম্পাদক শেখরুল ইসলাম, সাগরনাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবেল, সাধারন সম্পাদক ইকবাল ভুইয়া উজ্জ্বল, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আদনান আশফাক, সাধারন সম্পাদক গৌতম দাস প্রমুখ। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ৫ ভাইকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত- বিক্ষত করেছে সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়নের চাটপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার মৃত আঃ মন্নানের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মমিনুল ইসলাম মমিন তার বাড়ি থেকে গাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথি-মধ্যে
একই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছায়েদ মিয়া, জাহেদ মিয়া ও দৌলত মিয়া মমিনের গতিরোধ করে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। এসময় খবর পেয়ে মমিনের ভাই সুজন মিয়া, সুমন মিয়া, মামুন মিয়া ও মাশফিক মিয়া এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আহতদেরকে চুনারুঘাট হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আশংকা-জনক অবস্থায় মমিনুল ইসলাম মমিন (৩৭), সুজন মিয়া (১৮) ,সুমন মিয়া (২১) সিলেট এমএজি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত মামুন মিয়া (৩৫) ও মাশফিক মিয়া (৪৭)কে চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ যে,
মমিনুল ইসলাম মমিন দৌলত মিয়া কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা দিয়ে একটি জমি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দৌলত মিয়া মমিনের নামে জমির কাগজ না করে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে টাল বাহানা শুরু করে।

বিশেষ প্রতিনিধি: “বাংলাদেশ মুসলিম যুব ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গল” এর আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে অদ্য ৫ নভেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরে মুর্শেদ আলম চৌধুরী ও মোঃ রেজাউল করিম সাকিব এর যৌথ উপস্থাপনায় অত্র সংগঠন এর আহবায়ক মোঃ আশরাফুল খান রুহেল এর সভাপতিত্বে মোঃ শাহেদ আহমদ এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হাফেজ জুবায়ের আহমদ এর কুরআন তেলাওয়াত ও আতিকুল ইসলাম এর নাতে রাসূল এর মধ্যে দিয়ে দলমত নির্বিশেষে ফ্রান্স বিরোধী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন, এম এ সালাম,(পৌর প্যানেল মেয়র-২),মোঃ আকতার হোসেন (যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী সমিতি),এম মুহিবুর রহমান মুহিব (চেয়ারম্যান -শেখ বোরহান উদ্দিন ইসলামী সোসাইটি) মাওলানা সোহাইল আহমদ (সেক্রেটারি -উলামা পরিষদ),মোঃ ইসমাঈল হোসেন (বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী), মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু (ব্যাবসায়ী সমিতি কার্যকরী সদস্য), মোঃ গোলামুর রহমান মামুন (সম্পাদক -নিরাপদ সড়ক চাই),লুৎফুর রহমান,মোঃ আবু জাফর ছাদেক খান (শিক্ষক), মোঃ দেলোয়ার হুসেন (সম্পাদক- গ্রীন কালাপুর), রুহিন আহমদ (বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ),ডাক্তার মামুনুর রশীদ (সাধারণ সম্পাদক শ্রীমঙ্গল পল্লী চিকিৎসক), হাফেজ মিসবাহ উদ্দিন জুবায়ের (প্রধান শিক্ষক হিফজ বিভাগ,বরুনা), হাফিজুর রহমান তুহিন চৌধুরী (বিশিষ্ট সমাজসেবক), সজিবুর রহমান টিপু,এম এ এম রাসেল মোস্তফা(ছাত্রনেতা),মাওলানা আবেদ শাহ আল আবেদী,মাওলানা হাফিজুর রহমান জুলহাস, সালেহ আহমদ পাটোয়ারী,মর্তুজ আলী,মাওলানা সাহেদ খান,রমিজ উদ্দিন,মোঃ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী,(খাদেম সিরাজনগর দরবার শরীফ)

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অত্র সংগঠনের সদস্য বৃন্দ মোঃ ইয়াছিন তালুকদার, সোহেল আহমদ,মোঃ আফজল হোসেন, মোঃ কাউসার আহমদ,সাংবাদিক শাহীন আহমদ,মো:জাবেদ আহমেদ, মোঃ আব্দুল কাদির, মাওলানা রুহুল আমিন,সাংবাদিক ইমরান হোসেন,ডাক্তার মোশাররফ হোসেন রাসেল, হাফেজ মুতালিব আহমদ,সৈয়দ নাজমুল ইসলাম,আশরাফুল ইসলাম,মোঃ আবু মোসা,মোঃ আব্দুল্লাহ, মোঃ আজিজুর রহমান, মোঃ রিয়াজ,মোঃ সজিব,মোঃ শাহ আলম, মোঃ রিপন,মোঃ রাশেদ আহমদ, মোঃইসমাইল, মোঃ জাকারিয়া মোঃ জয়নাল প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন, সকলে ঘৃণাভরে ফ্রান্সের পণ্য প্রত্যাখ্যান করতে আহবান জানান. ফ্রান্স সরকার কতৃক এই উগ্রবাদের তীব্র নিন্দা জানান। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে মোনাজাত করেন মাওলানা সালাহউদ্দিন আহমদ (ইমাম ও খতিব ডাক্তার বাড়ি জামে মসজিদ)।

.জহিরুল ইসলাম,ষ্টাফ রিপোর্টার:
চট্রগ্রামের রাঙ্গগুনিয়ার রাস্তার পাশের সামান্য ফাঁকা জায়গায় ক্লাসের আয়োজন। শিক্ষার্থী হিসেবে জড়ো হয়েছেন আঠারোর তরুণ থেকে শুরু করে ষাট বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত নানান বয়সী মানুষ। বয়সের ভিন্নতা থাকলেও সবার মধ্যে মিল অবশ্য আছে একটা-তারা প্রত্যেকেই ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও চালকের সহকারী।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের অসহনীয় যানজট দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর চট্টগ্রামবাসীর মাথাব্যথার কারণ। রাস্তার ওপর যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাসহ চালকগণ কর্তৃক ট্রাফিক আইন মেনে না চলার প্রবণতাই মূলত: এই যানজটের প্রধানতম কারণ।শুধু তাই নয়, এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বেশিরভাগ চালক ট্রাফিক আইনের প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও রাখেন না।অভাব রয়েছে সড়ক শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সচেতনতাবোধেরও। চালকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার হারও বাড়ছে দিনের পর দিন। এই ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক স্কুলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলে তা সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ উত্তর চট্টগ্রামবাসীর।

অভিনব এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান
রাঙ্গনিয়া( সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। উদ্যোগ গ্রহণ, পাঠ্যসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষকতার ভূমিকাতেও তিনিই। ব্যতিক্রমী এই স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়াও বিচিত্র। রাস্তায় ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তবেই এই স্কুলে ভর্তির সুযোগ মেলে। যানজট সৃষ্টিকারী যানবাহনের চালক ও সহকারীদেরকে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে এনে হাজির করেন। অবশ্য ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ছাত্রদেরকে একটিমাত্র ক্লাসেই অংশগ্রহণ করতে হয়। এক থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত সেই ক্লাসে ট্রাফিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাতের পাশাপাশি দেওয়া হয় সড়ক সচেতনতাবোধের প্রাথমিক পাঠ। হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ট্রাফিক আইনের অতি প্রয়োজনীয় ধারা-উপধারা। ক্লাস শেষে থাকে পরীক্ষা এবং সেখানে ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে পুরস্কারেরও ব্যবস্থা।
স্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত মাস দুয়েক ধরেই রাঙ্গুনিয়া সার্কেল এএসপির উদ্যোগে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের যানজটবহুল বিভিন্ন মোড়, বাজার, লোকালয়জুড়ে চলছে অভিনব এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।
শুধু বুঝিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কিনা-জানতে চাইলে এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, এমন না যে আমরা শুধু বুঝচ্ছি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মামলাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু গণহারে প্রায় সকল চালকের বিরুদ্ধে তো মামলা দেওয়া তো সম্ভব নয়। তাই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে আইন অমান্যকারী চালকদেরকে আমরা কাউন্সেলিং (উপদেশ প্রদান) এর মাধ্যমে তাদের আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। এভাবে এই স্কুলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আমরা ৫ শতাধিক চালক এবং চালকের সহকারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। নামে স্কুল হলেও এটি মূলত সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের একটি উদ্যোগ।
আরো পড়ুন: চান্দিনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
ইতিবাচক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মালিক ও চালকেরাও। এ প্রসঙ্গে রোয়াজারহাট বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতির সভাপতি নুরুল আজিম মনু বলেন, আমার দীর্ঘজীবনে পুলিশ প্রশাসনের এমন সুন্দর উদ্যোগ এই প্রথম দেখলাম। একটু সময় অপচয় হলেও এই ক্লাসে যেয়ে আমাদের চালকদের অনেক উপকার হচ্ছে। এএসপি সাহেবকে ধন্যবাদ যে, তিনি আমাদের ভালোর কথা চিন্তা করে জয়েন (যোগদান) করার পর থেকেই দিনরাত রাস্তায় রাস্তায় কষ্ট করে যাচ্ছেন।
পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগের সুফল ভোগ করছেন সাধারণ যাত্রীরাও। আব্দুল করিম নামের বেসরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, আমি প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহর থেকে অফিসের গাড়িতে যাওয়া-আসা করি। যানজটের কারণে আগে যেখানে রাস্তায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যেত, এখন ৩০-৩৫ মিনিটেই হয়ে যায়। চালকদের মধ্যেও দেখি আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। সবমিলিয়ে কাপ্তাই রোডের এই উন্নতি আমাদের মতো যারা নিয়মিত যাত্রী, তাদের জন্য অনেক স্বস্তির কারণ হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc