Friday 4th of December 2020 01:21:08 PM

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন ভারতে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইমরান। বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, ট্রাক টার্মিনাল, কার্গরেল পণ্য ওঠা নামা শেড ও আমদানি-রপ্তানী গেট পরিদর্শন করেন। বেনাপোল কাস্টমসে মুজিব শতবর্ষ বঙ্গবন্ধু কর্ণার আইটি পরিদর্শন খাতাই স্বাক্ষর করেন। পরিদর্শন শেষে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাস্টমস, বন্দর, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রফতানি কারকদের সঙ্গে পরে বিকাল ৩ টার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এসময় তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। রেল পথে আরো উন্নত বাণিজ্যের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে ভারতীয় পেট্রাপোল বর্ডার পরিদর্শন করে হাই কমিশনারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল বর্ডার প্রবেশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইমরান, মোঃ তৌফিকু জ্জামান ডাই হাইকমিশনার, উপ-হাইকমিশনার বিএম জামান হোসেন, শাহেদ আজিম কনচুলেটর দিল্লি, ফাস্ট সেক্রেটারি সামসুর আরিফ ও প্রটোকল অফিসার আজিজুল আলম, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার ভূমি রাসনা শারমিন মিথি, বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তালুকদার, রেলের উপ প্রকৌশলী ওহিদুল ইসলাম, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের (ওসি) তদন্ত মহাসিন আলী, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, ইন্দো বাংলা চেম্বার অব কর্মাসের পরিচালক মতিয়ার রহমান, চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার আরশাফ আলী, প্রশাসনিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ  প্রতিনিধিঃ  কুলাউড়ায় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে খলিলুর রহমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘটনা‌টি ঘ‌টে। মৃত খলিলুর রহমান একই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে।

স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে খলিলের পা‌রিবা‌রিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন খলিল। খবর পে‌য়ে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কুলাউড়া থানার এসআই মাসুদ আলম ভুঁইয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিনহাজ তানভীর: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর এলাকার মেরিগোল্ড ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্পের) সম্মুখে আজ শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত আটটার দিকে সিএনজি ও একটি প্রাইভেটকারে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ভূনবীর ইউনিয়নের বিজয়পাল নামক এক সিএনজি চালকসহ প্রাইভেট কারের (সিলেট ক ১১-০০৭৭) এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সিএনজি চালকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি চালকের অবস্থা গুরুতর এবং প্রাইভেটকারে থাকা এক মেয়ে শিশু (৬) আহত হয়েছে ।
স্থানীয়রা জানান, প্রাইভেটকারে কয়েকজন মেয়ে ছিল, ঘটনার সময়ে এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শ্রীমঙ্গলের দিকে যাওয়ার সময়ে সিএনজিকে চাপা দিলে সিএনজিটি প্রাইভেট কারের উপরে গিয়ে পড়ে এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকের শরীর থেঁতলে গিয়ে গুরুতর আহত হয় , দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের সম্মুখের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাইভেটকারে থাকা অন্যান্য নারীরা ও কিছুটা আহত হয়েছে। পেট্রোল পাম্পের এক ব্যবসায়ী বদরুল আলম বলেন,অনুমান করা হচ্ছে পূজা দর্শনার্থীরা প্রাইভেটকারে ছিলেন। তিনি আরও বলেন,আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত সিএনজি চালককে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রাইভেটকারে থাকা শিশুটিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্জরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজিটি নতুন এর কোন নম্বার প্লেট ও নেই, দুর্ঘটনার সময়ে সিএনজিতে কোন যাত্রী ছিল না।
ঘটনাস্থলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এসআই আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম রয়েছে। এসআই আলমগীর এ প্রতিবেদককে বলেন গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে যাওয়া হবে সবার ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি তবে চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ওসি স্যারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঋষিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বাসচালক হৃদয় মিয়া, বাসের যাত্রী সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আনোয়ার বেগম ও পথচারী নিখিল। এদের মধ্যে নিখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও অন্য দুইজন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, বেলা দুইটার দিকে হরিরামপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শুকতারা পরিবহনের (মেহেরপুর-জ-১১-০০০৪) একটি বাস ঋষিপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় রাস্তায় থাকা পথচারী নিখিল গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৫ অক্টোবর আখালিয়া এলাকার পঞ্চায়েতি গোরস্তান থেকে রায়হানের লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথম দফা ময়নাতদন্তে রায়হানের শরীরে ১১টি আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামসুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রসঙ্গে ডা. শামসুল জানান, রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে যা আগের রিপোর্টেও বলা হয়েছে। তিনি জানান, রায়হানের প্রথম দফা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা রিপোর্টের সামঞ্জস্য রয়েছে।

১১ অক্টোবর রাতে আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে আটক করে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হলে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এসআই আকবর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বুধবার তথ্য গোপন ও এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় ফাঁড়ির সেকেন্ডম্যান এসআই হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পিবিআই।

আকবরকে গ্রেপ্তারে রায়হানের পরিবারের বেঁধে দেওয়া তিন দিনের সময়সূচি শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার রাতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রায়হানের পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার বাদজুমা মসজিদে রায়হানের জন্য দোয়া মাহফিল ও শনিবার বিকেল ৪টায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আকবর কীভাবে কার সাহায্যে পুলিশ লাইন্স থেকে পালিয়ে গেছেন, তা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের গঠিত টিম তদন্ত প্রতিবেদন দেবে আগামী সোমবার। কমিটির প্রধান পুলিশের এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মোহাম্মদ আইয়ুব সিলেটে অবস্থান করে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামে ধানক্ষেত থেকে নুরজাহান নামে এক নারীর মরদেহের পাঁচ টুকরা উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মামলার বাদী ওই নারীর ছেলে হুমায়ুন কবির। তাকে সহযোগিতা করেছেন তার দুই আত্মীয়, এক কসাই বন্ধুসহ সাতজন।

মায়ের জিম্মায় আনা সুদের টাকা পাওনাদারদের না দিয়ে বাঁচতে এবং পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই মাকে হত্যার পরিকল্পনা নেন হুমায়ুন।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

৭ অক্টোবর জাহাজমারা গ্রামের আমীর হোসেনের ধানক্ষেত থেকে পুলিশ ওই নারীর মাথা ও দেহের একটি অংশ এবং পরদিন দুপুরে আরও তিনটি অংশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় নিহত নুরজাহান বেগমের ছেলে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। ঘটনার ১৫ দিন পর বেরিয়ে এলো হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছেলে হুমায়ুনই। হুমায়ুনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখনও দু’জন পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দু’জন দোষ স্বীকার করে আগেই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হুমায়ুর কবিরও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, হুমায়ুন কবিরের সৎভাই বেলাল দেড় বছর আগে মারা যান। বেলাল গরু পালন, মাছ চাষ ও ব্যবসা করার জন্য বেসরকারি সংস্থাসহ (এনজিও) মহাজনদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা সুদে ঋণ নেন। বেলাল মারা যাওয়ায় ওই কিস্তির দায় এসে পড়ে তার মা নুরজাহান বেগমের ওপর। কিস্তি পরিশোধের জন্য মহাজন ও এনজিওকর্মীরা হুমায়ুন এবং তার মাকে চাপ দিতে থাকেন। এ জন্য হুমায়ুন তার মাকে সৎভাই বেলালের নামে থাকা জমি বিক্রির অনুরোধ করেন। এতে নুর জাহান রাজি হননি। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জেরেই হুমায়ুন মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হুমায়ুন তার মামাতো ভাই কালাম ওরফে মামুন, মামাতো বোনের স্বামীসহ সাতজনকে নিয়ে ৬ অক্টোবর রাতে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে তারা নুরজাহান বেগমকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে পেশাদার কসাই নুর ইসলাম লাশ পাঁচ টুকরা করে রাতেই পাওনাদার একই গ্রামের আমীর হোসেনের ধানক্ষেতে ছিটিয়ে দেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাঈদ বলেন, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছি। আজ তা প্রস্তুত করে মৃত্যু পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।

ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান তাপস রায় ও ডেসপাস শাখার রাসেল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এ পরোয়ানা পাঠান। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ১৪ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সৈয়দ কায়সারকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, চারটিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সৈয়দ কায়সার। পরে আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিনটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। এছাড়া চারটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নের আলীনগর এলাকা থেকে ভারতীয় ৫০ বোতল মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ধর্মঘরের সীমান্তবর্তী গ্রাম আলী নগরের ১৯৯৩/৪- S মেইন পিলারের ১’শত গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তর এলাকায় কমান্ডার সুবেদার আবু বক্করের নেতৃত্বে নিজস্ব গোয়েন্দা বিএসবি ও ভিআইপি সহযোগিতায় একদল বিজিবি সদস্য অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল মদ উদ্ধার করে।

বিজিবি’র ধর্মঘর কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আবু বক্কর জানান, গোয়েন্দা সুত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মদ উদ্ধার করা হয়। বিজিবি ৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল এসএমএন সামীউন্নবী চৌধুরী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি’র অভিযান টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের সম্বন্ধকাটি গ্রামে স্বরূপজান বেগম (৫০) এক মাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করেছে নেশাখোর ছেলে তৌহিদ মিয়া (৩৫) ।
জানা যায়, বুধবার বিকালে মায়ের কাছ থেকে নেশার টাকা না পেয়ে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ির পার্শ্বে মাটির গর্তের মধ্যে পলিথিন পেঁচিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অসহায় ঐ মা সম্বন্ধকাঠি গ্রামের নুর মোহাম্মদ এর স্ত্রী।
এ ঘটনার পরে এলাকার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থা খারাপ হলে যশোর থেকে খুলনায় রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই কুদ্দুস মিয়া জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ছেলে তৌহিদ মিয়া (৩৫)কে আটক করা হয়েছে । তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা লাউড়েরগড় সীমান্তের শাহ’আরেফিন মোকাম এলাকায় বিজিবি সদস্যদের হামলায় সুমন মিয়া (৯) নামে এক শিশু গুরুত্ব আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন মিছিল দিলে বিজিবির ন,রাউন্ড ফাকা গুলি,১২টি দোকানপাট ভাংচুর করে। এতে করে ১৫জন আহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
গুরুত্বর আহত শিশু উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মনাইপাড় (উত্তর মুকশেদপুর) গ্রামের বাচ্ছু মিয়ার ছেলে। অপর  আহতরা হলো,আল আমিন (৩০),আব্দুল জলিল,তার বৌ হনুফা বেগম,শফিকুল ও তার বৌ,আফাজ উদ্দিন ১৫ জন আহত হয়েছে। অন্যান্য আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,বুধবার সন্ধ্যার পুর্বে উপজেলা বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় সীমান্তের শাহ’আরেফিন মোকাম এলাকায় সবার সাথে সিন্নী খেতে আসে সুমন। সিন্নী খেয়ে শাহ’আরেফিন মোকাম এলাকার মোড় (লাউড়েরগড় বাজারে পথে) হয়ে যাদুকাটা নদীতে বাংলা কয়লা সংগ্রহের কাজে থাকা মা,বাবার খোঁজ করে আসার সময় বিজিবির এফএস নাইম লাউড়েরগড় বিজিবির র্ফোসসহ শ্রমিকদের সবাইকে দাওয়া করে। এসময় সবাই দৌড়ে পালিয়ে গেলে এসময় কাউতে ধরতে না পেরে সুমনকে কাছে পেয়ে দু হাতে মাথার উপর তুলে আছার মেড়ে ফেলে দেয় এফএস নাইম।

এতে সুমন অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘন্টা খানেক চেষ্টা চালিয়ে জ্ঞান ফিরাতে না পেরে মৃত ভেবে বিজিবির উপর চড়াও হলে এফএস নাইমসহ সবাই ক্যাম্পে ফিরে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন বিজিবির বিরুদ্ধে মিছিল শুরু করলে লাউড়েরগড় ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা শাহ’আরেফিন মোকাম এলাকায় মিছিলে বিজিবি তাদের রক্ষ্য করে ন,রাউন্ড ফাকা গুলি করে ছত্রবংঙ্গ করে মাজার এলাকায় ১২টি দোকানপাট ভাংচুর করে। এতে করে ১৫জন আহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী। গুরুত্বর আহতদের সুনামগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,ঐ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিজিবি মারমুখি হয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করেছে। বিবিজি সব সময়ই স্থানীয় চোরাচালানীদের সাথে সখ্যতা তৈরী করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। তাদের স্বার্থে আঘাত হলেও শ্রমিকদের মারপিট করে বার বার আহত করে। আর ভারত থেকে অবৈধ ভাবে আসা মালামাল সাম মাত্র সিজার দেখিয়ে আটক করলেও এর সাথে জরিত কাউকেই আটক করে না। এই বিষয়ে বিজিবির উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। যারা অভিযোগ দিবে উল্টো তাদের উপর মামলা হয়।

এই বিষয়ে ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ অধিনায়ক মাকসুদুল আলম জানান,ঘটনাটি যে ভাবে প্রচার হচ্ছে তা না। যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের দাওয়া করলে সাথে থাকা শিশু সুমন বাশেঁর সাথে আঘাত পেলে অজ্ঞান হয়ে পরে। তখন মানুষ মনে করে সে নিহত হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিজিবির উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় ৬-৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার চাঁদপুর এলাকায় একটি গ্যারেজ থেকে চোরাইকৃত ১৬টি ব্যাটারিচালিত ইজিভ্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ চাঁদপুর এলাকা আজগর আলীর ছেলে রবিউল শেখকে আটক করেছে।
কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হরিদাস রায় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে পৌরসভার চাঁদপুর এলাকার একটি গ্যারেজ হতে ভ্যানগুলো উদ্ধার করা হয়। ভ্যানগুলি রবিউল ইসলামসহ তার সহযোগীরা খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করে বেচাকেনা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। ভ্যানগুলি সোনাডাঙ্গা থানায় পাঠানো হয়েছে।

কে এস এম আরিফুল ইসলাম: র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব-৯ সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) এর বিশেষ অভিযানে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাধীন ডেফলউড়া গ্রাম থেকে ৩৪ বোতল বিদেশী মদ এবং ৬ কেজি গাজাসহ মোঃ মামুন মিয়া (২৪) নামক এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) এর একটি দল কোম্পানি কমান্ডারের নেতৃত্বে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার ডেফলউড়া গ্রাম থেকে ৩৪ বোতল বিদেশী এবং ৬ কেজি গাজাসহ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পন্ডিতনগর গ্রামের আব্দুল মমিন এর ছেলে মোঃ মামুন মিয়া (২৪) কে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আহমেদ নোমান জাকি এর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন, আমরা এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, এক ব্যক্তি বিক্রির জন্য নিজ হেফাজতে রাখা রাজনগর থানার ডেফলউড়া গ্রাম ৩৪ বোতল বিদেশী এবং ৬ কেজি গাজা মজুদ করছে। আর এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এখানে অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদেরকে আলামত সহ গ্রেফতার করি। আর আমি আশাকরি আপনারাও যদি আমাদেরকে এভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা সবসময়ই দেশ ও জনগণের কল্যাণে পদক্ষেপ নিতে পিছপা হব না।
উল্লেখ্য এ ঘটনায় র‍্যাব বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে আলামতসহ আসামীদেরকে সংশ্লিষ্ঠ থানায় প্রেরন করেন।

বেনাপোল প্রতিনিধি : অবৈধ পথে ভারতে পাচার হওয়া এক যুবক ও দুই যুবতীকে ২ বছর পর বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।
তারা হলো, যশোরের বাসিন্দা আল-আমিন বিশ্বাস (২২), নড়াইল জেলার জুতি রায় (১৯) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার শিউলি আক্তার (২১)।
বেনাপোল বিজিবি আইসিপি ক‍্যাম্পের সুবেদার আরশাফ আলী জানান, ফেরত আসারা দালালের খপ্পরে পড়ে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর অবৈধ পথে ভারতে পাড়ি জমায়। পরে ভারতের পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করে এসএমএম হোম হাওড়াতে রাখে। সেখান থেকে আজ বিকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
হস্তান্তরের পরে তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc