Friday 4th of December 2020 02:12:30 PM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি এলাকায় আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আকস্মিক  অভিযানে ৮২৬ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করা হয়।এ সময় অপরাধের সাথে জড়িতদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নেছার উদ্দিন উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন, ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মুজুল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “আপনারা জানেন আমরা এ বছর বালু জব্দ করে এ থেকে সর্বোচ্ছ রাজস্ব সরকারকে দিয়েছি এবং দ্রুত মহাল গুলোকে টেন্ডারের ব্যবস্থার জন্য সুপারিশও করেছি। আমি রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখেছি এবং ছবি তুলে নিয়েছি,এই রকম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করা কষ্টকর,সরকারী জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ করে রাস্তাঘাট ও পরিবেশ নষ্টের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে কালকের মধ্যেই। এদের অনেকের নামে আগেও মামলা হয়েছে যা আদালতে চলমান। এলাকাবাসীদের প্রতি তিনি বলেন আপনারা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তাছাড়া আমাকে অথবা থানা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে: নিখোঁজের তিনদিন পর ধান ক্ষেত থেকে মিশুক চালক আবিদ উল্লাহ সেজুর (১৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোবাইল লোকেশনের সূত্র ধরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব তিমিরপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

আবিদ উল্লাহ সেজু উপজেলার গোজাখাইর গ্রামের সাহিদ উল্লাহর ছেলে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টাবর) দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে সেজু বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু গভীর রাত হয়ে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। এমনকি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন রোববার সেজুর পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। (যার নং ১৩৩৭)।

ওসি বলেন, নিখোঁজ ডায়েরি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে সেজুর সন্ধান চালায়। অবশেষে মোবাইল লোকেশনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব তিমিরপুর এলাকায় একটি ধান ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন- লাশটি প্রায় পঁচে গেছে। তবে তাকে খুন করে লাশটি ধান ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর ও চণ্ডিছড়া চা বাগান এলাকা থেকে ১৩২টি জবাই করা অতিথি পাখিসহ তিন শিকারিকে আটক করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পাখিগুলো শিকার করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমতলী এলাকা থেকে বন বিভাগের লোকজন আটক করে।

বেলা ১১টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র পাল বন্যপ্রাণী আইনে (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০১২-এর ৩৮ (১) ধারায় তিনজনকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

আটকরা হলো- উপজেলার বালিয়ারী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে রুকু মিয়া (৪৮), একই গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে কাইয়ুম (৪৬) ও একই গ্রামের আ. হান্নানের ছেলে আল আমিন (২৬)।

পাখিদের মধ্যে রয়েছে- শালিক, কাঠটুকরা, বুলবুল, দোয়েল ও ভিমরাজ ইত্যাদি। এসব পাখি শিকারের পর জবাই করে কলসে ভরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল শিকারিরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পাখিগুলো গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাস বলেন, শীতের মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখি আসছে। কোনোভাবেই এদের শিকার কিংবা ধরা যাবে না।

তিনি বলেন, পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতছড়ি বিট কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি: চাঁদপুরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনের মেয়েকে গ্রেফতার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়ার শিলাস্থান গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মেয়ের নাম হাওয়া নূর (৩৬)।

চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এ. কে. এম. দিদারুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়ার শিলস্থান গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি।

তখন ৩ নং বিতারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন মনুর মেয়ের জামাতা শাহাদাত হোসেনের বাড়ি থেকে হাওয়া নূরকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করি।

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার হাওয়া নূর একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এ ব্যপারে হাওয়া নূরের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানী  ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে দেড় বছর ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক সেবনের দায়ে এক বছর ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের দণ্ড দেওয়া হয় ইরফানকে। দেহরক্ষীকে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।কিন্তু জনমনে হাজারো প্রশ্ন ঘটনা কি এখানেই শেষ নাকি আরও তদন্তের সম্ভাবনা আছে ?

ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটের দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ‘চান সরদার দাদা বাড়িতে’ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই বাসা থেকে অস্ত্র, ৩৮টি ওয়াকিটকি, বিদেশি মদসহ অবৈধ জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইরফান ও তার দেহরক্ষীর বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হওয়ায় দুটি পৃথক মামলা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

রোববার রাতে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলেসহ চারজনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা। মামলা হওয়ার পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সোমবার দুপুর থেকে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র‌্যাব।

বাবার বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ইরফান। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ইরফানের শ্বশুর নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। দিনভর ওই বাড়িতে অভিযানের সময়ে সাংসদ হাজী সেলিম বা তার স্ত্রীর দেখা মেলেনি সেখানে। র‌্যাবও তাকে বা তার স্ত্রীকে বাড়িতে পায়নি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, হাজী সেলিমের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, ১০ ক্যান বিয়ার, একটি হাতকড়া, একটি ড্রোন, ৪০৬ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে। হাজী সেলিমের বাড়ির পাশে চকবাজারে তার ছেলের আরও একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, সাদা রঙের নয়তলা ভবনে দুটি ফ্লোরে ইরফান সেলিম থাকতেন। মোট তিনটি অস্ত্র জব্দ করা হয়। তার মধ্যে একটি একনলা বন্দুকের লাইসেন্স দেখাতে পেরেছেন তারা। অন্য দুটি পিস্তলের লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ। কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই ব্যবহার করে থাকেন। এসব অস্ত্র ও হ্যান্ডকাফের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ইরফান সেলিম। এগুলো প্রদর্শন করে ইরফান সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন।

ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন পুরান ঢাকার দাপুটে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্র বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে? ইরফান শুধু সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্রই নন, তিনি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতাও। তার ক্ষমতার দৌঁড় কোথায় গিয়ে থামে সেদিকেও নজর রাখছে মানুষ।

রিমান্ড চাওয়া হবে ইরফান সেলিমের ?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর লালবাগ থানায় ইরফান সেলিম ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে র‌্যাব। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত ইরফানসহ অন্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব-৩। একই সময়ে থানায় ২টি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে র‌্যাব। সূত্র জানিয়েছে, থানায় দায়ের করা ফৌজদারী অপরাধে অস্ত্র ও মাদকের দুই মামলায় ইরফানসহ তার সহযোগীদের রিমান্ড চেয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তবে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাকিবুল হাসান সোমবার রাত ১১ টায় বলেন, এই মুহূর্তে গ্রেপ্তারকৃতদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য উদঘাটন করতে পারলে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ তাদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেবো। অন্যথায় দেরিও হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আর রাতে অথবা আগামীকাল সকালের মধ্যেই মামলা রুজু হয়ে যাবে।

দুদক কি অনুসন্ধানে নামবে ?
এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, হাজী সেলিমের পুত্র ইরফানের অবৈধ অর্থের ছড়াছড়ি রয়েছে। এটি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামতে পারে। তবে এই বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অস্ত্র আইন সংশোধনীর (২০০২) ১৯ক ধারা অনুযায়ী- পিস্তল, রিভলবার, রাইফেল, শটগান বা অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র-সম্পর্কিত অবৈধ হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ১০ বছরের কম নয়, এ রূপ মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও মাদক আইনের ধারায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের উপর নির্ভর করে শাস্তির বিভিন্ন মেয়াদের বিধান রয়েছে।

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম!

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের উপর হামলার ঘটনায় দাপুটে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান শিগগিরই কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে লিখিত আকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জনপ্রতিনিধি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেবে। পুরোন ঢাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছর সাজা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ আসা মাত্রই কাউন্সিলর পদ থেকে ইরফানকে বরখাস্ত করা হবে। ইতোমধ্যে অবৈধভাবে মাদক, অস্ত্র এবং ওয়াকিটকি রাখার অপরাধে ইরফানকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনেকেই মনে করছেন, শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন ইরফান।র‌্যাবের বিশেষ অভিযানের দিন আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরখাস্ত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয় স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদের কাছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরফান মোহাম্মদ সেলিম বা যেকোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে আদালত কর্তৃক দণ্ড প্রদানের ঘটনা ঘটলে সেই বিষয়টি যদি সিটি করপোরেশন কর্তৃক লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে আসে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদিন যা ঘটলো:
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে সস্ত্রীক মারধর করার ঘটনায় র‌্যাব রাজধানীর চকবাজারের দেবিদাস ঘাট লেনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পৃথক দুই অভিযোগে ১ বছর করে জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ২৬, দেবিদাস ঘাট লেনের ‘চাঁন সরদার-দাদা বাড়ী’ তে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

এর আগে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ধানমন্ডির কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে নৌ বাহিনী কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট ওয়াসিম ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় আজ সোমবার সকালে ওই কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পুত্রকে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারের ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। দেবিদাস ঘাট লেনের ৯ তলা বিশিষ্ট ওই বাড়ি থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি বিদেশি এয়ারগান, ৫লিটার বিদেশি মদ, ১০ক্যান বিয়ার, ৩টি ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার) যন্ত্র, ওয়াকিটকির বেজ স্টেশন ও ৩৮টি ওয়াকিটকি, ২টি হ্যান্ডকাফ ও দেহরক্ষী জাহিদের কাছ থেকে ৪শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। ওই বাড়িতে একটি এবং পাশের বাড়িতে আরো একটিসহ ২টি টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। এই টর্চার সেলে এলাকার লোকজনকে আটক করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

ইরফানকে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এক বছর ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডাদেশ দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আর জাহিদুলকে অবৈধ ওয়াকিটকি বহনের দায়ে ছয় মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। হাজী সেলিমের বাসা থেকে একটু দূরেই ২৫, দেবিদাস ঘাট লেনের ইরফানের মালিকানাধীন ৯তলা একটি বাড়ির নিচতলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়। আজ সন্ধ্যায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শেষে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ওই বাড়ির নিচতলায় প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব।

র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-৩ এর সমন্বয়ে একটি টিম আজ দুপুরে এই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ওয়াকিটকি ও ওয়াকিটকি বেজ স্টেশন দিয়ে ইরফান সেলিমের চাঁদাবাজি ও নিজ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইরফান সেলিম ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে র‌্যাব।

বাড়িটি ছিল টর্চার সেল!
হাজী সেলিমের নির্মাণ করা ২৬, দেবিদাস ঘাট লেনের ৯ তলা বিশিষ্ট চাঁন সরদার-দাদা বাড়ীটি ছিল একটি টর্চার সেল। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ধরে এনে এই টর্চার সেলে বন্দী করে রাখা হত। ভবনের ৩ তলায় আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমে রয়েছে আধুনিক ৩টি ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার) যন্ত্র, ৩৮টি ওয়াকিটকি, ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট বাহিনীর কাছে যেসব সরঞ্জাম থাকে, সেরকম সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাবের ধারণা। এছাড়া এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতেও এই টর্চার সেলে ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

‘কন্ট্রোল রুমের’ বিষয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, হাজী সেলিমের ৮ তলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলা থেকে এসব সরঞ্জামসহ তারা অবৈধ একটি বিদেশি পিস্তল ও একনলা বন্দুক জব্দ করেছেন। কালো ৩৮টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ওয়াকিটকির প্রতিটি ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কাভার করতো। এ ধরনের ওয়াকিটকি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ। কর্মকর্তারা জানান, ওই বাসায় একটি ড্রোন, রাউটার, একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বা ভিপিএস পাওয়া গেছে। এই ভিপিএস দিয়ে মূলত তার পুরো নেটওয়ার্কে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ট্র্যাক করতে না পারে। সাধারণত ভিপিএস ব্যবহারের অনুমোদন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। বিটিআরসি এই অনুমোদন দেয়। তবে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এ ব্যাপারে কোনো অনুমোদন নেননি।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাতঃ
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে লেফট্যানেন্ট ওয়াসিফ আহমদ মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনের সিগন্যাল ক্রসিং জ্যাম ছিল। এসময় তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি বুলেট প্রুফ জিপ গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন ৩-৪ জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’ এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। ওয়াসিফের একটি দাঁত ভেঙ্গে গিয়ে তার মুখমন্ডল রক্তাত হয়ে যায়। তখন ওয়াসিমের স্ত্রী এগিয়ে এলে, ইরফান তাকেও মারধর করেন। এক পর্যায়ে ওয়াসিফ চিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানায়। মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ ইরফানের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। পথচারীরা ওয়াসিফ আহমদকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করার দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার এসআই আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে। ইরফান গাড়ি চালক মিজানকে রেখে অন্যদের সাথে নিয়ে অপর একটি গাড়িতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রাত ৯টার দিকে পুলিশ আহত লে. ওয়াসিফকে মর্ডান আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যান। পুলিশ গাড়ি চালককে দিয়ে ইরফানের গাড়িটি থানায় জব্দ করে। রাত ১১টার দিকে লে. ওয়াসিফ এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন। পুলিশ গাড়ি চালক মিজানকে গ্রেপ্তার দেখায়। পরে সোমবার লে. ওয়াসিফ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামিরা হলেন, ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিনজন।

এদিকে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিনের রিমান্ডে আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে তার ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজের যে শ্রেণির মানুষই অপরাধ করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে জনপ্রতিনিধি বা যে-ই হোক।

রাজধানীসহ দেশেব্যাপী আগামী পাঁচদিন ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কম থাকতে পারে। সাবমেরিন ক্যাবলের জরুরি মেইনটেন্যান্স বা মেরামত কাজের জন্য এই সমস্যা হতে পারে। এ সময় গ্রাহকরা ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম পেতে পারেন। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত মেরামত কাজ চলার কথা। আজও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা ইন্টারনেটের গতি অপেক্ষাকৃত কম পেয়েছেন।

দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘দেশের কোনো কোনো আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) বিকল্প পথ হিসেবে ভারতের চেন্নাই হয়ে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। সেখানে একটি সাবমেরিন কেবল আছে, যেটি পরিচালনা করে ভারতীয় এয়ারটেল। সেটিই মেরামত করা হচ্ছে। দেশের যেসব আইআইজি ওই কেবলটি ব্যবহার করে, তারা কিছুটা ধীরগতির মুখে পড়তে পারে। বাকিদের সমস্যা হবে না।’ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মতে, দেশে ১০ কোটির বেশি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।

পূর্ব ভূমধ্য সাগর এলাকায় তুরস্কের কিছু কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্যারিসের সঙ্গে আঙ্কারার তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ফ্রান্সে সম্প্রতি ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষীদের ব্যাপারে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের অবস্থান ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে তুরস্কের সঙ্গে ওই দেশটির উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের কড়া বক্তব্যের পর দুদেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঙ্কারা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত দেশে ডেকে পাঠিয়েছে। এ ঘটনা তুরস্ককে আরো ক্ষিপ্ত করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বক্তব্যে ফ্রান্সে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এর প্রতি অবমাননাকর ব্যাঙ্গকার্টুন প্রকাশের ঘটনায় ওই দেশটির প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে ম্যাকরনের ব্যক্তিগত সমস্যাটা কোথায় ? মুসলমান ও ইসলাম ধর্মের প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের যে মনোভাব তাতে ম্যাকরনের উচিত মানসিক চিকিৎসা করানো। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, ফ্রান্স সরকার বাহ্যিকভাবে নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ ও বাকস্বাধীনতার রক্ষক বলে মনে করে। অথচ তারা ইসলাম অবমাননার ঘটনা ঘটলেও এটাকে তারা বাকস্বাধীনতা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। তারা আসলে চরম ইসলাম বিদ্বেষী।

সম্প্রতি ফ্রান্সের একজন শিক্ষক স্কুলে ক্লাস নেয়ার সময় বিশ্বনবীকে নিয়ে তৈরি ব্যাঙ্গকার্টুন তুলে ধরায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে ফরাসি বংশোদ্ভূত এক চেচেন শিক্ষার্থী তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এরপর ফরাসি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে এবং এ পর্যন্ত বহু সংখ্যক নিরপরাধ মুসলমানকে সে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে, মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্সের অনেক ইসলামি দফতরও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে সে দেশের বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে মুসলমানদের হালাল খাবার বিক্রির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনও সেদেশে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অযৌক্তিকভাবে বাকস্বাধীনতার অজুহাতে তিনি ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ম্যাকরন সম্প্রতি ঔদ্ধত্যের সাথে বলেছেন, বিশ্বনবী (দঃ)কে অবমাননা করে এ ধরণের ব্যাঙ্গকার্টুন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল্লাহ গাঞ্জি বলেছেন, ফ্রান্সে বিশ্বনবীকে অবমাননা করার যে ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানাবেন না। কারণ এটা বাক স্বাধীনতার ব্যাপার।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন ফ্রান্সে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ইসলাম বিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছে। এমনকি সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থীদের দমনের অজুহাতে মুসলমানদের উপর ব্যাপক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে মুসলমানদের মধ্যেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। বিশ্বনবীকে অবমাননার ঘটনাকে এমন সময় বাক-স্বাধীনতা বলে প্রচার করা হচ্ছে যখন কথিত ইহুদি নিধনযজ্ঞ হলোকাস্টের ঘটনা নিয়ে সন্দেহ করা বা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফ্রান্সে বিশ্ব নবীকে অবমাননার ঘটনায় বহু মুসলিম দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ওআইসি এক বিবৃতিতে ইসলাম অবমাননার ঘটনায় ফরাসি সরকারের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে এ অবস্থা চলতে থাকলে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সারা বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ফ্রান্স বিরোধী ক্ষোভ ও ঘৃণা বাড়বে।ইরনা

ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট গরু জবাই প্রতিরোধ আইনের অপব্যবহার সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করেছে। আদালত বলেছে, যেকোনও ধরণের গোশত উদ্ধারের পরে তাকে ফরেনসিক পরীক্ষা না করেই গরুর গোশত বলে নিরপরাধকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজ (সোমবার) এলাহাবাদ হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ওই মন্তব্য করেছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্ধার্থ কঠোর মনোভাব নিয়ে বলেন, মানুষকে এমন অপরাধের জন্য কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে, যা তারা মোটেই করেন না। গরু জবাই প্রতিরোধ আইনের আওতায় রহিমউদ্দিন নামে এক অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার সময়ে আদালত রাজ্য সরকারের এ সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্যামলী জেলায় ‘গরু জবাই প্রতিরোধ আইন ১৯৫৫’- এর আওতায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। চলতি বছরের ৫ আগস্ট থেকে ওই অভিযুক্ত কারাগারে রয়েছেন। যদিও তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়নি। তার ফৌজদারী অপরাধের ইতিহাসের মধ্যেও একটি মাত্র মামলা।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট আজ রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে জানায়, উত্তর প্রদেশে গরু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং গো-শালাগুলোতে উন্নত সুযোগ-সুবিধা নেই। গো-শালাগুলো কেবল দুগ্ধবতী গাভী রাখার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। লোকেরা বৃদ্ধ এবং অসুস্থের পাশাপাশি দুধ না দেওয়া গরুকে রাস্তায় ছেড়ে দেয় এবং গো-শালায় তাদের রাখা হয় না।

আদালত বলেছে, গো-শালার বাইরে ঘুরে বেড়ানো গরুরা মানুষের ফসল নষ্ট করছে। কৃষকদের আগে কেবল নীলগাইয়ের দ্বারা ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিপদ ছিল। কিন্তু এখন বেওয়ারিশ গরুতেও বিপদ দেখা দিয়েছে। বাইরে সড়কে ঘোরাঘুরি করা গরু ট্র্যাফিক এবং মানুষের জীবনকেও হুমকির সম্মুখীন করছে। প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ভয়ের কারণে অন্য লোকেরাও এদেরকে তাদের কাছে রাখে না বা তাদের রাজ্য থেকে বাইরে পাঠানোর সাহস করতে পারে না।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট আজ আরও বলেছে গরুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। গরুদের তাদের মালিকদের সাথে থাকার বা গো-শালায় রাখার নিয়ম থাকা উচিত।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc