Thursday 22nd of October 2020 01:06:02 AM

এম এম সামছুল ইসলাম, জুড়ী ,মৌলভীবাজার:  আগর-আতরের ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের বড়লেখার আগর চাষের ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছরের। তবে, গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে আগর চাষ বিস্তার লাভ করে। পর্যায়ক্রমে তা কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত হয় এবং গড়ে ওঠে আগর-আতর শিল্প। করোনা মহামারীর কারণে স্থবিরতা নেমে এসেছে মৌলভীবাজারের এ ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি শিল্পে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় সীমিত করা হয়েছে কারখানাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, ২০১৫ সালে শিল্প হিসেবে ঘোষণার পর বাণিজ্যিকভাবে আগরের চাষ বেড়েছে এ অঞ্চলে। বড়লেখা উপজেলার আগর আতরের রাজধানী সুজানগর। সুজানগর ইউনিয়নে প্রায় ২শ ৫০ টি ছোট ও মাঝারি আগর-আতর কারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে আছে আরো ৫০টির মতো। তবে, বন বিভাগের হিসেব মতে, জেলায় নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা ১শ ৭৬। এর বাইরেও অনিবন্ধিত কিছু ছোট কারখানা রয়েছে। আগর-আতরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন মৌলভীবাজারের ৪০-৫০ হাজার মানুষ। বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়নের সুজানগর, সালদিঘা, রফিনগর, হাসিমপুর, চিন্তাপুর, বড়থল গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম এবং পাথারিয়ার পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি আগর চাষ হয়। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে ধস নেমেছে এ শিল্পে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও দিন দিন চাহিদা বাড়ছিল পণ্যটির। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, ওমান, ইয়েমেনসহ  ইউরোপের কয়েকটি দেশে আগর-আতর রফতানি হয়। কুয়েত, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও আরব
আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশীদের কয়েকটি আগর-আতর কারখানা রয়েছে, যেখানে কাঁচামাল যেত মৌলভীবাজার থেকে। শুধু বড়লেখাতেই বছরে আগরের নির্যাস প্রায় ১ হাজার লিটার উৎপাদিত হয়। বিপুল চাহিদা থাকায় আগে যেখানে সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হতো, এখন সেখানে কোনো পণ্যই বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্পটি রক্ষায় সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপতানিকারক প্রতিষ্ঠান বে অব বেঙ্গল পারফিউমারির স্বত্বাধিকারী কবির আহমদ জানান, তাদের ১০-১২ বিঘা জমিতে আগর বাগান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে ৪০ জন মানুষ কাজ করেন। ওই কারখানার ১৬টি মেশিনে মাসে গড়ে ২শ তোলা (এক তোলায় ১১.৬২ গ্রাম) আতর হয়। প্রতি বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের পণ্য রপতানী হয়।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর প্রতিনিধিঃ   “এ পৃথিবীর যা কিছু মহান চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”কবিতার ছন্দের সাথে বাস্তবজীবনে এক নারীর অনেকটাই মিল পেয়েছে মাধবপুর উপজেলার জনগন। হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলার মধ্যে বিচার বিভাগের কোষাগারের সর্বোচ্চ অর্থ জমাদানকারী ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের ঊর্ধ্বে রয়েছেন মাধবপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) আয়েশা আক্তার।

নারী কর্মকর্তা হিসেবে বিগত ১ বছরের কর্মজীবনে চষে বেড়িয়েছেন ১১টি ইউনিয়ন সমৃদ্ধ উপজেলার সর্বত্র। অভিযান পরিচালনা করেছেন বর্ষার ভরা মৌসুমে ভাটিঅঞ্চল, সীমান্তের সন্নিকটে, গহিন অরণ্যেও।

৩৪তম বিসিএস’র ওই নারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে সহকারি কমিশনার হিসেবে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন হবিগঞ্জের মাধবপুরে। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ন করেছেন মাধবপুরের কর্মজীবনের ১ বছর।

 মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী সহ অবৈধ কার্যকলাপে জড়িতদের আতঙ্ক ওই লেডি অফিসার নিজ কার্যালয়সহ মাধবপুরের সর্বাধিক জনগনের কাছে স্বচ্ছ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের এই দিনে যোগদানের পর থেকে নিজ অফিসকে দালালমুক্ত রাখতে নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করছেন। ভোক্তা অধিকার, অবৈধ যানবাহন, মাটি বালু ব্যবস্থা, বাল্য বিবাহ, মহামারি করোনা’কালিন সময়ে লোক জমায়েত করে অনুষ্টানের আয়োজনসহ নানাবিধ অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ পর্যন্ত তিনি আদায় করেছেন ২১লক্ষ ১৭হাজার, ৬শ ৬০টাকা। যেগুলো বাংলাদেশ সরকাররের বিচার বিভাগীয় কোষাগারে সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট চালানের মাধ্যমে জমা হয়েছে।.

অপর দিকে নাম খারিজের ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদের মাধ্যমে গত ১ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪শ ৩৩টাকা যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশী। প্রায় ৩হাজার নাম জারি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে অবৈধ দখলকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫ একরেরও বেশি ভূমি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ওই মহিলা কর্মকর্তা ৬০জন ভূমিহীন পরিবারকে স্বচ্ছতার সহিত সম্পন্ন করেছেন ভূমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম। ভূমিসেবা সহজিকরনে সেবা গ্রহীদের সরাসরি কথা শুনার পাশাপাশি নিজ কার্যালয়কে ঘিরে তৈরী হওয়া দালালকে দিয়েছেন কারাদন্ডও । সেবা ও সাঁজা এই দুই বিপরীত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দ্বায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন এসিল্যান্ড আয়েশা আক্তার সরকারি নিদের্শনা অমান্যকারীদের যেমন সাঁজা দিচ্ছেন তেমনি দিবারাত্রিতে সেবাও নিশ্চিত করছেন। নারী অফিসার হিসেবে মাধবপুর উপজেলার সর্বত্রই রয়েছে তার নখদর্পে। বে-আইনী কার্য সম্পাদনকারীকে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড প্রদানের সাথে সাথে অসহায় নির্যাতিতদের কাছে তিনি বটবৃক্ষ।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সেই সকাল থেকে রাত অবধি আয়েশা আক্তারের ছুটে চলায় মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে আখ্য পেয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়েশা আক্তার হবিগঞ্জের খবর কে বলেন, আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বাধিক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জে তিনদিন ধরে তারেক রহমান ছবুর (৩০) নামের এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী। নিখোঁজ তারেকের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান- নবীগঞ্জ পৌরসভার আনমনু এলাকার বশির মিয়ার ছেলে তারেক রহমান ছবুর নবীগঞ্জ পৌরসভার আনমনু এলাকার একটি দোকানে কাজ করে আসছিলেন।

প্রতি দিনের ন্যায় তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১০টায় নিজ বাড়ি থেকে তার কর্মস্থলে যান। রাতে বাড়িতে না ফেরায় স্ত্রী রিপা তার স্বামীর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কল করেন। নাম্বারটি বন্ধ পাওয়ায় তারেকের কর্মস্থলের কর্মচারীদের তারেক রাতে বাড়িতে না ফেরার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান তারেক দোকানে যায়নি।

রিপা আক্তার আরো জানান, তিনি তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ খবর নিয়ে তার স্বামীর সন্ধান কোথাও না পেয়ে গত সোমবার নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দায়ের করেছেন। যার নং ১৫৭০।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc