Thursday 22nd of October 2020 12:51:02 AM

কালাপুর প্রতিনিধি:  আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) গ্রীন কালাপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের পঞ্চম  ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের ম্যাচে দুটি পক্ষ একে অপরের মুখোমুখি হয়। টীম দুটি হলো ৫নং কালাপুরের ৩নং ওর্য়াড কালাপুর  বনাম ৫নং ওর্য়াড ভাগল পুর, মীর নগর ও মনারগাও, দুটি দলের মধ্যেই উত্তেজনা পুর্ন  লড়াই চলছিল কিন্তু খেলার ৪৫ মিনিটের মাথায়  কালাপুর জয় সুচক গোল করে নেয়। কালাপুরের পক্ষে গোল করে দলনেতা সৌরভ। ৫ নং ওর্য়াড কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কালাপুরের গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে।

আজকের খেলা দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  মুজিবুর রহমান মুজুল আরো উপস্থিত ছিলেন কালাপুর ইউনিয়নের ৩ং ওর্য়াডের সদস্য মুজিবুর রহমান,৫নং ওর্য়াডের সদস্য মনির মিয়া ও ৬ নং ওর্য়াডের সদস্য ফিরোজ মিয়া।আজকের  খেলার ফলাফল কালাপুর ১-০ গোলে জয়লাভ করে। খেলা পরিচালনা করেন মিজানুর রহমান, আবুল কাসেম ও সুর্দশন দাস।খেলার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয় কালাপুরের দলনেতা সৌরভ  আহমেদ।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার তুলে দেন গ্রীন কালাপুরের সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক,ও amarsylhet24.com পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ  মকবুল হাসান ইমরান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কালাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই, বিমল দেব, আবদুল মজিদ,দেলোয়ার মামুন, তুহিন চৌধুরী মিজানুর রহমান, সাকেদ আহমেদ, সালেহ আহমেদ প্রমুখ।  আগামীকাল বৃহস্পতিবারের ম্যাচ ৬ নং ওর্য়াড মাজডিহি বনাম ৯ নং ওয়ার্ড নয়নশ্রী।
উল্লেখ্য শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের অরাজনৈতিক সংগঠন গ্রীন কালাপুর এর উদ্যোগে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন হিসেবে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের প্রবীণ আলেমেদ্বীন, সারা বাংলায় এক সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বক্তা, বাড়িউড়া দরবার শরীফের পীর সাহেব আল্লামা মুফতি উবাইদুল মোস্তফা নকশেবন্দী আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ইন্তিকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বা’দ যোহর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, বি-বাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার বাড়িউরা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  এবার বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৯ মাস ধরে নিয়মিত ধর্ষণ করেছে তিন বন্ধু মিলে। যেখানে বিপদে এক বন্ধু অপর বন্ধুকে ভরসা করার কথা সেখানে ইজ্জতের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত পালা ক্রমে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ? আর কাজ যারা করেছে তারা সবাই বিএনপি নেতা বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের এই ভিডিও আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী গ্রামে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় ও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা (৪০), বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সবুজ (৩৮) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাকির হোসেন সোহেল (৩৯)। মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও খাইরুল ইসলাম সবুজ ছাত্রদলের একই কমিটির সাবেক সদস্য।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখক মাহফুজুর রহমান রাসেল মোল্লার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন সাফাইশ্রী গ্রামের এক ব্যক্তি। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে রাসেল মোল্লা ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করেন রাসেল মোল্লা। এ দৃশ্য মোবাইলে ভিডিওতে ধারণ করেন। পরে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই বন্ধু সবুজ ও সোহেলকে নিয়ে প্রায়ই রাসেল ওই নারীকে ধর্ষণ করতেন।

মামলায় আরো বলা হয়, গত ২২ জুলাই খাইরুল ইসলাম সবুজ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ওই নারীর স্বামী জেনে যান। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে তার স্বামী সংসার ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গত ২৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ও নারীর বাড়িতে গিয়ে ওই নারী ও তার স্বামীকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের হত্যার চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষিত ওই গৃহবধূ বলেন, ‘রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল এখন আমাকে ও আমার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি ফেসবুকে নানা ধরনের কুৎসা রটিয়ে আমাদেরকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি ও আমার স্বামী প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ওই নারীকে ধর্ষণ করার ভিডিও বিদেশি কয়েকটি পর্নোসাইটে আপলোড করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার অভিযোগ এনে গাজীপুর আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ এর ৮(১) এবং প্যানাল কোড ৪৪৮/৫০৬ ধারার মামলা (নম্বর সিআর ২৩৫/২০, তারিখ ০৩-০৯-২০২০, স্মারক নম্বর ১০৪৭ (মূল) তারিখ ১০-০৯-২০২০) দায়ের করেন।

তবে অভিযুক্তদের স্বজনরা জানান, মামলার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। জমি বেচা-কেনা নিয়ে ২০ লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে ওই নারীর স্বামীর কাছে। টাকা আত্মসাতের জন্য এই ঘটনা সাজানো হয়েছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের বলেন, পর্নোগ্রাফির বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পাশাপাশি অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা রয়েছে। বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি সাইট সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তার পরও কীভাবে আসামিরা বিদেশি পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধর্ষিত ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করে জানান, রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল মিলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রি করে দেয়। ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের এসব পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও এখন সবার হাতে হাতে।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি অনলাইন সার্ভার এনজিইবিওকেইপি নামের সার্ভারের ওয়েবসাইট টিআইএনওয়াইইউআরএল ডটকম এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করা হয়।’

অপরদিকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ওই নারী, তার স্বামী ও আত্মীয়স্বজনদের নামে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। এমনকি অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেলের আত্মীয়রা ধর্ষিত নারী ও তার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে কাপাসিয়া থানায় পৃথক ৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১) গাজীপুর কোম্পানি কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পর্নোগ্রাফি একটি মারাত্মক অপরাধ। আমরা নানা কৌশলে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাপাসিয়ার তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বিএনপি নেতা রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল তিনজন মিলে কাপাসিয়া উপজেলা শহরে জমি দখল, নারী ধর্ষণ, মাদক কারবারিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের অপকর্মের সামনে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাফাইশ্রী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ অসহায় মানুষদের ভয় ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাফাইশ্রী গ্রামের ভূক্তভোগী ১০-১২ জন জানান, বিএনপি করেও নানা অপরাধসহ বিভিন্ন সময় এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে।সচেতন মহল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানীর ভাটারায় কওমী পন্থিদের আল মাদরাসাতুল মঈনুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে তাবলীগ জামায়াতের বিবাদমান সাদ কাল্পব্দলভী সমর্থক ও মাওলানা জুবায়ের আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ভাটারার ছোলমাইদ পশ্চিম ঢালিবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাটি স্থানীয়ভাবে মঈনুল মাদরাসা নামে পরিচিত। পুলিশের গুলশান বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এলিন চৌধুরী জানান, মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষেরই কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলতি বছর মাদরাসাটির দখল, পাল্টা দখল নিয়ে সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিল। সর্বশেষ মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ ছিল জুবায়েরপন্থীদের কাছে। তারা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার পর সাদপন্থী শতাধিক ব্যক্তি মাদরাসাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে যায়। তখন সেখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বাইরে থেকে মাদরাসার ভেতরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। অপর পক্ষ মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে তা প্রতিরোধ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে।বিস্তারিত আসছে…।

নজরুল ইসলাম তোফা: সারা বিশ্বসহ পুরো বাংলাদেশে করোনার করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। থমকে আছে জীবনের গতি। সমস্যা সমাধানকল্পে মানুষ হয়ে পড়ছে নিরুপায়। মৌলিক চাহিদার জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্র সহ পরিবার। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ সকল খাতে দেখা দিয়েছে খুব মন্দাভাব। সুতরাং প্রতিটি দেশের মত এ বাংলাদেশও নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যেন করোনাকালে জীবনযাত্রা মানটা গতিশীল রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছে। যা বলতে তাহলো শিক্ষাখাতেও দেখা দিয়েছে বৃহৎ স্থবিরতা। এ স্থবিরতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিস্তার ঘটছে অতিদ্রুত গতিতে। প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বহু শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি একেবারেই নতুন। তথাপি বিদ্যমান বাস্তবতার কারণেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের যেন দিনে দিনে পড়াশোনাও থমকে গেছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এমন এই করোনা কালের বাস্তবতাতে লকডাউন, আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন, সোশ্যাল ডিস্টেন্স ইত্যাদি যে সব শব্দ গুলো ও পরিস্থিতির সাথেই আমরা পরিচয় হয়েছি। তদ্রূপ অনলাইন ক্লাসের সাথেও সবার পরিচয় হচ্ছে। আগে ছিলনা এখন আসছে অনেক কিছু নতুন শব্দ। এই শব্দগুলোকে নিয়েই বিরূপ পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন অনেকেই। বিশেষ করে প্রবীণ শিক্ষক এবং গ্রামাঞ্চলের শিক্ষক বা ছাত্র/ছাত্রীরা। শিক্ষাবিদরা একদিকে যেমন দেখছেন অসম্ভাবনা তেমনি অন্যদিকে সম্মুখীন হচ্ছেন বিভিন্ন সমস্যায়। অনলাইনে ক্লাস নিয়ে নানান জনের ভাবনাগুলো থেকেই উঠে আসছে এভাবে ক্লাস নিয়ে তেমন লাভ হবে না। বলা যায় যে, শুভঙ্করের ফাঁকি! তবুও শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে না পড়ে, সেটাই সকলের উদ্দেশ্য বা বর্তমান সরকারের সুচিন্তা। সুতরাং এজন্যই না পাওয়ার চেয়েও কিছুটা পাওয়া যাবে বলেই অনলাইনে ক্লাসের গুরুত্বের কথা ভাবছেন।

সমস্যা হলো যে অনলাইনে পাঠদানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যালেন্স, নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ডিভাইসের প্রয়োজন অত্যাবশ্যক। তা বহু ছাত্র/ছাত্রী এবং শিক্ষকদের কাছে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহরের কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের ইন্টারনেট ডিভাইস অর্থাৎ মোবাইল এবং ল্যাপটপ হয়তো থাকে। তবে নেটওয়ার্কের সহজলভ্যতা নিয়ে গ্রামাঞ্চলে বহু ঝামেলা রয়েছে। যাদের ইন্টারনেট ডিভাইস নেই, তাদের জন্যে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে হয়তো কিছুটা উপকৃত হবে। আরও একটা কমন শেয়ার ড্রাইভও জরুরি যেখান থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডকুমেন্ট গুলোকে ডাউনলোড করে নিতে পারে। সবার কথাকে চিন্তা করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যালেন্স ক্রয় করাটাও এখন অনেকের জন্যেই কষ্টকর। সে দিকেও একটা ভাল সিদ্ধান্ত থাকা দরকার বলে মনে করি।

জানা দরকার যে,সরকারী হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় ৬৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭ হাজারের মত মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২হাজার ৫শত কলেজ আছে, তার মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৫ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা একটি বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। দেশের অনেকগুলো এলাকায় ইন্টারনেট কিংবা টিভির আওতায় নেই। তাই, অনেকেই যেন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বা অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার একজন ছাত্রের নিকট থেকে জানা, অনলাইনে যেহেতু অনেকগুলো ডিভাইসের মাধ্যমেই ছাত্র/ছাত্রীরা লগ ইন করছে, তাই এত গুলি যন্ত্রের শব্দের ফলে তৈরি হচ্ছে প্রচন্ড নয়েস। তাই অনলাইন ক্লাসের জন্যে জরুরি স্মার্টফোন/ল্যাপটপ/ট্যাব নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না তা অনিশ্চিত। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের এককালীন সুদ বিহীন ঋণদান কিংবা ঋণ এবং কিস্তিতে ল্যাপটপ/ট্যাব/স্মার্টফোন কেনার সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। যা করাই হয়নি। কিছু দিন আগেই প্রকাশিত ডেটা প্যাকেজের মূল্য বিচারে সারাবিশ্বের চেয়ে বাংলাদেশের মূল্য অনেক বেশি। করানোর এমন সময়েই শিক্ষার্থীদের ‘পার্টটাইম আয়ের অংশ বন্ধ’ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে। তার ওপর ডাটা প্যাকেজ কেনার নাই সামর্থ্য। নতুন বাজেটে ‘মোবাইল সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি’ করাতেই যেন ইন্টারনেটের খরচ আরো ৫% বাড়িয়ে দিয়েছে।

খুব কাছেরই এক শিক্ষক তিনি প্রকাশে অনিচ্ছুক, তিনি শিক্ষার্থীগুলোকে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করাতে না পেরে বলেন, একাধিক সমস্যা তুলে ধরেই ‘ছাত্র/ছাত্রীরা’ ক্লাস মুখী হচ্ছে না। অনলাইনের ক্লাসটি এক প্রকার অসম্ভব। তিনি আরো বলেন যেখানে কোন অপারেটর তাদের ৬৪ জেলাতে নেটওয়ার্ক কাভারেজ করতে সক্ষম নয়। আর ২ জি দিয়ে ফেসবুক চালাতে বহু কষ্ট হয়। তাতে ৩/৪জি নেট ছাড়া লাইভ ক্লাস সম্ভব হয় না। তাছাড়াও খুবই বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেব উচ্চ মূল্যের ইন্টারনেট। আবার বহু জনের ভালো মানের মোবাইল নেই, যাদের যা আছে তা হ্যাং হয়ে যায়। অনলাইনে ক্লাস চলাকালীন বাসায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা কিংবা বিভিন্ন ডিভাইস চালানোর দক্ষতা না থাকা, ইন্টারনেট না থাকা বা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ার দরুণ ক্লাসের ব্যর্থতা নেমে আসে। এমতাবস্থায় কিকরে ক্লাসের পরিপূর্ণতা ফিরিয়ে আনবেন, তা নিয়েই তো শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক এবং সরকারের সকল মহল দিশেহারা। অনলাইনে ক্লাস শুধু তাত্ত্বিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে কিন্তু ব্যবহারিক ক্লাসটা না হওয়ার অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। শুধু মাত্র পরীক্ষার বৈতরণি পারি দিয়ে সেশনজট মোকাবেলা করাটা সম্ভব এছাড়া ব্যবহারিক ক্লাস দিয়ে শিক্ষার্থীর কখনোই সুফল বয়ে আনবে না। মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি থেকে যাবে। বলতেই হয় যে, চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ক্লাসই হাতে কলমে ধরে ধরেই বারবার শিক্ষা দিতে হয়। এখানে ব্যবহারিক এক একটা ক্লাস ৫/৬দিন ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবেই চলে। আবার মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা যদি হাতে কলমে শিক্ষা না নেয় তাহলে শুধুই সার্টিফিকেট অর্জন হব। তাদের নামের সাথেই একজন ডাক্তার যুক্ত হবে কিন্তু তারা স্বস্ব কর্মক্ষেত্রে যেন অদক্ষ থেকে যাবে। এ দেশে এমন বেশ কিছুটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের শিক্ষা কার্য ক্রমে বারবার হাতে ধরিয়েই প্র্যাকটিস করাতে হয়, মুখের কথার গুরুত্ব খুবই কম।

এমতাবস্থায় এ অনলাইনে ক্লাস বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাবিহীন যাত্রাটা অবশ্যই সংকটময়। সামাজিক ভাবে এমন অবস্থা আরও যেন বৈষম্যময় করে তুলছে। যা কিনা শিক্ষার্থীদের এক বড় অংশের ‘অনলাইন ক্লাস’ অনিশ্চিত করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চরিত্রের সঙ্গে বা চারুকলা কিংবা মেডিকেল চরিত্রের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আবার শিক্ষাক্ষেত্রে নানান বৈষম্যের বিষয় আলোচনায় এলেই অনেক শিক্ষকরা “ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো” রয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের চাপেও কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই সীমিত সক্ষমতা নিয়ে ক্লাস শুরু করেছে কেউ কেউ। আসলেই এইদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয় নি। তাই সবাই সীমিত পরিসরেই চালাতে চাইলেও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন সেটাও অনুপস্থিত আছে। তাছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগই শিক্ষার্থীরা যেহেতু প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে সেহেতু বলা যায় ‘নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট’ সেবার বিষ উপেক্ষিত রয়েছে। চারুকলা অনুষদ কিংবা চারুকলা কলেজের ব্যবহারিক এবং বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাবভিত্তিক ক্লাস এখানে অনুপস্থিত। এছাড়াও বিজ্ঞান অনুষদের ফলিত বিভাগগুলো শুধু থিওরিভিত্তিক ক্লাস করছে। একই অবস্থাতে রয়েছে চারুকলা অনুষদ এবং কলেজ। শুধুই লেকচার দিচ্ছে তার বাইরে প্রাকটিক্যাল ক্লাসের যে প্রয়োজনীয়তা তা একেবারে যেন অনুপস্থিত আছে অনলাইন ক্লাসে। এছাড়াও সকল স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের ক্লাস রুমের বাইরে যে পড়ার আবহ থাকে সে বিষয়ে কোনোই ইঙ্গিত নেই। তাই এই করোনাকালেই ছাত্র/ছাত্রীরা ‘ডিজিটাল লাইব্রেরির’ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছ। ক্লাসের বাইরে ম্যাটারিয়ালস দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের লজিস্টিক সাপোর্টের বিষয়টিও আমলে নেওয়া হয় নি। সুতরাং, অনলাইনে ক্লাসটা যেন শুভঙ্করের ফাঁকি!

একটা সময় ছিল যখন ফোন এবং ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকলেই জুটত কেবল বকুনি। কিন্তু এই করোনা বিপদে বা সঙ্কটে সন্তানদের মা-বাবারা খুব কষ্ট করেই মোবাইল কিনে দিচ্ছে। কোথাও চলছে ‘ভিডিও কনফারেন্স’ এবং কোথাও আবার হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ বা কোথাও নানান অ্যাপ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিক্ষকদের ব্যতিব্যস্ততা। শহরের পাশাপাশি অনলাইনে ক্লাসে পাল্লা দিচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার নানান স্কুল কলেজও। বর্তমান সরকার সংসদ টিভিতে খুব নিয়মিতভাবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করছে। এদিকে আশার খবর অনলাইনে ক্লাস শুরু করার জন্যে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেন জুম অ্যাপসের মতোই নিজস্ব একটি ‘অনলাইন প্লাটফর্ম’ তৈরির চেষ্টাও করছে। যাতে করে শিক্ষার্থীদের সু-শিক্ষা কার্যক্রমকে সেই অ্যাপসের মাধম্যেই যুক্ত করা যায়। এতে করে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া সম্ভব হবে। আবার শিক্ষাবর্ষের মেয়াদটা বৃদ্ধি করা হবে এ কথাও বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ দেশের শিক্ষার্থীর পড়া শোনাকে গতিশীল রাখার জন্যই ”শিক্ষা মন্ত্রণালয়” অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকেই যেন ‘আদর্শ’ মানছে। আবার যেন এটাও বলেছে, “সু-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অনলাইন মাধ্যমে দেখা দিয়েছে বেশ কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা।

তবুও আমরা একটি সুস্থ বিশ্বের, একটি সুস্থ পরিবেশের স্বপ্ন দেখি। আমরা স্বপ্ন দেখি জ্ঞান বা সু-শিক্ষা’র একটি আলোকিত বাংলাদেশের। একসময়েই করোনার দুঃস্বপ্ন থেমে যাবে। তার আগের সময় টুকু ভালো কিছু করবার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে। এক্ষেত্রে বহু সমস্যা, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকতে হবে। বিদ্যমান সমস্যা ও অসুবিধা গুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠে, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যেই হোক এবং করোনা কালিন মুহূর্তের জন্যই হোক অতিদ্রুত অনলাইন ক্লাসটাকে ‘শিক্ষা ও শিক্ষার্থী বান্ধব’ করে তুলতে হবে। এমন করোনা পরিস্থিতি কিযে হয় তা কেউ জানেনা। তাই এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে ক্লাসের অন্যতম সফলতা হলো, দীর্ঘদিন ‘গৃহবন্ধি থাকা’ অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনার সাথে যুক্ত থাকতে পারছে।

তাই আপাতত ভালোয় মন্দয় মিশিয়েই চলছে অনলাইন ক্লাশ। বহু সমস্যা আছে, তবে এটার প্রয়োজনও আছে, যা অস্বিকার করা যাবে না। আশা করা যায় ধীরেধীরেই এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। অনলাইনে ও অফলাইনে স্বেচ্ছামূলক কাজ করার প্রতি শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদেরকে আগ্রহী করে তুলতেই পারেন বর্তমানের সরকার। তাছাড়া দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত জরুরি অ্যাপ ও সফটওয়্যার শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষত এটা হয়তো শ্রেষ্ঠ সময়, যা তার ‘স্কিল বৃদ্ধিতে সহায়ক’ হতেও পারে। শত শত প্রতিকূলতায় ডিজিটালাইজেশনের পথে যাত্রার প্রথম ধাপ। যুগের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকায়ন গ্রহণ করে নিয়েই অনলাইন ভিক্তিক কর্মকাণ্ড সমূহ এগিয়েও নিয়ে যেতে পারে সম্মুখ যাত্রায়। অনস্বীকার্য, অনলাইন ক্লাসের বদৌলতে দূরত্বের কারনেই যে কোর্সগুলো করা সম্ভব হচ্ছিল না তা হয়েছে সহজলভ্য। অনেক শিক্ষার্থী এ সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বের নামি-দামি বিদ্যাপীঠ হতে নিয়মিতভাবে কোর্স করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। সুতরাং মন্দের ভালো এই অনলাইনের ক্লাস। দোদুল্যমান সমস্যা দূরীকরণেই “বর্তমান সরকার” যেগুলো বৃহৎ পদক্ষেপ নিয়েছে তারমধ্যেই অনলাইনের ক্লাসটা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। যদিও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রযুক্তি ‘আছে বা নাই’ তার বৈষম্যের মাত্রা অনেকটা মারাত্মক। তবুও, একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে অন্যান্য পড়া শোনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্যসহ বিশ্ব সাহিত্য নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য এমন অনলাইন মাধ্যম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

লেখকঃ নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

পিন্টু অধিকারী,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  মাধবপুর বাজারগুলোতে আগাম শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

অসময়ে অতিবৃষ্টির প্রভাবে বাজারে সব ধরণের শাক-সবজির দামই বৃদ্ধি পাচ্ছে হু হু করে। সব রকম সবজিই কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এক কথায় সবজির মূল্য নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে আগাম শীতের সবজি সীম ও ফুলকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পাতাকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় বেড়েছে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা। আজ মঙ্গলবার তেলিয়াপাড়া, শাহপুর, নোয়াপাড়া, জগদীশপুরসহ বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া ।

কাঁচামালের মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে ২০/২৫ টাকা বেড়েছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৫০/২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৪৫/৫০ টাকা, করলা ৮০/১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫/৯০, কাকরুল ৫০/৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, দেশী টমেটো ৮০ টাকা, হাইব্রীড টমেটো ১২০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, দেশী আলু ৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ঝিঙা ৭০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লালশাক ৫০, পুঁই শাক ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের কাঁচামাল খুচরা বিক্রেতা সমিরন পাল জানান, দেশের সবজি উৎপাদনের স্থানে বন্যায় সবজি বাগান তলিযে যাওয়ার কারণে বাজারে সবজির আমদানি কম।

যে কারণে প্রতিদিন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। নোয়াপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা করিম হোসেন বলেন, কৃষি ক্ষেত্র অনেক নষ্ট হওয়াতে সবজিগুলো বাজার আসে না। সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি চলছে। এলাকার সবজি বিভিন্ন পাইকারী বাজারে চলে যাচ্ছে। তাই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ   যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বায়সা-চাঁদপুর দাখিল মাদরাসার সুপার জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২০ ইং সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নুর ইসলাম সরদার।
নতুন জনবল কাঠামোর ভিত্তিতে  প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিজের খেয়াল খুশি মতো লোক পছন্দ করে নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অবৈধ পথে হাটছেন বলে দাবি করেন নুর ইসলাম সরদার।
মিডিয়াকে তিনি ভিডিও জবানবন্ধি দিয়ে বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৪র্থ শ্রেণি পদে দপ্তরি ও আয়া হিসাবে দুটি পদের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আমি আমার পুত্রবধুর জন্য দুটোর যে কোন একটিতে আবেদন দাখিল করেছি।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে উক্ত পদের জন্য আমার অগ্রাধীকার বেশি থাকলেও কোটি টাকার বিনিময়ে হলেও আমার পুত্রবধুর চাকরি হবেনা বলে সুপার জাহিদুল ইসলাম উচ্চস্বরে জানিয়ে দেন।
পরে বার বার আমাকে উল্টো ২ লাক টাকা নিয়ে আবেদন তুলে নেওয়ার জন্য বলেন। কারন খুঁজতে সুপারের কাছে জিজ্ঞেসা করলে সুপার আমাকে বলেন আমার সভাপতি শাহজাহান আলী মহোদয়ের নিজের কোন এক আত্মীয়কে চাকরিটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য বলেছেন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের লোভে এই অর্থ বাণিজ্য খেলায় লিপ্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদরাসার সুপার জাহিদুল ইসলামকে মুঠো ফোনে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি মোবাইলে বক্তব্য দিবেন না বলে কথা এড়িয়ে যান এবং লাইনটি কেটে দেন।
জানতে চাইলে মাদরাসার গর্ভনিং বডির সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে যতোসব প্রশ্ন উঠেছে সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নিয়োগে কোনরকম অস্বচ্ছতা থাকবে না। সঠিক নিয়ম মেনেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। পুরো স্বচ্ছতার সহিত কার্যক্রম শেষ হবে।
এদিকে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নুর ইসলাম সরদার বলেন, আমার পুত্রবধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একাদশ শ্রেণি পাশ। আমি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তারপরও আমার অগোচরে সুপার সাহেব অর্থলোভে চক্রান্ত করে আমার উপর অবৈধ ভাবে বল প্রয়োগ করছে। আমি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি যাহাতে নিয়োগ প্রক্রীয়া সচ্চ ও নিয়ম মাফিক হয় সে বিষয়ে যেন একটু ক্ষতিয়ে দেখা হয়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc