Thursday 3rd of December 2020 04:53:07 PM

মিনহাজ তানভীরঃ  শ্রীমঙ্গল উপজেলার গ্রীন কালাপুর স্ংগঠনের আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট এর মেগা ফাইনাল শেষ হল।মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে   ৫ নং ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত রাখতে যুব সমাজকে শক্তিশালী মাদক বিরোধী যোদ্ধা হিসেবে গঠনের প্রত্যয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২০) বিকাল ৩ টায়  শ্রীমঙ্গলে গ্রীন কালাপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের মেঘা ফাইনাল বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়ন এলাকার অন্তর্গত কাকিয়া বাজার হাই স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে গ্রীন কালাপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত।

আজকের ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মাজদিহি চা বাগান বনাম ৬ নং ওয়ার্ড মাজদিহি (ভৈরবগঞ্জবাজার)।তুমুল লড়াইয়ে ৪ নং ওয়ার্ড মাজদি চা বাগান ২-০ গোলে বিজয় লাভ করফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ ও পুরস্কার বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম,বিশেষ অতিথি আশরাফুজ্জামান আশিক সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সার্কেল।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদকে ফুল দয়ে স্বাগতম জানাচ্ছেন শিপুল আহমদ চৌধুরী।

এছাড়াও অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন,স্থানিয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক,তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা,সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই,বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল,কাকিয়াবাজার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ সিদ্দিকি, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনিসুল ইসলাম আশরাফী,উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক উপরু মিয়া,জেলা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান রিপন, যুবলীগ নেতা রিপন আহমদ,সাবেক ইউপি মেম্বার গৌড়াঙ ও বদরুল আলম। খেলা পরিচালনাসহ সংগঠনের আরও যারা উপস্থিত ছিলেন,দিপ্লু আহমদ টিক্কা,বিমল দেব, আব্দুল মজিদ,মকবুল হাসান ইমরান,হাফিজুর রহমান তুহিন,শিপুল আহমদ চৌধুরি,নাজমুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এসময় পুলিশের একটি টিমসহ এএসআই সরওয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাছাড়া ডিএসবি সদস্য সেলিম আহমদকে প্রতিদিন মাঠে খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে।

ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রীন কালাপুর সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাকারিয়া আহমেদ,অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন মামুন।

এছাড়াও সংস্থার সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ফুটবল প্রেমী হাজারো দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন।

পরিশেষে বিজয়ী দল কে ২০ হাজার টাকা প্রাইজমানি ও রানার্স আপ দলকে ১০ হাজার টাকা প্রাইজ মানি প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।ফাইনাল খেলায় ম্যান অব দা ম্যাচ নির্বাচিত হন মহসিন ৬ নং ওয়ার্ড মাজদিহি চা বাগান।নিচে খেলার বিভিন্ন অংশের সংক্ষিপ্ত ফটো গ্যালারি দেওয়া হল।

বক্তব্য রাখছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক।

ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল।

ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন কাকিয়াবাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ সিদ্দিকি।

ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই।

অতিথিদের সাথে রানার্স আপ দল।

অতিথিদের সাথে টুর্নামেন্টের বিজয়ী দল। 

মিনহাজ তানভীর: মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর সমর্থক ও নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জেলার সদর উপজেলার ইসলামপুর খানকা শরীফ থেকে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাদ জোহর থেকে শুরু করে পবিত্র ঈ’দে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে জশনে জুলুস (আনন্দ মিছিল) মৌলভীবাজার শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে খানকা শরীফে ফিরে এসে আলোচনা সভা ও শিরনী (তাবাররুক) বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক কাজী কুতুব উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সভাপতি, ইসলামপুর খানকা শরীফ ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পীর আলী নুরুল্লাহ শাহ’র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম (হারুন সাহেব)।

জুলুসে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় শ্রম ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর জেলা সভাপতি মাওলানা হারিস আল কাদরী, আহলে সুন্নাত নেতা মাওলানা শাহ আলাউদ্দিন ফারুকী,কমলগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সভাপতি মোহাম্মদ দরুদ আলী, সিরাজনগর ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা সিরাজ নগরীর বড় ছেলে মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ, জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুহীত হাসানী,শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও amarsylhet24.com এর প্রধান সম্পাদক আনিসুল ইসলাম আশরাফী, কুলাউড়া উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতা হাজী ফোরকান আলী, কমলগঞ্জ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতা মাস্টার মইনুল ইসলাম খান, রাজনগর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতা অধ্যাপক আব্দুর রউফ,শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ, যুবসেনা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মামুন উর রশিদ, জেলা ছাত্র সেনার সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম খান,ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন আল কাদেরী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার জেলা সভাপতি, ছাত্রনেতা এম এম রাসেল  মোস্তফা,ছাত্র সেনার সাবেক জেলা সভাপতি কামরুল ইসলাম, রাজনগর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নেতা হাফেজ আব্দুর রহিম রেজভী,কুলাউড়া উপজেলার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নেতা ইসরাইল, রাজনগর উপজেলা ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হাই,কমলগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নাত নেতা হাজী আলাউদ্দিন,বড়চেগ সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক যুবসেনা কমলগঞ্জ শাখার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কমলগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী যুবায়ের আহমদ,যুবসেনা কমলগঞ্জ উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুকিত হাসানী, হাফেজ আব্দুল মুকিত, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কমলগঞ্জ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের ইউপি নেতা জামাল আহমেদসহ জেলা ও উপজেলার অন্যান্য গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ।
জশনে জুলুস শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করেন মাওলানা হারিস আল কাদরী,পরিশেষে উপস্থিত সকল মেহমানদের মাঝে তাবাররুক বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য মিলাদুন্নবীর মিছিল ও পরবর্তী আলোচনায় ফ্রান্স বিরোধী স্লোগান ও ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জনের জন্য বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মিনহাজ তানভীরঃ  মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২০) শ্রীমঙ্গলে গ্রীন কালাপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের মেঘা ফাইনাল বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়ন এলাকার অন্তর্গত কাকিয়া বাজার হাই স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে গ্রীন কালাপুর ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। আজকের ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হবে একই ইউনিয়নের ৪ নং ওর্য়াড বনাম ৬ নং ওর্য়াড, খেলা শুরু হবে বিকাল ৩ঃ০০ ঘটিকায়।

আজকের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ ও পুরস্কার বিতরণ করার কথা রয়েছে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম,বিশেষ অতিথি আশরাফুজ্জামান আশিক সিনিয়র সরকারি পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সার্কেল।

সভাপতিত্ব করবেন গ্রীন কালাপুর সংস্থার সভাপতি জাকারিয়া আহমেদ,অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন মামুন।
এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ফুটবল প্রেমী দর্শকবৃন্দ।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈ’দে মিলাদুন্নবী (দঃ) ১৪৪২ হিজরী উদযাপন উপলক্ষ্যে নড়াইলে শিশু-কিশোর ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন,নড়াইলের আয়োজনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে দিবসটি পালন উপলক্ষে আযান,কেরাত, হামদ-নাত ও রচনা, কবিতা আবৃতি প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নড়াইলের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাসেমের সভাপতিত্বে জেলা তথ্য কর্মকর্তা এলিন সাঈদu রহমান,সরকারি কর্মকর্তা,ইসলামিক ফাউন্ডেশন,নড়াইলের কর্র্মকর্তা,ইমাম,প্রতিযোগী,অভিভাবকগন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কোরআন তেলাওয়াতে হাফেজ মোঃ আরিফ আবদুল্লাহ – প্রথম , কবিতা আবৃতি- ফাহমিদ হুসাইন -প্রথম,রচনা প্রতিযোগীতায়-সামিউল ইসলাম-প্রথম, হামদ-নাত প্রতিযোগীতায় আবদুল্লাহ বিন আবিদ -প্রথম স্থান লাভ করেছে।

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি ফায়ার ফুড্সয়ের দোকানে আগুন লেগে ১৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছে দোকান মালিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৯অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে দশটায় জুড়ী উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের হাজী ইনজাদ আলী মার্কেটস্থ মিজানুর রহমান ওরফে বাবলু মিয়ার রাজমহল ফায়ার ফুড্স এন্ড সুইটমিটের দোকানে ঘটেছে।

জুড়ী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকান মালিক বাবলু প্রতিদিনের ন্যায় রাত দশটায় দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যান। রাত সাড়ে দশটায় ফায়ার ফুড্সয়ের দোকানের ফ্রিজ বিষ্ফোরণ হলে, সাথে সাথে আগুন সমগ্র দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে প্রায় ১৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওই সময় পাশের দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী আগুন দেখে হল্লা চিৎকার শুরু করলে বাজারের লোকজনসহ পুলিশ প্রশাসন ও আশ-পাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর কাজে লেগে পড়ে।

খবর পেয়ে কুলাউড়া ও বড়লেখা ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই পুলিশ ও জনতা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ সঞ্জয় চক্রবর্তী ফায়ার ফুড্সয়ের দোকানে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিষদের যশোর জেলা ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় ঝিকরগাছা বিএম মাধ্যমিক বিদ‍্যালয় মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম পারভেজ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ নাসির উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশীদ, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নারগিছ নাহার, বিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, লাউজানী এন এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম সেলিম রেজা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা ভূইয়া।
সাংগঠনিক আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (আদনান হাবিব)। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, যুগ্ম সম্পাদক ইশা তালুকদার, আব্দুল হান্নান, আব্দুল কাদের, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের যশোর জেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মধু সূদন সরকার প্রমূখ। অনুষ্ঠান স ালনা করেন বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের যশোর সদর উপজেলার শাখার সভাপতি জিয়াউল করিম।
সম্মেলনে জেলার ৪শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে সভাপতি ও বুলবুল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক ও সেলিম খানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ: নবীগঞ্জে জগলু মিয়া হত্যা মামলার ২৫ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়। মামলায় ৬০ জন আসামীকে খালাস দেয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা এ রায় দেন। দণ্ড প্রাপ্ত তফুর মিয়া (৫৫) নবীগঞ্জ উপজেলার বোরহানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।

এছাড়াও এ মামলায় ইতিপুর্বে বেশ কয়েকজন মৃত্যু বরণ করেন। ওই কোর্টের পেশকার আব্দুল হাদি জানান, ১৯৯৫ সালের ১৫ জানুয়ারি নির্বাচনী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ইনাতগঞ্জ ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী তফুর মিয়া ও খলিলুর রহমানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে খলিলুর রহমানের পক্ষে তার ভাতিজা জগলু মিয়া নিহত হন।

ঘটনার পরদিনে নিহতের চাচা খলিলুর রহমান বাদি হয়ে ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষ সিলেট সিআইডির তৎকালিন এএসপি সাইফুল ইসলাম ৬১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। ২০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রদান শেষে মামলাটির দীর্ঘ শুনানী শেষে বিচারক আজ এই রায় দেন। রায়ের সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবি ছিলেন, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পিপি সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন রোকশানা জামান চৌধুরী

বেনাপোল প্রতিনিধি:  ফরাসি পত্রিকা শার্লি এবদো কর্তৃক প্রকাশিত মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (দঃ) নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ফরাসি সরকারের মাধ্যমে প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যশোর জেলা ইমাম পরিষদের পক্ষে বেনাপোল ইমাম পরিষদের উদ্দ্যেগে সারা দেশের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বেনাপোলের বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুম্মার নামাজ শেষে বেনাপোল বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। এ বিক্ষোভ মিছিলটি বেনাপোল বাজার হয়ে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ঘুরে আবারও বেনাপোল বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় মহানবী (দঃ) এর ভালোবাসার স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
বেনাপোল চেকপোস্ট রিকশা ষ্টান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন , আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ফরাসি ঘৃণিত পত্রিকা শার্লি এবদো কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহাপুরুষ মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (দঃ) নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ফরাসি সরকার পুলিশ প্রহরায় অট্টালিকার দেয়ালে টাঙিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। এমন ঘটনা প্রতিরোধে মুসলিম উম্মাহর উচিৎ ঐক্যবদ্ধভাবে জোরালো প্রতিবাদ করা। একই সাথে মুসলিম উম্মাহকে ফরাসি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

আরো বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে কোনো সভ্য জাতি, দেশ বা সরকার কারো মৌলিক বিশ্বাসের ওপর এভাবে আঘাত হানতে পারে না। শুধু মুসলমান নয় বরং বিশ্বের শান্তিকামী দেশের মানুষের কাছ থেকে ধিক্কার ও ঘৃণা কুড়িয়েছিল ফ্রান্স। এর আগেও ২০১৫ সালে এ পত্রিকাটি রাসূলকে (দঃ) নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছিল। এ নীতিহীন অপকর্মের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছিল যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

এবার শার্লি এবদোর সাথে সাথে ফরাসি সরকারের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ শান্তিকামী বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। এই নিন্দনীয় কাজ প্রতিটি মুসলমানসহ বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছে।

এগুলো কি শুধু অবমাননা, না কি এর পেছনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে তা বিবেচনায় নেয়ার জন্য আমরা মুসলিম নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। সেই সাথে এমন নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড বন্ধে জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি, আরব সহ সকল মুসলিম দেশ, নেতৃবৃন্দ ও শান্তিকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মিজানুর রহমান,চুনারুঘাট (হবিগন্জ)থেকেঃ  হবিগন্জের চুনারুঘাটে আজ শেকড় সামাজিক সংগঠন চুনারুঘাট উপজেলা শাখার ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও সংগঠনের এক সাধারণ সভা পদক্ষেপ গণপাঠাগারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেকড় সামাজিক সংগঠনের সভাপতি এম, স্বপন তরফদারের সভাপতিত্বে ও মাওলানা আবুল কাশেম আল-আবেদীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন মাওলানা আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন মাওলানা শেখ জামাল আহমেদ,মুফতি মিজানুর রহমান, নাসির উদ্দীন চৌধুরী,চুনারুঘাট অনলাইন প্রেসক্লাব সেক্টেটারী মোঃ মিজানুর,মিরাশী ইউনিয়ন শেকড়ের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ জুনায়েদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, আল-আমিন, বশীর আহমেদ, রুমেল তালুকদার, মাওলানা আমান উল্লাহ আমান, সৈয়দ সাহেব, মাওলানা সুমন খান, মোজাহিদ খান, রিপন আহম্মেদ, কামরুল শাকিম, কবি শিপন প্রমুখ সদস্যবৃন্দ।

মিলাদ (দঃ) শেষে মিরাশী ইউনিয়ের শেকড়ের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়।কমিটিতে আমেরিকা প্রবাসী সৈয়দ রাশেদ আহম্মেদকে সভাপতি, জিয়াউল হক জুমন কে সেক্রেটারি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করেন শেকড়ের উপজেলা সভাপতি এম স্বপন তরফদার। ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন উপদেষ্টা কমিটির নাম ও ঘোষনা করা হয়।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে মসজিদে কোরআন শরীফ অবমাননার গুজুব ছড়িয়ে আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহিদুন্নবী জুয়েল (৫০) নামের এক ধর্মপ্রাণ মানুষকে উগ্রমৌলবাদী চক্র ও বিক্ষুব্ধ জনতা নির্মম নির্যাতন ও বর্রবর পৈশাচিক ভাবে পিটিয়ে জ্বালিয়ে হত্যা করেছে।

হত্যার পর নিথর দেহ ইউপি ভবনের বাহিরে রাস্তায় এনে গায়ে পেট্রোল ও খড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্মীভুত করে দেয়া হয়েছে নিথর দেহটিকে। এসময় নিহত ওই ব্যক্তি সাথে থাকা সতীর্থ সুলতান যোবাইর আব্দার (৫১) কে গণ পিটনি দেয়া হয়। তাঁকে পুলিশ উগ্রমৌলবাদী ও বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত হতে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের একটি কক্ষ হতে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

তাঁরও অবস্থা আশংকাজনক। গুরুতর আহত আব্দার কে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাতভর বুড়িমারীতে পুলিশ, বিজিবি ও জনতার মধ্যে দফায় দফায় সংর্ঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনার পর রাতে উগ্রমৌলবাদী চক্র ও বিক্ষুদ্ধজনতা বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জ্বালিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত।

এই ঘটনায় আজ শুক্রবার বুড়িমারীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে পুলিশ পাহাড়ায় ঘটনাস্থলসহ সকল মসজিদে শুক্রবারের জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জুম্মার নামাজের খুৎবার আগে এই ঘটনাকে দূঃখজনক ও ইসলামের দৃষ্টিতে ঘৃণিত অপরাধ বলে ঈমামগণ প্রচার করেছেন। সেই সাথে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে শান্ত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে জেলা পর্যয়ের চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দেবেন এডিসি জেনারেল। তদন্ত টিম সকাল হতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তদন্ত টিম তিন কার্যদিবসের মধ্যে কী কারণে এই জঘন্য ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে তাঁর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন কওে রির্পোট জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দিবেন। এদিকে এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন সমাজ সচেতন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তারা মনে করে কোন উগ্রমৌলবাদী চক্র সুকৌশলে দেশে ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

থানা পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদেও সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাজার মসজিদে আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহিদুন্নবী জুয়েল (৫০) ও সুলতান যোবাইর আব্দার (৫১) নামের এই দুই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার বিকালে বুড়িমারী বাজার জামে মসজিদে আছরের নামাজের আজান শুনে মসজিদ চত্বরে মোটর সাইকেল রেখে ওজু করে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে মসজিদে প্রবেশ করেন।

মসজিদে প্রবেশ করে ভদ্রতা দেখাতে নিহত আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহিদুন্নবী জুয়েল (৫০) মসজিদের মুয়াজিম জোবেদ আলী (৫৮) ও মসজিদের ওয়াক্তি নামাজের ঈমাম শহীদ আলী (৫৩) সাথে হাত মোছাফা করেন। সেই সাথে তাদের সাথে কুশোলাদি জিজ্ঞাসা করেন। পরে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে একই কাতারে জামাতে আছরের নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে মোনাজাতের পর এই সীমান্ত গ্রামের বাজারে উগ্রমৌলবাদী বা জঙ্গীবাদের কার্যক্রম আছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। এক পর্যায়ে মসজিদে অস্ত্র আছে কিনা জানতে চান বলে মোয়াজ্জিন জানান। পরে তিনি দাঁড়িয়ে মসজিদের বুকসেলফের তাকে রাখা কুরআন ও হাদিসের বইয়ে হাত রাখতে যান।

তখন অসাবধানতাবশত একটি বই পড়ে যায়। সেটা কুরআন ছিল না হাদিসের বই ছিল নিশ্চিত হয়ে কেউ বলতে পারেনি। মাটিতে পড়ে যাওয়া বইটি আদবের সাথে তুলে নিয়ে চুম্বুন করে তাঁকে রাখতে যান। এই সময় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে থাকা বুড়িমারী বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী হোসেন আলী (৪৫) তাঁকে ধমক দেন।

তাঁর সাথে ধর্মীয় কুরআন অবমাননার অপবাদ দিয়ে চড়থাপ্পর দিতে থাকেন। মসজিদের ভিতরে হৈ চৈ শুনে স্থানীয় বাজারে থাকা ইউপি সদস্য হাফিজ রহমান বাকবিতন্ডা থামাতে মসজিদে এসে নিহত জুয়েল ও আহত আব্দার কে মসজিদ হতে বাহির করে ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে নিয়ে গিয়ে ইউপি ভবনের একটি অফিস কক্ষে নিরাপদে রাখেন।

সেই সাথে ইউপি চেয়ারম্যান নিয়াজ আহম্মেদ নিশাদ কে ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। এরমধ্যে হোসেন আলী বাজারে ছড়িয়ে দেয় কুরআন শরিফের ওপর পা রেখে দুই ব্যক্তি মসজিদে জঙ্গিদের অবৈধ অস্ত্র আছে বলে খোঁজেছে। তাঁরা পবিত্র কোরআনে পা রেখেছে। মুহুর্তে বাজারের লোকজনের মধ্যে ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করে ক্ষেপিয়ে তুলে।

এমন কী মসজিদের মাইক ব্যাবহার করে প্রচার করা হয়। দুই ব্যক্তি কোরআন শরিফে ওপর পা রেখে চড়েছে। কুরআন অবমাননা করেছে। আপনারা এগিয়ে এসে বিচার করুণ। তাঁকে চেয়ারম্যান ও মেম্বার ইউপি অফিস চত্বরে আটক করে রেখেছে।

তবে মসজিদেও মুয়াজিম জানান, আগুন্তক ব্যক্তি কোন ধরণের কোরআন অবমাননা করেনি। বরং কোরআন কি আদিসের বই নিচে পড়ে যাওয়ায় তিনি বইটি বুকে তুলে নিয়ে সালাম করে চুম্বুন করেছেন। তাঁকে মিথ্যা গুজুব ছড়িয়ে পিটিয়ে ও জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে চেয়াম্যান নিয়াজ আহম্মেদ নিশাদ জানান, তাঁর নির্বাচনি এলাকায় প্রতিপক্ষরা সবসময় তাঁকে হেয় করতে চায়। সামনে যেহেতু ইউপি নির্বাচন। তাই তাঁকে হেয় করতে ও ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে উগ্রমৌলবাদী চক্র এখানে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে সব সময় ষড়যন্ত্র করে। তাঁরা এখানে সরকার কে ও দেশের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে এই জঘন্য ও ঘৃর্নিত অপরাধ করেছে। তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান। সেই সাথে যারা ধর্মীয় উম্মাদনা ও মিথ্যা গুজুব ছড়িয়ে এই তান্ডব চালিয়েছে তাঁর বিচার চান। সেই সাথে নিহতের পরিবারকে ক্ষতি পূরন দেয়ার দাবি তুলেন।

কে এই ধর্মীয় উম্মাদনার শিকার নিরীহ আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহিদুন্নবী জুয়েল (৫০) । তিনি রংপুর জেলা শহরের শালবনের মৃত ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। রংপুর ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রাত্তন লাইব্রেরিয়ান। তাঁর স্ত্রী, উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া একটি মেয়ে ও এক শিশু পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি ছিলেন, সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা তাঁকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন। তাঁরা এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলছেন। তাঁরা বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি কেন মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে গেলেন। তাঁকে কে নিয়ে গেল। কি উদ্দিশ্যে গেল। যিনি প্রানে বেঁচে গেছেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। নিহত জুয়েল বছর খানেক আগে রংপুর ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ হতে ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে চাকরি হারান। তাঁকে কলেজ কতৃপক্ষ সেচ্ছায় অবসর যাওয়ার সুযোগ করে দেন। চাকুরি হারিয়ে কিছুটা মানুষিক বিষœতায় তাঁকে পেয়ে বসে ছিল। তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু ছিলেন। অবসর জীবনে যাওয়ার পর ঢাকায় এক বন্ধুর সাথে যৌথভাবে একটি ইংরেজি মিডিয়ামের কিন্ডারগার্ডেন্ট স্কুল খুলে ছিলেন। সেই বন্ধুও তার সাথে প্রতারণা করেন। ফলে তিনি ঢাকা হতে পুনরায় রংপুরে ফিরে আসেন। সেই ছাত্র জীবন হতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে নামাজ পড়ার সময় মুয়াজিন বা ঈমাম সুরা ভুল ভাল উচ্চারণ করলে ভুল ধরতেন। তাহা শুধরে দেয়ার চেষ্টা করতেন। সেখানে এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা স্বজনরা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। জুয়েলের বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশী জনকন্ঠের সাংবাদিক আব্দুর রউফ বলেন, সে তাঁর প্রতিবেশী । তিনি অত্যন্ত নিরীহ হোচের মানুষ ছিলেন। খুবই ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তবে বন্ধুসুলভব আচরণ করতেন সকলের সাথে। একটু কথা বলতে বেশি। ধর্ম সম্পর্কে অগাদ জ্ঞান রাখতেন। ১৯৮৬ সালে রংপুর জেলা স্কুল হতে এসএসসি পাশ করেন। পরে লাইব্রেরিয়ান সাইন্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স মাষ্টাস করেন। ছাত্র জীবনে কোন দিন তাঁকে কেউ কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার তথ্য দিতে পারেনি। তারমানে তিনি কোন রাজনৈতিক মর্তাদশের সাথে জড়িত ছিলেন না।

সম্প্রতি তিনি জেলা স্কুলের এালামনিয়া এ্যাসোসিয়েশনের মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সব সময় অরাজনৈতিক নানা সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত রাখতে পছন্দ করতেন। তাঁকে পৈশাচিক ভাবে পুড়িয়ে মারা ঘটনাতে বন্দুমহল সহ সকল মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তাকে তারা পরিকল্পিত হত্যা করেছে বলে মনে করছে। ওই পৈশাচিক ঘটনায় উগ্রমৌলবাদী ও বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত হতে উদ্ধারকৃত ব্যক্তি সুলতান যোবাইর আব্দার (৫১)। তাঁর বাড়িও রংপুর শহরের মুন্সিপাড়ায়। পিতা মৃত শেখ আব্বাস আলী। তিনি তাঁর সাথে মোটরসাইকেলে গিয়ে ছিলেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, তারপর লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসা এবং নিরাপত্তাজর্নিত কারনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। সেখানে পুলিশ পাহাড়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। সে সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত ঠিক ভাবে কোন কিছু বলতে পারছেন না।

জেলা পর্যয়ে তদন্ত কমিটিঃ

এই পৈশাসিক ও জ্বালিয়ে মারার ঘটনায় জেলা প্রশাসন গতকাল রাত হতেই গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসক এডিসি জেনারেলের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছেন। নেতৃত্বে আছেন এডিসি( রেনারেল), এডিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পাটগ্রামের ইউএনও। তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জেলা প্রশাসককের কাছে তদন্ত রির্পোট জমা দিবেন।

মামলা দায়ের ও রাবার বুলেট নিক্ষেপঃ

এই পৈশাসিক ও মির্মম ঘটনায় পাটগ্রাম থানা পুলিশ পৃথক পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় কয়েক শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। থানা পুলিশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছেন। বিষয়টি পাটগ্রাম থানার ওসি অপারেশন সুমন মোহন্ত মন্ডল নিশ্চিত করেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেঃ

বুড়িমারী ইউনিয়নের নিরীহ জনগণ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এসপি আবিদা সুলতানার ভুয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দক্ষ হাতে রাত জেগে নিজেই মাঠ পর্যায়ে সহকর্মীদের সাথে থেকে ঘটনা নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছেন। এখনো মাঠে রয়েছেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে। তবে কিছুটা আতস্কে রয়েছেন। শুক্রবার মসজিদে মসজিদে মসজিদে নিহেতের বিদায় আতœার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও ধর্মীয় ইম্মাদনা না ছড়াতে মুসল্লিদের আহবান করা হয়েছে। এখানে কোরআন অবমাননা হয়নি বলে মুসল্লিদের জানানো হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে ও ধীওে ধীওে স্বাবাবিক হচ্ছে। সেখানে আর কোন বির্তরকিত ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ কোন কিছু করার চেষ্টা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানান। কিতি আরো জানান, সেখানে গুজুব ছড়িয়ে নিরীহ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিটিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত কালে কোরআন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোনআন শরিফ অবমাননার কোন ধরণের ঘটনার সম্পিক্ততা পাওয়া যায়নি। কি কারণে কিভাবে ঘটনাটি ঘটলো তদন্ত কওে খোঁজা হচ্ছে। এ তদন্ত কাজে মিডিয়া কর্মীদেও সহতা চান তিনি।

পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ রুহল আমীন বাবুল জানান, বুড়িমারী ইউনিয়নটি উগ্রমৌলবাদী অধুষিত । এখানে ২০১৪ সালে ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়িয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়ে ছিল। এমন কি জনৈক আওয়ামীলীগের কর্মীও সেই সময় মাগরিবের নামাজ আদায় করা অবস্থায় উগ্রমৌলবাদীরা তাঁকে মসজিদের বারান্ধায় পিটিয়ে হত্যা করে ছিল। তাঁর লাশটিও পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়ে ছিল। তিনি এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি ও ইউএনও খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটেযান, সেখানে তাঁদের কেউ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তাদের ওপরও হামলা করার চেষ্টা করা হয়। তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। সারারাত ধরে উগ্রবাদীরা পুলিশের সাথে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে। পুলিশ ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে প্রায় রাত দুইটায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ি ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সেই সাথে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মামলা গুলোর দ্রুত বিচার করা গেলে এমন ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটতো না বলে জানান। এখানে উগ্র মৌলবাদী চক্র দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে এটা করেছে বলে জানান। মানুষ পুড়িয়ে মেরেও তাঁরা উম্মাদনা ও পৈশাচিক উল্লাস প্রকাশ করেছে। জনকণ্ঠ থেকে

কে এস এস আরিফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থেকে: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ফ্রান্সে হযরত মুহাম্মদ (দঃ)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে উলামা পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে শহরজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৩০শে অক্টোবর) বাদ জুম্মা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের মুছল্লী ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনসাধারণের বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের রেল‌ওয়ে স্টেশন মসজিদ চত্তর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনয় এসে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুর শাকুর ও সঞ্চালনা করেন দারুল আজহার ইনস্টিটিউট এর প্রিন্সিপাল আহমদ সোহাইল। এতে বক্তব্য রাখেন পরিষদের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসার থেকে আগত ওলামায়ে কেরামগণ।

উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সময়ে ফ্রান্সে হযরত মুহাম্মদ (দঃ)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ইসলাম ধর্মের প্রতি চরম অবমাননা এবং মুসলমানদের হৃদয়ে ছুরিকাঘাতের শামিল। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সহিংসতা ও উগ্রবাদকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনে মহানবী (দঃ) কে অবমাননার তীব্রনিন্দা জানায় ও অবিলম্বে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে বিশ্ব মুসলিমের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি ক্ষমা না চান তাহলে সরকারের প্রতি আহবান জানানব যাতে করে অনতিবিলম্বে ফ্রান্সের কর্তিক আমদানিকৃত সকল প্রকার পণ্য বয়কোট, কুটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা সহ ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া জন্য।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (দঃ)-এর কার্টুন প্রদর্শনের কারণে দেশটির এক শিক্ষককে চেচেন বংশোদ্ভূত এক কিশোর গলা গেটে হত্যা করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি তার ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মহানবীর (দঃ) কার্টুন দেখিয়েছিলেন। ওই ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের পর থেকেই হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার নিজ কর্মস্থল মিডল স্কুলটির সামনের সড়কেই হামলার শিকার হন ওই শিক্ষক। এ ঘটনার পর ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।

এক টুইটবার্তায় এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‌‘আমরা কখনোই ইসলামি মৌলবাদীদের কাছে নত স্বীকার করব না। এ ছাড়া আমরা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য গ্রহণ ও যুক্তিযুক্ত মতামতকে প্রতিহত করি না। এই বিচ্ছিন্নতাবাদ ফ্রান্সের মুসলমান সম্প্রদায়গুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ফ্রান্সের সরকারি ভবনে মহানবীকে (দঃ) ব্যঙ্গ করে চিত্রপ্রদর্শন বন্ধ হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাই এদিকে ম্যাক্রোঁর এমন মন্তব্যের পর তার আচরণের কারণেই মূলত মুসলিম দেশগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (দঃ)- এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পর সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে সহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানাতে শুরু করে। এর পর দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে সহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর দোকান থেকে ফরাসি কোম্পানির পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

আর প্রতিটি দেশেই আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে মুসলিম বিশ্বের কাছে মাফ চান‌। আর ভবিষ্যতে যাতে তার দেশে এরকমটি পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতে সচেষ্ট থাকার জন্য । মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে এ রকমেই আহবান করা হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশি অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১২জন পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে থানা পুলিশের একটি টিম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এসময় ১২জন পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে চুনারুঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলী আশরাফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন – গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনের মধ্যে ১১জন ওয়ারেন্টভুক্ত ও ১জন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে স্বাধীনতা পুরস্কার- ২০২০ প্রদান করেছেন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। পদক প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এ বছর যারা পুরস্কার পেয়েছেন-স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দাস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, প্রয়াত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির। সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। এছাড়া, শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্‌ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার কর্মসূচিটিও স্থগিত করা হয়। ঘোষিত সেই পদক ভূষিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। চলতি বছরে আট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  পবিত্র ঈ’দে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা ও আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন  “বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর আগমন ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে আমি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ্ ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ  উপলক্ষ্যে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয়নবী ﷺ কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, ‘রাহমাতুল্লিল আ’লামিন’ তথা সারা জাহানের জন্য রহমত হিসেবে। পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাতে জর্জরিত পৃথিবীতে তিনি মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। তিনি বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে বিশ্বে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছিলেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, মহানবী ﷺ এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয় নবী ﷺ এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণ ও ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।”

নবীজীর আদর্শের আলোয় আলোকিত হোক সকলের পথচলা, সাম্য ও সম্প্রীতিতে গড়ে উঠুক সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী। আজকের এই পবিত্র দিনের উছিলায় আল্লাহ্ আমাদের সকলকে মাফ করে দিন।

নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি:  সিলেটে লাইন ভুল করে পাহাড়িকা ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের দুইটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন ডকইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুটটিতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট রেলস্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বলেন, ট্রেন দুটি ডকইয়ার্ডে ওয়াসপিটে একই লাইনে ঢুকে পড়ে। দুটি গাড়ি মুখোমুখি ঢুকে যাওয়ায় সাইড কোয়ালিশনে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় কেবল পাহাড়িকার দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। অবশ্য এ কারণে সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পাহাড়িকা ও ১১টা ১৫ মিনিটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আজ বিলম্ব হবে। ট্রেন দুটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc